করোনা থেকে বাঁচতে হাদিসের নির্দেশনা ও উপায়

মহামারি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধির ক্ষতি থেকে বাঁচতে ইসলামে রয়েছে হাদিসের নির্দেশনা ও উপায়। মহামারি করোনার এ পরিস্থিতিতে তা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে ঘরে অবস্থান করা।

এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ‍্যা প্রায় কোটির কাছাকাছি। প্রায় পাঁচ লাখের মতো মানুষ এ ভাইরাসে প্রাণ দিয়েছে। সুতরাং মহামারি রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে অবশ্যই রোগে আক্রান্ত এলাকা থেকে দূরে থাকতে হবে।

মানুষের জীবন অনেক দামি। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। দিয়েছেন সুস্থ থাকার তাগিদ। অথচ মানুষ জীবন বাঁচাতে যেখানে সতর্কতা অবলম্বন করবে সেখানে মানুষ সতর্ক না হয়ে বরং উল্টো করোনাকে থোরাই কেয়ার করছে।

বেপরোয়া জীবন যাপন করছে। অথচ মহামারি আক্রান্ত অঞ্চল এড়িয়ে চলা সবার জন্য জরুরি। হাদিসের এ বর্ণনাটিও সবার জন্য আবশ্যক। যদিও তা ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি ফেতনা সম্পর্কে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফেতনার সময় মানুষের নিরাপত্তার উপায় হচ্ছে, তার নিজ ঘরে অবস্থান করা।’ (জামে)

রাসুলে আরবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুর্বল, অসুস্থ উটকে সুস্থ-সবল উট থেকে আলাদা স্থানে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেন সুস্থ-সবল উটটি অসুস্থ হয়ে না যায়। এ নির্দেশ থেকেও প্রমাণিত যে, সুস্থ মানুষ মহামারি আক্রান্ত অঞ্চল কিংবা মহামারির লক্ষণ দেখা যাওয়া উপসর্গ বা রোগ-ব্যাধি গ্রস্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করা জরুরি।

সুতরাং যে অঞ্চল বা এলাকায় মহামারি করোনা দেখা যায়, কিংবা যে ব্যক্তি মহামারি করোনায় আক্রান্ত কিংবা করোনার উপসর্গের উপস্থিতি আছে, তার থেকে নির্ধারিত দূরত্বে অবস্থান করার মাধ্যমে হাদিসের উপর যথাযথ আমল করা। যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘অসুস্থকে সুস্থের মধ্যে নেয়া হবে না (রুগ্ন উট সুস্থ উটের কাছে নেবে না)।’ (বুখারি, মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করেন-
وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ 
‘তোমরা নিজেদেরকে নিজেরা ধ্বংসের মধ্য নিক্ষেপ করোনা।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত ১৯৫)

মহামারি করোনা থেকে সুস্থ থাকার উপায় হলো-
প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মুমিন মুসলমানের সেই বিখ্যাত হাদিসের উপর আমল করা জরুরি। যে হাদিসের উপর আমল করলে সবাই মহামারির বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। হাদিসে এসেছে-
হজরত উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ মহামারির প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তে শোন, তবে সেখানে প্রবেশ করো না। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভূখণ্ডে যদি তোমরা থাক, তবে সেখান থেকেও বের হয়ো না।’ (বুখারি)

(মজার ব্যাপার হলো, কানাডার মোট জনগোষ্ঠীর কেবল ৪% মুসলিম হলেও সেখানে রাজপথের পাশে বিরাট আকারের বিলবোর্ডে এই হাদিসটি লেখা আছে, জনগণকে অবহিত করানোর উদ্দেশ্যে।)

মুমিন মুসলমানের উচিত, যদি কেউ মহামারি করোনা উপসর্গে আক্রান্ত হয়, কিংবা অসুস্থতায় ভোগে তবে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করবে, হাদিসের উপর আমল করবে। আর তাতে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে মহামারি করোনা থেকে মুক্তি দান করবেন।

মহামারি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচতে হাদিসে নির্দেশিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা জরুরি। আর তাহলো-
>> اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

>> اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহামারি করোনায় স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণ ও হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। মহামারি করোনা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

সূ্ত্রঃ জাগোনিউজ২৪

কসাইখানার কর্মীরা বেশি মাত্রায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হচ্ছেন

ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কারখানা এবং কসাইখানার কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই ধরণের প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে।

সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের শিকার কোনো ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা নিশ্বাসের মাধ্যমে বের হওয়া ড্রপলেট থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে থাকে।

সংক্রমণের শিকার ব্যক্তির কাছাকাছি আসা ছাড়াও জীবাণুযুক্ত কোনো জায়গা স্পর্শ করার মাধ্যমেও ভাইরাস সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার অঙ্কোলজির অধ্যাপক লরেন্স ইয়াং বলেন, “ফ্যাক্টরিগুলোতে, বিশেষ করে যেসব জায়গা ঠান্ডা এবং স্যাঁতস্যাঁতে, দীর্ঘসময় করোনাভাইরাস টিকে থাকা এবং ছড়ানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ থাকে।”

“অন্য জায়গার চেয়ে সেসব জায়গায় জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট ছড়ানো এবং টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।”

এছাড়া এই ধরণের কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উচ্চ মাত্রায় শব্দ করে বলে মানুষজন অপেক্ষাকৃত উচ্চস্বরে কথা বলে এবং ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে বলছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

করোনা ভাইরাস: ল্যাব এবং টেস্টিং কিটের অভাবে পরীক্ষা নিয়ে সংকট

বাংলাদেশে ল্যাবরেটরি এবং টেস্টিং কিটের ঘাটতি দেখা দেয়ায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার সাথে জড়িতদের অনেকে জানিয়েছেন, এখন নমুনা সংগ্রহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে এবং একেবারে প্রয়োজন ছাড়া পরীক্ষা করা হচ্ছে না।

দেশটিতে সংক্রমণের উচ্চহারের মুখে ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষার টার্গেটের কথা বলা হলেও এখন ১৬ বা ১৭ হাজারের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকছে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, কিট নয়, ল্যবরেটরির অভাবে পরীক্ষার ক্ষেত্রে জট লেগে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু করা হয়েছিল ঢাকায় আইইডিসিআর এর ল্যাবরেটরি থেকে।

সংক্রমণ শুরুর তিন মাস পর একটি ল্যাব থেকে ল্যাবের সংখ্যা ৬২তে নেয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ল্যাবরেটরিই ঢাকায় এবং বাকিগুলো বিভিন্ন বড় শহরে।

এগুলোর মাঝেও ল্যাব সংক্রমিত হয় এবং সেজন্য সব ল্যাব একসাথে চালু রাখা যায় না। ফলে প্রতিটি ল্যাবেই নমুনার জট লেগেই আছে বলে বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর সাথে এখন পরীক্ষার কিটের অভাব দেখা দেয়ায় পরীক্ষায় সংকট আরও বেড়েছে।

সরকারের সাথে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫৪টি বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে।

এই বুথ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্র্যাকের কর্মকর্তা মোর্শেদা চৌধুরী বলেছেন, ল্যাবের পাশাপাশি কিটের সংকটের কারণে এখন নমুনা সংগ্রহ কমানো হয়েছে।

“আমাদের প্রতিটি বুথ থেকে প্রতিদিন ৩০টি করে নমুনা সংগ্রহ করা হতো।এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই বেঁধে দেয়া একটা সংখ্যা। কারণ হচ্ছে, একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক নমুনা আমাদের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করার ক্ষমতা আছে। এখন যেটা হয়েছে, এই সপ্তাহে আমাদের বলা হয়েছে, আমরা যেন নমুনা সংগ্রহ একটু কম করি। কারণ কিটের একটু স্বল্পতা আছে।”

তিনি আরও বলেছেন, “সেজন্য এই সপ্তাহে আমরা অর্ধেক করে নমুনা সংগ্রহ করছি অর্থাৎ ৩০টার জায়গায় আমরা ১৫টা করে নমুনা সংগ্রহ করছি।”

“এছাড়া এধরণের ল্যাবে ঝুঁকি থাকে। ল্যাবও সংক্রমিত হয়ে যায়। তখন সেই ল্যাব কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। সেজন্য অন্য ল্যাবের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়। এবং একটা ব্যাকলগ হয়,” বলছেন ব্র্যাকের কর্মকর্তা মোর্শেদা চৌধুরী।

ল্যাবরেটরি সব জেলায় নেই। ফলে যেখানে ল্যাব আছে, আশেপাশের জেলা বা অঞ্চলের পরীক্ষা নির্ভর করতে হয় সেই ল্যাবগুলোর ওপর ।

এমন কয়েকটি ল্যাবে কিটের অভাবে পরীক্ষা কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নোয়াখালী জেলা শহরের দু’টি ল্যাবে পাশের ফেনী এবং লক্ষ্মীপুর জেলার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়।

নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার বলেছেন, কয়েকদিন ধরে কিটের সংকটের কারণে তাদের একটি ল্যাবে পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

“পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে আমাদের আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ ল্যাবে। সেখানে কিটের সংকটের কারণে এটা করতে হয়েছে। আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চালু রাখা গেছে। যেহেতু দুই জায়গার টেস্ট এক জায়গায় হচ্ছে, সেজন্য আমরা খুব সিলেকটিভ বা শুধু প্রয়োজন এমন টেস্টগুলো করছি।”

করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আগে দেশে মজুদ থাকা কিটের তথ্য তুলে ধরা হতো। অনেক দিন ধরেই কিট সম্পর্কে তথ্য দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

এখন কিটের মজুদ সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বিভিন্ন দেশ থেকে কিট আনা হচ্ছে এবং তা আসতে শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ টেস্টিং কিটের চেয়ে ল্যাবরেটরির অভাবকে বড় সংকট হিসাবে দেখছেন।

“আমার কিটের চেয়ে বড় সমস্যা ল্যাবরেটরি। যে কয়টা ল্যাবরেটরি আছে, তারা সময়মতো টেস্ট করে কুলায় উঠতে পারছে না। এখন ৬২টা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হচ্ছে। এই ৬২টা ল্যাবরেটরি ১৬ হাজার বা ১৭হাজারের বেশি টেস্ট করতে পারছে না। ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে এই টেস্টের রিপোর্ট পেতে ৭দিনও চলে যাচ্ছে। তো একজনের লক্ষণ আছে, তিনি ৭দিন অপেক্ষা করবেন, কোন চিকিৎসা নেবেন না, এটাতো হবে না।”

অধ্যাপক আজাদ আরও বলেছেন, ” পরীক্ষা কিটের অভাবে বন্ধ হয় নাই। এখানে কিটের সমস্যাটা বড় জিনিস না। মূল সমস্যা হচ্ছে, এই মুহূর্তে এত টেস্ট করার সক্ষমতা ল্যাবরেটরির নাই। আমরা ল্যাবরেটরি বাড়াচ্ছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এটা বাড়াতে পারবো না, অর্থাৎ এই মেশিনটাতো কিনতে হয়। তারপর এটা বসাতে হয়। এটা বসাতে বসাতে তো বেশ কিছুদিন চলে যাবে।”

তবে সব জেলা শহরে আরটিপিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট কোন সময় তিনি বলেননি।

এছাড়া অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার যে কথা তারা বলছেন, সেটাও শুরু করার প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট কোন সময় জানা যায়নি।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

দেশে ইদানিং অনেক মেয়েই তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করছে

দেশে ইদানিং অনেক মেয়েই তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করছে। এতে আইনের অবমাননা হলেও ঐ মেয়েগুলোর কিছুই হচ্ছে না। ছেলেরাও লোকলজ্জার ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয় না। এ ধরনের বিবাহের ফলে অনেক ক্ষেত্রে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ড এ ধরনের একটি ঘটনা থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। যদি রিফাত, নয়ন ও মিন্নির ‘ত্রিভুজ বিবাহ’-এর কাহিনী না জেনে থাকেন, তাহলে নিচের লিংকে ক্লিক করে সেটা জেনে নিন।

মিন্নি, রিফাত ও নয়নের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

আমার বউয়ের দুই ফুফাতো ভাই হলো ইমাম ও বাবু। তাদের দুজনার বউই স্বামী ছেড়ে চলে গিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেছে। তারা প্রত্যেকে একটি করে বাচ্চা রেখে গিয়েছে এবং যাওয়ার সময় কোনো প্রকার ডিভোর্স বা তালাকের ধার ধারে নি। ঘটনাক্রমে তারা দুজনেই খুলনার মেয়ে। আসলে তারা আপন বোন। আমার ঐ শ্যালকদ্বয় যখন তাদের পিতার চাকুরির সুবাদে খুলনার রেলওয়ে কলোনীতে বাস করতো, তখন সেখানে তাদের সাথে ঐ মেয়েদুটির পরিচয়।

যখন ছেলেদুটি তাদের বাপের টাকা উড়াতো, সেটাই চোখে লেগেছে ঐ মেয়েদুটির। কিন্তু তাদের বাপ যখন আরেকটি বিবাহ করলো, তখন তারা পিতাকে ‘ত্যাজ্য’ করে চলে আসে। এ ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই ইমামের বউ তাকে ছেড়ে চলে যায়। অভিযোগ ছিল, ইমামের মাথায় সমস্যা। তার মাথায় আসলেই সমস্যা।

সে আগে খুলনার রেলওয়ে কলোনীতে বিশাল টেরর ছিল, বহুত মাস্তানি করেছে সে সেখানে। কিন্তু একদিন প্রতিপক্ষের লোকেরা তার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে। তখন থেকেই তার মাথা আউলাঝাউলা। মজার ব্যাপার হলো, ইমামের যখন বিয়ে হয়, তার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ব্যাপারটা এমন না যে, বিয়ের পর ইমামের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ এই অভিযোগটা করেই তার বউ বিদায় নিয়েছে।

আসলে ইমামের চেয়ে বড় মালদার পার্টি পেয়েছে মেয়েটি, তাই চলে গেছে। ইমামের বউ চলে যাবার দু’-তিন বছর পর তার ছোট ভাই বাবুর বউও চলে যায়, যে কিনা ইমামের শ্যালিকা ছিল। আমার এস্টিমেশন মতে, এবারও একই কেস। আরো বেশি মালদার পার্টি পেয়েছে, তাই চলে গেছে। বাবুর বউয়ের অভিযোগ, বাবু নাকি ভাদাইম্যা। কথা সত্য, তবে সে বিয়ের আগে থেকেই ভাদাইম্যা। এসব দেখেশুনেই মেয়েটি তাকে বিবাহ করেছিল। মেয়েরা যে এভাবে বেশি মালদার পার্টি পাওয়া মাত্র চলে যায়, বিষয়টি আমার কাছে খুবই মর্মান্তিক লেগেছে। তারা দুজনেই খুলনার মেয়ে এবং দুজনেই চলে যাবার সময় তাদের প্রাক্তন স্বামীকে তালাক দেয় নি।

আমার ডাক্তার শ্যালক খুলনার মেয়ে বিবাহ করতে চাচ্ছে

আমার ডাক্তার শ্যালক সম্প্রতি বিসিএসে চান্স পেয়েছে এবং নিজ জেলা ঝালকাঠিতে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন হিসেবে জয়েন করেছে। সে খুলনা মেডিকেল থেকে পড়াশুনা করেছিল। সে একই মেডিকেল থেকে পাস করা একটি মেয়েকে পছন্দ করে, তাকে বিয়ে করতে চায়। মেয়েটি তার চেয়ে এক ব্যাচ ছোট, বিসিএসে কোয়ালিফাই না করলেও বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল) তে এফসিপিএস করছে।

সমস্যা হলো, এই মেয়েটিও খুলনার বাসিন্দা। তাই আশংকায় আছি, সে পরবর্তীতে মামুনের মনে কষ্ট দেয় কিনা। এবার বলবো, আরেক বোকাচন্দের কথা। সে ইমামের আপন খালাতো ভাই, জাকির – আমার একজন শ্যালক (আমার বউয়ের আপন ফুফাতো ভাই)। এই বোকাচন্দও খুলনার মেয়ে বিয়ে করেছে। যদিও ওরা খুলনার পরিচয় দেয়, তবে ওরা অরিজিনালি যশোরের মানুষ। ঐ খুলনা আর যশোর একই কথা আর কি! বিয়ের পরপরই মেয়ের সে কী বাহানা! এটা দিতে হবে, সেটা দিতে হবে – গাড়ি কিনে দিতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ নিজেরা নিতান্ত ফকিন্নি টাইপের, কেবল ভাব নেয় আর চলাফেরা করে জমিদারদের মতো – অর্থাৎ অন্তঃসারশূন্য।

এভাবে লাইন ধরে ‘উপনিবেশ’ মার্কা বিবাহ করা কি ঠিক?

এটা আমার প্রশ্ন যারা এভাবে লাইন ধরে একটি নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকার মেয়ে বিবাহ করেন, তাদের প্রতি। তারা কি ব্যাপারটার মধ্যে একটু ‘উপনিবেশ’-এর গন্ধ পান না? বরিশালের ছেলেরা কেন লাইন ধরে খুলনার মেয়েদেরকে বিয়ে করবে? (ওমর সানী বরিশালের আর মৌসুমী খুলনার)। চাঁদপুর আর কুমিল্লার ছেলেরা কেন লাইন ধরে মুন্সিগঞ্জের মেয়ে বিয়ে করবে? চাঁদপুর, লক্ষীপুর আর নোয়াখালীর (অর্থাৎ মেঘনা নদীর পূর্ব পাশের) অনেক পাগল লাইন ধরে বরিশাল বিভাগের মেয়েদের বিবাহ করে। আমিও একই ভুল করেছি।

আমি না হয় জীবনে পড়াশুনা করেছি বেশি, লোকজনের মনমানসিকতা ও সমাজের অসঙ্গতিসমূহ নিয়ে খুব একটা ভাবি নি বিয়ের আগে। এছাড়া আমি বিয়ে করেছি মাত্র ২৫ বছর বয়সে। কিন্তু আমার শ্যালক মামুনের বয়স ৩০, আর অপর শ্যালক জাকিরের বয়স ছিল ৩১, যখন সে বিবাহ করে। তারা কেন এ বিষয়গুলো বিবেচনা করছে না?

মুন্সিগঞ্জের কয়টা ছেলে চাঁদপুর আর কুমিল্লার মেয়েকে বিবাহ করে? খুলনার কয়টা ছেলে বরিশালের মেয়েদেরকে বিবাহ করে? নরসিংদীর কয়টা ছেলে বি.বাড়িয়ার মেয়েদেরকে বিয়ে করে? বরিশালের কয়টা ছেলে কুমিল্লা আর নোয়াখালীর মেয়েদেরকে বিয়ে করে?

এগুলো আপাতদৃষ্টিতে পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে। কিন্তু বিষয়গুলো সুক্ষ্ম, এগুলো হিসাবে নিতে হবে। যতই মেধাবী হোক না কেন, চাকুরিতে যেমন একই জেলা থেকে বেশি লোক নেয়া হয় না। ঠিক তেমনি বিয়ের সময় এ হিসাবনিকাশগুলো করতে হবে। যেমনঃ চাঁদপুরের ছেলেরা যে লাইন ধরে মুন্সিগঞ্জের মেয়েদেরকে বিয়ে করে, সেটা আমি বিয়ের আগেই টের পেয়েছিলাম।

তাই আমার এক বিক্রমপুরী স্কুলফ্রেন্ডকে হতাশ করেছিলাম আমি; তার অনেক আশা ছিল, আমার কাছে তার বোনের বিয়ে দিবে। তার বোন আমার বউয়ের চেয়ে ঢের ভালো ছিল – ফিগার, চেহারা, বুদ্ধিশুদ্ধি, শিক্ষাদীক্ষায় (তবে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও যৌন চরিত্রের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল)। তা সত্ত্বেও কোটা মিলাতে গিয়ে তাদেরকে হতাশ করেছি আমি। তবে বরিশালের ব্যাপারে ভুল করে ফেললাম। বরিশালের লোকজনও যে লাইন ধরে কুমিল্লা, চাঁদপুর আর নোয়াখালীর ছেলেদের কাছে নিজের বোন আর মেয়েদের বিয়ে দিতে চায়, সেটা আগে বুঝতে পারি নি। আর নিজেরা লাইন ধরে বিয়ে করবে খুলনার মেয়েদেরকে। কী তাজ্জব ব্যাপার!

মুন্সিগঞ্জের ছেলেদের ব্যাপারেও মোটামুটি একই কথা প্রযোজ্য। তারা নিজেদের বোনদের বিয়ে দিবে চাঁদপুর আর কুমিল্লার ছেলেদের কাছে। কিন্তু নিজেরা বিয়ে করবে পুরান ঢাকায়। এ কারণে সম্প্রতি পুরান ঢাকার এক ব্যক্তির সাথে যখন আমার ফেসবুকে চ্যাট হচ্ছিল ,তখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের কেউ আছে কি না। যাই হোক, এ ধরনের উপনিবেশ টাইপ মনমানসিকতা বাদ দিতে হবে।

যে ব্লাড গ্রুপের মানুষের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি!

সারাবিশ্বের করোনাভাইরাসে ৯ জুন ২০২০ পর্যন্ত ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই ভাইরাসে তখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন চার লাখেরও বেশি মানুষ।

প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে নতুন আশঙ্কার কথা শোনালেন একদল বিজ্ঞানী।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘এ’ ব্লাড গ্রুপের মানুষের মধ্যে করোনা সহজে সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে যাদের ব্লাড গ্রুপ ‘ও’, তাদের মধ্যে এ রোগ সংক্রমণের হার কম।

সম্প্রতি জার্মানির কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছে, যেসব ব্যক্তির ব্লাড গ্রুপ ‘এ’, তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বয়সের ১৬০০ করোনা আক্রান্ত এবং একই সঙ্গে করোনা হয়নি এমন ২২০৫ জনের ডিএনের গঠন ও রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তারা।

জার্মান গবেষকদের দাবি, এই সমীক্ষায় তারা দেখেছেন– যেসব ব্যক্তির ব্লাড গ্রুপ ‘এ’, তারাই সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী দিনেও এই গ্রুপের রক্ত যাদের শরীরে আছে, তাদেরই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, এবং যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই ব্লাড গ্রুপ ‘এ’।

জার্মান বিজ্ঞানীরা আরও জানান, ‘এ’ গ্রুপের রক্তে যেমন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তেমনি ‘ও’ গ্রুপের রক্তের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কম।

এর আগে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে ব্লাড গ্রুপের একটি যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন একদল চীনা বিজ্ঞানীও।

তবে এই গবেষণার সীমাবদ্ধতা এবং অসম্পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন মহলের বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র: জিনিউজ via: যুগান্তর

করোনা থাকবে আরও ২/৩ বছর, সরকারের উদ্যোগহীনতার মাসুল দেবে জনগণ

আগামী ২ থেকে ৩ বছরে দেশের মানুষের করোনা থেকে মুক্তি নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ১৮ জুন সংবাদ বুলেটিনে করোনা সম্পর্কে এই ভবিষ্যৎ বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্য অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে করোনা বিষয়ে এই মত দিয়েছেন।

মানুষ যখন আগামী দুই–এক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে তখনই এক গভীর অন্ধকারের ছবি আবুল কালাম আজাদ তুলে ধরলেন দেশবাসীর সামনে।

তাঁর এই কথার অর্থ কী? আগামী ২–৩ বছর মানুষ ঘর বন্ধী থাকবে? আগামী ২–৩ বছরের স্কুল কলেজ বন্ধ থাকবে? আগামী ২–৩ বছর মানুষ করোনায় সংক্রমিত হতেই থাকবে? এরকম আরও অসংখ্য প্রশ্ন আছে মানুষের মনে। বিশ্বের অনেক দেশ যখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে তখন বাংলাদেশ বলছে অন্য কথা।

প্রশ্ন হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেন এই কথা বললেন। জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, ‘কিসের ওপর ভিত্তি করে এমন মন্তব্য বুঝতে পারছি না। আপনি যদি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেন তা হলে করোনা আজীবন থাকবে। এরকম কথার অর্থ হচ্ছে হাল ছেড়ে দেওয়া।’

সংবাদ বুলেটিনের পর প্রথম আলো পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়। এই কমিটিতে আছেন ৮ জন সদস্য। এই কমিটি তিন মাস ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। এই কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, ২–৩ বছর করোনা থাকবে এমন কোনো কথা তারা সরকার বা অধিদপ্তরকে বলেনি।

জাতীয় কারিগরি পরার্শক কমিটি নামে ১৭ সদস্যের আর একটি কমিটি আছে যারা সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে। এই কমিটির সদস্যরাও বলেছেন, তারাও এরকম কথা কখনও বলেননি।

তা হলে আবুল কালাম আজাদ এ কথা কেন বললেন? সংবাদ বুলেটিনের পর প্রথম আলো আবুল কালাম আজাদের কাছে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তি কী তা জানতে চায়। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন এই ভাইরাস সহজে যাচ্ছে না। উচ্চহারে সংক্রমণ হয়তো হবে না। ২–৩ বছর থাকবে। দেশবাসীর আগেভাগে এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকা দরকার।

দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আজ এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত তিন মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উদ্দেশ্যহীনভাবে কাজ করেছে। সেসব কাজে কোনো সুচিন্তিত পরিকল্পনা ছিল না, কাজে কোনো সমন্বয় ছিল না। সংক্রমণ প্রতিরোধে আজকের দিনেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ মাঠে নেই। দেশবাসীকে এই উদ্যোগহীনতারই মাসুল দিতে হবে আগামী দুই–তিন বছর ধরে।

সূত্রঃ প্রথম আলো, ‌১৮ জুন

মানুষই ভুল করে, কিন্তু এক মা ও তার নবজাতকের জীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই

সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া শামীমা বেগম বাংলাদেশেরও নাগরিক—এমন যুক্তিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না।

বাংলাদেশের এই বক্তব্য শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সমালোচনা চলছে। শামীমা ও তাঁর নবজাতক শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া।

শামিমা এবং তার নবজাতক শিশু

এ বছর ১৯ ফেব্রুয়ারী তারিখে যুক্তরাজ্যের ইংরেজি দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, শামীমাকে ভুলভাবে বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করায় বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গণমাধ্যমের খবর থেকে শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশ জানতে পারে বলে তিনি জানান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন। তিনি জন্মগতভাবে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি কখনো বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করেননি। ফলে, বাংলাদেশে তাঁকে ফিরতে দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠতে পারে না।

পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামীমা বেগম ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আরও দুই বান্ধবীসহ সিরিয়ায় পাড়ি দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর। সেখানে আইএসে যোগ দিয়ে তিনি ডেনমার্কের বংশোদ্ভূত এক ধর্মান্তরিত ‘জিহাদি’কে বিয়ে করেন। দীর্ঘ চার বছর পর ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আল-হওর শরণার্থী শিবিরে শামীমার দেখা পান এক ব্রিটিশ সাংবাদিক। সাক্ষাৎকারে শামীমা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার আকুতি জানান। বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী শামীমা ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তাঁর আরও দুই সন্তান ছিল। তারা অপুষ্টি ও অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে জানান শামীমা। নবজাতককে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার আকুতি জানান।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিভাগ (হোম অফিস) ১৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে শামীমার মায়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শামীমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে থাকলে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি যেন তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারী আইটিভির এক সাংবাদিক নাগরিকত্ব বাতিলের ওই চিঠির একটি অনুলিপি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত শামীমার হাতে দিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। শামীমা বলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি কিছুটা হতবাক। তিনি ও তাঁর সন্তানের প্রতি এটা অন্যায় বলে মন্তব্য করেন শামীমা। তাঁর স্বামী ডেনমার্কের নাগরিক। সেই সূত্রে তিনি ডেনমার্কের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

পরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেন, তাঁর কেবল যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আছে। সেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি। এখন তাঁর আর কিছুই থাকল না। শামীমা বলেন, তিনি বাংলাদেশে কখনো যাননি। তাঁর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেই।

নাগরিকত্ব বাতিলের চিঠিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শামীমার মা বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বাংলাদেশের আইনানুযায়ী শামীমাও বাংলাদেশের নাগরিক অথবা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শামীমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৮ ফেব্রুয়ারী সংসদে জানান, প্রায় ৯০০ ব্রিটিশ নাগরিক সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয়। এদের অন্তত ২০ শতাংশ সেখানে নিহত হয়েছে। ৪০ শতাংশ যুক্তরাজ্যে ফেরত এসেছে। আইএসে যোগ দেওয়া প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

শামীমার নাম উল্লেখ না করেই সাজিদ জাভিদ বলেন, মায়ের নাগরিকত্ব বাতিল হলেও সন্তানের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।

শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা ও তাঁর যুক্তরাজ্যে ফেরার অধিকার নিয়ে দেশটিতে এক অভিনব আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী নাগরিকত্ব বাতিল করে কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রহীন করা যায় না।

যুক্তরাজ্যে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং সিরিয়ায় জঙ্গিবাদে জড়ানো কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কেন গ্রহণ করবে, সে প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই শামীমাকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে চালিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও হচ্ছে আলোচনা। যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে শামীমাকে বিচারের মুখোমুখি করানোটাই যৌক্তিক বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

গণস্বাস্থ্যের কিট যে কারণে অনুমোদন পেল না (ষড়যন্ত্র তত্ত্ব)

প্রথম আলোতে অনুমোদন না পাওয়ার রিপোর্টটা পড়লাম; সেখানে একজন কমেন্ট করেছেন যে, তাঁদের স্কুলে নাকি একজন টিচার ছিলেন যাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়লে পাশ করা যেত না। এরকম টিচার আমাদের স্কুলেও (একরামুন্নেছা) ছিল, তিনি পারতেন না কিছুই, অথচ রাজনৈতিক ব্যাকআপ থাকার কারণে তিনি ছিলেন শিক্ষকদের লিডার। দুঃখজনকভাবে, দীর্ঘদিন বহিষ্কার থাকার পর তিনি আবার স্কুলে ফেরত এসেছেন এবং এবার এসেছেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে। কী কারণে জানি, চারপাশের সর্বত্র অযোগ্যরাই নেতা-ফেতা বনে যাচ্ছে !

যাই হোক, আসল কথায় আসি। গণস্বাস্থ্যের কিট যে সরকারের স্বাস্থ্য প্রশাসন যন্ত্র অনুমোদন দেবে না, এটা অনেকটা জানাই ছিল। গণস্বাস্থ্য তথা ড. জাফরুল্লাহ জলে বাস করে কুমিরের সাথে যুদ্ধ করেছেন, সুতরাং তাদের কিট অনুমোদন পাবে কেন?

কিন্তু সরকার কি চাইলেই পারে না, এ কিটের কোথায় ইমপারফেকশন আছে, সেটা তাদের বিজ্ঞানীদের দিয়ে যাচাই করিয়ে এটাকে ব্যবহারোপযোগী পর্যায়ে আনতে? এ কিট যদি একেবারেই অকার্যকর হয়, তাহলে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টের টিচারদের উদ্ভাবিত কিট কেন তারা টেস্ট করে দেখছে না, এটাকে কাজে লাগানো যায় কিনা?

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

জাফরুল্লাহ যে ভুল(!) গুলো করেছেন, সেগুলো হলো বিএনপিকে সমর্থন প্রদান, খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসার দাবী নিয়ে মুখ খোলা, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর পুরো ব্যাপারটা নিয়ে গেম খেলছে ও কালক্ষেপণ করছে – এমন অভিযোগ করা। তিনি আরো বলেছেন, এ কিটের অনুমোদন নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজন ‘পার্সেন্টেজ’-এর খেলায় মেতে উঠেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘কে কত পার্সেন্ট পাবে সেটা এখনো ঠিক হয় নি, তাই কিটের অনুমোদনে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।’ তিনি তো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগে ‘ডিয়ার’ সামথিং (or someone) এর বিরুদ্ধে সরাসরি আঙ্গুল তুলেছেন। সুতরাং সরকারের প্রশাসন যন্ত্র যে তাঁর কিটের অনুমোদন দেবে না, এটা খুব স্বাভাবিক।

আবার এমনও হতে পারে, যে সকল প্রাইভেট হাসপাতাল করোনা টেস্টের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নিচ্ছে, তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে আশংকায় তারাই হয়তো উৎকোচ দিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিটের অনুমোদন বাতিল করেছে। এটা তো আর জানতে বাকি নেই যে, বাংলাদেশ হলো সব সম্ভবের দেশ। টাকা ব্যয় করলে এখানে বাঘের দুধও পাওয়া যায়।

তৃতীয় সম্ভাব্য যে কারণ সেটা হলো, সরকার হয়তো নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্যই এ কিটের অনুমোদন দিতে রাজি নয়। একই কারণে হয়তো ঢাবি’র কিট বা অন্য কোনো র‍্যাপিড টেস্টিং কিট কখনোই অনুমোদন পাবে না এদেশে। র‍্যাপিড কিট যদি অনুমোদন পায়, তাহলে হয়তো দেখা যাবে, কয়েক দিনের মধ্যে লাখ লাখ করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। তখন সরকার ভাবমূর্তি সংকটে পড়বে; বিশ্ববাসী প্রশ্ন করবে – করোনা ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার তাহলে কী করতে পেরেছে? পুরো পৃথিবীর কাছে অথর্ব এক সরকার হিসেবে প্রমাণিত হবে তারা। তখন তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে কিনা সেটা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিবে। যা হোক, এগুলো সবই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ফ্যাক্ট নয়। কাজেই এগুলো নিয়ে মাথা গরম করার কিছু নেই, আবার এগুলো ফেলে দেবার মতোও কিছু না।

নিখাদ রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিক ছিলেন শেরে বাংলা

“মিস্টার জিন্নাহ, ভুলে যাওয়া উচিত নয় এটা বাংলাদেশ এবং তুমি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে কথা বলছ।”
***********************************
কলকাতার বাবুরা বলেছেন, “ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করার কোনো দরকার নেই। ফার্মগেট আছে, ধানমণ্ডি আছে, পাশে একটা কৃষি কলেজ করে দাও।”

এই ধরনের কায়েমী স্বার্থবাদী আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিটিশ লর্ডের কাছে গিয়ে শেরে বাংলা ফজলুল হক বোঝালেন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। এবার ব্রিটিশরা কিছুটা নমনীয় হল — কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলো একটু দেরিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা ফজলুল হক ।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯১৬ সালে মুসলিম লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হন । পরের বছর ১৯১৭ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর সাধারণ সম্পাদক হন । তিনিই ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি একই সময়ে মুসলিম লীগ এর প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেস এর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন । ১৯১৮ -১৯ সালে জওহরলাল নেহেরু ছিলেন ফজলুল হকের ব্যক্তিগত সচিব ।




১৯৩৭ এর নির্বাচনে শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে জিতলে তিনি জমিদারি প্রথা চিরতরে উচ্ছেদ করবেন।

তিনি যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন তার জন্য সারা বাংলাদেশ আর কলকাতার জমিদাররা একত্র হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। লাভ হয়নি — কৃষকরা তাদের নেতাকে ভোট দিয়েছেন।

মুসলিম লীগ এর লাহোর অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বক্তব্য দিচ্ছেন । হঠাৎ করে একটা গুঞ্জন শুরু হলো, দেখা গেল জিন্নাহর বক্তব্যের দিকে কারও মনোযোগ নেই । জিন্নাহ ভাবলেন, ঘটনা কী? এবার দেখলেন, এক কোণার দরজা দিয়ে ফজলুল হক সভামঞ্চে প্রবেশ করছেন, সবার আকর্ষণ এখন তাঁর দিকে । জিন্নাহ তখন বললেন — When the tiger arrives, the lamb must give away. এই সম্মেলনেই শেরেবাংলা উত্থাপন করেছিলেন ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব ।

১৯৪০ সালের ২২-২৪ শে মার্চ লাহোরের ইকবাল পার্কে মুসলিম লীগের কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই কনফারেন্সে বাংলার বাঘ আবুল কাশেম ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি তার প্রস্তাবে বলেন, হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বাস্তবতায় হিন্দু মুসলিম একসাথে বসবাস অসম্ভব। সমাধান হচ্ছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র এবং পূর্বাঞ্চলে বাংলা ও আসাম নিয়ে আরেকটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

পাঞ্জাবের মওলানা জাফর আলী খান, সীমান্ত প্রদেশের সর্দার আওরঙ্গজেব, সিন্ধের স্যার আব্দুল্লাহ হারুন, বেলুচিস্তানের কাজী ঈসা ফজলুল হকের প্রস্তাব সমর্থন করেন। কনফারেন্সে এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।

লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের সময়ে হিন্দুপ্রধান প্রদেশগুলোতে মুসলিম নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকার কারণে ফজলুল হক খুবই উদ্বিগ্ন এবং কিছুটা উত্তেজিত ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে একবার বলেন, ‘ আমি আগে মুসলিম, পরে বাঙালী (muslim first, bengali afterwards)’। বক্তৃতার এক পর্যায়ে এসে বলেন, ‘কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতে যদি আর কোনো মুসলিম নির্যাতিত হয় তাহলে আমি বাংলার হিন্দুদের উপর তার প্রতিশোধ নেব।’

যে ফজলুল হক তিন বছর আগে সোহরাওয়ার্দী, নাজিমউদ্দিনকে রেখে শ্যামাপ্রসাদের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠন করেছেন, সেই ফজলুল হকের মুখে এমন বক্তব্য তখনকার ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃাষ্ট করেছিল।

বর্তমানে যে পাকিস্তান রাষ্ট্র তার ভিত্তি হচ্ছে লাহোর প্রস্তাব। তাই ২৩ শে মার্চ কে পাকিস্তানে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

কিন্তু লাহোর প্রস্তাব পাশ হওয়ার কয়েকদিন পরে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ চালাকির আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি টাইপ করার সময়ে ভুল করে muslim majority states লেখা হয়েছে; আসলে হবে state । জিন্নাহর ধারণা ছিল, দেন-দরবার করে দুই পাশে দুইটা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই স্টেটস এর জায়গায় স্টেট লিখে একটা মুসলিম মেজরিটি রাষ্ট্র করতে হবে।

জিন্নাহর এই ধূর্ততার কারণে ফজলুল হক তাঁর সাথে পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হননি। তরুণ শেখ মুজিব যখন জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তখন অভিজ্ঞ ফজলুল হক পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছেন। তিঁনি অনুমান করতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে কী কী দুর্দশা হবে বাংলার মানুষের। তাই তিনি পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন…….
“বাংলার মাটিও তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছিল। যখনই হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেছি, তখনই বাধা পেয়েছি। একদিন আমার মনে আছে একটা সভা করছিলাম আমার নিজের ইউনিয়নে, হক সাহেব কেন লীগ ত্যাগ করলেন, কেন পাকিস্তান চাননা এখন? কেন তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সাথে মিলে মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন? এই সমস্ত আলোচনা করছিলাম, হঠাৎ একজন বৃদ্ধ লোক যিনি আমার দাদার খুব ভক্ত, আমাদের বাড়িতে সকল সময়েই আসতেন, আমাদের বংশের সকলকে খুব শ্রদ্ধা করতেন- দাঁড়িয়ে বললেন,”যাহা কিছু বলার বলেন, হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছুই বলবেন না। তিনি যদি পাকিস্তান না চান, আমরাও চাই না। জিন্নাহ কে? তার নামও তো শুনি নাই। আমাদের গরিবের বন্ধু হক সাহেব।” এ কথার পর আমি অন্যভাবে বক্তৃতা দিতে শুরু করলাম। সোজাসুজিভাবে আর হক সাহেবকে দোষ দিতে চেষ্টা করলাম না। কেন পাকিস্তান আমাদের প্রতিষ্ঠা করতেই হবে তা-ই বুঝালাম। শুধু এইটুকু না, যখনই হক সাহেবের বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখাতে গিয়েছি, তখনই জনসাধারণ আমাদের মারপিট করেছে। অনেক সময় ছাত্রদের নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি, মার খেয়ে।”

বঙ্গবন্ধুর বাবা বলেছেন , “বাবা তুমি যাই করো শেরে বাংলার বিরুদ্ধে কিছু বলো না। শেরে বাংলা এমনি এমনি শেরে বাংলা হয়নি।”

ফজলুল হক জানতেন মাঝখানে ভারতকে রেখে পশ্চিম আর পূর্বে জোড়া দিয়ে এক পাকিস্তান করলে তা কখনো টিকবে না। ‘ জিন্নাহ আমার লাহোর প্রস্তাবের খৎনা করে ফেলেছে – বলে ফজলুল হক পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন নি।

১৯৪৬ এ এসে জিন্নাহ সোহরাওয়ার্দীর দুই বাংলা একত্র করে স্বাধীন যুক্তবাংলার দাবী মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাও ভাগ করতে হলো।

ফজলুল হক বলেছিলেন, একটি পাকিস্তান কখনও টিকবে না। বাংলা এবং আসামকে নিয়ে পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র করতে হবে।

১৯৭১ সালে এসে দেখা গেল, ফজলুল হকের আশঙ্কা এবং ভবিষ্যতবাণী সঠিক। ১৯৭১ এর মতো এমন কিছু যে ঘটবে শেরে বাংলা ফজলুল হক তা আঁচ করতে পেরেছিলেন ১৯৪০ সালেই। তাই তিনি ১৯৪০ সালেই বাংলা আর আসাম নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র করতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

১৯৭১ এর যুদ্ধ হলো ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন। লাহোর প্রস্তাব ফজলুল হক যেভাবে উত্থাপন করেছিলেন সেভাবে মানলে একাত্তরে এই দেশে রক্তগঙ্গা বইতো না।

পেশাজীবনে শেরেবাংলা কলকাতা হাইকোর্টের নামকরা আইনজীবী ছিলেন। একদিন তাঁর জুনিয়র হাতে একগাদা পত্রিকা নিয়ে এসে বললেন, ” স্যার , দেখুন , কলকাতার পত্রিকাগুলো পাতার পর পাতা লিখে আপনার দুর্নাম ছড়িয়ে যাচ্ছে — আপনি কিছু বলছেন না । ” তিনি বললেন, ” ওরা আমার বিরুদ্ধে লিখছে তার মানে হলো আমি আসলেই পুর্ব বাংলার মুসলমান কৃষকদের জন্য কিছু করছি। যেদিন ওরা আমার প্রশংসা করবে সেদিন মনে করবে বাংলার কৃষক বিপদে আছে। “

মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলী বরিশাল বারের নামকরা উকিল । একবার ওয়াজেদ আলীর প্রতিপক্ষ মামলার ইস্যু জটিল হওয়ার কারণে কলকাতা থেকে তরুণ উকিল ফজলুল হককে নিয়ে আসে ওয়াজেদ আলীকে মোকাবেলা করার জন্য । ফজলুল হক ওই সময়ে কেবলমাত্র ফজলুল হক , শেরে বাংলা তখনও হননি । তিনি মামলা লড়তে এসেছেন , কিন্তু বিপক্ষের উকিল কে সেই খবর জানতেন না ।

কোর্টে এসে দেখলেন বিপক্ষে তাঁর বাবা ওয়াজেদ আলী দাঁড়িয়েছেন । ফজলুল হক স্বাভাবিকভাবে যুক্তিতর্ক শুরু করলেন ।

এক পর্যায়ে ওয়াজেদ আলী আদালতকে উদ্দেশ্য করে বললেন , “ ইনি যা বলছেন তা আইনসংগত না । আইনটা হলো আসলে এরকম এরকম ……. ইনি নতুন উকিল তো আইনকানুন ভালো বোঝেন না। “

উত্তরে ফজলুল হক বললেন , “ তিনি পুরাতন অভিজ্ঞ উকিল হলে কী হবে ? তিনি হচ্ছেন কৃষকের ছেলে উকিল ( প্রকৃতপক্ষে তাঁর দাদা আকরাম আলী ছিলেন ফারসি ভাষার পন্ডিত ) , তিনি আইনের কী আর বোঝেন? আমি হচ্ছি উকিলের ছেলে উকিল , যুক্তি আমারটাই ঠিক।”

খ্যাতির সাথে ৪০ বছর ধরে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করেছেন । আইন পাশ করার আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি আর ম্যাথমেটিক্সে ট্রিপল অনার্স করেছেন । মাস্টার্স করেছেন ম্যাথমেটিক্স এ । ছোটবেলায় একবার পড়ে বইয়ের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলার গল্প রূপকথার মত এদেশের সবার মুখে মুখে ।

বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের বাজেট অধিবেশনে একজন এমপি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিতে লাগলেন । ঐ এমপি শেরে বাংলার বিরুদ্ধে গানও লিখে এনেছেন এবং সংসদের বাজেট বক্তৃতা করতে গিয়ে সেই গানটি হেলেদুলে কর্কশ কণ্ঠে গাইতে শুরু করলেন । এরকম পরিস্থিতিতে যে কারও পক্ষে মাথা ঠাণ্ডা রাখা মুশকিল ।

শেরে বাংলা ঐ এমপি র বক্তব্যের মধ্যেই বলে উঠলেন — “Mr Speaker, I can jolly well face the music, but I cannot face a monkey.”

এবার ঘটলো মারাত্মক বিপত্তি । তাঁর মতো নেতার কাছ থেকে এরকম মন্তব্য কেউ আশা করেনি । এদিকে , ঐ এমপি স্পিকারের কাছে দাবী জানালেন — এই মুহূর্তে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই অসংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে । স্পিকার পড়লেন আরেক বিপদে — তিনি কীভাবে এত বড় একজন নেতাকে এই আদেশ দেবেন ।

শেরে বাংলা ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার বুদ্ধিমান মানুষ । তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন — ” Mr. Speaker, I never mentioned any honourable member of this House. But if any honourable member thinks that the cap fits him, I withdraw my remark.”

‘জ্ঞানতাপস প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক তাঁর জীবনী লিখতে চান জেনে বলেছিলেন, ” রাজ্জাক, সত্যি বলো, তোমার মতলবটা আসলে কী ? ” প্রফেসর রাজ্জাক বললেন, ” আমার এই বিষয়টা খুব ভালো লাগে —- আপনি যখন ইংরেজদের সাথে চলেন তখন মনে হয় আপনি জাত ইংরেজ। যখন বরিশালে আসেন মনে হয় আপনি বহুবছর ধরে নিজেই কৃষিকাজ করেন। আবার যখন কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ বাবুকে ভাই বলে ডাক দেন তখন আপনাকে আসলেই হিন্দু মনে হয়। আবার যখন ঢাকার নবাব বাড়িতে ঘুড়ি উড়ান তখন মনে হয় আপনিও নবাব পরিবারের একজন । নিজেকে কেউ আপনার মত এত পাল্টাতে পারে না। আপনি যাই বলেন, সত্য হোক — মিথ্যা হোক, মানুষ বিনা দ্বিধায় তা বিশ্বাস করে।”

মহাত্মা গান্ধীর নাতি রাজমোহন গান্ধী তাঁর বইতে লিখেছেন — তিন নেতার মাজারে তিনজন নেতা শায়িত আছেন যার মধ্যে দুজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন । একজনকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া হয়নি, অথচ তিনিই ছিলেন সত্যিকারের বাঘ ।

কিন্তু এটা তাঁর জীবনের কোনো অপূর্ণতা নয়, একমাত্র রাষ্ট্রপতি হওয়া ছাড়া সম্ভাব্য সব ধরনের পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে । তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব বাংলার তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী; পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ।

সর্বভারতীয় রাজনীতি ছেড়ে শুধু পূর্ববাংলার রাজনীতি কেন করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে ফজলুল হক বলেছিলেন — এরোপ্লেন এ উঠলে নিচের জিনিস ছোট আর ঝাপসা দেখাতে পারে, তাই আমি মাটিতেই থাকছি । রাজনীতির এরাপ্লেন এ না চড়লেও সৌদি বাদশাহ সউদ ফজলুল হকের সাথে একটা মিটিং করার জন্য নিজের ব্যক্তিগত বিমান পাঠিয়েছিলেন ফজলুল হককে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

অসীম সাহসী এই মানুষটি আমাদেরকে সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে প্রতিবাদ করার কথা বলেছেন। বাঙালী জাতিকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন অনেক আগেই । তিনি বলেছেন, যে জাতি তার বাচ্চাদের বিড়ালের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ায়, তারা সিংহের সাথে লড়াই করা কীভাবে শিখবে?

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন ফজলুল হকের শিক্ষক। আবুল মনসুর আহমদের সাথে আলাপচারিতায় ফজলুল হক সম্পর্কে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মন্তব্যঃ

“ফযলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাঁটি বাঙ্গালী। সেই সঙ্গে ফযলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাঁটি মুসলমান। খাঁটি বাঙ্গালীত্বের সাথে খাটি মুসলমানত্বের এমন অপূর্ব সমন্বয় আমি আর দেখি নাই। ফযলুল হক আমার ছাত্র বলে বলছি না, সত্য বলেই বলছি। খাঁটি বাঙ্গালীত্ব ও খাটি মুসলমানত্বের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ বাঙ্গালীর জাতীয়তা।” (রেফারেন্স: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর।(পৃষ্ঠা ১৩৫-৩৬)

পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটি, বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা এই ফজলুল হকের অবদান । কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ফজলুল হক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন কারণ কৃষক–শ্রমিক সংখ্যাগরিষ্ঠ এই উপমহাদেশে মাত্র একজন ব্যক্তি কৃষকদের জন্য রাজনীতি করেছেন । তিনি হলেন — শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসেছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বললে ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদ করে। জিন্নাহ ছাত্রদের সাথে বৈঠকও করেন। কিন্তু ছাত্ররা ছিল নাছোড়বান্দা। জিন্নাহর ধারণা হলো, ফজলুল হক ছাত্রদেরকে উসকানি দিচ্ছেন। ফজলুল হকের বুদ্ধিতে ছাত্ররা উর্দুর বিরোধিতা করছে। জিন্নাহ এবার ফজলুল হকের সাথে দেখা করতে চাইলেন। কিন্তু ফজলুল হক দেখা করতে রাজি হলেন না। ফজলুল হক জিন্নাহকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করতেন।

জিন্নাহর পীড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন ফজলুল হক। বন্ধ দরজার আড়ালে কথা হয়েছিল দুই মহান নেতার। কিন্তু ইংরেজিতে কী ধরনের বাক্য বিনিময় হয়েছিল তাদের মধ্যে পরবর্তীতে তা লিখেছেন ফজলুল হকের একান্ত সহকারী আজিজুল হক শাহজাহান —

জিন্নাহ : পাকিস্তান তো তুমি কোনোদিন চাও নি। সব সময়ে বিরোধিতা করে এসেছো।

হক : প্রস্তাবটি তো আমিই করেছিলাম। পরে ওটার খতনা করা হয়েছে। আমি এটা চাইনি।

জিন্নাহ: পাকিস্তানের এই অংশ বেঁচে থাক তা তুমি চাও না। তাই ভারতের কংগ্রেসের টাকা এনে ছাত্রদের মাথা খারাপ করে দিয়েছ। তারা আমাকে হেস্তনেস্ত করছে।

হক: আমি এখানে কোনো রাজনীতি করি না। হাইকোর্টে শুধু মামলা নিয়ে চিন্তা করি। আইন আদালত নিয়ে থাকি ।

জিন্নাহ : জানো, তুমি কার সাথে কথা বলছো?

হক: আমি আমার এক পুরোনো বন্ধুর সাথে কথা বলছি।

জিন্নাহ: নো নো, ইউ আর টকিং উইথ দ্য গভর্নর জেনারেল অব পাকিস্তান ।

হক: একজন কনস্টিটিউশনাল গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা আমি জানি।

জিন্নাহ: জানো, তোমাকে আমি কী করতে পারি ?

হক: (ডান হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে) তুমি আমার এ্যাই করতে পারো। মিস্টার জিন্নাহ, ভুলে যাওয়া উচিত নয় এটা বাংলাদেশ এবং তুমি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে কথা বলছ।

(আজিজুল হক শাহজাহানের কলাম, অমরাবতী প্রকাশনী, ঢাকা; পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭)



স্মার্টনেস আসলে কী?

smart people লিখে গুগলে সার্চ দিন, তারপর প্রাপ্ত ইমেজগুলো দেখেন। সেখানে পরিপাটিভাবে সজ্জিত বা কেতাদুরস্ত কারো ছবি দেখতে পাবেন না। কারণ বাংলাদেশে স্মার্টনেসের সংজ্ঞা যাই হোক না কেন, বহির্বিশ্বে স্মার্টনেসের সংজ্ঞা আলাদা। আর এটাই স্মার্টনেসের ইউনিভার্সাল সংজ্ঞা; আমরা বাঙালীরা আসলে কুয়ার ব্যাঙ!

স্মার্টনেস হলো বুদ্ধিমত্তা ও মস্তিষ্কের প্রখরতা। এটাই স্মার্টনেসের সঠিক সংজ্ঞা। কিন্তু আমাদের দেশে মনে করা হয়, যারা পরিচ্ছন্ন, ফিটফাট পোশাক পরে এবং চটচট করে কথার জবাব দিতে পারে, তারাই স্মার্ট। অনেক শিক্ষিত লোকেরা এটাকেই স্মার্টনেসের সংজ্ঞা হিসেবে ধরে নিয়ে চাকুরি ক্ষেত্রে কেবল এ ধরনের লোকদেরকেই নিয়োগ দিতে আগ্রহী হন। পরিচ্ছন্নতা ও ফিটফাট থাকা যদিও জরুরী, তবে এগুলোর সাথে আরো কিছু দিকে নজর দিতে হবে কর্মী রিক্রুটের ক্ষেত্রে, আর সেটা হলো দৃষ্টিভঙ্গী। অনেকের দৃষ্টিভঙ্গী সঠিক নয়, এমনকি তারা সাধারণ লোকজনকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে, নিজের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা কাউকে দেখলেই ‘ঈর্ষাণ্বিত’ হয়ে পড়ে এবং তার ক্ষতি ঘটাতে চায়। এ ধরনের লোকেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুব চতুর হয়ে থাকে, ফলে এদের স্বরূপ উদঘাটন করা চাট্টিখানি কথা নয়।

এজন্য নিয়োগকর্তাদেরকে আরো ধুর্ত হতে হবে এবং তাদের মাঝে কমপক্ষে একজন সাইকোলজিস্ট তো থাকতেই হবে। শুধুমাত্র পোশাক-আশাক ও কথাবার্তার ফিটনেস দেখে সিলেক্ট করা হলে ভুল লোক সিলেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি এরকম বহু কেস দেখেছি যে, লোকটি দেখতে পরিচ্ছন্ন ও ফিটফাট হলেও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অশোভন আচরণ করে; যেমনঃ তুচ্ছ কারণে সহযাত্রীর সাথে মারামারি লাগিয়ে দেয়, বাপ-মা তুলে গালাগালি করে, অসহায় ও দুর্বলকে অত্যাচার করে। এমনকি তারা বেশ কিছু অশোভন কাজকর্মও করে, যেমনঃ নাক খোঁটাখুঁটি করা, খালি হাতে নাক ঝাঁড়া, বিনা কারণে (পাশের জনকে বিব্রত করতে) গলা খকখক করা ইত্যাদি। এখানে যে আচরণগুলোর কথা বললাম, সেগুলো স্মার্ট লোকের কাজকর্ম হতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশই বোধ হয় একমাত্র দেশ যেখানে যাদেরকে সমাজে ‘স্মার্ট’ হিসেবে ধরে নেয়া হয়, তাদের অনেকেই রাস্তাঘাটে ও চলার পথে এ ধরনের অশোভনীয় আচরণ করে থাকে।

বিদেশে স্মার্টনেস মানে হলো বুদ্ধিমত্তা ও মস্তিষ্কের প্রখরতা, যেমনটা আগেই বলা হয়েছে। যেমনঃ আইনস্টাইনকে সর্বকালের সেরা একজন স্মার্ট লোক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আদতে তিনি কী প্রকৃতির লোক ছিলেন, সেটা সবাই বোধ হয় জানেন। তিনি একই ধরনের পোশাক ডেইলি পড়তেন, যেগুলোর বেশির ভাগই ছিল ‘ব্যাগী’ বা অতিরিক্ত ঢিলেঢালা টাইপের। চুল আঁচড়াতেন না বললেই চলে, এমনকি পার্সোনাল হাইজিনেও তাঁর সমস্যা রয়েছিল বলে জানা যায়। তিনি চটপট উত্তর দিতে পারতেন না, যেমনঃ একবার যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ‘স্যার, বলেন তো, বায়ুতে শব্দের বেগ কত?’ তখন তিনি বললেন, ‘এসব তথ্য তো বইয়েই রয়েছে, তাই এগুলো আমার মাথায় ক্যারি করি না।’ তাহলে বোঝেন অবস্থা!

তার মানে এই না যে, আইনস্টাইন স্মার্ট ছিলেন না। সেটা তিনি অবশ্যই ছিলেন, উন্নত বিশ্বে স্মার্টনেসের যে সংজ্ঞা ব্যবহার করা হয়, সে অনুসারে তিনি অবশ্যই স্মার্ট। এবং বাংলাদেশেও সেটাই হওয়া উচিত। কাউকে স্মার্ট বলার আগে শুধু তার পোশাক-আশাক ও পরিচ্ছন্নতা দেখলেই চলবে না, তার জ্ঞানের পরিধি ও মানসিকতা সর্বোপরি গণমানুষকে ভালোবাসার সক্ষমতা আছে কিনা, সেগুলোও যাচাই করতে হবে।

তবে আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি স্মার্ট লোক হয়তো তাঁর জীবদ্দশাতেই বেঁচে ছিলেন, আর তিনি হলেন সর্বকালের সেরা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিকোলা টেসলা। তিনি অতি উচ্চ মাপের ব্যবহারিক বিজ্ঞানী ছিলেন। আইনস্টাইন যেমন তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী ছিলেন, তেমনি টেসলা ছিলেন ‘ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল’ বিজ্ঞানী। একবার আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘স্যার, বর্তমান যুগের সবচেয়ে স্মার্ট লোক হতে পেরে আপনার কেমন অনুভূতি হয়?’ তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘কী জানি! সেটা আপনি বরং নিকোলা টেসলাকেই জিজ্ঞেস করুন।’ অর্থাৎ আইনস্টাইনের মতে, টেসলা তাঁর চেয়েও বেশি স্মার্ট ছিলেন।

আইনস্টাইন অবশ্য লোক চিনতে ভুল করেন নি, কারণ টেসলা যন্ত্র উদ্ভাবন করার আগে কোনো কাগজে তার ডিজাইন আঁকতেন না, বরং সেটা করতেন তিনি নিজের মাথায়। পরে মাথাতেই সেই যন্ত্রের ডিজাইন মডিফাই বা চেঞ্জ করতেন এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে যন্ত্রটি ‘রান’ করলে কী হবে সেটার সাইমুলেশন তিনি তাঁর মগজেই করতেন। অর্থাৎ টেসলার ছিল ফটোগ্রাফিক মেমরি। অথচ জন্মসূত্রে ক্রোয়েশিয়া বা সার্বিয়ার নাগরিক হওয়ার কারণে আমেরিকান মিডিয়া তাঁর নাম ইতিহাসের পাতা হতে মুছে ফেলতে চেয়েছে, কারণ উক্ত দেশগুলো একসময় সোভিয়েট ইউনিয়নের মধ্যে ছিল। যাই হোক, টেসলা সম্পর্কে একটি আর্টিক্যাল রয়েছে এই ব্লগে, সেটা পঠনের আহ্বান থাকলো; রচনাটির শিরোনাম হলো, ‘সর্বকালের সেরা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার’।