প্রচলিত বেশিরভাগ ধর্ম কল্পকাহিনী বা ফিকশননির্ভর

বেশিরভাগ বললাম এই কারণে যে, নাস্তিক্যবাদ নিজেও একটি ধর্ম। তবে এটি এখন পর্যন্ত সত্যতম ও সঠিকতম ধর্ম। নাস্তিক্যবাদ মানে ধর্মহীনতা বা নীতিহীনতা নয়, সত্যিকার একজন নাস্তিক অবশ্যই নীতিবান।

ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, সনাতন, ইহুদীবাদ – এসকল ধর্ম ফিকশন বা কল্পকাহিনীনির্ভর, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং বিজ্ঞান দ্বারা পুরোপুরি অসমর্থিত। মোহাম্মদের মিরাজ, তার অঙ্গুলি হেলনে চাঁদের দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যীশু ঈশ্বরের পুত্র হওয়া, মুসা ও তার অনুসারীদের নীলনদ পার হওয়া, ইব্রাহিমকে আগুনে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও কোনো ক্ষতি না ঘটা, আদমের বেহেশত থেকে বিতাড়িত হওয়া, হনুমান কর্তৃক সম্পূর্ণ পাহাড় কাঁধে করে নিয়ে আসা – এর সবই ফিকশন বা কল্পকাহিনী। 

ভাগ্য ভালো যে, পৃথিবীর সব ফিকশন থেকে এক একটি ধর্মের উদ্ভব হয় নি। তা যদি হতো, তাহলে দেবতা জিউস ও তাঁর পুত্র হারকিউলিসের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে পৃথিবীর বুকে হয়তো আরেকটি ধর্মের উদ্ভব ঘটতো, যে ধর্মের অনুসারীরা কাল্পনিক দেবতা জিউস এবং তাঁর মানবরূপী পূত্র হারকিউলিসকে পূজা করতো। শুধু তাই নয়, না জানি আরো কত শত ধর্মের উদ্ভব ঘটতো এই ধরণীর বুকে! সেটা হলে অবশ্য ভালো হতো। তাহলে ১৮০ কোটি মানুষের ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে মুসলিমরা পৃথিবীজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারতো না। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের ধর্ম বলে ক্রিশ্চিয়ানিটি নিয়ে গর্ব করতে পারতো না খ্রিস্টানরা। 

ফিকশন নির্ভর নয় এরকম ধর্ম অবশ্য আছে দু’ একটি, যেমনঃ বৌদ্ধ ধর্ম। কিন্তু আজ হতে আড়াই হাজার বছর আগে গৌতমবুদ্ধ যে জীবনাদর্শ দিয়ে গেছেন, তার বেশিরভাগই আজ বিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান। বুদ্ধ কেবল একটি জীবনাদর্শের কথা বলে গেছেন, যা অনুসরণ করলে মানবতার মুক্তি মেলা সম্ভব; তিনি কোনো ঈশ্বরের কথা বলে যান নি। অথচ আজ পৃথিবীর বেশিরভাগ বৌদ্ধরা (কাল্পনিক) ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। তাই এই বিকৃত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়েও লাভ নেই। বৌদ্ধ ধর্ম যদি সত্যিই অহিংসার ধর্ম হতো, তাহলে এ ধর্মের অ্যাম্বাস্যাডররা অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা স্বয়ং অকাতরে মানুষ হত্যা করতে পারতো না, মায়ানমারে। 

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্ম, ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিন্দুইজম, ইহুদী – প্রচলিত এ সকল ধর্ম অকেজো এবং অর্থহীন, এগুলো মানব সম্প্রদায়ের আর কোনো কাজে আসবে না। ধর্ম যদি বেছে নিতে হয়, তাহলে সেটি হলো নাস্তিকতা, এটিই মানবতার ধর্ম। কারণ মানুষ হিসেবে পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হলে বিবেক ও বুদ্ধি অপরিহার্য। কোনো বিবেকবান ও বুদ্ধিমান মানুষ কল্পকাহিনী নির্ভর ধর্মগুলোকে সমর্থন করতে পারেন না, সেগুলোর কোনোটিকে অনুসরণ করতে পারেন না।

মুসার অঙ্গুলী হেলনে নাকি এভাবেই সাগরের পানি দু’ভাগ হয়েছিল, ব্যাপারটা পুরোই হাস্যকর। তথাকথিত নবী-রাসূলরা জাদুকর নাকি ‘স্পেশাল’? স্রষ্টাই যদি তাদেরকে স্পেশাল বানিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করে থাকেন, তাহলে তারা ‘সাধারণ’ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন কীভাবে?!

প্রকৃত পাপ বনাম অলীক পাপ

মানুষ হত্যা করা, কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, নিরীহ কারো সাথে ধোঁকাবাজি করা, মানুষের মনে অকারণে কষ্ট দেওয়া, চুরি করা, ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ খাওয়া – এগুলো হলো প্রকৃত পাপ। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাতে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয়, সেটা হলো প্রকৃত পাপ। 

কিন্তু সেক্স করা, হস্তমৈথুন করা, মদ খাওয়া, সুদ খাওয়া – এসব কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয় না, আনলেস আপনি মদ খেয়ে গাড়ি চালান বা মাতলামি করে কারো বিরক্তির কারণ হচ্ছেন। তাই উল্লিখিত কর্মকাণ্ডগুলো প্রকৃত পাপ নয় (যেমনঃ আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে সেক্স করলে এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না), এগুলো হলো অলীক পাপ । অর্থাৎ এগুলো পাপ না হওয়া সত্ত্বেও ধর্ম, সমাজ এগুলোকে ‘পাপ’ বানিয়ে রেখে দিয়েছে। 

সমাজ মূলত চালায় মুরব্বীরা; তাঁরা নিজেরা যখন যৌবনে ছিলেন, তখন বিভিন্ন ধরনের ফূর্তি করেছেন। কিন্তু বয়স হওয়ার ফলে যেই না তাদের যৌনক্ষমতা কমে গেল এবং লিভারে পচঁন ধরায় মদ্যপানের ক্ষমতাও কমে গেল, তখন তারা ইয়াং জেনারেশনকে ফূর্তি করতে ও লাইফ এনজয় করতে দেবেন না – এমনটা বন্ধপরিকর হলেন। তখন তাঁরা ধর্মের দোহাই দিতে লাগলেন।

প্রচলিত ধর্মগুলোর উদ্ভব হয়েছে অসামাজিক টাইপের মানুষের দ্বারা, যেমনঃ মোহাম্মদ, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখ। মোহাম্মদ নিজ সমাজের ছেলেপুলেদের সাথে মিশতে পারতো না, তাদের সাথে মিলে এনজয় করতে পারতো না, তাই সে সবাইকে নিজের মতো করে বানানোর উদ্দেশ্যে ধর্ম আবিষ্কার করেছে। যে এনজয় সে নিজে করতে পারে নি, সেটা সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাউকে করতে দেবে না – এটাই ছিল তার মাস্টারপ্ল্যান। অনাচারের কথা যদি সে বলে, তাহলে বলতে হয় – অনাচার যুগে যুগে সব সমাজেই ছিল, কমবেশি। তাই বলে সমাজচ্যুত হওয়া ঠিক নয়, সমাজচ্যুত হওয়াটাই সবচেয়ে বড় মাপের একটা পাপ।

স্রষ্টার উপাসনা না করাও একটি অলীক পাপ। কারণ আপনি স্রষ্টার উপাসনা না করলে তার তেমন কী ক্ষতি হবে? (যদি সে একজিস্ট করেও)। আর সাধারণ লোকজনেরই বা কী ক্ষতি হবে? তদুপরি, স্রষ্টা যদি থেকেও থাকে, সে উপাসনার এত কাঙাল কেন? আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি দুনিয়াতে আসার জন্য কাউকে রিকোয়েস্ট করি নি, তাই পৃথিবীতে এসে কাউকে উপাসনা করার প্রয়োজন আমার নেই। এবার আপনি নিজে ভেবে দেখুন, আপনি কি কাউকে অনুরোধ করে পৃথিবীতে এসেছেন? মনে হয় না। তাহলে তথাকথিত স্রষ্টার উপাসনা কেন করবেন?

আপনি নামাজ, রোজা না করলে, মূর্তিপূজা না করলে কারো কোনো ক্ষতি হবে না, তাই এই তথাকথিত পাপগুলো হলো অলীক পাপ, অর্থাৎ আদতে পাপ নয়। তাই বলি, যেগুলো প্রকৃত পাপ, কেবল সেগুলো করবেন না, যেমনঃ মানুষ হত্যা করা, মানুষের মনে শুধুশুধু কষ্ট দেওয়া প্রভৃতি। এরকম কয়েকটি প্রকৃত পাপের নাম নিবন্ধের শুরুতেই উল্লিখিত হয়েছে। আর অলীক পাপগুলো করুন, যেমনঃ প্রেম-পরকীয়া-সেক্স করুন, ঘনঘন যৌনসঙ্গী বদলান, হস্তমৈথুন করুন, সুদ খান, উপাসনা তথা নামাজ-রোযা পরিহার করুন ইত্যাদি। তবে লাইফ এনজয় করলেও তা একটু হিসাব করে করবেন। যেমনঃ ঘনঘন যৌনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন সঙ্গী বেছে নিন, যার যৌনরোগ নেই। হস্তমৈথুন করলেও তা স্বল্পমাত্রায় করুন। তাহলে এসকল ‘অলীক’ পাপের জন্য ভবিষ্যতে আপনাকে কখনো ভুগতে হবে না।

ছুরি হলো প্রকৃত পাপ সংঘটনের একটি মোক্ষম অস্ত্র

নাস্তিকদের শেষকৃত্য

যে কয়েকটি বিষয় দিয়ে আস্তিকরা, বিশেষ করে ইসলামী মোল্লারা নাস্তিকদেরকে নাস্তানাবুদ করতে চায়, তার মধ্যে একটি হলো – ‘আপনি কি মরবেন না? তখন কি জাহান্নাম এড়াতে পারবেন? আপনার জানাজা পড়াবে কে? আপনাকে কি কবর দিতে হবে না? তখন তো ঠিকই হুজুরদেরকে লাগবে?’ ইন ফ্যাক্ট, আমাকেও এ ধরনের কথা শুনতে হয়েছে এবং এখনও হয়। প্রতিবেশী এক ধর্মব্যবসায়ী আছে, তারা পারিবারিক সূত্রে এক মসজিদের মালিক। সেখানে আমি নামাজ পড়তে যাই না, তাই এ ধরনের কথা ঐ মসজিদের ইমাম তথা মালিকপক্ষের একজন এবং এলাকার লোকজনের কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে আমাকে।

আর আমার বউ তো অহরহ খোঁটা দেয় সেইম টাইপের কথাবার্তা বলে। সুতরাং বোঝা গেল, শেষকৃত্য ব্যাপারটা নাস্তিকদের জন্য একটি বিব্রতকর ইস্যু। তাই আমি বলি কী – ‘লাগবে না আমাদের, নাস্তিকদের কোনোরূপ জানাজা বা লাস্ট রেসপেক্ট লাগবে না। চলুন, আমরা নাস্তিকরা সবাই আমাদের স্ব স্ব দেহ মরণোত্তর দান করে দেই। অথবা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই, যেখানে লাশ সমাহিত করার জন্য বিশেষ কোনো রীতিনীতি বা আচারের প্রয়োজন হবে না। কেউ যদি মনে করে যে, তাকে মৃত্যুর পর এক কাপড়েই কবরে সমাহিত করা হোক, তবে তাই হবে।’

আর কেউ যদি চায় তবে তাকে তার মনের মতো করে সাজগোজ করিয়ে কবরে সমাহিত করা হবে। বেশভূষা যাই হোক, ইট ডাজন্ট ম্যাটার। কারণ মৃত্যুর পর কোনো চেতনা নেই, কোনো শাস্তি নেই, কোনো সুখও নেই। এটাকে কেবল লম্বা একটা ঘুম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। 

এসব উদ্যোগ নেয়া হলে শেষকৃত্য বিষয়ে আস্তিকদের লাফালাফি এবং ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং অনেকটা কমে যাবে।

নাস্তিকদের সম্পর্কে জনগণের একটি ভুল ধারণা

নাস্তিকদের সম্পর্কে জনগণের একটি ভুল ধারণা রয়েছে, আর সেটি হলো – যেহেতু নাস্তিকদের ‘ঈমান’ নেই, তাই তাদের কোনো বিবেকও নেই, তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। আদতে ব্যাপারটা তা নয়; নাস্তিকরাও মানুষ, তারাও সামাজিক জীব। সমাজে ও রাষ্ট্রে অবস্থান করতে হলে অন্য সবার মতো তাদেরকেও কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। সুতরাং নাস্তিকদের বিবেক নেই – এ কথাটি সত্য নয়।

নাস্তিকরা খুবই ভয়ংকর এবং এদের বুক-পিঠ নেই, অর্থাৎ যেকোনো সময় যে কারো ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে – এটিও ভুল ধারণা। বরং সত্য হলো এই যে, নাস্তিকদের বিবেকের স্ট্যান্ডার্ড সাধারণের তুলনায় অনেক উপরে। সাধারণ মানুষ অর্থাৎ আস্তিকেরা যে লোভটা হয়তো সামলাতে পারবে না, একজন সত্যিকার নাস্তিক সেটাও সামলাতে পারবে। তবে কিছু মানুষ আছে, যারা আস্তিক না নাস্তিক তারা নিজেরাও জানে না। এরা সুবিধাবাদী, অর্থাৎ নিজেকে কখনো আস্তিক, কখনো নাস্তিক পরিচয় দেয়। যেমনঃ নিজের বোনের বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত এরা চরমমাত্রায় নামাজি বা ধার্মিক। আর বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই এরা স্বরূপে ফিরে যায়, অর্থাৎ নিজের স্বার্থের জন্য এরা তখন যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত, লাজ-শরমের মাথা খেয়ে হলেও। 

এ ধরনের লোকই এক্সপেরিমেন্ট বা ফ্যাশন করার জন্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদেরকে নাস্তিক পরিচয় দিয়ে আকাম-কুকামে মেতে ওঠে, অর্থাৎ চরম নীতিহীনতার পরিচয় দেয়। এদের কর্মকাণ্ড দেখেই সাধারণ জনগণ নাস্তিকদের প্রতি বিষিয়ে ওঠে। প্রকৃত সত্য হলো এই যে, একজন সত্যিকার নাস্তিক অতি প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে দু’-একটা মিথ্যা বললেও বা ছোটখাট অপরাধ/ত্রুটি করে ফেললেও সে ‘চরম নীতিহীনতা’র পরিচয় কখনোই দেবে না। তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে সর্বদাই একটা লিমিট থাকবে, যে লিমিট সবার মনে একটা মুগ্ধতা তৈরি করবে। তবে কেবল নাস্তিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো লোকজন তাকে কিছুটা বাঁকা চোখে দেখতে পারে। আফটার অল, বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে নাস্তিক হওয়া এবং নাস্তিক হয়ে টিকে থাকা সত্যিই কষ্টসাধ্য।

নাস্তিকদের বিবেকের স্ট্যান্ডার্ড কী কারণে সাধারণের উপরে, এবার সেটা ব্যাখ্যা করি। আগেই বলেছি, সত্যিকার নাস্তিক হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, এটা সাধনার ব্যাপার। কেবল নাস্তিক বলেই অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না বলেই একজন মানুষ ক্রমাগত অপরাধ করে যেতে পারে না। প্রতিটি অপরাধ মানুষকে অনুশোচনায় ফেলে। তবে আস্তিকদের জন্য অপরাধ করা সহজতর। যেমনঃ মুসলিমরা মনে করতে পারে, ‘আমি অপরাধ করে যাই, মৃত্যুর আগে তওবা করে নিয়ে ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে যাব। তবেই তো বেহেশতে যেতে পারব।’ 

তবে নাস্তিকদের জন্য অপরাধ করাটা এত সহজ নয়। নাস্তিকদের চালিকাশক্তি কোনো ধর্মগ্রন্থ বা কিতাব নয়, তাদের চালিকাশক্তি হলো – নিজস্ব বিবেক। আস্তিকেরা যেখানে অন্ধভাবে অনুসরণ করে যায় বিভিন্ন কিতাবকে, লোকজনের কাছ থেকে শোনা কথাকে এবং প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য আস্তিককে, সেখানে একজন সত্যিকার নাস্তিক সর্বদা নিজের বিবেকের চর্চা করে যায়। সে নিজের বিবেককে ক্রমাগত জিজ্ঞেস করতে থাকে, কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক। এটি করতে গিয়ে কখনো কখনো সে জাজমেন্টে ভুল করে ঠিকই, তবে একসময় সৎ ও সঠিক কাজ করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়। তাই একজন  নাস্তিক একজন গড়পড়তা আস্তিকের চেয়ে বেশি বিবেকবান।

প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের ভূমিকা এইরূপ হতে পারে…

ঈশ্বর যদি সব জীবের সৃষ্টির পেছনে থাকেন, তবে তিনি খুব সম্ভবত সেই সুদূর অতীতে এককোষী জীবকে সৃষ্টি করেছেন, বা তাঁর কারিশমায় সেটা সম্ভব হয়েছে। এরপর সেই এককোষী জীবকে বংশবিস্তার ও বিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ফলশ্রুতিতে সেই এককোষী জীব থেকেই লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের দ্বারা আজকেের দুনিয়ায় হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ প্রাণী ও উদ্ভিদের আবির্ভাব ঘটেছে।

ঈশ্বর যদি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তাঁর চিন্তাভাবনা এমন হওয়া উচিত নয় যে, তাঁর উপাসনা করলেই বেহেশত বা স্বর্গ পাওয়া যাবে, আর তাঁকে এড়িয়ে চললেই নরক। ঈশ্বর হয়তো হাজার হাজার জীবের উৎপত্তির পিছনে রয়েছেন, কিন্তু তিনি তাঁর সৃষ্টিগুলোকে ভালোবাসেন – এমনটা বলা যাবে না। কারণ দুনিয়াতে প্রতিটি জীবই প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বিপদ ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, ঈশ্বর এসে তাদেরকে ‘উদ্ধার’ করছেন না। ব্যাপারটা এমন যেন, ঈশ্বর মহাবিশ্ব ও প্রাণীকূল সৃষ্টি করে এখন কেবল তাদের তামাশা দেখছেন। এ ধরনের ‘তামাশা দেখতে থাকা’ ঈশ্বরের উপাসনা করার প্রয়োজন নেই, যদিও বা তিনি আদতে আমাদের অর্থাৎ মানবজাতির কাছ থেকে উপাসনা প্রত্যাশা করে থাকেন।

নাস্তিকতা আসলে কী?

নাস্তিকতা মানে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসহীনতা নয়, বরং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে প্রচলিত মতবাদগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ আবশ্যক, কারণ প্রচলিত ধর্মগুলো সব কম-বেশি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। নাস্তিকতার প্রকৃত মানে – ‘ঈশ্বর একজন থাকতে পারেন, তবে তিনি ইসলামে বর্ণিত আল্লাহ নন, বা খ্রিস্টধর্মের যীশু নন, এছাড়া হিন্দু ধর্মের ভগবানও নন।’ 

প্রচলিত ধর্মগুলো এই কারণে ভুয়া যে, সেগুলো মানব সম্প্রদায়ের বিগত কেবল ৫০০০ বছর বা ১০০০০ বছরের ইতিহাস পর্যলোচনা করে। কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানব (Homo Sapiens) জাতির ইতিহাস প্রায় ২ লক্ষ বছরের। এর আগেও মানুষ ছিল, তবে তারা অতটা বুদ্ধিসম্পন্ন ছিল না, তারা অনেকটা ‘বন মানুষ’ বা গরিলা টাইপের ছিল, বুদ্ধিশুদ্ধিও ছিল ঐ লেভেলের।

ধর্মগুলো ভুয়া হওয়ার আরেকটি কারণ হলো – এরা এভোলুশন বা বিবর্তনবাদকে স্বীকার করে না। প্রচলিত ধর্মসমূহের মতে, মানুষকে ঈশ্বর বা ভগবান অলৌকিকভাবে সৃষ্টি করেছেন – যেটা আদতে সত্য নয়। মানুষ রাতারাতি বা অভারনাইটে সৃষ্টি হয় নি, যুগ যুগ ধরে প্রাণীর বিবর্তনের মাধ্যমে মানব সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখনো বিবর্তিত হচ্ছে, যার প্রমাণ হলো – মানুষরূপী অমানুষেরা জঘন্য কাজকর্ম করে চলেছে দুনিয়াজুড়ে। এ ধরনের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেটা প্রমাণ করে যে – এখনো মানুষের বিবর্তন চলছে। বস্তুত প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য মানুষ বিবর্তিত হয়ে দিনদিন আরো নির্মম ও পাষাণ হয়ে যাচ্ছে, তাদের বিবেকবোধ কমে যাচ্ছে, মূল্যবোধ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।

প্রচলিত ধর্মগুলো ভুয়া হবার আরেকটি কারণ হলো, এরা বিজ্ঞানের কোনো শাখাকেই ঠিকমতো বা যথোপযুক্তভাবে সমর্থন করে না। যেমনঃ বেশিরভাগ ধর্মই বেহেশত-দোযখ, স্বর্গ-নরকের কথা বলে। এ টার্মগুলো পদার্থবিজ্ঞান বা ফিজিক্সের ‘ভর-শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি’কে সমর্থন করে না। বেহেশতে গিয়ে মানুষ যা চাইবে, তাই পাবে – এমনটা হতে পারে না।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

আয়মান সাদিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নাকি নারীঘটিত কেলেংকারীতে জড়িত, এটা শুনে ঝোঁকের বশে ওদের প্রতি কিছুটা ঘৃণা চলে এসেছিল আমার মনে, সেটা বেশ কয়েক মাস আগেকার কথা। কিন্তু এরপর গত কয়েক মাস ধরে আমি আয়মান সাদিক ও টেন মিনিটস স্কুল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং যতদূর সম্ভব খোঁজ-খবর রেখেছি সংবাদপত্রের মাধ্যমে।

এখন আমি ভিন্নমত পোষণ করি। আমি মনে করি, আয়মান সাদিক কোনো ফাউল করে নি। নারীঘটিত কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে সেখানে ঐ নারীরা নিজেরাই কম-বেশি জড়িত বা সংশ্লিষ্ট। এদেশের নারীদের আমার ভালোই চেনা আছে। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের লেজে খেলিয়ে কেলেংকারী ঘটায়। পরে সেটা জনসমক্ষে এলে নিজেরা ইনোসেন্ট সাজে এবং ছেলেদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

আয়মান অ্যাট লিস্ট ধর্ষণ তো কাউকে করে নাই, নাকি করেছে? লিভ টুগেদার যদি করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নারীর সম্মতিতেই হয়েছে। এদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বা বেশি বয়সের যেকোনো নারী স্বেচ্ছায় পুরুষের সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হতে পারবেন।

আর আমার মতে, লিভ টুগেদার কোনো খারাপ বিষয় নয়, বরং এ দেশকে আর্থিকভাবে উন্নত করতে হলে এবং পিছুটান হতে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলে লিভ টুগেদার-এর বিকল্প নেই। লিভ টুগেদার কালচার এদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পেলে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবেঃ

(১) দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে। ‘মেয়েদেরকে বিয়ে দিতেই হবে’-এটা একটা ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা, এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকে দেশবাসীকে বের করে আনতে হবে, সেটা যত দিনই লাগুক না কেন। আমাদের দেশের মেয়েরা বিয়ের চিন্তা না করে ক্যারিয়ারের বিষয়ে ভাববে, তাদেরকে সিঙ্গাপুরের মেয়েদের মতো হতে হবে।

এজন্য অবশ্য ধর্মের সাথে লড়তে হবে। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন আমার প্রস্তাবিত উপর্যুক্ত পরিস্থিতি দেশে আনা সম্ভব হবে না। তাই আমাদের দেশের দরকার একজন কামাল আতাতুর্ক বা মাহাথির মোহাম্মদ, মুনাফিক সরকারপ্রধান দিয়ে দেশের বেশি উন্নতি সম্ভব নয়।

(২) খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এর মতো যৌনতাও একটি মৌলিক চাহিদা, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যৌনতার জন্য বিয়ে করা ও পরিনামে অকালে বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দেয়ার কোনো মানে হয় না। এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে গেলেও ধর্মের সাথে ফাইট করতে হবে। কে কে আছেন আমার সাথে?

সমকামিতা কি দরকার?

লিভ টুগেদারের বিষয়ে আমার সম্মতি থাকলেও সমকামিতার বিষয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ যৌনতা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সমকামিতা স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক কোনো আচরণ নয়, এটি অনেকটা কৃত্রিমতা।

বিশেষ করে যারা শখ করে বা অন্য কোনো কৃত্রিম কারণে সমকামিতায় নতুন করে অভ্যস্ত হয়েছেন বা হতে চান, তাদের এ আচরণের বিষয়ে আমার ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ হলিউডের টোয়াইলাইট ছবির নায়িকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তাঁর সাবেক বয়ফ্রেন্ড রবার্ট প্যাটিনসনের সাথে ছাড়াছাড়ির পর সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। তাই সমকামিতা এ দেশে বৈধ করার কোনো কারণ দেখি না।

সমকামী ব্যক্তিরা যে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যে যৌনতা উপভোগ করতে পারেন না, এ বিষয়টা আমি বিশ্বাস করি না (বা বুঝি না)। যদি সত্যিই তাঁদের কেবল সমলিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আয়মান সাদিকের পেছনে কারা লেগেছে?

আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীরা যেহেতু লিভ টুগেদার ও সমকামিতাকে পাবলিকলি সমর্থন জানিয়েছে, সুতরাং ইসলামী জঙ্গীরা তাদের পিছে লাগবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে জঙ্গীদের ছাড়াও দেশের কিছু বিশেষ এলাকার লোকদের প্রতি আমি অঙ্গুলি উত্তোলন করতে চাই। আমি মনে করি, আয়মানের পিছনে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের লোকজন এবং মাদারীপুরের লোকজন লেগে থাকতে পারে।

মাদারীপুর বরিশাল বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না হলেও এরা বরিশালের লোকদেরকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে। বরিশালের লোকজন বৃহত্তর কুমিল্লার লোকদেরকে, বিশেষ করে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার লোকদেরকে বিষদৃষ্টিতে দেখে। তাই তারা অরিজিনালি কুমিল্লার বাসিন্দা আয়মান সাদিকের পেছনে লেগে থাকতে পারে। তাদের মতে, কুমিল্লার লোকজন মেধাবী হবে কেন? তারা ব্যবসায় উদ্যোক্তা হবে কেন?

আপনারা লক্ষ্য করেছেন কিনা, কিছুদিন আগে ফেসবুকে কুমিল্লার লোকদেরকে এভাবে ইনসাল্ট করা হতোঃ ‘চিটাগাং যাবার পথে কুমিল্লা এসে গেছে, সবাই এখন বাস থেকে নেমে মুতে দিন।’ এটা বরিশালের লোকজন চালু করেছিল।

বরিশাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু লোকজন রয়েছেন, যারা কুমিল্লার মানুষকে সহ্য করতে পারেন না। আমার পরিচিত কয়েকজন জোর গলায় এটাও বলেছেন যে, আয়মান নাকি রুয়েট থেকে মেকানিকালে পাশ করে পরে ঢাবি’র আইবিএ’র এমবিএ’তে ভর্তি হয়েছে। তারা এটা মানতে চায় না যে, আয়মান আসলে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরই আইবিএ’তে ভর্তি হয়েছিল। সে যে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে মেডেল নিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে, সেটাও কুমিল্লার এসব হেটাররা মেনে নিতে নারাজ।

তাই বলতে চাই, কারণের পিছনেও কার্যকারণ থাকে। আয়মান সাদিককে কেন পঁচানো হচ্ছে, সেটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার। আয়মান তো আসলে দেশের রত্ন, সত্যিকার মেধাবী। দেশে আরো অধিক সংখ্যক আয়মান দরকার, আবরার নয়। আবরার ভিকটিম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য মতে, সে আসলেই একজন ধর্মান্ধ ও কুপমন্ডুক ছিল। দেশে এখন আধুনিক মনমানসিকতার মানুষ দরকার। তবে আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসি হতে হবে (অমিত সাহা সহ)।

লেজ কাটা শিয়ালের গল্প (মুনাফিকদের গল্প)

মুনাফিকদের নিয়ে আমি একটি নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট খুলবো, নাম হবে hate-munafix.com অথবা hate-munafix.net. সেটা খুব বেশিদিন পরে নয়, মাত্র দুই-তিন মাস পরেই (যদি বেঁচে থাকি)। তবে ইতিমধ্যেই মুনাফিকদের নিয়ে লেখাটা জরুরী হয়ে পড়েছে।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মুসলিম নামধারী, নামাজী বা মুসল্লি আসলে মুনাফিক। এরা নামাজ-রোজা করে ঠিকই, কিন্তু ইসলামের মূল শিক্ষা-দীক্ষা থেকে সরে এসেছে, তাই এরা মুনাফিক। আমার কথা আলাদা, আমি স্বঘোষিত কাফের বা নাস্তিক। আমি মুসলিম ও মুনাফিকদের কবরস্থানে শায়িত হতে চাই না; বিশ্বের সকল নাস্তিকদের প্রতি আমার আহ্বান – চলুন, আমরা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই (for the sake of memorial, you know for our children/relatives)।

বছর দু’য়েক আগে তৈরি করা আমার বাড়িটি যে এলাকায় (রূপগঞ্জের কোনো একটা গ্রাম্য এলাকায়), সেখানেও প্রচুর মুনাফিক রয়েছে। আমি যেহেতু মসজিদে যাই না, তাই তারা আমার পিছনে লেগেছে। আমার বাড়ির পাশে একটি মসজিদ রয়েছে, সেখানে ফজরের ওয়াক্তে যখন মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসে, তখন এক বা একাধিক ব্যক্তি আমার বাড়িতে ঢিল ছোড়ে, এতে আমার এবং আমার বউ-বাচ্চার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে (যদিও আমার বউ একজন পুরোদস্তুর নামাজী ব্যক্তি এবং সেটা ঐ মুনাফিকেরা জানে)।

এসব কর্মকাণ্ড করে তারা আমাকে নামাজের পথে বা ইসলামের পথে নিতে পারবে না, শুধু তাদের প্রতি আমার ঘৃণার পরিমাণ বাড়াতে পারবে। ঐ মুসল্লিদের সবাইকে মুনাফিক বলছি, কারণ ঢিল একজন বা গুটিকয়েক ব্যক্তি ছুড়লেও ঘটনাটি সম্পর্কে তাদের সবাই অবগত আছে। এমনকি মসজিদের ইমামকেও বলেছি ঘটনাটি সম্পর্কে, তাতে কিছুদিনের জন্য ক্ষান্ত দিলেও ইদানিং আবার অত্যাচার শুরু হয়েছে এবং দিনদিন তার পরিমাণ বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতি না থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাতাম। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক, তাই নতুন করে অভিযোগের বাক্সে আরেকটি উপাদান যোগ করতে চাচ্ছি না।

ঐ মুনাফিক শালায় নিজে এই সেলফি না তুললে তুলছে ক্যাডায়?

আসল কাহিনী কী?

আসল কাহিনী হলো, এসব মুনাফিকদের ‘লেজ’ যেহেতু কাটা, তাই তারা চাচ্ছে যাতে আমার লেজও কাটা যায়। তারা সামাজিক দূরত্ব না মেনে মসজিদে নামাজ পড়ে, তাই তারা চায় – আমিও যাতে সেটা করে তাদের মতো করোনার ঝুঁকিতে পড়ি।

তাছাড়া আমি বলতে গেলে এ গ্রামের সবচেয়ে সচ্ছল ও ঝামেলামুক্ত (নির্ঝঞ্জাট) ব্যক্তি, তাই বাকিরা ঈর্ষাণ্বিত। তারা চায়, আমিও যাতে তাদের মতো ‘ফকিন্নী’র জীবনযাপন করি। তারা চায়, যাতে তাদেরকে দেদারসে টাকা ধার দেই (যেটা তারা আর ফেরত দিবে না), তাদেরকে কিছুদিন পরপরই দাওয়াত করে খাওয়াই। আমিও যদি তাদের মতো কামলাগিরি করতাম, তাহলে তারা খুব শান্তি পেত।