S আদ্যক্ষরের বিগ শটদের গল্প – পর্ব ২

আমি লক্ষ্য করেছি, যাদের নাম S সিয়ে শুরু হয়, তাদের মাঝে অপরাধ বা ফাউল করার প্রবণতা বেশি। এর মধ্যে রয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ, রিজেন্ট হাসপাতালের শাহেদ, জেকেজি’র সাবরিনা এবং শারমিন নামক এক আওয়ামী লীগ নেত্রী। এদের অপকর্মের নমুনা নিম্নরূপঃ

১. মাদ্রাসার একজন অধ্যক্ষ হয়েও নিজ মাদ্রাসার ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার লোভ সামলাতে পারে নি সিরাজ। পরে নুসরাতের মামলায় যখন সে জেলে যায়, তখন মেয়েটিকে পুড়িয়ে মারার আদেশও দেয় সে।

২. ক্লাস নাইনও পাস করতে পারে নি শাহেদ। অথচ সে টাকার জোরে বিভিন্ন টকশোতে জ্ঞানগর্ভ লেকচার দিয়ে নিজেকে বুদ্ধিজীবি প্রমাণ করতে চাইতো। হেন কোনো বাটপারি নেই যেটা এই শাহেদ করে নি। করোনা টেস্টের নামে কত মানুষের জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলেছে সে, তার কোনো হিসাব নেই ।

৩. শাহেদের এক ফিমেল ভার্সন হলো জেকেজি’র সাবরিনা। ডাক্তার হলেও তার কর্মকাণ্ডে এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সে হলো একটা উচ্চশ্রেণির পতিতা বা কলগার্ল। পরকীয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত এই সাবরিনা নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য ঠিকাদারি কাজ বাগাতে যে নিজের দেহ বিক্রি করতো, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

৪. আরেকজনের খোঁজ পাওয়া গেল যার নাম S দিয়ে শুরু। সে হলো শারমিন নামক এক নারী, যে কিনা দেশের কোনো একটা এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেত্রী। সে ভুয়া এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করেছে সরকারি হাসপাতালে। টাকা কামানোর জন্য এভাবে সে ডাক্তার ও রোগীদের জীবন নিয়ে তামাশা করেছে।                 

দেশে করোনাকাল কি শেষের দিকে?

সরকার ও জনগণের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে দেশে করোনাকাল বোধ হয় শেষের দিকে। সরকার করোনা টেস্টের সংখ্যা কমিয়ে দেয়ায় নতুন সনাক্তের সংখ্যা কমেছে। এতে অনেকের আশা জেগেছে যে, দেশে করোনার ক্রান্তিকাল হয়তো শেষের দিকে। সেটা হলে আমিও খুশি হতাম। তবে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা – করোনা সংক্রমণ কমাতে হলে যেকোনো দেশের অধিবাসীকে বেশকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেগুলোর পরোয়া বাংলাদেশের লোকজন কখনোই করেনি। সুতরাং দেশে করোনার সংক্রমণ কমবে কেন? তবে কালোবাজারিদের ধারণা হয়েছে, দেশে করোনার ভয়াবহতা শেষের দিকে, তাই তারা তাদের স্টককৃত মালামাল বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে মাস্ক। সার্জিক্যাল মাস্ক কিছুদিন আগ পর্যন্ত ছিল ২০ টাকা পিছ, সেটা এখন ৫ টাকা পিছ। আর আজ এক অনলাইন শপে দেখলাম ৩ টাকা করে পিছ। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে এদের মনোভাব কেমন। সরকারও মনে করছে, করোনা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে, তাই তারা এখনো ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি।

সামাজিক দূরত্ব মেনে ঘরে বসে আছে এমন এইচএসসি পরীক্ষার্থী নাই বললেই চলে। তাই সরকার এখন তাদের পরীক্ষাটা নিলেই পারে। প্রথম আলোর রিপোর্টে আজকে এসেছে, পরীক্ষার্থীরা নাকি সব পড়াশুনা ভুলে যাচ্ছে। করোনা সংক্রমণ হ্রাস পাবে তেজস্ক্রিয় পদার্থের গ্রাফের মতো, পুরোপুরি ভ্যানিশ হতে অনেক সময় লাগবে। এতোদিন শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতা নিয়ে খেলার অধিকার কার আছে? প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হোক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চার-পাঁচ হাজার করোনা রোগীর জন্য সরকার শত কোটি টাকা ব্যয় করতে পারলে শিক্ষাখাতে টাকা ঢালবে না কেন?

এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। সেটা হলো – কেউ পদত্যাগ করলে তাকে যদি এতো পঁচানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে না, বোকা বাঙালী এই সহজ জিনিসটা বোঝে না।

যেখানে দেশবাসীর এখন বলা উচিত, ‘এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’, সেখানে তারা বলছে, ‘মহাপরিচালক ব্যাটা খুবই খারাপ ছিল, তার বিরুদ্ধে কয়েকটা মামলা দেয়া হোক’। সে যে বলির পাঠা সেটা জনগণ বুঝতে পারছে না কেন?!

বিএনপি-জামাতের দালাল এই ইলিয়াস চুয়াডাঙ্গা জেলা ও খুলনা বিভাগের কলঙ্ক

শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, খুলনা বিভাগের লোকজন বোধ হয় দুধে ধোয়া তুলসীপাতা, তাদের মাঝে দু-একটা কলঙ্ক রয়েছে মাত্র। আসলে ব্যাপারটা তা নয়, অন্য যেকোনো বিভাগের মতো খুলনা বিভাগেও ভুরি ভুরি পাপী রয়েছে। কেবল খুলনা বিভাগের ‘তেনারা’ অভিনয়টা একটু ভালো পারেন, এই আর কি!

খুলনা বিভাগের এই অসাধু লোকজনের মধ্যে একজন হলো ইটিভি’র প্রাক্তন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা, বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটে থাকে, সেখানে ট্যাক্সিক্যাব চালায় (বা চালাতো)। তবে ইদানিং সে বিএনপি ও জামাতের হয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজের জন্য নিশ্চয়ই সে বিরাট পেমেন্ট পাচ্ছে, সেটা দিয়েই তার চলে যাওয়ার কথা। গাড়ি চালানোর দরকার দেখি না।

সে সবসময় ইসলামের পক্ষে কথা বলে, এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি হলো, সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল বিএনপি ও জামাতপন্থীদের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজে সে ব্যবহার করছে তার ‘ফিফটিন মিনিটস’ নামক ইউটিউব চ্যানেল।

তারপরও তাকে নিয়ে লিখতাম না হয়তো। কিন্তু সম্প্রতি সে তার একটি ভিডিওতে আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীদেরকে পঁচিয়েছে। ‘সমকামিতা’ প্রশ্নবিদ্ধ টার্ম হলেও এটা যদি কেউ সাপোর্ট করে, তবে সে কীভাবে অস্পৃশ্য বা অচ্ছুত হয়ে গেল বা অপরাধ করে ফেললো, সেটা বুঝতে পারলাম না। সমকামিতা যদি কিছু লোকের জন্য অপরিহার্য প্র্যাকটিস হয়, তাহলে সেটার অনুমোদন দিতে সমস্যা কী? সমকামিতা কি বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশে অনুমোদিত নয়?

আমি অবশ্য সমকামিতাকে সরাসরি সাপোর্ট করি না, এ বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড। তবে আমি লিভ টুগেদারকে সাপোর্ট করি। আমি মনে করি, দেশে বিয়ের বিকল্প হিসেবে লিভ টুগেদার কালচার চালু করতে হবে। তাতে ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মেয়েরা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার গোছাবে ও স্বাবলম্বী হবে।

যাই হোক, আয়মান ও তার সহযোগীদেরকে যেভাবে পঁচানোর চেষ্টা করেছে ইলিয়াস, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে ইসলামের পক্ষে কাজ করছে, দ্যাটস ফাইন। বাট সে জঙ্গীবাদের পক্ষেও কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেখানে তার একটি দুই তলা বাড়ি রয়েছে, সেখানকার নিচতলায় নাকি সে একটা কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করেছে এবং সেটার খরচ সে-ই চালায়, এমনটাই স্বীকার করেছে সে নিজের একটি ভিডিওতে।

আয়মান সাদিক এবং রবি টেন মিনিট স্কুলের বিরুদ্ধে ইলিয়াস কীভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি নিম্নে দেওয়া হলোঃ

ইলিয়াস যে এখন পুতঃপবিত্র সাজার চেষ্টা করছে, সেটা দেখে ভুলে গেলে চলবে না যে, সে কীভাবে বা কোন কারণে একুশে টিভি থেকে বহিষ্কার হয়েছিল। সে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় বসবাসকারী একজন বরিশাইল্লা বহুগামী টাইপের মহিলার পিছে লেগেছিল। ঐ মহিলার স্বামী বিদেশে থাকতো এবং মহিলা কীভাবে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া করে বেড়াতো, সেটা ইলিয়াস একুশে টিভির ক্রাইম রিপোর্টের একটা পর্বে ফুটিয়ে তুলেছিল। যেসব মহিলার স্বামী প্রবাসী, তাদের অনেকে এসব করে বেড়ায়, সেটা নতুন কিছু নয় – এটা নিয়ে রিপোর্ট না বানিয়ে ইলিয়াসের উচিত ছিল অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট বানানো, যেমনঃ ভেজাল, চোরাকারবারী, মজুতদারী বা সরকারের বিরুদ্ধে (যদি সে সময় সেটা করার সাহস তার থাকতো !)।

সে যে বাড়াবাড়িটা করেছে, সেটা হলো – এক পুরুষের সাথে ঐ বরিশাইল্লা মহিলার চুমাচুমি ও ডলাডলির দৃশ্য সে নেগেটিভ ফর্মেটে একুশে টিভির পর্দায় হাজির করেছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মহিলা তার নামে এবং একুশে টিভির তৎকালীন পরিচালক আব্দুস সালামের নামে পর্নোগ্রাফি ধারায় মামলা করে। এতে ইলিয়াস চাকুরি হারায় এবং সালামসহ সে জেলে যায়। এ ঘটনায় সালাম একুশে টিভির কর্তৃত্ব হারায়। পরে আওয়ামী সরকার যখন ইলিয়াসকে বিএনপি ও জামাতের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

যাই হোক, ইলিয়াস, তুমি যদি আয়মান সাদিকের বিরুদ্ধে না লাগতে, তাহলে তোমার বিরুদ্ধেও আমি লিখতাম না। তোমাকে আমি ‘কুমিল্লা হেটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান হিসেবে আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি না। ‘কুমিল্লা হেটার’দের বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত হয়েছে।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

তবে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও আরো এক কারণে আমি আয়মানকে সমর্থন করছি, সেটা হলো – আমি ‘লিভ টুগেদার’ কালচার এর সমর্থক, যেমনটা আমি আগে জানিয়েছি। হ্যাঁ, আমি একজন নাস্তিক এবং ধর্মবিরোধী। আমি মনে করি, ধর্ম হলো ডিজিজ বা ভাইরাস এবং এক প্রকার ব্রেইন ওয়াশ। দেশবাসীকে এই ভাইরাস ও ব্রেইন ওয়াশের কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে, তাদেরকে উন্নত জীবন প্রদান করতে হবে। মানুষ কেন ধর্মের প্রতি আসক্ত হয় বা ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, সেটা নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই একটি আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি।

ইলিয়াস, তোমার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত আরেক ‘কুমিল্লা হেটার’ কর্তৃক আমি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলাম, কেবল জন্মসূত্রে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়ার কারণে। সেটা হলো ২০১১ সালে যখন আমি জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরি করতাম, তখনকার কথা। লোকটার নাম রফিকুল ইসলাম জীবন, বয়স বর্তমানে প্রায় ৪১/৪২। তার কারণে বুয়েট থেকে আগত কেউই জুপিটারে টিকতে পারতো না। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস হলো, রফিকও সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি। ‘বাসেত’ নামক এক কৌশলী বুয়েটিয়ান কর্তৃক সে বিতাড়িত হয়েছিল।

খুলনা বিভাগের ‘ভদ্দরনোক’দের স্বরূপ (আসল চেহারা) – প্রিভিউ

উপর্যুক্ত শিরোনামে একটি পূর্ণদের্ঘ্য আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি কয়েকদিনের মধ্যে। আসলে দেশের কোনো অঞ্চলের লোকই পুরোপুরি বিশুদ্ধ না, সবাই কম-বেশি খারাপ। তবে একেকজনের খারাপি একেক সাইডে। এগুলো তুলে ধরছি ইয়াং জেনারেশনের জন্য, যারা এখনো মানুষ চিনতে শেখে নাই। তারা যাতে লোকজনের অঞ্চলভিত্তিক খোঁজ জেনেই আন্দাজ করতে পারে, লোকটি বা মহিলাটি (বা ছেলেটি বা মেয়েটি) থেকে সে কীরূপ ব্যবহার আশা করতে পারে।

খুলনা বিভাগের লোকদের আচরণ ও ব্যবহার একেবারে অসভ্যের মতো নয়, তবে এদের সমস্যা অন্য জায়গায়। ইন ফ্যাক্ট, আমার অভিজ্ঞতা অনুসারে, এরা এতখানি ফাউল করেছে যে, সেগুলোর বেশিরভাগ গুছিয়ে লিখতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। যেহেতু ‘শাহেদ’ কাণ্ডে দেশ বেশ উত্তাল, তাই একজন সচেতন নাগরিক ও ব্লগার হিসেবে এখানে আমারও কিছু মন্তব্য করা উচিত। ‘কিছু মন্তব্য’ না, আমি বরং পূর্ণদৈর্ঘ্য বর্ণনাই লিখবো এ বিভাগের লোকদের সম্পর্কে, যে বিভাগে রয়েছে খুলনা জেলা, যশোর জেলা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া প্রভৃতি জেলা।

যাই হোক, এ মুহূর্তে যেহেতু বিস্তারিত লেখা সম্ভব হচ্ছে না, তাই কি পয়েন্টগুলো (key points) তুলে ধরি। সেগুলো নিম্নরূপঃ

১। তাদেরও আচরণগত সমস্যা আছে, হয়তো পরিমাণে একটু কম, এই আর কি।
২। তারা ব্যাপক নাকউঁচু টাইপের, বাংলাদেশের বাকি জেলার মানুষদেরকে মানুষ মনে করে কিনা, সেটা গবেষণার বিষয়।
৩। খুলনা বিভাগের গড় আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তা সত্ত্বেও তারা সুযোগ পেলেই ব্যাপক বিলাসী জীবনযাপন করতে চায়, নিজেদেরকে জমিদার মনে করে।

৪। তারা নিজেদেরকে দেশের অবশিষ্টাংশের চেয়ে বেশি হ্যান্ডসাম ও সুন্দরী মনে করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, তারা নিজেদের চেহারা বেচে খেতে চায়। অর্থাৎ নিজেদের দৈহিক সৌন্দর্য বাড়াবাড়ি রকম এক্সপ্লয়েট করতে চায় তারা।

কত আর চেহারা বেচে খাবি তোরা?!

৫। সুযোগ পেলেই চরম খাইষ্ঠামি করে, অর্থাৎ স্বার্থপরতার পরিচয় দেয়। বেশিমাত্রায় হিসেবী, হিসেবের দিক থেকে তারা মুন্সিগঞ্জবাসীর ‘ভাই-বোন’ লাগে।

৬। সমগ্র দেশকে দেশ মনে করে না, দেশ মনে করে কেবল খুলনা বিভাগকে। নেপোটিজম যদি শিখতে হয়, তবে এদের কাছ থেকে শেখো। উত্তর বঙ্গের লোকদের মতো এরাও একদিন নিজেদের স্বাধীনতার প্রতীক্ষায় আছে। অর্থাৎ এদের মনের গহীন কোণে একটা আশা আছে যে, খুলনা বিভাগ একদিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। অন্তত তাদের কর্মকাণ্ড ও মনমানসিকতা দেখলে এমনটাই মনে হয়। দেশ ভাগের ক্ষেত্রে তাদের অনুরূপ চিন্তাভাবনা ও আচরণ করে উত্তরবঙ্গবাসী (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের লোকজন, একত্রে, দুই বিভাগ মিলিয়ে)।

৭। যৌন চরিত্রকে আমি খুব একটা আমলে নেই না। কিন্তু যারা নেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছিঃ দেশের যে সকল অঞ্চলের লোকের যৌন চরিত্র সবচেয়ে খারাপ, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খুলনা ও সিলেট বিভাগের লোকজন। বিশেষ করে, খুলনা বিভাগের বহু মেয়েই ভারতে পাচার হয়ে পরে দেশে ফেরত আসে। এদের মাধ্যমেই দেশে ব্যাপক হারে এইডস/এইচআইভি’র বিস্তার ঘটছে।

আরো কিছু পয়েন্ট আছে, সেগুলো না হয় পরে আপডেট করবো।

ছোটলোকদের কাজ হচ্ছে অপরকে স্টক (stalk) করা

অনেকে হয়তো বলবেন, আমি কেবল নেগেটিভ জিনিসগুলো নিয়েই লিখি। হয়তো প্রশ্ন করবেন, আমি কি কোনো কিছুর মধ্যে পজেটিভ কিছু দেখি না? সেটা দেখি ঠিকই, কিন্তু নেগেটিভ কর্মকাণ্ড যে ঘটে চলেছে বাংলাদেশের সমাজে, সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এমন অনেক নেগেটিভ কর্মকাণ্ড ঘটে, যেগুলো নিয়ে কেউ লেখে না (হয়তো খালি বন্ধুবান্ধবের সাথে মৌখিকভাবে শেয়ার করে)। কিন্তু এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবারই জানা উচিত; তাতে তারা বুঝতে পারবে যে, বাংলাদেশে আসলে কী চলছে, বা বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা আসলে কেমন।

ছোটলোকদের নিয়ে এর আগেও লিখেছি। সেটা নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত আছে।

লেজকাটা শিয়ালের গল্প (ছোটলোকদের গল্প)

আবারও লিখতে বাধ্য হলাম। কারণ ছোটলোকেরা তাদের ছোটলোকি চালিয়েই যাচ্ছে, তাদের নিচ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে ওয়াকিবহাল করাটা জরুরী। কারণ বেশিরভাগ লোকজনই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট না, তারা আসলে অন্যের অনেক কর্মকাণ্ডই ব্যাখ্যা করতে পারে না, ফলে ভেতরে ভেতরে হতাশায় ভোগে। আমি নিজেও যখন চরম মেধাবী ছাত্র ছিলাম, তখন সবই ভালো চলছিল, কেবল কিছু লোকজনের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা পেতাম না। আজ বুঝতে পারছি, তারা আসলে ছোটলোক ছিল, আর তাদের ঐ সকল কর্মকাণ্ড হলো ‘ছোটলোকি’। আগে যদি সেটা বুঝতাম, তাহলে ছোটলোকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মাথা ঘামাতাম না।

অনেকে হয়তো বলবেন, আমি এতোই যদি সমঝদার হই, তবে এখন কেন মাথা ঘামাচ্ছি? আসলে এসব লেখা আমার মনকে শান্ত করার জন্য নয়, আমার মন খুব বেশি অশান্ত কখনোই হয় না। কারণ আমি আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারি, কোন চেহারার লোক থেকে, সমাজের কোন স্তরের লোক থেকে, কোন পেশাজীবি লোক থেকে কী ধরনের আচরণ আশা করতে পারি (দু’-একটা ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে)।

আমার এসব লেখা তাদের জন্য যারা দেশের চলমান সমাজে কিছু লোকজনের অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ দেখে বিব্রত, এগুলোর ব্যাখ্যা খোঁজে। আমি ইদানিং যেসব আর্টিক্যাল লিখছি, এগুলো আসলে একেকটা ‘স্বীকার্য’। জ্যামিতিতে বা অন্য যেকোনো থিওরিতে স্বীকার্য ধরে নিলে যেমন অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, ঠিক তেমনি আমার লেখা এসব আর্টিক্যালে দেশের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশকিছু স্বীকার্য বর্ণিত হয়েছে।

এবার তাহলে আজকের ঘটনা খুলে বলি। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী বাবুল ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম, নিজের একটা সমস্যার কথা খুলে বলতে, কারণ এর সমাধান তাঁর কাছে রয়েছে। প্রতিবেশী আজিজ শালা (ওর নাতনী তথা বোন রূপাকে আমি ‘দুচি’) নাকি মিটার পেয়ে গেছে, তাই আমাকে বলেছে বৈদ্যুতিক কানেকশন খুলে নিতে। ঘাড়ত্যাড়ামি করে কানেকশন লাগিয়ে রাখতে পারতাম হয়তো আরো দু’-চারদিন, তবে এতে আজিজদের সমস্যা না হয়ে সমস্যা হতো আমারই। আসলে আজিজেরা তো ঐ মিটার অন্য একজনের বাড়িতে লাগিয়ে সেটা ব্যবহার করেছে, আবার সেখান থেকে আমাকেও সাইড লাইন দিয়েছিল।

এখনো কানেকশন জিইয়ে রাখলে ঐ পক্ষের সাথে আমার ক্যাঁচাল হতে পারে। আমার এস্টিমেশন ছিল, নতুন মিটার নিলেও সেটা পুরনো বোর্ডে কানেকশন দিবে। এখন নতুন বোর্ডে কানেকশন দেয়াতে পুরান বোর্ড থেকে কানেকশন খুলে ফেলা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই আমার।

এ উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম বাবুল ভাইয়ের কাছে। আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদ রয়েছে, সেখানকার কমিটিতে তিনি আছেন, খুবই পাওয়ারফুল একজন সদস্য। তিনি রাজি হলে মসজিদ থেকে সাইড কানেকশন নিতে পারবো। যাই হোক, বাবুল ভাই আবার কিছুদিন আগে একটা মুদি দোকান দিয়েছেন, সেখানে তিনি সন্ধ্যার পর বসেন, আর দিনের বেলায় বসে তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে। ছেলের মাদ্রাসা যেহেতু এখন বন্ধ, তাই সে বাড়িতেই থাকে আর দোকানে বসে।

দোকানের ধারেকাছে যাওয়া মাত্র দেখলাম, এক ফকিন্নি (কামলার কাজ করে এমন) যুবক খালি গায়ে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে; এমনভাবে যে, দোকানের সম্মুখে দাঁড়াই অথবা রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে যাই না কেন, তার গা ঘেঁষে যেতে হবে। অর্থাৎ সে অনেকটা পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে এমন। যাই হোক, দোকানে আরো দু’তিন জন লোক বসে বাবুল ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল, তাই তাঁকে একটু আড়ালে ডাকলাম প্রাইভেটলি কথা বলার জন্য। বললাম, মসজিদ থেকে সাইড কানেকশনটা ম্যানেজ করে দিতে। তিনি বললেন, মসজিদ কমিটির অপর এক সদস্যের সাথে কথা বলে আমাকে জানাবেন। সেও ভালো মানুষ, কোনো আপত্তি করার কথা না। কারণ আমি তো কানেকশন দীর্ঘদিনের জন্য নিচ্ছি না, আমার মিটারও দু’এক মাসের মধ্যে চলে আসার কথা। আমাদের কথাবার্তা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন ঐ ফকিন্নিটা আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার অভিনয় করে কিছুদূর (২-৩ গজ) গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। অর্থাৎ আমরা প্রাইভেটলি কী কথা বলছি, সেটা সে শুনবেই। এজন্যই বলি, ছোটলোকদের একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো – এরা অন্যকে হেভিলি স্টক করে, ফলো করে, ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। তারা মনে হয় ঐ কথাটা শোনে নি, It’s not okay to stare.

শুনবে কীভাবে?! বাঙালী ফকিন্নিরা তো ঠাকুর মা’র ঝুলি টাইপ গল্প নিয়েই ব্যস্ত, ডিজনির কার্টুন দেখার সুযোগ বা সময় তাদের নেই। যদি দেখতো, তাহলে Tom Thumb and Thumbelina এনিমেটেড মুভির সেই ফেমাস ডায়ালগ তারা শুনতো পেতো, It’s not okay to stare অর্থাৎ অন্যের দিকে (কাজ ব্যতিরেকে) ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা ঠিক না- এটা এক ধরনের অভদ্রতা। আসলে সভ্য হলে বা ছোটলোক না হলে এসব মুভি না দেখেও সভ্যতা শিখতো পারতো, যদি তাদের পরিবার থেকে কিছুটা হলেও আদব-কায়দা শিখিয়ে দিতো।

ছোটলোকেরা রাস্তাঘাটে এভাবেই শুধু শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে, কখনো প্রসন্ন চেহারায়, কখনো ভ্রু কুঁচকে, পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকে

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

আয়মান সাদিক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নাকি নারীঘটিত কেলেংকারীতে জড়িত, এটা শুনে ঝোঁকের বশে ওদের প্রতি কিছুটা ঘৃণা চলে এসেছিল আমার মনে, সেটা বেশ কয়েক মাস আগেকার কথা। কিন্তু এরপর গত কয়েক মাস ধরে আমি আয়মান সাদিক ও টেন মিনিটস স্কুল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং যতদূর সম্ভব খোঁজ-খবর রেখেছি সংবাদপত্রের মাধ্যমে।

এখন আমি ভিন্নমত পোষণ করি। আমি মনে করি, আয়মান সাদিক কোনো ফাউল করে নি। নারীঘটিত কোনো ঘটনা হয়ে থাকলে সেখানে ঐ নারীরা নিজেরাই কম-বেশি জড়িত বা সংশ্লিষ্ট। এদেশের নারীদের আমার ভালোই চেনা আছে। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের লেজে খেলিয়ে কেলেংকারী ঘটায়। পরে সেটা জনসমক্ষে এলে নিজেরা ইনোসেন্ট সাজে এবং ছেলেদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

আয়মান অ্যাট লিস্ট ধর্ষণ তো কাউকে করে নাই, নাকি করেছে? লিভ টুগেদার যদি করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নারীর সম্মতিতেই হয়েছে। এদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বা বেশি বয়সের যেকোনো নারী স্বেচ্ছায় পুরুষের সাথে দৈহিকভাবে মিলিত হতে পারবেন।

আর আমার মতে, লিভ টুগেদার কোনো খারাপ বিষয় নয়, বরং এ দেশকে আর্থিকভাবে উন্নত করতে হলে এবং পিছুটান হতে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলে লিভ টুগেদার-এর বিকল্প নেই। লিভ টুগেদার কালচার এদেশে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পেলে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবেঃ

(১) দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে। ‘মেয়েদেরকে বিয়ে দিতেই হবে’-এটা একটা ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা, এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকে দেশবাসীকে বের করে আনতে হবে, সেটা যত দিনই লাগুক না কেন। আমাদের দেশের মেয়েরা বিয়ের চিন্তা না করে ক্যারিয়ারের বিষয়ে ভাববে, তাদেরকে সিঙ্গাপুরের মেয়েদের মতো হতে হবে।

এজন্য অবশ্য ধর্মের সাথে লড়তে হবে। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন আমার প্রস্তাবিত উপর্যুক্ত পরিস্থিতি দেশে আনা সম্ভব হবে না। তাই আমাদের দেশের দরকার একজন কামাল আতাতুর্ক বা মাহাথির মোহাম্মদ, মুনাফিক সরকারপ্রধান দিয়ে দেশের বেশি উন্নতি সম্ভব নয়।

(২) খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এর মতো যৌনতাও একটি মৌলিক চাহিদা, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যৌনতার জন্য বিয়ে করা ও পরিনামে অকালে বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দেয়ার কোনো মানে হয় না। এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করতে গেলেও ধর্মের সাথে ফাইট করতে হবে। কে কে আছেন আমার সাথে?

সমকামিতা কি দরকার?

লিভ টুগেদারের বিষয়ে আমার সম্মতি থাকলেও সমকামিতার বিষয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। কারণ যৌনতা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সমকামিতা স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক কোনো আচরণ নয়, এটি অনেকটা কৃত্রিমতা।

বিশেষ করে যারা শখ করে বা অন্য কোনো কৃত্রিম কারণে সমকামিতায় নতুন করে অভ্যস্ত হয়েছেন বা হতে চান, তাদের এ আচরণের বিষয়ে আমার ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপঃ হলিউডের টোয়াইলাইট ছবির নায়িকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তাঁর সাবেক বয়ফ্রেন্ড রবার্ট প্যাটিনসনের সাথে ছাড়াছাড়ির পর সমকামিতায় জড়িয়ে পড়েন, এটা সমর্থনযোগ্য নয়। তাই সমকামিতা এ দেশে বৈধ করার কোনো কারণ দেখি না।

সমকামী ব্যক্তিরা যে বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যে যৌনতা উপভোগ করতে পারেন না, এ বিষয়টা আমি বিশ্বাস করি না (বা বুঝি না)। যদি সত্যিই তাঁদের কেবল সমলিঙ্গের ব্যক্তির সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আয়মান সাদিকের পেছনে কারা লেগেছে?

আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীরা যেহেতু লিভ টুগেদার ও সমকামিতাকে পাবলিকলি সমর্থন জানিয়েছে, সুতরাং ইসলামী জঙ্গীরা তাদের পিছে লাগবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে জঙ্গীদের ছাড়াও দেশের কিছু বিশেষ এলাকার লোকদের প্রতি আমি অঙ্গুলি উত্তোলন করতে চাই। আমি মনে করি, আয়মানের পিছনে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের লোকজন এবং মাদারীপুরের লোকজন লেগে থাকতে পারে।

মাদারীপুর বরিশাল বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না হলেও এরা বরিশালের লোকদেরকে অন্ধের মতো অনুসরণ করে। বরিশালের লোকজন বৃহত্তর কুমিল্লার লোকদেরকে, বিশেষ করে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার লোকদেরকে বিষদৃষ্টিতে দেখে। তাই তারা অরিজিনালি কুমিল্লার বাসিন্দা আয়মান সাদিকের পেছনে লেগে থাকতে পারে। তাদের মতে, কুমিল্লার লোকজন মেধাবী হবে কেন? তারা ব্যবসায় উদ্যোক্তা হবে কেন?

আপনারা লক্ষ্য করেছেন কিনা, কিছুদিন আগে ফেসবুকে কুমিল্লার লোকদেরকে এভাবে ইনসাল্ট করা হতোঃ ‘চিটাগাং যাবার পথে কুমিল্লা এসে গেছে, সবাই এখন বাস থেকে নেমে মুতে দিন।’ এটা বরিশালের লোকজন চালু করেছিল।

বরিশাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু লোকজন রয়েছেন, যারা কুমিল্লার মানুষকে সহ্য করতে পারেন না। আমার পরিচিত কয়েকজন জোর গলায় এটাও বলেছেন যে, আয়মান নাকি রুয়েট থেকে মেকানিকালে পাশ করে পরে ঢাবি’র আইবিএ’র এমবিএ’তে ভর্তি হয়েছে। তারা এটা মানতে চায় না যে, আয়মান আসলে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পরই আইবিএ’তে ভর্তি হয়েছিল। সে যে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে মেডেল নিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে, সেটাও কুমিল্লার এসব হেটাররা মেনে নিতে নারাজ।

তাই বলতে চাই, কারণের পিছনেও কার্যকারণ থাকে। আয়মান সাদিককে কেন পঁচানো হচ্ছে, সেটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার। আয়মান তো আসলে দেশের রত্ন, সত্যিকার মেধাবী। দেশে আরো অধিক সংখ্যক আয়মান দরকার, আবরার নয়। আবরার ভিকটিম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য মতে, সে আসলেই একজন ধর্মান্ধ ও কুপমন্ডুক ছিল। দেশে এখন আধুনিক মনমানসিকতার মানুষ দরকার। তবে আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসি হতে হবে (অমিত সাহা সহ)।

করোনা বিষয়ে সরকার ও জনগণের ভুল এবং অপরাধসমূহ

[এখানে যা কিছু লেখা হয়েছে, তা গত ১৭ এপ্রিল তারিখে লেখা। ঐ দিন ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটি দেখতে পারেন, এ আর্টিক্যাল পড়ার বিকল্প হিসেবে।]

(১) অন্ধবিশ্বাস ছিল, করোনা এদেশে আসবে না, আর আসলেও তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাই প্রস্তুতি না নিয়ে তামাশা দেখতে থাকা। জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে সরকার করোনা সনাক্তকরণ কিট ও পিপিই হয় আমদানী করতে পারতো, নয়তো স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করার জন্য রিসার্চ করতে পারতো। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদেরকে কোথায় কোয়ারেন্টাইন করবে সে বিষয়ে সরকার কোনো চিন্তাভাবনা করে নি এবং প্রস্তুতি নেয় নি। ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ খুবই হাস্যকর একটা টার্ম।

(২) মার্চের শুরু থেকেই চায়না, ইতালি, জার্মানী – এসব আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ইনকামিং ফ্লাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত ছিল।

(৩) মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান ধুমধাম করে উদযাপন করার লক্ষ্যে শুরুতে করোনা আক্রান্তের ঘটনাগুলো চেপে গিয়েছিল সরকার (দেশের সকলে এমনটাই মনে করে)। এখনো সরকার আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও অবস্থা জনগণের কাছে খোলসা করতে নিমরাজী। আওয়ামী সরকার সবক্ষেত্রে কেবল সফলতা ও উন্নয়ন দেখাতে চেয়েছে, ব্যর্থতা সবসময়ই ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেছে।

‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন করতে গিয়ে এটা হয়ে গেছে ‘করোনা বর্ষ’

(৪) ‘লকডাউন’ অফিসিয়ালি ঘোষণা করে নি সরকার; লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে আসতে কয়েকদিন দেরি করে ফেলেছে।

(৫) গার্মেন্টস বা ফ্যাক্টরিগুলো চলবে নাকি চলবে না, সে বিষয়ে সরকার ও বিজিএমইএ সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেয় নি। তাই গার্মেন্টসকর্মীরা পঙ্গপালের মতো ঢাকামুখী হয়েছে, কোনো সামাজিক দূরত্বের বালাই না রেখে। এসব ঘটনায় করোনা কী পরিমাণ সংক্রমিত হয়েছে (অনলি গড নোওস)।

(৬) সরকারী কোন ঘোষণার ফলে জনগণের মাঝে কীরূপ প্রতিক্রিয়া হবে, সেটা মন্ত্রী, সচিবগণ এবং প্রশাসন যন্ত্র প্রেডিক্ট করতে পারে নি। এতগুলা ইন্টেলেকচুয়াল মিলে জনগণের পরবর্তী ‘মুভ’ বুঝতে বা আন্দাজ করতে পারছেন না, সেটা খুবই দুঃখজনক।

(৭) জনগণেরও ভুল আছে, তারা লকডাউনের সময়ও র‍্যান্ডম ঘোরাফেরা, আড্ডাবাজি বাদ দিতে পারে নি। পুলিশ তাদেরকে শাসন করতে গেলে তারা ‘প্রতিবাদমুখর’ হয়ে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করেছে। (এসিল্যান্ড সায়মা ইসলামের মতো দু’-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটবেই)

জিনাত আমান সম্পর্কে এ তথ্যগুলো জানেন কি?

‘চুরা লিয়া হে তুমনে’ গানটির অরিজিনাল ভার্সন দেখেছেন কি? সেখানে অভিনেত্রী ছিলেন জিনাত আমান। তিনি এখন বুড়িয়ে গেছেন বটে, তবে একসময় এতটাই গ্ল্যামার ছিল তাঁর যে, বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ বলিউড নায়িকা তাঁর কাছে ফেল মারবে – সৌন্দর্যে, অভিনয়ে এবং এক্সপ্রেশনে।

সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সময়কার প্রেমিকা এই জিনাত মুম্বাইয়ে ১৯৫১ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সত্তর এবং আশির দশকে বলিউডে তুমুল জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া একজন অভিনেত্রী ছিলেন।

জিনাতের প্রথম হিট ফিল্ম হলো ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ যা ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়। আশির দশকে তিনি একবার নায়ক সঞ্জয় খান কর্তৃক প্রহৃত হয়েছিলেন এবং আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেড়ে ওঠার পর তিনি ‘আব্দুল্লাহ’. ‘আলীবাবা অর চল্লিশ চোর’, ‘কোরবানী’, ‘দোস্তানা’ এবং ‘ইনসাফ কা তারাযু’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৮৫ সালে তিনি মাযহার খান নামক এক অভিনেতাকে বিয়ের পর ছবিতে অভিনয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেন এবং ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গাওয়াহি’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর অভিনয় জগত থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। সব মিলিয়ে জিনাত আমান ৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই তাঁকে বহু পুরষ্কার এনে দিয়েছে। তিনি ‘জি সিনে অ্যাওয়ার্ড’ এর আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

এবার জিনাতের পরিবার সম্পর্কে কিছু বলা যাক। তাঁর মাতা হিন্দু ছিলেন এবং ভদ্রমহিলার অরিজিন ছিল মহারাষ্ট্রে, যেখানকার রাজধানী হলো মুম্বাই। আর জিনাতের পিতার নাম হলো আমানুল্লাহ খান, তিনি ভারতের ভোপাল রাজ্যের রাজপরিবারের অন্তর্ভুক্ত (তবে তাঁদের অরিজিন ছিল আফগানিস্তানে)। ভোপাল হলো ভারতের আনঅফিসিয়াল রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি।

অভিনয়ের পাশাপাশি জিনাত আরো বহু ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। যেমনঃ ‘মুঘল-ই-আজম’ এবং ‘পাকিজা’ ছবিদ্বয়ের চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। জিনাত আমেরিকার লস এঞ্জেলসে অবস্থিত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তবে পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি।

এবার বর্ণনা করা যাক তিনি মিডিয়া জগতে কীভাবে এলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলতঃ বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত এমনই একটি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন এবং ‘ফার্স্ট প্রিন্সেস’ বা ‘প্রথম রাজকন্যা’ উপাধি লাভ করেন।

আপনি হয়তো জানেন না, বলিউডে ‘ডন’ নামে সর্বপ্রথম যে ছবি নির্মিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে, সেখানে কাল্পনিক ‘রোমা’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন জিনাত। ছবিটি পরবর্তীতে রিমেক হয় এবং সেখানে অভিনয় করেন শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া।

১৯৭৮ সালের দিকে জিনাত হলিউডেও প্রবেশের চেষ্টা চালান, কিন্তু ব্যর্থ হন; কারণ সেখানে তাঁর অভিনীত ‘শালিমার’ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে মার খায়, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ধর্মেন্দ্র, শাম্মী কাপুর এবং অন্যান্যরা।

জিনাত সবসময়ই ‘ভিন্নরকম’ চরিত্রে অভিনয় করতেন, অন্যান্য নায়িকারা যেমন প্রথাগত চরিত্রে অভিনয় করতেন তেমনটা নয়। তিনি কঠিন কঠিন সব চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। হিন্দী চলচ্চিত্র জগতে যেগুলোকে নিয়মবিরোধী এবং নিষিদ্ধ বিষয় (ট্যাবু) মানা হয়, সেরকম অনেক কিছুকেই তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়ম ভেঙ্গে সফলতা এনে দেখিয়েছেন। তাঁকে ঐ সময়কার একজন যুগান্তকারী অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অভিনয়ের ধাঁচ ছাপ রেখে গেছে পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে আসা রেখা, শ্রীদেবী, পারভিন ববি প্রমুখের মধ্যে।

জিনাত দু’টি বিবাহ করেছেনঃ অভিনেতা সঞ্জয় খানের সাথে এক বছর সংসার করেছিলেন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত মাযহার খান মারা যাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে সংসার করেছেন। মাযহার খানের সাথে তাঁর সংসার জীবনে দুই সন্তানের জননী হয়েছেন তিনি।

অত্যাচারের শিকার জিনাত আমান

সঞ্জয় খান কর্তৃক তাঁর অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাটা অনেকটা এই রকমঃ উইকিডিয়া (ইংরেজি ভার্সন) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সঞ্জয় খানের সাথে আমান এক বছর সংসার করেছেন। আবার সঞ্জয়ের স্ত্রীর উসকানিতে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ থেকে আন্দাজ করা যায়, ঘটনাটা ঘটেছিল সঞ্জয়ের সাথে আমানের ডিভোর্স হওয়ার পর। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি ও সঞ্জয় ‘আব্দুল্লাহ’ নামক চলচ্চিত্রে কাজ করছিলেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও তর্কতর্কি হয়। তখন সঞ্জয় আমানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান এক হোটেলে, যেখানে এক পার্টি উপলক্ষ্যে আগে থেকেই তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তখন এই দ্বিতীয় স্ত্রীর উসকানিতে সঞ্জয় আমানের উপর হামলা শুরু করেন। এতে জিনাতের দেহে একাধিক ইনজুরি হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে তাঁর চোখেও একটি সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা ‘লেজি আই’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ আঘাত পাওয়া চোখের পাপড়ি খুলতে তাঁর বেশ সমস্যা হতো (চোখ আপনিতেই বুজে আসে এমন অবস্থা)।

এছাড়া আমান খান্না ওরফে সরফরাজ নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিনাত ২০১৮ সালে একটি ধর্ষণ মামলা রজ্জু করেন। এই ব্যক্তি নাকি আমানের পিছে লাগে (‘স্টক’ করে), তাঁকে হয়রান করে এবং বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এই অভিযোগে ঐ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়। ঘটনাগুলো ঘটেছিল ২০১১ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে – এমনটাই অভিযোগ রয়েছে।

তুনে আখের তেরা আসলিয়াত দেখাঈ দী (বর্ণচোরাদের গল্প)

উপর্যুক্ত হিন্দী বাক্যটির মানে হলো – ‘তুই তাহলে শেষ পর্যন্ত তোর আসল চেহারা দেখিয়ে দিলি’। এ আর্টিক্যালটির আরেকটি বিকল্প শিরোনাম হতে পারতো, ‘বাঙালী কাজের বেলায় কাজি, আর কাজ ফুরালে পাজি’। যার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে এই আর্টিক্যালটি লিখছি, তার নাম হলো আজিজ মিয়া, সে রূপগঞ্জে আমার একজন নিকটতম প্রতিবেশী।

আগে আমার বাড়ির ধারেকাছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ছিল না, তাই তাদের বাড়ি থেকে সাইড কানেকশন নিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে (মার্চে) এখানে খুঁটি এসেছে। তাই তাত্ত্বিকভাবে বৈদ্যুতিক মিটার নিতে আর কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবিকে সমস্যা হলো, করোনা। করোনার কারণে বর্তমানে এ এলাকায় বিদ্যুতের নতুন সংযোগ (মিটার) দেয়া হচ্ছে না – এমনটাই জানতে পেরেছি সেদিন এখানকার বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে।

বর্তমানে প্রায় ৬০ বছর বয়ষ্ক আজিজ মিয়া কয়েক বছর আগে দেখতে সম্ভবত এমনই ছিল

বিদ্যুতের লাইনের ক্ষেত্রে আজিজ মিয়ারাও সংকটে ছিল। তারা অন্যের বাড়িতে মিটার লাগিয়ে সেটা ব্যবহার করতো, সেখান থেকে আমি সাইড কানেকশন নিয়েছি। কানেকশন দিতে বাধ্য হয়েছিল কারণ আজিজের নাতনী রূপাকে পড়াতাম ঐ সময়। সে নিউ টেনের স্টুডেন্ট ছিল। কানেকশন নেয়ার দুই-তিন মাস পরে নতুন জবে জয়েন করায় এবং অফিস ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় সে টিউশনি কন্টিনিউ করা সম্ভব হয় নি আমার পক্ষে।

তখন কিছুদিন বিচ্ছিন্নভাবে তাঁকে ফ্রি ফ্রি পড়িয়েছিলাম আজিজ মিয়া আর তার বউয়ের (রূপার দাদী) রিকোয়েস্টে। তারা অবশ্য ঠিক ফ্রি ফ্রি পড়াতে বলে নি। বলেছিল, ‘ও তো অমুক ম্যাডামের কোচিং-এ ভর্তি হয়েছে। তুমি মাঝে মাঝে এসে ওকে একটু পড়া দেখিয়ে দিও।’ কিন্তু এর বিনিময়ে আমাকে কিছু দিবে কিনা এ বিষয়ে মুখ খুলছিল না। অর্থাৎ তারা ফাও খাওয়ার আশায় বসে ছিল। তারা অরিজিনালি বরিশালের ভোলার বাসিন্দা। আজিজ মিয়া কামলাগিরি করে, অর্থাৎ অন্যের জমিতে টাকার বিনিময়ে খেটে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন লোকের কাছে জমি লিজ নিয়ে সেগুলো চাষবাস করে সেটার একটা অংশ নেয়। এভাবেই সে জীবিকা নির্বাহ করে। আগে সে জেলে (fisherman) ছিল এবং পরবর্তীতে ঢাকায় (রিকশা) ভ্যান চালাতো। অথচ সে সুযোগ পেয়ে আমার মতো শিক্ষিত লোকের সাথে যে আচরণ করলো, তাতে বলাই চলে – ‘তুনে আখের তেরা আসলিয়াত দেখাঈ দী’।

তার নাতনী রূপাকে এসএসসি পরীক্ষার সময় চারদিন এবং এর ইমেডিয়েট আগে কমপক্ষে চারদিন ফ্রি পড়িয়েছি। এছাড়া গত বছর টিউশনিটা অফিসিয়ালি ছেড়ে দেয়ার পর তাকে ৪/৫ দিন ফ্রি পড়িয়েছিলাম (তারা টাকার নাম নেয় না, সুতরাং ফ্রি নয়তো কী?)।

এখন সেই মেয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে (সমাজ ও সাধারণ গণিতে এ+ পায় নি), তাই আজিজ মিয়ার ঠেকা সেরে গেছে। সে কোত্থেকে যেন নিজস্ব মিটার আনবে এইবার (দালাল ধরে ‘চোরাপানি’ করে), নতুন কানেকশনে আমাকে রাখতে চায় না। এছাড়া বিল শেয়ারিং নিয়ে কয়েক মাস ধরে জোচ্চুরি করছে। যেমনঃ জানুয়ারী মাসে মোট বিল এসেছিল ৬০৯ টাকা, এর মধ্যে কৌশলে আমার কাছ থেকে নিয়েছে ৫০০ টাকা। আমি সরল মনে তাকে সেটা দিয়েছি, ভেবেছি এ কয়টা টাকা নিয়ে কি আর ভেজাল করবে?!

সে থেকে আমি বিল শেয়ারিং এর বিষয়ে সাবধান হয়ে গেছি। জেনারেল চুক্তি হলো এই রকম – টোটাল বিলের আমি দেব ৬০% আর তারা দেবে বাকিটা (আমি অবশ্য এবার বাদে আগের বাকি সববার ৬০% বা তার কিছুটা বেশি দিয়েছি)। এর পেছনে যুক্তি তিনটিঃ (১) আমার ঘরে বিদ্যুৎ এসেছে বেশি লম্বা লাইনের মাধ্যমে (২) তাদের মতে, আমার ঘরে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বেশি এবং সেগুলো আমরা বেশি ব্যবহার করি (৩) ইউনিট বেশি আসলে বিলের রেট বেড়ে যায়।

গত মাসে আমি পরিবারসহ ঢাকা ছিলাম। কেবল ফ্রিজ চলছিল (নতুন কোনো বস্তু ঢুকানো হয় নি) এবং একটি ৫ ওয়াটের বাল্ব সার্বক্ষণিক জ্বলা ছিল। এ দু’য়ের সম্মিলিত মাসিক বিল কোনোদিন ২৫০ এর বেশি হবে না; আর লম্বা তার, অধিক রেট বিবেচনা করলেও আমার ন্যায্য শেয়ার হবে খুব বেশি হলে ৪০০ টাকা। তারা হয়তো এ সময়টায় আমাদের অনুপস্থিতিতে উল্টাপাল্টা (বেশি করে) ব্যবহার করেছে, তাই সম্মিলিত বিল এসেছে ১১২০ টাকা।

আমার দাবী ছিল, এবার ৫০% দেব; কিন্তু আজিজ মিয়া আর তার বউ এটা মেনে নিতে নারাজ। তারা তাদের বেহিসেবী ঘ্যানঘ্যান চালিয়েই যাচ্ছিল, ‘তুমি থাকো নাই তো কী হইছে, তোমার ফ্রিজ তো চলছে আর লাইট জ্বালানো ছিল পুরা এক মাস’। তারা তো এটা চিন্তা করে দেখে নাই যে, ফ্রিজে নতুন কিছু ঢুকানো না হলে যৎসামান্য বিল আসে। আর ৫ ওয়াটের বাল্ব তো তারা জন্মেও দেখে নাই। তারা এলইডি’র নামে যা ইউজ করে সেগুলো ২০/৩০ ওয়াটের হওয়ার কথা থাকলেও লোকাল মাল হওয়ায় আসলে ১০০ ওয়াটেরও বেশি। একটি গ্যারান্টেড ইমার্জেন্সি (রিচার্জেবল) এলইডি লাইট বাল্ব কতটা কোয়ালিটি প্রোডাক্ট হলে সেটা তিন বছর পার হবার পরও টানা সার্ভিস দিতে থাকে, সেটা তো তারা বুঝবে না।

৫০% নিতে রাজি না হওয়ায় বিল দিতে কিছুটা দেরি করেছি, তাদেরকে একটু ঘুরিয়েছি, হয়রান করেছি। যার ফলে তারা এখন যারপরনাই বিরক্ত, আমাকে সরাসরি বলে দিল, নতুন মিটার আসলে তারা আর কানেকশন দিবে না আমাকে। ব্যাপারটা এই না যে, আমি নিজস্ব মিটারের জন্য চেষ্টা করছি না। বিদ্যুৎ অফিস থেকে বলেছে, জুলাইয়ের ১৫ তারিখের পর যোগাযোগ করতে, সেটা আমি করবো। তাহলে এই দুই-এক মাস আমার সাথে বিদ্যুৎ শেয়ার করলে আজিজ মিয়াদের কী এমন সমস্যা, সেটা আমি বুঝতে পারছি না।

আসলে তাদের নাতনী যেহেতু এসএসসি পাস করে গেছে , তাও আবার (হাসিনার দয়ায়) এ+ সহকারে, সুতরাং তাদেরকে এখন আর পায় কে? যেহেতু করোনার কারণে কলেজে ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস শুরু স্থগিত, তাই তারা আমাকে এখন আর গুণায় ধরছে না। তাই তারা এমন চরম সেলফিশ আচরণ করছে। আমিও কম চালবাজ নই, তাদেরকে বলে দিলাম, ‘আচ্ছা, খুইলা নিমু। আমার তার (শিপের দামী মোটা তার), সার্কিট ব্রেকার দিয়ে দিবেন আর রূপার টিউশনির এক মাসের টাকা দিয়ে দিবেন।’

টাকার কথাটা শুনে আজিজের চান্দি গরম হয়ে গেল; তারা কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছে না, এখানে একমাস হলো কীভাবে। হিসেবটা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। আজিজ এখন খেপে গিয়ে বললো, ‘কানেকশন আমি এখনই খুইলা দিমু।’ আমিও তেজ দেখিয়ে বললাম, ‘দ্যান’। আসলে সে খুলে দিলেও আশেপাশে আরো বাড়িঘর আছে, যেখান থেকে সাইড কানেকশন নেয়া যাবে। এবার আজিজ অশ্রাব্য, অশ্লীল কথাবার্তা শুরু করলো, যেমনঃ ‘যারা পু*কি মারতে পারে, …’। অর্থাৎ তার দাবী মোতাবেক, সে সৎ মানুষ। এখন যদি তাকে বলতে যাই যে, জানুয়ারী মাসে সে কৌশলে কত টাকা চুরি করেছে, তাহলে তো আরো খেপে যাবে।

এসব ঘটনা তিন-চারদিন আগের। লাইন এখনো কেটে দেয় নি। আসলে তাদের নতুন মিটারই আসে নি এখনও। তবে সে ইদানিং আমাকে দেখলে থুতু ফেলছে, দূর থেকে, গা ঘেঁষে নয়। তাই তাকে ঠিক ‘ছোটলোক’ উপাধি দেয়া যাচ্ছে না আমার দেয়া নিম্নোক্ত থিওরি অনুসারে।

ছোটলোকের বৈশিষ্ট্য কী কী?

তবে তারা যে চরম সেলফিশ আর ধান্ধাবাজ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর বেশ কয়েকটি উদাহরণ নিম্নরূপঃ

(১) রূপা পাশ করেছে, কিন্তু কাউকেও মিষ্টিমুখ করায় নি তারা। বাড়ির ধারেকাছে অন্য কাউকে না হলেও আমাকে অন্ততঃ সেটা করানো উচিত ছিল তাদের।

(২) রূপা জিপিএ ৫ পেলেও কোন কোন সাবজেক্টে এ+ মিস করেছে, সেটা আমি জানতে পারি নি, দীর্ঘ এক/দেড় মাস। বস্তুত সে রেজাল্টের পর আমাকে ফোনই দেয় নি। আমার বউ তার দাদীর (আজিজের বউ) কাছে ফোন করে তার পাশের বিষয়টা জেনেছে নিজ তাগিদে, প্রতিবেশী হিসেবে। তখন আমরা ঢাকায় ছিলাম, আর রূপাও ঢাকায় কোনো এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াচ্ছিল।

(৩) রূপার ছোট বোনের আকিকা উপলক্ষ্যে তারা আমাদেরকে দাওয়াত দেয় নি (তখন আমি রূপাকে পড়াতাম), দাওয়াত দেয় নি রূপার দাদীর আপন ছোট বোনের পরিবারকেও, আর রূপার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ক্লাসমেট তাবিতার পরিবারকেও। অথচ রাজনৈতিক বিবেচনায় মিঠু মোল্লাদের পরিবারকে দাওয়াত দিয়েছে। তারা বহু দূরে বাস করে, প্লাস আজিজদের বাসাবাড়ির অবস্থা একেবারে ফকিন্নি টাইপের, তাই তারা দাওয়াতে আসে নি। অর্থাৎ আজিজেরা বুঝতে পেরেছিল যে, মিঠু মোল্লারা আসবে না, তাই তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছে।

এরকম বহু খাইষ্ঠামির উদাহরণ আছে তাদের। অথচ আমি এখানে বাড়ি করার পর তাদের সাথে যেচে মিশতে যাই নি, তারাই আমাদের সাথে মিশতে এসেছিল। তাই সবার প্রতি পরামর্শ হলো, বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের লোকজন যদি আপনার সাথে যেচে মিশতে আসে, তাহলে তাদেরকে পাত্তা দিবেন না। আজিজের ভাষায়, ‘তারা শুধু আপনাকে পু*কিই মারবে!’

আর শেখ হাসিনা ও তার সরকারের লোকদের বলতে চাই, ‘তোমরা মুজিব বর্ষ নিয়ে এতো ফালাফালি না করে করোনার প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে এই আকামটা বাঁধাতে না, আর দেশও এতটা অচল হতো না। তোমাদের কারণেই আমার ঘরে এখনও বৈদ্যুতিক মিটার আসে নি।’