লেজকাটা শিয়ালের গল্প (ছোটলোকদের গল্প)

গরীব হলেই যে ছোটলোক হবে ব্যাপারটা তা না, কিন্তু গরীব হলে ছোটলোক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম, নবী মোহাম্মদ যখন মিরাজে গেলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন যে, জাহান্নামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই নারী। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নারী হলেই যে জাহান্নামী হবেন, ব্যাপারটা তা না। কিন্তু নারী হলে জাহান্নামী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর কারণ সম্ভবত আপনারা জানেন।

হুজুররা তো বেপর্দা নারীদেরকে দেখতেই (সহ্য করতে) পারেন না। গত শুক্রবার জুম্মার সময় এক মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন সেখানকার ইমাম খুতবা দিচ্ছিলেন, ‘এখন যেখানেই যাই, কেবল মেয়ে আর মেয়ে!’। এ বিষয়ে আমিও হুজুরদের সাথে একমত, যদিও আমি একজন নাস্তিক। আমার আপত্তি সেই সকল নারীদের বিষয়ে, যারা ছেলেদেরকে লেজে খেলাতে চান। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দেখতে পারেন নিম্নোক্ত ইউটিউব ভিডিওতে।

যা হোক, বলছিলাম ছোটলোকদের বিষয়ে। কীভাবে ছোটলোকদেরকে চিহ্নিত করবেন? অথবা, ছোটলোকদের বৈশিষ্ট্য কী কী? ছোটলোকদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো – এরা মনে করে, সমাজ এদেরকে ঠকিয়েছে। তাই এরা প্রতিশোধ নেবার জন্য সবসময় ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকে। এ জ্বলুনির বিষয়টি সবাই বুঝবে না। কেবল যারা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট, তারা বুঝবে (যেমন, আমি)।

প্রতিশোধ নেবার জন্য তারা সুইটেবল ব্যক্তি খোঁজে, যাদেরকে তারা নিজের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করে। এই সকল ‘উচুঁ স্তরের’ ব্যক্তিদের সাথে তারা সুযোগ পেলেই খারাপ ও দৃষ্টিকটু আচরণ করে, সিন ক্রিয়েট করে, তাদেরকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে।

আপনারা কি জানেন বা আন্দাজ করেছেন যে, ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে এক শ্রেণির লোক উদ্দেশ্যবিহীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, আড্ডা দেয়। এদের উদ্দেশ্য আসলে অন্যের অনিষ্ট ঘটানোর মাধ্যমে নিজের বহুকাংখিত প্রতিশোধ নেয়া। এ ধরনের লোকই গণপিটুনির সুযোগ পেলে ছাড়ে না। এরা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এমনকি অনেক নোংরা আচরণও করে, যেমনঃ এই করোনাকালীন সময়েও রাস্তায় কিছু লোক পাবেন, যাদের পাশ দিয়ে আপনি যাবার সময় উদ্দেশ্যমূলকভাবে আপনার গা ঘেঁষে থুতু ফেলবে, ড্রপলেট ছড়াবে। এরা আসলে জনমনে আতংক সৃষ্টি করতে চায়। তাই এদেরকে ‘আতংকবাদী’ বা সন্ত্রাসী বললেও ভুল হবে না।

বিদেশে সবাই ছোটলোকদের সম্পর্কে জানে, এখন আমাদের দেশেও সচেতনতা বাড়াতে হবে

অর্থাৎ ছোটলোকদের টার্গেট থাকে, কীভাবে ‘বড়লোক’দের জীবন হেল বা ‘জাহান্নাম’ বানানো যায়। বড়লোকদেরকে তারা সুকৌশলে টেনে-হিঁচড়ে নিজেদের লেভেলে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু বড়লোকেরা মুখে না বললেও ছোটলোকদের অপতৎপরতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই তারা সবসময় সাবধানে চলে। একারণেই ধনী পিতামাতা চান যাতে তাঁদের সন্তানটি গরীব পরিবারের কারো সাথে না মিশে, দরিদ্র পরিবারের কারো সাথে প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে না করে।

তবে সমাজ দিনদিন ছোটলোকদের বিষয়ে সচেতন হচ্ছে, তাই সমাজে বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা কেবল বাড়ছে। এ সকল কারণে ইদানিং আর কেউ অন্যকে ছাড় দিতে রাজি নয়। আগে একটা সময় ছিল, যখন আপামর জনসাধারণের পেটে ভাত না থাকলেও একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ছিল। তখন ধনী ও গরীবদের মাঝে পারস্পরিক আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধাবোধ ছিল। কিন্তু গরীব শ্রেণির মধ্যে কিছু লোক ছোটলোকি শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে, বদলে যেতে থাকে দুনিয়া। তাই তো সবাই এখন দুনিয়াকে স্বার্থপর বলে।

পরিশেষে ধনী ও সুবিধাভোগীদেরকেও কিছু কথা বলতে চাই, আপনারা গরীবের রক্ত চুষে অর্থসম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবেন না। সেটা করলে এ পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েই একদিন আপনাদের মৃত্যু হবে। সমাজ ধনী ও গরীব সবাইকে নিয়েই, সবার সাথেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হবে। যার যেটা ন্যায্য পাওনা, তাকে সেটা দিন। কাউকে ঠকাবেন না, কারো ক্ষতি করবেন না। মনে রাখবেন, ধনী বা গরীব যাই হোন না কেন, একদিন এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে সবাইকে চলে যেতে হবে, সেদিন কবরে বাক্স-পেটরা নিয়ে যেতে পারবেন না। মানুষকে কতটুকু ভালোবাসলেন, সেটাই হবে আপনার রেখে যাওয়া স্মৃতির অংশবিশেষ।

এইচএসসিতে পরীক্ষা কমানোর কথা ভাবছে সরকার

শিক্ষাবর্ষ বাড়তে পারে মার্চ পর্যন্ত, কমবে সিলেবাস

করোনার কারণে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। পাশাপাশি শ্রেণি ঘণ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে কমানো হতে পারে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির সিলেবাস। এমন পদক্ষেপের কারণে আগামী বছরে ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে আনা হতে পারে। যেসব পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি সেগুলোর সংখ্যা কমিয়ে আনা যায় কি না তাও চিন্তাভাবনা চলছে। তবে সিলেবাস কমানোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে কোনো আপোষ করা হবে না।

শনিবার এডুকেশন রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘করোনাকালে শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল সেমিনারে সভাপতিত্ব সংগঠনের সভাপতি মুসতাক আহমদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান ইরাব সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক। সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির নেওয়াজের সঞ্চালনায় এতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইরাব কোষাধ্যক্ষ শরিফুল আলম সুমন। আলোচনায় অংশ নেন ইরাব যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দফতর সম্পাদক এম এইচ রবিন, ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার মহিউদ্দিন জুয়েল, ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার তানিয়া আক্তার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট পুষিয়ে নিতে চলতি শিক্ষাবর্ষ আগামী মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হবে কি না, না ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে তা ভাবনাচিন্তা চলছে। শিক্ষাবর্ষ বাড়ানো হলে আগামী বছরে ঐচ্ছিক ছুটি কমানোর প্রয়োজন হবে। একটি শিক্ষাবর্ষে আমরা ১৪০-১৪২ দিন পড়িয়ে থাকি। বাকিটা ছুটি থাকে। তাই এ বছর শিক্ষাবর্ষ বাড়াতে হলে আগামী বছরের ছুটি কমিয়ে হলেও তা করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা অর্জনের দিকটিতে আপস করা হবে না।

তিনি বলেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার অল্প সময়ে নেয়া যায় কিনা সে ভাবনাচিন্তা আছে । তবে সিলেবাস কমানোর যৌক্তিকতা নেই। কারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সিলেবাস সম্পন্ন করেছে। করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে আসার ১৫ দিন পর এই পরীক্ষা নেয়া হবে।

ডা. দীপু মনি বলেন, বড় একটা সমস্যা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি দেয়া নিয়ে। ফি না পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষকদের কী করে বেতন দেবে? আর শিক্ষকরা তো অধিকাংশই বেতনের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ টিউশনি করাতেন, এখন তো সব বন্ধ। আসলে উভয়পক্ষকে ছাড় দিয়ে এবং মানবিক আচরণ করে এই দুর্যোগের সময়টা আমাদের পার করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজেদের কিছুটা হলেও আগামী ক’মাস চলার মতো, কোনোভাবে চলার মতো সামর্থ্য আছে তাদেরকে অনুরোধ করব ফি’কে কিস্তিতে হোক বা কিছুদিন বাদ দিয়ে পরে নেয়া হোক, সেটি করতে পারেন ভালো। না হলেও দেখেন কতটা ছাড় দেয়া যায়, সেটা চেষ্টা করবেন। এই সময়ে স্কুল বন্ধ আছে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে সে কারণেও কিছু খরচ কম। সেই খরচটুকু বাদ দিয়ে, বাকি যে খরচ, শিক্ষকদের বেতন ইত্যাদি।

তিনি বলেন, অভিভাবকদেরও বলব- আপনাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে, কারণ কিছু না কিছু বেতন তো দিতে হবে। আপনার সন্তান পড়াশোনা করছে, এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে মানে তো সেই বেতন বন্ধ করে দেয়া যায় না। আপনার সন্তানের ফি যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে দেয়া উচিত। আর যদি আপনার সামর্থ্য না থাকে সেক্ষত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও যদি কিছুটা ছাড় দিতে পারে। কিছুটা কিস্তিতে নিতে পারে, যতদূর সম্ভব উভয় পক্ষকেই আসলে মানবিক আচরণ করতে হবে। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এরপর আপনার সন্তানটিকে আপনি কোথায় ভর্তি করাবেন? সেটি সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের দুশ্চিন্তা নিশ্চয়ই।

সংসদ টিভির চলমান ক্লাসগুলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উপযোগী করে তোলার বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, টিভি ক্লাসগুলো মোবাইল ফোনসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। তবে এখনো ১০ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে সংসদ টিভির ক্লাসগুলো পৌঁছায়নি। কিন্তু এই দশভাগকে পেছনে ফেলে আমরা সামনে এগিয়ে যাব না। তাই ইতিমধ্যেই আমরা টোল ফ্রি মোবাইল সুবিধা দেব যা খুবই দ্রুত সেটা চালু করতে যাচ্ছি যার মাধ্যমে সেই ১০ ভাগ শিক্ষার্থীও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে পাঠের সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাজেটে প্রস্তাবনা থাকলেও শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রকে এর বাইরে রেখে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে কিভাবে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া যায় সেটা নিয়েও আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়াও কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের তথ্য সেবা কেন্দ্র ও ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রগুলোকে শিক্ষার জন্য ব্যবহার করা পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র ও ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকেও শিক্ষা সেবা নিতে পারে।’

তবে যেসব জায়গায় এই সুবিধাগুলো নেই সেখানে শিক্ষকরা শিক্ষাদানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হতে পারে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে এই ডিজিটাল সেবা পৌঁছাতে পারবে না আমরা চাইব শিক্ষকরা কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে পাঠদান করতে পারে সেই বিষয়ে আমরা ভাবছি।’

তিনি আরও বলেন, ’ট্রেডিশনাল প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসরুম বা ল্যাবরেটরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়াই শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবে না প্রযুক্তির এই যুগে এটা বলা ঠিক হবে না। যেহেতু ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরির সুবিধাটি রয়েছে, আমরা চেষ্টা করবো সে সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য।’

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ব্যবহারের গতি বেড়েছে। তবে করোনা পরবর্তী সময়ের জন্য আমাদের বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আগে এক বেঞ্চে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী বসতো। সেটা হয়তো আপাতত সম্ভব হবে না, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে হবে। বছরে শুধু ১০০ দিনের বেশি সরকারি ছুটিই থাকে, তা রিভিউ করা হবে। এজন শিক্ষার্থীর পরবর্তী ক্লাসে উন্নীতের জন্য যা পড়ানো দরকার বা যেসব পরীক্ষাগুলো প্রয়োজন সেগুলো নেওয়া হবে।’

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, একদিকে ইন্টারনেটের ওপর সবকিছু নির্ভরশীল হচ্ছে অন্যদিকে এর ব্যবহার বাড়ালে সব প্রস্তুতি বিফলে যাবে। ইন্টারনেট মানুষের হাতের নাগালে রাখতে হবে এজন্য সরকারকে এ খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষার একটি প্রজন্ম হারিয়ে গেলে কয়েক প্রজন্ম হারিয়ে গেল তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই কারণে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, এ বছরের জন্য পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা যেতে পারে। আলোচনা করে পরে তা চালু করা যায়।

ড. ফারহানা খানম বলেন, স্কুলের টিউশন ফি নিয়ে অভিভাবকদের দাবি আছে। কারো ক্ষেত্রে হয়তো এটা সঠিক। কিন্তু ফি না দিলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। তিনি অনলাইন ক্লাস, সিলেবাস হ্রাস, পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিভাবকদের উৎকণ্ঠার দিকগুলো তুলে ধরেন।

সূত্রঃ যুগান্তর, ২৭ জুন, ২০২০

‘করোনার সময়ে চালের দাম বাড়ালে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে’

করোনার সময়ে যদি অপচেষ্টার মাধ্যমে চালের মূল্য বৃদ্ধি করা হয় তাহলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। প্রয়োজনে সরকারিভাবেই চাল আমদানি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার নওগাঁর পোরশা উপজেলা কৃষি ও বন বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত গাছের চারা এবং সবজির বীজসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

চালকল মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এই করোনাকালীন মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন। আপনারা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ চাল সরকারি গুদামে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেবেন। অতীতেও আপনারা সরকারকে চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আশা করি, এ বছরও সরকারি গুদামে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাল দিয়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। এখন ভরা মৌসুম; এই সময়ে চালের দাম বৃদ্ধি পাবার কোনো কারণ নেই।

ব্যবসায়ীদের সাবধান করে দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না। ইতিমধ্যেই সরকার চাল আমদানি করার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। এই করোনার সময়ে অপচেষ্টার মাধ্যমে যদি চালের মূল্য বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারিভাবেই চাল আমদানি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চালের বাজার অস্থিতিশীল হলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন পতিত না থাকে। প্রতি ইঞ্চি জমিতে যেন চাষাবাদ করা হয়। সেই আলোকেই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গাছের চারা ও সবজির বীজসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, একটি গাছ নিধন করা আর একজন মানুষ হত্যা করা প্রায় সমান, যেহেতু গাছের মাধ্যমে আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি। কোনো গাছ যেন কাটা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ উপস্থিত সবাইকে নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে পোরশা উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পোরশা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রঃ যুগান্তর, ২৭ জুন, ২০২০

লেজ কাটা শিয়ালের গল্প (মুনাফিকদের গল্প)

মুনাফিকদের নিয়ে আমি একটি নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট খুলবো, নাম হবে hate-munafix.com অথবা hate-munafix.net. সেটা খুব বেশিদিন পরে নয়, মাত্র দুই-তিন মাস পরেই (যদি বেঁচে থাকি)। তবে ইতিমধ্যেই মুনাফিকদের নিয়ে লেখাটা জরুরী হয়ে পড়েছে।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মুসলিম নামধারী, নামাজী বা মুসল্লি আসলে মুনাফিক। এরা নামাজ-রোজা করে ঠিকই, কিন্তু ইসলামের মূল শিক্ষা-দীক্ষা থেকে সরে এসেছে, তাই এরা মুনাফিক। আমার কথা আলাদা, আমি স্বঘোষিত কাফের বা নাস্তিক। আমি মুসলিম ও মুনাফিকদের কবরস্থানে শায়িত হতে চাই না; বিশ্বের সকল নাস্তিকদের প্রতি আমার আহ্বান – চলুন, আমরা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই (for the sake of memorial, you know for our children/relatives)।

বছর দু’য়েক আগে তৈরি করা আমার বাড়িটি যে এলাকায় (রূপগঞ্জের কোনো একটা গ্রাম্য এলাকায়), সেখানেও প্রচুর মুনাফিক রয়েছে। আমি যেহেতু মসজিদে যাই না, তাই তারা আমার পিছনে লেগেছে। আমার বাড়ির পাশে একটি মসজিদ রয়েছে, সেখানে ফজরের ওয়াক্তে যখন মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসে, তখন এক বা একাধিক ব্যক্তি আমার বাড়িতে ঢিল ছোড়ে, এতে আমার এবং আমার বউ-বাচ্চার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে (যদিও আমার বউ একজন পুরোদস্তুর নামাজী ব্যক্তি এবং সেটা ঐ মুনাফিকেরা জানে)।

এসব কর্মকাণ্ড করে তারা আমাকে নামাজের পথে বা ইসলামের পথে নিতে পারবে না, শুধু তাদের প্রতি আমার ঘৃণার পরিমাণ বাড়াতে পারবে। ঐ মুসল্লিদের সবাইকে মুনাফিক বলছি, কারণ ঢিল একজন বা গুটিকয়েক ব্যক্তি ছুড়লেও ঘটনাটি সম্পর্কে তাদের সবাই অবগত আছে। এমনকি মসজিদের ইমামকেও বলেছি ঘটনাটি সম্পর্কে, তাতে কিছুদিনের জন্য ক্ষান্ত দিলেও ইদানিং আবার অত্যাচার শুরু হয়েছে এবং দিনদিন তার পরিমাণ বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতি না থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাতাম। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক, তাই নতুন করে অভিযোগের বাক্সে আরেকটি উপাদান যোগ করতে চাচ্ছি না।

ঐ মুনাফিক শালায় নিজে এই সেলফি না তুললে তুলছে ক্যাডায়?

আসল কাহিনী কী?

আসল কাহিনী হলো, এসব মুনাফিকদের ‘লেজ’ যেহেতু কাটা, তাই তারা চাচ্ছে যাতে আমার লেজও কাটা যায়। তারা সামাজিক দূরত্ব না মেনে মসজিদে নামাজ পড়ে, তাই তারা চায় – আমিও যাতে সেটা করে তাদের মতো করোনার ঝুঁকিতে পড়ি।

তাছাড়া আমি বলতে গেলে এ গ্রামের সবচেয়ে সচ্ছল ও ঝামেলামুক্ত (নির্ঝঞ্জাট) ব্যক্তি, তাই বাকিরা ঈর্ষাণ্বিত। তারা চায়, আমিও যাতে তাদের মতো ‘ফকিন্নী’র জীবনযাপন করি। তারা চায়, যাতে তাদেরকে দেদারসে টাকা ধার দেই (যেটা তারা আর ফেরত দিবে না), তাদেরকে কিছুদিন পরপরই দাওয়াত করে খাওয়াই। আমিও যদি তাদের মতো কামলাগিরি করতাম, তাহলে তারা খুব শান্তি পেত।

আইসিইউ বেডের তীব্র সংকট : করোনা রোগীর মৃত্যু বাড়ছে চট্টগ্রামে

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড নেই। যে কারণে প্রতিদিনই করোনা রোগীদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে (৮ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু) সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা খুবই সীমিত সংখ্যক থাকলেও পর্যায়ক্রমে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং মৃত্যু সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে করোনার হটস্পট চট্টগ্রামে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে ঘোষিত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা মাত্র আটটি। এসব ডেডিকেটেড হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা মাত্র ৬৯৭টি। তার মধ্যে সরকারি চারটি হাসপাতালে ৪৮২টি এবং বেসরকারি চারটি হাসপাতালে ২১৫টি।

সরকারি চারটি হাসপাতালের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২০০টি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস বা বিআইটিআইডিতে ৩২টি, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে ১০০টি শয্যা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০০টি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ২৮টি, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ৪৭টি এবং ফিল্ড হাসপাতালে ৪০টি।

তবে আক্রান্তের তুলনায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক শয্যা না থাকায় হাসপাতালে রোগীর ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের জন্য চট্টগ্রামে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ৩৫টি। তার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১৬টি এবং বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ১৯টি।

সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ছয়টি, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০টি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ছয়টি এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনটি। 

এত অল্পসংখ্যক আইসিইউ বেড থাকার কারণে রোগীদের হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭০ জন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার।

গতকাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন। একই সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬২১ জন।

মোট মৃতের হিসাবে বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চসংখ্যক ৪৫৪ জনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে মাত্র দুজন কম ৪৫২ জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরিসংখ্যানে তৃতীয় স্থানে রাজধানী ঢাকা ৩৯৪ জন।

অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহে ৪৬ জন, রাজশাহীতে ৬৯, রংপুরে ৪৪, খুলনায় ৫০, বরিশালে ৫৩ এবং সিলেটে ৫৯ জন মারা যান। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগ সংক্রমণের দিক দিয়ে অন্যতম হটস্পট হলেও আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে সুচিকিৎসা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে আইসিইউ বেড সংকটে করোনা রোগীদের মৃত্যু বেশি হচ্ছে চট্টগ্রামে।

গত ২১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় (২৪ জুন সকাল আটটা থেকে ২৫ জুন সকাল আটটা পর্যন্ত) ১৭ হাজার ৯৯৯টি নমুনা পরীক্ষা করে তিন হাজার ৯৪৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৬ জন।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৩৯ জনের মধ্যে ১০ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রামের, পাঁচজন রাজশাহীর, পাঁচজন খুলনার, তিনজন ময়মনসিংহের, বরিশালের দুজন ও রংপুরের চারজন।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪

প্রাথমিকে নতুন ‘শিশু শ্রেণি’, প্রাক-প্রাথমিক দুই বছর

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরেকটি শ্রেণি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্ডার গার্টেনের মতো ‘প্লে গ্রুপ’ এর আদলে নতুন সৃষ্টি করা এ শ্রেণির নাম হবে ‘শিশু শ্রেণি’। এরপর ‘নার্সারি’ শেষ করে প্রথম শ্রেণি। নতুন ‘শিশু শ্রেণি’র ফলে এক বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা হবে এখন থেকে দুই বছর।

নতুন শ্রেণি যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে ২০২১ সালে দেশের দুই হাজার ৫৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করবে সরকার। আর এ কার্যক্রমে সফলতা এলে ২০২৩ সাল থেকে সব বিদ্যালয়েই ‘শিশু শ্রেণি’ চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন ‘শিশু শ্রেণি’ চালুর সিদ্ধান্তে দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন একজন করে শিক্ষক ও একজন করে আয়া নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আর চার বছর বয়সেই শিশুরা নতুন শেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে পরিকল্পনায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ জুন এ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে দুই বছর মেয়াদে প্রাক-প্রাথমিকের কথা বলা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, আগামী বছরে প্রাক-প্রাথমিকের দুটি শ্রেণির জন্যই কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠায় সরকার নতুন শেণি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম জানান, ইতোমধ্যে আমরা কনসেপ্ট ডেভেলপ করেছি। আগামী সোমবার একটি ভার্চ্যুয়াল সভা করে প্ল্যান চূড়ান্ত করবো।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে এক বছর ধরে পড়াশোনা করে। ২০১০ সালে স্বল্প পরিসরে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালুর পর ২০১৪ সালে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি এই শ্রেণি চালু করে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারিভাবে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু না থাকায় শহর ও গ্রামে বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠছে। এতে অসম প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য দেখা দিচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার ব্যয়ও বাড়ছে। প্রাক-প্রাথমিক চালুর পর প্রথম শ্রেণিতে নিট ভর্তি, শিক্ষাচক্র সমাপনী, উপস্থিতি ও সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। অন্যদিকে অনুপস্থিতি এবং পুনরাবৃত্তির হার কমেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৯৯টিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ৩৭ হাজার ৬৭২টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকের একজন করে সহকারী শিক্ষকও রয়েছেন। ২৬ হাজার ৩৬৬ বিদ্যালয়ে একজন করে সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা শিগগিরই নিয়োগ করা হবে।

নতুন শ্রেণি খোলার ফলে শিক্ষার্থীদের আনুসঙ্গিক খরচের জন্য গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন থেকে ৫৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি থেকে ব্যয় করার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নত দেশসহ ৫২ শতাংশ দেশের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা তিন বছর মেয়াদি এবং ৩৩ শতাংশ দেশে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় নিয়েই নতুন শ্রেণি খুলছে সরকার।

সূত্রঃ banglanews24.com

করোনা থেকে বাঁচতে হাদিসের নির্দেশনা ও উপায়

মহামারি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধির ক্ষতি থেকে বাঁচতে ইসলামে রয়েছে হাদিসের নির্দেশনা ও উপায়। মহামারি করোনার এ পরিস্থিতিতে তা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে ঘরে অবস্থান করা।

এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ‍্যা প্রায় কোটির কাছাকাছি। প্রায় পাঁচ লাখের মতো মানুষ এ ভাইরাসে প্রাণ দিয়েছে। সুতরাং মহামারি রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে অবশ্যই রোগে আক্রান্ত এলাকা থেকে দূরে থাকতে হবে।

মানুষের জীবন অনেক দামি। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। দিয়েছেন সুস্থ থাকার তাগিদ। অথচ মানুষ জীবন বাঁচাতে যেখানে সতর্কতা অবলম্বন করবে সেখানে মানুষ সতর্ক না হয়ে বরং উল্টো করোনাকে থোরাই কেয়ার করছে।

বেপরোয়া জীবন যাপন করছে। অথচ মহামারি আক্রান্ত অঞ্চল এড়িয়ে চলা সবার জন্য জরুরি। হাদিসের এ বর্ণনাটিও সবার জন্য আবশ্যক। যদিও তা ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি ফেতনা সম্পর্কে বলেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফেতনার সময় মানুষের নিরাপত্তার উপায় হচ্ছে, তার নিজ ঘরে অবস্থান করা।’ (জামে)

রাসুলে আরবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুর্বল, অসুস্থ উটকে সুস্থ-সবল উট থেকে আলাদা স্থানে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেন সুস্থ-সবল উটটি অসুস্থ হয়ে না যায়। এ নির্দেশ থেকেও প্রমাণিত যে, সুস্থ মানুষ মহামারি আক্রান্ত অঞ্চল কিংবা মহামারির লক্ষণ দেখা যাওয়া উপসর্গ বা রোগ-ব্যাধি গ্রস্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করা জরুরি।

সুতরাং যে অঞ্চল বা এলাকায় মহামারি করোনা দেখা যায়, কিংবা যে ব্যক্তি মহামারি করোনায় আক্রান্ত কিংবা করোনার উপসর্গের উপস্থিতি আছে, তার থেকে নির্ধারিত দূরত্বে অবস্থান করার মাধ্যমে হাদিসের উপর যথাযথ আমল করা। যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘অসুস্থকে সুস্থের মধ্যে নেয়া হবে না (রুগ্ন উট সুস্থ উটের কাছে নেবে না)।’ (বুখারি, মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করেন-
وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ 
‘তোমরা নিজেদেরকে নিজেরা ধ্বংসের মধ্য নিক্ষেপ করোনা।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত ১৯৫)

মহামারি করোনা থেকে সুস্থ থাকার উপায় হলো-
প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মুমিন মুসলমানের সেই বিখ্যাত হাদিসের উপর আমল করা জরুরি। যে হাদিসের উপর আমল করলে সবাই মহামারির বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে। হাদিসে এসেছে-
হজরত উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ মহামারির প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তে শোন, তবে সেখানে প্রবেশ করো না। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভূখণ্ডে যদি তোমরা থাক, তবে সেখান থেকেও বের হয়ো না।’ (বুখারি)

(মজার ব্যাপার হলো, কানাডার মোট জনগোষ্ঠীর কেবল ৪% মুসলিম হলেও সেখানে রাজপথের পাশে বিরাট আকারের বিলবোর্ডে এই হাদিসটি লেখা আছে, জনগণকে অবহিত করানোর উদ্দেশ্যে।)

মুমিন মুসলমানের উচিত, যদি কেউ মহামারি করোনা উপসর্গে আক্রান্ত হয়, কিংবা অসুস্থতায় ভোগে তবে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করবে, হাদিসের উপর আমল করবে। আর তাতে মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে মহামারি করোনা থেকে মুক্তি দান করবেন।

মহামারি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচতে হাদিসে নির্দেশিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা জরুরি। আর তাহলো-
>> اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

>> اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহামারি করোনায় স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণ ও হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। মহামারি করোনা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

সূ্ত্রঃ জাগোনিউজ২৪

কুড়িল বিশ্বরোডে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় পৃথক সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতদের একজন আল আমিন (১৬)। সে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতো। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।ঢাকা রেলওয়ে থানার বিমানবন্দর স্টেশনের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (এসআই) আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ ভোরের দিকে বিশ্বরোডের কাছে রেল লাইনে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেনে কাটা পড়ে আল আমিন নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি কুড়িগ্রামে।’

‘গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একই স্থানে আরেকটি ট্রেনের ধাক্কায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের পরিচয় জানা যায়নি। জানার চেষ্টা চলছে।’

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫ জুন, ২০২০

অবশেষে পিছু হটলেন দুর্জয় সমর্থকরা

করোনাভাইরাস কবলিত মানিকগঞ্জের রেড জোন ঘোষিত ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়ে পর পর দুই দিন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে জমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর অবশেষে পিছু হটেছে দুর্জয় সমর্থকরা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েও আয়োজক নেতারা কেউ আর মাঠে নামেননি। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে যেসব লোকজনকে বিক্ষোভের জন্য জড়ো করা হয়েছিল তারাও প্রশাসনিক তৎপরতার মুখে রাস্তায় জটলা বাঁধানোর সাহস পাননি।

জানা যায়, মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দুর্নীতি-লুটপাটসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গত বুধবার আরিচাঘাটে মানববন্ধন কর্মসূচি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে করোনার রেড জোনের মধ্যেই গণজমায়েত ঘটিয়ে এমপি দুর্জয় ও তার সমর্থকরা চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও জেলার পুলিশ প্রশাসন পড়েছে চাপের মুখে।জেলা পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেড জোনের ঘোষণা অমান্যসহ স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করে ঘিওর, দৌলতপুর ও আরিচাঘাট এলাকায় কারা গণজমায়েত ও মানবন্ধনসহ নানা বিশৃঙ্খলার আয়োজন করেছেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কড়া নির্দেশ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫ জুন, ২০২০

ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার : পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আইসিটি মন্ত্রাণালয় সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে একটানা বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নত বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের মডেল অনেক দেশ অনুকরণ করছে। বর্তমান দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি সকল কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের তৃণমৃল নেতাকর্মী থেকে সর্বস্তরের কর্মীরা কাজ করছে। 

তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি উত্তর সময়ে বিশ্বে কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপট বদলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তি নির্ভর। দেশের সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থীকে প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে সরকার কাজ করছে। ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানেজমেন্ট এন্ড মাল্টিমিডিয়া ইনোভেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। আগে থেকেই দেশের শিক্ষা 
প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করেপ্রতিষ্ঠানিক শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মাধ্যমে প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামিমা হক রোজি, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শিখা,  উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আল আমিন সরকার, উপজেলা বন কর্মকর্তা সত্যোন্দ্র নাথ প্রমুখ। 

এসময় ৩৫০ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ, ৩০০ জন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, ৪০ জনকে বাই সাইকেল, ৫০ জনকে খেলাধুলার উপকরণ, ১০ হাজার গাছের চারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিকে প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী পলক। 

পরে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন শেষে ৫০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ডিও বিতরণ করেন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫ জুন, ২০২০