নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় or so they think

সমাজে বেশকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু লোক মনে করে – তারা সামহাও স্পেশাল, তাদের জন্য নিয়ম প্রযোজ্য নয়। একারণে তারা নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আজকে প্রধানত করোনার স্বাস্থ্যবিধি যারা শখের বশে বা অদ্ভুত সব কারণে লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিষয়ে বলবো।

জনবহুল স্থানে মাস্ক পরিধান করা সাধারণ নিয়ম। দেশের আনাচে-কানাচে শ্রমিক টাইপ অশিক্ষিত লোকজন যখন এ নিয়ম মেনে চলে না, তখন মনকে বোঝানো যায়। কিন্তু শিক্ষিত ও ভদ্রবেশীরা যখন এটা করে, তখন মনকে কেমনে বোঝাই?! তখন গবেষণা করতে বাধ্য হই, এসব লঙ্ঘনকারীদের মনে আসলে কী চলছে। 

প্রথমেই আসি হিন্দু সম্প্রদায় সম্পর্কে। দেশে এরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নিজেদেরকে স্পেশাল মনে করে, এমনকি মাস্কও নাকে-মুখে না পরে থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রাখে। আমার অফিসেও এরকম কমপক্ষে একজন আছে। সে পেশায় একজন কম্পিউটার অপারেটর। সে শুরু থেকেই ‘থুতনাস্ক’ ব্যবহার করে আসছে। তার সম্পর্কে বেশ কয়েক জনের কাছে অভিযোগ করায় প্রেশারের চোটে ইদানিং সে থুতনাস্কের বদলে ‘মুখাস্ক’ ব্যবহার শুরু করেছে। 

তাদের বদভ্যাস নিয়ে ট্রল পর্যন্ত করা হয়, তবু তারা শোধরাবে না

এছাড়া আরেকজন হিন্দু ভদ্রলোকের কথা বলবো। তিনিও ইদানিং মাস্ক ছাড়াই ফ্লোরে চলাফেরা করছেন (অর্থাৎ ‘নাইমাস্ক’)। উনিও খুব সম্ভবত নিজের সংখ্যালঘু পরিচয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্লাস তিনি হয়তো মনে করছেন, যেহেতু তিনি মালিকপক্ষের একজন, তাই এসব নিয়মকানুন তার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবার এমনও হতে পারে, তার হয়তো অলরেডি করোনা হয়ে গিয়েছে আগে। তাতে কী? করোনা তো যে কারো দ্বিতীয়বার হতে পারে, তাই না? এ বিষয়গুলো তার শিক্ষিত মন বুঝতে পারছে না। খুবই আফসোস!

এখানে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও বলে রাখি – পূর্বে উল্লেখিত কম্পিউটার অপারেটরকে ওই ফ্লোরের কম্পিউটার সেকশনের ভবিষ্যত ইন-চার্জ ( বা নেক্সট বিগ থিং) বানানোর প্রক্রিয়া চলছে, সেটা আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, ধুরন্ধর আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি (আমি একজন বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ‘সুপার এক্সপার্ট’)। এর পেছনে হাত রয়েছে সম্ভবতঃ আগের অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচালকের। কারণ পরিচালক ও অপারেটর উভয়ই হিন্দু এবং উভয়ের হোম ডিস্ট্রিক্ট নরসিংদী। হয়তো তারা একে অপরের আত্মীয় হন। তাহলে তো মাশাল্লাহ (পোয়াবারো) !

স্পষ্টতঃ আওয়ামী সরকারের আমলে হিন্দুদেরকে বাড়াবাড়ি রকম প্রমোট করা হচ্ছে, যেটা ঠিক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগারদেরকে শুধু এতটুকুই বলবো – তারা যেন তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাসের পাতায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত না হয়।

যাই হোক, on with the article. সেদিন সেন্টার পয়েন্ট কনকর্ড মার্কেটে গেলাম এক বিশেষ প্রয়োজনে। সেখানে ঢোকার পথে আমার টেম্পারেচার মেপে হাত স্যানিটাইজ করে দিলেও পরে মার্কেট থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম, দুই মহিলা বিনা বাধায় ঢুকে গেল। গেটের আশপাশে তখনও সেই লোকগুলো ছিল, তবে তারা নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মশগুল ছিল। 

মাস্কের বিষয়ে আবারও আসি। অফিসের আরেকজন কম্পিউটার অপারেটরকেও বেশ কয়েকদিন দেখেছি মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে। সে অবশ্য হিন্দু না, তবে নোয়াখাইল্লা। নোয়াখালীর লোকজনকে কী কারণে দেশের বাকি অঞ্চলের লোকেরা দেখতে পারে না, তার কিছু নমুনা পাওয়া শুরু করেছি। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী ওয়ালাদের মতো তাদের আচরণগত সমস্যা নেই, এমনকি বরিশাইল্লাদের মতো তারা চাপাবাজ ও অবাধ্যও না। তারপরও নোয়াখালীর লোকদেরকে মানুষ দেখতে পারে না – তাদের হাইজিনের অভাব বোধের কারণে। ফ্র‍্যাংকলি, বহুত খাচরামি করে তারা।

এছাড়া আমাদের অফিসের এইচআর ম্যাডামকে সেদিন দেখলাম মাস্ক ছাড়াই পুরো অফিসে দিব্যি চলাফেরা করছেন। আর গতকাল দেখলাম – মাস্ক আছে, তবে তা থুতনাস্ক। তিনি সম্ভবতঃ তার রূপ-যৌবন দেখাতে ব্যস্ত। আফটার অল, তিনি খুলনা বিভাগের লোক। এ বিভাগের লোকজন নিজেদেরকে বেশি সুন্দরী ও হ্যান্ডসাম মনে করে। তারা নিজেদের চেহারা বেচে খাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, যেটা মাত্রাতিরিক্ত টাইপের বাড়াবাড়ি হওয়ায় নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু।

হিন্দুদের বিষয়ে বলছিলাম। অফিসে আমার ফ্লোরে আরেকজন হিন্দু লোক আছেন, যিনি শুধু মাস্কই না, বরং আরো অনেক নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছেন। তিনি গ্রাফিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। গত বছর একুশে বইমেলায় ডিজাইনের জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছেন, সেজন্য তিনি একটু স্পেশাল বটে। তবে এতটা স্পেশাল নন যে, তিনি তার ডিপার্টমেন্টের লোকজন নিয়ে কিছুক্ষণ পরপর অট্টহাসিতে ফেটে পড়বেন। কারণ একই ফ্লোরে আমরাও তো কাজ করি। ওই হিন্দু লোক একজন শিল্পী হতে পারেন, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ইন্টেলেকচুয়াল এই ফ্লোরেই ১০-১৫ জন আছেন। এতগুলা লোককে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন শ্রেফ হিন্দু বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে? সেটাতো আছেই, প্লাস পূর্বে উল্লেখিত ওই হিন্দু পরিচালক মহোদয়ের মদদও আছে হয়তো।

এছাড়া একজন ‘টেকনিক্যাল গাই’ আছে, যে কিনা মাস্কের নিয়মকানুনকে থোরাই তোয়াক্কা করে। সে টেকনিক্যাল কাজগুলো ভালো বোঝে, এটা ঠিক। তার মানে এই না যে, সে সামহাও এতটা স্পেশাল – থুতনাস্ক পরিহিত অবস্থায় অফিসে লোকজনের মাঝে অবাধে চলাফেরা করবে। উল্লেখ্য যে, তার বাড়ি পাবনা, আর পাবনার লোকজন দিয়ে এখানকার লো ক্লাস স্টাফ সম্প্রদায়কে ভরে ফেলা হয়েছে, যেটা খুবই একটা অন্যায়। বুয়েটে পড়াশোনাকালীন সময়ে দেখেছি, সেখানকার ক্যাফেটেরিয়া ও হলের ক্যান্টিনগুলো চাঁদপুরের লোকজনকে দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল, এটাও ছিল একটা অন্যায়।

আমরা অফিসে আসতে একটু লেট করলে ঘ্যানঘ্যান শুরু হয়ে যায়। অথচ মালিকপক্ষের একজনের এক আত্মীয় কাজ করেন একই ফ্লোরে, তার আসা ও যাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। আর সে পড়াশোনাও করে এসেছে যদুমধু টাইপের জায়গা থেকে; মনে হয় না, যোগ্যতার বিশাল ঝুড়ি রয়েছে তার। কেবল মালিকের আত্মীয় বলেই তার সাতখুন মাফ। এ কেমন বিচার রে ভাই! এতো অবিচারের সংস্কৃতি! হে আল্লাহ অথবা ভগবান (অথবা ঈশ্বর), তুমি আমাদেরকে এসব অনাচার থেকে রক্ষা করো!   

দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট

কনফরমিস্ট বলতে এমন লোক বুঝায়, যারা মাত্রাতিরিক্ত মানিয়ে চলেন। চলার পথে ও সমাজে বিভিন্ন প্রকার লোকের সাথে মিশতে হয় আমাদের। তখন মতবিনিময় ও মতামত প্রদানের মতো বিষয় থাকে। আপনার সহকর্মী বা প্রতিবেশী যেমন আপনার সব মতামত মেনে নিবেন না, তেমনি আপনিও তাদের সব মতামত মেনে নিতে বাধ্য নন। কোনটা মেনে নিবেন আর কোনটা নিবেন না, সেটা আপনার বিবেক ও ন্যায়-অন্যায় বোধের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এ সমস্ত বিষয়ে যেসব ব্যক্তি তাদের বিবেককে মাত্রাতিরিক্তভাবে দমিয়ে রাখে, অর্থাৎ ন্যায়- অন্যায়ের ধার ধারে না, তারা হলো কনফরমিস্ট।

এরা আসলে সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে যাওয়ার আশংকায় থাকে। অথবা সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য কনফরমিস্ট হয় নিজের কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। বাংলাদেশের মতো দেশে অনেকেই তাদের বোন বা মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েক বছরের জন্য কনফরমিস্ট রূপ ধারণ করে। ওই মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাওয়া মাত্রই তারা আবার স্বরূপ ধারণ করে। এসময় তাদের অনেকেই ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলে, অর্থাৎ তাদের ঠেকা সেরে গেছে।

বাংলাদেশের লোকজন যে নিজেকে ধার্মিক ও সামাজিক প্রমাণ করতে চায়, কখনো ভেবে দেখেছেন কি, এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে?  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের উদ্দেশ্য হলো – রেফারেন্স বা সুপারিশ এর মাধ্যমে চাকুরি জোগাড় করা, প্রয়োজনের সময় টাকা ধার নেয়া, নিজের মেয়ে বা বোন বিয়ে দেয়া, সামাজিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়া, প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করা, নিজের পরিবার যাতে একঘরে না হয়, বিপদে লোকজন যাতে সাহায্যে এগিয়ে আসে – এইসব আরকি। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু বেশিরভাগই হলো ছোটলোকি চিন্তাভাবনা।

যদিও শিরোনামে বলেছি, দুনিয়াজুড়ে কেবল কনফরমিস্ট। আসলে কনফরমিস্ট বেশি হলো বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে। বিশেষ করে যেসব দেশে অন্যায়-অবিচার বেশি চলে, শক্তিমানেরা দুর্বলদের নির্মমভাবে অত্যাচার করে। আবার দেখা গেছে, যেসব দেশের মানুষ বেশি ধর্মান্ধ ও গোঁড়া সেসব দেশেই এসব অত্যাচার বেশি চলে। কারণ সেসব দেশে শক্তিমানেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা হাইকোর্ট দেখিয়ে দুর্বলদেরকে ফাঁপরে রাখে। তাই উন্নত দেশ গঠন করতে হলে সর্বপ্রথমে ধর্মকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে।

বাংলাদেশে কনফরমিস্ট বেশি হয় গ্রামের মানুষ, অর্থাৎ যারা গ্রামে বড় হয়। এরা তীব্র মাত্রায় মুনাফিক টাইপের হয়। এদের মনে এক কথা আর মুখে আরেক কথা। এর কারণও আছে অবশ্য। গ্রামের লোকজন বাড়াবাড়ি রকমের চালবাজ ও কুটনা টাইপের। এদেরকে কুটিল বলা যেতে পারে, এরা কে কাকে বাঁশ দিবে সবসময় সে ধান্ধায় থাকে। আমি ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, কিন্তু এখন গ্রামে থাকি (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)। তাই এখানে যা বলছি তা অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। অনেকে বলে, গ্রামের লোকজন নাকি সহজ-সরল। এটা পুরা একটা ফাও কথা। গ্রামের লোকজনের মাথায় থাকে ভিলেজ পলেটিক্স। তাই এরা ছাত্রজীবনে যত মেধাবী হোক না কেন, পরবর্তীতে কর্মজীবনে ইনোভেটিভ কিছু করতে পারে না। দেশে বর্তমানে যেসব বড় বড় কাজ হচ্ছে, সেগুলো করছে শহরে মানুষ হওয়া লোকজন। নটর ডেমে আমার ক্লাসমেট আসিফ মাহমুদ সেরকম একজন ব্যক্তি। সে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র ছিল, অর্থাৎ সে শহরে বড় হয়েছে। 

আবার এমনও হতে পারে, ছাত্র বা ছাত্রীর পরিবার হয়তো মফস্বল শহরে থাকে, চাকুরির সুবাদে তারা এক জায়গায় খুব বেশিদিন থাকতে পারে না। এসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা পুরোপুরি শহরে না থাকলেও ভিলেজ পলেটিক্স এর প্রভাব থেকে মুক্ত। তাই এরা টেরিটোরিয়াল মানসিকতার হয় না।

ভিলেজ পলেটিক্স হলো, কোনো গ্রামের এক স্থায়ী বাসিন্দা অপর এক স্থায়ী বাসিন্দা বা পরিবারকে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া (উচ্ছেদ) করতে চায়, যদি তাকে মেনে না চলে বা নতিস্বীকার না করে। এটা আসলে একটা ইঁদুর দোড়, এ খেলা চলতে থাকে সারাজীবনই, কিন্তু জয়ী হওয়া বা তৃপ্তি পাওয়া লোকের সংখ্যা হাতে গোণা।           

মেইন কথা হলো, এসব কনফরমিস্ট গিরি বাদ দিতে হবে। আপনার বোনকে পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ করুন, তার ভালো বিয়ে এমনিতেই হবে। আর বিয়ে হতে দেরি হলে সমস্যাটা কী? সে ক্যারিয়ার গড়তে থাকবে, পরে নিজেই একজন যোগ্য পাত্রকে জোগাড় করে নিবে।       

স্ট্যাপল ফুড বদলান, জীবন বদলে যাবে

বাঙালীদের স্ট্যাপল ফুড বা প্রধান খাদ্য হলো ভাত বা চাল। এটি খেলে শরীরে খুব দ্রুত শক্তি যোগায়। এ কারণে এটি এদেশে খুবই জনপ্রিয় খাবার। বেশিরভাগ লোকই তিন বেলা ভাত খেতে পছন্দ করে। 

তবে ডায়াবেটিক রোগীরা তিন বেলা ভাত খেতে পারেন না। তাদেরকে একবেলা ভাত আর বাকি দুইবেলা রুটি খেতে বলা হয়। আমি নিজেও একজন ডায়াবেটিক রোগী। একবেলা ভাত ও দুই বেলা রুটি খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলাম না, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা যন্ত্র দিয়ে মাপা ছাড়াও বোঝা যায়। যেমনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন, চোখের পাতা ভারী মনে হচ্ছে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যারা কিডনী রোগী, তারা তাদের প্রসাবের পরিমাণ লক্ষ্য করতে পারেন। যদি প্রসাবের পরিমাণ দিনদিন কমতে থাকে, তাহলে আপনি বিপদে আছেন।

একজন ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে এসব অভিজ্ঞতা আমার ভালোই আছে। তবে সম্প্রতি আমি একটা রেমেডি খুঁজে পেয়েছি, যেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হোন, তাহলে ভাত, আটা বা ময়দার পরিবর্তে ডাবলী খেতে পারেন, যেমনটা আমি খাচ্ছি – গত এক সপ্তাহ যাবত। এবং পজেটিভ ফলাফল পেয়েছি। ডাবলী খেতে পারেন ঘুঘনি বা চটপটি হিসেবে, আমি খাই চটপটি হিসেবে। সকালে আর রাতে খাই, দুপুরবেলা ভাত বা রুটি খাই।

খাদ্যাভ্যাসের এই পরিবর্তনের ফলে আগের চেয়ে অনেক সুস্থ অনুভব করছি। ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা আর ভারী মনে হচ্ছে না, প্রসাবের পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করি। আর হবেই বা না কেন, ডাবলিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ  অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রোটিন খুব কাজের জিনিস।কেউ কেউ বলতে পারেন, ডাবলি খেয়ে ভাতের খিদে আদতে মিটে কিনা। আমার তো মিটে, আমি তো একজন মানুষ, তাই না? আমার যদি মিটে থাকে, তবে আপনারও মিটবে।

আরেকটি বিষয় হলো, যাদের কিডনি প্রবলেম আছে, তাদের জন্য বেশি প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করা খারাপ প্রমাণিত হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন। কারণ ডাবলী মূলতঃ এক প্রকার ডাল। আর যারা বডিবিল্ডিং করেন, তাদের জন্যও এটা পারফেক্ট হতে পারে, জাস্ট গিভ ইট আ ট্রাই। এছাড়া এটাও জেনে রাখুন, ডাবলি বেশ সস্তা,  ৪০ টাকা কেজি মাত্র। 

ডাবলি খাওয়ার কারণে ইদানিং নিজেকে খুবই এনার্জিটিক ও কনফিডেন্ট অনুভব করছি। ডাবলি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, এটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো কিছু থাকবে না আপনার, তবে মলত্যাগ করার জন্য প্রত্যহ ৩/৪ বার যাওয়া লাগতে পারে টয়লেটে। 

আপডেট (২০ জুলাই, ২০২০)ঃ ইদানিং আর দুইবেলা ডাবলী খাচ্ছি না, কেবল রাতে খাচ্ছি। কারণ ডাবলী বা চটপটির সাথে শাকসবজি খাওয়ার সুযোগ সীমিত। শরীরের জন্য ভিটামিন এর দরকার আছে, তাই না? ঠিক করেছি, তিন বেলার মধ্যে সকালে ডাবলী বা চটপটি খাব। অফিস থাকলে দুপুরে রুটি এবং রাতে ভাত খাব। অফিস না থাকলে দুপুরে ভাত আর রাতে রুটি খাব।

করোনায় যেসব মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে

আমি এখানে যা বলবো তা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত মতামত বা ধারণা। এর পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে আমার পক্ষে। তাই এটিকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও বলা যেতে পারে। আমি মনে করি নিম্নোক্ত কারণে সারা বিশ্বজুড়ে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশিঃ

১. কিছু কিছু দেশের মানুষ দৈহিক সংশ্রব এড়াতে পারে না। যেমনঃ ইউএস, ব্রাজিল ও ভারতের মানুষ ফ্রি সেক্সে বিশ্বাস করে, যৌনতা ছাড়া তারা একদিনও চলতে পারে না। এসব দেশের বেশিরভাগ মানুষই বহুগামী এবং পরকীয়াও এসব দেশে ব্যাপক পরিমাণে হয়। দৈহিক সংশ্রবের কারণে তারা চট করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

২. এছাড়া যত্রতত্র দৈহিক মেলামেশা করায় তাদের মধ্যে এইচআইভি/এইডস এর পরিমাণও বেশি। আমরা জানি, এইডস হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। তাই ইয়াং জেনারেশনের যারা করোনায় মারা যাচ্ছে, তাদের অনেকেই হয়তো এইডসে আক্রান্ত ছিল। এইডস এর কারণে ইউএস, ব্রাজিল ও ভারতে মৃত্যুর হার যেমন বেশি, ঠিক তেমনি একই কারণে হয়তো বাংলাদেশের কুমিল্লা অঞ্চলেও মৃত্যুর হার বেশি।

কুমিল্লা অঞ্চলের পুরুষেরা যেমন বিদেশ যেমন মধ্যপ্রাচ্য থেকে এইডস নিয়ে আসে, ঠিক তেমনি এ এলাকার প্রবাসীর স্ত্রীরা ব্যাপক হারে পরকীয়া করে তথা বহুগামী। 

৩. করোনায় কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের মৃত্যু হার বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বাংলাদেশের অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় এ এলাকার মানুষ জাংকফুড খায় বেশি ও সুষম খাদ্য খায় কম। এরা শাকসবজি পছন্দ করে কম এবং জিনগতভাবে টেনশন করে বেশি। এছাড়া কুমিল্লা ও চাঁদপুর এলাকার মানুষ শারীরিক পরিশ্রমকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে, তাই এদের শারীরিক ফিটনেস কম এবং মাথা গরম থাকে বেশি।

৪. আমেরিকায় মৃত্যু হার বেশি হওয়ার আরেকটা কারণ হলো, সেখানে শীতের প্রকোপ বেশি। বাংলাদেশে করোনা যদি শীতকাল পর্যন্ত টিকে থাকে, তবে তখন আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাতে ফাস্ট ও জাংকফুড খাদ্য খাওয়ার প্রবণতা ব্যাপক বেড়ে গেছে, ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে অবেসিটি বা স্থূলতার হারও অনেক বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যের এরূপ অবস্থা রোগ প্রতিরোধের জন্য সহায়ক নয়।