বুয়েট অলাদের হাহা রিয়্যাক্ট আর মুসল্লীদের ছোড়া ঢিল

কিছুদিন আগে বুয়েটের কতিপয় টিচারের অশোভন আচরণ আর অশিক্ষকসুলভ মানসিকতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম এই ব্লগে। বুয়েটের টিচারদের বিরুদ্ধে এবং বুয়েটে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে লেখার ইচ্ছে আমার অনেক দিন। কিন্তু মোক্ষম কোনো অকেশন না আসায় সেটা করা হয়ে উঠে নি। তবে সম্প্রতি ‘বুয়েটের গল্প’ নামক একটি প্রাইভেট ফেসবুকে গ্রুপে মেম্বার হয়েছিলাম। সেখানে পাবলিশ করার উদ্দেশ্যেই নিবন্ধটা লিখেছিলাম। কারণ সেখানে প্রায় ৯০০০ মেম্বার। আমি চেয়েছিলাম যাতে এই প্রাক্তন বুয়েটিয়ানরা জানুক, তাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান দোষত্রুটি মুক্ত নয় এবং সেগুলো নিয়ে মুখ খোলার মতো সাহস কারো না কারো আছে। নিবন্ধটা অনেকে পড়েছিল, প্রায় ২৫০০ পাবলিক। এদের বেশিরভাগই পোস্টে কোনো লাইক বা রিয়্যাক্ট দেয় নি৷ লাইক পড়েছিল প্রায় ৫০টি আর হাহা রিয়্যাক্ট দিয়েছিল ৭০-৮০ জন লোক। মজার ব্যাপার হলো, ব্লগে নিবন্ধের শুরুতে নিম্নে দেখানো একটা জিনিস আসে, যেটা লাইকের মতো দেখালেও সেখানে আসলে লাইক+শেয়ার+অন্য যেকোনো রিয়্যাক্ট একিউমুলেটেড হয়। ফলে নতুন কারো কাছে মনে হতে পারে যে, নিবন্ধটি হয়তো ১২৯টা লাইক পেয়েছে, যদিও ব্যাপারটা তা নয়। যাই হোক, বিষয়টি আমার কাছে খুব উপভোগ্য ছিল। তারা যতই হাহা রিয়্যাক্ট দিচ্ছিলো, আমি প্রকারান্তরে ততই খুশি হচ্ছিলাম। নেগেটিভ হোক আর পজেটিভ, পাবলিসিটি তো হচ্ছে।

১২৯টা লাইক, ক্যান ইউ বিলিভ দ্যাট?

বিষয়টিকে তুলনা করা যায় – আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদটা আছে, সেখানকার মুসল্লীদের ছোড়া ঢিলের সাথে। তারা ঢিল ছোড়ে বেশ কয়েকটি কারণে (১) আমি মসজিদে নামাজ পড়তে যাই না (২) এলাকায় বলতে গেলে আমিই সবচেয়ে স্বচ্ছল, বাকি সবাই হয় ফকিন্নি নয়তো অশান্তির পরিবার থেকে এসেছে।  তারা হলো লেজকাটা শিয়ালের মতো। নিজেরা যেহেতু শান্তিতে নেই, আছে অভাব আর কষ্টে; তাই আমাকেও তারা ‘মিজারেবল’ অবস্থায় দেখতে চায়।

যাই হোক, তাদের যদি মজা লাগে তবে ঢিল ছুড়ুক। যেহেতু তারা ইসলামের নামে এই কাজটা করছে, তাই আমি বরং ইসলামেরই ক্ষতি করে দেব; বিভিন্ন মানুষের কাছে ইসলামের স্বরূপ খুলে দেব, তাদের তথাকথিত ‘ঈমান’ নষ্ট করে দিব, তাদেরকে নাস্তিকতার পথে নিয়ে আসবো। এক কথায়, ইসলামের ‘বারোটা’ বাজিয়ে দেব। অর্থাৎ বুয়েট অলারা যেমন আমার উক্ত পোস্টে হাহা রিয়্যাক্ট প্রদানের দ্বারা পরোক্ষভাবে তাদের সাধের ইন্সটিটিউশনের সুনামের ক্ষতি করার ব্যবস্থা করছে, ঠিক তেমনি প্রতিবেশী মুসল্লীরাও আমাকে উত্ত্যক্ত করার মাধ্যমে তাদের প্রিয় ধর্মের ভাবমূর্তির ক্ষতি করার ব্যবস্থা করছে।

অবস্থাদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে,দাড়ি-টুপিই হলো বর্তমানে সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি।