বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল বাঁচাবেন যেভাবে

এখন বেশিরভাগ কর্মীই বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে ফ্যান, বাতি, এসি, কম্পিউটার বেশি সময় ধরে চলছে। এদিকে বাড়ির সব সদস্য বাড়িতেই থাকার কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। আবার বাইরে খাওয়া বন্ধ, তিনবেলা খাবারের সঙ্গে সকাল-বিকাল চা-নাস্তা খাওয়া। গ্যাস তো বেশি খরচ হবেই।

ইচ্ছে থাক বা না থাক, আমাদের সবাইকেই খরচ কমানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে খুব সচেতনভাবেই। চাকরির বাজারের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, তাই আগামী কঠিন সময়ের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করা উচিত। কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্যিটা হচ্ছে যে সাম্প্রতিক আমফান ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছে অজস্র বড় গাছ, যার ফলে বিপুল অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় যেকোনো এনার্জি ব্যবহারের আগেই আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

গ্যাস বাঁচানোর ক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে প্রেশার কুকার। যেকোনো রান্না ভালো করে কষে প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে নিন। লাউ, পেঁপে, বাঁধাকপির মতো সবজি সেদ্ধ হতে সময় লাগে বেশি। সামান্য লবণ দিয়ে তা প্রেশার কুকারে ভাপিয়ে নিয়ে রান্না করুন।

চাল বা ডাল রান্নার আগে বেশ অনেকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। রান্নার আগে পানি ফেলে দেবেন। প্রেশারে দিয়ে সেদ্ধ করা যায় দুটোই। তাতে গ্যাস বাঁচে।

যদি প্রেশারে রান্না করা ভাত না সহ্য হলে একটা কাজ করুন। টগবগে গরম পানিতে চাল ছাড়ুন, ভাত দু’বার ফুটে গেলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। আধ ঘণ্টা পর দেখুন, চাল অনেকটা নরম হয়ে যাবে। তখন আর একবার ফুটিয়ে নিলেই হবে।

বার বার চা করতে হয়? তাহলে চায়ের পানি ভালো করে ফুটিয়ে নিয়ে ফ্লাস্কে ভরে রেখে দিন। চা বানানোর আগে আর একবার গরম করে নিলেই হবে! বাসন ধুয়ে শুকনো করে গ্যাসে বসান। না হলে বাসনের পানি শুকাতেও এনার্জি পোড়ে।




রান্নায় একগাদা পানি দেবেন না, আর রান্না বসানোর আগে হাতের কাছে সব জোগাড় রাখুন। রাঁধতে বসে কড়া জ্বলে যাচ্ছে, অথচ মশলা বাটা বা সবজি কাটা নেই- এরকম যেন না হয়। কম আঁচে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। তাতে গ্যাস বাঁচে, রান্নায় পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।

যখন যে গ্যাজেট ব্যবহার হচ্ছে না, তখন সেটি পুরোপুরি সুইচ অফ করে রাখুন। ইলেকট্রিসিটি বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ উপায় সেটাই। রিমোট সুইচ দিয়ে টিভি বা এসি অফ করলেও কিন্তু বিদ্যুৎ পোড়ে।

পুরো ঘরে চড়া আলো না লাগিয়ে টেবল ল্যাম্পের ব্যবহার বাড়ান। ল্যাপটপ বা রিডিং টেবলের সামনে ভালো সিএফএল বালব দেয়া ল্যাম্প লাগিয়ে নিন।

যে ৭ অবস্থায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন না

সংক্রমণের ভয়ে আমরা প্রায় সবাই ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারে অভ্যাস্ত হয়ে উঠেছি। যদিও হাতের জীবাণু দূর করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বেশ কার্যকরী, তবে এর অত্যধিক ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অতিরিক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে তা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলতে পারে যা আমাদের ত্বক এবং শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের সুস্থ রাখতে ভালো মাইক্রোবায়োমগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রচুর মাইক্রোবায়োমকে মেরে ফেলে। যদিও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রে কতখানি হলে তাকে অতিরিক্ত বলা যাবে তা নির্ধারণ করা কঠিন, এটি হিসাব করা যাবে যখন আপনি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এড়াতে পারবেন।




হিতে বিপরীত যাতে না হয় সেজন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের আগে জেনে নিন কখন এটি ব্যবহার করা জরুরি নয়-

সাবান-পানির ব্যবস্থা থাকলে
আপনার যদি সাবান-পানিতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকে, তবে তাই করা উচিত। হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রয়োজন যখন সেই ব্যবস্থা না থাকে। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এর মতে, জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো সাবান এবং পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য হাত ধুয়ে ফেলা। সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ফলে জীবাণু দূর হয়। সম্ভব হলে সব পরিস্থিতিতে আপনার হাত পরিষ্কার করার জন্য সাবান এবং পানি প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।

আপনার হাত দৃশ্যমান নোংরা হলে
আপনি যদি স্যানিটাইজার দিয়ে ময়লা হাত পরিষ্কার করার চেষ্টা করে থাকেন তবে জেনে রাখুন এটি কেবল ঝামেলাই বাড়ায়। অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ময়লা অপসারণ করে না। হাত ময়লা থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া মারার ক্ষেত্রে কম কার্যকর হবে। ময়লা হাত পরিষ্কার করার জন্য সাবান এবং পানি ব্যবহার করুন। উদাহরণস্বরূপ, বাগান করা, খেলাধুলা, বাইরে খেলা করার পরে আপনাকে অবশ্যই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এড়াতে হবে।

যখন কেউ আপনার পাশে হাঁচি দেয়
সত্যি বলুন, আপনার পাশে বসে কেউ হাঁচি দিলে আপনি কতবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেছেন? অনেক বার, তাই না? আসল বিষয়টি হলো কেউ যখন আপনার কাছাকাছি কাশি করে বা হাঁচি দেয়, আপনি শ্বাস নেয়ার সময় বাতাসের ফোঁটা থেকে সংক্রমণটি ধরবেন। দূষিত হাত সংক্রমণ ধরার একমাত্র উপায় নয়। আপনার কাছে যখন কেউ কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন তখন বারবার আপনার হাত স্যানিটাইজ করবেন না।

আপনি কাউকে বা কিছুই স্পর্শ করেনি
আমাদের মধ্যে অনেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন অভ্যাসের বাইরে। তবে একটি নতুন গবেষণা বলছে, ঘন ঘন এর ব্যবহার প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাকটেরিয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজারের অতিরিক্ত ব্যবহারের সাথে সাথে প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। আমরা যত বেশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করি ততই অ্যালকোহল সহ্য করতে পারা জীবাণু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। সুতরাং, স্যানিটাইজার কেবল প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষণ করুন।

আপনি মাত্র ৫ মিনিট আগে স্যানিটাইজ করেছেন
আপনার হ্যান্ড ক্রিম কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে? যত লোশনই মাখেন না কেন, হাত শুষ্কই থাকছে? এর জন্য দায়ী হ্যান্ড স্যানিটাইজার। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের জ্বালা এবং শুকনো হাতের কারণ হতে পারে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সব সময় ব্যবহার না করে শুধুমাত্র প্রয়োজনে ব্যবহার করা ভালো। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এর মতে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রয়োগের সঠিক উপায় হলো প্রায় ২০ সেকেন্ডের জন্য উভয় হাতেই এপিঠ-ওপিঠ এটি ঘষতে থাকা।

যখন শিশুদের আশেপাশে থাকেন
হ্যান্ড স্যানিটাইজার শিশুদের জন্য ব্যবহার করা নিরাপদ কারণ স্যানিটাইজারের ফলে শরীরে অ্যালকোহলের কোনো উল্লেখযোগ্য শোষণ হয় না। তবে অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজারের ইনজেশন বা শ্বাস গ্রহণের ফলে আঘাত বা বিষক্রিয়া হতে পারে। ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত, মার্কিন বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো শিশুদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এক্সপোজার সম্পর্কে প্রায় ৮৫,০০০ কল পেয়েছিল।

ফ্লু হলে
ধরুন আপনার ফ্লু হয়ে গেল, যদিও আপনি নাক ঝাড়ার পরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন। তার মানে এই নয় যে আপনি বাইরে যাওয়াই ভালো। হ্যান্ড স্যানিটাইজার অনেক সংক্রমণ প্রতিরোধের একটি প্রয়োজনীয় উপায়। তবে আপনার ফ্লু হলে বাড়িতেই থাকাই ভালো।

সূত্রঃ jagonews24.com, ২৭ মে

করোনা: ছুটি শেষেও নিরাপদে থাকতে করণীয়

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে তুলে দেয়া হচ্ছে লকডাউন। বাংলাদেশেও রোববার থেকে শেষ হচ্ছে সরকারি ছুটি।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা ছুটি শেষে খুলে যাচ্ছে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান। চলবে গণপরিবহনও।

এতদিন করোনা সংক্রমণ রোধে যারা ঘরবন্দী ছিলেন; তাদেরও এখন কর্মস্থলের জন্য বের হতে হবে।

ছুটি শেষ হওয়ার কারণে সব জায়গায় মানুষের ভিড় বাড়বে। এ সময় নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখতে সচেতন হতে হবে। মানতে হবে কিছু নিয়ম।

শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের সবার জন্য মানতে হবে নিয়মগুলো। কারণ করোনা ছোঁয়াচে রোগ।

এ সময় নিরাপদে থাকতে করণীয়-

১. বাড়িতে যেন কোনোভাবেই জীবাণু না ঢুকতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

২. বাইরে গেলে মাস্ক আর গ্লাভস ব্যবহার করুন। সঙ্গে রাখুন স্যানিটাইজার ও টিস্যু পেপার

৩. বাইরে থেকে ফিরে ২০ মিনিট সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন ও গায়ের পোশাক ও মাস্ক পরিষ্কার করুন।

৪. গাড়ির দরজার হাতল ও সিট জীবাণুমুক্ত করে নিন।

৫. অফিসে ঢুকে ডেস্ক, কম্পিউটারের কি-বোর্ড ও ফোন মুছে নিন। গ্লাভস পরেই কাজ করতে পারলে ভালো।

৬. বার বার সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৭. বাইরে থেকে ফিরে আগে গোসল করে নিন। ব্যবহার করা পোশাকটি ধুয়ে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিন।

৮. মুখ, নাক বা চোখে হাত দেবেন না।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর, ৩০ মে

মেহেরপুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে আটকে বিয়ে দিলেন এলাকাবাসী

পরকীয়া প্রেমের খেসারত দিতে হলো মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে। সম্প্রতি স্বামীহারা ফারহানা ইয়াসমিন সকলের অজান্তে মেহেরপুরের বুড়িপোতা ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের আনছারুল হকের ছেলে সরোয়ার হোসেন সবুজের (৩০) সাথে চুটিয়ে প্রেম-প্রেম খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সকলের সন্দেহের দানা বেঁধে উঠলেও ফারহানা পরিবার, সমাজ ছাড়াও তার একমাত্র মেয়েকে আড়াল করে পরকীয়া প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন।




মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামের পূর্বপাড়াস্থ তার ভাড়া বাড়ীতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার সময় বেরসিক জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে কেলেংকারীর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সাথে সাথে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ, খালেক, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর নবীরউদ্দীনসহ অসংখ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রথমে পরকীয়া প্রেমের কথা দু’জন অস্বীকার করলেও নানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন। ঘটনার তদন্ত করতে অভিযুক্ত সবুজ ও ফারহানার মোবাইল ফোন সার্চ করে তাদের পরকীয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। মোবাইল ফোনের ম্যাসেঞ্জারে তাদের অনৈতিক মেলামেশা ও গোপনীয় আলাপচারিতার অডিও ভিডিওর চিত্র পাওয়া গেছে।

ফারহানা জানান, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর থেকে সবুজের সাথে আমার পরিচয়। সে আমার ছোট দেবরের মতো। আমার বাড়ীতে প্রায়ই বেড়াতে আসে। আমার প্রয়াত স্বামী শাহাব উদ্দীন জীবিত থাকাকালীন সময় থেকে আমার বাসায় যাতায়াত করতো। অন্যদিকে সবুজ জানায়, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক নানা কর্মসূচীতে তার সাথে আমার পরিচয়। আমি তার ছোট ভাই হিসাবে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। পরবর্তীতে সে আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে।

এসময় তার একমাত্র ছোট মেয়ে বহু লোকজন ও সাংবাদিকদের জানায়, অনেক আগে আমার মা সবুজ আঙ্কেলকে মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছে। ঘটনার পোষ্ট মর্টেম শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক অভিভাবক হিসাবে ও গাংনী পৌরসভার মেয়রের প্রস্তাবে উভয়ে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান ও গাংনী পৌরসভার মেয়রের উপস্থিতিতে ২০ লাখ টাকা দেন মোহরে তাদের ২য় বিয়ে পড়ানো হয়। এসময় ছেলে পক্ষের পিতা ও নিকটাত্মীয়, গাংনী পৌর সভার কাউন্সিলর আসাল উদ্দীন, শ্রমিক নেতা মনিসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যনকে সকলেই ভাবী সম্বোধন করতো। তাই শরৎ চন্দ্রের ভাষায় ‘বৌদির বিয়ে’ হওয়ায় শহরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ দিকে স্বামী শাহাবউদ্দীনের মৃত্যু নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বেঁধে উঠছে। অনেকেই মন্তব্য করে বলছেন, এই পরকীয়া প্রেমের কারণেই শাহাব উদ্দীনকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

এই দু’জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মৃত্যু রহস্য উদঘাটিত হতে পারে বলে অনেকেই বলাবলি করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ খালেক জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নইলে উচ্ছৃংখল বেরসিক লোকজন বেপরোয়া হয়ে শৃংখলা ভঙ্গ করতো।

সূত্রঃ enews71.com, ২৭ মে

৩৩৩ এ কল দিয়ে করোনা বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই

Corona Helpline

চাকুরীর কারণে রূপগঞ্জ থেকে ঢাকার রামপুরায় আসার আগে ভাবলাম, করোনা টেস্ট করিয়ে তারপর যাই। সেখানে বাবা, মা, ভাইয়েরা থাকে। ওখানে আমার একটি রুম আগে থেকেই খালি পড়ে আছে। টেস্ট করাতে চাওয়ার কারণ হলো, যদি সেখানে গিয়ে লোকজনের বা পরিবারের সদস্যদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। তাই এ মাসের ৮ তারিখে ৩৩৩ অর্থাৎ করোনা হেল্পলাইনে কল দিলাম, রূপগঞ্জে ঠিক কোথায় টেস্ট করায় সেটা জানতে। টিভির সংবাদে দেখেছিলাম, ৩০ এপ্রিল তারিখে রূপগঞ্জের কাঞ্চনে নাকি এলাকার এমপি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গাজী সাহেব নিজ খরচে টেস্টিং ল্যাব বসিয়েছেন। এছাড়া ধারণা ছিল, ইউএস বাংলা হাসপাতালেও টেস্টটা করায়। কারণ এ হাসপাতালের নামও টিভিতে শুনেছিলাম। প্রকৃত সত্য হলো, রূপগঞ্জে করোনা টেস্ট করায়, তবে সেজন্য ইউএস বাংলা হাসপাতালে বা কাঞ্চনের ল্যাবে যাওয়ার দরকার নেই। যেতে হবে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেটা রূপগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের খুব কাছে সাবাসপুর নামক এলাকায় অবস্থিত। এখান থেকে রক্তের স্যাম্পল নিয়ে কাঞ্চনের ল্যাবে পাঠায় পরীক্ষার জন্য। এজন্য কোনো টাকা লাগে না। তবে রূপগঞ্জের বাইরের লোক এখানে ফ্রি টেস্ট করাতে পারবে কিনা জানি না। অথচ সরকারের করোনা বিষয়ক হেল্পলাইন ৩৩৩ এর জনৈক ডাক্তার আমাকে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারলেন না। তিনি আমাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল বা মুগদা হাসপাতালে যেতে বললেন।

আমার কথাগুলো বিশ্বাস না হলে নিম্নোক্ত কল রেকর্ডিংটি শুনুন।

এছাড়া গণমাধ্যমগুলোও সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। জাগো নিউজ ২৪ এর নিম্নোক্ত খবরটি দেখুন। এখানে বলা আছে, ইউ এস বাংলা হাসপাতালে নাকি করোনা টেস্ট হয়। আদৌ ব্যাপারটা তা নয়; সত্য ঘটনা হলো – কাঞ্চনে যে ল্যাব আছে, সেখানে টেস্টিং কার্যক্রম পরিচালনা করে ইউ এস বাংলার কর্মীরা।

যে ল্যাবগুলোতে করোনা পরীক্ষা করতে পারবেন

যে কথাগুলো শেয়ার করার তাগিদ অনুভব করি – পর্ব ৩

১. অনেকেই আছেন হয়তো করোনার উপসর্গ প্রকাশ পায় নি। তাই নিজের করোনা হয়েছে ধরে নিয়ে খাবারে মশলা কম খাবেন। প্লাস, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাবারে কম তেল খান, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন। যেমনঃ চিপস হলো একটি লবণযুক্ত খাবার। জেনে নিন, সবরকম মুখরোচক খাবারে তেল, চিনি, লবণ বেশি ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য যুক্তি হলো – তরকারীতে তো যথেষ্ট লবণ দেয়া হয়ই, তাই পাতে আলাদাভাবে লবণ নেয়ার দরকার নেই।

চিনি ও লবণযুক্ত খাবার যত কম খাবেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তত বাড়বে

২. জনগণ সরকারের লকডাউনের নিয়ম মানছে না, সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মনীতির প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে না। এর কারণ হলো – এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয়। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে জনগণ পরস্পরকে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করতে পারে না, যার পারফেক্ট উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

৩. ঈদ উপলক্ষ্যে প্রাইভেট কারে করে লোকজন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে পারবে – বিষয়টি আমার কাছে সুবিধার মনে হয় নি। এসব সিদ্ধান্তের ফলে সরকার ও সামর্থ্যবানদের প্রতি সামর্থ্যহীনদের ঘৃণা আরো বাড়বে।




৪. ‘মুভমেন্ট পাস’ -এর ব্যাপারে জানেন তো? আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরকার এমন এক ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে ঘর থেকে বের হতে হলে জনগণকে প্রথমে ইন্টারনেটে যথোপযুক্ত কারণ দেখিয়ে আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে, যার কনফার্মেশন এসএমএস মোবাইলে যাবে। যাওয়া ও ফিরে আসা – এ দু’য়ের জন্য আলাদা আলাদা পাস লাগবে। এ ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর হবে বলে মনে হয় আপনার, কমেন্টে জানান। সকল জনগণের কি ইন্টারনেট অ্যাক্সেস আছে? – কেবল এতটুকু চিন্তা করুন।

৫. করোনা ভাইরাস বা কোভিড নিয়ে এত আতংকের কী আছে? অামার তো মনে হয়, লকডাউনের আগে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এর চেয়ে অনেক বেশি লোক মারা যেত। এইডসকে খুব ভয়ংকর মনে করা হয়। কিন্তু আপনি জানেন কি, এইডসের চেয়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে পৃথিবীতে অনেক বেশি লোক মারা যাচ্ছে? তাই করোনা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করে নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে ফেলবেন না। জাস্ট আপনি সাধ্যমতো চেষ্টা করুন করোনা হতে দূরে থাকতে। ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোবেন; দরজার হাতল, মেঝে জীবাণুমুক্ত রাখবেন। সামাজিক সংশ্রব কমান, বিনা দরকারে কাউকে স্পর্শ করবেন না; যখন-তখন নাকে, মুখে, চোখে হাত দিবেন না। আর করোনা যদি হয়েই যায়, তাহলে তা আপনার নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর ছেড়ে দিন। অর্থাৎ ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিন; ধরে নিন, যা হবার তা হবেই। তবে ভেঙে পড়বেন না, বা বিমর্ষ হয়ে থাকবেন না কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনের সময়; উৎফুল্ল থাকুন। ধরে নিন, আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন বা সুস্থ আপনাকে হতে হবেই। অনেকে হয়তো আপনাকে কেবল ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করতে বলবে এসময় (পাছে কখন মারা যান!)। তবে আমার পরামর্শ হলো – রোগের লক্ষণ খুব তীব্র না হলে এসময়টা বিনোদনে নিমজ্জিত হয়ে কাটান। যেমনঃ কমেডি শো দেখুন – মিস্টার বিন, চার্লি চাপলিন এর শো অথবা মোশাররফ করিমের কমেডি নাটকগুলো দেখুন। তবে একটি বিষয় হলো – এসময় আপনার কাছ থেকে যাতে অন্যরা সংক্রমিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। নিজ পরিবার থেকে শুরু করে জনগণকে তো সবারই ভালোবাসা উচিত, তাই না?

৬. আমার মনে হয়, সরকার ঘাড়ত্যাড়ামি করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ না করলেই পারতো। যদিও আমি অর্থনীতি খুব বেশি বুঝি না, তবে এতটুকু আন্দাজ করি – এ সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করতে গিয়ে সরকার নিজেকে ও জনগণকে অকল্পনীয় অর্থের ঋণে জর্জরিত করেছে। সম্ভবতঃ নিজেদের দুর্নীতিকে অস্বীকার করতে গিয়ে সরকার এ ঢেঁকি গেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার অলরেডি এতখানি ঋণ করে না থাকলে, করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন খাতে অনায়াসে প্রণোদনা দিয়ে অর্থনীতিকে কিছুটা পুনরুদ্ধার বা সচল রাখার চেষ্টা করতে পারতো। এখন ডাকসাইটে অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা নেই সরকারকে ঋণ দেয়ার মতো। তাহলে বুঝুন অবস্থা!

৭. ত্রাণ ও সাহায্য দেয়ার সময় গরীব জনগণের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয় না কেন? এ ব্যাপারে ত্রাণ দানকারী পার্টিকে সচেতন হতে হবে। আর ত্রাণ দানের সময় এতো ফটোসেশনের কী দরকার? ২০-৩০ জন লোক মিলে গাদাগাদি করে ফটো তোলার দরকার কী?

তোমার হয়ে গেছি আমি আমার অজান্তে – লিরিক্স

তোমার হয়ে গেছি আমি আমার অজান্তে
অবুঝ প্রেমের ছোঁয়া লাগে মনের একান্তে
(এই আমি যে এমন হবো তুমি কি জানতে?)*২
তোমার হয়ে গেছি আমি আমার অজান্তে

(ওগো চলার পথে তোমার সাথে যেদিন হলো দেখা
বুঝিনি তো এই পরাজয় ভাগ্যে যে আছে লেখা)*২
(সেই সে লিখন আমার এখন হবে যে মানতে)*২
তোমার হয়ে গেছি আমি আমার অজান্তে

(আমি প্রেমের ফুলের মালা গেঁথে নিলাম মনে মনে
তুমি এসে পরবে গলায় কোন সে শুভ ক্ষণে?)*২
(সুখে দুখে তোমার বুকে আমাকে টানতে)*২
তোমার হয়ে গেছি আমি আমার অজান্তে
অবুঝ প্রেমের ছোঁয়া লাগে মনের একান্তে
(এই আমি যে এমন হবো তুমি কি জানতে?)*২
তোমার হয়ে গেছি আমি আমার অজান্তে
অবুঝ প্রেমের ছোঁয়া লাগে মনের একান্তে
হুম..হুম…হুম….লা….লা…লা

প্রতীকি ছবি

নিখাদ রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিক ছিলেন শেরে বাংলা

“মিস্টার জিন্নাহ, ভুলে যাওয়া উচিত নয় এটা বাংলাদেশ এবং তুমি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে কথা বলছ।”
***********************************
কলকাতার বাবুরা বলেছেন, “ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করার কোনো দরকার নেই। ফার্মগেট আছে, ধানমণ্ডি আছে, পাশে একটা কৃষি কলেজ করে দাও।”

এই ধরনের কায়েমী স্বার্থবাদী আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিটিশ লর্ডের কাছে গিয়ে শেরে বাংলা ফজলুল হক বোঝালেন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। এবার ব্রিটিশরা কিছুটা নমনীয় হল — কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলো একটু দেরিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা ফজলুল হক ।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯১৬ সালে মুসলিম লীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হন । পরের বছর ১৯১৭ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এর সাধারণ সম্পাদক হন । তিনিই ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যিনি একই সময়ে মুসলিম লীগ এর প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেস এর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন । ১৯১৮ -১৯ সালে জওহরলাল নেহেরু ছিলেন ফজলুল হকের ব্যক্তিগত সচিব ।




১৯৩৭ এর নির্বাচনে শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে জিতলে তিনি জমিদারি প্রথা চিরতরে উচ্ছেদ করবেন।

তিনি যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন তার জন্য সারা বাংলাদেশ আর কলকাতার জমিদাররা একত্র হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। লাভ হয়নি — কৃষকরা তাদের নেতাকে ভোট দিয়েছেন।

মুসলিম লীগ এর লাহোর অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বক্তব্য দিচ্ছেন । হঠাৎ করে একটা গুঞ্জন শুরু হলো, দেখা গেল জিন্নাহর বক্তব্যের দিকে কারও মনোযোগ নেই । জিন্নাহ ভাবলেন, ঘটনা কী? এবার দেখলেন, এক কোণার দরজা দিয়ে ফজলুল হক সভামঞ্চে প্রবেশ করছেন, সবার আকর্ষণ এখন তাঁর দিকে । জিন্নাহ তখন বললেন — When the tiger arrives, the lamb must give away. এই সম্মেলনেই শেরেবাংলা উত্থাপন করেছিলেন ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব ।

১৯৪০ সালের ২২-২৪ শে মার্চ লাহোরের ইকবাল পার্কে মুসলিম লীগের কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই কনফারেন্সে বাংলার বাঘ আবুল কাশেম ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি তার প্রস্তাবে বলেন, হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বাস্তবতায় হিন্দু মুসলিম একসাথে বসবাস অসম্ভব। সমাধান হচ্ছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র এবং পূর্বাঞ্চলে বাংলা ও আসাম নিয়ে আরেকটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

পাঞ্জাবের মওলানা জাফর আলী খান, সীমান্ত প্রদেশের সর্দার আওরঙ্গজেব, সিন্ধের স্যার আব্দুল্লাহ হারুন, বেলুচিস্তানের কাজী ঈসা ফজলুল হকের প্রস্তাব সমর্থন করেন। কনফারেন্সে এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।

লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের সময়ে হিন্দুপ্রধান প্রদেশগুলোতে মুসলিম নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকার কারণে ফজলুল হক খুবই উদ্বিগ্ন এবং কিছুটা উত্তেজিত ছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে একবার বলেন, ‘ আমি আগে মুসলিম, পরে বাঙালী (muslim first, bengali afterwards)’। বক্তৃতার এক পর্যায়ে এসে বলেন, ‘কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতে যদি আর কোনো মুসলিম নির্যাতিত হয় তাহলে আমি বাংলার হিন্দুদের উপর তার প্রতিশোধ নেব।’

যে ফজলুল হক তিন বছর আগে সোহরাওয়ার্দী, নাজিমউদ্দিনকে রেখে শ্যামাপ্রসাদের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠন করেছেন, সেই ফজলুল হকের মুখে এমন বক্তব্য তখনকার ভারতে ব্যাপক আলোড়ন সৃাষ্ট করেছিল।

বর্তমানে যে পাকিস্তান রাষ্ট্র তার ভিত্তি হচ্ছে লাহোর প্রস্তাব। তাই ২৩ শে মার্চ কে পাকিস্তানে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

কিন্তু লাহোর প্রস্তাব পাশ হওয়ার কয়েকদিন পরে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ চালাকির আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবটি টাইপ করার সময়ে ভুল করে muslim majority states লেখা হয়েছে; আসলে হবে state । জিন্নাহর ধারণা ছিল, দেন-দরবার করে দুই পাশে দুইটা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাই স্টেটস এর জায়গায় স্টেট লিখে একটা মুসলিম মেজরিটি রাষ্ট্র করতে হবে।

জিন্নাহর এই ধূর্ততার কারণে ফজলুল হক তাঁর সাথে পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হননি। তরুণ শেখ মুজিব যখন জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তখন অভিজ্ঞ ফজলুল হক পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছেন। তিঁনি অনুমান করতে পেরেছিলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে কী কী দুর্দশা হবে বাংলার মানুষের। তাই তিনি পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন…….
“বাংলার মাটিও তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছিল। যখনই হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেছি, তখনই বাধা পেয়েছি। একদিন আমার মনে আছে একটা সভা করছিলাম আমার নিজের ইউনিয়নে, হক সাহেব কেন লীগ ত্যাগ করলেন, কেন পাকিস্তান চাননা এখন? কেন তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সাথে মিলে মন্ত্রীসভা গঠন করেছেন? এই সমস্ত আলোচনা করছিলাম, হঠাৎ একজন বৃদ্ধ লোক যিনি আমার দাদার খুব ভক্ত, আমাদের বাড়িতে সকল সময়েই আসতেন, আমাদের বংশের সকলকে খুব শ্রদ্ধা করতেন- দাঁড়িয়ে বললেন,”যাহা কিছু বলার বলেন, হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছুই বলবেন না। তিনি যদি পাকিস্তান না চান, আমরাও চাই না। জিন্নাহ কে? তার নামও তো শুনি নাই। আমাদের গরিবের বন্ধু হক সাহেব।” এ কথার পর আমি অন্যভাবে বক্তৃতা দিতে শুরু করলাম। সোজাসুজিভাবে আর হক সাহেবকে দোষ দিতে চেষ্টা করলাম না। কেন পাকিস্তান আমাদের প্রতিষ্ঠা করতেই হবে তা-ই বুঝালাম। শুধু এইটুকু না, যখনই হক সাহেবের বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখাতে গিয়েছি, তখনই জনসাধারণ আমাদের মারপিট করেছে। অনেক সময় ছাত্রদের নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি, মার খেয়ে।”

বঙ্গবন্ধুর বাবা বলেছেন , “বাবা তুমি যাই করো শেরে বাংলার বিরুদ্ধে কিছু বলো না। শেরে বাংলা এমনি এমনি শেরে বাংলা হয়নি।”

ফজলুল হক জানতেন মাঝখানে ভারতকে রেখে পশ্চিম আর পূর্বে জোড়া দিয়ে এক পাকিস্তান করলে তা কখনো টিকবে না। ‘ জিন্নাহ আমার লাহোর প্রস্তাবের খৎনা করে ফেলেছে – বলে ফজলুল হক পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন নি।

১৯৪৬ এ এসে জিন্নাহ সোহরাওয়ার্দীর দুই বাংলা একত্র করে স্বাধীন যুক্তবাংলার দাবী মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাও ভাগ করতে হলো।

ফজলুল হক বলেছিলেন, একটি পাকিস্তান কখনও টিকবে না। বাংলা এবং আসামকে নিয়ে পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র করতে হবে।

১৯৭১ সালে এসে দেখা গেল, ফজলুল হকের আশঙ্কা এবং ভবিষ্যতবাণী সঠিক। ১৯৭১ এর মতো এমন কিছু যে ঘটবে শেরে বাংলা ফজলুল হক তা আঁচ করতে পেরেছিলেন ১৯৪০ সালেই। তাই তিনি ১৯৪০ সালেই বাংলা আর আসাম নিয়ে পৃথক রাষ্ট্র করতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

১৯৭১ এর যুদ্ধ হলো ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন। লাহোর প্রস্তাব ফজলুল হক যেভাবে উত্থাপন করেছিলেন সেভাবে মানলে একাত্তরে এই দেশে রক্তগঙ্গা বইতো না।

পেশাজীবনে শেরেবাংলা কলকাতা হাইকোর্টের নামকরা আইনজীবী ছিলেন। একদিন তাঁর জুনিয়র হাতে একগাদা পত্রিকা নিয়ে এসে বললেন, ” স্যার , দেখুন , কলকাতার পত্রিকাগুলো পাতার পর পাতা লিখে আপনার দুর্নাম ছড়িয়ে যাচ্ছে — আপনি কিছু বলছেন না । ” তিনি বললেন, ” ওরা আমার বিরুদ্ধে লিখছে তার মানে হলো আমি আসলেই পুর্ব বাংলার মুসলমান কৃষকদের জন্য কিছু করছি। যেদিন ওরা আমার প্রশংসা করবে সেদিন মনে করবে বাংলার কৃষক বিপদে আছে। “

মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলী বরিশাল বারের নামকরা উকিল । একবার ওয়াজেদ আলীর প্রতিপক্ষ মামলার ইস্যু জটিল হওয়ার কারণে কলকাতা থেকে তরুণ উকিল ফজলুল হককে নিয়ে আসে ওয়াজেদ আলীকে মোকাবেলা করার জন্য । ফজলুল হক ওই সময়ে কেবলমাত্র ফজলুল হক , শেরে বাংলা তখনও হননি । তিনি মামলা লড়তে এসেছেন , কিন্তু বিপক্ষের উকিল কে সেই খবর জানতেন না ।

কোর্টে এসে দেখলেন বিপক্ষে তাঁর বাবা ওয়াজেদ আলী দাঁড়িয়েছেন । ফজলুল হক স্বাভাবিকভাবে যুক্তিতর্ক শুরু করলেন ।

এক পর্যায়ে ওয়াজেদ আলী আদালতকে উদ্দেশ্য করে বললেন , “ ইনি যা বলছেন তা আইনসংগত না । আইনটা হলো আসলে এরকম এরকম ……. ইনি নতুন উকিল তো আইনকানুন ভালো বোঝেন না। “

উত্তরে ফজলুল হক বললেন , “ তিনি পুরাতন অভিজ্ঞ উকিল হলে কী হবে ? তিনি হচ্ছেন কৃষকের ছেলে উকিল ( প্রকৃতপক্ষে তাঁর দাদা আকরাম আলী ছিলেন ফারসি ভাষার পন্ডিত ) , তিনি আইনের কী আর বোঝেন? আমি হচ্ছি উকিলের ছেলে উকিল , যুক্তি আমারটাই ঠিক।”

খ্যাতির সাথে ৪০ বছর ধরে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করেছেন । আইন পাশ করার আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি আর ম্যাথমেটিক্সে ট্রিপল অনার্স করেছেন । মাস্টার্স করেছেন ম্যাথমেটিক্স এ । ছোটবেলায় একবার পড়ে বইয়ের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলার গল্প রূপকথার মত এদেশের সবার মুখে মুখে ।

বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের বাজেট অধিবেশনে একজন এমপি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিতে লাগলেন । ঐ এমপি শেরে বাংলার বিরুদ্ধে গানও লিখে এনেছেন এবং সংসদের বাজেট বক্তৃতা করতে গিয়ে সেই গানটি হেলেদুলে কর্কশ কণ্ঠে গাইতে শুরু করলেন । এরকম পরিস্থিতিতে যে কারও পক্ষে মাথা ঠাণ্ডা রাখা মুশকিল ।

শেরে বাংলা ঐ এমপি র বক্তব্যের মধ্যেই বলে উঠলেন — “Mr Speaker, I can jolly well face the music, but I cannot face a monkey.”

এবার ঘটলো মারাত্মক বিপত্তি । তাঁর মতো নেতার কাছ থেকে এরকম মন্তব্য কেউ আশা করেনি । এদিকে , ঐ এমপি স্পিকারের কাছে দাবী জানালেন — এই মুহূর্তে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই অসংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে । স্পিকার পড়লেন আরেক বিপদে — তিনি কীভাবে এত বড় একজন নেতাকে এই আদেশ দেবেন ।

শেরে বাংলা ছিলেন ঠাণ্ডা মাথার বুদ্ধিমান মানুষ । তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন — ” Mr. Speaker, I never mentioned any honourable member of this House. But if any honourable member thinks that the cap fits him, I withdraw my remark.”

‘জ্ঞানতাপস প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক তাঁর জীবনী লিখতে চান জেনে বলেছিলেন, ” রাজ্জাক, সত্যি বলো, তোমার মতলবটা আসলে কী ? ” প্রফেসর রাজ্জাক বললেন, ” আমার এই বিষয়টা খুব ভালো লাগে —- আপনি যখন ইংরেজদের সাথে চলেন তখন মনে হয় আপনি জাত ইংরেজ। যখন বরিশালে আসেন মনে হয় আপনি বহুবছর ধরে নিজেই কৃষিকাজ করেন। আবার যখন কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ বাবুকে ভাই বলে ডাক দেন তখন আপনাকে আসলেই হিন্দু মনে হয়। আবার যখন ঢাকার নবাব বাড়িতে ঘুড়ি উড়ান তখন মনে হয় আপনিও নবাব পরিবারের একজন । নিজেকে কেউ আপনার মত এত পাল্টাতে পারে না। আপনি যাই বলেন, সত্য হোক — মিথ্যা হোক, মানুষ বিনা দ্বিধায় তা বিশ্বাস করে।”

মহাত্মা গান্ধীর নাতি রাজমোহন গান্ধী তাঁর বইতে লিখেছেন — তিন নেতার মাজারে তিনজন নেতা শায়িত আছেন যার মধ্যে দুজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন । একজনকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া হয়নি, অথচ তিনিই ছিলেন সত্যিকারের বাঘ ।

কিন্তু এটা তাঁর জীবনের কোনো অপূর্ণতা নয়, একমাত্র রাষ্ট্রপতি হওয়া ছাড়া সম্ভাব্য সব ধরনের পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে । তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব বাংলার তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী; পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ।

সর্বভারতীয় রাজনীতি ছেড়ে শুধু পূর্ববাংলার রাজনীতি কেন করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে ফজলুল হক বলেছিলেন — এরোপ্লেন এ উঠলে নিচের জিনিস ছোট আর ঝাপসা দেখাতে পারে, তাই আমি মাটিতেই থাকছি । রাজনীতির এরাপ্লেন এ না চড়লেও সৌদি বাদশাহ সউদ ফজলুল হকের সাথে একটা মিটিং করার জন্য নিজের ব্যক্তিগত বিমান পাঠিয়েছিলেন ফজলুল হককে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

অসীম সাহসী এই মানুষটি আমাদেরকে সকল অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে প্রতিবাদ করার কথা বলেছেন। বাঙালী জাতিকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন অনেক আগেই । তিনি বলেছেন, যে জাতি তার বাচ্চাদের বিড়ালের ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়ায়, তারা সিংহের সাথে লড়াই করা কীভাবে শিখবে?

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন ফজলুল হকের শিক্ষক। আবুল মনসুর আহমদের সাথে আলাপচারিতায় ফজলুল হক সম্পর্কে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মন্তব্যঃ

“ফযলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাঁটি বাঙ্গালী। সেই সঙ্গে ফযলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাঁটি মুসলমান। খাঁটি বাঙ্গালীত্বের সাথে খাটি মুসলমানত্বের এমন অপূর্ব সমন্বয় আমি আর দেখি নাই। ফযলুল হক আমার ছাত্র বলে বলছি না, সত্য বলেই বলছি। খাঁটি বাঙ্গালীত্ব ও খাটি মুসলমানত্বের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ বাঙ্গালীর জাতীয়তা।” (রেফারেন্স: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর।(পৃষ্ঠা ১৩৫-৩৬)

পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটি, বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা এই ফজলুল হকের অবদান । কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ফজলুল হক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন কারণ কৃষক–শ্রমিক সংখ্যাগরিষ্ঠ এই উপমহাদেশে মাত্র একজন ব্যক্তি কৃষকদের জন্য রাজনীতি করেছেন । তিনি হলেন — শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসেছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বললে ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদ করে। জিন্নাহ ছাত্রদের সাথে বৈঠকও করেন। কিন্তু ছাত্ররা ছিল নাছোড়বান্দা। জিন্নাহর ধারণা হলো, ফজলুল হক ছাত্রদেরকে উসকানি দিচ্ছেন। ফজলুল হকের বুদ্ধিতে ছাত্ররা উর্দুর বিরোধিতা করছে। জিন্নাহ এবার ফজলুল হকের সাথে দেখা করতে চাইলেন। কিন্তু ফজলুল হক দেখা করতে রাজি হলেন না। ফজলুল হক জিন্নাহকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করতেন।

জিন্নাহর পীড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন ফজলুল হক। বন্ধ দরজার আড়ালে কথা হয়েছিল দুই মহান নেতার। কিন্তু ইংরেজিতে কী ধরনের বাক্য বিনিময় হয়েছিল তাদের মধ্যে পরবর্তীতে তা লিখেছেন ফজলুল হকের একান্ত সহকারী আজিজুল হক শাহজাহান —

জিন্নাহ : পাকিস্তান তো তুমি কোনোদিন চাও নি। সব সময়ে বিরোধিতা করে এসেছো।

হক : প্রস্তাবটি তো আমিই করেছিলাম। পরে ওটার খতনা করা হয়েছে। আমি এটা চাইনি।

জিন্নাহ: পাকিস্তানের এই অংশ বেঁচে থাক তা তুমি চাও না। তাই ভারতের কংগ্রেসের টাকা এনে ছাত্রদের মাথা খারাপ করে দিয়েছ। তারা আমাকে হেস্তনেস্ত করছে।

হক: আমি এখানে কোনো রাজনীতি করি না। হাইকোর্টে শুধু মামলা নিয়ে চিন্তা করি। আইন আদালত নিয়ে থাকি ।

জিন্নাহ : জানো, তুমি কার সাথে কথা বলছো?

হক: আমি আমার এক পুরোনো বন্ধুর সাথে কথা বলছি।

জিন্নাহ: নো নো, ইউ আর টকিং উইথ দ্য গভর্নর জেনারেল অব পাকিস্তান ।

হক: একজন কনস্টিটিউশনাল গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা আমি জানি।

জিন্নাহ: জানো, তোমাকে আমি কী করতে পারি ?

হক: (ডান হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে) তুমি আমার এ্যাই করতে পারো। মিস্টার জিন্নাহ, ভুলে যাওয়া উচিত নয় এটা বাংলাদেশ এবং তুমি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাথে কথা বলছ।

(আজিজুল হক শাহজাহানের কলাম, অমরাবতী প্রকাশনী, ঢাকা; পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭)



স্মার্টনেস আসলে কী?

smart people লিখে গুগলে সার্চ দিন, তারপর প্রাপ্ত ইমেজগুলো দেখেন। সেখানে পরিপাটিভাবে সজ্জিত বা কেতাদুরস্ত কারো ছবি দেখতে পাবেন না। কারণ বাংলাদেশে স্মার্টনেসের সংজ্ঞা যাই হোক না কেন, বহির্বিশ্বে স্মার্টনেসের সংজ্ঞা আলাদা। আর এটাই স্মার্টনেসের ইউনিভার্সাল সংজ্ঞা; আমরা বাঙালীরা আসলে কুয়ার ব্যাঙ!

স্মার্টনেস হলো বুদ্ধিমত্তা ও মস্তিষ্কের প্রখরতা। এটাই স্মার্টনেসের সঠিক সংজ্ঞা। কিন্তু আমাদের দেশে মনে করা হয়, যারা পরিচ্ছন্ন, ফিটফাট পোশাক পরে এবং চটচট করে কথার জবাব দিতে পারে, তারাই স্মার্ট। অনেক শিক্ষিত লোকেরা এটাকেই স্মার্টনেসের সংজ্ঞা হিসেবে ধরে নিয়ে চাকুরি ক্ষেত্রে কেবল এ ধরনের লোকদেরকেই নিয়োগ দিতে আগ্রহী হন। পরিচ্ছন্নতা ও ফিটফাট থাকা যদিও জরুরী, তবে এগুলোর সাথে আরো কিছু দিকে নজর দিতে হবে কর্মী রিক্রুটের ক্ষেত্রে, আর সেটা হলো দৃষ্টিভঙ্গী। অনেকের দৃষ্টিভঙ্গী সঠিক নয়, এমনকি তারা সাধারণ লোকজনকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করে, নিজের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা কাউকে দেখলেই ‘ঈর্ষাণ্বিত’ হয়ে পড়ে এবং তার ক্ষতি ঘটাতে চায়। এ ধরনের লোকেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুব চতুর হয়ে থাকে, ফলে এদের স্বরূপ উদঘাটন করা চাট্টিখানি কথা নয়।

এজন্য নিয়োগকর্তাদেরকে আরো ধুর্ত হতে হবে এবং তাদের মাঝে কমপক্ষে একজন সাইকোলজিস্ট তো থাকতেই হবে। শুধুমাত্র পোশাক-আশাক ও কথাবার্তার ফিটনেস দেখে সিলেক্ট করা হলে ভুল লোক সিলেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি এরকম বহু কেস দেখেছি যে, লোকটি দেখতে পরিচ্ছন্ন ও ফিটফাট হলেও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অশোভন আচরণ করে; যেমনঃ তুচ্ছ কারণে সহযাত্রীর সাথে মারামারি লাগিয়ে দেয়, বাপ-মা তুলে গালাগালি করে, অসহায় ও দুর্বলকে অত্যাচার করে। এমনকি তারা বেশ কিছু অশোভন কাজকর্মও করে, যেমনঃ নাক খোঁটাখুঁটি করা, খালি হাতে নাক ঝাঁড়া, বিনা কারণে (পাশের জনকে বিব্রত করতে) গলা খকখক করা ইত্যাদি। এখানে যে আচরণগুলোর কথা বললাম, সেগুলো স্মার্ট লোকের কাজকর্ম হতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশই বোধ হয় একমাত্র দেশ যেখানে যাদেরকে সমাজে ‘স্মার্ট’ হিসেবে ধরে নেয়া হয়, তাদের অনেকেই রাস্তাঘাটে ও চলার পথে এ ধরনের অশোভনীয় আচরণ করে থাকে।

বিদেশে স্মার্টনেস মানে হলো বুদ্ধিমত্তা ও মস্তিষ্কের প্রখরতা, যেমনটা আগেই বলা হয়েছে। যেমনঃ আইনস্টাইনকে সর্বকালের সেরা একজন স্মার্ট লোক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আদতে তিনি কী প্রকৃতির লোক ছিলেন, সেটা সবাই বোধ হয় জানেন। তিনি একই ধরনের পোশাক ডেইলি পড়তেন, যেগুলোর বেশির ভাগই ছিল ‘ব্যাগী’ বা অতিরিক্ত ঢিলেঢালা টাইপের। চুল আঁচড়াতেন না বললেই চলে, এমনকি পার্সোনাল হাইজিনেও তাঁর সমস্যা রয়েছিল বলে জানা যায়। তিনি চটপট উত্তর দিতে পারতেন না, যেমনঃ একবার যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ‘স্যার, বলেন তো, বায়ুতে শব্দের বেগ কত?’ তখন তিনি বললেন, ‘এসব তথ্য তো বইয়েই রয়েছে, তাই এগুলো আমার মাথায় ক্যারি করি না।’ তাহলে বোঝেন অবস্থা!

তার মানে এই না যে, আইনস্টাইন স্মার্ট ছিলেন না। সেটা তিনি অবশ্যই ছিলেন, উন্নত বিশ্বে স্মার্টনেসের যে সংজ্ঞা ব্যবহার করা হয়, সে অনুসারে তিনি অবশ্যই স্মার্ট। এবং বাংলাদেশেও সেটাই হওয়া উচিত। কাউকে স্মার্ট বলার আগে শুধু তার পোশাক-আশাক ও পরিচ্ছন্নতা দেখলেই চলবে না, তার জ্ঞানের পরিধি ও মানসিকতা সর্বোপরি গণমানুষকে ভালোবাসার সক্ষমতা আছে কিনা, সেগুলোও যাচাই করতে হবে।

তবে আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি স্মার্ট লোক হয়তো তাঁর জীবদ্দশাতেই বেঁচে ছিলেন, আর তিনি হলেন সর্বকালের সেরা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিকোলা টেসলা। তিনি অতি উচ্চ মাপের ব্যবহারিক বিজ্ঞানী ছিলেন। আইনস্টাইন যেমন তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী ছিলেন, তেমনি টেসলা ছিলেন ‘ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল’ বিজ্ঞানী। একবার আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘স্যার, বর্তমান যুগের সবচেয়ে স্মার্ট লোক হতে পেরে আপনার কেমন অনুভূতি হয়?’ তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘কী জানি! সেটা আপনি বরং নিকোলা টেসলাকেই জিজ্ঞেস করুন।’ অর্থাৎ আইনস্টাইনের মতে, টেসলা তাঁর চেয়েও বেশি স্মার্ট ছিলেন।

আইনস্টাইন অবশ্য লোক চিনতে ভুল করেন নি, কারণ টেসলা যন্ত্র উদ্ভাবন করার আগে কোনো কাগজে তার ডিজাইন আঁকতেন না, বরং সেটা করতেন তিনি নিজের মাথায়। পরে মাথাতেই সেই যন্ত্রের ডিজাইন মডিফাই বা চেঞ্জ করতেন এবং বিভিন্ন কন্ডিশনে যন্ত্রটি ‘রান’ করলে কী হবে সেটার সাইমুলেশন তিনি তাঁর মগজেই করতেন। অর্থাৎ টেসলার ছিল ফটোগ্রাফিক মেমরি। অথচ জন্মসূত্রে ক্রোয়েশিয়া বা সার্বিয়ার নাগরিক হওয়ার কারণে আমেরিকান মিডিয়া তাঁর নাম ইতিহাসের পাতা হতে মুছে ফেলতে চেয়েছে, কারণ উক্ত দেশগুলো একসময় সোভিয়েট ইউনিয়নের মধ্যে ছিল। যাই হোক, টেসলা সম্পর্কে একটি আর্টিক্যাল রয়েছে এই ব্লগে, সেটা পঠনের আহ্বান থাকলো; রচনাটির শিরোনাম হলো, ‘সর্বকালের সেরা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার’।



পাখিরা কাঁদে (আইয়ুব বাচ্চু) – লিরিক্স

(পাখিরা কাঁদে সন্ধ্যাতারা ডুবে গেলে
আমার জীবন কাটে ঠিক এমনি এভাবে
হৃদয়ের স্পন্দনে না পাওয়া আছে মিশে
পাড় ভাঙ্গা শব্দ হয়ে ভালোবাসা নদীতে) * ২
অজানা কীসের আশায় মন ছুটে চলে
ব্যথাগুলো একই থাকে ঢেউ হয়ে

আমাদের ঘিরে থাকা ছায়ারা ছিল সুখে
তুমি ছিলে তুষার আমার কল্পনার পাহাড়ে
ডায়েরীর পাতারা ভিজেছে সোহাগী জলে
ভালোবাসা দিয়েছিলাম ভরে অন্তহীন চিঠিতে

তোমার বদলে এখন তোমার স্মৃতিরা আছে
শেষ বিকেলের বাতাস শুধু উপহাস করে
কথাগুলো জমা আছে বিষাদের মাঝে
অপেক্ষায় নষ্ট সময় মনে পড়ে বারে বারে

(পাখিরা কাঁদে সন্ধ্যাতারা ডুবে গেলে
আমার জীবন কাটে ঠিক এমনি এভাবে
হৃদয়ের স্পন্দনে না পাওয়া আছে মিশে
পাড় ভাঙ্গা শব্দ হয়ে ভালোবাসা নদীতে) * ২
অজানা কীসের আশায় মন ছুটে চলে
ব্যথাগুলো একই থাকে ঢেউ হয়ে