নাস্তিকদের সম্পর্কে জনগণের একটি ভুল ধারণা

নাস্তিকদের সম্পর্কে জনগণের একটি ভুল ধারণা রয়েছে, আর সেটি হলো – যেহেতু নাস্তিকদের ‘ঈমান’ নেই, তাই তাদের কোনো বিবেকও নেই, তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। আদতে ব্যাপারটা তা নয়; নাস্তিকরাও মানুষ, তারাও সামাজিক জীব। সমাজে ও রাষ্ট্রে অবস্থান করতে হলে অন্য সবার মতো তাদেরকেও কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। সুতরাং নাস্তিকদের বিবেক নেই – এ কথাটি সত্য নয়।

নাস্তিকরা খুবই ভয়ংকর এবং এদের বুক-পিঠ নেই, অর্থাৎ যেকোনো সময় যে কারো ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে – এটিও ভুল ধারণা। বরং সত্য হলো এই যে, নাস্তিকদের বিবেকের স্ট্যান্ডার্ড সাধারণের তুলনায় অনেক উপরে। সাধারণ মানুষ অর্থাৎ আস্তিকেরা যে লোভটা হয়তো সামলাতে পারবে না, একজন সত্যিকার নাস্তিক সেটাও সামলাতে পারবে। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা আস্তিক না নাস্তিক তারা নিজেরাও জানে না। এরা সুবিধাবাদী, অর্থাৎ নিজেকে কখনো আস্তিক, কখনো নাস্তিক পরিচয় দেয়। যেমনঃ নিজের বোনের বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত এরা চরমমাত্রায় নামাজি বা ধার্মিক। আর বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই এরা স্বরূপে ফিরে যায়, অর্থাৎ নিজের স্বার্থের জন্য এরা তখন যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত, লাজ-শরমের মাথা খেয়ে হলেও। 

এ ধরনের লোকই এক্সপেরিমেন্ট বা ফ্যাশন করার জন্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদেরকে নাস্তিক পরিচয় দিয়ে আকাম-কুকামে মেতে ওঠে, অর্থাৎ চরম নীতিহীনতার পরিচয় দেয়। এদের কর্মকাণ্ড দেখেই সাধারণ জনগণ নাস্তিকদের প্রতি বিষিয়ে ওঠে। প্রকৃত সত্য হলো এই যে, একজন সত্যিকার নাস্তিক অতি প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে দু’-একটা মিথ্যা বললেও বা ছোটখাট অপরাধ/ত্রুটি করে ফেললেও সে ‘চরম নীতিহীনতা’র পরিচয় কখনোই দেবে না। তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে সর্বদাই একটা লিমিট থাকবে, যে লিমিট সবার মনে একটা মুগ্ধতা তৈরি করবে। তবে কেবল নাস্তিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো লোকজন তাকে কিছুটা বাঁকা চোখে দেখতে পারে। আফটার অল, বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নাস্তিক হওয়া এবং নাস্তিক হয়ে টিকে থাকা সত্যিই কষ্টসাধ্য।

নাস্তিকদের বিবেকের স্ট্যান্ডার্ড কী কারণে সাধারণের উপরে, এবার সেটা ব্যাখ্যা করি। আগেই বলেছি, সত্যিকার নাস্তিক হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, এটা সাধনার ব্যাপার। কেবল নাস্তিক বলেই অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না বলেই একজন মানুষ ক্রমাগত অপরাধ করে যেতে পারে না। প্রতিটি অপরাধ মানুষকে অনুশোচনায় ফেলে। তবে আস্তিকদের জন্য অপরাধ করা সহজতর। যেমনঃ মুসলিমরা মনে করতে পারে, ‘আমি অপরাধ করে যাই, মৃত্যুর আগে তওবা করে নিয়ে ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে যাব। তবেই তো বেহেশতে যেতে পারব।’ 

তবে নাস্তিকদের জন্য অপরাধ করাটা এত সহজ নয়। নাস্তিকদের চালিকাশক্তি কোনো ধর্মগ্রন্থ বা কিতাব নয়, তাদের চালিকাশক্তি হলো – নিজস্ব বিবেক। আস্তিকেরা যেখানে অন্ধভাবে অনুসরণ করে যায় বিভিন্ন কিতাবকে, লোকজনের কাছ থেকে শোনা কথাকে এবং প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য আস্তিককে, সেখানে একজন সত্যিকার নাস্তিক সর্বদা নিজের বিবেকের চর্চা করে যায়। সে নিজের বিবেককে ক্রমাগত জিজ্ঞেস করতে থাকে, কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক। এটি করতে গিয়ে কখনো কখনো সে জাজমেন্টে ভুল করে ঠিকই, তবে একসময় সৎ ও সঠিক কাজ করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়। তাই একজন  নাস্তিক একজন গড়পড়তা আস্তিকের চেয়ে বেশি বিবেকবান।

সেলিম খান সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন কি?

সালমান খানের পিতা হিসেবেই অধিক পরিচিত সেলিম খান। তিনি অল্প কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও একজন চিত্রনাট্যকার হিসেবে বলিউডে সমধিক পরিচিত। তিনি চারজন সন্তান জন্ম দিয়েছেনঃ বড় পুত্র সালমান খান, মেঝো পুত্র আরবাজ খান, ছোট পুত্র সোহেল খান এবং একমাত্র আপন কন্যা আলভিরা। এছাড়া সেলিম খান এবং তাঁর তৎকালীন স্ত্রী একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন, যার নাম রাখেন অর্পিতা খান।

সেলিম খান একসময় জাভেদ আখতারের সাথে মিলে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন। সে সময় সেলিম ছবির কাহিনী ও চরিত্রসমূহ পরিকল্পনা করতেন এবং জাভেদ সংলাপ লিখতেন।

সেলিম খান ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক স্বচ্ছল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদা আফগানিস্তান হতে ভারতে মাইগ্রেশন করেছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন মধ্যপ্রদেশের ‘ইন্দোর’ নগরীতে পুলিশের ডিআইজি। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয়রা পুলিশে এর চেয়ে বেশি উচুঁ পদে যেতে পারতেন না। সেলিম খানের যখন ১৪ বছর বয়স তখন তাঁর পিতা মারা যান। এরও ৫ বছর আগে তাঁর মা মারা যান। সেলিম খানের মা মারা যাওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর যক্ষ্মায় ভুগেছিলেন। এজন্য ছোটবেলাতেই কখনো নিজ মায়ের কাছে যেতে পারতেন না সেলিম খান এবং তাঁর ভাইবোনেরা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সেলিম ছিলেন তাঁর পিতামাতার কনিষ্ঠ সন্তান।

প্রথমে মা এবং পরে বাবা মারা যাওয়ার পর সেলিম খানের দেখাশোনা করতেন তাঁর বড় ভাইয়েরা, সে বিষয়ে কোনো অবহেলা হয় নি; কারণ তাঁদের পিতা প্রচুর ধনসম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। সেলিম যখন কলেজে পড়তেন, তখনই তাঁকে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন বড় ভাইয়েরা।

জাভেদ আখতারের সাথে সম্মিলিতভাবে তিনি ছয়টি ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার অর্জন করেন। এছাড়া পরবর্তীতে সেলিম খান ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কার লাভ করেন, যেটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পুরষ্কার।

কলেজে পড়ার সময় সেলিম খান একজন ভালো খেলোয়াড় ছিলেন (ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কলেজ বলা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে যেটা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সেটা ভারতে শুধু ‘কলেজ’)। ভালো খেলোয়াড়, বিশেষ করে ভালো ক্রিকেটার ছিলেন বলেই ডিগ্রীতে তেমন একটা ভালো রেজাল্ট না করলেও তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান (অর্থাৎ খেলোয়াড় কোটায়)।

এবার সেলিমের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলা যাক। তিনি দুটি বিবাহ করেছেনঃ তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম সুশিলা চরক, অর্থাৎ তিনি বিয়ের আগে হিন্দু ছিলেন এবং বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সালমা খান নাম ধারণ করেন। সালমান খানের এই মা ১৯৭৪ সালে মারা যান, যখন সালমানের বয়স মাত্র ৯। এরপর ১৯৮১ সালে সেলিম খান দ্বিতীয় বিবাহ করেন, হেলেন অ্যানি রিচার্ডসন নামক এক নারীকে, যিনি বিয়ের আগে থেকে শুরু করে অদ্যাবধি খ্রিস্টান। সৎ মায়ের সাথে সালমান খানদের বেশ ভালো সম্পর্ক।

এবার সেলিম খান সম্পর্কে একটি মজার ঘটনা বলা যাক। আপনি জানেন কি, সেলিম খান বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একজন বিরাট ফ্যান বা ভক্ত? তিনি নজরুলের প্রতিটি কবিতা পড়েছেন। গত বছর সালমান খান যখন ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে বাংলাদেশে একটা অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসেন, তখন সালমান দর্শকদের সামনে জানান যে, তাঁর পিতা সেলিম খান নজরুলের একজন বিশাল ভক্ত। এবং এই তথ্যটি বাংলাদেশের লোকজনকে জানাতে সালমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর পিতা সেলিম খান।

প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের ভূমিকা এইরূপ হতে পারে…

ঈশ্বর যদি সব জীবের সৃষ্টির পেছনে থাকেন, তবে তিনি খুব সম্ভবত সেই সুদূর অতীতে এককোষী জীবকে সৃষ্টি করেছেন, বা তাঁর কারিশমায় সেটা সম্ভব হয়েছে। এরপর সেই এককোষী জীবকে বংশবিস্তার ও বিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ফলশ্রুতিতে সেই এককোষী জীব থেকেই লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের দ্বারা আজকেের দুনিয়ায় হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ প্রাণী ও উদ্ভিদের আবির্ভাব ঘটেছে।

ঈশ্বর যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তাঁর চিন্তাভাবনা এমন হওয়া উচিত নয় যে, তাঁর উপাসনা করলেই বেহেশত বা স্বর্গ পাওয়া যাবে, আর তাঁকে এড়িয়ে চললেই নরক। ঈশ্বর হয়তো হাজার হাজার জীবের উৎপত্তির পিছনে রয়েছেন, কিন্তু তিনি তাঁর সৃষ্টিগুলোকে ভালোবাসেন – এমনটা বলা যাবে না। কারণ দুনিয়াতে প্রতিটি জীবই প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বিপদ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, ঈশ্বর এসে তাদেরকে ‘উদ্ধার’ করছেন না। ব্যাপারটা এমন যেন, ঈশ্বর মহাবিশ্ব ও প্রাণীকূল সৃষ্টি করে এখন কেবল তাদের তামাশা দেখছেন। এ ধরনের ‘তামাশা দেখতে থাকা’ ঈশ্বরের উপাসনা করার প্রয়োজন নেই, যদিও বা তিনি আদতে আমাদের অর্থাৎ মানবজাতির কাছ থেকে উপাসনা প্রত্যাশা করে থাকেন।

নাস্তিকতা আসলে কী?

নাস্তিকতা মানে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসহীনতা নয়, বরং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে প্রচলিত মতবাদগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ আবশ্যক, কারণ প্রচলিত ধর্মগুলো সব কম-বেশি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। নাস্তিকতার প্রকৃত মানে – ‘ঈশ্বর একজন থাকতে পারেন, তবে তিনি ইসলামে বর্ণিত আল্লাহ নন, বা খ্রিস্টধর্মের যীশু নন, এছাড়া হিন্দু ধর্মের ভগবানও নন।’ 

প্রচলিত ধর্মগুলো এই কারণে ভুয়া যে, সেগুলো মানব সম্প্রদায়ের বিগত কেবল ৫০০০ বছর বা ১০০০০ বছরের ইতিহাস পর্যলোচনা করে। কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানব (Homo Sapiens) জাতির ইতিহাস প্রায় ২ লক্ষ বছরের। এর আগেও মানুষ ছিল, তবে তারা অতটা বুদ্ধিসম্পন্ন ছিল না, তারা অনেকটা ‘বন মানুষ’ বা গরিলা টাইপের ছিল, বুদ্ধিশুদ্ধিও ছিল ঐ লেভেলের।

ধর্মগুলো ভুয়া হওয়ার আরেকটি কারণ হলো – এরা এভোলুশন বা বিবর্তনবাদকে স্বীকার করে না। প্রচলিত ধর্মসমূহের মতে, মানুষকে ঈশ্বর বা ভগবান অলৌকিকভাবে সৃষ্টি করেছেন – যেটা আদতে সত্য নয়। মানুষ রাতারাতি বা অভারনাইটে সৃষ্টি হয় নি, যুগ যুগ ধরে প্রাণীর বিবর্তনের মাধ্যমে মানব সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখনো বিবর্তিত হচ্ছে, যার প্রমাণ হলো – মানুষরূপী অমানুষেরা জঘন্য কাজকর্ম করে চলেছে দুনিয়াজুড়ে। এ ধরনের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেটা প্রমাণ করে যে – এখনো মানুষের বিবর্তন চলছে। বস্তুত প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য মানুষ বিবর্তিত হয়ে দিনদিন আরো নির্মম ও পাষাণ হয়ে যাচ্ছে, তাদের বিবেকবোধ কমে যাচ্ছে, মূল্যবোধ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।

প্রচলিত ধর্মগুলো ভুয়া হবার আরেকটি কারণ হলো, এরা বিজ্ঞানের কোনো শাখাকেই ঠিকমতো বা যথোপযুক্তভাবে সমর্থন করে না। যেমনঃ বেশিরভাগ ধর্মই বেহেশত-দোযখ, স্বর্গ-নরকের কথা বলে। এ টার্মগুলো পদার্থবিজ্ঞান বা ফিজিক্সের ‘ভর-শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি’কে সমর্থন করে না। বেহেশতে গিয়ে মানুষ যা চাইবে, তাই পাবে – এমনটা হতে পারে না।

বুয়েট অলাদের হাহা রিয়্যাক্ট আর মুসল্লীদের ছোড়া ঢিল

কিছুদিন আগে বুয়েটের কতিপয় টিচারের অশোভন আচরণ আর অশিক্ষকসুলভ মানসিকতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম এই ব্লগে। বুয়েটের টিচারদের বিরুদ্ধে এবং বুয়েটে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে লেখার ইচ্ছে আমার অনেক দিন। কিন্তু মোক্ষম কোনো অকেশন না আসায় সেটা করা হয়ে উঠে নি। তবে সম্প্রতি ‘বুয়েটের গল্প’ নামক একটি প্রাইভেট ফেসবুকে গ্রুপে মেম্বার হয়েছিলাম। সেখানে পাবলিশ করার উদ্দেশ্যেই নিবন্ধটা লিখেছিলাম। কারণ সেখানে প্রায় ৯০০০ মেম্বার। আমি চেয়েছিলাম যাতে এই প্রাক্তন বুয়েটিয়ানরা জানুক, তাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান দোষত্রুটি মুক্ত নয় এবং সেগুলো নিয়ে মুখ খোলার মতো সাহস কারো না কারো আছে। নিবন্ধটা অনেকে পড়েছিল, প্রায় ২৫০০ পাবলিক। এদের বেশিরভাগই পোস্টে কোনো লাইক বা রিয়্যাক্ট দেয় নি৷ লাইক পড়েছিল প্রায় ৫০টি আর হাহা রিয়্যাক্ট দিয়েছিল ৭০-৮০ জন লোক। মজার ব্যাপার হলো, ব্লগে নিবন্ধের শুরুতে নিম্নে দেখানো একটা জিনিস আসে, যেটা লাইকের মতো দেখালেও সেখানে আসলে লাইক+শেয়ার+অন্য যেকোনো রিয়্যাক্ট একিউমুলেটেড হয়। ফলে নতুন কারো কাছে মনে হতে পারে যে, নিবন্ধটি হয়তো ১২৯টা লাইক পেয়েছে, যদিও ব্যাপারটা তা নয়। যাই হোক, বিষয়টি আমার কাছে খুব উপভোগ্য ছিল। তারা যতই হাহা রিয়্যাক্ট দিচ্ছিলো, আমি প্রকারান্তরে ততই খুশি হচ্ছিলাম। নেগেটিভ হোক আর পজেটিভ, পাবলিসিটি তো হচ্ছে।

১২৯টা লাইক, ক্যান ইউ বিলিভ দ্যাট?

বিষয়টিকে তুলনা করা যায় – আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদটা আছে, সেখানকার মুসল্লীদের ছোড়া ঢিলের সাথে। তারা ঢিল ছোড়ে বেশ কয়েকটি কারণে (১) আমি মসজিদে নামাজ পড়তে যাই না (২) এলাকায় বলতে গেলে আমিই সবচেয়ে স্বচ্ছল, বাকি সবাই হয় ফকিন্নি নয়তো অশান্তির পরিবার থেকে এসেছে।  তারা হলো লেজকাটা শিয়ালের মতো। নিজেরা যেহেতু শান্তিতে নেই, আছে অভাব আর কষ্টে; তাই আমাকেও তারা ‘মিজারেবল’ অবস্থায় দেখতে চায়।

যাই হোক, তাদের যদি মজা লাগে তবে ঢিল ছুড়ুক। যেহেতু তারা ইসলামের নামে এই কাজটা করছে, তাই আমি বরং ইসলামেরই ক্ষতি করে দেব; বিভিন্ন মানুষের কাছে ইসলামের স্বরূপ খুলে দেব, তাদের তথাকথিত ‘ঈমান’ নষ্ট করে দিব, তাদেরকে নাস্তিকতার পথে নিয়ে আসবো। এক কথায়, ইসলামের ‘বারোটা’ বাজিয়ে দেব। অর্থাৎ বুয়েট অলারা যেমন আমার উক্ত পোস্টে হাহা রিয়্যাক্ট প্রদানের দ্বারা পরোক্ষভাবে তাদের সাধের ইন্সটিটিউশনের সুনামের ক্ষতি করার ব্যবস্থা করছে, ঠিক তেমনি প্রতিবেশী মুসল্লীরাও আমাকে উত্ত্যক্ত করার মাধ্যমে তাদের প্রিয় ধর্মের ভাবমূর্তির ক্ষতি করার ব্যবস্থা করছে।

অবস্থাদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে,দাড়ি-টুপিই হলো বর্তমানে সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি।

বিএনসিসি ইজ স্টিল বেটার – পর্ব ১

যশোরে একটি এতিম বাচ্চার অটোরিকশা ছিনতাই করে তাকে ছুরিকাঘাত করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ধরনের ঘটনা বিএনসিসিতে (বরিশাল, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর) ঘটে না বললেই চলে। তাই বলি, বিএনসিসি ইজ স্টিল বেটার।

অবশেষে মারা গেল শাহিন মৃত্যুর আগে স্পষ্ট চিৎকার দিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলো ছেলেটি। কিন্তু ভেতরে ধীরে ধীরে নিথর হয়ে যাওয়া শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়েও সে বলতে পারেনি।সে হয়তো বলতে চেয়েছিলো এই সমাজকে,আমি অভিশাপ দিচ্ছি। সে হয়তো স্রষ্টাকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলো, পৃথিবীতে পাঠাবে যখন এই রকম বিচার না পাওয়া সমাজে কেন পাঠিয়েছো
যে সমাজে ভিক্ষুকের টাকা ছিনতাই হয়।
প্রকাশ্যে রাস্তায় ফিল্মি স্টাইলে মানুষকে কুপিয়ে মারা হয়।
প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধা।
প্রতিটি খাবার ভেজাল মিশ্রিত।
শিক্ষকের কাছে ছাত্রী নিরাপদ নয়।
এ কেমন সমাজ
নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতে ঘৃণা হচ্ছে। এই সমাজ আর মানুষ হয়ে উঠলোনা।মানুষগুলো আর মানুষ হলোনা। আমি আপনি অমানুষই থেকে গেলাম।
কর্ম ব্যস্ততার পর ফেইসবুকে আসা মাত্র স্ক্রোলিং করতে করতে হঠাৎ ছবি দুটো চোখে পড়লো।
যশোরের কেশবপুরের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে মা, ছোট ভাই, বোনকে নিয়ে বসবাস করতো ছেলেটি। বয়স ১২ কি ১৩, একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে মা আর ছোট দুটো ভাই বোন নিয়ে কোন রকম চলে যেতো। মাদকসেবি কিছু বখাটে তার রিকশাটিকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে চাইলে ছেলেটি বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম করে।। পৃথিবী সমান কষ্ট পেয়ে পেয়ে ছেলেটি মারা যায়
আশা করি সবাই পোস্টটা শেয়ার করবেন ।

নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় or so they think

সমাজে বেশকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু লোক মনে করে – তারা সামহাও স্পেশাল, তাদের জন্য নিয়ম প্রযোজ্য নয়। একারণে তারা নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আজকে প্রধানত করোনার স্বাস্থ্যবিধি যারা শখের বশে বা অদ্ভুত সব কারণে লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিষয়ে বলবো।

জনবহুল স্থানে মাস্ক পরিধান করা সাধারণ নিয়ম। দেশের আনাচে-কানাচে শ্রমিক টাইপ অশিক্ষিত লোকজন যখন এ নিয়ম মেনে চলে না, তখন মনকে বোঝানো যায়। কিন্তু শিক্ষিত ও ভদ্রবেশীরা যখন এটা করে, তখন মনকে কেমনে বোঝাই?! তখন গবেষণা করতে বাধ্য হই, এসব লঙ্ঘনকারীদের মনে আসলে কী চলছে। 

প্রথমেই আসি হিন্দু সম্প্রদায় সম্পর্কে। দেশে এরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নিজেদেরকে স্পেশাল মনে করে, এমনকি মাস্কও নাকে-মুখে না পরে থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রাখে। আমার অফিসেও এরকম কমপক্ষে একজন আছে। সে পেশায় একজন কম্পিউটার অপারেটর। সে শুরু থেকেই ‘থুতনাস্ক’ ব্যবহার করে আসছে। তার সম্পর্কে বেশ কয়েক জনের কাছে অভিযোগ করায় প্রেশারের চোটে ইদানিং সে থুতনাস্কের বদলে ‘মুখাস্ক’ ব্যবহার শুরু করেছে। 

তাদের বদভ্যাস নিয়ে ট্রল পর্যন্ত করা হয়, তবু তারা শোধরাবে না

এছাড়া আরেকজন হিন্দু ভদ্রলোকের কথা বলবো। তিনিও ইদানিং মাস্ক ছাড়াই ফ্লোরে চলাফেরা করছেন (অর্থাৎ ‘নাইমাস্ক’)। উনিও খুব সম্ভবত নিজের সংখ্যালঘু পরিচয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্লাস তিনি হয়তো মনে করছেন, যেহেতু তিনি মালিকপক্ষের একজন, তাই এসব নিয়মকানুন তার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবার এমনও হতে পারে, তার হয়তো অলরেডি করোনা হয়ে গিয়েছে আগে। তাতে কী? করোনা তো যে কারো দ্বিতীয়বার হতে পারে, তাই না? এ বিষয়গুলো তার শিক্ষিত মন বুঝতে পারছে না। খুবই আফসোস!

এখানে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও বলে রাখি – পূর্বে উল্লেখিত কম্পিউটার অপারেটরকে ওই ফ্লোরের কম্পিউটার সেকশনের ভবিষ্যত ইন-চার্জ ( বা নেক্সট বিগ থিং) বানানোর প্রক্রিয়া চলছে, সেটা আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, ধুরন্ধর আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি (আমি একজন বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ‘সুপার এক্সপার্ট’)। এর পেছনে হাত রয়েছে সম্ভবতঃ আগের অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচালকের। কারণ পরিচালক ও অপারেটর উভয়ই হিন্দু এবং উভয়ের হোম ডিস্ট্রিক্ট নরসিংদী। হয়তো তারা একে অপরের আত্মীয় হন। তাহলে তো মাশাল্লাহ (পোয়াবারো) !

স্পষ্টতঃ আওয়ামী সরকারের আমলে হিন্দুদেরকে বাড়াবাড়ি রকম প্রমোট করা হচ্ছে, যেটা ঠিক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগারদেরকে শুধু এতটুকুই বলবো – তারা যেন তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাসের পাতায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত না হয়।

যাই হোক, on with the article. সেদিন সেন্টার পয়েন্ট কনকর্ড মার্কেটে গেলাম এক বিশেষ প্রয়োজনে। সেখানে ঢোকার পথে আমার টেম্পারেচার মেপে হাত স্যানিটাইজ করে দিলেও পরে মার্কেট থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম, দুই মহিলা বিনা বাধায় ঢুকে গেল। গেটের আশপাশে তখনও সেই লোকগুলো ছিল, তবে তারা নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মশগুল ছিল। 

মাস্কের বিষয়ে আবারও আসি। অফিসের আরেকজন কম্পিউটার অপারেটরকেও বেশ কয়েকদিন দেখেছি মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে। সে অবশ্য হিন্দু না, তবে নোয়াখাইল্লা। নোয়াখালীর লোকজনকে কী কারণে দেশের বাকি অঞ্চলের লোকেরা দেখতে পারে না, তার কিছু নমুনা পাওয়া শুরু করেছি। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী ওয়ালাদের মতো তাদের আচরণগত সমস্যা নেই, এমনকি বরিশাইল্লাদের মতো তারা চাপাবাজ ও অবাধ্যও না। তারপরও নোয়াখালীর লোকদেরকে মানুষ দেখতে পারে না – তাদের হাইজিনের অভাব বোধের কারণে। ফ্র‍্যাংকলি, বহুত খাচরামি করে তারা।

এছাড়া আমাদের অফিসের এইচআর ম্যাডামকে সেদিন দেখলাম মাস্ক ছাড়াই পুরো অফিসে দিব্যি চলাফেরা করছেন। আর গতকাল দেখলাম – মাস্ক আছে, তবে তা থুতনাস্ক। তিনি সম্ভবতঃ তার রূপ-যৌবন দেখাতে ব্যস্ত। আফটার অল, তিনি খুলনা বিভাগের লোক। এ বিভাগের লোকজন নিজেদেরকে বেশি সুন্দরী ও হ্যান্ডসাম মনে করে। তারা নিজেদের চেহারা বেচে খাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, যেটা মাত্রাতিরিক্ত টাইপের বাড়াবাড়ি হওয়ায় নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু।

হিন্দুদের বিষয়ে বলছিলাম। অফিসে আমার ফ্লোরে আরেকজন হিন্দু লোক আছেন, যিনি শুধু মাস্কই না, বরং আরো অনেক নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছেন। তিনি গ্রাফিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। গত বছর একুশে বইমেলায় ডিজাইনের জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছেন, সেজন্য তিনি একটু স্পেশাল বটে। তবে এতটা স্পেশাল নন যে, তিনি তার ডিপার্টমেন্টের লোকজন নিয়ে কিছুক্ষণ পরপর অট্টহাসিতে ফেটে পড়বেন। কারণ একই ফ্লোরে আমরাও তো কাজ করি। ওই হিন্দু লোক একজন শিল্পী হতে পারেন, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ইন্টেলেকচুয়াল এই ফ্লোরেই ১০-১৫ জন আছেন। এতগুলা লোককে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন শ্রেফ হিন্দু বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে? সেটাতো আছেই, প্লাস পূর্বে উল্লেখিত ওই হিন্দু পরিচালক মহোদয়ের মদদও আছে হয়তো।

এছাড়া একজন ‘টেকনিক্যাল গাই’ আছে, যে কিনা মাস্কের নিয়মকানুনকে থোরাই তোয়াক্কা করে। সে টেকনিক্যাল কাজগুলো ভালো বোঝে, এটা ঠিক। তার মানে এই না যে, সে সামহাও এতটা স্পেশাল – থুতনাস্ক পরিহিত অবস্থায় অফিসে লোকজনের মাঝে অবাধে চলাফেরা করবে। উল্লেখ্য যে, তার বাড়ি পাবনা, আর পাবনার লোকজন দিয়ে এখানকার লো ক্লাস স্টাফ সম্প্রদায়কে ভরে ফেলা হয়েছে, যেটা খুবই একটা অন্যায়। বুয়েটে পড়াশোনাকালীন সময়ে দেখেছি, সেখানকার ক্যাফেটেরিয়া ও হলের ক্যান্টিনগুলো চাঁদপুরের লোকজনকে দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল, এটাও ছিল একটা অন্যায়।

আমরা অফিসে আসতে একটু লেট করলে ঘ্যানঘ্যান শুরু হয়ে যায়। অথচ মালিকপক্ষের একজনের এক আত্মীয় কাজ করেন একই ফ্লোরে, তার আসা ও যাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। আর সে পড়াশোনাও করে এসেছে যদুমধু টাইপের জায়গা থেকে; মনে হয় না, যোগ্যতার বিশাল ঝুড়ি রয়েছে তার। কেবল মালিকের আত্মীয় বলেই তার সাতখুন মাফ। এ কেমন বিচার রে ভাই! এতো অবিচারের সংস্কৃতি! হে আল্লাহ অথবা ভগবান (অথবা ঈশ্বর), তুমি আমাদেরকে এসব অনাচার থেকে রক্ষা করো!   

দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট

কনফরমিস্ট বলতে এমন লোক বুঝায়, যারা মাত্রাতিরিক্ত মানিয়ে চলেন। চলার পথে ও সমাজে বিভিন্ন প্রকার লোকের সাথে মিশতে হয় আমাদের। তখন মতবিনিময় ও মতামত প্রদানের মতো বিষয় থাকে। আপনার সহকর্মী বা প্রতিবেশী যেমন আপনার সব মতামত মেনে নিবেন না, তেমনি আপনিও তাদের সব মতামত মেনে নিতে বাধ্য নন। কোনটা মেনে নিবেন আর কোনটা নিবেন না, সেটা আপনার বিবেক ও ন্যায়-অন্যায় বোধের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এ সমস্ত বিষয়ে যেসব ব্যক্তি তাদের বিবেককে মাত্রাতিরিক্তভাবে দমিয়ে রাখে, অর্থাৎ ন্যায়- অন্যায়ের ধার ধারে না, তারা হলো কনফরমিস্ট।

এরা আসলে সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার আশংকায় থাকে। অথবা সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য কনফরমিস্ট হয় নিজের কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। বাংলাদেশের মতো দেশে অনেকেই তাদের বোন বা মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েক বছরের জন্য কনফরমিস্ট রূপ ধারণ করে। ওই মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই তারা আবার স্বরূপ ধারণ করে। এসময় তাদের অনেকেই ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলে, অর্থাৎ তাদের ঠেকা সেরে গেছে।

বাংলাদেশের লোকজন যে নিজেকে ধার্মিক ও সামাজিক প্রমাণ করতে চায়, কখনো ভেবে দেখেছেন কি, এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে?  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের উদ্দেশ্য হলো – রেফারেন্স বা সুপারিশ এর মাধ্যমে চাকুরি জোগাড় করা, প্রয়োজনের সময় টাকা ধার নেয়া, নিজের মেয়ে বা বোন বিয়ে দেয়া, সামাজিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়া, প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করা, নিজের পরিবার যাতে একঘরে না হয়, বিপদে লোকজন যাতে সাহায্যে এগিয়ে আসে – এইসব আরকি। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু বেশিরভাগই হলো ছোটলোকি চিন্তাভাবনা।

যদিও শিরোনামে বলেছি, দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট। আসলে কনফরমিস্ট বেশি হলো বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে। বিশেষ করে যেসব দেশে অন্যায়-অবিচার বেশি চলে, শক্তিমানেরা দুর্বলদের নির্মমভাবে অত্যাচার করে। আবার দেখা গেছে, যেসব দেশের মানুষ বেশি ধর্মান্ধ ও গোঁড়া সেসব দেশেই এসব অত্যাচার বেশি চলে। কারণ সেসব দেশে শক্তিমানেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা হাইকোর্ট দেখিয়ে দুর্বলদেরকে ফাঁপরে রাখে। তাই উন্নত দেশ গঠন করতে হলে সর্বপ্রথমে ধর্মকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

বাংলাদেশে কনফরমিস্ট বেশি হয় গ্রামের মানুষ, অর্থাৎ যারা গ্রামে বড় হয়। এরা তীব্র মাত্রায় মুনাফিক টাইপের হয়। এদের মনে এক কথা আর মুখে আরেক কথা। এর কারণও আছে অবশ্য। গ্রামের লোকজন বাড়াবাড়ি রকমের চালবাজ ও কুটনা টাইপের। এদেরকে কুটিল বলা যেতে পারে, এরা কে কাকে বাঁশ দিবে সবসময় সে ধান্ধায় থাকে। আমি ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, কিন্তু এখন গ্রামে থাকি (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)। তাই এখানে যা বলছি তা অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। অনেকে বলে, গ্রামের লোকজন নাকি সহজ-সরল। এটা পুরা একটা ফাও কথা। গ্রামের লোকজনের মাথায় থাকে ভিলেজ পলেটিক্স। তাই এরা ছাত্রজীবনে যত মেধাবী হোক না কেন, পরবর্তীতে কর্মজীবনে ইনোভেটিভ কিছু করতে পারে না। দেশে বর্তমানে যেসব বড় বড় কাজ হচ্ছে, সেগুলো করছে শহরে মানুষ হওয়া লোকজন। নটর ডেমে আমার ক্লাসমেট আসিফ মাহমুদ সেরকম একজন ব্যক্তি। সে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র ছিল, অর্থাৎ সে শহরে বড় হয়েছে। 

আবার এমনও হতে পারে, ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবার হয়তো মফস্বল শহরে থাকে, চাকুরির সুবাদে তারা এক জায়গায় খুব বেশিদিন থাকতে পারে না। এসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা পুরোপুরি শহরে না থাকলেও ভিলেজ পলেটিক্স এর প্রভাব থেকে মুক্ত। তাই এরা টেরিটোরিয়াল মানসিকতার হয় না।

ভিলেজ পলেটিক্স হলো, কোনো গ্রামের এক স্থায়ী বাসিন্দা অপর এক স্থায়ী বাসিন্দা বা পরিবারকে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া (উচ্ছেদ) করতে চায়, যদি তাকে মেনে না চলে বা নতিস্বীকার না করে। এটা আসলে একটা ইঁদুর দোড়, এ খেলা চলতে থাকে সারাজীবনই, কিন্তু জয়ী হওয়া বা তৃপ্তি পাওয়া লোকের সংখ্যা হাতে গোণা।           

মেইন কথা হলো, এসব কনফরমিস্ট গিরি বাদ দিতে হবে। আপনার বোনকে পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ করুন, তার ভালো বিয়ে এমনিতেই হবে। আর বিয়ে হতে দেরি হলে সমস্যাটা কী? সে ক্যারিয়ার গড়তে থাকবে, পরে নিজেই একজন যোগ্য পাত্রকে জোগাড় করে নিবে।       

স্ট্যাপল ফুড বদলান, জীবন বদলে যাবে

বাঙালীদের স্ট্যাপল ফুড বা প্রধান খাদ্য হলো ভাত বা চাল। এটি খেলে শরীরে খুব দ্রুত শক্তি যোগায়। এ কারণে এটি এদেশে খুবই জনপ্রিয় খাবার। বেশিরভাগ লোকই তিন বেলা ভাত খেতে পছন্দ করে। 

তবে ডায়াবেটিক রোগীরা তিন বেলা ভাত খেতে পারেন না। তাদেরকে একবেলা ভাত আর বাকি দুইবেলা রুটি খেতে বলা হয়। আমি নিজেও একজন ডায়াবেটিক রোগী। একবেলা ভাত ও দুই বেলা রুটি খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলাম না, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা যন্ত্র দিয়ে মাপা ছাড়াও বোঝা যায়। যেমনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন, চোখের পাতা ভারী মনে হচ্ছে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যারা কিডনী রোগী, তারা তাদের প্রসাবের পরিমাণ লক্ষ্য করতে পারেন। যদি প্রসাবের পরিমাণ দিনদিন কমতে থাকে, তাহলে আপনি বিপদে আছেন।

একজন ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে এসব অভিজ্ঞতা আমার ভালোই আছে। তবে সম্প্রতি আমি একটা রেমেডি খুঁজে পেয়েছি, যেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হোন, তাহলে ভাত, আটা বা ময়দার পরিবর্তে ডাবলী খেতে পারেন, যেমনটা আমি খাচ্ছি – গত এক সপ্তাহ যাবত। এবং পজেটিভ ফলাফল পেয়েছি। ডাবলী খেতে পারেন ঘুঘনি বা চটপটি হিসেবে, আমি খাই চটপটি হিসেবে। সকালে আর রাতে খাই, দুপুরবেলা ভাত বা রুটি খাই।

খাদ্যাভ্যাসের এই পরিবর্তনের ফলে আগের চেয়ে অনেক সুস্থ অনুভব করছি। ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা আর ভারী মনে হচ্ছে না, প্রসাবের পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করি। আর হবেই বা না কেন, ডাবলিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ  অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রোটিন খুব কাজের জিনিস।কেউ কেউ বলতে পারেন, ডাবলি খেয়ে ভাতের খিদে আদতে মিটে কিনা। আমার তো মিটে, আমি তো একজন মানুষ, তাই না? আমার যদি মিটে থাকে, তবে আপনারও মিটবে।

আরেকটি বিষয় হলো, যাদের কিডনি প্রবলেম আছে, তাদের জন্য বেশি প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করা খারাপ প্রমাণিত হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন। কারণ ডাবলী মূলতঃ এক প্রকার ডাল। আর যারা বডিবিল্ডিং করেন, তাদের জন্যও এটা পারফেক্ট হতে পারে, জাস্ট গিভ ইট আ ট্রাই। এছাড়া এটাও জেনে রাখুন, ডাবলি বেশ সস্তা,  ৪০ টাকা কেজি মাত্র। 

ডাবলি খাওয়ার কারণে ইদানিং নিজেকে খুবই এনার্জিটিক ও কনফিডেন্ট অনুভব করছি। ডাবলি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, এটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো কিছু থাকবে না আপনার, তবে মলত্যাগ করার জন্য প্রত্যহ ৩/৪ বার যাওয়া লাগতে পারে টয়লেটে। 

আপডেট (২০ জুলাই, ২০২০)ঃ ইদানিং আর দুইবেলা ডাবলী খাচ্ছি না, কেবল রাতে খাচ্ছি। কারণ ডাবলী বা চটপটির সাথে শাকসবজি খাওয়ার সুযোগ সীমিত। শরীরের জন্য ভিটামিন এর দরকার আছে, তাই না? ঠিক করেছি, তিন বেলার মধ্যে সকালে ডাবলী বা চটপটি খাব। অফিস থাকলে দুপুরে রুটি এবং রাতে ভাত খাব। অফিস না থাকলে দুপুরে ভাত আর রাতে রুটি খাব।

করোনায় যেসব মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে

আমি এখানে যা বলবো তা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত মতামত বা ধারণা। এর পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে আমার পক্ষে। তাই এটিকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও বলা যেতে পারে। আমি মনে করি নিম্নোক্ত কারণে সারা বিশ্বজুড়ে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশিঃ

১. কিছু কিছু দেশের মানুষ দৈহিক সংশ্রব এড়াতে পারে না। যেমনঃ ইউএস, ব্রাজিল ও ভারতের মানুষ ফ্রি সেক্সে বিশ্বাস করে, যৌনতা ছাড়া তারা একদিনও চলতে পারে না। এসব দেশের বেশিরভাগ মানুষই বহুগামী এবং পরকীয়াও এসব দেশে ব্যাপক পরিমাণে হয়। দৈহিক সংশ্রবের কারণে তারা চট করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

২. এছাড়া যত্রতত্র দৈহিক মেলামেশা করায় তাদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস এর পরিমাণও বেশি। আমরা জানি, এইডস হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। তাই ইয়াং জেনারেশনের যারা করোনায় মারা যাচ্ছে, তাদের অনেকেই হয়তো এইডসে আক্রান্ত ছিল। এইডস এর কারণে ইউএস, ব্রাজিল ও ভারতে মৃত্যুর হার যেমন বেশি, ঠিক তেমনি একই কারণে হয়তো বাংলাদেশের কুমিল্লা অঞ্চলেও মৃত্যুর হার বেশি।

কুমিল্লা অঞ্চলের পুরুষেরা যেমন বিদেশ যেমন মধ্যপ্রাচ্য থেকে এইডস নিয়ে আসে, ঠিক তেমনি এ এলাকার প্রবাসীর স্ত্রীরা ব্যাপক হারে পরকীয়া করে তথা বহুগামী। 

৩. করোনায় কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের মৃত্যু হার বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বাংলাদেশের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় এ এলাকার মানুষ জাংকফুড খায় বেশি ও সুষম খাদ্য খায় কম। এরা শাকসবজি পছন্দ করে কম এবং জিনগতভাবে টেনশন করে বেশি। এছাড়া কুমিল্লা ও চাঁদপুর এলাকার মানুষ শারীরিক পরিশ্রমকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে, তাই এদের শারীরিক ফিটনেস কম এবং মাথা গরম থাকে বেশি।

৪. আমেরিকায় মৃত্যু হার বেশি হওয়ার আরেকটা কারণ হলো, সেখানে শীতের প্রকোপ বেশি। বাংলাদেশে করোনা যদি শীতকাল পর্যন্ত টিকে থাকে, তবে তখন আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাতে ফাস্ট ও জাংকফুড খাদ্য খাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক বেড়ে গেছে, ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে অবেসিটি বা স্থূলতার হারও অনেক বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যের এরূপ অবস্থা রোগ প্রতিরোধের জন্য সহায়ক নয়।