জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা ইসলামের শত্রু

গতকাল হামাস ইসরাইলের দিকে ডিভাইসযুক্ত গ্যাসবেলুন পাঠিয়েছে এবং সেখানে কয়েকটি স্থানে অগ্নিবিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলাফলে ইসরাইল নতুন করে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু করেছে। তার মানে হলো, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলো। এর আগেও রোজার মাসে ঈদের প্রাক্কালে এই দুই গোষ্ঠীর মাঝে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার মূলে ছিল হামাস। কারণ, আল আকসা মসজিদে ইসরাইলি পুলিশ ও মুসল্লিদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় রকেট হামলা চালানো উচিত হয় নি হামাসের। তাদের বোঝা উচিত যে, তাদের ছোড়া বেশিরভাগ রকেটই ইসরাইলের রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশী মুসলমানদেরকেও একই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ইসলাম মহান, তবে জঙ্গীবাদ মানে ‘জিহাদ’ নয়। নিরপরাধ বিদেশী নাগরিক হত্যা করা মানেই ‘জিহাদ’ নয়। গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গী হামলায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় নি, বরং তা নোংরা হয়েছে, দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, দাড়িটুপিওয়ালাদের প্রতি অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে। এভাবে সমগ্র দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে বিপদে ফেলে দিয়েছে গুটিকয়েক জঙ্গী। তাই জঙ্গীবাদের কথা যারা বলে, তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে। জিহাদ মানে হলো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করা। এজন্য কেবল আপনার সৎ সাহস দরকার, কোনো অস্ত্র বা বোমার দরকার নেই। হয় হামাসকে তাদের আক্রমণাত্মক তথা জঙ্গী মনোভাব বাদ দিতে হবে নতুবা ফিলিস্তিনবাসীকে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বা ফিলিস্তিনীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত তথা প্রতিষ্ঠা করার জন্য হামাস সম্ভবত ‘আবশ্যকীয়’ কোনো উপাদান নয়, বরং ফিলিস্তিনীদের বর্তমানে দরকার সঠিক মনোভাবসম্পন্ন নেতৃত্ব।

বিএনপি-জামাতের দালাল এই ইলিয়াস চুয়াডাঙ্গা জেলা ও খুলনা বিভাগের কলঙ্ক

শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, খুলনা বিভাগের লোকজন বোধ হয় দুধে ধোয়া তুলসীপাতা, তাদের মাঝে দু-একটা কলঙ্ক রয়েছে মাত্র। আসলে ব্যাপারটা তা নয়, অন্য যেকোনো বিভাগের মতো খুলনা বিভাগেও ভুরি ভুরি পাপী রয়েছে। কেবল খুলনা বিভাগের ‘তেনারা’ অভিনয়টা একটু ভালো পারেন, এই আর কি!

খুলনা বিভাগের এই অসাধু লোকজনের মধ্যে একজন হলো ইটিভি’র প্রাক্তন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা, বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটে থাকে, সেখানে ট্যাক্সিক্যাব চালায় (বা চালাতো)। তবে ইদানিং সে বিএনপি ও জামাতের হয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজের জন্য নিশ্চয়ই সে বিরাট পেমেন্ট পাচ্ছে, সেটা দিয়েই তার চলে যাওয়ার কথা। গাড়ি চালানোর দরকার দেখি না।

সে সবসময় ইসলামের পক্ষে কথা বলে, এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি হলো, সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল বিএনপি ও জামাতপন্থীদের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজে সে ব্যবহার করছে তার ‘ফিফটিন মিনিটস’ নামক ইউটিউব চ্যানেল।

তারপরও তাকে নিয়ে লিখতাম না হয়তো। কিন্তু সম্প্রতি সে তার একটি ভিডিওতে আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীদেরকে পঁচিয়েছে। ‘সমকামিতা’ প্রশ্নবিদ্ধ টার্ম হলেও এটা যদি কেউ সাপোর্ট করে, তবে সে কীভাবে অস্পৃশ্য বা অচ্ছুত হয়ে গেল বা অপরাধ করে ফেললো, সেটা বুঝতে পারলাম না। সমকামিতা যদি কিছু লোকের জন্য অপরিহার্য প্র্যাকটিস হয়, তাহলে সেটার অনুমোদন দিতে সমস্যা কী? সমকামিতা কি বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশে অনুমোদিত নয়?

আমি অবশ্য সমকামিতাকে সরাসরি সাপোর্ট করি না, এ বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড। তবে আমি লিভ টুগেদারকে সাপোর্ট করি। আমি মনে করি, দেশে বিয়ের বিকল্প হিসেবে লিভ টুগেদার কালচার চালু করতে হবে। তাতে ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মেয়েরা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার গোছাবে ও স্বাবলম্বী হবে।

যাই হোক, আয়মান ও তার সহযোগীদেরকে যেভাবে পঁচানোর চেষ্টা করেছে ইলিয়াস, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে ইসলামের পক্ষে কাজ করছে, দ্যাটস ফাইন। বাট সে জঙ্গীবাদের পক্ষেও কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেখানে তার একটি দুই তলা বাড়ি রয়েছে, সেখানকার নিচতলায় নাকি সে একটা কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করেছে এবং সেটার খরচ সে-ই চালায়, এমনটাই স্বীকার করেছে সে নিজের একটি ভিডিওতে।

আয়মান সাদিক এবং রবি টেন মিনিট স্কুলের বিরুদ্ধে ইলিয়াস কীভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি নিম্নে দেওয়া হলোঃ

ইলিয়াস যে এখন পুতঃপবিত্র সাজার চেষ্টা করছে, সেটা দেখে ভুলে গেলে চলবে না যে, সে কীভাবে বা কোন কারণে একুশে টিভি থেকে বহিষ্কার হয়েছিল। সে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় বসবাসকারী একজন বরিশাইল্লা বহুগামী টাইপের মহিলার পিছে লেগেছিল। ঐ মহিলার স্বামী বিদেশে থাকতো এবং মহিলা কীভাবে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া করে বেড়াতো, সেটা ইলিয়াস একুশে টিভির ক্রাইম রিপোর্টের একটা পর্বে ফুটিয়ে তুলেছিল। যেসব মহিলার স্বামী প্রবাসী, তাদের অনেকে এসব করে বেড়ায়, সেটা নতুন কিছু নয় – এটা নিয়ে রিপোর্ট না বানিয়ে ইলিয়াসের উচিত ছিল অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট বানানো, যেমনঃ ভেজাল, চোরাকারবারী, মজুতদারী বা সরকারের বিরুদ্ধে (যদি সে সময় সেটা করার সাহস তার থাকতো !)।

সে যে বাড়াবাড়িটা করেছে, সেটা হলো – এক পুরুষের সাথে ঐ বরিশাইল্লা মহিলার চুমাচুমি ও ডলাডলির দৃশ্য সে নেগেটিভ ফর্মেটে একুশে টিভির পর্দায় হাজির করেছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মহিলা তার নামে এবং একুশে টিভির তৎকালীন পরিচালক আব্দুস সালামের নামে পর্নোগ্রাফি ধারায় মামলা করে। এতে ইলিয়াস চাকুরি হারায় এবং সালামসহ সে জেলে যায়। এ ঘটনায় সালাম একুশে টিভির কর্তৃত্ব হারায়। পরে আওয়ামী সরকার যখন ইলিয়াসকে বিএনপি ও জামাতের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

যাই হোক, ইলিয়াস, তুমি যদি আয়মান সাদিকের বিরুদ্ধে না লাগতে, তাহলে তোমার বিরুদ্ধেও আমি লিখতাম না। তোমাকে আমি ‘কুমিল্লা হেটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান হিসেবে আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি না। ‘কুমিল্লা হেটার’দের বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত হয়েছে।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

তবে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও আরো এক কারণে আমি আয়মানকে সমর্থন করছি, সেটা হলো – আমি ‘লিভ টুগেদার’ কালচার এর সমর্থক, যেমনটা আমি আগে জানিয়েছি। হ্যাঁ, আমি একজন নাস্তিক এবং ধর্মবিরোধী। আমি মনে করি, ধর্ম হলো ডিজিজ বা ভাইরাস এবং এক প্রকার ব্রেইন ওয়াশ। দেশবাসীকে এই ভাইরাস ও ব্রেইন ওয়াশের কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে, তাদেরকে উন্নত জীবন প্রদান করতে হবে। মানুষ কেন ধর্মের প্রতি আসক্ত হয় বা ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, সেটা নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই একটি আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি।

ইলিয়াস, তোমার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত আরেক ‘কুমিল্লা হেটার’ কর্তৃক আমি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলাম, কেবল জন্মসূত্রে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়ার কারণে। সেটা হলো ২০১১ সালে যখন আমি জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরি করতাম, তখনকার কথা। লোকটার নাম রফিকুল ইসলাম জীবন, বয়স বর্তমানে প্রায় ৪১/৪২। তার কারণে বুয়েট থেকে আগত কেউই জুপিটারে টিকতে পারতো না। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস হলো, রফিকও সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি। ‘বাসেত’ নামক এক কৌশলী বুয়েটিয়ান কর্তৃক সে বিতাড়িত হয়েছিল।

কসাইখানার কর্মীরা বেশি মাত্রায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হচ্ছেন

ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কারখানা এবং কসাইখানার কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই ধরণের প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে।

সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের শিকার কোনো ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা নিশ্বাসের মাধ্যমে বের হওয়া ড্রপলেট থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে থাকে।

সংক্রমণের শিকার ব্যক্তির কাছাকাছি আসা ছাড়াও জীবাণুযুক্ত কোনো জায়গা স্পর্শ করার মাধ্যমেও ভাইরাস সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকিউলার অঙ্কোলজির অধ্যাপক লরেন্স ইয়াং বলেন, “ফ্যাক্টরিগুলোতে, বিশেষ করে যেসব জায়গা ঠান্ডা এবং স্যাঁতস্যাঁতে, দীর্ঘসময় করোনাভাইরাস টিকে থাকা এবং ছড়ানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ থাকে।”

“অন্য জায়গার চেয়ে সেসব জায়গায় জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট ছড়ানো এবং টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।”

এছাড়া এই ধরণের কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উচ্চ মাত্রায় শব্দ করে বলে মানুষজন অপেক্ষাকৃত উচ্চস্বরে কথা বলে এবং ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে বলছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

অবশেষে খুলে যাচ্ছে পবিত্র হেরেম শরীফসহ মক্কার সকল মসজিদ

পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদুল হেরেমসহ ১ হাজার ৫৬০টি মসজিদ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। দীর্ঘ তিন মাস পর রোববার (২১ জুন) ফজর থেকে মুসল্লিদের জন্যে মসজিদের দরজা খুলে যাবে। দেশটির গণমাধ্যম সৌদি গেজেট জানায়, এরইমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এসব মসজিদ জীবাণুমুক্তকরণসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। মসজিদ থেকে কার্পেটগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। মসজিদে অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশুদের আপাতত আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের নিজস্ব জায়নামাজ নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। নামাজের প্রতি কাতারের মাঝে এবং প্রত্যেক মুসল্লির মাঝখানে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এ বিষয়ে মক্কার আজিজায় অঞ্চলের কেন্দ্রীয় পরিচালক ইব্রাহিম মেইল্লি বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং মুসল্লিদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা বিধানে মসজিদগুলোতে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করা হবে। করোনাভাইরাসজনিত কারণে ১৭ মার্চ থেকে এসব মসজিদে জামাত ও জুমা বন্ধ রয়েছে। গত ৩১ মে মসজিদে নববীসহ দেশের অন্য মসজিদগুলো খুলে দেয়া হলেও বন্ধ ছিল মক্কা অঞ্চলের এসব মসজিদ।

সূত্রঃ somoynews.tv

মানুষই ভুল করে, কিন্তু এক মা ও তার নবজাতকের জীবন নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই

সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া শামীমা বেগম বাংলাদেশেরও নাগরিক—এমন যুক্তিতে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন। তাঁর বাংলাদেশে ফেরার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না।

বাংলাদেশের এই বক্তব্য শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সমালোচনা চলছে। শামীমা ও তাঁর নবজাতক শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া।

শামিমা এবং তার নবজাতক শিশু

এ বছর ১৯ ফেব্রুয়ারী তারিখে যুক্তরাজ্যের ইংরেজি দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, শামীমাকে ভুলভাবে বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করায় বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গণমাধ্যমের খবর থেকে শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশ জানতে পারে বলে তিনি জানান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন। তিনি জন্মগতভাবে যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি কখনো বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করেননি। ফলে, বাংলাদেশে তাঁকে ফিরতে দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠতে পারে না।

পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির ছাত্রী শামীমা বেগম ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আরও দুই বান্ধবীসহ সিরিয়ায় পাড়ি দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর। সেখানে আইএসে যোগ দিয়ে তিনি ডেনমার্কের বংশোদ্ভূত এক ধর্মান্তরিত ‘জিহাদি’কে বিয়ে করেন। দীর্ঘ চার বছর পর ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আল-হওর শরণার্থী শিবিরে শামীমার দেখা পান এক ব্রিটিশ সাংবাদিক। সাক্ষাৎকারে শামীমা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার আকুতি জানান। বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী শামীমা ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তাঁর আরও দুই সন্তান ছিল। তারা অপুষ্টি ও অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে জানান শামীমা। নবজাতককে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার আকুতি জানান।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিভাগ (হোম অফিস) ১৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে শামীমার মায়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শামীমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়ে থাকলে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি যেন তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

১৯ ফেব্রুয়ারী আইটিভির এক সাংবাদিক নাগরিকত্ব বাতিলের ওই চিঠির একটি অনুলিপি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত শামীমার হাতে দিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। শামীমা বলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি কিছুটা হতবাক। তিনি ও তাঁর সন্তানের প্রতি এটা অন্যায় বলে মন্তব্য করেন শামীমা। তাঁর স্বামী ডেনমার্কের নাগরিক। সেই সূত্রে তিনি ডেনমার্কের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

পরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেন, তাঁর কেবল যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আছে। সেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি। এখন তাঁর আর কিছুই থাকল না। শামীমা বলেন, তিনি বাংলাদেশে কখনো যাননি। তাঁর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেই।

নাগরিকত্ব বাতিলের চিঠিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শামীমার মা বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বাংলাদেশের আইনানুযায়ী শামীমাও বাংলাদেশের নাগরিক অথবা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শামীমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৮ ফেব্রুয়ারী সংসদে জানান, প্রায় ৯০০ ব্রিটিশ নাগরিক সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয়। এদের অন্তত ২০ শতাংশ সেখানে নিহত হয়েছে। ৪০ শতাংশ যুক্তরাজ্যে ফেরত এসেছে। আইএসে যোগ দেওয়া প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।

শামীমার নাম উল্লেখ না করেই সাজিদ জাভিদ বলেন, মায়ের নাগরিকত্ব বাতিল হলেও সন্তানের ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে না।

শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের বৈধতা ও তাঁর যুক্তরাজ্যে ফেরার অধিকার নিয়ে দেশটিতে এক অভিনব আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী নাগরিকত্ব বাতিল করে কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রহীন করা যায় না।

যুক্তরাজ্যে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং সিরিয়ায় জঙ্গিবাদে জড়ানো কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কেন গ্রহণ করবে, সে প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই শামীমাকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে চালিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও হচ্ছে আলোচনা। যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে শামীমাকে বিচারের মুখোমুখি করানোটাই যৌক্তিক বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

মাস্ক পরার ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনসম্মুখে অবশ্যই সবার মাস্ক পরা উচিত। এর আগে সুস্থ মানুষের মাস্ক না পরলেও চলবে বলে জানালেও মাস্ক না পরে বাইরে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, নতুন তথ্যে দেখা গেছে, ফেস মাস্ক ‘সম্ভাব্য সংক্রামক ড্রপলেটের’ জন্য বাঁধা হিসেবে কাজ করতে পারে। যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না, যেমন গণপরিবহন, বিপণিবিতান ও শরণার্থী শিবিরের মতো স্থানে। তাই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বদলেছে তারা।

ডব্লিউএইচও বলছে, জনসম্মুখে অবশ্যই কাপড়ের মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার না ঘটে। বিশেষ করে যাদের বয়স ষাটের বেশি কিংবা যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তাদের সুরক্ষার জন্য মেডিকেল গ্রেড মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

এর আগে জাতিসংঘের এই অঙ্গ সংস্থাটি বলেছিল, তাদের হাতে এমন কোনো তথ্য নেই যাতে করে কোনো সুস্থ ব্যক্তির মাস্ক পরার প্রয়োজন আছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন নির্দেশনা থাকলেও অনেক দেশে জনসম্মুখে মাস্ক পরার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছে। এছাড়া অনেক দেশে তা বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও এর করোনাবিষয়ক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, ‘আমরা সরকারগুলোকে এখন সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরার বিষয়ে উৎসাহী করার পরামর্শ দিচ্ছি। সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ হলো ফেব্রিক মাস্ক বা কাপড়ের মাস্ক অর্থাৎ একটি নন-মেডিকেল মাস্ক পরতে হবে।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪, ০৬ জুন

নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির প্রহরায় ভেনিজুয়েলায় তেল পাঠাচ্ছে ইরান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনিজুয়েলায় হাজার হাজার টন গ্যাসোলিন রফতানি করছে ইরান। নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল রফতানির পুরো কার্যক্রমকে সুরক্ষা দিচ্ছে দেশটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় অন্তত পাঁচটি ট্যাংকারে করে ইরানি তেল নেয়া হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এসব ট‍্যাংকার ভেনিজুয়েলায় পৌঁছাবে।



অনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানি জাহাজকে বাধা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস ডেট্রয়েট, ইউএসএস ল্যাসেন, ইউএসএস প্রিবেল এবং ইউএসএস ফারাগাট নামের যুদ্ধজাহাজ ক্যারিবীয় উপসাগরে মোতায়েন করে রেখেছে।

এছাড়া বোয়িং পি-এইট পজিডন আকাশে বিমান টহল দিচ্ছে।

ইরান এবং ভেনিজুয়েলা দুই দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার অবৈধভাবে একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের ভেনেজুয়েলায় তেল রফতানির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা উল্লেখ না করলেও তিনি জানান, বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে উত্থাপন করা হবে।

এদিকে ভেনিজুয়েলায় পাঠানো তেলবাহী ট্যাংকার আটকালে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

শনিবার দেশটির রাজকীয় বিপ্লবী বাহিনী আইআরজিসির তরফে এ হুশিয়ারি দেয়া হয়।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ১৮ মে

ছবিঃ আল জাজিরা

যে কারনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য হচ্ছেন স্কুল শিক্ষিকা, মহিলা পুলিশও (ভেনিজুয়েলায়)

দেশে থাকতে তারা ছিলেন স্কুল শিক্ষক, পুলিশের কর্মকর্তা কিংবা পত্রিকার হকার। কিন্তু জীবন বাঁচানোর তাগিদে কর্ম ও অর্থের সন্ধানে তারা নিজ দেশে ছেড়ে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছেন।

অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত ভেনিজুয়েলার নারীরা কলম্বিয়ার বিভিন্ন বারে পতিতাবৃত্তিতে নাম লিখিয়েছেন। দেশে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করতে যা পাচ্ছেন তাই করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তিন সন্তানের মা প্যাট্রিসিয়ার (৩০) অভিজ্ঞতাটা একটু তিক্ত। কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলের কালামারে একটি পতিতাপল্লীতে কাজ করছেন তিনি। সেখানে অনেক সময় নেশাগ্রস্ত খদ্দেরের হাতে মারপিট, ধর্ষণ ও শারীরিক নিপীড়নের শিকার হতে হয় তাকে।

তিনি বলেন, ‘পল্লীতে অনেক খদ্দের আছে, যারা আপনাকে একেবারে খারাপ দৃষ্টিতে দেখবে; যা ভয়ঙ্কর। প্রত্যেকদিন আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, আজকের খদ্দের যেন ভালো হয়।’

ইতিহাস এবং ভূগোলের শিক্ষক অ্যালেজরিয়া। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভেনিজুয়েলায় তিনি মাসে আয় করতেন ৩ লাখ ১২ হাজার বলিভার; যা এক ডলারেরও কম। তার এই বেতনে এক প্যাকেট পাস্তাও কেনা যায় না। চার সন্তানের মা ২৬ বছর বয়সী এই নারী বার্তাসংস্থা এএফপিকে এসব কথা বলেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলম্বিয়ায় ঢুকে পড়েন। প্রথম তিন মাস তিনি দেশটির একটি হোটেলে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি কোনো বেতন পেতেন না। সামান্য কিছু টিপস পেতেন তিনি।

অ্যালেজরিয়া বলেন, দেশে আমার পরিবারের কাছে এই টিপসের অর্থ পাঠাতাম। তার সন্তান-সহ পরিবারে রয়েছে ছয় সদস্য। কিন্তু এই চাকরিটা হারানোর পর অ্যালেজরিয়া কালামারে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। কলম্বিয়ার এই অঞ্চলে দশকের পর দশক ধরে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। মাদক চোরাচালানের অন্যতম একটি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত কালামারে দেশটির সাবেক গেরিলাগোষ্ঠী ফার্কের ঘাঁটিও রয়েছে।

অন্য আরো নয়জন নারীর সঙ্গে অ্যালেজরিয়া ৩ হাজার মানুষের শহর কালামারের একটি বারে প্রত্যেক রাতে দেহ ব্যবসা করছেন। প্রত্যেক খদ্দেরের কাছ থেকে পান ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার পেসো (১১ থেকে ১৬ ডলার)। কিন্তু তার এই আয়ের সাত হাজার পেসো দিতে হয় বারের ম্যানেজারকে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে কোনো রাতে অ্যালেজরিয়ার আয় হয় ৩০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত।

নেপথ্যে সঙ্কট
এএফপির সঙ্গে আলাপের সময় গলা ধরে আসছে জলির। তিনিও অ্যালেজরিয়ার মতো নিজ দেশ ছেড়ে কলম্বিয়ায় পৌঁছে দেহ ব্যবসা করে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা কখনোই দেহ ব্যবসা করতে চাই না। আমরা এই কাজ করছি সঙ্কটের কারণে।

৩৫ বছর বয়সী এই নারী দেশে থাকতে পত্রি’কারের হকার ছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে দেশটিতে কোনো পত্রিকাই বের হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে এই পেশা ছেড়ে কলম্বিয়ায় আসেন তিনি। মন্দার চার বছর ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কয়েক বছর পর ভেনিজুয়েলায় এখনো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে থাকা দেশটির মানুষ খাদ্য সংস্থান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য বলছে, চলতি বছরে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী বছর এই মুদ্রাস্ফীতির হার এক কোটি শতাংশে পৌঁছাতে বলে মুদ্রা তহবিলের পূ’র্বাভাসে বলা হয়েছে।

জলি তার মা ও তিন সন্তানকে দেশে রেখে এসেছেন। দেশে থাকতে একটি চাকরির জন্য এক শহর থেকে অন্য শহর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু হ’তা’শ হয়ে পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলম্বিয়ায় ঢুকে পড়েন তিনি। কলম্বিয়ায় যখন আসেন তখন পরনের কাপড় ছাড়া তার সঙ্গে কিছুই ছিল না।

জাতিসংঘ বলছে, ভেনিজুয়েলায় অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

খোলা নেই কোনো পথ

জলির গল্পটা আরো বেদনাদায়ক। এর আগে স্বা’মী তাকে তালাক দিয়েছেন। মূত্রাশয়ের সমস্যায় মারা গেছেন তার স্বামী। স্বামী ছেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের লালন-পালন করছেন তিনি। জলি বলেন, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন তার স্বামী। ওই সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ওধুষ পাননি তিনি।

জলি বলেন, আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। দেশে ক্লিনারের কাজ জোগার করতেও সক্ষম হননি তিনি। শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ায় যেতে বাধ্য হন; সেখানে পৌঁছে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের জুনে কালামারে তার সঙ্গে এই পেশায় নাম লিখিয়েছেন জলির ভাইয়ের ১৯ বছর বয়সী মেয়ে মিলাগরো।

এই কিশোরী বলেন, প্রথমে আমি ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হন। কারণ দেশে তার মা অসুস্থ। মায়ে’র চিকিৎসার পাশাপাশি ছোট ভাই ও দুই বছর বয়সী সন্তানের ভরণ-পোষণ চালাতে হয় তাকে। পরে তার মা মারা যান।

অ্যালেজরিয়ার স্বপ্ন তিনি কলম্বিয়ায় স্কুল শিক্ষি’কা হিসেবে আবারো কাজ শুরু করবেন। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না জড়ালেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

দুই দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ নিউজিল্যান্ড। এর উত্তরের দ্বীপে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী শহর ওয়েলিংটন আর দক্ষিণের দ্বীপের সবচেয়ে বড় শহর ক্রাইস্টচার্চ। এবার ১৫ মার্চ সেই ক্রাইস্টচার্চ উঠে আসে বিশ্বজুড়ে শিরোনামে- ‘মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা’।




শহরের মধ্যে দুটো মসজিদে জুমার নামাজের সময় এক সন্ত্রাসী হামলা চালায়। মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর নাম ‘ব্রেন্টন ট্যারান্ট’। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে প্রায়ই পাশের নিউজিল্যান্ডে আসে। খ্রিষ্টান এবং হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট বা সাদা চামড়ার লোকদের কথিত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী।

ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে ওই বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ঝরে গেছে ৫০ প্রাণ। নিহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশিও রয়েছেন। তবে বর্বরোচিত হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হামলার এ দিনটিকে ‘দেশের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলির মধ্যে’ একটি বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তিনিও এটাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

এ হামলার ঘটনার পর বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেয়া- সবখানেই তিনি নিজে যাচ্ছেন।

যেখানেই যাচ্ছেন, যার সঙ্গেই কথা বলছেন, সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে। শোক প্রকাশে তিনি পরেছেন কালো পোশাক। শুধু তা-ই নয়, মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়নাও জড়িয়েছেন তিনি।

আরদার্নের আচরণ আর চেহারার অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছে, শোক শুধু তার বক্তব্যে নেই, ভয়াবহ এ হামলার শোক তার মনেও আঘাত হেনেছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এমনই কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।

তরুণীকে বিয়ে করলেই আড়াই কোটি টাকা দেয়ার ঘোষণা বাবার!

নিজের মেয়েকে একটা ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দিতে চান বাবা। তাই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তার ২৬ বছর বয়সী মেয়ে যে ছেলেকেই বিয়ে করবে, তাকে তিনি ৩ লাখ মার্কিন ডলার দিবেন। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এই মেয়ের কোনো সমস্যা আছে কিনা কে জানে!

৫৮ বছর বয়সী এই মিলিয়নারের নাম আরনন রদথং। থাইল্যান্ডের নাগরিক রদথং তার মেয়েকে বিবাহ করতে রাজী হওয়া ছেলেকে ১০ লাখ থাই বাথ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় আড়াই কোটি টাকা। তো কেমন যোগ্যতা চাই এই মেয়েকে বিয়ে করার জন্য? কি যোগ্যতার কথাই বা বলছেন মেয়ের বাবা আরনন রদথং? চিন্তার কোনো কারণ নেই! রদথং বিশেষ তেমন কোনো যোগ্যতার কথা বলেননি।




তিনি বলেছেন, যে ছেলে তার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবে, তাকে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে এবং তার মেয়েকে সুখে রাখতে হবে।

৫৮ বছর বয়সী আরনন রদথং মূল্যবান দুরিয়ান ফলের একটি ফার্মের মালিক। দক্ষিণাঞ্চলীয় থাইল্যান্ডের চুমফন প্রদেশে তার এই ফলের বাগানটি অবস্থিত।

তার ২৬ বছর বয়সী মেয়ের নাম কার্নসিতা। মেয়ে কার্নসিতা ব্যবসা সামলাতে বাবাকে সাহায্য করেন। কিন্তু তিনি এখন তার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার জন্য মেয়ের ভবিষ্যৎ জামাইকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রথদং তার মেয়ের ভবিষ্যত জামাইকে সুবিশাল দুরিয়ান ফলের বাগানের মালিকানাও লিখে দিবেন। তার ফলের বাগানটি থাইল্যান্ডের ওই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং এর বাজার মূল্য কয়েক মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড।

অবশ্য থাইল্যান্ডের বেশ কিছু এলাকার ঐতিহ্যই এমন যে, বিয়ের সময় বরপক্ষ কনেপক্ষকে সাধ্যমত যৌতুক দিয়ে থাকে। রদথং বলেন, তিনি এই প্রথা ভাঙতে ইচ্ছুক।

তিনি বলেন,‘আমি চাই কেউ কঠোর পরিশ্রম করে আমার ব্যবসার হাল ধরুক এবং এটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাক। যে ছেলে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চাইবে, আমি মনে করি না তাকে স্নাতক ডিগ্রী বা মাস্টার ডিগ্রী সম্পন্ন ব্যক্তি হতে হবে।’

তিনি আরো বলেন,‘আমি একটা পরিশ্রমী ছেলে চাই। আমি কেবল কঠোর পরিশ্রমী একটা ছেলেকেই পেতে চাই। এটাই সব, আর কিছু না।’

ছেলে সন্তানসহ রদথংয়ের আরো কয়েকজন সন্তান আছে। কিন্তু তিনি বলেছেন, তার সকল সম্পদ কেবল কার্নসিতার ভবিষ্যত স্বামীকেই দিবেন।

রদথং আরো বলেন,‘যতো শিগগির আমি আমার মেয়ের জামাই পাবো। ততো তাড়াতাড়িই তার হাতে আমার সকল সম্পদ তুলে দিতে চাই।’

এতক্ষণ তো মেয়ের বাবার কথা শুনলেন। কিন্তু মেয়ে কেমন, সেটা তো বিয়ের আগে নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন। বিয়ের পাত্রী কার্নসিতা ইংরেজি ও চীনা ভাষায় অনর্গল কখা বলতে পারেন। তিনি একজন কুমারী এবং তার কখনোই বয়ফ্রেন্ড বা প্রেমিক ছিল না। তিনি এখনও সিঙ্গেল বলে নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

এতো গেল তার কথা; কিন্তু স্বামী হিসেবে কেমন মানুষকে পেতে চান তিনি? কার্নসিতা বলছেন,‘বাবা আমার ভবিষ্যত স্বামী খোঁজার ব্যাপারে প্রকাশ্যে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানতাম না। আমার বন্ধুদের নিকট থেকে এ ব্যাপারে আমি জানতে পারি।

বাবার এই ঘোষণা আমাকে বিস্মিত করেছে। এটা সত্য যে, আমি এখনো সিঙ্গেল। যদি কাউকে বিয়ে করতেই হয়, তবে আমি এম ছেলেকেই বিয়ে করতে চাইবো- যে হবে খুবই পরিশ্রমী, একজন ভালো মানুষ এবং সর্বোপরি সে নিজের পরিবারকে ভালোবাসবে।’