নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় or so they think

সমাজে বেশকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু লোক মনে করে – তারা সামহাও স্পেশাল, তাদের জন্য নিয়ম প্রযোজ্য নয়। একারণে তারা নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আজকে প্রধানত করোনার স্বাস্থ্যবিধি যারা শখের বশে বা অদ্ভুত সব কারণে লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিষয়ে বলবো।

জনবহুল স্থানে মাস্ক পরিধান করা সাধারণ নিয়ম। দেশের আনাচে-কানাচে শ্রমিক টাইপ অশিক্ষিত লোকজন যখন এ নিয়ম মেনে চলে না, তখন মনকে বোঝানো যায়। কিন্তু শিক্ষিত ও ভদ্রবেশীরা যখন এটা করে, তখন মনকে কেমনে বোঝাই?! তখন গবেষণা করতে বাধ্য হই, এসব লঙ্ঘনকারীদের মনে আসলে কী চলছে। 

প্রথমেই আসি হিন্দু সম্প্রদায় সম্পর্কে। দেশে এরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নিজেদেরকে স্পেশাল মনে করে, এমনকি মাস্কও নাকে-মুখে না পরে থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রাখে। আমার অফিসেও এরকম কমপক্ষে একজন আছে। সে পেশায় একজন কম্পিউটার অপারেটর। সে শুরু থেকেই ‘থুতনাস্ক’ ব্যবহার করে আসছে। তার সম্পর্কে বেশ কয়েক জনের কাছে অভিযোগ করায় প্রেশারের চোটে ইদানিং সে থুতনাস্কের বদলে ‘মুখাস্ক’ ব্যবহার শুরু করেছে। 

তাদের বদভ্যাস নিয়ে ট্রল পর্যন্ত করা হয়, তবু তারা শোধরাবে না

এছাড়া আরেকজন হিন্দু ভদ্রলোকের কথা বলবো। তিনিও ইদানিং মাস্ক ছাড়াই ফ্লোরে চলাফেরা করছেন (অর্থাৎ ‘নাইমাস্ক’)। উনিও খুব সম্ভবত নিজের সংখ্যালঘু পরিচয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্লাস তিনি হয়তো মনে করছেন, যেহেতু তিনি মালিকপক্ষের একজন, তাই এসব নিয়মকানুন তার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবার এমনও হতে পারে, তার হয়তো অলরেডি করোনা হয়ে গিয়েছে আগে। তাতে কী? করোনা তো যে কারো দ্বিতীয়বার হতে পারে, তাই না? এ বিষয়গুলো তার শিক্ষিত মন বুঝতে পারছে না। খুবই আফসোস!

এখানে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও বলে রাখি – পূর্বে উল্লেখিত কম্পিউটার অপারেটরকে ওই ফ্লোরের কম্পিউটার সেকশনের ভবিষ্যত ইন-চার্জ ( বা নেক্সট বিগ থিং) বানানোর প্রক্রিয়া চলছে, সেটা আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, ধুরন্ধর আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি (আমি একজন বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ‘সুপার এক্সপার্ট’)। এর পেছনে হাত রয়েছে সম্ভবতঃ আগের অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচালকের। কারণ পরিচালক ও অপারেটর উভয়ই হিন্দু এবং উভয়ের হোম ডিস্ট্রিক্ট নরসিংদী। হয়তো তারা একে অপরের আত্মীয় হন। তাহলে তো মাশাল্লাহ (পোয়াবারো) !

স্পষ্টতঃ আওয়ামী সরকারের আমলে হিন্দুদেরকে বাড়াবাড়ি রকম প্রমোট করা হচ্ছে, যেটা ঠিক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগারদেরকে শুধু এতটুকুই বলবো – তারা যেন তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাসের পাতায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত না হয়।

যাই হোক, on with the article. সেদিন সেন্টার পয়েন্ট কনকর্ড মার্কেটে গেলাম এক বিশেষ প্রয়োজনে। সেখানে ঢোকার পথে আমার টেম্পারেচার মেপে হাত স্যানিটাইজ করে দিলেও পরে মার্কেট থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম, দুই মহিলা বিনা বাধায় ঢুকে গেল। গেটের আশপাশে তখনও সেই লোকগুলো ছিল, তবে তারা নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মশগুল ছিল। 

মাস্কের বিষয়ে আবারও আসি। অফিসের আরেকজন কম্পিউটার অপারেটরকেও বেশ কয়েকদিন দেখেছি মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে। সে অবশ্য হিন্দু না, তবে নোয়াখাইল্লা। নোয়াখালীর লোকজনকে কী কারণে দেশের বাকি অঞ্চলের লোকেরা দেখতে পারে না, তার কিছু নমুনা পাওয়া শুরু করেছি। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী ওয়ালাদের মতো তাদের আচরণগত সমস্যা নেই, এমনকি বরিশাইল্লাদের মতো তারা চাপাবাজ ও অবাধ্যও না। তারপরও নোয়াখালীর লোকদেরকে মানুষ দেখতে পারে না – তাদের হাইজিনের অভাব বোধের কারণে। ফ্র‍্যাংকলি, বহুত খাচরামি করে তারা।

এছাড়া আমাদের অফিসের এইচআর ম্যাডামকে সেদিন দেখলাম মাস্ক ছাড়াই পুরো অফিসে দিব্যি চলাফেরা করছেন। আর গতকাল দেখলাম – মাস্ক আছে, তবে তা থুতনাস্ক। তিনি সম্ভবতঃ তার রূপ-যৌবন দেখাতে ব্যস্ত। আফটার অল, তিনি খুলনা বিভাগের লোক। এ বিভাগের লোকজন নিজেদেরকে বেশি সুন্দরী ও হ্যান্ডসাম মনে করে। তারা নিজেদের চেহারা বেচে খাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, যেটা মাত্রাতিরিক্ত টাইপের বাড়াবাড়ি হওয়ায় নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু।

হিন্দুদের বিষয়ে বলছিলাম। অফিসে আমার ফ্লোরে আরেকজন হিন্দু লোক আছেন, যিনি শুধু মাস্কই না, বরং আরো অনেক নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছেন। তিনি গ্রাফিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। গত বছর একুশে বইমেলায় ডিজাইনের জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছেন, সেজন্য তিনি একটু স্পেশাল বটে। তবে এতটা স্পেশাল নন যে, তিনি তার ডিপার্টমেন্টের লোকজন নিয়ে কিছুক্ষণ পরপর অট্টহাসিতে ফেটে পড়বেন। কারণ একই ফ্লোরে আমরাও তো কাজ করি। ওই হিন্দু লোক একজন শিল্পী হতে পারেন, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ইন্টেলেকচুয়াল এই ফ্লোরেই ১০-১৫ জন আছেন। এতগুলা লোককে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন শ্রেফ হিন্দু বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে? সেটাতো আছেই, প্লাস পূর্বে উল্লেখিত ওই হিন্দু পরিচালক মহোদয়ের মদদও আছে হয়তো।

এছাড়া একজন ‘টেকনিক্যাল গাই’ আছে, যে কিনা মাস্কের নিয়মকানুনকে থোরাই তোয়াক্কা করে। সে টেকনিক্যাল কাজগুলো ভালো বোঝে, এটা ঠিক। তার মানে এই না যে, সে সামহাও এতটা স্পেশাল – থুতনাস্ক পরিহিত অবস্থায় অফিসে লোকজনের মাঝে অবাধে চলাফেরা করবে। উল্লেখ্য যে, তার বাড়ি পাবনা, আর পাবনার লোকজন দিয়ে এখানকার লো ক্লাস স্টাফ সম্প্রদায়কে ভরে ফেলা হয়েছে, যেটা খুবই একটা অন্যায়। বুয়েটে পড়াশোনাকালীন সময়ে দেখেছি, সেখানকার ক্যাফেটেরিয়া ও হলের ক্যান্টিনগুলো চাঁদপুরের লোকজনকে দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল, এটাও ছিল একটা অন্যায়।

আমরা অফিসে আসতে একটু লেট করলে ঘ্যানঘ্যান শুরু হয়ে যায়। অথচ মালিকপক্ষের একজনের এক আত্মীয় কাজ করেন একই ফ্লোরে, তার আসা ও যাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। আর সে পড়াশোনাও করে এসেছে যদুমধু টাইপের জায়গা থেকে; মনে হয় না, যোগ্যতার বিশাল ঝুড়ি রয়েছে তার। কেবল মালিকের আত্মীয় বলেই তার সাতখুন মাফ। এ কেমন বিচার রে ভাই! এতো অবিচারের সংস্কৃতি! হে আল্লাহ অথবা ভগবান (অথবা ঈশ্বর), তুমি আমাদেরকে এসব অনাচার থেকে রক্ষা করো!   

দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট

কনফরমিস্ট বলতে এমন লোক বুঝায়, যারা মাত্রাতিরিক্ত মানিয়ে চলেন। চলার পথে ও সমাজে বিভিন্ন প্রকার লোকের সাথে মিশতে হয় আমাদের। তখন মতবিনিময় ও মতামত প্রদানের মতো বিষয় থাকে। আপনার সহকর্মী বা প্রতিবেশী যেমন আপনার সব মতামত মেনে নিবেন না, তেমনি আপনিও তাদের সব মতামত মেনে নিতে বাধ্য নন। কোনটা মেনে নিবেন আর কোনটা নিবেন না, সেটা আপনার বিবেক ও ন্যায়-অন্যায় বোধের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এ সমস্ত বিষয়ে যেসব ব্যক্তি তাদের বিবেককে মাত্রাতিরিক্তভাবে দমিয়ে রাখে, অর্থাৎ ন্যায়- অন্যায়ের ধার ধারে না, তারা হলো কনফরমিস্ট।

এরা আসলে সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার আশংকায় থাকে। অথবা সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য কনফরমিস্ট হয় নিজের কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। বাংলাদেশের মতো দেশে অনেকেই তাদের বোন বা মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েক বছরের জন্য কনফরমিস্ট রূপ ধারণ করে। ওই মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই তারা আবার স্বরূপ ধারণ করে। এসময় তাদের অনেকেই ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলে, অর্থাৎ তাদের ঠেকা সেরে গেছে।

বাংলাদেশের লোকজন যে নিজেকে ধার্মিক ও সামাজিক প্রমাণ করতে চায়, কখনো ভেবে দেখেছেন কি, এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে?  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের উদ্দেশ্য হলো – রেফারেন্স বা সুপারিশ এর মাধ্যমে চাকুরি জোগাড় করা, প্রয়োজনের সময় টাকা ধার নেয়া, নিজের মেয়ে বা বোন বিয়ে দেয়া, সামাজিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়া, প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করা, নিজের পরিবার যাতে একঘরে না হয়, বিপদে লোকজন যাতে সাহায্যে এগিয়ে আসে – এইসব আরকি। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু বেশিরভাগই হলো ছোটলোকি চিন্তাভাবনা।

যদিও শিরোনামে বলেছি, দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট। আসলে কনফরমিস্ট বেশি হলো বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে। বিশেষ করে যেসব দেশে অন্যায়-অবিচার বেশি চলে, শক্তিমানেরা দুর্বলদের নির্মমভাবে অত্যাচার করে। আবার দেখা গেছে, যেসব দেশের মানুষ বেশি ধর্মান্ধ ও গোঁড়া সেসব দেশেই এসব অত্যাচার বেশি চলে। কারণ সেসব দেশে শক্তিমানেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা হাইকোর্ট দেখিয়ে দুর্বলদেরকে ফাঁপরে রাখে। তাই উন্নত দেশ গঠন করতে হলে সর্বপ্রথমে ধর্মকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

বাংলাদেশে কনফরমিস্ট বেশি হয় গ্রামের মানুষ, অর্থাৎ যারা গ্রামে বড় হয়। এরা তীব্র মাত্রায় মুনাফিক টাইপের হয়। এদের মনে এক কথা আর মুখে আরেক কথা। এর কারণও আছে অবশ্য। গ্রামের লোকজন বাড়াবাড়ি রকমের চালবাজ ও কুটনা টাইপের। এদেরকে কুটিল বলা যেতে পারে, এরা কে কাকে বাঁশ দিবে সবসময় সে ধান্ধায় থাকে। আমি ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, কিন্তু এখন গ্রামে থাকি (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)। তাই এখানে যা বলছি তা অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। অনেকে বলে, গ্রামের লোকজন নাকি সহজ-সরল। এটা পুরা একটা ফাও কথা। গ্রামের লোকজনের মাথায় থাকে ভিলেজ পলেটিক্স। তাই এরা ছাত্রজীবনে যত মেধাবী হোক না কেন, পরবর্তীতে কর্মজীবনে ইনোভেটিভ কিছু করতে পারে না। দেশে বর্তমানে যেসব বড় বড় কাজ হচ্ছে, সেগুলো করছে শহরে মানুষ হওয়া লোকজন। নটর ডেমে আমার ক্লাসমেট আসিফ মাহমুদ সেরকম একজন ব্যক্তি। সে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র ছিল, অর্থাৎ সে শহরে বড় হয়েছে। 

আবার এমনও হতে পারে, ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবার হয়তো মফস্বল শহরে থাকে, চাকুরির সুবাদে তারা এক জায়গায় খুব বেশিদিন থাকতে পারে না। এসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা পুরোপুরি শহরে না থাকলেও ভিলেজ পলেটিক্স এর প্রভাব থেকে মুক্ত। তাই এরা টেরিটোরিয়াল মানসিকতার হয় না।

ভিলেজ পলেটিক্স হলো, কোনো গ্রামের এক স্থায়ী বাসিন্দা অপর এক স্থায়ী বাসিন্দা বা পরিবারকে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া (উচ্ছেদ) করতে চায়, যদি তাকে মেনে না চলে বা নতিস্বীকার না করে। এটা আসলে একটা ইঁদুর দোড়, এ খেলা চলতে থাকে সারাজীবনই, কিন্তু জয়ী হওয়া বা তৃপ্তি পাওয়া লোকের সংখ্যা হাতে গোণা।           

মেইন কথা হলো, এসব কনফরমিস্ট গিরি বাদ দিতে হবে। আপনার বোনকে পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ করুন, তার ভালো বিয়ে এমনিতেই হবে। আর বিয়ে হতে দেরি হলে সমস্যাটা কী? সে ক্যারিয়ার গড়তে থাকবে, পরে নিজেই একজন যোগ্য পাত্রকে জোগাড় করে নিবে।       

স্ট্যাপল ফুড বদলান, জীবন বদলে যাবে

বাঙালীদের স্ট্যাপল ফুড বা প্রধান খাদ্য হলো ভাত বা চাল। এটি খেলে শরীরে খুব দ্রুত শক্তি যোগায়। এ কারণে এটি এদেশে খুবই জনপ্রিয় খাবার। বেশিরভাগ লোকই তিন বেলা ভাত খেতে পছন্দ করে। 

তবে ডায়াবেটিক রোগীরা তিন বেলা ভাত খেতে পারেন না। তাদেরকে একবেলা ভাত আর বাকি দুইবেলা রুটি খেতে বলা হয়। আমি নিজেও একজন ডায়াবেটিক রোগী। একবেলা ভাত ও দুই বেলা রুটি খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলাম না, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা যন্ত্র দিয়ে মাপা ছাড়াও বোঝা যায়। যেমনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন, চোখের পাতা ভারী মনে হচ্ছে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যারা কিডনী রোগী, তারা তাদের প্রসাবের পরিমাণ লক্ষ্য করতে পারেন। যদি প্রসাবের পরিমাণ দিনদিন কমতে থাকে, তাহলে আপনি বিপদে আছেন।

একজন ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে এসব অভিজ্ঞতা আমার ভালোই আছে। তবে সম্প্রতি আমি একটা রেমেডি খুঁজে পেয়েছি, যেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হোন, তাহলে ভাত, আটা বা ময়দার পরিবর্তে ডাবলী খেতে পারেন, যেমনটা আমি খাচ্ছি – গত এক সপ্তাহ যাবত। এবং পজেটিভ ফলাফল পেয়েছি। ডাবলী খেতে পারেন ঘুঘনি বা চটপটি হিসেবে, আমি খাই চটপটি হিসেবে। সকালে আর রাতে খাই, দুপুরবেলা ভাত বা রুটি খাই।

খাদ্যাভ্যাসের এই পরিবর্তনের ফলে আগের চেয়ে অনেক সুস্থ অনুভব করছি। ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা আর ভারী মনে হচ্ছে না, প্রসাবের পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করি। আর হবেই বা না কেন, ডাবলিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ  অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রোটিন খুব কাজের জিনিস।কেউ কেউ বলতে পারেন, ডাবলি খেয়ে ভাতের খিদে আদতে মিটে কিনা। আমার তো মিটে, আমি তো একজন মানুষ, তাই না? আমার যদি মিটে থাকে, তবে আপনারও মিটবে।

আরেকটি বিষয় হলো, যাদের কিডনি প্রবলেম আছে, তাদের জন্য বেশি প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করা খারাপ প্রমাণিত হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন। কারণ ডাবলী মূলতঃ এক প্রকার ডাল। আর যারা বডিবিল্ডিং করেন, তাদের জন্যও এটা পারফেক্ট হতে পারে, জাস্ট গিভ ইট আ ট্রাই। এছাড়া এটাও জেনে রাখুন, ডাবলি বেশ সস্তা,  ৪০ টাকা কেজি মাত্র। 

ডাবলি খাওয়ার কারণে ইদানিং নিজেকে খুবই এনার্জিটিক ও কনফিডেন্ট অনুভব করছি। ডাবলি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, এটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো কিছু থাকবে না আপনার, তবে মলত্যাগ করার জন্য প্রত্যহ ৩/৪ বার যাওয়া লাগতে পারে টয়লেটে। 

আপডেট (২০ জুলাই, ২০২০)ঃ ইদানিং আর দুইবেলা ডাবলী খাচ্ছি না, কেবল রাতে খাচ্ছি। কারণ ডাবলী বা চটপটির সাথে শাকসবজি খাওয়ার সুযোগ সীমিত। শরীরের জন্য ভিটামিন এর দরকার আছে, তাই না? ঠিক করেছি, তিন বেলার মধ্যে সকালে ডাবলী বা চটপটি খাব। অফিস থাকলে দুপুরে রুটি এবং রাতে ভাত খাব। অফিস না থাকলে দুপুরে ভাত আর রাতে রুটি খাব।

করোনায় যেসব মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে

আমি এখানে যা বলবো তা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত মতামত বা ধারণা। এর পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে আমার পক্ষে। তাই এটিকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও বলা যেতে পারে। আমি মনে করি নিম্নোক্ত কারণে সারা বিশ্বজুড়ে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশিঃ

১. কিছু কিছু দেশের মানুষ দৈহিক সংশ্রব এড়াতে পারে না। যেমনঃ ইউএস, ব্রাজিল ও ভারতের মানুষ ফ্রি সেক্সে বিশ্বাস করে, যৌনতা ছাড়া তারা একদিনও চলতে পারে না। এসব দেশের বেশিরভাগ মানুষই বহুগামী এবং পরকীয়াও এসব দেশে ব্যাপক পরিমাণে হয়। দৈহিক সংশ্রবের কারণে তারা চট করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

২. এছাড়া যত্রতত্র দৈহিক মেলামেশা করায় তাদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস এর পরিমাণও বেশি। আমরা জানি, এইডস হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। তাই ইয়াং জেনারেশনের যারা করোনায় মারা যাচ্ছে, তাদের অনেকেই হয়তো এইডসে আক্রান্ত ছিল। এইডস এর কারণে ইউএস, ব্রাজিল ও ভারতে মৃত্যুর হার যেমন বেশি, ঠিক তেমনি একই কারণে হয়তো বাংলাদেশের কুমিল্লা অঞ্চলেও মৃত্যুর হার বেশি।

কুমিল্লা অঞ্চলের পুরুষেরা যেমন বিদেশ যেমন মধ্যপ্রাচ্য থেকে এইডস নিয়ে আসে, ঠিক তেমনি এ এলাকার প্রবাসীর স্ত্রীরা ব্যাপক হারে পরকীয়া করে তথা বহুগামী। 

৩. করোনায় কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের মৃত্যু হার বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বাংলাদেশের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় এ এলাকার মানুষ জাংকফুড খায় বেশি ও সুষম খাদ্য খায় কম। এরা শাকসবজি পছন্দ করে কম এবং জিনগতভাবে টেনশন করে বেশি। এছাড়া কুমিল্লা ও চাঁদপুর এলাকার মানুষ শারীরিক পরিশ্রমকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে, তাই এদের শারীরিক ফিটনেস কম এবং মাথা গরম থাকে বেশি।

৪. আমেরিকায় মৃত্যু হার বেশি হওয়ার আরেকটা কারণ হলো, সেখানে শীতের প্রকোপ বেশি। বাংলাদেশে করোনা যদি শীতকাল পর্যন্ত টিকে থাকে, তবে তখন আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাতে ফাস্ট ও জাংকফুড খাদ্য খাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক বেড়ে গেছে, ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে অবেসিটি বা স্থূলতার হারও অনেক বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যের এরূপ অবস্থা রোগ প্রতিরোধের জন্য সহায়ক নয়।                                                   

S আদ্যক্ষরের বিগ শটদের গল্প – পর্ব ২

আমি লক্ষ্য করেছি, যাদের নাম S সিয়ে শুরু হয়, তাদের মাঝে অপরাধ বা ফাউল করার প্রবণতা বেশি। এর মধ্যে রয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ, রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদ, জেকেজি’র সাবরিনা এবং শারমিন নামক এক আওয়ামী লীগ নেত্রী। এদের অপকর্মের নমুনা নিম্নরূপঃ

১. মাদ্রাসার একজন অধ্যক্ষ হয়েও নিজ মাদ্রাসার ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার লোভ সামলাতে পারে নি সিরাজ। পরে নুসরাতের মামলায় যখন সে জেলে যায়, তখন মেয়েটিকে পুড়িয়ে মারার আদেশও দেয় সে।

২. ক্লাস নাইনও পাস করতে পারে নি শাহেদ। অথচ সে টাকার জোরে বিভিন্ন টকশোতে জ্ঞানগর্ভ লেকচার দিয়ে নিজেকে বুদ্ধিজীবি প্রমাণ করতে চাইতো। হেন কোনো বাটপারি নেই যেটা এই শাহেদ করে নি। করোনা টেস্টের নামে কত মানুষের জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলেছে সে, তার কোনো হিসাব নেই ।

৩. শাহেদের এক ফিমেল ভার্সন হলো জেকেজি’র সাবরিনা। ডাক্তার হলেও তার কর্মকাণ্ডে এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সে হলো একটা উচ্চশ্রেণির পতিতা বা কলগার্ল। পরকীয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত এই সাবরিনা নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিকাদারি কাজ বাগাতে যে নিজের দেহ বিক্রি করতো, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

৪. আরেকজনের খোঁজ পাওয়া গেল যার নাম S দিয়ে শুরু। সে হলো শারমিন নামক এক নারী, যে কিনা দেশের কোনো একটা এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেত্রী। সে ভুয়া এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করেছে সরকারি হাসপাতালে। টাকা কামানোর জন্য এভাবে সে ডাক্তার ও রোগীদের জীবন নিয়ে তামাশা করেছে।                 

দেশে করোনাকাল কি শেষের দিকে?

সরকার ও জনগণের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে দেশে করোনাকাল বোধ হয় শেষের দিকে। সরকার করোনা টেস্টের সংখ্যা কমিয়ে দেয়ায় নতুন সনাক্তের সংখ্যা কমেছে। এতে অনেকের আশা জেগেছে যে, দেশে করোনার ক্রান্তিকাল হয়তো শেষের দিকে। সেটা হলে আমিও খুশি হতাম। তবে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা – করোনা সংক্রমণ কমাতে হলে যেকোনো দেশের অধিবাসীকে বেশকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেগুলোর পরোয়া বাংলাদেশের লোকজন কখনোই করেনি। সুতরাং দেশে করোনার সংক্রমণ কমবে কেন? তবে কালোবাজারিদের ধারণা হয়েছে, দেশে করোনার ভয়াবহতা শেষের দিকে, তাই তারা তাদের স্টককৃত মালামাল বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে মাস্ক। সার্জিক্যাল মাস্ক কিছুদিন আগ পর্যন্ত ছিল ২০ টাকা পিছ, সেটা এখন ৫ টাকা পিছ। আর আজ এক অনলাইন শপে দেখলাম ৩ টাকা করে পিছ। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এদের মনোভাব কেমন। সরকারও মনে করছে, করোনা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে, তাই তারা এখনো ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি।

সামাজিক দূরত্ব মেনে ঘরে বসে আছে এমন এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাই বললেই চলে। তাই সরকার এখন তাদের পরীক্ষাটা নিলেই পারে। প্রথম আলোর রিপোর্টে আজকে এসেছে, পরীক্ষার্থীরা নাকি সব পড়াশুনা ভুলে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ হ্রাস পাবে তেজস্ক্রিয় পদার্থের গ্রাফের মতো, পুরোপুরি ভ্যানিশ হতে অনেক সময় লাগবে। এতোদিন শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতা নিয়ে খেলার অধিকার কার আছে? প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হোক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চার-পাঁচ হাজার করোনা রোগীর জন্য সরকার শত কোটি টাকা ব্যয় করতে পারলে শিক্ষাখাতে টাকা ঢালবে না কেন?

এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। সেটা হলো – কেউ পদত্যাগ করলে তাকে যদি এতো পঁচানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে না, বোকা বাঙালী এই সহজ জিনিসটা বোঝে না।

যেখানে দেশবাসীর এখন বলা উচিত, ‘এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’, সেখানে তারা বলছে, ‘মহাপরিচালক ব্যাটা খুবই খারাপ ছিল, তার বিরুদ্ধে কয়েকটা মামলা দেয়া হোক’। সে যে বলির পাঠা সেটা জনগণ বুঝতে পারছে না কেন?!

বিএনপি-জামাতের দালাল এই ইলিয়াস চুয়াডাঙ্গা জেলা ও খুলনা বিভাগের কলঙ্ক

শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, খুলনা বিভাগের লোকজন বোধ হয় দুধে ধোয়া তুলসীপাতা, তাদের মাঝে দু-একটা কলঙ্ক রয়েছে মাত্র। আসলে ব্যাপারটা তা নয়, অন্য যেকোনো বিভাগের মতো খুলনা বিভাগেও ভুরি ভুরি পাপী রয়েছে। কেবল খুলনা বিভাগের ‘তেনারা’ অভিনয়টা একটু ভালো পারেন, এই আর কি!

খুলনা বিভাগের এই অসাধু লোকজনের মধ্যে একজন হলো ইটিভি’র প্রাক্তন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা, বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটে থাকে, সেখানে ট্যাক্সিক্যাব চালায় (বা চালাতো)। তবে ইদানিং সে বিএনপি ও জামাতের হয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজের জন্য নিশ্চয়ই সে বিরাট পেমেন্ট পাচ্ছে, সেটা দিয়েই তার চলে যাওয়ার কথা। গাড়ি চালানোর দরকার দেখি না।

সে সবসময় ইসলামের পক্ষে কথা বলে, এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি হলো, সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল বিএনপি ও জামাতপন্থীদের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজে সে ব্যবহার করছে তার ‘ফিফটিন মিনিটস’ নামক ইউটিউব চ্যানেল।

তারপরও তাকে নিয়ে লিখতাম না হয়তো। কিন্তু সম্প্রতি সে তার একটি ভিডিওতে আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীদেরকে পঁচিয়েছে। ‘সমকামিতা’ প্রশ্নবিদ্ধ টার্ম হলেও এটা যদি কেউ সাপোর্ট করে, তবে সে কীভাবে অস্পৃশ্য বা অচ্ছুত হয়ে গেল বা অপরাধ করে ফেললো, সেটা বুঝতে পারলাম না। সমকামিতা যদি কিছু লোকের জন্য অপরিহার্য প্র্যাকটিস হয়, তাহলে সেটার অনুমোদন দিতে সমস্যা কী? সমকামিতা কি বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশে অনুমোদিত নয়?

আমি অবশ্য সমকামিতাকে সরাসরি সাপোর্ট করি না, এ বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড। তবে আমি লিভ টুগেদারকে সাপোর্ট করি। আমি মনে করি, দেশে বিয়ের বিকল্প হিসেবে লিভ টুগেদার কালচার চালু করতে হবে। তাতে ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মেয়েরা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার গোছাবে ও স্বাবলম্বী হবে।

যাই হোক, আয়মান ও তার সহযোগীদেরকে যেভাবে পঁচানোর চেষ্টা করেছে ইলিয়াস, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে ইসলামের পক্ষে কাজ করছে, দ্যাটস ফাইন। বাট সে জঙ্গীবাদের পক্ষেও কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেখানে তার একটি দুই তলা বাড়ি রয়েছে, সেখানকার নিচতলায় নাকি সে একটা কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করেছে এবং সেটার খরচ সে-ই চালায়, এমনটাই স্বীকার করেছে সে নিজের একটি ভিডিওতে।

আয়মান সাদিক এবং রবি টেন মিনিট স্কুলের বিরুদ্ধে ইলিয়াস কীভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি নিম্নে দেওয়া হলোঃ

ইলিয়াস যে এখন পুতঃপবিত্র সাজার চেষ্টা করছে, সেটা দেখে ভুলে গেলে চলবে না যে, সে কীভাবে বা কোন কারণে একুশে টিভি থেকে বহিষ্কার হয়েছিল। সে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় বসবাসকারী একজন বরিশাইল্লা বহুগামী টাইপের মহিলার পিছে লেগেছিল। ঐ মহিলার স্বামী বিদেশে থাকতো এবং মহিলা কীভাবে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া করে বেড়াতো, সেটা ইলিয়াস একুশে টিভির ক্রাইম রিপোর্টের একটা পর্বে ফুটিয়ে তুলেছিল। যেসব মহিলার স্বামী প্রবাসী, তাদের অনেকে এসব করে বেড়ায়, সেটা নতুন কিছু নয় – এটা নিয়ে রিপোর্ট না বানিয়ে ইলিয়াসের উচিত ছিল অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট বানানো, যেমনঃ ভেজাল, চোরাকারবারী, মজুতদারী বা সরকারের বিরুদ্ধে (যদি সে সময় সেটা করার সাহস তার থাকতো !)।

সে যে বাড়াবাড়িটা করেছে, সেটা হলো – এক পুরুষের সাথে ঐ বরিশাইল্লা মহিলার চুমাচুমি ও ডলাডলির দৃশ্য সে নেগেটিভ ফর্মেটে একুশে টিভির পর্দায় হাজির করেছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মহিলা তার নামে এবং একুশে টিভির তৎকালীন পরিচালক আব্দুস সালামের নামে পর্নোগ্রাফি ধারায় মামলা করে। এতে ইলিয়াস চাকুরি হারায় এবং সালামসহ সে জেলে যায়। এ ঘটনায় সালাম একুশে টিভির কর্তৃত্ব হারায়। পরে আওয়ামী সরকার যখন ইলিয়াসকে বিএনপি ও জামাতের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

যাই হোক, ইলিয়াস, তুমি যদি আয়মান সাদিকের বিরুদ্ধে না লাগতে, তাহলে তোমার বিরুদ্ধেও আমি লিখতাম না। তোমাকে আমি ‘কুমিল্লা হেটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান হিসেবে আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি না। ‘কুমিল্লা হেটার’দের বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত হয়েছে।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

তবে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও আরো এক কারণে আমি আয়মানকে সমর্থন করছি, সেটা হলো – আমি ‘লিভ টুগেদার’ কালচার এর সমর্থক, যেমনটা আমি আগে জানিয়েছি। হ্যাঁ, আমি একজন নাস্তিক এবং ধর্মবিরোধী। আমি মনে করি, ধর্ম হলো ডিজিজ বা ভাইরাস এবং এক প্রকার ব্রেইন ওয়াশ। দেশবাসীকে এই ভাইরাস ও ব্রেইন ওয়াশের কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে, তাদেরকে উন্নত জীবন প্রদান করতে হবে। মানুষ কেন ধর্মের প্রতি আসক্ত হয় বা ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, সেটা নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই একটি আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি।

ইলিয়াস, তোমার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত আরেক ‘কুমিল্লা হেটার’ কর্তৃক আমি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলাম, কেবল জন্মসূত্রে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়ার কারণে। সেটা হলো ২০১১ সালে যখন আমি জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরি করতাম, তখনকার কথা। লোকটার নাম রফিকুল ইসলাম জীবন, বয়স বর্তমানে প্রায় ৪১/৪২। তার কারণে বুয়েট থেকে আগত কেউই জুপিটারে টিকতে পারতো না। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস হলো, রফিকও সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি। ‘বাসেত’ নামক এক কৌশলী বুয়েটিয়ান কর্তৃক সে বিতাড়িত হয়েছিল।

খুলনা বিভাগের ‘ভদ্দরনোক’দের স্বরূপ (আসল চেহারা) – প্রিভিউ

উপর্যুক্ত শিরোনামে একটি পূর্ণদের্ঘ্য আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি কয়েকদিনের মধ্যে। আসলে দেশের কোনো অঞ্চলের লোকই পুরোপুরি বিশুদ্ধ না, সবাই কম-বেশি খারাপ। তবে একেকজনের খারাপি একেক সাইডে। এগুলো তুলে ধরছি ইয়াং জেনারেশনের জন্য, যারা এখনো মানুষ চিনতে শেখে নাই। তারা যাতে লোকজনের অঞ্চলভিত্তিক খোঁজ জেনেই আন্দাজ করতে পারে, লোকটি বা মহিলাটি (বা ছেলেটি বা মেয়েটি) থেকে সে কীরূপ ব্যবহার আশা করতে পারে।

খুলনা বিভাগের লোকদের আচরণ ও ব্যবহার একেবারে অসভ্যের মতো নয়, তবে এদের সমস্যা অন্য জায়গায়। ইন ফ্যাক্ট, আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে, এরা এতখানি ফাউল করেছে যে, সেগুলোর বেশিরভাগ গুছিয়ে লিখতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। যেহেতু ‘শাহেদ’ কাণ্ডে দেশ বেশ উত্তাল, তাই একজন সচেতন নাগরিক ও ব্লগার হিসেবে এখানে আমারও কিছু মন্তব্য করা উচিত। ‘কিছু মন্তব্য’ না, আমি বরং পূর্ণদৈর্ঘ্য বর্ণনাই লিখবো এ বিভাগের লোকদের সম্পর্কে, যে বিভাগে রয়েছে খুলনা জেলা, যশোর জেলা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া প্রভৃতি জেলা।

যাই হোক, এ মুহূর্তে যেহেতু বিস্তারিত লেখা সম্ভব হচ্ছে না, তাই কি পয়েন্টগুলো (key points) তুলে ধরি। সেগুলো নিম্নরূপঃ

১। তাদেরও আচরণগত সমস্যা আছে, হয়তো পরিমাণে একটু কম, এই আর কি।
২। তারা ব্যাপক নাকউঁচু টাইপের, বাংলাদেশের বাকি জেলার মানুষদেরকে মানুষ মনে করে কিনা, সেটা গবেষণার বিষয়।
৩। খুলনা বিভাগের গড় আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তা সত্ত্বেও তারা সুযোগ পেলেই ব্যাপক বিলাসী জীবনযাপন করতে চায়, নিজেদেরকে জমিদার মনে করে।

৪। তারা নিজেদেরকে দেশের অবশিষ্টাংশের চেয়ে বেশি হ্যান্ডসাম ও সুন্দরী মনে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তারা নিজেদের চেহারা বেচে খেতে চায়। অর্থাৎ নিজেদের দৈহিক সৌন্দর্য বাড়াবাড়ি রকম এক্সপ্লয়েট করতে চায় তারা।

কত আর চেহারা বেচে খাবি তোরা?!

৫। সুযোগ পেলেই চরম খাইষ্ঠামি করে, অর্থাৎ স্বার্থপরতার পরিচয় দেয়। বেশিমাত্রায় হিসেবী, হিসেবের দিক থেকে তারা মুন্সিগঞ্জবাসীর ‘ভাই-বোন’ লাগে।

৬। সমগ্র দেশকে দেশ মনে করে না, দেশ মনে করে কেবল খুলনা বিভাগকে। নেপোটিজম যদি শিখতে হয়, তবে এদের কাছ থেকে শেখো। উত্তর বঙ্গের লোকদের মতো এরাও একদিন নিজেদের স্বাধীনতার প্রতীক্ষায় আছে। অর্থাৎ এদের মনের গহীন কোণে একটা আশা আছে যে, খুলনা বিভাগ একদিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। অন্তত তাদের কর্মকাণ্ড ও মনমানসিকতা দেখলে এমনটাই মনে হয়। দেশ ভাগের ক্ষেত্রে তাদের অনুরূপ চিন্তাভাবনা ও আচরণ করে উত্তরবঙ্গবাসী (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের লোকজন, একত্রে, দুই বিভাগ মিলিয়ে)।

৭। যৌন চরিত্রকে আমি খুব একটা আমলে নেই না। কিন্তু যারা নেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছিঃ দেশের যে সকল অঞ্চলের লোকের যৌন চরিত্র সবচেয়ে খারাপ, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খুলনা ও সিলেট বিভাগের লোকজন। বিশেষ করে, খুলনা বিভাগের বহু মেয়েই ভারতে পাচার হয়ে পরে দেশে ফেরত আসে। এদের মাধ্যমেই দেশে ব্যাপক হারে এইডস/এইচআইভি’র বিস্তার ঘটছে।

আরো কিছু পয়েন্ট আছে, সেগুলো না হয় পরে আপডেট করবো।

ছোটলোকদের কাজ হচ্ছে অপরকে স্টক (stalk) করা

অনেকে হয়তো বলবেন, আমি কেবল নেগেটিভ জিনিসগুলো নিয়েই লিখি। হয়তো প্রশ্ন করবেন, আমি কি কোনো কিছুর মধ্যে পজেটিভ কিছু দেখি না? সেটা দেখি ঠিকই, কিন্তু নেগেটিভ কর্মকাণ্ড যে ঘটে চলেছে বাংলাদেশের সমাজে, সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এমন অনেক নেগেটিভ কর্মকাণ্ড ঘটে, যেগুলো নিয়ে কেউ লেখে না (হয়তো খালি বন্ধুবান্ধবের সাথে মৌখিকভাবে শেয়ার করে)। কিন্তু এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবারই জানা উচিত; তাতে তারা বুঝতে পারবে যে, বাংলাদেশে আসলে কী চলছে, বা বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা আসলে কেমন।

ছোটলোকদের নিয়ে এর আগেও লিখেছি। সেটা নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত আছে।

লেজকাটা শিয়ালের গল্প (ছোটলোকদের গল্প)

আবারও লিখতে বাধ্য হলাম। কারণ ছোটলোকেরা তাদের ছোটলোকি চালিয়েই যাচ্ছে, তাদের নিচ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে ওয়াকিবহাল করাটা জরুরী। কারণ বেশিরভাগ লোকজনই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট না, তারা আসলে অন্যের অনেক কর্মকাণ্ডই ব্যাখ্যা করতে পারে না, ফলে ভেতরে ভেতরে হতাশায় ভোগে। আমি নিজেও যখন চরম মেধাবী ছাত্র ছিলাম, তখন সবই ভালো চলছিল, কেবল কিছু লোকজনের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা পেতাম না। আজ বুঝতে পারছি, তারা আসলে ছোটলোক ছিল, আর তাদের ঐ সকল কর্মকাণ্ড হলো ‘ছোটলোকি’। আগে যদি সেটা বুঝতাম, তাহলে ছোটলোকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মাথা ঘামাতাম না।

অনেকে হয়তো বলবেন, আমি এতোই যদি সমঝদার হই, তবে এখন কেন মাথা ঘামাচ্ছি? আসলে এসব লেখা আমার মনকে শান্ত করার জন্য নয়, আমার মন খুব বেশি অশান্ত কখনোই হয় না। কারণ আমি আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারি, কোন চেহারার লোক থেকে, সমাজের কোন স্তরের লোক থেকে, কোন পেশাজীবি লোক থেকে কী ধরনের আচরণ আশা করতে পারি (দু’-একটা ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে)।

আমার এসব লেখা তাদের জন্য যারা দেশের চলমান সমাজে কিছু লোকজনের অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ দেখে বিব্রত, এগুলোর ব্যাখ্যা খোঁজে। আমি ইদানিং যেসব আর্টিক্যাল লিখছি, এগুলো আসলে একেকটা ‘স্বীকার্য’। জ্যামিতিতে বা অন্য যেকোনো থিওরিতে স্বীকার্য ধরে নিলে যেমন অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, ঠিক তেমনি আমার লেখা এসব আর্টিক্যালে দেশের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশকিছু স্বীকার্য বর্ণিত হয়েছে।

এবার তাহলে আজকের ঘটনা খুলে বলি। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী বাবুল ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম, নিজের একটা সমস্যার কথা খুলে বলতে, কারণ এর সমাধান তাঁর কাছে রয়েছে। প্রতিবেশী আজিজ শালা (ওর নাতনী তথা বোন রূপাকে আমি ‘দুচি’) নাকি মিটার পেয়ে গেছে, তাই আমাকে বলেছে বৈদ্যুতিক কানেকশন খুলে নিতে। ঘাড়ত্যাড়ামি করে কানেকশন লাগিয়ে রাখতে পারতাম হয়তো আরো দু’-চারদিন, তবে এতে আজিজদের সমস্যা না হয়ে সমস্যা হতো আমারই। আসলে আজিজেরা তো ঐ মিটার অন্য একজনের বাড়িতে লাগিয়ে সেটা ব্যবহার করেছে, আবার সেখান থেকে আমাকেও সাইড লাইন দিয়েছিল।

এখনো কানেকশন জিইয়ে রাখলে ঐ পক্ষের সাথে আমার ক্যাঁচাল হতে পারে। আমার এস্টিমেশন ছিল, নতুন মিটার নিলেও সেটা পুরনো বোর্ডে কানেকশন দিবে। এখন নতুন বোর্ডে কানেকশন দেয়াতে পুরান বোর্ড থেকে কানেকশন খুলে ফেলা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই আমার।

এ উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম বাবুল ভাইয়ের কাছে। আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদ রয়েছে, সেখানকার কমিটিতে তিনি আছেন, খুবই পাওয়ারফুল একজন সদস্য। তিনি রাজি হলে মসজিদ থেকে সাইড কানেকশন নিতে পারবো। যাই হোক, বাবুল ভাই আবার কিছুদিন আগে একটা মুদি দোকান দিয়েছেন, সেখানে তিনি সন্ধ্যার পর বসেন, আর দিনের বেলায় বসে তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে। ছেলের মাদ্রাসা যেহেতু এখন বন্ধ, তাই সে বাড়িতেই থাকে আর দোকানে বসে।

দোকানের ধারেকাছে যাওয়া মাত্র দেখলাম, এক ফকিন্নি (কামলার কাজ করে এমন) যুবক খালি গায়ে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে; এমনভাবে যে, দোকানের সম্মুখে দাঁড়াই অথবা রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে যাই না কেন, তার গা ঘেঁষে যেতে হবে। অর্থাৎ সে অনেকটা পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে এমন। যাই হোক, দোকানে আরো দু’তিন জন লোক বসে বাবুল ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল, তাই তাঁকে একটু আড়ালে ডাকলাম প্রাইভেটলি কথা বলার জন্য। বললাম, মসজিদ থেকে সাইড কানেকশনটা ম্যানেজ করে দিতে। তিনি বললেন, মসজিদ কমিটির অপর এক সদস্যের সাথে কথা বলে আমাকে জানাবেন। সেও ভালো মানুষ, কোনো আপত্তি করার কথা না। কারণ আমি তো কানেকশন দীর্ঘদিনের জন্য নিচ্ছি না, আমার মিটারও দু’এক মাসের মধ্যে চলে আসার কথা। আমাদের কথাবার্তা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন ঐ ফকিন্নিটা আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার অভিনয় করে কিছুদূর (২-৩ গজ) গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। অর্থাৎ আমরা প্রাইভেটলি কী কথা বলছি, সেটা সে শুনবেই। এজন্যই বলি, ছোটলোকদের একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো – এরা অন্যকে হেভিলি স্টক করে, ফলো করে, ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। তারা মনে হয় ঐ কথাটা শোনে নি, It’s not okay to stare.

শুনবে কীভাবে?! বাঙালী ফকিন্নিরা তো ঠাকুর মা’র ঝুলি টাইপ গল্প নিয়েই ব্যস্ত, ডিজনির কার্টুন দেখার সুযোগ বা সময় তাদের নেই। যদি দেখতো, তাহলে Tom Thumb and Thumbelina এনিমেটেড মুভির সেই ফেমাস ডায়ালগ তারা শুনতো পেতো, It’s not okay to stare অর্থাৎ অন্যের দিকে (কাজ ব্যতিরেকে) ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা ঠিক না- এটা এক ধরনের অভদ্রতা। আসলে সভ্য হলে বা ছোটলোক না হলে এসব মুভি না দেখেও সভ্যতা শিখতো পারতো, যদি তাদের পরিবার থেকে কিছুটা হলেও আদব-কায়দা শিখিয়ে দিতো।

ছোটলোকেরা রাস্তাঘাটে এভাবেই শুধু শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে, কখনো প্রসন্ন চেহারায়, কখনো ভ্রু কুঁচকে, পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকে

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

আয়মান সাদিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নাকি নারীঘটিত কেলেংকারীতে জড়িত, এটা শুনে ঝোঁকের বশে ওদের প্রতি কিছুটা ঘৃণা চলে এসেছিল আমার মনে, সেটা বেশ কয়েক মাস আগেকার কথা। কিন্তু এরপর গত কয়েক মাস ধরে আমি আয়মান সাদিক ও টেন মিনিটস স্কুল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং যতদূর সম্ভব খোঁজ-খবর রেখেছি সংবাদপত্রের মাধ্যমে।

এখন আমি ভিন্নমত পোষণ করি। আমি মনে করি, আয়মান সাদিক কোনো ফাউল করে নি। নারীঘটিত কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে সেখানে ঐ নারীরা নিজেরাই কম-বেশি জড়িত বা সংশ্লিষ্ট। এদেশের নারীদের আমার ভালোই চেনা আছে। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের লেজে খেলিয়ে কেলেংকারী ঘটায়। পরে সেটা জনসমক্ষে এলে নিজেরা ইনোসেন্ট সাজে এবং ছেলেদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

আয়মান অ্যাট লিস্ট ধর্ষণ তো কাউকে করে নাই, নাকি করেছে? লিভ টুগেদার যদি করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নারীর সম্মতিতেই হয়েছে। এদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বা বেশি বয়সের যেকোনো নারী স্বেচ্ছায় পুরুষের সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হতে পারবেন।

আর আমার মতে, লিভ টুগেদার কোনো খারাপ বিষয় নয়, বরং এ দেশকে আর্থিকভাবে উন্নত করতে হলে এবং পিছুটান হতে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলে লিভ টুগেদার-এর বিকল্প নেই। লিভ টুগেদার কালচার এদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পেলে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবেঃ

(১) দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে। ‘মেয়েদেরকে বিয়ে দিতেই হবে’-এটা একটা ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা, এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকে দেশবাসীকে বের করে আনতে হবে, সেটা যত দিনই লাগুক না কেন। আমাদের দেশের মেয়েরা বিয়ের চিন্তা না করে ক্যারিয়ারের বিষয়ে ভাববে, তাদেরকে সিঙ্গাপুরের মেয়েদের মতো হতে হবে।

এজন্য অবশ্য ধর্মের সাথে লড়তে হবে। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন আমার প্রস্তাবিত উপর্যুক্ত পরিস্থিতি দেশে আনা সম্ভব হবে না। তাই আমাদের দেশের দরকার একজন কামাল আতাতুর্ক বা মাহাথির মোহাম্মদ, মুনাফিক সরকারপ্রধান দিয়ে দেশের বেশি উন্নতি সম্ভব নয়।

(২) খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এর মতো যৌনতাও একটি মৌলিক চাহিদা, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যৌনতার জন্য বিয়ে করা ও পরিনামে অকালে বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দেয়ার কোনো মানে হয় না। এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে গেলেও ধর্মের সাথে ফাইট করতে হবে। কে কে আছেন আমার সাথে?

সমকামিতা কি দরকার?

লিভ টুগেদারের বিষয়ে আমার সম্মতি থাকলেও সমকামিতার বিষয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ যৌনতা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সমকামিতা স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক কোনো আচরণ নয়, এটি অনেকটা কৃত্রিমতা।

বিশেষ করে যারা শখ করে বা অন্য কোনো কৃত্রিম কারণে সমকামিতায় নতুন করে অভ্যস্ত হয়েছেন বা হতে চান, তাদের এ আচরণের বিষয়ে আমার ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ হলিউডের টোয়াইলাইট ছবির নায়িকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তাঁর সাবেক বয়ফ্রেন্ড রবার্ট প্যাটিনসনের সাথে ছাড়াছাড়ির পর সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। তাই সমকামিতা এ দেশে বৈধ করার কোনো কারণ দেখি না।

সমকামী ব্যক্তিরা যে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যে যৌনতা উপভোগ করতে পারেন না, এ বিষয়টা আমি বিশ্বাস করি না (বা বুঝি না)। যদি সত্যিই তাঁদের কেবল সমলিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আয়মান সাদিকের পেছনে কারা লেগেছে?

আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীরা যেহেতু লিভ টুগেদার ও সমকামিতাকে পাবলিকলি সমর্থন জানিয়েছে, সুতরাং ইসলামী জঙ্গীরা তাদের পিছে লাগবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে জঙ্গীদের ছাড়াও দেশের কিছু বিশেষ এলাকার লোকদের প্রতি আমি অঙ্গুলি উত্তোলন করতে চাই। আমি মনে করি, আয়মানের পিছনে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের লোকজন এবং মাদারীপুরের লোকজন লেগে থাকতে পারে।

মাদারীপুর বরিশাল বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না হলেও এরা বরিশালের লোকদেরকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে। বরিশালের লোকজন বৃহত্তর কুমিল্লার লোকদেরকে, বিশেষ করে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার লোকদেরকে বিষদৃষ্টিতে দেখে। তাই তারা অরিজিনালি কুমিল্লার বাসিন্দা আয়মান সাদিকের পেছনে লেগে থাকতে পারে। তাদের মতে, কুমিল্লার লোকজন মেধাবী হবে কেন? তারা ব্যবসায় উদ্যোক্তা হবে কেন?

আপনারা লক্ষ্য করেছেন কিনা, কিছুদিন আগে ফেসবুকে কুমিল্লার লোকদেরকে এভাবে ইনসাল্ট করা হতোঃ ‘চিটাগাং যাবার পথে কুমিল্লা এসে গেছে, সবাই এখন বাস থেকে নেমে মুতে দিন।’ এটা বরিশালের লোকজন চালু করেছিল।

বরিশাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু লোকজন রয়েছেন, যারা কুমিল্লার মানুষকে সহ্য করতে পারেন না। আমার পরিচিত কয়েকজন জোর গলায় এটাও বলেছেন যে, আয়মান নাকি রুয়েট থেকে মেকানিকালে পাশ করে পরে ঢাবি’র আইবিএ’র এমবিএ’তে ভর্তি হয়েছে। তারা এটা মানতে চায় না যে, আয়মান আসলে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরই আইবিএ’তে ভর্তি হয়েছিল। সে যে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে মেডেল নিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে, সেটাও কুমিল্লার এসব হেটাররা মেনে নিতে নারাজ।

তাই বলতে চাই, কারণের পিছনেও কার্যকারণ থাকে। আয়মান সাদিককে কেন পঁচানো হচ্ছে, সেটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার। আয়মান তো আসলে দেশের রত্ন, সত্যিকার মেধাবী। দেশে আরো অধিক সংখ্যক আয়মান দরকার, আবরার নয়। আবরার ভিকটিম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য মতে, সে আসলেই একজন ধর্মান্ধ ও কুপমন্ডুক ছিল। দেশে এখন আধুনিক মনমানসিকতার মানুষ দরকার। তবে আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসি হতে হবে (অমিত সাহা সহ)।