যেসব মেয়ে ও মহিলারা বেশি ভাব মারে তারা আসলে যে ধরনের ফ্যামিলির লোক

আমার বউয়ের এক চাচাতো বোনের নাম হাবিবা, সে ফেসবুকে আমার ফ্রেণ্ড। সে কিছুদিন আগে এমন একটা পোস্ট দেয়, যেখানে সে মাত্রাতিরিক্ত ভাব নেয়। পোস্টটা এক্সাক্টলি কী ছিল সেটা মনে নেই এখন, সেটা অনেকটা এই টাইপেরঃ ‘যারা বিস্কুট চায়ে ভিজিয়ে খায়, তারা আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকার দরকার নেই।’ এই আধুনিক যুগে বিস্কুট চায়ে ভিজিয়ে খায়, এরকম লোক এমনিতেই অনেক কম। আর গুটিকয়েকজন থাকলেও তাদেরকে এভাবে লজ্জা দেয়া উচিত নয়। এটা অতিরিক্ত ভাব হয়ে গেছে। বিশেষ করে যার পিতা কিনা একজন খুনী, তার এরকম ভাব নেয়া উচিত হয় নি। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, আমার সেই চাচাশ্বশুর একজন খুনী, আমার বউয়ের বড় বোনকে শৈশবে হত্যা করেছেন আমার এই চাচাশ্বশুর, যার নাম আব্দুল হাকিম।




অবশ্য আমার সেই শ্যালিকা হাবিবা তার পিতার খুনের বিষয়টি জানে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই আমি। তবে বিভিন্ন কানকথায় তার শেষপর্যন্ত সেটা শোনার কথা। যেমনঃ বাংলাদেশে কোনো শিশুকে যদি কোনো পরিবারে পালক আনা হয়, তবে শিশুটি বড় হওয়ার অনেক আগেই তাকে কানকথার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয় যে, সে তার পিতামাতার আসল সন্তান নয়, তাকে পালক আনা হয়েছে। তাই এধরনের পালক টাইপের শিশুরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যাবনরমাল টাইপের হয়, কারণ তাদের মাথায় সবসময়ই কাজ করে যে, সে তার সত্যিকার পিতামাতার কাছে বড় হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই তারা জানতে পারে যে, তাদের সত্যিকার পিতামাতা মারা গেছেন, বা জেলে আছেন (যেমনঃ তার মাকে হত্যা করে পিতা জেলে আছেন), বা অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন।

সে কারণে আমার অ্যাস্টিমেট মোতাবেক, হাবিবা অলরেডি জানে যে, তার পিতা তার এক চাচাতো বোনকে খুন করেছিলেন। তাই তার ভাব একটু কম নেয়া উচিত। আব্দুল হাকিম যখন আমার শ্বশুরের বড় সন্তানকে হত্যা করেন, তখন তিনি আমার শ্বশুরের খেয়ে-পড়েই পড়াশুনা করছিলেন। হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল অনেকটা এই রকমঃ আমার শ্বশুর যাতে তার সন্তানদের মায়ায় পড়ে আলাদা হয়ে না যান এবং তাঁর মা ও ভাইবোনদের ভরণ-পোষণ অব্যাহত রাখেন। হত্যা করার পদ্ধতি হলোঃ সেই বাচ্চাটি যখন ছয় মাস বয়স, তখন তার মুখে বোম্বাই মরিচ গুঁজে দেয়া। এরপর থেকে বাচ্চাটি ক্রমাগত ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হতে থাকে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সে অসুখ আর ভালো হয় নি।

আমার এই চাচাশ্বশুর জীবনে অনেক টাকাকড়ি কামিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর পুরো জীবনটা দুর্নীতিময়। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা পড়ছিলেন, তবে সেটা শেষ করতে পারেন নি। এরপর একটা প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে টাকার বিনিময়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর সার্টিফিকেট তোলেন। অর্থাৎ তিনি বর্তমানে নিজেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন, আদতে তাঁর ডিপ্লোমা’র সার্টিফিকেটই নেই। তবে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি নিজেকে বেশ করিৎকর্মা প্রমাণ করেছেন, প্রায়ই মেকানিক্যাল ও টেকনিক্যাল কাজের বড় বড় কন্ট্রাক্টরি পান তিনি। অর্থাৎ তিনিও আমার শ্বশুর বা তাঁর বড় ভাইয়ের মতো একজন কন্ট্রাক্টর।

হাকিম সাহেব আজীবন প্লেবয় ছিলেন, একই সাথে একাধিক প্রেম করতেন। অনেক সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ের জীবন নষ্ট করেছেন তিনি, আর তাই হয়তো একটা ফকিন্নি ফ্যামিলির তারছেঁড়া অসুন্দরী মেয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর কপালে জুটলো বউ হিসেবে। হাকিম এতোটাই চরিত্রহীন ছিলেন যে, তাঁর যখন তিনটি সন্তান এবং বড় মেয়েটিকে বিয়ে পর্যন্ত দিয়েছেন, তখনও তিনি নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষে মুন্সিগঞ্জ থেকে এক মেয়ে হাকিমের পরিবারকে ফোন করে, ‘আপনার স্বামীকে সামলিয়ে রাখবেন, এখানে আবার আসলে কিন্তু বিয়ে পরিয়ে দেয়া হবে।’ এই ঘটনার পর দাঁড়ি রেখে দিয়ে ভদ্রস্থ হয়েছেন হাকিম সাহেব। অবশ্য এখন আর ভদ্রস্থ না হয়ে কী করবেন?! চুল-দাঁড়ি সব তাঁর পাঁকা।

এছাড়া হাবিবার বড় বোন হাসিও ছিল বিশাল একটা ছিনাল, কোনো ছেলে তাকে ফুল দিলে সে মানা করতো না। তার কারণে তার পিতাকে বেশ কয়েকবার বাড়িঘর বিক্রি করে অন্যত্র যেতে হয়েছে। ‘হাসি’ নামক এই মেয়েটি আমার বউয়ের ফুফাতো ভাই অর্থাৎ তার নিজেরও ফুফাতো ভাই জাকিরের সাথে প্রেম-প্রেম অভিনয় করে তার হৃদয় ভেঙেছে। জাকির তো বড় মাপের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সে দেশেই মাসে দুই লাখ টাকা বেতন পায়। ‘কিন্তু হাসি, তোর স্বামী কী করে রে?! সে তো বিয়ের আগে বলেছিল, সচিবালয়ে চাকুরি করে; অথচ পরে দেখা গেল, সে আসলে ইউনাইটেড হাসপাতালে পিওনের চাকুরি করে। তাহলে বোঝ হাসি, তোর বাপের মতো তুই-ও কী রকম একটা ছ্যাঁকা খাইলি!’

(তবে সম্প্রতি অবশ্য বুঝতে পেরেছি, কী কারণে আপন ফুফাতো ভাই জাকিরের কাছে বিয়ে দেয়া হয় নি হাসিকে। আসলে হাসি একবার কিডন্যাপ হয়েছিল এক পুরুষের দ্বারা অথবা তার সাথে সে স্বেচ্ছায় ভেগে গিয়েছিল। তারপর বেশ কিছুদিন নিখোঁজ ছিল। এসময় হয়তো তাকে বহুবার ধর্ষণ করা হয়েছিল, বহু পুরুষের দ্বারা (কিডন্যাপের ক্ষেত্রে সাধারণত এমনটিই হয়), আর তাতে হয়তো একাধিক মারাত্মক যৌনরোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় সে, যেমনঃ এইচআইভি। এখন, জেনেশুনে তো আপন ফুফাতো ভাইয়ের শরীরে সেই রোগগুলো সে ছড়িয়ে দিতে পারে না, তাই সে জাকিরের কাছে বিয়ে বসে নি।)

এবার আরেক ভাবমারানির কথা বলি। তার নাম নাসরিন, বয়স তার ৩৯, অথচ এমন ভাবসাব করে, যেন এখনো টিনেজার। অনেক চেষ্টাচরিত্র করে সে একটি অবস্থাপন্ন পরিবারে বিয়ে বসেছিল ঠিকই, তবে সেটা অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর। তার স্বামী সাইরাস একটি টেলিকম কোম্পানীতে ভালো চাকুরি করে বটে, তবে সে ছিল আস্ত একটা ডাম্বএস। যে কিনা জাহাঙ্গীরনগরের মতো জায়গায় দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ভূগোলের মতো সাবজেক্টে ভর্তি হয়, সে ডাম্বএস নয়তো কী?! তবে সাইরাসকে দেখলে ভদ্রলোক মনে হয়, সে কীভাবে নাসরিনের মতো মেয়েলোকের পাল্লায় পড়লো, সেটাই ভাবছি। অবশ্য নাসরিনের গতর আছে, উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, স্লিম (নাকি শুটকি!) ফিগার, মোটামুটি ফর্সা বলা যায়। ইউনিভার্সিটির শুরু হতেই এরকম একটি নারী যদি আপনাকে তার দেহ ইউজ করতে দেয়, তাহলে আপনি তার জালে পড়বেন বটে। তবে সাইরাস তার জাত চিনিয়েছিল, ২০০৫/০৬ সালে গ্র্যাজুয়েশন করেও নাসরিনকে বিয়ের জন্য ২০১০ পর্যন্ত ঘুরাতে পারায়। অর্থাৎ সে দ্বিধান্বিত ছিল, নাসরিনের মতো মেয়েকে বিয়ে করবে কিনা। শেষে ‘১০ সালে নাসরিন যখন তার বর্তমান চাকুরিটা পায়, তখন সে সামহাও সাইরাসকে কনভিন্স করে, তাকে বিয়ে করতে।

নাসরিনের ভাষ্যমতে, তাকে নাকি অনেকে ভালোবাসে, তাই আমার ভালোবাসার দরকার নেই তার

তবে সে সময় নাসরিন নিতান্ত ফকিন্নি টাইপের ছিল, সেটা তার বিয়ে ও গায়ে হলুদের ছবি দেখলেই বোঝা যায়। তার পিতা নরসিংদী ঘোড়াশাল সার কারখানা এলাকায় কোনো একটা সরকারী বা বেসরকারী চাকুরি করতো। দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করায় সে সুযোগে নাসরিন নিজেকে নরসিংদীর মেয়ে বলে পরিচয় দিতো। আদতে তার চৌদ্দগুষ্ঠির বাড়ি চাঁদপুরের মতলবের মোহনপুরে। সেখানে সে ‘মিয়া’ ফ্যামিলির মেয়ে, তাই তাকে এখন থেকে ‘নাসরিন মিয়া’ বললেও ভুল হবে না। তার ভাষ্যমতে, একই গ্রামের ‘প্রধান’রা ছিল তার পিতার শত্রু। সে বলেছিল, তার পিতা টেরিটোরিয়াল মাইন্ডেড, এ ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন লোকের কন্যা হওয়ায় সে লজ্জিত। কিন্তু আমি তো নাসরিনকে বেশ কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেছি! আমার প্রশ্ন হচ্ছে নাসরিনের কাছে, ‘নাসরিন, তুই কি কম টেরিটোরিয়াল মানসিকতার?’

‘নাসরিন, তুই এখন হয়তো বলবি, আমি তোর পিছনে লেগে আছি কেন? আসলে এটা পিছে লেগে থাকা না, এটা হলো অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। তোর সাথে আমার অনেক খারাপ অভিজ্ঞতাই রয়েছে। তুই আমাকে ‘দেশি মানুষ’ পরিচয় দিয়ে আমার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিস, আর পরে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিস। চেয়ার রাখা নিয়ে যেদিন তুই আমার সাথে উচ্চবাচ্য করলি, সেদিন তোর বোঝা উচিত ছিল যে, চেয়ারটা ওভাবে হয়তো আমি রাখি নি, অন্য কেউ রেখেছে। তুই ঢালাও আমাকে দোষারোপ করলি কীভাবে? আর তুই কি ‘সেবার রাণী’ নাকি যে, তোর চলার পথে কেউ চেয়ার বা অন্যান্য সামগ্রী উল্টাপাল্টা করে রাখতে পারবে না। কোনোকিছুতে সমস্যা দেখলে তুই সেটা নিজ দায়িত্বে ঠিক করে নিবি। কার সাথে তোর ‘বিশেষ’ কী সম্পর্ক রয়েছে, সেই গরম দেখাবি না।’

‘এছাড়া যেদিন তুই রাজু ও শাহআলমের সামনে আমাকে অপমান করলি, সেদিনের কথাও ভুলি নি। আমি জাস্ট সাঈদ ভাইয়ের সাথে আলাপ করছিলাম; এক পর্যায়ে আমি বললাম যে, এখনকার পুলিশেরা রাস্তায় চাঁদাবাজি করে। তাতে তোর পিত্তি জ্বলে গেল কেন? তোর ঘনিষ্ঠ কোনো আত্মীয়-স্বজন কি পুলিশে আছে। জানি, নেই। থাকলে সেটা আমি জানতে পারতাম। আর দূরসম্পর্কের আত্মীয় পুলিশ-আর্মি-র‍্যাব এরকম সবারই আছে। তুই আমার শারীরিক গঠন দেখে বুঝিস না, আমার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কতজন পুলিশ-আর্মি ও র‍্যাব আছে? তোর ভাষ্যমতে, তোর চৌদ্দগুষ্ঠিই তো চাঁদপুরের মতলবের। সে তুলনায় আমার আত্মীয়-স্বজনেরা বেশ কয়েকটি জেলা জুড়ে রয়েছে। আমার পয়েন্ট হলো, তুই নিজেই চিন্তা করেই দেখ, তোর আর আমার মাঝে কার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বেশি ভেরিয়েশন রয়েছে? তোকে কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে, আমার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কতজন পাওয়ারফুল লোক রয়েছে, তারা কোথায় কোথায় রয়েছে?’

‘বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সরকার বা পুলিশের সমালোচনা আমি করতেই পারি, তুই সেটা নিয়েও পলিটিক্স করতে গেলি কেন? শুধু আমার এলাকার এমপি হওয়ার কারণে তুই দীপু মণিকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছিলি। আজ তুই দেখ, দীপু মণি কোথায় আর তোর এলাকার এমপি কোথায়? তোদের প্রতিনিধি তো নিজের আর নিজের মেয়েজামাইয়ের অন্তিম ক্ষণের অপেক্ষায় আছে।’



1 thought on “যেসব মেয়ে ও মহিলারা বেশি ভাব মারে তারা আসলে যে ধরনের ফ্যামিলির লোক”

  1. Pingback: বীথির সাথে শুতে আগ্রহী হই নি, তাই… – সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.