সে আমার ছোট বোন – লিরিক্স

মা’র স্নেহ কাকে বলে জানি না
বাবার মমতা সে কী বুঝতে না বুঝতেই
এ বিরাট পৃথিবীতে দেখলাম
সে ছাড়া আমার আর কেউ নেই
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন

ভালো করে যখন সে কথা শেখে নি
তখন থেকেই সে গেয়ে যেত গান
বাজনার হাত ছিল ভালোই আমার
তার সাথে বাজাতাম দিয়ে মন-প্রাণ
রাস্তায় ভিড় করে শুনতো সবাই
অবাক হতো যে কত জ্ঞানী-গুণিজন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন

ভোর বেলা তার গানে ঘুম ভাঙতো
রাতে তাকে বাজনায় ঘুম পাড়াতাম
ভায়ের বাজনা বোনের গানে
সহজ-সরল সেই দিন কাটাতাম
ছোট্ট একটি ঘর এ দু’টি মানুষ
এই ছিল আমাদের সুখের ভুবন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন




একদিন যখন সে একটু বড়
প্রথম সুযোগ এলো এক জলসায়
মুগ্ধ শ্রোতারা তার কণ্ঠ শুনে
দু’হাত ভরালো তার ফুলের তোড়ায়
ঘরে এসে আমায় সে করলো প্রণাম
প্রথম ভরলো জলে আমার নয়ন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন

তারপর কী যে হলো গান শুধু গান
ছড়িয়ে পড়লো তার আরো বেশি নাম
শ্রোতারা উজার করে দিলো উপহার
দিলো না সময় শুধু নিতে বিশ্রাম
ক্লান্তির ক্ষমা নেই ওদের কাছে
আরো বেশি দিতে হবে বুঝে নিলো মন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন

একদিন শহরের সেরা জলসা
সেদিনই গলাতে তার দারুণ জ্বালা
তবুও শ্রোতারা তাকে দিলো না ছুটি
শেষ গান গাইলো সে পরে শেষ মালা
শিল্পের জন্যই শিল্পী শুধু
এছাড়া নেই যে তার অন্য জীবন
নীরব হলো ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
নীরব হলো ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন

তার গান থেমে গেছে নেই শ্রোতা আর
আমি একা বসে আছি স্মৃতি নিয়ে তার
আনন্দ নিয়ে গেছে ওরা সকলে
দুঃখটা হোক আজ শুধুই আমার
অনুযোগ এতো নয় এই শিল্পীর
ভাই-বোন সকলের ভাগ্য-লিখন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন
সে আমার ছোট বোন বড় আদরের ছোট বোন

Come to know who Pharaoh was

All the followers of Islam (and may be all Jews as well) hate Pharaoh simply by his name. Interestingly enough, the word ‘Pharaoh’ is not the name of a single person, rather it is the name of an ancient Egyptian race. For a long time (few hundred years) the emperor of Egypt was called ‘Pharaoh’. All these emperors came into power traditionally through their respective ‘father’s and they all claimed to be ‘God himself’, as a result of that the then Egyptians were simply forced to accept the emperor as ‘God’. By the way, the person who is known as ‘Pharaoh’ to the Muslims had his real name ‘Remesis’. He was Moses’ (A:) half-brother before they ever became enemies to each other. To be even more precise, Moses was Remesis’ adopted brother, because Remesis’ mother (the empress  herself) found baby Moses at the shore of the river ‘Nile’ and adopted him as her own child.

Remesis and Moses were almost the same age and they were raised together. Through the study of history, it is known that Moses had been very naughty since his early childhood. Many a times he was the one to create a mischief and then impose the responsibility on his brother Remesis. This is the reason why Remesis had been ‘mad’ at Moses since his childhood. Although they were almost the same age, but Remesis was a little bit older than Moses, that’s why he was the heir to the throne after the demise of their father ‘Pharaoh’. Remesis’ father (the then emperor) was almost all the time angry with his elder son, because most of the complaints came against his name. The emperor feared that all the traditions of their royal family that had been running the last couple of centuries might come to an end just because of Remesis’ wrong doings and decisions. That means he wanted to say that Remesis might be the one to cause the destruction of their family’s emperor-hood.



The emperor all the time asked his own son to be more strict and careful, still Remesis often got involved in controversies. Harassment would never cease following him, that’s why he never took it kindly to his adopted brother Moses. At a later time when Moses became prophet after being addressed by God (Allah), Remesis was in the throne of emperor because their father had already demised. Then prophet Moses (A:) invited the emperor to the ways devised by God (Sole Creator) and also to release the slaves of Bani Israel, but Remesis simply denied his proposals and requests. Although he was sure to deny the existence of ‘sole God’ (because he claimed himself as God over all Egypt), but he might still let go of the slaves, upon being requested by his once adopted brother. But he became strict when he remembered his father’s prophecies about him ‘You’ll be the one to put an end to the great legacies of Pharaohs’. That’w when he refused to release those slaves and everyone knows what happened in Egypt afterwards. The ‘golden’ Egypt was hit by the rages of God and it almost became a desert.

But Remesis was still silent and tried to endure those ‘rages’ sent by God. That means he yet didn’t take any actions to siege or kill prophet Moses. But at a later point when his own young son died after suffering from ‘plague’, he could not take it any more. This time he firstly released the slaves of Bani Israel and later attacked them on the shores of Nile with a thousands soldiers. Now God had mercy upon these poor people of Bani Israel and Moses, he made a way across the Nile for them to pass on. They passed safely, but Remesis with his soldiers followed them on this passage. However when they were on the midway, being ordered by God the passage was flown and filled by the water of Nile again, thus they were all bound to die there and at that instant.



সাত ভাই চম্পা জাগো রে – লিরিক্স

সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো রে
ঘুম ঘুম থাকে না ঘুমেরই ঘোরে
একটি পারুল বোন আমি তোমার
আমি সকাল-সাঁঝে শত কাজের মাঝে
তোমায় ডেকে ডেকে সারা…
দাও সাড়া গো সাড়া

ও সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো রে
ঘুম ঘুম থাকে না ঘুমেরই ঘোরে
একটি পারুল বোন আমি তোমার
আমি সকাল-সাঁঝে শত কাজের মাঝে
তোমায় ডেকে ডেকে সারা…
দাও সাড়া গো সাড়া

ও সাত ভাই চম্পা জাগো রে….

ও সাত ভাই চম্পা গো রাজার কুমার
কোথায় পঙ্খীরাজ ঘোড়া তোমার তলোয়ার?




ও সাত ভাই চম্পা গো রাজার কুমার
কোথায় পঙ্খীরাজ ঘোড়া তোমার তলোয়ার?
আজো রাজার বেশে ঘোরে ছদ্মবেশে
ডাইনি সর্বনাশী রাক্ষসীরা আবার

সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো রে
ঘুম ঘুম থাকে না ঘুমেরই ঘোরে
একটি পারুল বোন আমি তোমার
আমি সকাল-সাঁঝে শত কাজের মাঝে
তোমায় ডেকে ডেকে সারা…
দাও সাড়া গো সাড়া

ও সাত ভাই চম্পা জাগো রে….

আর রাজবাড়ি সাত রাণী মায়ের ঘরে
ফিরে যাব না যাব না যাব না রে

আর রাজবাড়ি সাত রাণী মায়ের ঘরে
ফিরে যাব না যাব না যাব না রে
ঘরে ক্ষুধার জ্বালা, পথে যৌবন জ্বালা
রাজার কুমার আর আসে না ঘোড়ায় চড়ে

সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো রে
ঘুম ঘুম থাকে না ঘুমেরই ঘোরে
একটি পারুল বোন আমি তোমার
আমি সকাল-সাঁঝে শত কাজের মাঝে
তোমায় ডেকে ডেকে সারা…
দাও সাড়া গো সাড়া
ও সাত ভাই চম্পা জাগো রে….

আব্রাহাম লিঙ্কন যে কারণে আমেরিকার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট

আব্রাহাম লিঙ্কন আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের মতো ধনী ছিলেন না, তিনি বেশ কিছু প্রেসিডেন্টের মতো সুদর্শনও ছিলেন না। তারপরও তাঁকেই আমেরিকার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর একটি প্রধান কারণ হলো, তিনি তাঁর শাসনামলে আমেরিকাকে বিভক্তির হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। আর একটি কারণ হলোঃ তিনি দাসপ্রথার কলঙ্ক থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করেছেন।

প্রথমে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সামান্য কিছু বলা যাক। তিনি একটি সাধারণ মানের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অল্পবয়সে তাঁর মা মারা যায় এবং তাঁর বাবা তাঁকে প্রায়ই প্রহার করতেন। এজন্য প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার পরপরই তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান এবং পিতার সাথে আর যোগাযোগ রাখেন নি। তিনি পেশায় একজন আইন ব্যবসায়ী বা উকিল ছিলেন। দাসপ্রথার ব্যাপারটা ছোটকাল থেকেই তাঁর কাছে খটকা লাগতো। কিন্তু এ ব্যাপারে মুখ খোলার কোনো জো ছিল না, কারণ দাসপ্রথাকে আমেরিকার সকল স্তরের লোকজন স্বাভাবিক চোখেই দেখতো। কালক্রমে বিভিন্ন ঘটনার পরিক্রমায় এই সহজ-সরল সাধাসিধে ব্যক্তিটিই আমেরিকা বা ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবির্ভূত হলেন। তাঁর শাসন আমলে আমেরিকাতে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যায়। দক্ষিণের কিছু স্টেট উত্তরের স্টেটগুলোর বিরূদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে লিঙ্কন যেহেতু রাজধানী ওয়াশিংটনে বাস করতেন, তাই তিনি উত্তরের স্টেটগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করতেন।




তিনি জানতেন, এ যুদ্ধে হেরে গেলে আমেরিকা চিরতরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। তাই দেশটাকে অবিভক্ত রাখার জন্য তিনি সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এসময় দু’-একজন জেনারেল তাঁকে অপমান করলেও সেটা তিনি মুখ বুঝে সহ্য করেন। বলে রাখা ভালো যে, গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার একটি প্রধান কারণ হলো এই যে, লিঙ্কনের সরকার দাসপ্রথা উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছিলো, যেটা দক্ষিণের বেশ কিছু স্টেট ভালো চোখে দেখে নি। এক পর্যায়ে স্বপক্ষের বেশকিছু ক্ষমতাধর লোকজন, যেমন একজন জেনারেল তাঁর বিরোধিতা ও অসহযোগিতা শুরু করলে তিনি যুদ্ধে জেতার জন্য সদ্যমুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ দাসদেরকে ব্যবহার করেন। মূলত এই কৃষ্ণাঙ্গদের কল্যাণেই তিনি যুদ্ধে বিজয়ী হন।

প্রথম দফায় চার বছর শাসন শেষে তিনি পুনরায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এবার তিনি কৃষ্ণাঙ্গদেরকে ভোটের অধিকার দিতে চাইলেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া শুরু করলেন। কিন্তু এ বিষয়টি কিছু বর্ণবাদী লোক মেনে নিতে পারে নি। তাদেরই একজন লিঙ্কনকে গুলি করে হত্যা করে; সারা আমেরিকার লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পরে, যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়েছিল। এখনো কথায় কথায় আমেরিকার লোকজন লিঙ্কনের প্রসঙ্গ নিয়ে আসে। তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল ইলিনয় স্টেটে।

লিঙ্কন যদি আমেরিকার বিভক্তি ঠেকাতে না পারতেন, তাহলে বিশ্বভূগোলের চেহারা ভিন্ন হতো তথা বিংশ শতাব্দীর ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো। মূলতঃ তিনি ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়েও তিনি যতটা সম্ভব সাধারণ জীবন-যাপন করতেন, আপামর জনগণকে ভালোবাসতেন, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করতেন না। এ সকল কারণেই তাঁকে আমেরিকার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট মানা হয়। তিনি এতটাই সাধারণ মানসিকতার ছিলেন যে, বেশি পুলিশ প্রটেকশন ব্যবহার করতে চাইতেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘কেউ যদি আমাকে মারতে চায়, তাহলে কোনো মাপের পুলিশ প্রটেকশন দিয়েই কোনো কাজ হবে না।’

Ye parda hata do – lyrics

Ye parda hata do…

Jara Mukhra dikha do…

Ye parda hata do

Jara Mukhra dikha do

Hum pyaar karne wale hain koi gair nehi

Arre hum tum pe marne wale hain koi gair nehi

O majnu ki naana mere piche na aana

Ja pyaar karne wale teri khair nehi

Arre o hum pe marne wale teri khair nehi

Ye parda hata do….

Sukar karo ki pari nehi hain mere maa ki gaandi

Ek haat mein ho jate armaan tumhari thande

Sukar karo ki pari nehi hain mere maa ki gaandi

Ek haat mein ho jate armaan tumhari thande

Maa ko bhi shamja do, baas itna baata do

Hum pyaar karne wale hain koi gair nehi

Arre hum tum pe marne wale hain koi gair nehi

O majnu ki naana mere piche na aana

Ja pyaar karne wale teri khair nehi

Arre o hum pe marne wale teri khair nehi

Ye parda hata do….

Jaha mile do jaha nazar hoti takraar wohi hain

Dil par rakhkar haat ye kehdo humse pyaar nehi hain

Jaha mile do jaha nazar hoti takraar wohi hain

Dil par rakhkar haat ye kehdo humse pyaar nehi hain

Dil ki baate dilwaale nazro se hi pehchante

Dil ki baate dilwaale nazro se hi pehchante

Lekin kuch aise he aanari jo ye bhi na jante

Ye pehele baatate, baaraat leke aate

Hum pyaar karne wale hain koi gair nehi

Arre hum tum pe marne wale hain koi gair nehi

O majnu ki naana….

Hum pyaar karne wale hain koi gair nehi

Arre hum tum pe marne wale hain koi gair nehi

Ye parda hata do….

দেশের ক্যারিয়ার-পাগল নারীরা

ক্যারিয়ারের পেছনে ছোটা খারাপ কিছু নয়, কারণ এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। তবে দেশে বেশ কিছু নারী রয়েছেন, যারা ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে উদভ্রান্তের মতোন হয়ে যান, তাঁরা নিজেদের সাথে সাথে সামাজিক পরিবেশটাকেও কলুষিত করে ফেলেন, তাঁদের অপকর্মের ফিরিস্তি দিতেই আজকের এই আর্টিক্যাল।

প্রথমে এসব নারীদের পক্ষেই কিছু কথা বলি। চাকুরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার যে নারীদের আছে, সেটা প্রমাণ করার জন্য কিছু যুক্তি দেই। অনেক পরিবার আছে, যাদের কেবল মেয়েসন্তান রয়েছে, ছেলেসন্তান নেই। ‘প্রতিবেশীর ছেলে দুইটা বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে, আর আমার মেয়েরা কি ঘরে বসে থাকবে নাকি?’ – এই হলো মেয়ের অভিভাবকদের চিন্তাভাবনা। তাঁদের চিন্তাভাবনা ঠিকই আছে, কারণ বৃদ্ধ বয়সে সবারই তো অবলম্বন দরকার হয়। ছেলেদের মতো মেয়েরাও বাবা-মায়ের ‘অন্ধের যষ্ঠি’ হতে পারেন, যদি তাঁরা নিজেদেরকে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।




তবে একবার নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করার পর এরা যেসব কর্মকাণ্ড শুরু করে, সেগুলো সত্যিই দৃষ্টিকটু। এরা অনেকেই যৌন আবেদনময়ী পোশাক পরে বা ‘সিক্রেট টেম্পটেশন’ পারফিউম লাগিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয় (‘সিক্রেট টেম্পটেশন’ মানে হলো ‘গোপন প্রলোভন’, কীসের প্রলোভন সেটা নিজেই বুঝে নেন)। আর আপাতদৃষ্টিতে ‘ভদ্র’ পোশাক পরলেও নিজের ছিমছাম ‘স্লিম’ শরীরটার ভাঁজগুলো স্পষ্টরূপে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ও সচেতন থাকে। এতে করে সমাজের সকল বয়সী পুরুষের মনোসংযোগ ব্যাহত হয়। এ পর্যায়ে অনেকেই এ যুক্তি দিয়ে থাকবেন যে, ‘এ দেশের পুরুষেরা এত লোচ্চা কেন? সুন্দরী নারীদের দিকে তাঁরা ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকেন কেন?’ তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, পুরুষের এ প্রবৃত্তি প্রকৃতিজাত, অর্থাৎ স্বয়ং প্রকৃতি তাঁদের এ প্রবৃত্তি সৃষ্টি করে রেখেছে। তা সত্ত্বেও কিছু উন্মাদ বাদে বেশিরভাগ পুরুষেরা নিজেদের মা-বোনের কথা বিবেচনা করে হলেও যথাসম্ভব শালীন থাকার চেষ্টা করে এবং সর্বদা শালীন আচরণের চেষ্টা করে। তবে নারীদের অশালীন ‘গেটআপ’-এর কারণেই ভদ্র পুরুষেরা চাইলেও পুরোপুরি ভদ্র থাকতে পারছেন না। তাঁদের মাথায়ও যৌন ক্রিয়াকর্মের চিন্তাভাবনা প্রায়সময়ই ঘোরাফেরা করে, বেশি সমস্যা হয় ইয়াং ও অবিবাহিত ছেলেদের। তারা মুখে হয়তো অফিসের ‘স্লাট’ মহিলাটিকে ‘আপু’ বলে সম্বোধন করে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ঠিকই বলে, ‘তোমাকে যদি একা এক রুমে পেতাম, তাহলে তোমার দেহের/যৌবনের জ্বালা জন্মের মতো মিটিয়ে দিতাম’।

অনেক নারীরা শুধুমাত্র দেহ দেখিয়ে ক্ষান্ত হয় না, তারা প্রমোশনের জন্য তথা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা উপভোগের জন্য ইমেডিয়েট বস ও সুপার বসকে নিজের দেহ ভোগ করতে দেয়। এ কাজের মাধ্যমে তারা কর্মস্থলে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ সহকর্মীকে দমন করে রাখে। কলিগ মহিলাটির এমন ‘অকারণ’ কর্তৃত্বের কারণে অনেক পুরুষ সহকর্মীই ভেতরে ভেতরে অসহায় বোধ করেন।

এসব নারীরা অনেক সময় নিজের দুধের বাচ্চাকে বাসায় ফেলে এসে অফিসে হাজিরা দেন। নিজে ভেতরে ভেতরে পিশাচিনী হলেও বাচ্চার প্রতি মমতা ঠিকই অসীম। তাই প্রথম কয়েকদিন অবুঝ শিশুটিকে অনবরত মনে পড়তে থাকে তাঁদের, এমনকি সময়মতো স্তনের দুধ খালাস না করায় স্তনে মাঝেমাঝেই সুড়সুড়ি হতে থাকে তাঁদের। এসব যন্ত্রণা ক্রমাগত সহ্য করতে করতে একসময় তাঁদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায় এবং ভিতরের পিশাচিনীটা বাইরে বেরিয়ে আসে; শুরু হয় আকাম-কুকাম, দুর্বল ও অসহায়দের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে, গ্রুপিং ও ব্যাপক ‘অফিস পলিটিক্স’ শুরু করে, ‘যোগ্যতা’ নামক মাপকাঠিটিকে হেলা শুরু করে। যে ক্যারিয়ারের জন্য তাঁরা নিজের শিশুকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছে, সেটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁরা যেকোনো কিছু করতে বদ্ধপরিকর হয়। অফিসের সাথে সাথে রাস্তাঘাটে, পাবলিক পরিবহনে ও অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে তাঁদের ‘রাফ এণ্ড টাফ’ আচরণ ও ভাব ফুটে ওঠে।



অনেক নারী কর্মজীবন বা ‘ক্যারিয়ার’ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সময়মতো বিয়ে করতে পারে না। তারা তখন নিজেদের দেহের যৌবনজ্বালা মেটানোর জন্য পুরুষ সহকর্মী, অফিসের বস এমনকি বয়সে ছোট ছেলেদের সাথে যৌনতায় মেতে ওঠে। অনেক সময় এরা কিছুদিন পরপর যৌনসঙ্গী বদল করে, ফলে অনেক যৌনরোগের শিকার হয় এবং ঐ ভয়ংকর অসুখ-বিসুখগুলো সঙ্গীর শরীরেও ছড়িয়ে দেয়। কর্মস্থলে কোনো পুরুষকে যৌনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ হলে তাকে প্রথমে ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা অন্য কোনোভাবে ঈঙ্গিত করে বুঝিয়ে দেয়, তাতে কাজ না হলে নিজের ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করে তাকে অফিস থেকে বিতাড়ণের সর্বোত্তম চেষ্টা করে, আফটার অল নিজের দুশ্চরিত্রের স্বাক্ষী রাখতে চায় না এরা।

এ পর্যায়ে অনেকেই হয়তো জিজ্ঞেস করবেন, ‘এগুলো আপনি পেলেন কোথায়?’ তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, এগুলো সবই আমার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া (বলতে গেলে ‘জীবন থেকে নেয়া’)। কেউ যদি আমার এ বক্তব্যগুলো পুরোপুরি অসত্য ও বানোয়াট বলে দাবী করেন, তাহলে বুঝতে হবে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে এ ধরনের ‘স্লাট’ টাইপের মহিলার সংখ্যা বেশি। আর কেউ যদি সত্যিই আন্তরিকভাবে মনে করে থাকেন যে, তাঁরা তাঁদের কর্মস্থলে কখনোই এ ধরনের ব্যাপার লক্ষ্য করেন নি, তাহলে বুঝতে হবে তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই এক্সট্রা-অর্ডিনারী (হয়তো কোনো জামাতী প্রতিষ্ঠান), অথবা তাঁদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা খুবই কম এবং তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও চেহারা মুরুব্বী বা একঘেঁয়ে টাইপের, তাই হয়তো কোনো মহিলা কলিগ তাঁদের প্রতি কখনোই শারীরিকভাবে আকৃষ্ট হয় নি।



যীশুখ্রিস্ট ও হারকিউলিসের মধ্যকার মিলসমূহ

যীশুখ্রিস্ট কে সেটা নতুন করে বলার দরকার নেই। যীশুখিস্টকে মুসলমানেরা হযরত ঈসা (আঃ) নামে চিনে। তবে যীশুখ্রিস্ট বা ঈসা (আঃ)-এর জীবনী নিয়ে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে কিছু মতবিরোধ আছে। এখানে আমরা খ্রিস্টানদের মতামত অনুসারে আলোকপাত করবো। অন্যদিকে, গ্রীক মিথোলজি অনুসারে হারকিউলিস হলেন দেবরাজ জিউসের এক পুত্র, যার জন্ম হয়েছিল কোনো এক মানবীর গর্ভে। তাহলে জেনে রাখুন, যীশুখ্রিস্ট ও হারকিউলিসের মধ্যকার মিলসমূহঃ

(১) দু’জনই বলতে গেলে ঈশ্বরের পুত্র। খ্রিস্ট ধর্মমতে, কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে স্বয়ং ঈশ্বরের পুত্র যীশুর জন্ম হয়। আর গ্রীক পুরাকথা অনুসারে, দেবরাজ জিউস ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা বা দেবতাদের রাজা; সুতরাং ঈশ্বর হিসেবে একজনকে বেছে নিতে বলা হলে, সর্বপ্রথমেই আসবে দেবরাজ জিউসের নাম, সেই অর্থে হারকিউলিসও ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন।

(২) দু’জনেই আর্ত-মানবতার কল্যাণে আজীবন নিয়োজিত ছিলেন।

(৩) দু’জনের জীবনই অনেক সংগ্রামের ছিল; দুঃখ-কষ্ট, অভাব-বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কেটেছে।

(৪) দুজনেই তাদের জীবদ্দশায় ‘জারজ’ তকমা ধারণ করেন। কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করায় যীশুখ্রিস্ট শৈশব থেকেই ‘জারজ’ উপাধি লাভ করেন। আর, হারকিউলিস আসলেই দেবতা জিউসের অবৈধ সন্তান ছিলেন।

(৫) দু’জনেরই যুবক বয়সে মর্ত্য-জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এর মধ্যে হারকিউলিস স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দেন, আর এক কুচক্রীর ষড়যন্ত্রে  যীশুর জীবনাবসান ঘটে।




(৬) দু’জনেই আগে থেকে সম্ভাব্য মৃত্যুর ব্যাপারে জানতেন। হারকিউলিস যখন ১২টি অসাধ্য কাজ সাধন করেও মনের শান্তি পেলেন না পুরনো একটি দুর্ঘটনার স্মৃতি মনে করে (সৎ মাতা হেরার কালো-জাদুর কারণে এক রাতে তার মাথা বিগড়ে যায় এবং নিজের স্ত্রী-সন্তানদেরকে শত্রু বিবেচনা করে হত্যা করেন), তখন তিনি আত্মাহুতির মাধ্যমে নিজের সব জ্বালা-কষ্ট অবসানের সিদ্ধান্ত নিলেন। আর যীশুখ্রিষ্ট জানতেন যে, তাঁর ১২ সাহাবীর মধ্যে এক বিশ্বাসঘাতক তাঁকে রোমানদের হাতে ধরিয়ে দেবে।

(৭) দু’জনেই স্ব-স্ব পিতার কাছে অমর হিসেবে প্রত্যাবর্তণ করেন। দেবরাজ জিউস যখন দেখতে পেলেন যে, তাঁর পুত্র হারকিউলিস একজন সত্যিকারের বীর এবং সে তার মর্ত্যের জীবনে বহু ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছে, তখন পুত্রের প্রতি তাঁর দয়া হয়। তাই চিতার আগুনে জ্বলে হারকিউলিস যখন আত্মাহুতি দিলেন, তখন অনতিবিলম্বে জিউস তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং অমরত্ব প্রদান করে স্বর্গে নিজের কাছে আশ্রয় দেন। আর যীশুখ্রিস্ট কীভাবে অমর হলেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মৃত্যুর দুই দিন পর ইস্টার সানডেতে তাঁর পুনরুত্থান ঘটে (ঈশ্বরই এই পুনরুত্থান ঘটান)। তখন যীশু মানব সম্প্রদায়ের কাছে সাময়িকের জন্য আবারো ফিরে আসেন এবং আরো কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়ে যান।

আসুন, আমরা এই দুই মহাপুরুষের জন্য অন্তর থেকে প্রার্থনা করি।



জারজ সন্তানকে হত্যা করবেন না, মনে রাখবেন হারকিউলিসও জারজ ছিলেন

দু’-তিন আগে তো ভ্যালেনটাইন্স ডে গেলো। যারা দিবসটা উদযাপন করেছেন, তারা বেশিরভাগই দিবসটির তাৎপর্য না বুঝে শুধুুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে ফুর্তি করেই দিনটা কাটিয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। ফলে অচিরেই অনেক নারীর পেটে অবৈধ সন্তান জন্ম নেবে। যদি খুব শীঘ্রই এই প্রেগন্যান্সি সনাক্ত করতে পারেন, তাহলে ক্ষুদ্রাকার ভ্রুণটিকে নষ্ট করতে পারেন, এতে আমি সমস্যা দেখি না। তবে ভ্রুণটা যদি যথেষ্ট বড় হয়ে গিয়ে থাকে, যেমনঃ তিন-চার মাসের, তাহলে দয়া করে এই বাচ্চাটিকে হত্যা করবেন না, তাকে পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখতে দিন। তারও অধিকার রয়েছে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার। এই কথাগুলো বলতে বাধ্য হলাম এই কারণে যে, কিছুদিন পরপরই ফেসবুকে অবৈধ ভ্রুণ বা শিশুবাচ্চার লাশের ছবি চোখে পড়ে, তখন কষ্টে বুকটা ফেঁটে যায় আমার।

সামর্থ্য থাকলে পৃথিবীর সকল অসহায় বাচ্চার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতাম আমি। যেহেতু সে সামর্থ্য নেই, তাই শুধুমাত্র এই অনুরোধটুকু করছি, ওদেরকে কেউ হত্যা করবেন না। আপনি না পারলেও পৃথিবীতে কেউ না কেউ ঠিকই আছেন ওদের ভরণপোষণ করার মতোন। অনেক নিঃসন্তান স্বামী-স্ত্রী আছেন যারা বাচ্চা পালক নিতে ইচ্ছুক, বাচ্চা বৈধ না অবৈধ অত হিসাব তারা করবেন না; কারণ যাদের নেই, তারাই বোঝে বাচ্চার সত্যিকার মর্ম। সাময়িক ফুর্তি করতে গিয়ে আপনার পেটে বাচ্চা এসেছে, এই পাপাচার সৃষ্টিকর্তা ক্ষমা করলেও করতে পারেন; তবে বাচ্চা খুন করার পাপ সৃষ্টিকর্তা কোনোদিনই ক্ষমা করবেন না বলে আমার বিশ্বাস।




সুতরাং পেটে তিন-চার মাসের বাচ্চা থাকলে সেটাকে হত্যা না করে বরং কিছু কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বাচ্চাটিকে শেষ পর্যন্ত জন্ম দিন, যেমনঃ পেট বেশ বড় হয়ে গেলে কোনো অাত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিন। বাচ্চাটিকে জন্মের পরপরই কোনো আগ্রহী নিঃসন্তান দম্পত্তির হাতে তুলে দিন। মায়ের বুকের দুধ না পেলেও বাঁচবে সে, ল্যাকটোজেন খাইয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। বাচ্চাটিকে বাঁচিয়ে রেখে হয়তো আপনার তাৎক্ষণিক কোনো লাভ নেই; তবে সৃষ্টিকর্তার দোহাই, বাচ্চাটির আত্মা নিজের অজান্তেই আপনার জন্য অনেক দোয়া করবে।  আপনিও এটা ভেবে শান্তি পাবেন যে, মানবহত্যার মতো কোনো মহাপাপ আপনি করেন নি। এই বাচ্চাটিকে বাঁচাতে গিয়ে আপনাকে যদি ভোগান্তি সহ্য করতে হয়, কিছুটা অপমান ও গঞ্ছনা সহ্য করতে হয়, তবুও সেটা করুন না; এটাতো আপনারই রক্ত। কেমন স্বার্থপর মা আপনি, একটা বাচ্চাকে মেরে ফেলে পরের বাচ্চাগুলোকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখছেন?

মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তার চোখে বৈধ বা অবৈধ বাচ্চা/মানুষ বলে কিছু নেই। জারজ হলেই যে সে সমাজে ঘৃণিত হবে, ব্যাপারটা তা নয়। গ্রীক দেবরাজ জিউসের পুত্র হারকিউলিস ছিলেন তাঁর অবৈধ সন্তান, তা সত্ত্বেও হারকিউলিস হলেন মিথোলজি (Mythology) বা পুরাকথার সর্বশ্রেষ্ঠ অ্যাকশন হিরো। তিনি নিজের বীরত্ব ও ধৈর্য্যের চরম পরীক্ষা দেন, তাই শেষ পর্যন্ত পিতা জিউস তাঁকে অমরত্ব প্রদান করে মানব থেকে দেবতা বানিয়ে নিজের কাছে স্বর্গে চিরস্থায়ী করে নেন।

বর্তমানে তথা শতশত বছর ধরে যে মানুষটিকে পৃথিবীর বেশিরভাগ লোক শ্রদ্ধা করেন এবং ঈশ্বরপ্রেরিত বলে মনে করেন, সেই যীশুখৃষ্ট যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন একদল দুষ্ট লোক তাকে ‘জারজ’ তকমা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা সবাই জানি, তিনি ছিলেন ঈশ্বরপ্রেরিত অলৌকিক শিশু। এই শিশুটিই বড় হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। আজকে ওনার নামই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ প্রতিনিয়ত নেয়।



‘ভিলেন’ যখন সন্তানবৎসল পিতা

পাবলো এসকোবারের নাম শুনেছেন? তিনি হলেন কলম্বিয়ার প্রাক্তন মাদক সম্রাট। তিনি তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকাকে মাদকের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে নিয়েছিলেন এবং এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা নিজের পকেটস্থ করেছিলেন। যে-ই তার পথের কাঁটা হয়েছিল, তাকেই তিনি শেষ করেছেন। কয়েকশত পুলিশ ও বিচারকের মৃত্যুর জন্য দায়ী তিনি। এমনকি কলম্বিয়ার তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীও তাঁর বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলতে সাহস পেত না। অর্থ আর অস্ত্রের জোরে দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার প্রতিটি সেক্টরই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। সত্যি বলতে কি, ডন হবার পর যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তিনিই ছিলেন কলম্বিয়ার অঘোষিত শাসনকর্তা। কিন্তু তাঁর শেষটা ভালো হয় নি, ১৯৯৩ সালে সিআইএ-‘র হাতে তাঁকে মরতে হয়েছিল। জীবদ্দশায় তাঁর জন্য দুঃখের ব্যাপার হলো, তিনি যত অর্থ কামিয়েছিলেন তার বেশিরভাগই বিভিন্নভাবে নষ্ট হয়েছিল। তিনি বালিশের মধ্যে, তোষকের নিচে এমনকি মাটির নিচেও অর্থ পুঁতে রাখতেন।

তবে মানুষ হিসেবে তিনি যেমনই হোন না কেন, নিজের সন্তানদেরকে অত্যধিক ভালোবাসতেন। এবার তাঁর সন্তানবৎসলতার একটি কাহিনী শোনা যাক। একবার তিনি তাঁর এক নাবালক মেয়েকে নিয়ে জঙ্গলে আশ্রয়ে নিয়েছিলেন, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে। সে রাতে প্রচণ্ড শীত পড়েছিল, তাঁর কাছে তেমন কোনো শীতবস্ত্র বা কম্বল ছিল না। তাই নিজের মেয়েকে শীতের হাত হতে বাচাঁতে সেই রাতে তিনি তাঁর সাথে থাকা কয়েক মিলিয়ন ডলার আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। টাকাগুলো পুড়ে যে উত্তাপ তৈরি করেছিল, তার দ্বারাই বাপ আর মেয়ে মিলে শীত নিবারণ করেছিলেন। সমাজে ভিলেন হিসেবে পরিচিত হলেও ঐদিন তিনি নিজেকে সন্তানবৎসল পিতা হিসেবে চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।



এবার রামায়ণের কথাই ধরুন। রামায়ণ অনুসারে রাবণের আগে তাঁর দুই পুত্র নিহত হয়েছিলেন। এ নিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচনা করেন। এই কাব্যে রাবণকে ভিলেন হিসেবে নয়, বরং একজন সন্তানবৎসল পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁর পুত্র মেঘনাদ যখন মারা যান, তখন রাবণ তাঁর বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেঘনাদের মৃতদেহ সনাক্ত করার জন্য এদিক-ওদিক তাকাতে থাকেন। এসময় তাঁর বুকটা খা-খা করতে থাকেন। তিনি তাঁর মৃত সন্তানের জন্য অসীম মমতা আর শোক অনুভব করেন। পুত্রের মৃত্যুতে তাঁর পাষাণ হৃদয় কিছুটা হলেও গলে যায়, শোকে মুহ্যমান হন তিনি। তিনি তাঁর পুত্রহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হন।

পৃথিবীর প্রতিটি পিতাই সন্তানবৎসল। নিজে মানুষ হিসেবে ভালো বা খারাপ যেমনই হোন না কেন, সন্তানকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। 

বিজ্ঞানীদের সাংসারিক জীবন যেমনটা হয়

বিজ্ঞানীদের সাংসারিক জীবন সম্ভবত খুব একটা সুখের হয় না। এ কথা ঢালাওভাবে সকল বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও বেশিরভাগ বিজ্ঞানীর জন্যই প্রযোজ্য। এখানে আমরা গুটিকয়েক বিখ্যাত বিজ্ঞানীর জীবনগাথা পর্যবেক্ষণ করি। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের কথাই ধরা যাক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাশ করার পর তাঁর ডিপার্টমেন্টাল সহপাঠী এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সাথে ওনার দাম্পত্যজীবন খুব একটা সুখের হয় নি। আসলে ওনাদের দু’জনার মনমানসিকতায় বিশাল ফারাক ছিল। আইনস্টাইন ছিলেন পুরোপুরি বিজ্ঞানী মানসিকতার আর আত্মভোলা প্রকৃতির, আর ওনার স্ত্রী ছিলেন পুরোপুরি সাংসারিক মানসিকতার। এ ধরনের মানসিকতা আইনস্টাইনের কাছে স্বার্থপর আর নিচু মনে হতো। তাই কয়েকটি বাচ্চাকাচ্চা হওয়ার পরও আইনস্টাইন তাঁর প্রথম স্ত্রীর সাথে বনিবনা করতে পারেন নি। চূড়ান্ত ডিভোর্সের আগে ওনাদের সম্পর্কটা জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে টিকে ছিল। এসময় আইনস্টাইন তাঁর স্ত্রীকে অদ্ভুত সব শর্ত দিয়েছিলেন, যেমনঃ আইনস্টাইন যখন চিন্তামগ্ন থাকবেন বা কাজে ব্যস্ত থাকবেন, তখন স্ত্রী তাঁকে বিরক্ত করতে পারবেন না ইত্যাদি।

একসময় ওনাদের যখন ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল, তখন আইনস্টাইন কথা দিয়েছিলেন যে, নোবেল পুরষ্কারের সমস্ত অর্থই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তানদেরকে দিবেন। এ অর্থের জন্য তাঁদেরকে বহুবছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, কারণ আইনস্টাইন তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত তত্ত্ব আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের জন্য কখনোই নোবেল পান নি। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা উপস্থাপনের জন্য তিনি নোবেল পুরষ্কার পান। আইনস্টাইন কিছুকাল একা থাকলেও একসময় তিনি তাঁর এক ফার্স্ট কাজিন (যেমন, মামাতো, চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো বোন) – এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ে করেন। ঐ সংসার সুখের হয়েছিল বলে শোনা যায়।



বিজ্ঞানী নিউটনের কথাই ধরুন, তিনি তো আজীবন বিয়েই করেন নি। এর কারণ হলো, বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের মতো তিনিও আত্মভোলা ছিলেন, যার ফলে তিনি তাঁর প্রেমের কথা প্রিয় বান্ধবীকে কখনোই বলতে পারেন নি। প্রতিদিনই তিনি ভাবতেন,আজই কথাটা বলতে হবে। কিন্তু যেইনা ঐ ভদ্রমহিলা তাঁকে তাঁর গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, তখন তিনি বিস্তারিত লেকচার দিতে শুরু করতেন, আর এভাবেই সময় বয়ে যেত। শেষে নিউটন ভাবতেন, পরের দিন বলবেন; আর ঐ মহিলা ভাবতেন, বেচারা আজও তাঁকে মনের কথাটা বললো না। এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পর ঐ মহিলা ভাবলেন, নিউটন হয়তো তাঁকে ভালোবাসেন না, তাই তখন তিনি হাল ছেড়ে দিয়ে অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করে নেন। আর বেচারা নিউটন সেই দুঃখে সারাজীবন চিরকুমার থেকে যান। তাঁর সুখদুখের সাথী ছিল একটি পোষা কুকুর, যা একবার তাঁর আবিষ্কারের নথিপত্রের বেশিরভাগই নষ্ট করে ফেলেছিল।

এবার বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার কথায় আসা যাক। তিনি নারীদের চেয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড বেশি পছন্দ করতেন। এক স্বীকৃত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর নিউইয়র্কের অনেক বিবাহিতা-অবিবাহিতা নারী তাঁর পিছনে ঘুরঘুর শুরু করে। এদের কাছ থেকে রেহাই পাবার জন্য তথা বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডে অধিকতর মনোনিবেশ করার জন্য তিনি ৪০ বছর বয়সে স্বেচ্ছায় তাঁর পুরুষত্ব নষ্ট করে ফেলেন (হয়তো কোনো অপারেশনের সহায়তা নিয়েছিলেন)। নিজের এ কর্মের জন্য তিনি পরবর্তীতে বহু অনুশোচনা করেছিলেন, কারণ এর কারণে তিনি জীবনে আর বিয়ে করতে পারেন নি। তিনি যেহেতু ৮৭ বছর বেঁচে ছিলেন, সুতরাং জীবনের বেশিরভাগ সময় তাঁকে একা একা অতিবাহিত করতে হয়েছিল। কারণ বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনকে তিনি স্বদেশে (ক্রোয়েশিয়া) রেখে আমেরিকার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কে ছিলেন।