বি.বাড়িয়ার মানুষদেরকে যেরূপ দেখেছি

এখানে অনেকে বি.বাড়িয়া বা বৃহত্তর কুমিল্লার পাঠক হতে পারেন, তা সত্ত্বেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বি.বাড়িয়া থেকে আগত মানুষদেরকে কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় পাই নি। তারা হয় চরম বস্তুবাদী বা অর্থলোভী, অথবা চিটার-বাটপার, অথবা ব্যাপক অহংকারী যা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। তারপরও বি.বাড়িয়াতে কিছু ভালো মানুষ থাকতে পারে, যাদের সাথে আমার এখনো সাক্ষাৎ হয় নি। যাই হোক, এখানে বি.বাড়িয়া থেকে আগত আজব কিছু মানুষের বর্ণনা দেয়া হলোঃ




মিজানুর রহমান ভূঁইয়া

আমি যখন ১৯৯৮ সালে নটর ডেম কলেজে সাইন্স-১ গ্রুপে ছিলাম, তখন আমাদের একজন বায়োলজি টিচার ছিলেন মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, যার দেশের বাড়ি বি.বাড়িয়াতে। তিনি একদিন ক্লাসে এক ছেলেকে দাঁড়াতে বললেন এবং তার হোম ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। ছেলেটি তখন উত্তরে বললো, কুমিল্লা। এটা শুনে মিজান অট্টহাসি দিলেন এবং ক্লাসের বাকি সব ছাত্রের (প্রায় ১৪৯ জন) সামনে তাকে ‘কুমিল্লার ইতর’ বলে সম্বোধন করলেন।

এটা ঠিক যে, কুমিল্লার মানুষের আচরণগত কিছু সমস্যা আছে, তাই বলে তাদেরকে সরাসরি ‘ইতর’ সম্বোধন করবে যে, বুঝতে হবে, সে নিজেই বিশাল একটা ইতর। কারণ দেশের কোনো এলাকার মানুষই বলতে পারবে না যে, তাদের কথাবার্তার স্টাইল বা আচরণ পুরোপুরি বিশুদ্ধ। এটা আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ দেশের যে কোনো এলাকার মানুষের প্রতি।

তো, মিজানের এই কাণ্ডের ফলে বুঝতে পারলাম যে, নটর ডেমের টিচার হলেও তার মনমানসিকতায় কিছু বা অনেক সমস্যা আছে। পরবর্তীতে জানতে পারলাম যে, সে বি.বাড়িয়ার লোক। আয়রনি হলো এই যে, বি.বাড়িয়া বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে পড়ে। তাহলে কি মিজান নিজেই নিজেকে ইতর বলে গালি দিলো? ওর বউ নাকি লন্ডন থাকে! আমি জানতে চাই, কোন মুসলমানের বউ স্বামীকে ছেড়ে বছরের পর বছর বিদেশ থাকে?! নিশ্চয়ই ওর আচরণগত সমস্যার কারণেই বউও ওকে ছেড়ে চলে গেছে।

এপেক্সের লেদার টেকনোলজিস্ট মুশতাক

তখন ২০০৫ সালের কথা, মগবাজারে কাজী অফিস গলিতে পড়াতে গেলাম একটা বাসায়, যার গৃহকর্তা মুশতাক যিনি তখন এপেক্সে লেদার টেকনোলজিস্ট ছিলেন, যদিও সে নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দাবী করতো। যাই হোক, মুশতাকের দেশের বাড়ি ছিল বি.বাড়িয়ার আশুগঞ্জে আর মগবাজারের ঐ বাসাটা তার নিজের ফ্ল্যাট ছিল। তার তিনটি মেয়ে ছিল, এর মধ্যে মায়শা ক্লাস ফাইভে পড়তো আর আয়শা ফোরে পড়তো। এ দু’টাকে আমি পড়িয়েছিলাম মাত্র ১৫ দিন। আসলে ঐ বিল্ডিংয়ের গার্ড ব্যাটার কাছে জানতে পেরেছিলাম যে, মুশতাক খুব ঘনঘন টিচার বদলায়।

তার বেশভুষা দেখে বুঝেছিলাম সে জামাত করে, আর তখন তো বিএনপি আর জামাত ক্ষমতায়। তার বাসার সে গলিতে আবার গোলাম আজমের (গোলাম আজমও বি.বাড়িয়ার লোক ছিলো, নবীনগরে) বাড়ি ছিল। তাই তখন মুশতাকের অন্যরকম ভাবসাব। এই গরমেই মনে হয় সে যা ইচ্ছা তা করতো। সে আমাকে ১৫ দিন রেখে তারপর চলে যেতে বললো – এটা কোনো সমস্যা না, এটা হতেই পারে! আফটার অল, দেশে তো তারছিঁড়ার কমতি কোনো কালে ছিল না। কিন্তু আমার জন্য শকিং ছিল এই যে, ১০ দিন পড়ানোর পরই বুঝতে পারলাম, তারা চাচ্ছে আমি যাতে পেমেন্ট না নিয়েই চলে যাই। কিন্তু আমি লেগে থাকলাম এবং শেষ পর্যন্ত পেমেন্ট নিয়েই গেলাম। মুশতাকও আমাকে পেমেন্ট দিতে বাধ্য হলো আমার ইউনিভার্সিটি স্ট্যাটাস বিবেচনা করে।

আরো একবার বুঝতে পারলাম যে, বি.বাড়িয়ার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা। এ ধরনের অভিজ্ঞতা সম্প্রতি আরো একবার হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার যে থানায় বাস করি সেখানকার যুবলীগের সহ-সভাপতির ভাতিজি মায়শা। সে আমার কাছে ১৫ দিন পড়েই আমাকে বিদায় জানিয়েছে, মানে তার বাবা-মা-সে সবাই মিলে এটা করেছে। তারা অন্ততঃ মুশতাকের ফ্যামিলির চেয়ে ভালো, কারণ তারা তো আমাকে পেমেন্ট না নিয়েই চলে যেতে বলে নি বা সেরূপ আশা করে নি। তবে ক্ষমতায় থাকলে মনে হয় সবাই অন্ধ হয়ে যায়, যেটা মন চায় সেটাই করে। আমি তাদের কাছে উচ্চ পারিশ্রমিক চেয়েছিলাম ঠিকই, তবে তারাও তো কম পয়সা ইনকাম করে না। যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নিশ্চয়ই এক নম্বর- দু’ নম্বর পথে ইনকাম করে।

আমি নাকি ম্যাথ ভালো পারি না – যেটা খুবই হাস্যকর (ম্যাথের জনক হলাম আমি)! যাই হোক, আরেকটি অভিজ্ঞতা এখানে শেয়ার করতে চাই, যা অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক, তবুও করি। বিদায়ের দিন যখন মায়শাকে শেষবারের মতো পড়াচ্ছিলাম, তখন তার মা মাহমুদা আমার সামনে বেডে বসে ওনার ক্লাস সিক্সের ছেলেকে পড়া দেখানোর সময় এমন একটি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ করলেন যে, আমি নিশ্চিত তাঁর কমপক্ষে এক মাসের নামাজ আল্লাহ’র কাছে কবুল হবে না। তিনি চুড়িদার টাইপের একটা পায়জামা পড়ে কৌশলে আমাকে তার পুরুষ্ট ও সেক্সি উরু এবং নিতম্বের এক পাশ দেখিয়ে দিলেন। তখন অবশ্য তার মাথায় স্কার্ফ ছিল; আমি মনে মনে বলি, ক্ষ্যাতা পুড়ি এসব স্কার্ফ-হিজাবের! আর এটাও বুঝলাম না, বিদায় বেলায় আমাকে যৌন উত্তেজিত করে লাভ কী?




জনৈক সজীব উল্লাহ খান

এই সজীবের সাথে আমার পরিচয় ২০১৩ সালে একটি গাইডবুক পাবলিকেশন্স প্রতিষ্ঠানে। তার বাড়ি বি.বাড়িয়ার বিজয়নগরে। আচরণগত সমস্যা তার খুব একটা ছিল না, তবে সে ছিল পল্টিবাজ। সে যখন প্রুফরিডার হিসেবে কাজ পাচ্ছিল না এবং ২ টাকা পকেটে নিয়ে ১৭ দিন কাটিয়েছে, এমন একটা সময়ে আমিই তাকে ব্রেকথ্রু এনে দেই; ফারহানাহ এবং সাঈদ ভাইয়ের কাছে তার নামে সুপারিশ করি, যাতে তাকে বেশি করে কাজ দেয়। আফটার অল তার পিতা দু’-তিন বছর আগে মারা গেছেন এবং তার পড়াশুনার খরচ তথা তার মা-বোনের সংসারের খরচ দেয়ার মতো কেউ ছিল না।

কিন্তু সজীব সাঈদের সাথে মেশার সুযোগ পেয়ে তার ফাঁদে পা দেয়, দু’জনে মিলে কোম্পানীর টাকা লোটপাট শুরু করে। অবশ্য এক্ষেত্রে সাঈদকেও সরাসরি দোষ দিয়ে লাভ নেই, কারণ আমাকে জব্দ করার জন্য সুনীল ও বীথি মিলে একটি কাল্পনিক অভিযোগ তোলে – আমি আর সাঈদ মিলে নাকি কোম্পানীর টাকা লোটপাট করছি। দোষ না করেই যেহেতু ব্লেইম নিতে হচ্ছে, তাই তখন সাঈদ দুর্নীতিটা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

যত যাই হোক, সজীবকে আমার কাছে পল্টিবাজ মনে হয়েছে। বিশেষ করে সে একবার যখন আমার ফোন রিসিভ করছিল না, তখন তার উপর আমার ব্যাপক রাগ হয়, যেটা এখন পর্যন্ত মন থেকে সরিয়ে ফেলতে পারি নি। আফটার অল, আমি তো একজন সাধারণ মানুষ – যেটা আমি আগেই ডিক্লেয়ার করেছি। এই ব্লগের আরেকটি আর্টিক্যালে সজীবের কথা উল্লেখ আছে, যেটার শিরোনাম হলো – ‘সজীবের বিধবা মাকে নিয়ে যে প্ল্যান ছিল’।

এবার সজীবকে মন্দ বলার কারণ একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করি। ধরুন, যে পাপে আমি পাপী সে পাপে সে নিজেও পাপী। শুধু পার্থক্য এই যে, আমার পাপের কথা অনেকেই জানতো, আর তার পাপের কথা কেউ জানতো না (হয়তো শুধু সাঈদ ও সজীবের ঘনিষ্ঠ জনেরা জানতো, কারণ একই পাপে তারাও পাপী ছিল)। এই সুযোগে সে ‘পাট’ নিয়েছে ও ফেসবুকে আমার বিরূদ্ধে পরোক্ষ স্ট্যাটাস দিয়েছে। আমার সাথে এ ধরনের আচরণ সে না করলেও পারতো, কারণ আমি ছিলাম তার এক সময়কার ত্রাণকর্তা।

ফোন রিসিভ না করার ঘটনার পর থেকে সজীবের সাথে আমার যোগাযোগ টোটালি বন্ধ, আর এখন দেখাও হয় না বললেই চলে – বছরে একবার বা দুইবার রাস্তাঘাটে দেখা হওয়াটাকে ‘দেখা হওয়া’ বলে না। গত বছর তার সাথে দেখা হয়েছিল মালিবাগে আর ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারী মাসে দেখা হয়েছিল মহাখালীতে। ঐ সময় আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল, আর মহাখালীতে গিয়েছিলাম ছেলের জন্য ওষুধ বা পথ্য আনতে। তাই তখন ব্যস্ত থাকায় সজীবের সাথে বেশিক্ষণ কথা বলতে পারি নি।

এটা আবার সে সাঈদকে বলেছে, তাই সাঈদের সাথে যখন শান্তিনগর ফুটপাতে দেখা হয় কয়েক মাস আগে, সেও অনুরূপ ভাব নেয় আমার সাথে। আমি মনে মনে বলি, ‘ফকিন্নির পোলা, পলিটিক্স করে চাকুরিটা টিকিয়ে রেখেছিস্ কোনো মতে! আর আমিও একসময় তোকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছিলাম, যখন তোর চাকুরির সুতা ছিঁড়ে যায় যায় এমন অবস্থা। আর এখন আমার লগেই ভাব লস্! তুই তো মনে হয় তোর জন্মদাতা পিতার সাথেও পল্টি নিতে পারবি।’

হযরত ও চুন্নু মিয়া

আমার অদূর প্রতিবেশী হযরত ও চুন্নু মিয়া দুইজনই চরম অশিক্ষিত ও অর্থলোভী লোক। তাদের অরিজিনাল বাড়ি বি.বাড়িয়ায়। আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদ আছে সেটার কমিটিতে দুজনই ছিল (এখনো আছে সম্ভবতঃ); এর পেছনে টার্গেট একটাই, মসজিদের টাকা লোপাট করে দিন চালিয়ে নেয়া। মসজিদটি খুব বড় হলে ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতো, তবে ছোটখাট বলে এটার ফান্ডে খুব বেশি টাকা ওঠে না; আর তাই আপাতত ওরা মসজিদের টাকা মেরে শুধু দিন গুজারের স্বপ্ন দেখছে।

এর মধ্যে হযরত শুনলাম কিছুদিন আগ পর্যন্ত ফেনসিডিলের ব্যবসা করতো, পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর অনেক টাকার বিনিময়ে ছুটেছে। সে যে বি.বাড়িয়ার বজ্জাত তা তার ছেলেমেয়ে ও নিকটজনের ব্যবহারেই বোঝা যায়। যদিও আমার সাথে তার সরাসরি কোনো ইন্টারাকশন এখন পর্যন্ত হয় নি; হতে পারতো, তবে সবসময়ই আমি তা এড়িয়ে গেছি। বাড়ির পেছনে ড্রেন কাটার সময় হযরতের বিবাহিতা মেয়ে আমাকে যে প্যাঁচে ফেলতে চাচ্ছিল, তাতে বুঝে গেছি তার শরীরে হারামীর রক্ত। আর হযরতের কিশোর বয়সী ছেলেটাও বেয়াদব ও ঘাড়ত্যাড়া। তাকে বারবার বলেছি, আমার বাড়ির মধ্যদিয়ে না যেতে, এখানে অনেক শাক-সবজির গাছ লাগিয়েছি। তা সত্ত্বেও সে কথা কানে তোলে না, বাড়িতে লোক নেই মনে হলেই এখান দিয়ে সুড়ুৎ করে একটা দৌড় দেয়।

আর চুন্নু মিয়ার কথা কী বলবো, তার ছেলে স্বপন মিয়া তো মসজিদের নামে আমার কাছে চাঁদাবাজি করতে এসেছিল কামালকে সাথে নিয়ে। তারা ভেবেছিল, আমি তাদের মতোই একজন কামলা। আমি আমার ক্ষমতা ও বুদ্ধির মারপ্যাঁচ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন কামাল, স্বপন ও চুন্নু মিয়া পেঁচার মতো মুখ নিয়ে আমার সামনে ঘোরে। যে মসজিদের কন্ট্রোলে থাকাকালীন অবস্থায় কামাল আমার কাছে চাঁদা চেয়েছে, সেখানে গত এক বছরে মাত্র একবার নামাজ পড়তে গিয়েছি। এমনিতেই আমার ধর্মবিশ্বাস দুর্বল, তার উপর ধর্মের নামে অধর্ম করার চেষ্টা করলে সেখান থেকে আমি অতি দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নেই।

একবার নামাজ পড়ে পরে আর সেখানে না যাওয়ার প্রথম কারণ অবশ্য চুন্নু মিয়া বা হযরত নয়, ঐ মসজিদের ঈমাম যে বয়সে যথেষ্ট ইয়াং। আসলে তার বাপ এতোদিন ঈমাম ছিল সেখানে, বাপ রিটায়ার করায় ছেলে এখন ঈমাম হয়েছে। টিনের তৈরি মসজিদটা নির্মাণ করা হয়েছিল ধর্মব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। তাই বুইড়া হুজুর প্রথমে মসজিদটা ওয়াকফ্ দিবে এরকম বললেও পরে পল্টি নেয়ার চেষ্টা করেছে। সবশেষে জনগণের চাপে পড়ে সেটা ওয়াকফ্ ঠিকই দিয়েছে। যাই হোক, ধর্মব্যবসা করার উদ্দেশ্যে যে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে যেতে আমার বিবেকে বাঁধে। তাও যেতাম যদি না সীমানা নিয়ে হুজুরের ছেলে, মানে নতুন ঈমাম আমার সাথে খারাপ ব্যবহার না করতেন।

তিনি চেয়েছিলেন, ড্রেন যাতে একতরফাভাবে আমার জমির উপর দিয়ে যায়! সেটা কি হয় বলেন?! রাস্তা বা ড্রেনের জায়গা সবসময় দুই পক্ষকেই ছাড়তে হয়। শুধু এক পক্ষের জমি দিয়ে রাস্তা বা ড্রেন হয়েছে এরকম কেস খুব র‍্যায়ার। যাই হোক, ঝগড়ার সময় সাংসারিক কথা নিয়ে ব্যঙ্গ নাও করতে পারতেন ঐ ভণ্ড হুজুর। সে আমাকে বলে, ‘আপনাকে তো আপনার বউই পছন্দ করে না!’ হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, আমার বউয়ের সাথে আমার মাঝে মাঝে বাকবিতণ্ডা বা ঝগড়া হয়। তবে সেটা নিয়ে আমার চেয়ে বয়সে দশ বছরের ছোট কোনো লোক আমাকে ব্যঙ্গ করতে পারে না, বিশেষ করে সে যদি অবিবাহিত হয়।

তাই তখন নামাজে যাওয়া বাদ দিলাম। কিন্তু শুনতে পেলাম যে, বুইড়া হুজুর নাকি এতে বেশ মানসিক কষ্ট পেয়েছেন। তখন ঠিক করলাম, বুইড়ার জন্য হলেও আবার নামাজে যাব; ঠিক তখনি বাদ সাধলো বি.বাড়িয়ার হযরত ও তার আত্মীয়-স্বজনেরা। বুঝলাম, তার নিকটজনেরা যে আমার বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে বেশি, এটা একটা বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশবিশেষ; হযরত চাচ্ছে আমার সাথে ক্যাঁচাল লাগাতে। সে আমার চেয়ে বড় মাপের ক্যাঁচালবাজ, আর তার বউও একেবারে মার্কামারা। কিছুদিন আগে হযরত নাকি তার বউকে মৌখিক তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। ঐ খানকি মহিলা আবার কোন হাসপাতালের জানি নার্স! সে বেশ কিছুদিন বাইরে বাইরেই ছিল, কোথায় কোথায় যেন!

তখন হযরত তার বউকে পুনরায় ঘরে উঠিয়ে নেয়ার জন্য হিল্লে বিয়ের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয় ইয়াং হুজুরের কাছে। সে অবিবাহিত হওয়ায় লজ্জা পেয়ে বুড়ো হুজুরের কাছে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করে। এসব শুনে আমি মনে মনে ভেবেছিলাম, ‘হযরত আমার কাছে আসে না কেন?! আমি তার বউকে একরাত ইউজ করে তার জন্য পুনরায় হালাল করে দিব।’

যাই হোক, মেইন কথা হলো, হযরতের নিকটজনদের অত্যাচারে আমি পুনরায় মসজিদে যাওয়ার প্ল্যান বাদ দিলাম। কারণ বুঝতে পারলাম যে, মসজিদে গেলে, হযরত, চুন্নু মিয়া, কামাল – এদের সবাইকে সন্তুষ্ট ও মান্য করে চলতে হবে। এরা বয়সে আমার চেয়ে বড় হলেও বিশাল বেয়াদব ও ধান্ধাবাজ একেকটা। নতুন বউ যেমন শ্বশুরবাড়ির সবাইকে তোঁয়াজ করে চলে, সেভাবে বি.বাড়িয়ার এই বেয়াদবগুলোকে মান্য করতে রাজি নই আমি।

পল্টিবাজি ও দুই নৌকায় পা

বি.বাড়িয়া মানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া আগে নাকি বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই বি.বাড়িয়ার বেশিরভাগ লোকজন এখনো নিজেদেরকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোক ভেবে স্বস্তি পায়। তাদের কথ্যভাষার মধ্যে উত্তর কুমিল্লার (হোমনা, দাউদকান্দি, মুরাদনগর) টান আছে, আবার বৃহত্তর ময়মনসিংহ-নরসিংদী অঞ্চলের টানও আছে। তবে তারা ইদানিং কুমিল্লার টান যথাসম্ভব পরিহার করে কেবল ময়মনসিংহ-নরসিংদী উচ্চারণে কথা বলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে আছে, নটর ডেমের টিচার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, পাঞ্জেরীর এক সময়কার প্রুফরিডার সজীব ও তার বন্ধু ফখরুল (ওরফে মাইকেল) – এদের সবার কথার উচ্চারণেই একটা ঠাস্-ঠাস্ টান ও ভাব আছে।

এখনো যদি বি.বাড়িয়ার কাউকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা কি বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ, নাকি বৃহত্তর ময়মনসিংহের?’ তখন তারা উত্তরে বলবে, ‘আমরা তো আসলে ময়মনসিংহের অংশই ছিলাম; দেখছেন না, আমার কথ্যভাষার মধ্যে ময়মনসিংহ-নরসিংদী অঞ্চলের টান কতটা তীব্র?! এখন প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে আমাদেরকে বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ ধরেছে, এ বিষয়ে আমাদের কী করার আছে?!’ অর্থাৎ তারা বলতে চাইবে যে, তাদেরকে জোর করে বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ বানানো হয়েছে।

তাই নিজেরা (পুরুষেরা) যখন জেলার বাইরে বিয়ে করে, তখন তারা বৃহত্তর ময়মনসিংহ-নরসিংদী এলাকায় বিয়ে করার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপঃ লেদার টেকনোলজিস্ট মুশতাকের শ্বশুরবাড়ি ছিল টাঙ্গাইলে, যা ময়মনসিংহের পাশের জেলা এবং অনেকটা অবিচ্ছেদ্য অংশও বলা চলে। তাই তো, দুই-তিন বছর আগে সরকার চেয়েছিল, টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে দিয়ে দিতে। কিন্তু নিজেদের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ কমে যাবে এবং নিজ জেলার মেয়েদেরকে ঢাকা বিভাগের ছেলেদের সাথে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে, তাই টাঙ্গাইলের লোকজন জোর-জবরদস্তি ও ব্যাপক আন্দোলন করে ঢাকা বিভাগেই থেকে গেল।

যাই হোক, বি.বাড়িয়ার পুরুষদের জেলার বাইরের বিয়ের আরেকটা উদাহরণ দেই। পাঠকবৃন্দ, আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না, কয়েক বছর আগে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে মাটিকাটা এলাকায় এক নব দম্পতির মধ্যে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিল। কী কারণে জানি, স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে বউয়ের ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়েছিল, তাতে বউয়ের হাতের চারটি আঙ্গুল পড়ে যায়। বউটি ছিল নরসিংদীর আর স্বামীটি ছিল বি.বাড়িয়ার।

বি.বাড়িয়ার পুরুষেরা আবার যখন নিজেদের বোন, মেয়ে কিংবা ভাগ্নির বিয়ে দিতে যায়, তখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ-নরসিংদীর সাথে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’তে পেরে না উঠে সস্তা খোঁজে, অর্থাৎ কুমিল্লার পাত্রদের দিকে হাত বাড়ায়, তাদেরকে ‘দেশী লোক’ হিসেবে পরিচয় দেয়। এ যেন একই ব্যক্তি দুই নৌকায় দাঁড়িয়ে। বি.বাড়িয়ার লোকজন এত ধূর্ত ও ধান্ধাবাজ যে, সে রকম কোনো ভিত্তি বা বেইস বা কারণ না থাকা সত্ত্বেও তারা দেশের সবচেয়ে ধনী দশটি জেলার মধ্যে থাকতে পেরেছে – সম্প্রতি প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী।

অবশ্য এইসব সমীক্ষার ‘বেইল’ নাই, কারণ উক্ত লিস্টে মুন্সিগঞ্জের নাম দুই নম্বরে এসেছে। আমার অরিজিনাল হোম ডিস্ট্রিক্ট এই লিস্টে নেই, কিন্তু মুন্সিগঞ্জের বহু ভিখারী ও ভিখারিনীকে দেখেছি আমার জেলার আনাচে কানাচে ভিক্ষা করতে। আর মূলত হতদরিদ্রের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এই লিস্ট বানানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও বি.বাড়িয়ার হতদরিদ্ররা যদি অন্য জেলায় গিয়ে ভিক্ষা করে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলাকে আপাতভাবে ধনী মনে হবে সঙ্গত কারণেই!

জাকিয়া বারী মম

বি.বাড়িয়ার এই মাগির বাড়ি আখাউড়াতে। সে একবার লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়েছিল। এমনিতে দেখতে সে খুব সেক্সি, যদিও নাকটা ঠিক উন্নত নয়, অর্থাৎ পারফেক্ট সুন্দরী নয়। যাই হোক, একে ‘মাগি’ বলার কারণটা বলিঃ আর সেটা হলো ঘন ঘন লিভ টুগেদারের সঙ্গী তথা যৌনসঙ্গী বদল করা। এখন কার সাথে সে শোয়, জানি না। তবে কিছুদিন এজাজ মুন্নার সাথে লিভ টুগেদার করেছে; এজাজকে সে ছাড়িয়েছে তাজিনের কাছ থেকে।

তাজিন, এজাজ ও মম – এই তিনজনের জীবন কাহিনীর সাথে মিল আছে কলকাতার টলিউডের নায়িকা মিমি, শুভশ্রী ও পরিচালক-প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর। রাজ ব্যাটা কত গাদ্দার, মিমির সাথে দীর্ঘ সময় লিভ টুগেদার করে পরে বিয়ে করেছে শুভশ্রীকে। এক্ষেত্রে শুভশ্রীকেও ‘পতিতা’ টাইপের একটা গালি না দিলে চলছে না!

যাই হোক, লিভ টুগেদার এবং ঘন ঘন যৌনসঙ্গী বদলানো মিডিয়ার লোকজনের খুবই কমন একটা অভ্যাস, সুতরাং এই আর্টিক্যালে জাকিয়া বারী মম’র প্রসঙ্গটা না আনলেও পারতাম। আসলে একটা ইমেজ বা ছবির দরকার তো আর্টিক্যালটার জন্য, তাই মমকে উল্লেখ করলাম ও তার ছবি ইউজ করলাম। অবশ্য তাকে ‘পতিতা’ বলায় অনুতপ্ত নই আমি, কারণ এটা সে ডিজার্ভ করে।



পিরোজপুরের মানুষকে যেমনটি দেখতে পেয়েছি

সব জেলাতেই ভালো ও খারাপ মানুষ আছে, তবে কিছু কিছু জেলার মানুষ অন্যদের তুলনায় একটু বেশি খারাপ। আবার একেক জেলার মানুষ একেকভাবে খারাপ। বাংলাদেশি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে অন্যের চরিত্রের ভুল-ত্রুটিগুলোই আমার চোখে পড়ে বেশি, তাই সেগুলোই তুলে ধরবো। এ পর্বে বৃহত্তর বরিশালের পিরোজপুর জেলার মানুষদের নিয়ে আলোকপাত করবো।




পিরোজপুরের যে সকল মানুষের সাথে আমার সাক্ষাৎ বা ইন্টারাকশন হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিল মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে। বাকিদের মধ্যে একজনের বাড়ি মঠবাড়িয়ায় নয় – এ বিষয়ে নিশ্চিত, কিন্তু অন্যদের কথা বলতে পারবো না। যে লোকটির (নাম রবিউল) বাড়ি মঠবাড়িয়ায় নয়, সে নিতান্ত ভালো ভদ্র ও হ্যান্ডসাম মানুষ, জগন্নাথ ভার্সিটিতে ফিজিক্সে পড়ে, আবার ছাত্রলীগও করে। তবে ছাত্রলীগসুলভ কোনো আচরণ তার মধ্যে নেই। এবার তাহলে ক্রোনোলজিকালি পাওয়া খারাপ মানুষদের তালিকা ও তাদের কর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরি।

শাম্মীর কাকা শহিদ

প্রথমেই আছে শাম্মীর কাকার নাম। ওদের বাড়ি মঠবাড়িয়ায়, শাম্মীরা দীর্ঘদিন রামপুরার একটি এলাকাতে এক বিল্ডিং-এ আমাদের প্রতিবেশী ছিল। সেই ‘৯৪ সালের কথা, তখন আমি ক্লাস এইটে পড়তাম, শাম্মীর কাকার কাছে কয়েক মাস প্রাইভেট পড়েছিলাম। তিনি যে খারাপ কাজটা করেছিলেন, সেটা এইরকমঃ তিনি হোমিওপ্যাথি পড়তেন, একদিন একটা ডাক্তারী বই খুলে তিনি আমাকে নারীর গোপনাঙ্গের একটি ছবি দেখিয়ে বললেনঃ ‘তোমার মা’র এই জায়গায় অপারেশন হয়েছে কিছুদিন আগে’ (ইনফরমেশনটা তিনি জানতে পেরেছেন সম্ভবত তাঁর ভাবীর মাধ্যমে)। আমার মা’র কোনো সেনসিটিভ জায়গায় যদি অপারেশন হয়েও থাকে, তবে সেটা আমাকে জানানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ আমি তখন ছিলাম কোমলমতি কিশোর।

এছাড়া টিচার হওয়া সত্ত্বেও শহিদ প্রায়ই আমার সামনে ও আমাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ও অশ্রাব্য কথাবার্তা বলতেন। যেমনঃ দিব্যা ভারতী মারা যাবার পর তিনি আমাকে (প্রাইভেট পড়ানোর সময়) বললেন, ‘এখন কবরে দিব্যা ভারতীর পু*কিতে ফেরেশতারা – – করতেছে।’ (বুঝতে হবে, আমি কাফের বা অবিশ্বাসী একদিনে হই নি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মুনাফিকদের কর্মকাণ্ড দেখে হয়েছি)

শাম্মী

দ্বিতীয়তঃ আসি শাম্মীর কথায়, ‘৯৮ সালে বন্যার পর আমার যখন টাইফয়েড হলো, তখন সেটায় মাসখানেক ভুগে আমি কোনোমতে সেড়ে গেলাম ঠিকই, তবে আমার মধ্যে অন্যান্য বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে থাকলো, যেমনঃ চুল পড়ে যাওয়া, মাথায় টাল-মাটাল অনুভব করা, অস্থিরতা, বেশি কথা বলার প্রবণতা ইত্যাদি। এমন একটা সময়ে আমার এক বরিশাইল্লা (বাড়ি মূল বরিশাল জেলার বানারিপাড়ায়) ফ্রেন্ড পাভেল আমার মধ্যে শাম্মীর পোকা ধরিয়ে দিল। সে বললো, ‘তোর বাসার কাছেই তো দারুণ মাল! এইটার সাথে প্রেম করস্ না কেন?’ এর আগ পর্যন্ত শাম্মীকে কেবল প্রতিবেশী ছোটবোন হিসেবেই দেখেছি।

পাভেলের কথা শুনে আমার মাথায় একটা (বাজে) আইডিয়া আসলো, আর সেটা হলোঃ ‘শাম্মীকে একবার বাজিয়ে দেখতে হয়’। তখন থেকে আমি শাম্মীর গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকলাম, ওর গতিবিধি দেখে পাভেলের কথা পজিটিভই মনে হলো। অর্থাৎ শাম্মীর চাউনি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হলো, সে আমাকে পছন্দ করে, সুতরাং তাকে প্রপোজ করা উচিত। তখন একদিন বিল্ডিং-এর সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম, কখন সে স্কুল থেকে ফিরবে?! সে ফেরামাত্রই তার হাতে একটি প্রেমপত্র ধরিয়ে দিলাম, যেটাতে একটা গানের প্রথম কয়েকটা লাইন লেখা ছিল, আর সেটা হলোঃ ‘চোখের ভাষা যদি বুঝতে পারি, না বলা কথা যদি বলতে পারি, তবে করি নি তো ভুল, আমি একচুল, তুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার!’

যাই হোক, তখন শাম্মী ক্লাস সিক্সে পড়তো ঠিকই, তবে প্রেম-ভালোবাসা জিনিসগুলো ঠিকই বুঝতো। ওকে অনেক অল্প বয়সেই দেখেছি, আমার ইমেডিয়েট ছোট ভাই বাপ্পির সাথে স্বল্পমাত্রায় – – করতে। সুতরাং কেউ যদি বলেন, ক্লাস সিক্সের এই মেয়েটিকে আমার প্রেমের প্রস্তাব দেয়া ঠিক হয় নি, তবে ভুল করবেন। শুধু বলতে পারেন, প্রপোজালের কোনো ডকুমেন্ট রাখা উচিত হয় নি, যেমনঃ প্রেমপত্র বা লাভ লেটার। সে ঐ চিঠি তার বাপ-মাকে দেখিয়ে দেয়, ফলে তার বাপ-মা আমার মাকে ডেকে কিছু লেকচার দেয় হয়তো, যেমন বলেঃ ‘জাকিরকে আমরা শাম্মীর ভাই হিসেবে মনে করেছি এতদিন। আমরা তো আশা করি, বাইরের কেউ শাম্মীকে ডিসটার্ব করলে ওরাই তাকে প্রটেকশন দেবে ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে’।



এরপর শাম্মীকে আমি কেবল এড়িয়েই গিয়েছি, কোনোদিন ভালো করে কথা বলি নি। প্রায়ই সে এমন সময় আমাদের বাসায় আসতো, যখন আমি ছাড়া আর কেউ থাকতো না। ঐ সময়টায় তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝা যেত, সে চাচ্ছে আমার সাথে নির্জন বাসায় কিছু একান্ত সময় কাটাতে, তার প্রতি আমার এক সময়কার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে। কিন্তু ইতিমধ্যে আমি তাকে পল্টিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছি, তাই তার ফাঁদে নতুন করে পা দেয়ার কোনো মানে হয় না।

(শাম্মীর সাথে আমার কাহিনীগুলো নিম্নোক্ত ইউটিউব ভিডিওতে বর্ণনা করেছি)

এরপর শাম্মী পাশের বিল্ডিং-এর এক ভাড়াটিয়া পোলার সাথে প্রেম করে। তখন শাম্মী ইডেন কলেজে ইকোনমিক্স-এ পড়তো তবে ঐ ছেলেটা খুবই অল্পশিক্ষিত ছিল, খালি দেখতে ভালো ছিল, তার দেশের বাড়ি ছিল ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় (লক্ষ্য করুন, শাম্মীর বাড়ি মঠবাড়িয়া আর ঐ ছেলের বাড়ি বিবাড়িয়া, দুই বাড়িয়াই চরম পল্টিবাজ ও সুবিধাবাদী)। প্রেম করতে করতে বিয়ের আগেই পেটে বাচ্চা বানিয়ে ফেলে শাম্মী, তখন ওরা ভাড়া বাসা পাল্টে মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায় চলে যায়, তবে বাচ্চা জন্ম দেয়ার কয়েক বছর পর আবার রামপুরা এলাকায় ফিরে আসে (বনশ্রীতে)।

পেটে বাচ্চা বানানোর এই কাহিনী করে ২০০৭ সালে, তখন আমি অলরেডি বিবাহিত (২০০৬ সালে বিয়ে করেছি, বৃহত্তর বরিশালেরই এক মেয়েকে, তবে পিরোজপুর বা মঠবাড়িয়ার নয়, বরং ঝালকাঠির নলছিটির)। আমার এস্টিমেশন হলো এই যে, আমার সাথে প্রেম বা বিয়ে করতে না পেরে শাম্মী উক্ত কেলেঙ্কারী ঘটায়। হয়তো সে আমাকে দেখাতে চেয়েছিল যে, ‘তুমি আমাকে বিয়ে না করলে কী হবে?! তুমি বৃহত্তর যে এলাকার লোক, সেখানকারই এক ছেলেকে বিয়ে করেছি আমি!’ (বি.বাড়িয়া ও চাঁদপুর বৃহত্তর কুমিল্লার অন্তর্ভুক্ত)

আমার মেঝো মামী

এই মামা হলো আমার মা’র সৎ ভাইদের মাঝে দ্বিতীয়জন, আর মামীর দেশের বাড়ি হলো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। অবশ্য তাঁর সাথে আমার মামার পরিচয় ঢাকাতে। মামী খুব সুন্দরী ছিলেন – এমনটা বলা যেত যদি তিনি আরেকটু লম্বা হতেন। তবে এই মামী দীর্ঘ একটা সময় পরকীয়াকাতর ছিলেন, তাঁকে একবার আমার মামা তার পরকীয়া প্রেমিকের সাথে হাতেনাতে ধরে ফেলে। কিন্তু তার শাস্তি বা অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার বদলে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে (যেমনঃ ভাই-বোন) নিয়ে আমার মামাকে বেদম প্রহার করলেন। মামার সেই সংসার কোনোমতে টিকে থাকলেও (ছোট বাচ্চা অর্থাৎ আমার মামাতো ভাইয়ের কারণে) সেখানে এরপর থেকে আর স্বস্তি বা শান্তি পান নি মামা। এ ঘটনার দু’-এক বছরের মধ্যে স্ট্রেস বা ক্রনিক টেনশনের কারণে মামার ডায়াবেটিস হয় এবং তার দশ বছরের মধ্যে কিডনী ফেইলিয়র হয়ে মামা মারা যান।

এখন আমি চিন্তা করছি, আমারও তো ডায়াবেটিস হয়েছে, সেটা বউয়ের অনবরত মানসিক অত্যাচার বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, ডায়াবেটিসের পরেও আমার উপর বউয়ের অত্যাচার কোনো অংশে কমে নি, বরং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেটা দিনদিন আরো বাড়ছে। আমার বউও মামীর মতো বরিশালনি (ঝালকাঠির নলছিটিতে আমার শ্বশুরবাড়ি), তবে মামীর মতো সে চরিত্রহীন নয়। এতে অবশ্য স্বস্তি পাওয়ার কিছু নেই, কারণ ঐ মামী খুব একটা ঝগড়াটে না হলেও আমার বউ তীব্র ঝগড়াটে। বরিশালের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এই সমস্যাটা আমি দেখেছি – তারা হয় ঝগড়াটে নয়তো কুটনা।

উক্ত মামীর চরিত্রে এতটাই সমস্যা ছিল যে, উনি একবার আমার ব্যাপারেও পরোক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আমি সাহসের অভাবে বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক (মনে নেই) তাঁর দিকে হাত বাড়াই নি। আমার সাথে উদ্দেশ্য সফলকাম না হওয়ায় তিনি হয়তো হতাশ হয়েছিলেন, তাই তিনি আর কখনো আমাদের বাসায় বেড়াতে আসেন নি। এরপর মামীর বেশ-ভুষা বদলে যায়, তিনি কট্টরপন্থী স্টাইলে পর্দা করতে ও বোরকা-হিজাব ব্যবহার করতে শুরু করলেন। মনে মনে ভাবলাম, লাভ কী এসব পর্দা-হিজাব করে, যদি যৌবনের ‘উত্তপ্ত’ বছরগুলোতে যৌবন সামলাতে না পারে?! মূলতঃ এ কারণেই হিজাবওয়ালা মহিলাদেরকে আমি দেখতে পারি না – আমার এজাম্পশন হলো, বোরকা-হিজাব ওলনিরা এক সময় পতিতা টাইপের ছিল এবং অনেকের সাথে সেক্স করেছে বা শুয়েছে; এখন ঐ সকল পুরুষেরা যাতে তাদেরকে রাস্তাঘাটে চিনতে না পারে, তাই তারা হিজাব করে।




আর বরিশালের মেয়েদের ব্যাপারে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, এদেরকে কখনো বিয়ে করতে নেই। যদিও বা ভাগ্যদোষে বিয়ে করেনও, তখন বিয়ের পর দেখা যাবে, এরা হয় তীব্র ঝগড়াটে নয়তো চরিত্র দুনিয়ার খারাপ (বা একসময় অনেক খারাপ ছিল) অথবা অন্য কোনো সমস্যা (যেমনঃ ভেতরে ভেতরে মানসিক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী)। আমি আমার বউয়ের উদাহরণ দিতে পারি, সে শুধু ঝগড়াটে নয়, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীও বটে; বিয়ের আগে যেটা আমি বুঝতে পারি নি। অবশ্য ভুল আমারই – স্বল্প সময়ের পরিচয়ের সূত্রে তাকে বিয়ে করেছি। এখনকার ছেলেরা যে মেয়েদেরকে বহু বছর ধরে ‘ব্যবহার করে’ পরে বিবাহ করে – এই ট্রেন্ডের সমর্থক আমি এই কারণেই। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, এটাই ভালো পন্থা। প্রেমের সময় বা শারীরিক সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে যদি মেয়েটির কোনো সমস্যা বোঝা যায়, তবে তাকে ‘ডাম্প’ করাই উচিত। কারণ, অসামাজিক, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও ঝগড়াটে মেয়েমানুষ নিয়ে আর যাই করা যাক, সংসার তো করা যায় না, তাই না?

আর বরিশালের লোকদের বিষয়ে আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করেছি আমি, তারা নিজেদের সুন্দরী, মেধাবী ও ভালো মেয়েগুলোকে নিজেরাই বিবাহ করে। আর যেগুলো রিজেক্ট মাল অর্থাৎ কোনো না কোনো মেজর ত্রুটি আছে, সেগুলোকে অন্য জেলার ছেলেদের কাছে গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এই অভ্যাস অন্যান্য কোনো কোনো জেলার লোকদের মাঝে সামান্য থাকলেও বরিশালের লোকদের মাঝে এটা খুবই দৃষ্টিকটুভাবে তীব্র। এখানে বরিশালের লোক বলতে শুধু বরিশাল জেলার লোক বুঝাই নি, বরং বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলাই বুঝিয়েছি। এই ছয়টি জেলা হলোঃ বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা আর ভোলা।

আমার শ্বশুরের এক কলিগ

আমার শ্বশুরের বাড়ি ছিল ঝালকাঠিতে, যেটা বৃহত্তর বরিশালে, সুতরাং ঐ এলাকার মানুষের সাথে তাঁর মাখামাখি থাকবে – এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে তিনি চাকুরিসূত্রে এমন একজনের সাথে মাখামাখি শুরু করলেন যার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। লোকটার নাম লুৎফর রহমান। আমার শ্বশুর যে কন্সট্রাকশন কোম্পানীতে কনট্রাক্টর, লুৎফর রহমান সে কোম্পানীরই সিনিয়র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা একটু বয়ষ্ক হয়ে গেলে নিজেদেরকে ‘শুধু ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেয় ঠিকই, তবে ওরা মনমানসিকতায় চিরকাল ‘ডিপ্লোমা’ অর্থাৎ অর্ধেকই থেকে যায়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ লুৎফর রহমান।

আমার শ্বশুরের সাথে মাখামাখির পেছনে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল, শ্বশুরের মেডিক্যাল পড়ুয়া ছেলের কাছে নিজের নাকবোঁচা ইডেন পড়ুয়া বিলো এভারেজ মেয়েটাকে বিয়ে দেয়া। কথায় আছে, ‘কারো উপকার করতে পারলে কর, নিদেনপক্ষে কারো ক্ষতি করিস্ না!’ এ কথাটা মনে হয় লুৎফর রহমান কোনোদিন শোনেন নি, তাই আমার শ্বশুর মশায়ের উপকার করতে গিয়ে তার মেয়েজামাইয়ের অর্থাৎ আমার ক্ষতি করে বসলেন।

সেটা ‘১১ সালের কথা, আমি তখন জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরী করতাম, মূল বেতন ছিল ৩০,০০০ টাকা, আর ওভারটাইম মিলিয়ে প্রায় ৪০,০০০ এর মতো পেতাম। আমার মতো একজন ল্যাগারের কাছে এটা ছিল আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতো, সেই সাধের চাকুরীটা দুই মাস করতে না করতেই একদিন শ্বশুর মিয়া আমাকে ফোন করে বললেন, ‘তুমি ঐ চাকুরি ছেড়ে টেকনিক্যাল চাকুরি ধর, বেতন একই রকম পাবা’। আসলে লুৎফর রহমান যখন শুনেছিলেন যে, শাহ আলম (আমার শ্বশুরের নাম) সাহেবের জামাই পাবলিকেশন্সে ভালো বেতনে চাকুরি করে, তখন তাঁর পিত্তি জ্বলে উঠেছিল নিশ্চয়ই, তাই উপকার করার নামে ক্ষতিটা করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

জুপিটার পাবলিকেশন্সে কড়াকড়ি নিয়ম ছিল, একদিন কামাই করলে তিনদিনের বেতন কাটা, উপরন্তু ঝাঁড়ি-ধমক তো আছেই। তাই ভাবলাম, শ্বশুরমশায় তো আমাকে একটা টেকনিক্যাল চাকুরী দিতেই যাচ্ছেন, সুতরাং জুপিটারের চাকুরিটা ঝুলিয়ে রেখে আর কী হবে?! এইরূপ অন্ধবিশ্বাসের একটি বড় কারণ হলো, তখন (২০১১ এর ডিসেম্বর) মুক্তাকে ঘটা করে উঠিয়ে নিতে যাচ্ছিলাম নিজের বাড়িতে, যদিও বিয়ে করেছিলাম বহু আগে (২০০৬ সালের মার্চে)।

শুধু জানতাম না যে, টেকনিক্যাল চাকুরিটা শ্বশুরমশায় সরাসরি দিচ্ছেন না, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার এক ফাঁপড় দালালের হাত ধরে আসতে যাচ্ছে। জুপিটারের চাকুরিটা ছেড়ে দেয়ার পর লুৎফর রহমান পল্টি দিল, সে নতুন চাকুরির ব্যাপারে লোক-দেখানো সামান্য সহযোগিতা করলো, এতে আমার কোনো লাভ হলো না, অর্থাৎ চাকুরিটা হলো না। তারপর দু’ মাস অপেক্ষার পর আরেক সহায়ক বই পাবলিকেশন্সে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে জয়েন করি। সেখানে টাকাকড়ি ভালোই কামিয়েছিলাম বটে, তবে জুপিটারের মতো সম্মান বা মানসিক শান্তি সেখানে পাই নি, কম্পেটিশনের কাজ করলে যা হয়, আর কী!

একটি পাবলিকেশন্সের প্রুফরিডার রাশেদ

ঐ পাবলিকেশন্সের একজন ফ্রিল্যান্সার প্রুফরিডার হলো আখতারুজ্জামান রাশেদ, তার বাড়ি মঠবাড়িয়ায়। সে হুজুর টাইপের হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজ। তার দুর্নীতির কর্মকাণ্ড নিম্নে তুলে ধরেছি।

২০১৪ সালের মাঝামাঝি পর্যায়ে। তখন ইন্টারমিডিয়েটের ফার্স্ট বা সেকেন্ড ইয়ারের সহায়ক বইয়ের কাজ চলছিল, দু’-একদিনের মধ্যে ট্রেসিং দেয়া হবে এমন অবস্থা। আমি তখন শেষ মুহূর্তের এডিটিং-এর বেশ কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, বলতে গেলে ব্যতিব্যস্ত ছিলাম। কারণ তখনকার দিনে আমি ছাড়া আর কেউই ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে সুন্দরভাবে ও দায়িত্বশীলতার সাথে এডিটিং-এর কাজ করতে পারতো না। এমন একটি ব্যস্ত সময়ে রাশেদ আমার পাশে এসে বসলো। সে হুজুর টাইপের হওয়া সত্ত্বেও কাজ-কর্মে ব্যাপক ফাঁকিবাজি করতো, বলতে গেলে দুর্নীতি করতো।

তার কাজ ছিল প্রুফের, সে যেনতেন প্রকারে প্রুফের কাজগুলো সেরে জমা দিত। প্রুফের কাজে তার যে পরিমাণ পরিশ্রম করার করা, তার ২০% পরিশ্রম করেই সে ১০০% পেয়মেন্ট নিয়ে নিত। আর ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন ইন-চার্জ এগুলো কেন জানি মেনে নিতেন। আসলে তিনি তখন নিজের চাকুরি থাকা না থাকা নিয়েই ব্যতিব্যস্ত বা বিব্রত ছিলেন, তাই কোয়ালিটি কাজ-এর থোড়াই কেয়ার করতেন তিনি।

যাই হোক, রাশেদের প্রুফের কাজগুলো ছিল এমন যে, সেগুলো আরো দু’একবার প্রুফ দেখলেও তাতে ভুল শোধরাবে না। তাই ওর প্রতি আমি ক্ষিপ্ত ছিলাম, কারণ আমাকে এর ফলে এডিটিং এর পাশাপাশি প্রুফ মিসটেকও ব্যাপকভাবে ধরতো হতো। তাই এক পর্যায়ে যখন সে আমাকে কিছুটা বিরক্ত হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় বললো, ‘কি, হয় নাই?’ অর্থাৎ সে জানতে চেয়েছিল, আমার এডিটিং এর কাজ শেষ হয়েছে কিনা। তখন আমি স্বাভাবিক কারণেই বেশ বিরক্ত হলাম; মনে মনে ভাবলাম, ‘শালা, তোর কারণে আমাকে এক্সট্রা কাজ করতে হচ্ছে, অর্থাৎ তোর কাজগুলোও আমাকে করতে হচ্ছে। আর তুই-ই আবার কিনা আমার সাথে ভাব লস্।’

সুবর্ণা মুস্তফা – দ্য গ্রেট (বোঝেনই তো সে আসলে কী!)

তাঁর প্রতি আমি ক্ষিপ্ত, কারণ তিনি ‘বুড়ি’ বয়সে ফরীদিকে ছেড়ে সৌদকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সুবর্ণা অবশ্য আমার শ্বাশুড়ির কাজিন হয় (যদি বৃহত্তর বরিশালের বাসিন্দা আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি সত্য/সঠিক বলে থাকেন)। আর কিছুদিন আগে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, সুবর্ণার পিতা গোলাম মুস্তফার বাড়ি পিরোজপুরে, অর্থাৎ সুবর্ণা অরিজিনালি পিরোজপুরের মেয়ে; হোক, তাঁর জন্ম ঢাকায় অথবা তিনি ভিকারুননিসার প্রাক্তন ছাত্রী। অবশ্য আগে থেকেই জানতাম যে, গোলাম মুস্তফা তথা সুবর্ণার দেশের বাড়ি বৃহত্তর বরিশালের কোথাও।

জানা মতে, সুবর্ণা পিতৃসূত্রে পিরোজপুরের বাসিন্দা

আমি মনে করি, বুড়ো বয়সে ফরীদির সাথে পল্টি নেয়া সুবর্ণার উচিত হয় নি। আর এটাও জানি, ফরীদির আগে আরেকটি বিয়ে বা বউ ছিল, সেখান থেকে ফরীদিকে ছাড়িয়ে বিয়ে করেছিলেন সুবর্ণা, তাই কষ্টসৃষ্ট করে হলেও আরো কয়েক বছর ফরীদির সাথে সংসার করা উচিত ছিল তাঁর। ফরীদির স্বাস্থ্যের অবস্থা যে হারে অবনতি হচ্ছিল, তাতে ডিভোর্স না হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যেতেন তিনি। তখন না হয় সুবর্ণা আরেকটি বিয়ে করতেন। আর সুবর্ণার প্রতি আরো কিছু কথা খোলামেলা বলতে চাই, ‘ফরীদি যে বৃহত্তর এলাকার লোক, তাদেরকে তো আপনারা (বরিশাইল্লারা) অ্যান্টি-পার্টি মনে করেন। তাহলে তাদের কাছে বিয়ে বসতে যান কেন আপনারা, বিশেষ করে আপনার মতো – – টাইপের মেয়েরা?’

‘সুবর্ণা, আপনি হয়তো বলবেন, আপনার জন্ম ঢাকায় বা সেখানে পড়াশুনা করেছেন। তাতে কী?! আপনারা তো ‘বরিশাইল্লা ময়লা’ চাইলেও ধুইতে পারবেন না, হাজার চেষ্টা করলেও! ঠিক যেমন আমার শ্বাশুড়ি খুলনায় জন্মে ও বড় হয়েও তাঁর বরিশাইল্লা কানেকশন মুছতে পারেন নি, এমনকি বরিশাইল্লা উচ্চারণে কথা বলাটাও পরিহার করতে পারেন নি।



যে সকল নারী-পুরুষের মাঝে অনিচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন ঘটিয়েছি

আমার কথাবার্তা ও আদর্শে প্রভাবিত হয়ে অনেক নারী-পুরুষ তাদের লাইফস্টাইল বদলেছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ফারহানাহ চুপমারানী, ওহ্ সরি, চৌধুরানী। সে অরিজিনালি সাতক্ষীরার মেয়ে, কিন্তু তার ডাক্তার পিতা খুলনা শহরের মৌলভিপাড়ায় একটা দুই তলা (২০১৩ সালে দেয়া তথ্য মোতাবেক) বাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে ফারহানাহ এখন নিজেকে খুলনার মেয়ে হিসেবে পরিচয় দেয়।




তবে অরিজিনালি খুলনার বাসিন্দা এমন কোনো ব্যক্তি তাকে চেপে ধরলে সে নিজেকে সাতক্ষীরার মেয়ে হিসেবে মেনে নেয়; যেমনটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে বিথীর হোস্টেলের এক মহিলার ক্ষেত্রে। এটা খুবই অদ্ভূত যে (আমার বুঝে আসে না), নিজ জেলার মানুষ হিসেবে যখন অন্য কেউ পরিচয় দেয়, তখন বাংলাদেশের মানুষ সাধারণতঃ তাকে চেপে ধরে; চেষ্টা করে যাতে প্রথমোক্ত ব্যক্তি নিজ থেকেই স্বীকার করে নেয়, সে আসলে কোন জেলার।

যাই হোক, ‘চিলিক-বিলিক কথা না বইলা’ মেইন পয়েন্টে আসি। ফারহানাহ’র সাথে আমি কাজ করেছি একটি গাইডবুক পাবলিকেশন্স প্রতিষ্ঠানে, ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে। সেখানে সে নিজেকে ফিজিক্সের বিশাল সমঝদার হিসেবে মনে করতো, কিন্তু আসলে ফিজিক্সে তার জ্ঞান ছিল গড়পড়তা লেভেলের, এক্সট্রাঅর্ডিনারী নয়। প্রথম প্রথম সে নিজেকে উক্ত বিষয়ে চরম জ্ঞানী মনে করলেও পরবর্তীতে যখন আমার সাথে কাজ শুরু করে তখন বুঝতে পারে, সে আসলে ‘নিউটনের মতো’ ফিজিক্সের জ্ঞান সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কয়েকটি নুড়ি কুঁড়িয়েছে মাত্র। তখন নিজেকে ডেভেলপ করার পরিবর্তে তার ক্ষোভ গিয়ে পড়ে আমার উপর, আফটার অল আমিই তার আত্মবিশ্বাসের খুঁটিতে ফাটল ধরিয়েছিলাম (যদিও সেটা অনিচ্ছাকৃত)।

প্রতিশোধ হিসেবে সে আমাকে কাজ দেয়া বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল, যেমনঃ ২০১২ এর ডিসেম্বর মাসে যখন সাঈদ ভাই ফারহানাহকে বললো, আমাকে সিকিউ-এর ফাইলগুলো দিতে এডিট করার জন্য, তখন সে যথাসম্ভব সেগুলো আটকে রেখেছিল। সে চেয়েছিল সেগুলো নাসিরউদ্দীন স্যারকে দিয়ে এডিট করাতে। নাসির স্যার আমার চেয়ে ফিজিক্স বুঝতেন বেশি, সেটা সত্য; তবে উক্ত ফাইলগুলো এডিট করার জন্য আমার জ্ঞানই ছিল ‘মোর দ্যান এনাফ’, উপরন্তু নাসির স্যারের হাতে আরো বহু ধরনের কাজ ছিল। নাসির স্যারকে ফাইলগুলো দিতে চাওয়ার পেছনে আরেকটা কারণ রয়েছে অবশ্য, আর সেটা হলো – নাসির স্যারের বাড়িও খুলনায়, খুব সম্ভবতঃ ডুমুরিয়ায়।

ফারহানাহকে নিয়ে আরেকটা আর্টিক্যাল রয়েছে এই ব্লগে, সেটা এক সময় পড়ে নিয়েন

যাই হোক, ফিজিক্সকে যদি এতোই ভালোবেসে থাকে ফারহানাহ, তাহলে কোনো অলিম্পিয়াড নিয়ে প্যাশন দেখাতে চাইলে সেটা ফিজিক্স অলিম্পিয়াডই হওয়া উচিত ছিল, তাই না? কিন্তু দেখা গেল, ঐ পাবলিকেশন্স থেকে বিদায় নেয়ার পর সে তার ফেসবুক ওয়ালে কেবল ম্যাথ অলিম্পিয়াডের পোস্টগুলোই শেয়ার করতো, ফিজিক্সের টিকিটিরও দেখা পাওয়া গেল না সেখানে। অর্থাৎ সে এটা প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে যে, সে ম্যাথের বিশাল একজন পৃষ্ঠপোষক এবং সমঝদার। এখানটায় আপাততঃ কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না তাকে, ‘গুড ফর হার’! সুতরাং বুঝতেই পারছেন, তার মাথা ও জীবন থেকে ফিজিক্সের ভূত চিরতরে বিদায় হয়েছে আমার কারণেই; যদিও তা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নয়, বরং ঘটনায় ঘটনায় ঘটেছে। এমনটা বলতে বাধ্য হলাম, কারণ তার এক দেশী ভাই ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমানও এই ধরনের কর্মকাণ্ড করেছিল ২০০৬ সালে।



মিজানও খুলনার লোক, সে কোচিং সেন্টার ওমেকা’র চারজন কর্ণধারের একজন। অবশ্য এখনও সে উক্ত কোচিং সেন্টারের কর্ণধার আছে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই আমি; কারণ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যাই না (২০১২ সালে পলাশ ভাই যখন আমার সাথে ‘চাড়াল’-এর মতো আচরণ করলেন, তখন থেকে। পলাশও ঐ কোচিং-এর একজন কর্ণধার)।

মিজান ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আপনাদের বাড়ি খুলনার কোথায়? শহরে না গ্রামে?’ তখন সে বলেছিল, ‘দু’ জায়গাতেই’। যাই হোক, মিজানের আসল পয়েন্টে আসি। বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং সেন্টারগুলোর খোঁজখবর যারা রাখেন বা এ সকল কোচিং সেন্টারে শিক্ষক বা অন্য কোনো পদে যারা কাজ করেছেন, তারা সবাই মিজান ভাইকে চিনে থাকবেন এবং তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে থাকবেন। তাহলে নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, মিজান ভাই ফ্রেঞ্চ, ম্প্যানিশ ও চাইনিজসহ বেশ কয়েকটি ভাষা রপ্ত করেছেন। শুধু এতটুকু জানেন না হয়তো, মিজানের এই পাগলা নেশা হয়েছিল আমার কারণেই।

২০০৬ সালে আমি যখন ওমেকাতে টিচার হিসেবে কাজ করি, তখন মিজানের সামনে স্পোকেন ইংলিশের ফুলঝুঁড়ি ছুটিয়েছিলাম, এতে হয়তো তার আঁতে ঘা লেগেছিল, ফারহানাহ’র মতো। অর্থাৎ আমার সাথে সাক্ষাৎ ‘হোনেসে পেহেলে’ মিজানের ধারণা ছিল সে নিজেই বিশাল একটা জ্ঞানী (যদিও সেটা একেবারে মিথ্যে নয়, তবে আজেবাজে টাইপের ইউজলেস জ্ঞান ও তথ্য দিয়ে সে তার মাথা ভরে ফেলেছিল)। এখন আমার স্পোকেন ইংলিশের নলেজ দেখে মিজান ভাবতে থাকে, ‘অনেক কিছুই তো শিখলাম জীবনে, কিন্তু স্পোকেন ইংলিশটা তো শিখি নি, ইংরেজি বলতে গেলে তো দাঁত ভেঙ্গে যায়, তো কী করা?! আর এখন থেকে শেখা শুরু করলেও তো জাকিরের সমান ইংরেজি শিখতে দুই পুরুষ লেগে যাবে! এখন জাকিরকে কীভাবে জব্দ করা যায়?!’

তখন তার মাথায় ইংরেজি বাদে অন্যান্য বিদেশী ভাষা শেখার পোকা ধরে; সে স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, চাইনিজ ইত্যাদি ভাষা একের পর এক শিখতে থাকে। চাইনিজ শেখার জন্য তো সে চীনে গিয়ে থেকে এসেছে প্রায় আড়াই বছর। সত্যি, একটা কথা স্বীকার না করলেই নয়, তার মতো জীবন পেলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম। সেটা অবশ্য হতে পারতো, যদি আগেভাগে বিয়ে না করতাম (তার মতো ৩৫/৩৬ পার হয়ে গেলেও যদি বিয়ে না করতাম)। আর আমার যে চরিত্র (মনমানসিকতা), তাতে বাংলাদেশে ভারতের মতো পরিবেশ থাকলে কোনোদিন বিয়ে করতাম না, কেবল মাগি লাগিয়েই দিন পার করতাম। যাই হোক, মিজানকে নিয়ে আমার পয়েন্ট বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই, তার অভ্যাস তথা দৈনন্দিন জীবন ও ভালো লাগাটাকেই আমি নিজের অজান্তে বদলে দিলাম, তার দেশী বোন ফারহানাহ’র মতো।

এবার আসি বর্তমানে আমি যে এলাকায় থাকি, অর্থাৎ যেখানে বাড়ি করেছি সেখানকার এক আওয়ামী লীগ নেতার কথায়। এলাকাটা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড। এখানে ‘মূল’ লীগের সভাপতি হলেন হেলাল সাহেব, আমি তাকে কয়েক মাস আগে চিনেছি। গায়ের রং কালো হলেও দেখতে বেশ সুদর্শন, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব বটে। আমি তাকে মনে মনে পছন্দ করি (একজন নেতা হিসেবে), তবে তিনি আমাকে চিনেছেন মাত্র এক বা দুই মাস আগে; তাও তার সাথে আমার সরাসরি কোনো কথা হয় নি, শুধু দু’-একবার সালাম বিনিময় ছাড়া (তিনি নেতা মানুষ, সামনে পড়লে তো সালাম দিতেই হয়!)।

দুঃখজনকভাবে, এই ব্যক্তিটির জীবনেও সম্প্রতি একটি পরিবর্তন নিয়ে এসেছি আমি, নিজের অজান্তে। প্রতিদিন সকালে হোটেলে নাশতা খেয়ে বউয়ের জন্য নাশতা নিয়ে বাড়ি ফিরি, তখন সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে আসতে থাকি। আমার ফেবারিট হোটেলটা আবার সেই নেতার বাড়ির ধারে। তাই প্রায়শই তিনি দেখতেন, ‘এই বিদেশিটা কীভাবে বেয়াদবের মতো সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে যাচ্ছে!’ আমাকে বিদেশী বলার কারণ হলো, আমার হোম ডিস্ট্রিক্ট অন্য এক জেলায়, নারায়ণগঞ্জে নয়; অবশ্য আমি চার বছর বয়স হতে ঢাকায় বড় হয়েছি, আর এর আগের দুই বছর ছিলাম খুলনা শহরে।

যারা বাইরে থেকে এসে এখানে বাড়ি করেছে, তাদেরকে এখানকার লোকজন ‘বিদেশী’ বলে আত্মতৃপ্তি পায়, কারণ ‘বিদেশী’দের মতো অর্থকড়ি ও স্বচ্ছলতা তাদের নেই। যাই হোক, ‘বিদেশী’ ডাকটাতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি, যদিও আমাকে সরাসরি ‘বিদেশী’ ডাকার মতো সাহস এখনো এখানকার কারো হয় নি। তবে মেইন কথা হলো, এখানে আমরা ‘বিদেশীরা’ সেকেন্ড ক্লাস নাগরিক।

তো, একটা ‘বিদেশী’ যার কিনা হেলাল সাহেবের সাথে আলাপচারিতা নেই, সে হেলাল মিয়ার সামনে দিয়ে বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে যাবে, এটা হেলাল মেনে নিতে পারেন নি। তিনি ভিতরে ভিতরে সম্ভবতঃ প্রচণ্ড আক্রোশে জ্বলে উঠলেন। তবে কিছুই করার নেই, আমি বিশাল কৌশলী, বাংলাদেশি যে কোনো মানুষের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে আমি আন্দাজ করতে পারি, সে আমার সম্পর্কে কী ধরনের মনোভাব পোষণ করছে, বা এখন আমার সাথে কী ধরনের ব্যবহার করতে পারে। আমার এই কৌশলের কারণে হেলাল কোনো পাত্তা পেল না আমার কাছে, এতে করে তার জিদ ও ক্ষোভ আরো বেড়ে গেল। আমার সাথে সুবিধা করতে না পেরে সে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে থাকলো, ‘আমার ব্যক্তিত্ত্বের মাঝে কোনো কমতি আছে কি – যে কারণে একটা বিদেশিও আমাকে সম্মান করে না?’

আমি অবশ্য তাকে ‘সম্মান’ বলতে যেটা বুঝায় সেটা না করলেও তাকে নেতা ও ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করি, শুধু তার কাছে মাথা নোয়াব না। আমি জানি, এ সকল লোক (যারা আওয়ামী লীগ করে) খুবই সুযোগসন্ধানী টাইপের, এরা কাউকে বাটে পেলে তার চূড়ান্ত দেখে নেয়; তাই হেলালের সামনে নমনীয় হওয়া যাবে না, বিশেষ করে নিজের অতি পছন্দের কোনো কিছুর বেলায়। সকালের নাশতা করে চা খেয়ে একটা সিগারেট সেবন করা আমার অতি পছন্দের একটি অভ্যাস। এমন তো না যে, সেখানে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কেউই ধুমপান করে না, তারা ‘দেশি’ লোকেরা তো সেটা ঠিকই করে রসিয়ে রসিয়ে; খালি বিদেশীরা করলেই সমস্যা? নাকি?

এরপর সাত-পাঁচ ভেবে হেলাল ব্যাটা দাড়ি রেখে দিল, তবে দাড়ি অবশ্য সে বেশি বড় করছে না। মাঝখানে কয়েকদিন চুলে কলপ না করে সে দেখাতে চেষ্টা করেছিল যে, সে আসলে ইয়াং নয়, সব চুল-দাড়ি-গোঁফ পাকা, সুতরাং তাকে বয়ষ্ক মানুষ বা সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে সম্মান দেখাতে হবে। যাই হোক, পরোক্ষভাবে আমার কারণেই সে ইয়াং বেশ দূরে সরিয়ে রেখে বুড়ো ও ‘সম্মানজনক’ মানুষের বেশ ধরলো। এটা আমার মনে হাসির উদ্রেক ছাড়া আর কোনো কিছুই করছে না!

সুযোগ তারা দিয়েছিলো ঠিকই – পর্ব ২

এরপর কিশোরগঞ্জের ভৈরবের এক কাজের বুয়ার কথা বলি, সে দেখতে সুন্দরী ও গায়েগতরে ‘ভলাপচুয়াস’ ছিল। আবার এর বয়সও কম ছিল। আমার বয়স যখন ৩৪ তখন তার বয়স ছিল ২৫-২৬ এর মতো। একদিন এই বুয়াকে একই বিল্ডিংয়ের চার তলায় মান্নান স্যারের বাসা হতে বেরোতে দেখেই প্রথম দর্শনে তার প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। ভাবলাম, ‘ইস, এরকম একটা কাজের বুয়া যদি আমাদের থাকতো, তবে আমি তার সাথে প্রেম করতে পারতাম’। খোদা মনে হয় আমার এই ইচ্ছের কথা শুনেছিল, তাই একদিন দেখলাম ওই বুয়াকেই আমার মা বাসায় কাজ করার জন্য ঠিক করেছেন। তবে আমি তখন অন্য কারো প্রেমে মশগুল ছিলাম হয়তো, তাই সলজ্জ বুয়াকে আমাদের বাসায় বেশ কয়েকবার একা পেয়েও প্রসেস করার কোনো উদ্যোগ নিলাম না।



বুয়ার স্মিত হাসি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম যে, তিনি আমাকে পছন্দ করতেন, তাই তাকে একটু পাম্প দিলে আর জোর করলেই আমার সাথে এক বিছানায় শুতেন। আমি যে কাজগুলো তার সাথে করতে পারতাম বা যেগুলো আমার করা উচিত ছিল সেগুলো এইরূপঃ যখন-তখন তার দেহের বিভিন্ন অংশে স্পর্শ করা; তিনি যখন বেসিনে দাঁড়িয়ে প্লেট ধুতেন, তখন তার পিছনে গিয়ে তার পাছায় আমার লিঙ্গ চেপে ধরা বা স্পর্শ করানো। তবে আমি যে কিছুই করি নি, তা নয়। যেমন একদিন তিনি যখন আমার সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন, তখন অত্যন্ত হাল্কা করে তার পাছার এক দাবনাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করি। সেটা এতোটাই হাল্কা ছিল যে, তিনি ভেবেছিলেন আমি হয়তো ভুলে সেটা করেছি; তাই আমার দিকে ফিরেও তাকান নি, আপত্তি করা তো দূরে থাক।

আবার এমনো হতে পারে, তিনি হয়তো লজ্জায় ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকান নি। যাই হোক, মোদ্দা কথা হলো এই যে, আমার আরো বোল্ড বা সাহসী পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল, কারণ মালটা ছিল পাখির মতো নরম ও ভীতু; তার উপর তার মনে আমার প্রতি সফট কর্নার তো ছিলই।

সেদিন আসলে পাশের বিল্ডিংয়ে এক ব্যাটা ঝুলে ঝুলে রঙ করছিল, সে বেহুদা আমাদের বাসার দিকে নজর রাখছিল, তাই বেশি কিছু করতে পারি নি। যেমন ওই ব্যাটা তখন না থাকলে বুয়া যে রুমে (মা-বাবার) ঢুকেছিল, আমিও তার পিছন পিছন সে রুমে ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরতাম, তারপর যা থাকে কপালে। হয় তিনি আমার সাথে পুরো সেক্স করতেন, যার জন্য তাকে একটু পাম্প দেয়া লাগতো এবং টাকার লোভ দেখানো লাগতো; অথবা তিনি শুধু কামিজ উপরে উঠিয়ে তার দুধগুলো টেপাটিপি করতে ও চুষতে দিতেন। আর সেটাতেও আপত্তি করলে উপরে উপরেই তাকে কিছুক্ষণ টেপাটিপি করতাম। তবে ঘটনা যাই হোক, তিনি কখনো সেটা কারো কাছে ফ্ল্যাশ করতেন না, কারণ আমাকে পছন্দ করতেন।

এই বুয়া আরো বিভিন্নভাবে আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, যেমন প্রায়ই বাচ্চা ছাড়াই আমাদের বাসায় কাজে আসতেন, যখন আমি ছাড়া আর কেউ থাকতো না। মুখে সবসময়ই স্মিত হাসি ধরে রাখতেন, কারণ তিনি জানতেন ওনার বেতন আমিই দেই। একদিন অবশ্য একটা বোল্ড মুভ নিয়েছিলাম, তার স্তনের উপরের অনাবৃত অংশে (যেটা কামিজের উপর দিয়ে দেখা যায়) একটা স্কার-এ (কাটা বা পোড়া দাগ) হঠাৎ করে হাত দিয়ে স্পর্শ করেছিলাম, এতে সে আতকে উঠেছিল। আরো কিছু হয়তো করতাম, বা অন্ততঃপক্ষে তার সাথে রসালো কিছু আলাপ করতাম, যদি না ভাগ্যের ফেরে মা তৎক্ষণাৎ চলে আসতেন।

আর একবার বাসায় যখন আমি ছাড়া আর কেউ নেই এমন এক সময়ে বুয়া এসে হাজির। গেটেই দাড়িয়েই তিনি আমাকে জিগ্যেস করলেন, দরজা লাগাবেন নাকি খোলা রাখবেন। আমি লাগাতে বললাম, তবে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে।

সেদিন তাকে দরজা আটকাতে বলে কাছে ডাকতে পারতাম। তারপর তাকে শরীর মালিশ করার জন্য অনুরোধ করতে পারতাম, দরকার হলে টাকাপয়সার লোভ দেখাতে পারতাম। ওই সময় আসলে আমি বিছানায় শুয়ে ছিলাম। তাই তখন তাকে ‘একটা কথা শুনে যান বুয়া’ বলে কাছে ডাকলে সেটা শুনতো বলে আন্দাজ করি। তখন কাছে আসলে তাকে বিছানায় আমার পাশে বসতে বলতাম। বসলে তাকে শরীর মালিশ করার অনুরোধটা করতাম। আর একবার মালিশ শুরু করলে সবকিছু অটোমেটিক ঘটতে থাকতো – এ ব্যাপারে নিশ্চিত ।

যাই হোক, কাছে তো আর ডাকি নি তাকে সেদিন, আসলে মনটা কী কারণে জানি ভালো ছিল না।

এবার তাহলে বর্তমান কাজের বুয়ার ফিরিস্তি দেই, সে এখনো আমার বাপ-মা’র বাসায় কাজ করে যেখানে আমি একসময় থাকতাম (এই বুয়ার দেশের বাড়ি ময়মনসিংহে)। সে প্রথম প্রথম কাজ করতে এসে ব্রেকড্যান্স মুডে দাঁড়াতো আমার সামনে, যদিও আমার মা’র সাথে কথা বলার উছিলায়। তখনই বুঝেছিলাম তার ওই জায়গায় যথেষ্ট রস আছে যেটা আমার সাথে শেয়ার করতে চায়। আর তার বয়সও ছিল বেশ কম, রস থাকবে এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে সে বিবাহিতা ছিল, একটা বাচ্চা ছিল এবং গায়ের রঙ কালো ছিল।

তার চেহারা এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজে স্পষ্ট ছিল যে, নিতান্ত অভাবের তাড়নায় কিছুটা উপরি কামানোর আশায় সে আমার সাথে শুতে চেয়েছিল। তবে তার সে আশায় আমি জল ঢেলে দেই তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। একদিন আমি যখন মা’র সাথে আলাপ করছিলাম, তখন সে মাকে কিছু একটা জিজ্ঞেস করে আমাদের আলাপের ইন্টারাপশন ঘটায়, যেটা আমি ভালোভাবে নেই নি, তাই তাকে তখন ধমক মারি।

এরপর দীর্ঘদিন সে আমাকে ভয় পেয়েছে এবং খারাপ চোখে দেখেছে, অর্থাৎ তার সাথে আর পুরোপুরি সহজ হতে পারি নি। অনেক চেষ্টাচরিত্র করে তার সাথে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিলাম একটা সময়, যেদিন তার সাথে আকামের সুযোগ পাই, তবে সেটাও হেলায় হারাই। 

সেদিন সে একটু হর্নি হয়েছিল, অর্থাৎ তার ওই জায়গাটা গরম হয়েছিল অথবা দীর্ঘদিন আমাকে তার পিছনে ঘুরতে দেখে একটু দয়ামায়া হয়েছিল, তাই আমাকে একটা চান্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অন্যান্য দিনের চেয়ে ওই দিন একটু পরিষ্কার জামাকাপড় পরে এসেছিল, আর চেহারাও পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। এসব কিছুতেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, সে আমাকে একটা সুযোগ দিতে চায়।

আর তার চোখের লুক-এর মধ্যেও একটা দুষ্টামিভাব ছিল, অর্থাৎ সে আমার সাথে শোবে। ওরনাটাও আধুনিক মেয়েদের মতো তার এক কাধ বরাবর ঝুলানো ছিল, ফলে অন্য স্তনটা কামিজের উপর দিয়ে ফুটে উঠেছিল। আমার শুধু দরকার ছিল তার স্তন চেপে ধরা, নিদেনপক্ষে তার হাত ধরে নিজের দিকে টেনে আনা। সেদিন বাসাতে শুধু আমার বউ ও বাচ্চা ছিল, তবে তাদেরকে একটা রুমে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলাম। 

আমার বউ বিশাল বোকাচোদা, দরজা বাইরে দিয়ে আটকে আমি যে কাজের বুয়ার সাথে রঙ্গলীলা করতে পারি, সেটা সে ঘুণাক্ষরেও টের পায় নি। যাই হোক, কাজকর্ম শেষ করে বুয়া যখন চলে যেতে উদ্যত হলো, তখন আমি তার পথ আগলে ধরার চেষ্টা করলাম। কিন্ত বুয়া মুখে একটা মিচকা হাসি ধরে রেখে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল। মনে হয় ঠিকমতো পথ আটকাতে পারি নি, অথবা হাত ধরে তার চলে যাওয়া রোধ করতে পারি নি। তারপরও আমি তার পেছন পেছন সিড়ি পর্যন্ত গেলাম; দেখতে পেলাম সে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার দিকে তাকাচ্ছে যেটা তালাবন্দী ছিল। মুখে একটা ঈঙ্গিতপূর্ণ এক্সপ্রেশন নিয়ে সে সিড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে নেমে গেল।

কিছুক্ষণ পর আমি সেই এক্সপ্রেশনের মানে বুঝলাম; আসলে সে ভেবেছিল, ‘বোকাচোদাটা আমাকে নিয়ে এই ফ্ল্যাটে ঢুকলেই তো পারতো, তাহলে দুজনে চিৎকার চেচামেচি করে সেক্স করতে পারতাম, ওর বউ একটুও শুনতো না।’ আসলে কথাটা ঠিক, কারণ সে ফ্ল্যাটে আমার বড় ভাই তার বউ-বাচ্চা আর আরেক ছোট ফ্যামিলিকে সাবলেট নিয়ে থাকতো। ওই সময় দুই ফ্য্যামিলিই অনুপস্থিত ছিল, আর মেইন গেটের চাবি দিয়ে গিয়েছিল আমাদের কাছে।

৩ দিন আটকে রেখে নারীকে ধর্ষণ করলেন আ.লীগ নেতা

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে যশোদা পরিবহন নামের একটি বাস কাউন্টারে এক ভারতগামী নারী যাত্রীকে তিনদিন ধরে আটকে রেখে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।




বৃহস্পতিবার সকালে গণধর্ষণের শিকার ওই নারীকে উদ্ধার করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। ওই নারীর বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নেতৃত্বে ভারতগামী নারী যাত্রীকে তিনদিন ধরে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, তিনদিন আগে ভারত যাওয়ার উদ্দেশে শেরপুর থেকে পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আসেন ওই নারী। এরপর ইমিগ্রেশনে তার কাগজপত্র প্রস্তুত করে দেয়ার নামে ওই কাউন্টারের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

পরে রাতে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বুড়িমারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, স্থানীয় নুরন্নবী (২৮) ও আনছারুল ইসলাম ওরফে ভোম্বল (৩০)। সেখানে টানা তিনদিন গণধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর আলী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই নারী মামলা করবেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তাপসী পান্নু সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন কি?

তাপসী পান্নু নয়াদিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৭ সালের ১লা আগস্ট অর্থাৎ তাঁর বর্তমান বয়স প্রায় ৩১ বছর এবং তিনি সিংহ রাশির জাতিকা। তিনি এখন পর্যন্ত তেলেগু, তামিল, মালয়ালম এবং হিন্দী ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাপসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন এবং অভিনয় জগতে প্রবেশের পূর্বে কিছুদিন মডেলিং-এর কাজ করেছেন। মডেলিং ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি।

এর মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্স ট্রেন্ডস, রেড এফএম ৯৩.৫, ইউনিস্টাইল ইমেজ, কোকাকোলা, মোটোরোলা, প্যান্টালুন, পিভিআর সিনেমাস, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ডাবর, এয়ারটেল, টাটা ডোকোমো, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল, হ্যাভেলস এবং বর্ধমান। তাঁকে ‘জাস্ট ফর উইমেন’ এবং ‘মা স্টারস’ ম্যাগাজিনদ্বয়ে ফিচার করা হয়েছে। কয়েক বছর মডেলিং করার পর তিনি এতে আগ্রহ হারান; তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি তাঁর মেধার সত্যিকার স্বীকৃতি মডেলিং-এর মাধ্যমে পাবেন না, বরং তাঁকে অভিনয় করতে হবে। ফলে এক পর্যায়ে তিনি মডেলিং ছেড়ে দিয়ে অভিনয় শুরু করেন।




তাপসী তাঁর সিনেমাজগতের অভিষেক ঘটান ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু চলচ্চিত্র ‘ঝুম্মান্দি নাদাম’-এর মাধ্যমে। তেলেগু হলো ভারতের তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের লোকজনের আঞ্চলিক ভাষা, যেখানকার রাজধানী হলো হায়দ্রাবাদ। জেনে রাখতে পারেন, বলিউড অভিনেতা সালমানের খানের পরিবারের বাড়ি হায়দ্রাবাদে যেখানে সালমানের পিতা সেলিম খান এবং তাঁর মাতা বসবাস করেন।

‘ঝুম্মানদি নাদাম’ ছবিতে তিনি আমেরিকার এক কোটিপতির কন্যার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি ভারতে আসেন ট্র্যাডিশনাল তেলেগু মিউজিক-এর উপর গবেষণার উদ্দেশ্যে। এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগেই তিনি আরো তিনটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য অফার পান। তামিল চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অভিষেক ঘটে ‘আদুকালাম’ ছবির মাধ্যমে, ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে।

ছবিটিতে তিনি একটি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন যে একটি গ্রাম্য যুবকের প্রেমে পড়ে। যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেন তামিল চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা রজনীকান্ত’র পুত্র ধানুশ। ছবির কাহিনী তামিলনাড়ুর নগর ‘মাদুরাই’-কে কেন্দ্র করে, যেখানে বেশিরভাগ দৃশ্যে পুরুষালী মারপিট দেখানো হয়েছে। ছবিটি মোটামুটি ব্যবসা করে, তবে ভারতের ৫৮-তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অনুষ্ঠানে ছয়টি জাতীয় পুরষ্কার লাভ করে।

হিন্দী চলচ্চিত্রে তাপসীর অভিষেক ঘটে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেবি’ ছবির মাধ্যমে। এতে তিনি অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন। আরো বেশ কয়েকটি হিন্দী চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও ‘জোডওয়া ২’ ছবিতে তাঁর অভিনয় খুবই প্রশংসিত হয়। ছবিটি ব্যাপক ব্যবসাসফলও হয়। ছবিটি পরিচালনা করেন ডেভিড ধাওয়ান, এতে ডেভিডের পুত্র বরুণ ধাওয়ান ডাবল পার্টে অভিনয়ও করেন।

এবার আসি তাপসীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। ২০১৫ সালে তাঁকে একবার তাঁর প্রেমজীবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তর দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, আমিও প্রেম করেছি, তবে সেটা কোনো অভিনেতার সাথে নয়, দক্ষিণ ভারতের এক সাধারণ পুরুষের সাথে। আমি আপনাদেরকে স্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারি, আমি কখনোই কোনো অভিনেতার সাথে সম্পর্কে জড়াব না।’ ২০১৩ সালের শেষ হতে আজ পর্যন্ত ‘ম্যাথিয়াস বি’ নামে এক ড্যানিশ ব্যাটমিন্টন খেলোয়াড়ের সাথে তিনি রিলেশনশিপে আছেন।

সুযোগ তারা দিয়েছিলো ঠিকই – পর্ব ১

আগের একটি আর্টিকেলে যে কাজের বুয়ার কথা উল্লেখ করেছি, তিনি আমাকে একটা আল্টিমেট সুযোগ দিয়েছিলেন। একদিন বাসায় ঢুকে তিনি দেখতে পান যে, কেউ নেই। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুক্তা কই?’ মুক্তা হলো আমার বউয়ের নাম। আমি বললাম, ‘বাইরে গেছে।’ তখন তিনি বললেন, ‘এখনই আইবো?’ আমি বুঝলাম কী উদ্দেশ্যে তিনি এভাবে জিজ্ঞেস করলেন। আমি বললাম, ‘না দেরী আছে।’ তখন তিনি বারান্দায় চলে গেলেন কোনো একটা কাজে।




বুঝলাম, সময় যেহেতু আছে, তাই তাড়াহুড়াটা তিনি করতে চাচ্ছেন না; চাচ্ছিলেন আমিই যাতে তার দিকে হাত বাড়াই। আমার আসলে উচিত ছিলো তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা। আফটার অল, বারান্দায় গিয়ে তার পেছনে দাড়াতে পারছিলাম না, লোকজন দেখতে পাবে বলে। তিনি ফিরতে দেরি হওয়ায় নিজের রুমে চলে গিয়েছিলাম, যেটা ভুল ছিল। উচিত ছিল কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনের কথা বোঝার চেষ্টা করা। তাতে করে তিনি অভিযোগ করতে পারতেন না যে, আমি তাকে সেক্সুয়ালি হ্যারেস বা রেইপ করতে চেয়েছি।

কিন্তু আমি ভোকচোদের মতো নিজের রুমে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম, কখন তিনি এদিকে আসবেন সে আশায়। কিন্তু বুয়া এদিকে না এসে বাথরুমে ঢুকলেন কাপড় ধোয়ার জন্য। ফাইন, তিনি এক সময় বের হবেন তো বাথরুম থেকে, তাই না? কিন্তু দেখা গেল, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিচ্ছেন তিনি বাথরুমের ভেতর। আমি ভাবতে থাকলাম, ‘কী করছেন তিনি সেখানে?’ এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যে তার সাথে সেক্স করব, এটা ভেবে আমার লিঙ্গ মারাত্মক রকম শক্ত হয়ে গেল। উত্তেজনায় আমি আর থাকতে না পেরে বিছানায় শুয়ে হস্তমৈথুন শুরু করলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মাল বেরিয়ে গেল আমার। শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল এবং বুয়ার সাথে সেক্স করার ইচ্ছে অনেকখানি কমে গেল। 

এরপরও অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন তিনি বের হবেন বাথরুম থেকে, কারণ তার সাথে আকাম করার ইচ্ছেটা পুরোপুরি ভ্যানিশ হয় নি আমার। মনে হলো তিনি বোধ হয় কাপড় কেচে নিজের শরীর ধুচ্ছেন অথবা গোসল করছেন। গোসল যদি করে থাকেন, তবে সেটা করার পেছনে তার একটাই কারণ থাকতে পারে, আর সেটা হলো আমার সাথে সেক্স করার প্রস্তুতি নেওয়া। বুয়াদের গায়ে বাজে গন্ধ থাকে যেটা তিনি আমার সাথে শেয়ার করতে চান নি – খুবই ভালো বিবেচনা। তবে তার এতোক্ষণের পরিশ্রমকে আমি মাটি করে দিলাম হস্তমৈথুনের মাধ্যমে। আমি যখন বিছানা থেকে উঠে বাথরুমের দরজা বরাবর কিছুটা দূরে গিয়ে দাড়ালাম, তখন বাথরুমের দরজা খুলে গেল, ভিতর থেকে বুয়া বেরিয়ে আসলেন। 

যেমনটি তিনি আশা করেছিলেন তেমনটিই দেখতে পেলেন, আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে। বাঙালী নারীরা যেমনটা করে, তিনিও তাই সতী-সাব্ধী সাজার চেষ্টা করলেন, আমাকে দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলেন এবং চলে গেলেনও। ভেবেছিলেন, আমি তার পথরোধ করবো, তাকে টেনে বিছানায় নিয়ে যাব। কিন্তু সেটা করতে পারলাম না; সত্যি বলতে, তাড়াহুড়া করে বা উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে আমি কোনো কিছুই করতে পারি না। আমি একটা অলস ডাম্বএস যে কিনা আশা করে, সবকিছু আপনা-আপনি ঘটবে।

আর কেন যে মেইন দরজাটা খোলা রেখেছিলাম, সেটা বিধাতাই ভালো বলতে পারবে! এই দরজাটা বন্ধ থাকলে সেটা খুলে বেরুতে কিছুটা সময় তো অবশ্যই লাগতো বুয়ার, এই সুযোগে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, ‘কি বুয়া, গোসল করলেন নাকি?’ যার উত্তরে সে কিছুতো বলতো অবশ্যই, তখন কথার মারপ্যাচে বা ‘আপনার সাথে একটু কথা আছে’ এই কথা বলে তাকে আমার রুমে নিয়ে আসতে পারতাম। তারপর মেইন দরজা এবং আমার রুমের দরজা বন্ধ করে তার সাথে অন্তরঙ্গ হবার খেলা শুরু করা যেত।

এরপর আরেক কাজের বুয়ার কথা বলি, তার দেশের বাড়ি হবিগঞ্জে। বুয়াটা স্লিম, তবে বয়সে আমার চেয়ে ৮-১০ বছরের বড় ছিল। তখন আমার বয়স ছিল ২৫ এর কাছাকাছি। একদিন আমার বাসার লোকজন তিন দিনের জন্য দেশের বাড়ি বেড়াতে গেল। তো সেই বুয়াটা তার বাচ্চা মেয়েকে সাথে নিয়ে আসলো আমার বাসায় কাজ করতে। বাচ্চা আনার উদ্দেশ্য সম্ভবতঃ এই যে, আমি যাতে তাকে সেক্সুয়ালি হ্যারেস করতে না পারি। এই ঘটনা অন্য অনেক বুয়াদের ক্ষেত্রেও দেখেছি; যখনই তারা সেক্সুয়াল হয়রানি ঠেকাতে চায়, তখনই তারা সাথে বাচ্চা নিয়ে আসে। 

তবে ওই বুয়াটা এক সময় একটা অশ্লীল আচরণ করে বসলো; সে আমার সাথে কোনো একটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় বুক হতে শাড়ীর আঁচলের পরদা সরিয়ে লো কাট ব্লাউজের মাধ্যমে তার স্তন দুটোর অনেকখানি দেখিয়ে দিল। এমন করার উদ্দেশ্য আমি সেই মুহূর্তে বুঝতে পারি নি, তবে পরের দিন ঠিকই বুঝেছিলাম। আসলে বুয়াকে খালি বাসায় একলা পেয়েও তার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করি নি বা চেপে ধরি নি, তাই সে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছিল এবং আমাকে দেহদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

পরের দিন ওই বুয়া মাথায় বিশাল ঘোমটা দিয়ে আসে (বাচ্চাকে সাথে আনে নি), এতে তার চেহারা একেবারেই দেখা যাচ্ছিল না। আসলে আমার সাথে সেক্স করবে বা আমি তার দিকে হাত বাড়াব ও চেপে ধরব এমন উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল, তাই শুরুতেই চেহারা দেখাতে লজ্জা পাচ্ছিল। আমি অবশ্য তার মোটিভ সম্পর্কে প্রথমে কিছুই বুঝতে পারি নি।

দেখলাম যে, বুয়া বিশাল ঘোমটা মাথায় রেখেই সব কাজ সম্পাদন করল, তারপর একসময় চলেও গেল। যেহেতু এক মুহূর্তের জন্যও তার চেহারা দেখতে পাই নি, তাই বলতেও পারবো না, এটা কি ওই বুয়া ছিল নাকি অন্য কেউ ছিল নাকি ভুত ছিল। বুয়া যে আমার সাথে লাগাতে না পেরে অসন্তুষ্ট হয়েছিল, সেটা পরে একদিন বুঝেছিলাম। একদিন দেখলাম ঘর মোছার সময় কোনো একটা কারণে রাগে গজগজ করছেন। কীভাবে যেন বুঝতে পারলাম যে, রাগের কারণটা আমি, অথচ বিগত কয়েক দিনে আমি তার সাথে কোনো ফাউলই করি নি। এর মানে হলো এই যে, সেই দিন তাকে একা পেয়েও চেপে না ধরায় সে বিশাল মাইন্ড করেছিল। হয়তো তার স্বামী তাকে সেক্সুয়ালি স্যাটিসফাই করতে পারতো না, অথবা সে কিছু উপরি কামাতে চেয়েছিল।

সেই বুয়া আমার উপর এতই মনোক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন যে, আমাদের বাসার কাজ ছেড়ে চলে যান। অর্থাৎ হঠাৎ করে বেতন অনেকখানি বাড়াতে বললেন, যেটাতে আমার মা রাজি হয় নি। যাই হোক, ওই বুয়ার সাথে পরবর্তীতে একদিন সিড়িতে দেখা হয়েছিল প্রায় দুই বছর পর। আমাকে দেখামাত্রই তার মুখ হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠলো এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তাকে চিনতে পেরেছি কিনা। আমি বললাম, হ্যাঁ। এসময় তিনি আমাকে একা পেয়ে আমার এতো কাছে চলে আসলেন যে, মনে হলো এখনই আমার সাথে চুমাচুমি শুরু করবেন।

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে ১২ বিয়ে করলেন তিনি

নাম শাহনুর রহমান সিক্ত। ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) কোয়ার্টারে বড় হয়েছেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তার হাতের নাগালে। এ ক্যাম্পাসের আলো-বাতাস সবই পরিচিত তার।




শাহনুর রহমান সিক্ত নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নাকি ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব পরিচয় দিয়ে ইতোমধ্যে ১২টি বিয়ে করেছেন তিনি।

বিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলে যাওয়া কথিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রীর পড়াশোনা মাত্র ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত।

নিজের নামের সঙ্গে শাহনুর আকতার নামে একজন বিসিএস ক্যাডারের নামের মিল থাকায় ওই পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন শাহনুর রহমান সিক্ত। বাস্তবে একজন প্রতারক তিনি।

সিক্ত পরিচয় দিয়ে বেড়ান তার মা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ট্রেনিং ডিরেক্টর। তার ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিপিএটিসির ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর। বড় বোন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক। দুলা ভাই প্রকৌশলী, একমাত্র চাচা সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং মামা একজন মন্ত্রী। নিজেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের ছাত্রী দাবি করেন তিনি।

এমন পরিচয় দিয়ে শাহনুর রহমান সিক্ত ১২ জন ব্যক্তিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছেন। এমনকি বিয়েও করেছেন। শুধু তাই নয়, স্বামীর পরিচিত ব্যক্তিদের চাকরি দেয়ার প্রলোভন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার নাম করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ সিক্ত পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত।

জানা যায়, শাহনুর রহমান সিক্তর বাবা বিপিএটিসির একজন গাড়িচালক ছিলেন। বাবার অকাল মৃত্যুর পর মা বিপিএটিসিতে আয়ার চাকরি পান। সিক্ত তার মায়ের সঙ্গে বিপিএটিসির কর্মচারী কোয়ার্টারে বড় হন।

বিসিএস ক্যাডারদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ এখানেই হয়। এই সুযোগে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির পদ, পদমর্যাদাসহ বিভিন্ন বিষয় আয়ত্ত করেন সিক্ত। বিপিএটিসির কাছেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সিক্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণের বিভিন্ন বিষয় সহজেই আয়ত্ত করেন। ক্যাম্পাসের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরদের সম্পর্কেও অনেক তথ্য আয়ত্ত করেন। এমনকি ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থীর মতোই পরিচিত হয়ে ওঠেন। ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩-৪ হাজার ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ড’ গড়ে তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের রি-ইউনিয়নে অংশগ্রহণ শুরু করেন সিক্ত।

এরই মধ্যে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি সিক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলার বাদী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ওই নারীর কথিত স্বামী।

এরপর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এই নারীর ভয়ঙ্কর সব প্রতারণার গল্প। উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় এখন এই নারী কারাগারে।

শাহনুর রহমান সিক্ত ছাড়াও ওই নারী সিক্ত খন্দকার, তাহামিনা আক্তার পলি ও তামিমা আক্তার পলি বলে নিজেকে পরিচয় দিতেন। ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার শাহনুর আক্তারের নামের সঙ্গে প্রতারক সিক্তর নামের মিল রয়েছে। ফলে সিক্ত বিসিএস ক্যাডার শাহনুরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিচ্ছিলেন।

এভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম ব্যাচের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রথমে বিয়ে করেন। পরে তার আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেয়ার নাম করে সাত লাখ টাকা ও ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেন। এক স্বজনকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির নাম করে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থীকেও প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। পরে তার সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়েন সিক্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০-১২ বছর ধরে একই ধরনের প্রতারণা করেছেন সিক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্তত ১০ জনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা প্রতারণার কাজে তাকে সহায়তা করতেন। প্রতারণার মামলায় সিক্তর দুলা ভাই আফতাব উদ্দিনকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল জানিয়েছেন, একটি প্রতারণার মামলায় সিক্ত নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে তিনি একজন প্রতারক। মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তার সম্পর্কে এরই মধ্যে অনেক তথ্য জানা গেছে। বিয়ের ফাঁদে ফেলে অন্তত ১২ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এই নারী।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ. স. ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, এই নারীর মতো কোনো জালিয়াতি চক্রের হাতে কেউ যাতে না পড়ে সেজন্য সবার সতর্ক থাকা উচিত। এমন জালিয়াতির কোনো তথ্য যদি কারও কাছে থাকে, সবার কাছে অনুরোধ তারা যেন দ্রুত আমাদের বিষয়টি জানায়। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না জড়ালেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

দুই দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ নিউজিল্যান্ড। এর উত্তরের দ্বীপে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী শহর ওয়েলিংটন আর দক্ষিণের দ্বীপের সবচেয়ে বড় শহর ক্রাইস্টচার্চ। এবার ১৫ মার্চ সেই ক্রাইস্টচার্চ উঠে আসে বিশ্বজুড়ে শিরোনামে- ‘মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা’।




শহরের মধ্যে দুটো মসজিদে জুমার নামাজের সময় এক সন্ত্রাসী হামলা চালায়। মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর নাম ‘ব্রেন্টন ট্যারান্ট’। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে প্রায়ই পাশের নিউজিল্যান্ডে আসে। খ্রিষ্টান এবং হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট বা সাদা চামড়ার লোকদের কথিত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী।

ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে ওই বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে ঝরে গেছে ৫০ প্রাণ। নিহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশিও রয়েছেন। তবে বর্বরোচিত হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হামলার এ দিনটিকে ‘দেশের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলির মধ্যে’ একটি বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তিনিও এটাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

এ হামলার ঘটনার পর বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন। সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেয়া- সবখানেই তিনি নিজে যাচ্ছেন।

যেখানেই যাচ্ছেন, যার সঙ্গেই কথা বলছেন, সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে। শোক প্রকাশে তিনি পরেছেন কালো পোশাক। শুধু তা-ই নয়, মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়নাও জড়িয়েছেন তিনি।

আরদার্নের আচরণ আর চেহারার অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছে, শোক শুধু তার বক্তব্যে নেই, ভয়াবহ এ হামলার শোক তার মনেও আঘাত হেনেছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এমনই কিছু ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমগুলোতে।

কুমিল্লার হোমনার কাজের মহিলা

ঐদিন ২০১৫ সালের কুরবানীর ঈদ ছিলো। সেদিন সকাল থেকেই গরু কাটাকাটির বিষয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমি, আমার বড় ভাই, আমার এক ছোট ভাই আর আমার পিতা -এই চারজনে মিলে দুই গ্রুপ করে কিছুক্ষণ পরপর শিফট বদল করছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ কঠোর পরিশ্রম করার পর এবার আমার আর বাবার বিশ্রাম নেবার পালা। বাবা মরা গরুর সামনে একটা টুলে বসে কাটাকাটি দেখছিলেন, অর্থাৎ উনি ওখানেই বিশ্রাম নেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। আর আমি গরু ছেড়ে বিল্ডিং এর উপরে চলে গেলাম বিশ্রাম নিতে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েই আবার চলে আসার ইচ্ছে ছিলো। আমরা ৬ তলায় থাকতাম।




গরু কাটাকাটির পরিশ্রমের কাজে এতটাই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে, চারতলার সিড়িতে বসেই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে থাকলাম। এসময় মর্জিনার মা’কে দেখলাম সিঁড়ি দিয়ে উঠতে। উনি ২০১৪ সালে আমাদের বাসায় কাজ করতেন। উনার চেহারাটা বিশ্রী হলেও ফিগারটা দারুণ ছিলো। উনাকে ঠাপানোর খুব ইচ্ছে ছিলো আমার। কিন্তু তুরুপের তাস ঠিকমতো মেলাতে পারিনি, তাই ওই বছর যে কয়েক মাস উনি আমাদের বাসায় কাজ করেছেন, সে সময় উনাকে লাগাতে পারিনি। তবে ঠিক করেছিলাম, পরবর্তীতে সুযোগ পেলে আর হাতছাড়া করবো না।

উনাকে যে আমি মনে মনে কামনা করতাম তা উনি বুঝতে পারতেন। উনি নিজেও আমার সাথে শুতে চাইতেন, কিছু আলগা উপার্জন করার উদ্দেশ্যে। আমাদের মহল্লায় যে কাজের বুয়াগুলো ছিলো, তারা পাশের বস্তি থেকে আসতো। ওখানকার বেশিরভাগ বুয়াই খানকি টাইপের ছিলো। বিভিন্ন বাসায় বাসায় গিয়ে সাহেবদের সাথে লাগিয়ে তারা এক্সট্রা ইনকাম করতো।

যাই হোক, বুয়া লাগাতে আমার কোনো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু এই বুয়াটাকে ঐ সময় আমি ম্যানেজ করতে পারিনি। কারণ হলো, আমি একটু লাজুক প্রকৃতির ছিলাম, প্লাস ঐ বুয়াটা বয়সে আমার চেয়ে বেশ কয়েক বছরের বড় ছিলো। উনার বয়স প্রায় ৪০ ছিলো আর উনার বেশ কয়েকটা ছেলেমেয়ে ছিলো। এর মধ্যে বড় ছেলেটার বয়স প্রায় ২০-২২ বছর ছিলো। আর বুয়া লাগানোর একটা সমস্যা হলো, এদের শরীর থেকে প্রচন্ড বাজে গন্ধ আসে।

উক্ত বুয়ার ক্লিভেজটা এভাবেই বেরিয়ে থাকতো, এমনকি এর চেয়ে বেশিও থাকতো

যাই হোক, সিড়িতে আমাকে ঘর্মাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখে বুয়া আকর্ণ বিস্তৃত একটা হাসি দিলো আর ব্লাউজের উপর দিয়ে শাড়ীর আঁচল ঠিক করতে লাগলো (যেন আমি তার বুকের দিকে তাকিয়েছিলাম!)

– কেমন আছেন, বুয়া ?

– ভালো।

– কই যাইতাছেন?

– তোমার মা’র লগে দেহা করতে।

– ওঃ যান। মা বাসায় আছে।

এক মিনিটের মধ্যেই বুয়াকে দেখলাম নেমে আসতে, আমি তখনো ঐ সিড়িতেই বসে ছিলাম। বুঝলাম, কোনো কারণে হয়তো মা’র সাথে বুয়ার দেখা হয় নি। 

– কী ব্যাপার? চলে আসলেন যে?

– তোমগো বাসা তো বাইরে থেইকা বন্ধ!

আমি বুঝতে পারলাম, মা হয়তো কুরবানীর গোশত কাটাকাটির মাদুর বিছাতে ছাদে গিয়েছেন।

– মা মনে হয় ছাদে। আপনি এক কাজ করেন, ছাদে যান।

এরপর বুয়া ছাদের উদ্দেশ্যে চলো গেলো। আমি আরো কিছুক্ষণ সেখানে বসে উঠে পড়লাম, ৬ তলার (বাসার) উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শেষে যখন দরজার বাইরের ছিটকিনি খুলে বাসায় ঢুকতে যাবো, ঠিক এমন সময় বুয়াকে দেখলাম ছাদ থেকে নেমে আসতে। আমাকে বাসায় একলা ঢুকতে দেখে বুয়া পাকা খানকিদের মতো একটা হাসি দিলো। ঐ হাসি দেখে আমার সোনা দাঁড়িয়ে গেলো।

আমি হঠাৎ উপলব্ধি করলাম, আজই এই বুয়াকে ঠাপানোর সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ! বুয়া যখন তার মুখে হাসিটা ধরে রেখে ধীরে ধীরে আমাকে পাশ কাটিয়ে নেমে যাচ্ছিলো, তখনই আস্তে করে বুয়াকে বলা উচিত ছিলো (যাতে ছাদে আমার মা শুনতে না পায়), “আসেন, বুয়া, আমাগো বাসায় বেড়াইয়া যান।” তাহলেই তাকে সেদিন সিস্টেম করতে পারতাম। সেক্ষেত্রে তার সাথে আমার আলাপগুলো নিম্নোক্তরূপ হতে পারতো।

– তোমাগো বাসায় এখন কে আছে?

– আর কেউ না থাকুক, আমি তো আছি। আসেন ভিতরে।

– না, দরকার নাই। যাইগা।

– আরে আসেন আসেন, এমন করেন ক্যা?

তখন বুয়ার হাসিটা আরো বিস্তৃত হতো। এরপর উনি কিছুটা ইতস্ততঃ করতেন, আমি উনার হাত ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে আসতাম; উনি মৃদু স্বরে বলে উঠতেন, “করে কি!” আমি হাত ধরে টেনে আমার রুমে তাকে ঢুকাতে ঢুকাতে বলতাম, “আসেন, আমার রুমে আসেন, আপনার সাথে আলাপ আছে।” উনাকে বিছনায় বসতে বলতাম। উনি কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে ইতস্ততঃ বোধ করে একসময় বিছানায় বসে পড়তেন। বলতেন, “কী আলাপ?”

– বুয়া আপনে তো আমাদের বাসায় আর আসেন-টাসেন না। ব্যাপার কী?

– এমনেই আসি না। কোনো ব্যাপার নাই।

– আমাদের বাসায় কাজ ছাড়লেন কেনো?

– আমার শরীরটা অসুস্থ ছিলো কয়েকদিন, তাই কাজ ছাইড়া দিছিলাম।

– ও।

আসল ব্যাপার হলো, ২০১৪ সালে বুয়া একদিন হঠাৎ করে তার বেতন বেশ খানিকটা বাড়াতে বললেন আমার মা’কে। বেতন হয়তো বাড়ানো যেতো, তবে উনি যে এপ্রোচে আমার মা’কে কথাটা বলেছিলেন, সেটা তাঁর পছন্দ হয় নি। তাই তাকে ছাড়ান দিয়ে আরেকটা বুয়া জোগাড় করলেন আমার মা। আমি অবশ্য বুয়ার এই আচরণের কারণটা আন্দাজ করেছিলাম। এইসব বুয়ারা আসলে মাসিক বেতনের পাশাপাশি দু’নম্বরী উপায়ে টুপাইস কামাতে চায়।

আমাদের বাসায় একমাত্র আমাকে দিয়েই উনি লাগানোর আশা করেছিলেন। কারণ, আমার ভাইয়েরা কখনো বুয়া লাগানোর কথা মাথাতেও আনবে না, আর আমার বাবা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সারাদিন বাইরে থাকতেন (বুয়া ঠাপানোর মতো মনমানসিকতা ওনারও নেই, বৃদ্ধ মানুষ!)। বুয়া আমাদের বাসায় অনেক দিন কাজ করার পরও যখন আমি তাকে কোনো সাড়া (সিগনাল) দিলাম না, বা শেষ পর্যন্ত তার দিকে হাত বাড়ালাম না, তখন উনি হতাশই হলেন। অবশ্য উনার মনে এই দুরাশার জন্ম আমিই দিয়েছিলাম।

একদিন আমি টিভি দেখছিলাম আর উনি ঘর মুছছিলেন। এমন সময় উনার বুকের আঁচলটা পড়ে যাওয়ায় উনার স্তন দু’টির অনেকখানি উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিলো। আমি উনার দুই স্তনের মাঝের গিরিখাতসহ অনেক কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম। এখন গায়ের রং জ্বলে গেলেও একসময় যে উনি সুন্দরীই ছিলেন – এতে কোনো সন্দেহ নেই। যাই হোক, উনার দুধের ভাঁজ দেখতে দেখতে আমার লিঙ্গ উত্থিত হয়ে গেলো। উনার পরোয়া না করেই আমি লুঙ্গির উপর দিয়ে আস্তে আস্তে আমার সোনা ডলতে লাগলাম।

উনি এটা টের পেলেন, কিন্তু চোখ তুলে তাকানোর সাহস পেলেন না। আমি আবার তখন এই বুয়ার সাথে কথা বলতাম না। কারণ ঐ সময় আমি অনেকটা সতি-সাধ্বী টাইপের ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা ছিলো এই যে, বুয়াদের সাথে একটু ফ্রি হলেই তারা নগদ অর্থের বিনিময়ে দেহ সম্ভোগ করাতে চায়। এইচআইভি এবং অন্যান্য যৌনরোগের ভয়ে আমি তখন বুয়া লাগাতে চাইতাম না।

যাই হোক, উনি টিভিরুম থেকে বারান্দায় যাওয়ার সাথে সাথে আমি প্রচন্ড বেগে আমার সোনাটা দলিতমথিত করতে থাকলাম। উনি বোধ হয় এটা জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেছিলেন। হস্তমৈথুন করতে করতে এক সময় আমার বীর্য বেরিয়ে আসলো। আমি লুঙ্গির মধ্যেই বীর্যপাত করলাম। এরপর শান্ত হলাম। এর এক মিনিট পর বুয়া ময়লা পানির বালতি আর ত্যানা হাতে বারান্দা থেকে বুক টান করে বেরিয়ে আসলেন। আন্দাজ করলাম, উনি আমার দিকে সটানে চাইলেন, সম্ভবতঃ আই কন্টাক্ট বা চোখাচোখি করার চেষ্টা করলেন, যাতে উনি আমার মনের ভাষা বুঝতে পারেন। কিন্তু উনার দিকে চোখ তুলে তাকানোর হিম্মত তখন আমার হলো না।

এরপর থেকে বুয়ার আচরণে বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করতে লাগলাম। কারণে-অকারণে উনার শাড়ির আঁচল খালি পড়ে যায়। আর উনার বুক যথাসম্ভব উন্মুক্ত হয়ে যায় আমার সামনে! সুযোগ পেলেই উনি আমার দিকে চেয়ে একটা খানকি-মার্কা হাসি দেন। আমিও উনাকে ঠাপানোর সুযোগ খুঁজতে লাগলাম, তবে আমার মা আমার চরিত্র সম্পর্কে মোটামুটি অবগত ছিলেন। তাই বুয়া আসার সময় (দুপুরের দিকে) তিনি কখনো আমাকে বাসায় একলা রেখে যেতেন না।

সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে এক পর্যায়ে আমি ক্লান্ত হয়ে গেলাম, প্লাস যখন জানতে পারলাম, এই বুয়ার বয়স প্রায় চল্লিশ বছর, তাই তখন উনার গোপনাঙ্গে বেশি রস পাওয়া যাবে না ভেবে রণে ক্ষান্ত দিলাম। তবে উনি আমাদের বাসার কাজ ছেড়ে চলে যাবার পর উনাকে খুব মিস করতাম। প্রায়ই উনাকে ভেবে হস্তমৈথুন করতাম। ভাবতাম, মধ্যবয়ষ্কা হলে কী সমস্যা? দরকার হলে লিঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে উনাকে লাগাবো। আস্তে আস্তে উপলব্ধি করলাম, সেক্স জিনিসটাই হলো জীবনের আসল মজা!