সেলিম খান সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন কি?

সালমান খানের পিতা হিসেবেই অধিক পরিচিত সেলিম খান। তিনি অল্প কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও একজন চিত্রনাট্যকার হিসেবে বলিউডে সমধিক পরিচিত। তিনি চারজন সন্তান জন্ম দিয়েছেনঃ বড় পুত্র সালমান খান, মেঝো পুত্র আরবাজ খান, ছোট পুত্র সোহেল খান এবং একমাত্র আপন কন্যা আলভিরা। এছাড়া সেলিম খান এবং তাঁর তৎকালীন স্ত্রী একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন, যার নাম রাখেন অর্পিতা খান।

সেলিম খান একসময় জাভেদ আখতারের সাথে মিলে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখতেন। সে সময় সেলিম ছবির কাহিনী ও চরিত্রসমূহ পরিকল্পনা করতেন এবং জাভেদ সংলাপ লিখতেন।

সেলিম খান ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক স্বচ্ছল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদা আফগানিস্তান হতে ভারতে মাইগ্রেশন করেছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন মধ্যপ্রদেশের ‘ইন্দোর’ নগরীতে পুলিশের ডিআইজি। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয়রা পুলিশে এর চেয়ে বেশি উচুঁ পদে যেতে পারতেন না। সেলিম খানের যখন ১৪ বছর বয়স তখন তাঁর পিতা মারা যান। এরও ৫ বছর আগে তাঁর মা মারা যান। সেলিম খানের মা মারা যাওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর যক্ষ্মায় ভুগেছিলেন। এজন্য ছোটবেলাতেই কখনো নিজ মায়ের কাছে যেতে পারতেন না সেলিম খান এবং তাঁর ভাইবোনেরা। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সেলিম ছিলেন তাঁর পিতামাতার কনিষ্ঠ সন্তান।

প্রথমে মা এবং পরে বাবা মারা যাওয়ার পর সেলিম খানের দেখাশোনা করতেন তাঁর বড় ভাইয়েরা, সে বিষয়ে কোনো অবহেলা হয় নি; কারণ তাঁদের পিতা প্রচুর ধনসম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। সেলিম যখন কলেজে পড়তেন, তখনই তাঁকে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন বড় ভাইয়েরা।

জাভেদ আখতারের সাথে সম্মিলিতভাবে তিনি ছয়টি ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার অর্জন করেন। এছাড়া পরবর্তীতে সেলিম খান ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কার লাভ করেন, যেটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পুরষ্কার।

কলেজে পড়ার সময় সেলিম খান একজন ভালো খেলোয়াড় ছিলেন (ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কলেজ বলা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে যেটা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সেটা ভারতে শুধু ‘কলেজ’)। ভালো খেলোয়াড়, বিশেষ করে ভালো ক্রিকেটার ছিলেন বলেই ডিগ্রীতে তেমন একটা ভালো রেজাল্ট না করলেও তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান (অর্থাৎ খেলোয়াড় কোটায়)।

এবার সেলিমের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলা যাক। তিনি দুটি বিবাহ করেছেনঃ তাঁর প্রথম স্ত্রীর নাম সুশিলা চরক, অর্থাৎ তিনি বিয়ের আগে হিন্দু ছিলেন এবং বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সালমা খান নাম ধারণ করেন। সালমান খানের এই মা ১৯৭৪ সালে মারা যান, যখন সালমানের বয়স মাত্র ৯। এরপর ১৯৮১ সালে সেলিম খান দ্বিতীয় বিবাহ করেন, হেলেন অ্যানি রিচার্ডসন নামক এক নারীকে, যিনি বিয়ের আগে থেকে শুরু করে অদ্যাবধি খ্রিস্টান। সৎ মায়ের সাথে সালমান খানদের বেশ ভালো সম্পর্ক।

এবার সেলিম খান সম্পর্কে একটি মজার ঘটনা বলা যাক। আপনি জানেন কি, সেলিম খান বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একজন বিরাট ফ্যান বা ভক্ত? তিনি নজরুলের প্রতিটি কবিতা পড়েছেন। গত বছর সালমান খান যখন ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে বাংলাদেশে একটা অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসেন, তখন সালমান দর্শকদের সামনে জানান যে, তাঁর পিতা সেলিম খান নজরুলের একজন বিশাল ভক্ত। এবং এই তথ্যটি বাংলাদেশের লোকজনকে জানাতে সালমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর পিতা সেলিম খান।

দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট

কনফরমিস্ট বলতে এমন লোক বুঝায়, যারা মাত্রাতিরিক্ত মানিয়ে চলেন। চলার পথে ও সমাজে বিভিন্ন প্রকার লোকের সাথে মিশতে হয় আমাদের। তখন মতবিনিময় ও মতামত প্রদানের মতো বিষয় থাকে। আপনার সহকর্মী বা প্রতিবেশী যেমন আপনার সব মতামত মেনে নিবেন না, তেমনি আপনিও তাদের সব মতামত মেনে নিতে বাধ্য নন। কোনটা মেনে নিবেন আর কোনটা নিবেন না, সেটা আপনার বিবেক ও ন্যায়-অন্যায় বোধের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এ সমস্ত বিষয়ে যেসব ব্যক্তি তাদের বিবেককে মাত্রাতিরিক্তভাবে দমিয়ে রাখে, অর্থাৎ ন্যায়- অন্যায়ের ধার ধারে না, তারা হলো কনফরমিস্ট।

এরা আসলে সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার আশংকায় থাকে। অথবা সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য কনফরমিস্ট হয় নিজের কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। বাংলাদেশের মতো দেশে অনেকেই তাদের বোন বা মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েক বছরের জন্য কনফরমিস্ট রূপ ধারণ করে। ওই মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই তারা আবার স্বরূপ ধারণ করে। এসময় তাদের অনেকেই ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলে, অর্থাৎ তাদের ঠেকা সেরে গেছে।

বাংলাদেশের লোকজন যে নিজেকে ধার্মিক ও সামাজিক প্রমাণ করতে চায়, কখনো ভেবে দেখেছেন কি, এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে?  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের উদ্দেশ্য হলো – রেফারেন্স বা সুপারিশ এর মাধ্যমে চাকুরি জোগাড় করা, প্রয়োজনের সময় টাকা ধার নেয়া, নিজের মেয়ে বা বোন বিয়ে দেয়া, সামাজিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়া, প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করা, নিজের পরিবার যাতে একঘরে না হয়, বিপদে লোকজন যাতে সাহায্যে এগিয়ে আসে – এইসব আরকি। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু বেশিরভাগই হলো ছোটলোকি চিন্তাভাবনা।

যদিও শিরোনামে বলেছি, দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট। আসলে কনফরমিস্ট বেশি হলো বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে। বিশেষ করে যেসব দেশে অন্যায়-অবিচার বেশি চলে, শক্তিমানেরা দুর্বলদের নির্মমভাবে অত্যাচার করে। আবার দেখা গেছে, যেসব দেশের মানুষ বেশি ধর্মান্ধ ও গোঁড়া সেসব দেশেই এসব অত্যাচার বেশি চলে। কারণ সেসব দেশে শক্তিমানেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা হাইকোর্ট দেখিয়ে দুর্বলদেরকে ফাঁপরে রাখে। তাই উন্নত দেশ গঠন করতে হলে সর্বপ্রথমে ধর্মকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

বাংলাদেশে কনফরমিস্ট বেশি হয় গ্রামের মানুষ, অর্থাৎ যারা গ্রামে বড় হয়। এরা তীব্র মাত্রায় মুনাফিক টাইপের হয়। এদের মনে এক কথা আর মুখে আরেক কথা। এর কারণও আছে অবশ্য। গ্রামের লোকজন বাড়াবাড়ি রকমের চালবাজ ও কুটনা টাইপের। এদেরকে কুটিল বলা যেতে পারে, এরা কে কাকে বাঁশ দিবে সবসময় সে ধান্ধায় থাকে। আমি ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, কিন্তু এখন গ্রামে থাকি (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)। তাই এখানে যা বলছি তা অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। অনেকে বলে, গ্রামের লোকজন নাকি সহজ-সরল। এটা পুরা একটা ফাও কথা। গ্রামের লোকজনের মাথায় থাকে ভিলেজ পলেটিক্স। তাই এরা ছাত্রজীবনে যত মেধাবী হোক না কেন, পরবর্তীতে কর্মজীবনে ইনোভেটিভ কিছু করতে পারে না। দেশে বর্তমানে যেসব বড় বড় কাজ হচ্ছে, সেগুলো করছে শহরে মানুষ হওয়া লোকজন। নটর ডেমে আমার ক্লাসমেট আসিফ মাহমুদ সেরকম একজন ব্যক্তি। সে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র ছিল, অর্থাৎ সে শহরে বড় হয়েছে। 

আবার এমনও হতে পারে, ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবার হয়তো মফস্বল শহরে থাকে, চাকুরির সুবাদে তারা এক জায়গায় খুব বেশিদিন থাকতে পারে না। এসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা পুরোপুরি শহরে না থাকলেও ভিলেজ পলেটিক্স এর প্রভাব থেকে মুক্ত। তাই এরা টেরিটোরিয়াল মানসিকতার হয় না।

ভিলেজ পলেটিক্স হলো, কোনো গ্রামের এক স্থায়ী বাসিন্দা অপর এক স্থায়ী বাসিন্দা বা পরিবারকে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া (উচ্ছেদ) করতে চায়, যদি তাকে মেনে না চলে বা নতিস্বীকার না করে। এটা আসলে একটা ইঁদুর দোড়, এ খেলা চলতে থাকে সারাজীবনই, কিন্তু জয়ী হওয়া বা তৃপ্তি পাওয়া লোকের সংখ্যা হাতে গোণা।           

মেইন কথা হলো, এসব কনফরমিস্ট গিরি বাদ দিতে হবে। আপনার বোনকে পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ করুন, তার ভালো বিয়ে এমনিতেই হবে। আর বিয়ে হতে দেরি হলে সমস্যাটা কী? সে ক্যারিয়ার গড়তে থাকবে, পরে নিজেই একজন যোগ্য পাত্রকে জোগাড় করে নিবে।       

স্ট্যাপল ফুড বদলান, জীবন বদলে যাবে

বাঙালীদের স্ট্যাপল ফুড বা প্রধান খাদ্য হলো ভাত বা চাল। এটি খেলে শরীরে খুব দ্রুত শক্তি যোগায়। এ কারণে এটি এদেশে খুবই জনপ্রিয় খাবার। বেশিরভাগ লোকই তিন বেলা ভাত খেতে পছন্দ করে। 

তবে ডায়াবেটিক রোগীরা তিন বেলা ভাত খেতে পারেন না। তাদেরকে একবেলা ভাত আর বাকি দুইবেলা রুটি খেতে বলা হয়। আমি নিজেও একজন ডায়াবেটিক রোগী। একবেলা ভাত ও দুই বেলা রুটি খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলাম না, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা যন্ত্র দিয়ে মাপা ছাড়াও বোঝা যায়। যেমনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন, চোখের পাতা ভারী মনে হচ্ছে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যারা কিডনী রোগী, তারা তাদের প্রসাবের পরিমাণ লক্ষ্য করতে পারেন। যদি প্রসাবের পরিমাণ দিনদিন কমতে থাকে, তাহলে আপনি বিপদে আছেন।

একজন ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে এসব অভিজ্ঞতা আমার ভালোই আছে। তবে সম্প্রতি আমি একটা রেমেডি খুঁজে পেয়েছি, যেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হোন, তাহলে ভাত, আটা বা ময়দার পরিবর্তে ডাবলী খেতে পারেন, যেমনটা আমি খাচ্ছি – গত এক সপ্তাহ যাবত। এবং পজেটিভ ফলাফল পেয়েছি। ডাবলী খেতে পারেন ঘুঘনি বা চটপটি হিসেবে, আমি খাই চটপটি হিসেবে। সকালে আর রাতে খাই, দুপুরবেলা ভাত বা রুটি খাই।

খাদ্যাভ্যাসের এই পরিবর্তনের ফলে আগের চেয়ে অনেক সুস্থ অনুভব করছি। ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা আর ভারী মনে হচ্ছে না, প্রসাবের পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করি। আর হবেই বা না কেন, ডাবলিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ  অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রোটিন খুব কাজের জিনিস।কেউ কেউ বলতে পারেন, ডাবলি খেয়ে ভাতের খিদে আদতে মিটে কিনা। আমার তো মিটে, আমি তো একজন মানুষ, তাই না? আমার যদি মিটে থাকে, তবে আপনারও মিটবে।

আরেকটি বিষয় হলো, যাদের কিডনি প্রবলেম আছে, তাদের জন্য বেশি প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করা খারাপ প্রমাণিত হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন। কারণ ডাবলী মূলতঃ এক প্রকার ডাল। আর যারা বডিবিল্ডিং করেন, তাদের জন্যও এটা পারফেক্ট হতে পারে, জাস্ট গিভ ইট আ ট্রাই। এছাড়া এটাও জেনে রাখুন, ডাবলি বেশ সস্তা,  ৪০ টাকা কেজি মাত্র। 

ডাবলি খাওয়ার কারণে ইদানিং নিজেকে খুবই এনার্জিটিক ও কনফিডেন্ট অনুভব করছি। ডাবলি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, এটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো কিছু থাকবে না আপনার, তবে মলত্যাগ করার জন্য প্রত্যহ ৩/৪ বার যাওয়া লাগতে পারে টয়লেটে। 

আপডেট (২০ জুলাই, ২০২০)ঃ ইদানিং আর দুইবেলা ডাবলী খাচ্ছি না, কেবল রাতে খাচ্ছি। কারণ ডাবলী বা চটপটির সাথে শাকসবজি খাওয়ার সুযোগ সীমিত। শরীরের জন্য ভিটামিন এর দরকার আছে, তাই না? ঠিক করেছি, তিন বেলার মধ্যে সকালে ডাবলী বা চটপটি খাব। অফিস থাকলে দুপুরে রুটি এবং রাতে ভাত খাব। অফিস না থাকলে দুপুরে ভাত আর রাতে রুটি খাব।

বিএনপি-জামাতের দালাল এই ইলিয়াস চুয়াডাঙ্গা জেলা ও খুলনা বিভাগের কলঙ্ক

শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, খুলনা বিভাগের লোকজন বোধ হয় দুধে ধোয়া তুলসীপাতা, তাদের মাঝে দু-একটা কলঙ্ক রয়েছে মাত্র। আসলে ব্যাপারটা তা নয়, অন্য যেকোনো বিভাগের মতো খুলনা বিভাগেও ভুরি ভুরি পাপী রয়েছে। কেবল খুলনা বিভাগের ‘তেনারা’ অভিনয়টা একটু ভালো পারেন, এই আর কি!

খুলনা বিভাগের এই অসাধু লোকজনের মধ্যে একজন হলো ইটিভি’র প্রাক্তন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা, বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটে থাকে, সেখানে ট্যাক্সিক্যাব চালায় (বা চালাতো)। তবে ইদানিং সে বিএনপি ও জামাতের হয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজের জন্য নিশ্চয়ই সে বিরাট পেমেন্ট পাচ্ছে, সেটা দিয়েই তার চলে যাওয়ার কথা। গাড়ি চালানোর দরকার দেখি না।

সে সবসময় ইসলামের পক্ষে কথা বলে, এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি হলো, সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল বিএনপি ও জামাতপন্থীদের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজে সে ব্যবহার করছে তার ‘ফিফটিন মিনিটস’ নামক ইউটিউব চ্যানেল।

তারপরও তাকে নিয়ে লিখতাম না হয়তো। কিন্তু সম্প্রতি সে তার একটি ভিডিওতে আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীদেরকে পঁচিয়েছে। ‘সমকামিতা’ প্রশ্নবিদ্ধ টার্ম হলেও এটা যদি কেউ সাপোর্ট করে, তবে সে কীভাবে অস্পৃশ্য বা অচ্ছুত হয়ে গেল বা অপরাধ করে ফেললো, সেটা বুঝতে পারলাম না। সমকামিতা যদি কিছু লোকের জন্য অপরিহার্য প্র্যাকটিস হয়, তাহলে সেটার অনুমোদন দিতে সমস্যা কী? সমকামিতা কি বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশে অনুমোদিত নয়?

আমি অবশ্য সমকামিতাকে সরাসরি সাপোর্ট করি না, এ বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড। তবে আমি লিভ টুগেদারকে সাপোর্ট করি। আমি মনে করি, দেশে বিয়ের বিকল্প হিসেবে লিভ টুগেদার কালচার চালু করতে হবে। তাতে ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মেয়েরা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার গোছাবে ও স্বাবলম্বী হবে।

যাই হোক, আয়মান ও তার সহযোগীদেরকে যেভাবে পঁচানোর চেষ্টা করেছে ইলিয়াস, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে ইসলামের পক্ষে কাজ করছে, দ্যাটস ফাইন। বাট সে জঙ্গীবাদের পক্ষেও কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেখানে তার একটি দুই তলা বাড়ি রয়েছে, সেখানকার নিচতলায় নাকি সে একটা কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করেছে এবং সেটার খরচ সে-ই চালায়, এমনটাই স্বীকার করেছে সে নিজের একটি ভিডিওতে।

আয়মান সাদিক এবং রবি টেন মিনিট স্কুলের বিরুদ্ধে ইলিয়াস কীভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি নিম্নে দেওয়া হলোঃ

ইলিয়াস যে এখন পুতঃপবিত্র সাজার চেষ্টা করছে, সেটা দেখে ভুলে গেলে চলবে না যে, সে কীভাবে বা কোন কারণে একুশে টিভি থেকে বহিষ্কার হয়েছিল। সে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় বসবাসকারী একজন বরিশাইল্লা বহুগামী টাইপের মহিলার পিছে লেগেছিল। ঐ মহিলার স্বামী বিদেশে থাকতো এবং মহিলা কীভাবে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া করে বেড়াতো, সেটা ইলিয়াস একুশে টিভির ক্রাইম রিপোর্টের একটা পর্বে ফুটিয়ে তুলেছিল। যেসব মহিলার স্বামী প্রবাসী, তাদের অনেকে এসব করে বেড়ায়, সেটা নতুন কিছু নয় – এটা নিয়ে রিপোর্ট না বানিয়ে ইলিয়াসের উচিত ছিল অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট বানানো, যেমনঃ ভেজাল, চোরাকারবারী, মজুতদারী বা সরকারের বিরুদ্ধে (যদি সে সময় সেটা করার সাহস তার থাকতো !)।

সে যে বাড়াবাড়িটা করেছে, সেটা হলো – এক পুরুষের সাথে ঐ বরিশাইল্লা মহিলার চুমাচুমি ও ডলাডলির দৃশ্য সে নেগেটিভ ফর্মেটে একুশে টিভির পর্দায় হাজির করেছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মহিলা তার নামে এবং একুশে টিভির তৎকালীন পরিচালক আব্দুস সালামের নামে পর্নোগ্রাফি ধারায় মামলা করে। এতে ইলিয়াস চাকুরি হারায় এবং সালামসহ সে জেলে যায়। এ ঘটনায় সালাম একুশে টিভির কর্তৃত্ব হারায়। পরে আওয়ামী সরকার যখন ইলিয়াসকে বিএনপি ও জামাতের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

যাই হোক, ইলিয়াস, তুমি যদি আয়মান সাদিকের বিরুদ্ধে না লাগতে, তাহলে তোমার বিরুদ্ধেও আমি লিখতাম না। তোমাকে আমি ‘কুমিল্লা হেটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান হিসেবে আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি না। ‘কুমিল্লা হেটার’দের বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত হয়েছে।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

তবে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও আরো এক কারণে আমি আয়মানকে সমর্থন করছি, সেটা হলো – আমি ‘লিভ টুগেদার’ কালচার এর সমর্থক, যেমনটা আমি আগে জানিয়েছি। হ্যাঁ, আমি একজন নাস্তিক এবং ধর্মবিরোধী। আমি মনে করি, ধর্ম হলো ডিজিজ বা ভাইরাস এবং এক প্রকার ব্রেইন ওয়াশ। দেশবাসীকে এই ভাইরাস ও ব্রেইন ওয়াশের কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে, তাদেরকে উন্নত জীবন প্রদান করতে হবে। মানুষ কেন ধর্মের প্রতি আসক্ত হয় বা ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, সেটা নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই একটি আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি।

ইলিয়াস, তোমার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত আরেক ‘কুমিল্লা হেটার’ কর্তৃক আমি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলাম, কেবল জন্মসূত্রে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়ার কারণে। সেটা হলো ২০১১ সালে যখন আমি জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরি করতাম, তখনকার কথা। লোকটার নাম রফিকুল ইসলাম জীবন, বয়স বর্তমানে প্রায় ৪১/৪২। তার কারণে বুয়েট থেকে আগত কেউই জুপিটারে টিকতে পারতো না। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস হলো, রফিকও সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি। ‘বাসেত’ নামক এক কৌশলী বুয়েটিয়ান কর্তৃক সে বিতাড়িত হয়েছিল।

খুলনা বিভাগের ‘ভদ্দরনোক’দের স্বরূপ (আসল চেহারা) – প্রিভিউ

উপর্যুক্ত শিরোনামে একটি পূর্ণদের্ঘ্য আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি কয়েকদিনের মধ্যে। আসলে দেশের কোনো অঞ্চলের লোকই পুরোপুরি বিশুদ্ধ না, সবাই কম-বেশি খারাপ। তবে একেকজনের খারাপি একেক সাইডে। এগুলো তুলে ধরছি ইয়াং জেনারেশনের জন্য, যারা এখনো মানুষ চিনতে শেখে নাই। তারা যাতে লোকজনের অঞ্চলভিত্তিক খোঁজ জেনেই আন্দাজ করতে পারে, লোকটি বা মহিলাটি (বা ছেলেটি বা মেয়েটি) থেকে সে কীরূপ ব্যবহার আশা করতে পারে।

খুলনা বিভাগের লোকদের আচরণ ও ব্যবহার একেবারে অসভ্যের মতো নয়, তবে এদের সমস্যা অন্য জায়গায়। ইন ফ্যাক্ট, আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে, এরা এতখানি ফাউল করেছে যে, সেগুলোর বেশিরভাগ গুছিয়ে লিখতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। যেহেতু ‘শাহেদ’ কাণ্ডে দেশ বেশ উত্তাল, তাই একজন সচেতন নাগরিক ও ব্লগার হিসেবে এখানে আমারও কিছু মন্তব্য করা উচিত। ‘কিছু মন্তব্য’ না, আমি বরং পূর্ণদৈর্ঘ্য বর্ণনাই লিখবো এ বিভাগের লোকদের সম্পর্কে, যে বিভাগে রয়েছে খুলনা জেলা, যশোর জেলা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া প্রভৃতি জেলা।

যাই হোক, এ মুহূর্তে যেহেতু বিস্তারিত লেখা সম্ভব হচ্ছে না, তাই কি পয়েন্টগুলো (key points) তুলে ধরি। সেগুলো নিম্নরূপঃ

১। তাদেরও আচরণগত সমস্যা আছে, হয়তো পরিমাণে একটু কম, এই আর কি।
২। তারা ব্যাপক নাকউঁচু টাইপের, বাংলাদেশের বাকি জেলার মানুষদেরকে মানুষ মনে করে কিনা, সেটা গবেষণার বিষয়।
৩। খুলনা বিভাগের গড় আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তা সত্ত্বেও তারা সুযোগ পেলেই ব্যাপক বিলাসী জীবনযাপন করতে চায়, নিজেদেরকে জমিদার মনে করে।

৪। তারা নিজেদেরকে দেশের অবশিষ্টাংশের চেয়ে বেশি হ্যান্ডসাম ও সুন্দরী মনে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তারা নিজেদের চেহারা বেচে খেতে চায়। অর্থাৎ নিজেদের দৈহিক সৌন্দর্য বাড়াবাড়ি রকম এক্সপ্লয়েট করতে চায় তারা।

কত আর চেহারা বেচে খাবি তোরা?!

৫। সুযোগ পেলেই চরম খাইষ্ঠামি করে, অর্থাৎ স্বার্থপরতার পরিচয় দেয়। বেশিমাত্রায় হিসেবী, হিসেবের দিক থেকে তারা মুন্সিগঞ্জবাসীর ‘ভাই-বোন’ লাগে।

৬। সমগ্র দেশকে দেশ মনে করে না, দেশ মনে করে কেবল খুলনা বিভাগকে। নেপোটিজম যদি শিখতে হয়, তবে এদের কাছ থেকে শেখো। উত্তর বঙ্গের লোকদের মতো এরাও একদিন নিজেদের স্বাধীনতার প্রতীক্ষায় আছে। অর্থাৎ এদের মনের গহীন কোণে একটা আশা আছে যে, খুলনা বিভাগ একদিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। অন্তত তাদের কর্মকাণ্ড ও মনমানসিকতা দেখলে এমনটাই মনে হয়। দেশ ভাগের ক্ষেত্রে তাদের অনুরূপ চিন্তাভাবনা ও আচরণ করে উত্তরবঙ্গবাসী (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের লোকজন, একত্রে, দুই বিভাগ মিলিয়ে)।

৭। যৌন চরিত্রকে আমি খুব একটা আমলে নেই না। কিন্তু যারা নেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছিঃ দেশের যে সকল অঞ্চলের লোকের যৌন চরিত্র সবচেয়ে খারাপ, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খুলনা ও সিলেট বিভাগের লোকজন। বিশেষ করে, খুলনা বিভাগের বহু মেয়েই ভারতে পাচার হয়ে পরে দেশে ফেরত আসে। এদের মাধ্যমেই দেশে ব্যাপক হারে এইডস/এইচআইভি’র বিস্তার ঘটছে।

আরো কিছু পয়েন্ট আছে, সেগুলো না হয় পরে আপডেট করবো।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

আয়মান সাদিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নাকি নারীঘটিত কেলেংকারীতে জড়িত, এটা শুনে ঝোঁকের বশে ওদের প্রতি কিছুটা ঘৃণা চলে এসেছিল আমার মনে, সেটা বেশ কয়েক মাস আগেকার কথা। কিন্তু এরপর গত কয়েক মাস ধরে আমি আয়মান সাদিক ও টেন মিনিটস স্কুল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং যতদূর সম্ভব খোঁজ-খবর রেখেছি সংবাদপত্রের মাধ্যমে।

এখন আমি ভিন্নমত পোষণ করি। আমি মনে করি, আয়মান সাদিক কোনো ফাউল করে নি। নারীঘটিত কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে সেখানে ঐ নারীরা নিজেরাই কম-বেশি জড়িত বা সংশ্লিষ্ট। এদেশের নারীদের আমার ভালোই চেনা আছে। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের লেজে খেলিয়ে কেলেংকারী ঘটায়। পরে সেটা জনসমক্ষে এলে নিজেরা ইনোসেন্ট সাজে এবং ছেলেদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

আয়মান অ্যাট লিস্ট ধর্ষণ তো কাউকে করে নাই, নাকি করেছে? লিভ টুগেদার যদি করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নারীর সম্মতিতেই হয়েছে। এদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বা বেশি বয়সের যেকোনো নারী স্বেচ্ছায় পুরুষের সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হতে পারবেন।

আর আমার মতে, লিভ টুগেদার কোনো খারাপ বিষয় নয়, বরং এ দেশকে আর্থিকভাবে উন্নত করতে হলে এবং পিছুটান হতে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলে লিভ টুগেদার-এর বিকল্প নেই। লিভ টুগেদার কালচার এদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পেলে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবেঃ

(১) দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে। ‘মেয়েদেরকে বিয়ে দিতেই হবে’-এটা একটা ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা, এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকে দেশবাসীকে বের করে আনতে হবে, সেটা যত দিনই লাগুক না কেন। আমাদের দেশের মেয়েরা বিয়ের চিন্তা না করে ক্যারিয়ারের বিষয়ে ভাববে, তাদেরকে সিঙ্গাপুরের মেয়েদের মতো হতে হবে।

এজন্য অবশ্য ধর্মের সাথে লড়তে হবে। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন আমার প্রস্তাবিত উপর্যুক্ত পরিস্থিতি দেশে আনা সম্ভব হবে না। তাই আমাদের দেশের দরকার একজন কামাল আতাতুর্ক বা মাহাথির মোহাম্মদ, মুনাফিক সরকারপ্রধান দিয়ে দেশের বেশি উন্নতি সম্ভব নয়।

(২) খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এর মতো যৌনতাও একটি মৌলিক চাহিদা, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যৌনতার জন্য বিয়ে করা ও পরিনামে অকালে বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দেয়ার কোনো মানে হয় না। এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে গেলেও ধর্মের সাথে ফাইট করতে হবে। কে কে আছেন আমার সাথে?

সমকামিতা কি দরকার?

লিভ টুগেদারের বিষয়ে আমার সম্মতি থাকলেও সমকামিতার বিষয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ যৌনতা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সমকামিতা স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক কোনো আচরণ নয়, এটি অনেকটা কৃত্রিমতা।

বিশেষ করে যারা শখ করে বা অন্য কোনো কৃত্রিম কারণে সমকামিতায় নতুন করে অভ্যস্ত হয়েছেন বা হতে চান, তাদের এ আচরণের বিষয়ে আমার ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ হলিউডের টোয়াইলাইট ছবির নায়িকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তাঁর সাবেক বয়ফ্রেন্ড রবার্ট প্যাটিনসনের সাথে ছাড়াছাড়ির পর সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। তাই সমকামিতা এ দেশে বৈধ করার কোনো কারণ দেখি না।

সমকামী ব্যক্তিরা যে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যে যৌনতা উপভোগ করতে পারেন না, এ বিষয়টা আমি বিশ্বাস করি না (বা বুঝি না)। যদি সত্যিই তাঁদের কেবল সমলিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আয়মান সাদিকের পেছনে কারা লেগেছে?

আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীরা যেহেতু লিভ টুগেদার ও সমকামিতাকে পাবলিকলি সমর্থন জানিয়েছে, সুতরাং ইসলামী জঙ্গীরা তাদের পিছে লাগবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে জঙ্গীদের ছাড়াও দেশের কিছু বিশেষ এলাকার লোকদের প্রতি আমি অঙ্গুলি উত্তোলন করতে চাই। আমি মনে করি, আয়মানের পিছনে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের লোকজন এবং মাদারীপুরের লোকজন লেগে থাকতে পারে।

মাদারীপুর বরিশাল বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না হলেও এরা বরিশালের লোকদেরকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে। বরিশালের লোকজন বৃহত্তর কুমিল্লার লোকদেরকে, বিশেষ করে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার লোকদেরকে বিষদৃষ্টিতে দেখে। তাই তারা অরিজিনালি কুমিল্লার বাসিন্দা আয়মান সাদিকের পেছনে লেগে থাকতে পারে। তাদের মতে, কুমিল্লার লোকজন মেধাবী হবে কেন? তারা ব্যবসায় উদ্যোক্তা হবে কেন?

আপনারা লক্ষ্য করেছেন কিনা, কিছুদিন আগে ফেসবুকে কুমিল্লার লোকদেরকে এভাবে ইনসাল্ট করা হতোঃ ‘চিটাগাং যাবার পথে কুমিল্লা এসে গেছে, সবাই এখন বাস থেকে নেমে মুতে দিন।’ এটা বরিশালের লোকজন চালু করেছিল।

বরিশাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু লোকজন রয়েছেন, যারা কুমিল্লার মানুষকে সহ্য করতে পারেন না। আমার পরিচিত কয়েকজন জোর গলায় এটাও বলেছেন যে, আয়মান নাকি রুয়েট থেকে মেকানিকালে পাশ করে পরে ঢাবি’র আইবিএ’র এমবিএ’তে ভর্তি হয়েছে। তারা এটা মানতে চায় না যে, আয়মান আসলে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরই আইবিএ’তে ভর্তি হয়েছিল। সে যে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে মেডেল নিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে, সেটাও কুমিল্লার এসব হেটাররা মেনে নিতে নারাজ।

তাই বলতে চাই, কারণের পিছনেও কার্যকারণ থাকে। আয়মান সাদিককে কেন পঁচানো হচ্ছে, সেটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার। আয়মান তো আসলে দেশের রত্ন, সত্যিকার মেধাবী। দেশে আরো অধিক সংখ্যক আয়মান দরকার, আবরার নয়। আবরার ভিকটিম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য মতে, সে আসলেই একজন ধর্মান্ধ ও কুপমন্ডুক ছিল। দেশে এখন আধুনিক মনমানসিকতার মানুষ দরকার। তবে আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসি হতে হবে (অমিত সাহা সহ)।

করোনা বিষয়ে সরকার ও জনগণের ভুল এবং অপরাধসমূহ

[এখানে যা কিছু লেখা হয়েছে, তা গত ১৭ এপ্রিল তারিখে লেখা। ঐ দিন ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটি দেখতে পারেন, এ আর্টিক্যাল পড়ার বিকল্প হিসেবে।]

(১) অন্ধবিশ্বাস ছিল, করোনা এদেশে আসবে না, আর আসলেও তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাই প্রস্তুতি না নিয়ে তামাশা দেখতে থাকা। জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে সরকার করোনা সনাক্তকরণ কিট ও পিপিই হয় আমদানী করতে পারতো, নয়তো স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করার জন্য রিসার্চ করতে পারতো। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদেরকে কোথায় কোয়ারেন্টাইন করবে সে বিষয়ে সরকার কোনো চিন্তাভাবনা করে নি এবং প্রস্তুতি নেয় নি। ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ খুবই হাস্যকর একটা টার্ম।

(২) মার্চের শুরু থেকেই চায়না, ইতালি, জার্মানী – এসব আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ইনকামিং ফ্লাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত ছিল।

(৩) মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান ধুমধাম করে উদযাপন করার লক্ষ্যে শুরুতে করোনা আক্রান্তের ঘটনাগুলো চেপে গিয়েছিল সরকার (দেশের সকলে এমনটাই মনে করে)। এখনো সরকার আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা জনগণের কাছে খোলসা করতে নিমরাজী। আওয়ামী সরকার সবক্ষেত্রে কেবল সফলতা ও উন্নয়ন দেখাতে চেয়েছে, ব্যর্থতা সবসময়ই ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছে।

‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন করতে গিয়ে এটা হয়ে গেছে ‘করোনা বর্ষ’

(৪) ‘লকডাউন’ অফিসিয়ালি ঘোষণা করে নি সরকার; লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে আসতে কয়েকদিন দেরি করে ফেলেছে।

(৫) গার্মেন্টস বা ফ্যাক্টরিগুলো চলবে নাকি চলবে না, সে বিষয়ে সরকার ও বিজিএমইএ সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেয় নি। তাই গার্মেন্টসকর্মীরা পঙ্গপালের মতো ঢাকামুখী হয়েছে, কোনো সামাজিক দূরত্বের বালাই না রেখে। এসব ঘটনায় করোনা কী পরিমাণ সংক্রমিত হয়েছে (অনলি গড নোওস)।

(৬) সরকারী কোন ঘোষণার ফলে জনগণের মাঝে কীরূপ প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা মন্ত্রী, সচিবগণ এবং প্রশাসন যন্ত্র প্রেডিক্ট করতে পারে নি। এতগুলা ইন্টেলেকচুয়াল মিলে জনগণের পরবর্তী ‘মুভ’ বুঝতে বা আন্দাজ করতে পারছেন না, সেটা খুবই দুঃখজনক।

(৭) জনগণেরও ভুল আছে, তারা লকডাউনের সময়ও র‍্যান্ডম ঘোরাফেরা, আড্ডাবাজি বাদ দিতে পারে নি। পুলিশ তাদেরকে শাসন করতে গেলে তারা ‘প্রতিবাদমুখর’ হয়ে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে। (এসিল্যান্ড সায়মা ইসলামের মতো দু’-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটবেই)

জিনাত আমান সম্পর্কে এ তথ্যগুলো জানেন কি?

‘চুরা লিয়া হে তুমনে’ গানটির অরিজিনাল ভার্সন দেখেছেন কি? সেখানে অভিনেত্রী ছিলেন জিনাত আমান। তিনি এখন বুড়িয়ে গেছেন বটে, তবে একসময় এতটাই গ্ল্যামার ছিল তাঁর যে, বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ বলিউড নায়িকা তাঁর কাছে ফেল মারবে – সৌন্দর্যে, অভিনয়ে এবং এক্সপ্রেশনে।

সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সময়কার প্রেমিকা এই জিনাত মুম্বাইয়ে ১৯৫১ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সত্তর এবং আশির দশকে বলিউডে তুমুল জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া একজন অভিনেত্রী ছিলেন।

জিনাতের প্রথম হিট ফিল্ম হলো ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ যা ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়। আশির দশকে তিনি একবার নায়ক সঞ্জয় খান কর্তৃক প্রহৃত হয়েছিলেন এবং আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেড়ে ওঠার পর তিনি ‘আব্দুল্লাহ’. ‘আলীবাবা অর চল্লিশ চোর’, ‘কোরবানী’, ‘দোস্তানা’ এবং ‘ইনসাফ কা তারাযু’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৮৫ সালে তিনি মাযহার খান নামক এক অভিনেতাকে বিয়ের পর ছবিতে অভিনয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেন এবং ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গাওয়াহি’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর অভিনয় জগত থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। সব মিলিয়ে জিনাত আমান ৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই তাঁকে বহু পুরষ্কার এনে দিয়েছে। তিনি ‘জি সিনে অ্যাওয়ার্ড’ এর আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

এবার জিনাতের পরিবার সম্পর্কে কিছু বলা যাক। তাঁর মাতা হিন্দু ছিলেন এবং ভদ্রমহিলার অরিজিন ছিল মহারাষ্ট্রে, যেখানকার রাজধানী হলো মুম্বাই। আর জিনাতের পিতার নাম হলো আমানুল্লাহ খান, তিনি ভারতের ভোপাল রাজ্যের রাজপরিবারের অন্তর্ভুক্ত (তবে তাঁদের অরিজিন ছিল আফগানিস্তানে)। ভোপাল হলো ভারতের আনঅফিসিয়াল রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি।

অভিনয়ের পাশাপাশি জিনাত আরো বহু ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। যেমনঃ ‘মুঘল-ই-আজম’ এবং ‘পাকিজা’ ছবিদ্বয়ের চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। জিনাত আমেরিকার লস এঞ্জেলসে অবস্থিত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তবে পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি।

এবার বর্ণনা করা যাক তিনি মিডিয়া জগতে কীভাবে এলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলতঃ বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত এমনই একটি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন এবং ‘ফার্স্ট প্রিন্সেস’ বা ‘প্রথম রাজকন্যা’ উপাধি লাভ করেন।

আপনি হয়তো জানেন না, বলিউডে ‘ডন’ নামে সর্বপ্রথম যে ছবি নির্মিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে, সেখানে কাল্পনিক ‘রোমা’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন জিনাত। ছবিটি পরবর্তীতে রিমেক হয় এবং সেখানে অভিনয় করেন শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া।

১৯৭৮ সালের দিকে জিনাত হলিউডেও প্রবেশের চেষ্টা চালান, কিন্তু ব্যর্থ হন; কারণ সেখানে তাঁর অভিনীত ‘শালিমার’ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে মার খায়, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ধর্মেন্দ্র, শাম্মী কাপুর এবং অন্যান্যরা।

জিনাত সবসময়ই ‘ভিন্নরকম’ চরিত্রে অভিনয় করতেন, অন্যান্য নায়িকারা যেমন প্রথাগত চরিত্রে অভিনয় করতেন তেমনটা নয়। তিনি কঠিন কঠিন সব চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। হিন্দী চলচ্চিত্র জগতে যেগুলোকে নিয়মবিরোধী এবং নিষিদ্ধ বিষয় (ট্যাবু) মানা হয়, সেরকম অনেক কিছুকেই তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়ম ভেঙ্গে সফলতা এনে দেখিয়েছেন। তাঁকে ঐ সময়কার একজন যুগান্তকারী অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অভিনয়ের ধাঁচ ছাপ রেখে গেছে পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে আসা রেখা, শ্রীদেবী, পারভিন ববি প্রমুখের মধ্যে।

জিনাত দু’টি বিবাহ করেছেনঃ অভিনেতা সঞ্জয় খানের সাথে এক বছর সংসার করেছিলেন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত মাযহার খান মারা যাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে সংসার করেছেন। মাযহার খানের সাথে তাঁর সংসার জীবনে দুই সন্তানের জননী হয়েছেন তিনি।

অত্যাচারের শিকার জিনাত আমান

সঞ্জয় খান কর্তৃক তাঁর অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাটা অনেকটা এই রকমঃ উইকিডিয়া (ইংরেজি ভার্সন) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সঞ্জয় খানের সাথে আমান এক বছর সংসার করেছেন। আবার সঞ্জয়ের স্ত্রীর উসকানিতে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ থেকে আন্দাজ করা যায়, ঘটনাটা ঘটেছিল সঞ্জয়ের সাথে আমানের ডিভোর্স হওয়ার পর। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি ও সঞ্জয় ‘আব্দুল্লাহ’ নামক চলচ্চিত্রে কাজ করছিলেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও তর্কতর্কি হয়। তখন সঞ্জয় আমানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান এক হোটেলে, যেখানে এক পার্টি উপলক্ষ্যে আগে থেকেই তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তখন এই দ্বিতীয় স্ত্রীর উসকানিতে সঞ্জয় আমানের উপর হামলা শুরু করেন। এতে জিনাতের দেহে একাধিক ইনজুরি হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে তাঁর চোখেও একটি সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা ‘লেজি আই’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ আঘাত পাওয়া চোখের পাপড়ি খুলতে তাঁর বেশ সমস্যা হতো (চোখ আপনিতেই বুজে আসে এমন অবস্থা)।

এছাড়া আমান খান্না ওরফে সরফরাজ নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিনাত ২০১৮ সালে একটি ধর্ষণ মামলা রজ্জু করেন। এই ব্যক্তি নাকি আমানের পিছে লাগে (‘স্টক’ করে), তাঁকে হয়রান করে এবং বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এই অভিযোগে ঐ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়। ঘটনাগুলো ঘটেছিল ২০১১ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে – এমনটাই অভিযোগ রয়েছে।

লেজকাটা শিয়ালের গল্প (ছোটলোকদের গল্প)

গরীব হলেই যে ছোটলোক হবে ব্যাপারটা তা না, কিন্তু গরীব হলে ছোটলোক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম, নবী মোহাম্মদ যখন মিরাজে গেলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, জাহান্নামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই নারী। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নারী হলেই যে জাহান্নামী হবেন, ব্যাপারটা তা না। কিন্তু নারী হলে জাহান্নামী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ সম্ভবত আপনারা জানেন।

হুজুররা তো বেপর্দা নারীদেরকে দেখতেই (সহ্য করতে) পারেন না। গত শুক্রবার জুম্মার সময় এক মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন সেখানকার ইমাম খুতবা দিচ্ছিলেন, ‘এখন যেখানেই যাই, কেবল মেয়ে আর মেয়ে!’। এ বিষয়ে আমিও হুজুরদের সাথে একমত, যদিও আমি একজন নাস্তিক। আমার আপত্তি সেই সকল নারীদের বিষয়ে, যারা ছেলেদেরকে লেজে খেলাতে চান। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দেখতে পারেন নিম্নোক্ত ইউটিউব ভিডিওতে।

যা হোক, বলছিলাম ছোটলোকদের বিষয়ে। কীভাবে ছোটলোকদেরকে চিহ্নিত করবেন? অথবা, ছোটলোকদের বৈশিষ্ট্য কী কী? ছোটলোকদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো – এরা মনে করে, সমাজ এদেরকে ঠকিয়েছে। তাই এরা প্রতিশোধ নেবার জন্য সবসময় ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকে। এ জ্বলুনির বিষয়টি সবাই বুঝবে না। কেবল যারা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট, তারা বুঝবে (যেমন, আমি)।

প্রতিশোধ নেবার জন্য তারা সুইটেবল ব্যক্তি খোঁজে, যাদেরকে তারা নিজের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করে। এই সকল ‘উচুঁ স্তরের’ ব্যক্তিদের সাথে তারা সুযোগ পেলেই খারাপ ও দৃষ্টিকটু আচরণ করে, সিন ক্রিয়েট করে, তাদেরকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে।

আপনারা কি জানেন বা আন্দাজ করেছেন যে, ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে এক শ্রেণির লোক উদ্দেশ্যবিহীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, আড্ডা দেয়। এদের উদ্দেশ্য আসলে অন্যের অনিষ্ট ঘটানোর মাধ্যমে নিজের বহুকাংখিত প্রতিশোধ নেয়া। এ ধরনের লোকই গণপিটুনির সুযোগ পেলে ছাড়ে না। এরা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এমনকি অনেক নোংরা আচরণও করে, যেমনঃ এই করোনাকালীন সময়েও রাস্তায় কিছু লোক পাবেন, যাদের পাশ দিয়ে আপনি যাবার সময় উদ্দেশ্যমূলকভাবে আপনার গা ঘেঁষে থুতু ফেলবে, ড্রপলেট ছড়াবে। এরা আসলে জনমনে আতংক সৃষ্টি করতে চায়। তাই এদেরকে ‘আতংকবাদী’ বা সন্ত্রাসী বললেও ভুল হবে না।

বিদেশে সবাই ছোটলোকদের সম্পর্কে জানে, এখন আমাদের দেশেও সচেতনতা বাড়াতে হবে

অর্থাৎ ছোটলোকদের টার্গেট থাকে, কীভাবে ‘বড়লোক’দের জীবন হেল বা ‘জাহান্নাম’ বানানো যায়। বড়লোকদেরকে তারা সুকৌশলে টেনে-হিঁচড়ে নিজেদের লেভেলে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু বড়লোকেরা মুখে না বললেও ছোটলোকদের অপতৎপরতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই তারা সবসময় সাবধানে চলে। একারণেই ধনী পিতামাতা চান যাতে তাঁদের সন্তানটি গরীব পরিবারের কারো সাথে না মিশে, দরিদ্র পরিবারের কারো সাথে প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে না করে।

তবে সমাজ দিনদিন ছোটলোকদের বিষয়ে সচেতন হচ্ছে, তাই সমাজে বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা কেবল বাড়ছে। এ সকল কারণে ইদানিং আর কেউ অন্যকে ছাড় দিতে রাজি নয়। আগে একটা সময় ছিল, যখন আপামর জনসাধারণের পেটে ভাত না থাকলেও একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ছিল। তখন ধনী ও গরীবদের মাঝে পারস্পরিক আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ ছিল। কিন্তু গরীব শ্রেণির মধ্যে কিছু লোক ছোটলোকি শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে, বদলে যেতে থাকে দুনিয়া। তাই তো সবাই এখন দুনিয়াকে স্বার্থপর বলে।

পরিশেষে ধনী ও সুবিধাভোগীদেরকেও কিছু কথা বলতে চাই, আপনারা গরীবের রক্ত চুষে অর্থসম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবেন না। সেটা করলে এ পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েই একদিন আপনাদের মৃত্যু হবে। সমাজ ধনী ও গরীব সবাইকে নিয়েই, সবার সাথেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হবে। যার যেটা ন্যায্য পাওনা, তাকে সেটা দিন। কাউকে ঠকাবেন না, কারো ক্ষতি করবেন না। মনে রাখবেন, ধনী বা গরীব যাই হোন না কেন, একদিন এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে সবাইকে চলে যেতে হবে, সেদিন কবরে বাক্স-পেটরা নিয়ে যেতে পারবেন না। মানুষকে কতটুকু ভালোবাসলেন, সেটাই হবে আপনার রেখে যাওয়া স্মৃতির অংশবিশেষ।

আইসিইউ বেডের তীব্র সংকট : করোনা রোগীর মৃত্যু বাড়ছে চট্টগ্রামে

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড নেই। যে কারণে প্রতিদিনই করোনা রোগীদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে (৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু) সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা খুবই সীমিত সংখ্যক থাকলেও পর্যায়ক্রমে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং মৃত্যু সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে করোনার হটস্পট চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে ঘোষিত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা মাত্র আটটি। এসব ডেডিকেটেড হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা মাত্র ৬৯৭টি। তার মধ্যে সরকারি চারটি হাসপাতালে ৪৮২টি এবং বেসরকারি চারটি হাসপাতালে ২১৫টি।

সরকারি চারটি হাসপাতালের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২০০টি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস বা বিআইটিআইডিতে ৩২টি, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে ১০০টি শয্যা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০০টি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ২৮টি, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ৪৭টি এবং ফিল্ড হাসপাতালে ৪০টি।

তবে আক্রান্তের তুলনায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক শয্যা না থাকায় হাসপাতালে রোগীর ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের জন্য চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ৩৫টি। তার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১৬টি এবং বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ১৯টি।

সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ছয়টি, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০টি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ছয়টি এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনটি। 

এত অল্পসংখ্যক আইসিইউ বেড থাকার কারণে রোগীদের হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭০ জন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার।

গতকাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন। একই সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬২১ জন।

মোট মৃতের হিসাবে বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চসংখ্যক ৪৫৪ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে মাত্র দুজন কম ৪৫২ জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরিসংখ্যানে তৃতীয় স্থানে রাজধানী ঢাকা ৩৯৪ জন।

অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহে ৪৬ জন, রাজশাহীতে ৬৯, রংপুরে ৪৪, খুলনায় ৫০, বরিশালে ৫৩ এবং সিলেটে ৫৯ জন মারা যান। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগ সংক্রমণের দিক দিয়ে অন্যতম হটস্পট হলেও আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে সুচিকিৎসা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে আইসিইউ বেড সংকটে করোনা রোগীদের মৃত্যু বেশি হচ্ছে চট্টগ্রামে।

গত ২১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় (২৪ জুন সকাল আটটা থেকে ২৫ জুন সকাল আটটা পর্যন্ত) ১৭ হাজার ৯৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করে তিন হাজার ৯৪৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৩৯ জনের মধ্যে ১০ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রামের, পাঁচজন রাজশাহীর, পাঁচজন খুলনার, তিনজন ময়মনসিংহের, বরিশালের দুজন ও রংপুরের চারজন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪