শুভশ্রী গাঙ্গুলি সম্পর্কে কতটা জানেন? (How much do you know about Shubhasree Ganguly?)

শুভশ্রী গাঙ্গুলি ১৯৮৯ বা ‘৯০ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সে হিসেবে তাঁর বয়স প্রায় ২৯ বা ৩০ বছর। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তবে বর্তমানে তাঁর বাড়ি কোলকাতায়। তিনি একজন অভিনেত্রী, মডেল এবং চিত্রনাট্যকার। মিডিয়া জগতে তিনি ২০০৭ সাল হতে বিচরণ করছেন। শ্রুতি আছে যে, ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘চ্যালেঞ্জ’ ছবিটি সুপারহিট হবার কিছুকাল পরেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যার দরুণ বেশ কয়েক বছর তিনি বিনোদনজগত থেকে দূরে থাকেন।




চলচ্চিত্র জগত তাঁর খোঁজ পায় ‘ফেয়ারএভার আনন্দলোক নায়িকার খোঁজে’ টিভি প্রোগ্রামের মাধ্যমে, যেটিতে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর সর্বপ্রথম অভিনয় কোনো বাংলা ছবিতে নয়, বরং উড়িষ্যার একটি ছবিতে যার নাম Mate Ta Love Helare । ছবিটির নামের কী উচ্চারণ, সেটা আপনারাই নেটে খোঁজ নিয়ে দেখুন। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৮ সালে।

তবে প্রথম যে বাংলা ছবিতে তিনি কাজ করেন, তার নাম ‘পিতৃভূমি’। এটিও মুক্তি পায় ২০০৮ সালে। ছবিটিতে তিনি সহযোগী অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘ঝুমা’, যেটা জিৎ-এর কাজিন ছিল। ছবিটি পরিচালনা করেন প্রভাত রয়। অভিনেতা শাকিব খানের সাথে শুভশ্রীর ছবি ‘নবাব’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যবসার দিক থেকে রেকর্ড করেছে এবং সাম্প্রতিককালে (গত কয়েক বছরে) মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে সফলতম।


শুভশ্রী গাঙ্গুলি দেখতে অপরূপ

পিতৃভূমির পর ‘বাজিমাৎ’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি, সেখানে তার হিরো ছিলেন সোহম চক্রবর্তী। এটি মোটামুটি ব্যবসাসফল হলেও স্পটলাইটে আসতে পারে নি। তবে ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’ ছবিদ্বয়ের মাধ্যমে শুভশ্রী লাইমলাইটে চলে আসেন এবং টলিউডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। উভয় ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন দেব (দীপক অধিকারী)। মজার ব্যাপার হলো, দুটি ছবিই কিন্তু রিমেক। ‘চ্যালেঞ্জ’ হলো ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিল’ ছবির রিমেক এবং ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’ হলো ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দী ছবি ‘নমস্তে লন্ডন’-এর রিমেক।

এরপর ২০১১ সালে শুভশ্রী অভিনীত ‘রোমিও’ ছবিটি মুক্তি পায়, ‘১২ সালে মুক্তি পায় ‘খোকাবাবু’ ছবিটি। এ দুটি ছবিতেও শুভশ্রীর নায়ক ছিলেন দেব। এরপর একে একে শুভশ্রীর বহু ছবি মুক্তি পেতে থাকে। সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশেও শুভশ্রী ব্যাপক জনপ্রিয়। তাঁকে বিভিন্ন ছবিতে বহুসংখ্যক আইটেম গানে অভিনয় করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘দেব ষোল আনা’ এবং ‘নাটাই তো আমার হাতে’।



এবার শুভশ্রী সম্পর্কে একটি অন্য ধরনের খবর বলি, যেটা ২০১৬ সালে বিভিন্ন কাগুজে এবং অনলাইন পত্রিকায় এসেছিল, আর সেটা হলো তাঁর যৌন হেনস্থা হওয়ার খবর। সেটা পশ্চিমবঙ্গের কোন এলাকায় হয়েছিল, সেটা মনে নেই। তবে এটা কোনো একটা স্কুল ক্যাম্পাসে হয়েছিল। এলাকার নেতা বা ছেলেপুলেরা শুভশ্রীকে টাকার বিনিময়ে এনেছিল স্টেজ পারফর্ম করতে, সেখানে মানুষের ভিড় একসময় বেসামাল হয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পুলিশগণ সামলাতে পারেন নি। তখন শুভশ্রী ভিড়ের মধ্যে পড়ায় বেশ কয়েকজন বখাটে যুবক তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। যুবকেরা হয়তো ভেবেছিল, শুভশ্রী ব্যাপারটা চেপে যাবেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে মঞ্চে উঠে তাঁকে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে পারফর্ম না করেই সেখান থেকে চলে যান।

এবার আসি শুভশ্রীর বিবাহ এবং প্রেমজীবন সম্পর্কে। যেমনটি এ রচনার শুরুর দিকে বলা হয়েছিল, ‘চ্যালেঞ্জ’ এবং ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’ ছবিদ্বয়ের মুক্তি ও সাফল্যর পর শুভশ্রী খুব সম্ভবতঃ বিবাহ করেছিলেন এবং দু’-এক বছর পরেই সেখান থেকে ডিভোর্স পান। তবে তিনি এ বিয়ের বিষয়টি চেপে যেতে পছন্দ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় নায়ক দেব-এর সাথে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন শুনা যায়। এমনকি একটা সময় এ খবরও চাউর হয় যে, তাঁরা দু’জন নাকি বিবাহ করেছেন। তবে প্রেমের ব্যাপারটা সত্য হলেও বিয়ের ব্যাপারটি সঠিক নয়। এরপর শুভশ্রী চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান এবং বেশ দীর্ঘ একটা সময় প্রেম ও লিভ টুগেদারের পর তাঁরা দু’জন বিয়ে করেন। বিয়ের পর বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নবদম্পতি সুখেই রয়েছে বলে শোনা যায়।

সবশেষে শুভশ্রী কী কী পুরষ্কার পেয়েছেন, সেটাও জেনে রাখা উচিত। নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম বাংলা ছবি ‘বাজিমাৎ’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নবাগতা অভিনেত্রী হিসেবে আনন্দলোক পুরষ্কার পান। এছাড়া ‘খোকা ৪২০’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০১৩ সালে এবং ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ২০১৪ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ‘কালাকার পুরষ্কার’ অর্জন করেন। ‘বস ২’ এবং ‘নবাব’ চলচ্চিত্রদ্বয়ে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালে ‘টলি কুইন অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে তিনি কালাকার পুরষ্কার লাভ করেন।



শ্বাশুড়িকে যে কারণে যৌন হেনস্থা করলাম

পাঠকগণ নিশ্চয়ই ভাববেন, আমি কী ধরনের লোক যে নিজ শ্বাশুড়িকে যৌন হেনস্থা করলাম, আবার সেটার কারণও পাবলিকলি শেয়ার করছি। আসলে দেশে কুটনামি এবং স্টার জলশার প্রভাব এতদূর গড়িয়েছে যে, এ সংক্রান্ত আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার না করে পারছি না।

বিয়ের পর দু’-এক বছর শ্বাশুড়ি কখনো মমতাময়ী, কখনো সেক্সি নারীর মতো আচরণ করেছেন, কিন্তু এর পরে এতগুলো বছর আমার বিরূদ্ধে কেবল কুটনামি আর শয়তানিই করেছেন। তাই তার যৌবনকালের সায়াহ্নে তার সাথে এই বেত্তমিজিটা না করে পারলাম না।

ঘটনা ২০১১ সালের ২৭শে জানুয়ারী বিকেল বেলা, মাথা পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল – সেটাও বলবো না। বাসায় আমি আর শ্বাশুড়ি ছাড়া আর কেউ ছিল না। ঘুম থেকে মাত্র উঠলাম, হঠাৎ তিনি দু’-তিনটে প্লেটে করে কয়েক আইটেমের কাটা ফল নিয়ে আমার বউয়ের রুমে হাজির হলেন (তখন পর্যন্ত বউকে নিজ বাড়িতে তুলে নেই নি, তুলে নিয়েছি ২০১১ এর শেষে)।




তিনি ফলগুলো টেবিলে রেখে আবার বর্ণনা দিচ্ছিলেন কোনটাতে কোন ফল। এর দু’এক বছর আগে তিনি একইভাবে ঐ একই রুমে সহাস্যবদনে আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, ফ্যান ছাড়ার দরকার আছে কিনা; অর্থাৎ শুধু শুধু রুমে ঢুকেছেন। তার হাসি দেখে বুঝতে পেরেছিলাম, ডালমে কুছ কালা হ্যায়। ঐসময়ও তাদের বাসায় শ্বাশুড়ি আর আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না।

আন্দাজ করতে পেরেছিলাম, তিনি আমার সাথে কোনো একটা কিছু করতে চান, অন্যরকম কিছু। ভাবলাম কী লাভ এসব করে আমার সাথে। অনুধাবন করার চেষ্টা করে বুঝলাম, দৈহিক সম্পর্কে জড়ালে তার সাথে আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ভালো হবে, আর তার মেয়ের জীবনও সুখের হবে।

শাশুড়ি দেখতে অনেকটা এরকম ছিল

সেই দিন যদিও কিছু করতে পারি নি উপস্থিত সিদ্ধান্তহীনতার অভাবে। কিন্তু আজ ঠিক করলাম, কিছু একটা করেই ছাড়বো, প্রচেষ্টা একটা নেবই। ফল দেয়া শেষে তিনি ড্রয়িং রুমে গিয়ে স্টার জলশা দেখছিলেন, সোফায় বসে। আমি সন্তর্পণে সেখানে গিয়ে তার পাশে বসলাম, প্রথমে একটু দূরত্ব রেখে, পরে একেবারে গা ঘেঁষে; এতে তিনি কিছু মনে করলেন না। আসলে তখন তার বয়স ছিল ৪৫ প্রায়, রজনিবৃত্তি বা মেনোপজ শুরু হলো বলে, শরীরে যৌন উত্তেজনা নেই বললেই চলে। কিন্তু এসব বিবেচনায় নেই নি আমি। যেটা করলাম সেটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল।

কিছুক্ষণ গা ঘেঁষে বসে থাকার পর তাকে সোফায় চেপে ধরি এবং ঠোটে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করি। তিনি বলে উঠলেন, ‘কী হইছে?’ আমি বললাম, ‘কিছু না, আপনাকে একটু আদর করি।’ আমার ঠোটজোড়া তার ঠোটজোড়াকে স্পর্শ করেছে মাত্র, তখনই একটা ভুল করে বসি। ঐ আসন (সিটিং) থেকে উঠে গিয়ে তাকে দু’হাতে ভালো করে চেপে ধরার চেষ্টা করি। আসলে আমার উচিত ছিল, আরো কিছুক্ষণ চুমাচুমি করে পরে দুধ টেপাটিপির দিকে মনোযোগ দেয়া। এভাবে তার পৌঢ়া শরীরটাকে কিছুটা গরম করে তুলে পরে পাশের বিছানায় তাকে টেনে নিলেই বাকি কাজটুকু অনায়াসে সারা যেত।



কিন্তু আমি যখন তাকে সোফার উপর দুই হাত গেঁথে চেপে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম, তখন তিনি বলে উঠলেন, ‘বাবা, তুমি আমার ছেলের মতো।’ জবাবে আমি কিছুটা চোখ রাঙিয়ে বললাম, ‘তো, কী হইছে?!’ আসলে আমার উচিত ছিল তাকে মধুরভাবে বলা, ‘দেখেন আম্মা, আপনাকে অনেকদিন থেকেই আমার ভালো লাগে।’ একথা বললে কিছুটা নমনীয় হতেন বোধ হয়। কারণ যখন তার শরীরে পুরোদমে যৌবন ছিল, তখন বেশ কয়েকবার অশ্লীল আচরণ করেছিলেন আমার সাথে। এর মধ্যে রয়েছে নাভি দেখিয়ে এবং উত্তেজক অঙ্গভঙ্গি করে আমাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা, বাসায় যখন কেউ নেই তখন বারবার যেচে এসে আমার সাথে সহাস্যবদনে আলাপ করা, আমার উত্থিত লিঙ্গের দিকে বক্সার্সের উপর দিয়েই চেয়ে থাকা ইত্যাদি।

আবার একবার যখন বেশ কয়েক মাস তাদের সাথে যোগাযোগ রাখি নি (বিয়ের চার মাস পরেই, শ্বশুর-শ্বাশুড়ির আচরণের কারণে এমনটি করতে বাধ্য হয়েছিলাম), তখন শ্বাশুড়ি আমাদের বাসায় যেতে না পারায় (আমার বাবা-মা’র কড়া নিষেধ ছিল) অন্যত্র আমার সাথে দেখা করে জানতে চেয়েছিলেন, ‘তুমি কী চাও? তুমি যা চাও, তা-ই তোমাকে দেব। সব জায়গা-সম্পত্তি তোমার নামে লিখে দেব।’ তখন যদি জায়গা-জমির সাথে (বা জায়গা-জমি না চেয়ে) তার দেহ চাইতাম, তাহলে আলবৎ সেটা দিতে রাজি হতেন (দেহদান করলে তো আর্থিক ক্ষতি হয় না, তাদের কাছে টাকাপয়সাটাই মুখ্য ব্যাপার ছিল সবসময়)।

এবার তাহলে শ্বাশুড়ির সাথে এমন আচরণের মূল কারণগুলো খুলে বলি। শ্বাশুড়িকে যৌন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাটা জরুরী ছিল না আমার, কারণ অনেক আন্টি টাইপের মহিলাই আমার সাথে সবসময় শুতে চেয়েছে, উল্টো আমিই তাদেরকে এড়িয়ে গিয়েছি।

শ্বাশুড়ির সাথে এমন করলাম, কারণ (১) একটা সময় আমি তাদের বাসায় গিয়ে প্রথমেই আমার বউয়ের রুমে যেতাম, তার সাথে শারীরিকভাবে মিলিত হওয়ার জন্য। বিষয়টি আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ভালো চোখে দেখতেন না। বিশেষ করে, আমার শ্বাশুড়ি এটা নিয়ে প্রায়ই আমার সামনে এবং অগোচরে আমার বউকে কটু কথা শোনাতেন। তাদের বাসায় গিয়ে প্রথমেই শ্বশুর-শ্বাশুড়ির খোঁজখবর নিতে হবে – এমনটা জরুরী বলে মনে করতাম না। তাই শ্বাশুড়িকে একটা উচিত শিক্ষা দেয়ার দরকার ছিল।

দ্বিতীয়ত শ্বাশুড়ি সবসময় আমার পিছে লেগে থাকতো, আমার বিরূদ্ধে বউকে নানা কুবুদ্ধি দিতো। আমি নিশ্চিত যে, তিনি নিজের দেহ আমার কাছে সঁপে দেয়ার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাকে গ্রহণ না করায় নাসরিন-বিথীর মতো আমাকে ‘কাপুরুষ’ বা ‘অর্ধেক পুরুষ’ ভেবেছিলেন। আমি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, কোনো নারী আপনার সাথে শুতে চাইলে যদি তা আপনি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে সে আর আপনাকে সহ্য করতে পারবে না। আমার শ্বাশুড়ির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তা-ই হয়েছিল। তাই তার কাছে নিজের পুরুষত্ব দেখানোটা দরকার ছিল; সে চেষ্টা আমি করলাম বটে, তবে অসময়ে, অনেক দেরিতে, তাই তো ‘ধর্ষক’ বলে অ্যাখ্যায়িত হলাম।

আবার ভাবলাম, দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তার সাথে আমার বোঝাপড়া ভালো হবে, তখন তিনি আর আমার পিছে লেগে থাকবেন না, বরং বউয়ের সাথে সমস্যা হলে তিনিই তা মেটাতে আসবেন। এসব ভেবেই ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসের কাণ্ডটা ঘটাই। এজন্য আমি অনুতপ্ত না, কারণ তার যেটা পাওয়ার ছিল, সেটা তিনি পেয়েছেন (অসম্মান আর ইজ্জতহানি)। শুধু শেষ পর্যন্ত তার সাথে শুতে পারলাম না, এটাই আমার আফসোস। আমার আসলে এমন এক জায়গায় বিয়ে করার খায়েশ ছিল, যেখানে বউয়ের সাথে সাথে শ্বাশুড়িকেও লাগাতে পারবো। মনে হয়, সে খায়েশ পূরণ করার জন্য আরেকটা বিয়ে করা লাগবে।



আপনি কি আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার প্রিয়জন না প্রয়োজন?

প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম এই কারণে যে, আমার নিজেরও এধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছেঃ যাকে আমি প্রিয়জন ভেবেছিলাম, সে আমাকে শুধু ‘প্রয়োজন’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। মেয়েটির পুরো নাম মনে নেই, তবে ডাকনাম ছিল রোজি। সে আমার চেয়ে ঠিক আট বছরের ছোট ছিল। সেটা ২০০৬ সালের শুরুর দিকের কথা, সে ঐ সময় রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়তো।

তার বাড়ি ছিল চাপাইনবাবগঞ্জে, সে কলেজের হোস্টেলে থেকে পড়তো। তার ভাই রাজশাহীতে কোনো একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে পড়তো। আর তার প্রেমিকও সম্ভবতঃ রাজশাহীতে কোনো একটি প্রাইভেট কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তো। ঐ ছেলের বাড়িও ছিল চাপাই-তে, সে রোজিদের প্রতিবেশী ছিল।
তার সাথে রোজির ঝামেলা হয়েছিল কোনো একটি বিষয়ে, সম্ভবতঃ সে অন্য কোনো একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে গিয়েছিল। রোজির সাথে তার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছিল – রোজির কথাবার্তায় সেটা অাঁচ পাওয়া যায়।



মনোমালিন্য চলছিল এমন একটা সময়ে রোজি ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ করে। তখন আমি ঢাকা থাকতাম, পড়তাম দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা ডিপার্টমেন্টে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়)। তখন টিউশনি করাতাম এবং টিউশনির জন্য প্রায়ই খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিতাম। এরকম কোনো একটি বিজ্ঞাপন দেখেই রোজি আমার মোবাইল নাম্বার পায়।

মেধাবী এবং ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এমন ছেলে মনে করে সে আমার সাথে যোগাযোগ করে। আমিও একটা ইয়াং মেয়ের সাথে আলাপের সুযোগ মিস করতে চাইলাম না। তার ও আমার – দু’জনেরই ছিল সিটিসেল মোবাইল। সে সময় সিটিসেল রাত জেগে কল করাটা ফ্রি করে দিয়েছিল। তাই রোজি ও আমি বেশ কয়েক রাত এভাবে জেগে জেগে কথা বলে কাটিয়ে দিলাম। সে তার অনেক দুঃখ এবং না পাওয়ার কথা আমার সাথে শেয়ার করলো। আমিও তাকে নিজের ব্যক্তিগত কিছু কথা বললাম।

একদিন রাতে সে তার ঐ প্রেমিকের কথা বলে খুব কান্নাকাটি করলো, আমি তাকে যথাসম্ভব স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু আমার মনে ছিল অন্য মতলব, তার সাথে প্রেম করার মতলব। তার ভাবসাবে মনে হলো, সে এখন আমার সাথে প্রেম করবে। সে আমাকে তাদের কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে যেতে বললো, আমিও সময় করে গেলাম।



সে আমাকে যতটা হ্যান্ডসাম কল্পনা করেছিল, ততটা না হওয়ায় কিছুটা হতাশ হলো বটে, তারপরও আমাকে দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে চাইলো। তাইতো যখন হোস্টেলের আয়াকে দিয়ে তাকে ডেকে পাঠালাম, সে আমাকে একটা আড়ালের জায়গায় নিয়ে গেল, যাতে আমি তাকে জড়িয়ে ধরে কিস-টিস কিছু একটা করি। কিন্তু বোকাচন্দ আমি সেটা না করে আরেকটা মেয়েকে হাতছাড়া করলাম। মূলতঃ রোজি যখন বুঝতে পারলো, আমি এসব বিষয়ে এক্সপার্ট না, তখনই সে মনে মনে আমার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেললো।

তারপরও পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক, তারা ছয়জন ক্লাসমেট (সবগুলো মেয়ে) এবং আমি তাদের এক হিন্দু ক্লাসমেটের (নাম সম্ভবতঃ লোপা ছিল) দিদির বিয়েতে অ্যাটেন্ড করতে নওগাঁ গেলাম ট্রেনে করে। সেখানে ট্রেনে কিছুটা মজা হলো বটে, কিছু রোমান্টিক চাহনি বিনিময় – এইসব আর কি! এতগুলো মেয়ে, যদিও কোনোটাই খুব সুন্দর নয়, তারপরও কোনটাকে ছেড়ে কোনটাকে বেছে নেব – সেটা ঠিক করতে পারছিলাম না।

বিয়েবাড়িতে গিয়ে আরো দুই পুরুষের সাথে সাক্ষাৎ হলো, এদের একজনের বাড়ি চুয়াডাঙায়, সে লোপার কাজিন হয় এবং দ্বিতীয় পুরুষটি হলো সেই কাজিনের বন্ধু, যার বাড়ি বরিশালে। যাই হোক, উক্ত পুরুষদ্বয়ের সাথে থাকার ব্যবস্থা হলো। তাদের সাথে এবং মেয়েগুলোর সাথে বেশ মজা করলাম, হেঁটে এবং নৌকায় বেশ কিছু জায়গা ঘুরে বেড়ালাম। এক পর্যায়ে ঐ পুরুষদ্বয় (তাদের সাথে ইতিমধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল) একজোট হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আমি আসলে কী উদ্দেশ্যে এতদূর পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কারণ, মেয়েগুলোর কোনোটিই আমার কোনো আত্মীয় বা পূর্বপরিচিত ছিল না। তারা জানতে চাইলো, আমি রোজিকে পছন্দ করি কিনা।

আমি সত্যটা বললাম, তখন রোজির কাছে তার প্রেমজীবন সম্পর্কে জানতে চায় তারা। তারা হয়তো আগে থেকেই জানতো যে, রোজির একজন প্রেমিকপুরুষ আছে। তখন রোজি জানাল যে, তার সাথে তার প্রেমিকের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে, তারা এখন পুনরায় একটি ‘সুখী দম্পতি’। এতে খুবই হতাশ হলাম আমি। উক্ত পুরুষদ্বয় আমার হয়ে রোজির কাছে উমেদারী করলো, তখন সেটা নাকচ করে দিল সে।

তখন আমার বন্ধুদ্বয় রোজির সাথে আমার পূর্বাপর সব জানতে চাইলো। আমি সব জানানোর পর তারা বললো, ‘রোজি যখন আপনাকে চিপায় নিয়ে গেল, তখন সাথেসাথেই আপনি কেন তাকে চকাস-চকাস করে কয়েকটি চুমু খেলেন না?! সেখানেই আপনার ভুল হয়েছে। জানেন তো, প্রেম করলে মধু খেতে হয়!’ যাই হোক, আমার শট আমি আগেই ব্লো করে দিয়েছি, আমার আর কিছু বলার ছিল না। তাই বলতে চাই, বন্ধুগণ, নতুন কোনো সম্পর্ক শুরু করার সময় একটু গভীরভাবে ভেবে নিন, ‘আপনি কি আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার প্রিয়জন না প্রয়োজন?’ আর পুরুষদের উপদেশ দেব, মধু খাওয়ার সুযোগ পেলে ছাড়বেন না!

রোজি দেখতে অনেকটা এইরকম ছিল



দুই নারীকে যৌন হেনস্থা করার প্রকৃত কারণ

আমি জীবনে হয়তো অনেক নারীকেই যৌন হেনস্থা করেছি, এর বেশিরভাগই যৌন উত্তেজিত হয়ে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নারী আমার সাথে ঐরকম আচরণ করেছিল বলেই আমিও তাকে এভাবে প্রত্যুত্তর দেই। তবে কমপক্ষে দু’জন নারী রয়েছেন, যাদেরকে আমি ঠাণ্ডা মাথায় যৌন হেনস্থা করি; মূলত তাদেরকে শিক্ষা দিতে বা প্রতিশোধ তুলতে। এর মধ্যে একজন হলো নাসরিন সুলতানা মুন্নি যে ‘প’ আদ্যাক্ষরের গাইডবুক পাবলিকেশন্সে বর্তমানে পিএমডিতে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। আর দ্বিতীয়জন হলেন আমার শ্বাশুড়ি। শ্বাশুড়ি যেহেতু আপনজন এবং তার ব্যাপারটা সেনসিটিভ, তাই তার বিষয়ে পরে খুলে বলি।

নাসরিন ও আমি পরস্পরকে অনেকদিন থেকে চিনি। ২০১২ সালে যেদিন সুনীলদা আমাকে তৎকালীন সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের লোকজন যেমনঃ সাঈদ, নাসরিন, বিথী ও বদরুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, তখন একমাত্র নাসরিনই চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে আমাকে সালাম দেয়। আসলে সে ভালো করেই জানতো, ভূগোলের প্রকৃত জায়গা সায়েন্স নয় এবং সে চাকুরি হারানোর ভয়েও জড়সড় ছিল। নিশ্চয়ই সাঈদ তাকে এই ভয় দেখিয়েছে, তার কাছ থেকে শারীরিক ফায়দা আদায় করার জন্য।

যাই হোক, পরবর্তীতে নাসরিন বুঝতে পারলো, আমি সাধারণ একজন রাইটার, তাই তখন সে আমাকে খুব একটা গ্রাহ্য করতো না, আমিও তাকে গুণায় ধরতাম না। তবে একই জেলার মানুষ হিসেবে তাকে বিবেচনা করতাম, যদিও সে নরসিংদীতে বড় হয়েছে বলে নিজেকে ‘ঢাকাইয়া’ ভাবতো। অবশ্য ঐসব ভেবে লাভ নেই, কারণ আমি নিজেই ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, সুতরাং আমি ‘বড় ঢাকাইয়া’।




আমার কথাবার্তা শুনে আমার জ্ঞানগরিমা সম্পর্কে সে সম্যক ধারণা লাভ করে এবং ভেবে আতংকিত হয় যে, ‘এতো যোগ্য লোক এখানে এসে পড়েছে’। তখন থেকেই সে মূলতঃ আমার পিছে লাগে, কারণ এই ধরনের নিচু মেধার লোকজনদের অস্ত্র হলো ‘অফিস পলিটিক্স’। পরবর্তীতে বিথীর সাথে যখন বিল নিয়ে সমস্যা হলো (সে চাপাবাজি করে উঁচু রেটের লোভ দেখিয়ে কাজ উদ্ধার করে এখন পল্টি নিয়েছে), তখন নাসরিন তার আসল রং দেখানোর সুযোগ পেল। বিথী হিন্দু হওয়ায় সংখ্যালঘু এবং আরএন্ডডি’র হেড সুনীলের সাথে তার ‘ভালো’ সম্পর্ক রয়েছে বিধায়, বিথী ছিল আসলে সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু আমি তার ক্ষমতার পরোয়া করলাম না, চাপাবাজি করার কারণে তার সাথে ক্যাঁচাল করতে বাধ্য হলাম।

পরবর্তীতে বিথীর সাথে আমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে, এমনকি বরিশাল ঝালকাঠিতে (যেখানে আমার শ্বশুরবাড়িও বটে) তার বাপের শ্রাদ্ধেও আমি গিয়েছিলাম। বিথী আমার পিছনে লেগে ছিল, কারণ তার তখন বয়স ৩৫/৩৬ হলেও বিয়ে বসে নি, তাই যৌবনজ্বালা মেটাবার জন্য আমিই ছিলাম তার ফার্স্ট চয়েস। আমিও ভাবলাম, দেখি তার সাথে শুয়ে, ‘নতুন মাংসের স্বাদ’ নেয়ার দরকার আছে বৈকি। কিন্তু শ্রাদ্ধ থেকে ফিরেই সে আর সুনীল মিলে আমার আর সাঈদের নামে অভিযোগ তোলে, সাঈদ নাকি আমাকে ব্যবহার করে কোম্পানীর টাকা লোপাট করছে। সেটা সাঈদ করেছে বটে, তবে আমাকে দিয়ে নয়, প্রুফরিডার সজীবকে দিয়ে। দুই নম্বরী করার জন্য সাঈদ তাকে প্রুফরিডার থেকে ‘সাধারণ বিজ্ঞান’-এর রাইটার পদে পদোন্নতি দিয়েছে, যাতে সজীবের নামে মোটা মোটা বিল করা যায়।

এসকল কারণে বিথীর সাথে সুসম্পর্ক রাখা সম্ভব হলো না, যদিও অভিযোগের কোনো বাক্য সরাসরি আমার কানে আসে নি। বিথীর সাথে কথাবার্তা বন্ধ করার পর নাসরিন আবার পল্টি নেয়ার সুযোগ পেল। এবার সে খারাপ ব্যবহার শুরু করলো, যেমনঃ ‘এই ‘ইয়ে’ ভাই, চেয়ারটা এমনে রাখছেন কেন?’ আর চেহারায় তো সবসময় একটা ডিসঅ্যাপ্রুভাল আর ভ্রু কুঁচকানি ছিলই। আমার তখনকার রিপোর্টিং বস সাঈদ এসবের বিরূদ্ধে কোনো অ্যাকশন নিতে পারে নি, কারণ সে নিজেই নাসরিনকে দৈহিকভাবে অপব্যবহার করে তার কাছে অনেকটা জিম্মি ছিল। সাঈদের পক্ষে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না, আর বিথী-নাসরিনরা অফিসের অন্য মেয়েদেরকে কান-কথা শুনিয়ে তাদের দলে ভিড়িয়েছিল, এমনকি তাদের ‘মাগিবাজ’ পুরুষ সহকর্মীগুলোও বিথীর পক্ষে কথা বলতে শুরু করলো।



বিথী তুলনামূলক খাটো ছিল বলে সে সরাসরি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার সাহস পেত না, তাই সে নাসরিনকে দিয়ে এসব করাত। তখন আমি মনে মনে ভাবতাম, ‘এই কি সেই নাসরিন যাকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে একবার চুমু খাবার সুযোগ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিলাম?’

ব্যাপারটা ছিল এই যে, তখন আমার বিথীর সাথে ব্যাপক খ্যাতির, সে আমাকে চাপাবাজির মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে তার কেমিস্ট্রির মেডইজি’র কাজ করাচ্ছিল। তো, একদিন ডিপার্টমেন্টে আমি আর নাসরিন ছাড়া আর কেউ নেই, নাসরিন সরল মনেই তার একটা কাজ বা ড্রয়িং দেখানোর জন্য আমাকে কাছে ডাকলো, আমি ভুলে তার খুব কাছে চলে যাই এবং আমাদের মুখ বা ঠোটগুলো খুব কাছাকাছি চলে আসে। যখন বুঝতে পারলাম, তখন আমি সরে আসি। তবে আমি জানি, সেদিন তাকে শুধু ঠোটে চুমু খেলে সে একটু মাইন্ড করতো এবং সিনক্রিয়েট করার ভয় দেখাত ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকে বলতো না। আমাদের দু’জনের মাঝে সম্পর্কটা এভাবে শুরু হলে সেটা হয়তো সাঈদের মতো বিছানায় গিয়ে গড়াত। আমি সরে আসায় নাসরিন নিশ্চয়ই আমাকে ‘বুদ্ধু’ ভেবেছিল।

তারপর বিথী এত করে চাওয়া সত্ত্বেও আমি যখন তার সাথে শেষ পর্যন্ত শুলাম না, তখন নাসরিন আর বিথী দু’জনেই আমাকে নিশ্চয়ই ‘খোঁজা’ বা ‘নপুংশক’ ভেবেছিল। অর্থাৎ তখন থেকেই নাসরিন আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। আসলে নাসরিন আর বিথীর ‘অফিস ফিলসফি’ আমার কাছে পরিষ্কার হতে কিছুটা সময় লেগেছে, আর সেটা হলোঃ “ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য প্রয়োজনমতো যার-তার সাথে শোও।” বিথীর জন্য ব্যাপারটা সহজ ছিল, কারণ সে ছিল অবিবাহিতা, তবে নাসরিনও যে এই ফিলসফিতে বিশ্বাস করতো এবং তার নিজের জীবনে ফিলসফিটির প্রতিফলনও ঘটাবে, সেটা পরে বুঝেছি।

তাই ঠিক করেছিলাম, আমাকে ‘নপুংশক’ ভাবার শাস্তিটা নাসরিনকে দেবই। এ উদ্দেশ্যে প্রথমে তার সাথে ফেসবুকে ফ্রেন্ড হলাম, পরে তাকে মেসেঞ্জারে বললাম, ‘ম্যাডাম, আমরা দু’জন তো মূলতঃ একই জেলার লোক, অথচ একে অপরকে খুব কম জানি। চলেন না, একদিন সময় করে দু’জনে কোথাও ঘুরে আসি, যেমনঃ সিনেপ্লেক্স বা যমুনা ফিউচার পার্ক।’ তাতে সে কোনো সাড়া দিল না; বুঝলাম, সে আমার সাথে খেলতে চায়। কিন্তু আমার এতো খেলার সময় নেই, তাই তাকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে বললাম, ‘ম্যাডাম, একটা মেয়ে বা মহিলার সন্ধান দিন তো, সেক্স করার জন্য (চাইলে আপনি নিজেও করতে পারেন)’।

যদিও এরপর সে আমায় ব্লক মেরেছে, তবু কমপক্ষে আমার উদ্দেশ্য চরিতার্থ তো হলো! মাগিকে আকাশ থেকে মাটিয়ে নামিয়ে আনলাম (শ্বাশুড়ির কাহিনীটা আরেকদিন বলবো)।

নাসরিন যদিও এতটা সুন্দর নয় (নাকটা ‘ভাউয়া’ ব্যাঙের মতো), তবে তার শরীরে অারেকটু গোস্ত জমলে অনেকটা এরকম দেখাবে



আমার এলাকাভিত্তিক থিওরিটা ভেরিফাই করার জন্য এক নারীকে সেক্সের প্রস্তাব দেব

আমার এলাকাভিত্তিক থিওরিটা হলো, ‘একই জেলার মানুষদের বৈশিষ্ট্যে ব্যাপক মিল আছে।’ এটা অবশ্য আমার নিজের থিওরি বললে পুরোপুরি ঠিক হবে না, কারণ এ থিওরিটা অনেকেই জানে এবং মানে। তবে আমিই সম্ভবতঃ প্রথমবারের মতো থিওরিটা ভেরিভাই করার জন্য কোনো নারীকে যৌনপ্রস্তাব দেয়ার মতো একটা রিস্কি কাজ করতে যাচ্ছি। আর সে রাজি হলে কী আর করা, তার সাথে বিছানার খেলাটা খেলব। আশা করি, তার এইডস বা অন্য কোনো মারাত্মক যৌনরোগ নেই।

আমার টার্গেটকৃত মহিলা ‘প’ আদ্যাক্ষরের যে গাইডবই পাবলিকেশন্সের কথা আমি প্রায়ই বলি, সেখানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করে। তাকে টার্গেট করার কারণ হলো, তার দেশের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। ইতিপূর্বে ঐ এলাকার এক মহিলার সাক্ষাৎ আমি পেয়েছিলাম, যে কিনা যৌন চরিত্রের দিক থেকে পুরোপুরি ৪২০ টাইপের ছিল। এমনকি, তার কাছে এসব অবৈধ দৈহিক সম্পর্ক বাম হাতের খেলা মাত্র। সে নামে মুসলিম হলেও ইসলামে যে এসবের বিরুদ্ধে নিয়ম বেঁধে দিয়েছে, তা যেন অজানা তার। 




সে সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে অবৈধ লীলাখেলা করতে পছন্দ করতো। বিশেষ করে, আমার বউটা যেহেতু কালো, তাই আমাকে তার ফর্সা ও সেক্সি দেহের নাচন-কুর্দন দেখিয়ে সবসময় যৌন উত্তেজিত করে রাখতে পছন্দ করতো। তার সাথে চাইলে যে শুতে পারতাম না, ব্যাপারটা তা নয়। তবে সে যে সময় আমার সাথে শুতে চেয়েছিল, সে সময় আমি প্রতিবেশী শবনম আন্টির মেয়ে জেনি’র প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম; তাই সত্যিকার প্রেমের নিদর্শনস্বরূপ জেনির মা শবনম আর মানিকগঞ্জের সেই মহিলার সাথে শুতে চাই নি। 

বলতে ভুলে গেছি যে, উক্ত মহিলার নাম সেলিনা, সে আমার চেয়ে এক্সাক্টলি তিন বছরের বড় ছিল এবং আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে স্বামী আর দু’ ছেলে নিয়ে থাকতো। আপনারা যারা এই ব্লগের ‘এক ঘরের পরকীয়া দেখে অন্য ঘরের লোকজন উৎসাহিত হয়’ আর্টিক্যালটি পড়েছেন, তারা অলরেডি সেতুর মা সেলিনার ব্যাপারে জানেন। পড়ে না থাকলে সেটা একসময় পড়ে নিয়েন।

সেলিনা দেখতে অনেকটা এই রকমই ছিল

সেলিনা যে সময় আমাকে সুযোগ দিয়েছিল, সে সময় তার পরকীয়া দেবর বিদেশে ছিল, তিন বৎসর যাবত। এই তিন বছর বেচারী নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছে, কারণ তার স্বামীকে দেখলেই বোঝা যায়, বিছানার খেলায় একেবারেই অপারগ। এ দিক দিয়ে শবনমের সাথে সেলিনার মিল রয়েছে। শবনম প্রেম করে বড়লোকের ছেলে জুয়েল মিয়াকে বিয়ে করলেও জুয়েল ছিল মাত্রাতিরিক্ত শুকনো দেহের অধিকারী। শবনম তাকে বিয়ে করেছিল খুব সম্ভবতঃ ধন-সম্পদের আশায়। 

শবনম আমাকে রিক্রুট করেছিল আমার সাথে শোয়ার জন্য, অথচ আমি হাত বাড়ালাম তার ক্লাস নাইনের কন্যা ভিকারুননিসার ছাত্রী জেনির দিকে। এ কারণে শবনমও আমার উপর ক্ষ্যাপা, আর সে আগুনে ঘি ঢাললো আরেক অতৃপ্ত নারী সেলিনা। যার ফলে জেনির সাথে খুব বেশি সুবিধা করতে পারলাম না। মহিলা বাহিনীতে আরেকজন যোগ দিল, সেও আমাদের প্রতিবেশী ছিল এবং জনৈক ডিবি পুলিশের স্ত্রী ছিল। এই আন্টি আমার হোম ডিস্ট্রিক্ট-এর আরেক উপজেলার মেয়ে হলেও তাদের পরিবারের সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিল না।

কারণ তারা নতুন বাসায় আমাদের প্রতিবেশী হয়ে এসেই ‘ডিবিগিরি’ অর্থাৎ পাওয়ার দেখানো শুরু করে দিল। তবে আমাদেরও সে সময় (বিএনপি’র আমলে) পলিটিক্যাল ছত্রছায়া ছিল বলে খুব বেশি ডিবিগিরি করতে পারে নি। সমস্যা হলো, ছাত্রী জেনির সাথে এই ছল-বল-কৌশলের খেলা শুরু করেছিলাম ২০১১ সালে, তখন তো আর বিএনপি নেই যে, অপরাধ করে পার পেয়ে যাব। তাই ডিবির বউ এতোদিন পরে একটা প্রতিশোধ নেয়ার চান্স পেলেন, তাদের পরিবারের কারো সাথে এতোদিন কথা না বলার কারণে (আমার মা আর ছোট ভাই তাদের সাথে কথা বলতো, তবে আমি মাত্রাতিরিক্ত অহংকারী আর হিসেবি হওয়ায় কোনোদিন যেচে তাদের সাথে কথা বলি নি। উক্ত ডিবি আংকেল দু’ বছর আগে মারা গেছেন, আন্টির ভাবসাবে এখন মনে হয়, পুরনো সব কিছু ভুলে গিয়ে তিনি আমার সাথে বন্ধুত্ত্ব করতে ও শুতে চান! হেঃহেঃ)।



প্লাস, পরিমলের ঘটনাটা ঘটায় ছাত্রী জেনি আরো সাবধান হয়ে যায়। কারণ পরিমল ২০১১ সালে ভিকারুননিসায় বসুন্ধরা শাখায় ক্লাস টেনে পড়ুয়া ‘তানি’ নামের একটি মেয়ের সাথে আকাম করে, আমার জেনি ছিল উক্ত শাখারই ক্লাস নাইনের স্টুডেন্ট। যাই হোক, জেনিকে যখন পুরোপুরি পেলাম না, তখন আমার রাগ গিয়ে চাপে ওর মা শবনম, ডিবির বউ আর মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সেই আন্টি সেলিনার উপর। মূলতঃ তখন থেকেই সেলিনাকে মনে-প্রাণে তীব্র ঘৃণা করতে থাকি। তার দেবর বিদেশ থেকে ফেরত আসার পর দু’জনের হানিমুন নতুন করে শুরু হয় এবং তীব্রবেগে চলতে থাকে। 

এসময় মাঝে মাঝে সেলিনা আমাকে বিক্ষিপ্তভাবে দু’-একটা চান্স দিয়েছিল, আমার শুধু দরকার ছিল তাকে চেপে ধরে বিছানায় নিয়ে যাওয়া। তবে মাঝে মাঝে সে আমার মা’র সামনে বেশ সতীপনা করতো, তখন বেশ বিরক্ত লাগতো। মোটের উপর, সেলিনার কান-কথার কারণেই জেনি এবং আমার বিচ্ছেদ ঘটে, তাই সে যখন আমাকে বড় বড় সুযোগ দিয়েছিল, তখন পুরনো সেই রাগের কারণে তাকে কোনোদিন কাছে টেনে নিই নি। যেমনঃ প্রায়ই সে আমার বাসায় ‘হুশ’ করে এমন সময় ঢুকে পড়তো যখন আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আর তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেও বোঝা যেত, সবকিছু খোঁজখবর নিয়েই এসেছে। 

সে আমাদের রান্নাঘরে ঢুকে এটা-ওটা খোঁজার অভিনয় করতো, আর মূলতঃ অপেক্ষা করতো কখন আমি তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরি বা তার পশ্চাৎদেশে আমার ‘ডাণ্ডা’টা ঠেকাই। এরকম বেশ কয়েকবার প্রচেষ্টার পরও যখন আমি কোনোকিছুই করলাম না, তখন তার চেহারায় হতাশার নিশ্চিত ছাপ দেখতে পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে তারা কেরাণীগঞ্জে তাদের আগে থেকে কেনা জমিতে ছোটখাট বাড়ি করে চলে গেছে। তার সাথে যৌন সম্পর্কে না জড়ানোর একটি কারণ যেমন আমার অভিমান, তেমনি আরেকটি কারণ হলো আমার মায়ের কড়া শাসন। আমার মা যে ধোয়া তুলসীপাতা তা নয়, কিন্তু আমার বেলাতেই তার অকারণ শাসন কেন – সেটা বুঝতে পারি না। তার অতিরিক্ত শাসনের কারণে আমার সবচেয়ে ছোট ভাইটা ‘সাইকো’ টাইপের হয়েছে।

এ কথাগুলো বললাম এই কারণে যে, সেলিনারা চলে যাবার পর তাদের খুব মিস করেছি; মনে হয়েছে, ওর সাথে শুলেই পারতাম। আর সেটা তখনও সম্ভব ছিল একটা মাত্র ফোনকলে। কিন্তু বোকাচন্দ সেলিনা যদি ভুলেও ফোনকলের কথা আমার মাকে বলে দেয়, তাহলে মাও বুঝে যাবে আমার আসল উদ্দেশ্য, আর আমাকে দেবে ‘ব্যাম্বু’।

যাই হোক, পরবর্তীতে কোনো একটা অনলাইন সংবাদপত্রের আর্টিক্যালে পড়েছিলাম, দেশে যে সকল এলাকার মেয়েরা সবচেয়ে বেশি পরকীয়াকাতর হয়, তাদের একটি হলো মানিকগঞ্জ; অন্য এলাকাগুলোর নাম এখন না হয় নাই বললাম।

এই আর্টিক্যালের শুরুতে যে কম্পিউটার অপারেটর মহিলার কথা উল্লেখ করেছিলাম, তার দেশের বাড়িও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে, যেমনটি আগে উল্লেখ করেছিলাম। তাই এর সাথেও একটা ট্রাই নিতে চাই। অবশ্য শুধু একারণেই নয়, আরো দু’-একটি কারণ আছে বৈকি। যেমনঃ মহিলা কালো হলেও বেশ সুইট দেখতে, আর সে সবসময় সেলিনার মতো একটা মেচকি লাজুক হাসি ধরে রাখে। মহিলাকে কিছুদিন আগে তার দেশের বাড়ির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে উত্তর দিয়েছিল, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। তখন জিজ্ঞেস করলাম, চর এলাকায় কিনা; উত্তরে সে বললো, ‘না, চর এলাকায় না, বরং মূল ভূখণ্ডে।’ এ কথা জিজ্ঞেস করার কারণ হলো, সেলিনার পিতা ও শ্বশুরবাড়ি হলো হরিরামপুরের চর এলাকায়, পদ্মা নদীর মাঝে।

ঐ অপারেটর মহিলা সম্ভবতঃ ইতিমধ্যেই তার প্রতি আমার ভালো লাগা টের পেয়েছে, তাই কয়েকদিন আগে আমার সামনে অন্যরকম একটা লাজুক ভঙ্গি ফুটিয়ে তুলেছিল চেহারায়। টের যেহেতু সে পেয়েই গেছে, তাই এখন সামনে এগুনো ছাড়া এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল জানার উপায় নেই। তাই এখন আমার প্ল্যান থাকবে, তার সাথে যদি নির্জন কোনো স্থানে (যেমনঃ সিঁড়ি বা লিফট) দেখা হয় এবং সে যদি আমার কুশলাদি জানতে চায়, তাহলে হয় তার ফেসবুক আইডি’র লিংক অথবা তার ফোন নাম্বার চাইবো। তারপর একসময় সুযোগ বুঝে হালকা করে জানিয়ে দেব, ভালো লাগার কথা। দরকার হলে ‘ভালো লাগে’ না বলে বলবো, ‘চলুন দু’জনে কোথাও ঘুরে আসি।’ এভাবেই তাকে সিস্টেম করার চেষ্টা করবো।

যদি অনেক কাঠখড় পোড়ানো সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বিছানায় নিতে না পারি তাহলে বুঝতে হবে, এক এলাকার সকল মানুষ সমান নয়, অন্ততঃ আমার পূর্বে উল্লিখিত থিওরিটি’র যথার্থতা তখন থাকবে না। আর যদি পারি, বা এরকম সম্ভাবনা দেখি, তাহলে বিছানায় নিয়ে বা না নিয়েই বলা যাবে, আমার দেয়া থিওরিটা যথার্থ।



কাজের মহিলাদের প্রতি যেভাবে আগ্রহ জন্মালো

অন্য আট-দশজন পুরুষের মতো আমিও কাজের মহিলাদের সাথে সেক্সের ব্যাপারে কম আগ্রহী ছিলাম। এর কারণ সম্ভবতঃ তাদের সামাজিক স্ট্যাটাস, দারিদ্র্য, নিচু মনমানসিকতা আর গায়ে গন্ধ। তবে দু’একজন কাজের বুয়ার কারণে আমার মানসিকতা পাল্টে গেল। একটা সময় কাজের বুয়ারাই আমার ‘বিগেস্ট ফ্যান্টাসি’ হয়ে দাঁড়ালো।

এর মধ্যে প্রথমজন হলো হাসিনা যে কিনা বয়সে আমার চেয়ে আট-দশ বছরের বড় ছিল। আমাদের বাসায় যখন কাজ করতো, তখন তার চরিত্র ভালো ছিল (খুব সম্ভবতঃ)। তবে এখন কী অবস্থা কে জানে?! ইদানিং সে আর বুয়াগিরি করে না, ৩০-৩৫ জন শ্রমিক টাইপের লোককে ভাত রেঁধে খাওয়ায়। এর মধ্যে কেউ কেউ যে তার সাথে সেক্স করে না – তার গ্যারান্টি কে দেবে?




যাই হোক, আমাদের বাসায় যখন কাজ করতো, সেই ৯৫-৯৬ সালের দিকে, তখন আমার মা তাকে মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলেছিল। তাই সে উচ্চস্বরে ছাড়া কথাই বলতো না, এতে আমার পড়াশুনায় সমস্যা হতো। একদিন তাকে আস্তে কথা বলতে বলা সত্ত্বেও আমাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে বসলো। বললো, ‘আমি জোরেই কথা কমু। তুমি কী করবা?’ তখন মেজাজ সামলাতে না পেরে তাকে চড় মেরে বসেছিলাম।

আর তাতেই সে রটিয়ে দিল যে, আমি নাকি তার ইজ্জতহানির চেষ্টা করেছিলাম, সে তাতে বাধা দেয়ায় আমি তাকে চড় মেরেছি। তখন আমি মাত্র ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার মতো নাদান এক কিশোরের উপর এমন একটা অপবাদ চাপিয়ে দেয়ার কারণে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এখন থেকে বাসার প্রতিটি কাজের বুয়ার সাথে লোচ্চামি করবো আর তাদেরকে বিছানায় নেয়ার চেষ্টা করবো।

প্রতীকী কাজের বুয়া

তবে প্রতিজ্ঞাটা প্রতিজ্ঞাই থেকে গেল, আদতে আমি নতুন কাজের মহিলাদের সাথে ভালো আচরণই করতে থাকলাম; তারা আসলে হাসিনার মতো জংলি ছিল না। তবে কুমিল্লার হোমনার এক কাজের বুয়া পেলাম যার গায়ের রং কালো, আর গায়েও গন্ধ। শুধু একটাই প্লাসপয়েন্ট ছিল তারঃ মোটামুটি সুন্দর ফিগার। আমার বাসার লোকজন কয়েকদিনের জন্য দেশের বাড়িতে বেড়াতে গেল, বাসায় রেখে গেল শুধু আমাকে।

পরপর তিনদিন শুধুমাত্র আমার উপস্থিতিতে ঐ মহিলা কাজ চালিয়ে গেল। আমি তাকে কিছু বললাম না, বা করলাম না, পাছে সে আমার মা’র কাছে বলে দেয়। সেও কোনো অশ্লীল আচরণ করলো না বা প্রলোভন দেখাল না। তবে তৃতীয় দিন সে কথা বলার উছিলায় আমার খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল, সে সম্ভবতঃ আমার সততায় মুগ্ধ হয়ে আমাকে তার দেহ দান করতে চেয়েছিল, প্লাস কিছু বখশিস পেতে চেয়েছিল।

তবে ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত ছিল বিধায় আমি তাৎক্ষণিকভাবে মাথা খাঁটিয়ে কোনো কিছু করতে পারি নি। আমার উচিত ছিল সে মুহূর্তে তাকে জড়িয়ে ধরা, তারপর যা হবার হবে। আবার চলে যাবার সময়ও সে মারাত্মক একটা প্রলোভনসুলভ হাসি দিয়ে গেল, যার মানে হলো, ‘বোকাচন্দ, তুমি আমাকে পেয়েও লাগালে না! এখনও সময় আছে, সাহস থাকলে আমাকে টেনে বিছানায় নিয়ে যাও।’



যেনতেন যোগ্যতা নিয়ে ক্যারিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে উচুঁতে ওঠা এক শিয়ালপণ্ডিতের গল্প

উক্ত শিয়ালপণ্ডিতের নাম আবু সাঈদ, দীর্ঘ সময় তাকে ‘সাঈদ ভাই’ বলে ডেকেছি। তবে আর না, আর ডাকবো না। তার নামে লিখতে বাধ্য হলাম এই কারণে যে, তার চাকুরি আমি একসময় বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম, আর এখন সে ঐ প্রতিষ্ঠানে আমার উপস্থিতি ভালো চোখে দেখে না। না দেখার কারণও আছে, তার ধারণা আমি অনেক টাকা কামিয়ে নিয়েছি, এখন আর আমার সেখানে কাজ করার প্রয়োজন নেই। প্লাস, সে যে রকম উপরি বা ঘুষ আশা করেছিল আমার কাছ থেকে, সেটা তাকে কখনোই দেই নি। না দেয়ার কারণ হলো, সে যে ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সেখানে চাকুরি করছে, এটাই তার জন্য বেশি।

বিথী আর সুনীল মিলে তার চাকুরিটা খেয়ে দেয়ার যে চেষ্টা করেছিল ২০১৪ এর শুরুতে, সে সময় আমি বিথীর সঙ্গ বর্জন করে তার পাশে না দাঁড়ালে আজ হয়তো তাকে মুদি দোকানদারি করতে হতো, যেমনটা সে এক সময় প্ল্যান করেছিল এবং মুখে বলেছিল, ‘শালার এই চাকরি ভাল্লাগে না। মনে চায় মুদি দোকানদারি করি গিয়া’। বিথীর মতো যোগ্যতা তো তার নেই যে, এখানে চাকুরি চলে গেলেও লেকচার বা অনুপমে একই ধরনের চাকুরি সে অনায়াসে পাবে। আসলে শিক্ষাগত যে যোগ্যতা তার, তাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০,০০০ টাকা দামের চাকুরি যোগাড় করতেই তাকে বহুত হিমশিম খেতে হবে, অনেস্টলি স্পিকিং!




আর ঐ প্রতিষ্ঠানে আমার উপস্থিতি সে ভালো চোখে না দেখার বড় কারণ হলো, তার বিগ বস সুনীলের ভাই কোন নারীর (বিথী) সাথে লিভ টুগেদার করেছে, সে তথ্য সে নিজেই আগ্রহ সহকারে আমাকে দিয়েছে, আর এখন ভয় পাচ্ছে এই ভেবে যে, আমি যদি সে তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কানে পাচার করে দেই। (তথ্যটা তাকে কে দিয়েছে, সেটাও ভালো করেই আন্দাজ করতে পারি। এটা নাসরিন ছাড়া আর কেউ না; বিথী সুনীলের ভাইয়ের সাথে শুয়ে সুখ পেয়েছে, আর সেটাই বিস্তারিত শেয়ার করেছে প্রাণের বান্ধবী নাসরিনের কাছে। নাসরিনও এইডস রোগীর মতো ভাইরাসটা সবখানে ছড়িয়ে দিয়েছে)

তবে সেটা খুব সম্ভবতঃ অলরেডি পাচার হয়ে গেছে সুনীলের কাছে, যদিও তার সাথে আমি কথা বলি না (কারণ চাকুরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথার বরখেলাপ করেছিল, আর কাজ ঠিকমতো না বুঝিয়েই ঝাড়ি দেয়ার পন্থা অবলম্বন করেছিল)। আমি ভালো করেই জানি, নাসরিন আমার এই ব্লগ বা টুইটার পেজের একজন নিয়মিত ফলোয়ার আর তথ্য পাচার করতে সে ওস্তাদ। তাই তো তাকে মনে মনে ডাইনি বুড়ি ডাকি, আর সাঈদকে ডাকি গাধা, ফাঁপড়বাজ, অশিক্ষিত, মূর্খ।

সাঈদকে যে এত নিষ্ঠুরভাবে অশিক্ষিত ও মূর্খ ডাকি তার বেশ কয়েকটি কারণও আছে বৈকি। সে দীর্ঘ একটা সময় উক্ত পাবলিকেশন্সের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের ইন চার্জ ছিল, এরপর বেশ কয়েক মাস ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের ইন চার্জও ছিল। কিন্তু একটা ডিপার্টমেন্ট চালাবার জন্য ফিজিক্স বা ম্যাথের যে ন্যূনতম জ্ঞান দরকার সেটা তার কোনোকালেই ছিল না। কারণ অন্যেরা যখন পড়াশুনায় ব্যস্ত, সাঈদের মতো লোকেরা তখন দুর্নীতি ও কুটনামিতে ব্যস্ত ছিল।

সে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে দাবী করে, কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, এটা মিথ্যে কথা। সে নিজেকে যে কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র দাবী করে (হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সিগঞ্জ), সে কলেজেই ম্যাথ বা অন্য কোনো সাবজেক্টে ডিগ্রী বা অনার্স করেছে সে। এরূপ ভাবার কারণ হলো, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে পড়াশুনা করা লোকজনের বিদ্যার দৌড় কতটুকু হয় সেটা আমি ভালো করেই জানি।



এরপরও আমি তাকে নিয়ে মাথা ঘামাতাম না, যদি সে ২০১২ সালে আমার লেখা এমসিকিউগুলো বুঝে-না বুঝে উড়াধুরা কেটে আমার রাইটিং বিলের পরিমাণ ৪০% কমিয়ে না দিত। আমার ইউনিভার্সিটি থেকে জুনিয়র যে কয়টা ছেলে এসেছে সিকিউ লিখতে, সব কয়টাকে সে হালকা-পাতলা ট্রেনিং বা হিন্ট দিয়েছে, কেবল আমাকে ছাড়া।

তার ধারণা ছিল, সুনীল আমাকে রিক্রুট করেছিল তাকে রিপ্লেস করানোর জন্য, তাই আমার ভালো সে কখনোই চায় নি। আর সুনীলের সাথে তার লেগেছে – কর্তৃপক্ষের বিশেষ সুবিধা আদায় করতে গিয়ে। প্রতিষ্ঠানের একজন কর্ণধার কাউসার মিয়া সাঈদের বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড হয়, তাই সে ভেবেছিল, কান-কথা লাগিয়ে সবকিছু তছনছ করে দিবে। তবে সে জাস্ট ভুলে গিয়েছিল, যোগ্যতার কাছে লবিং ফেল মারে। হ্যাঁ, সুনীল মানুষ হিসেবে যেমনই হোক না কেন, তার যোগ্যতা কিছুটা আছেই, যেটা সাঈদ সাত জনমে অর্জন করতে পারবে না।

এরপর সেকেন্ড পেপার গাইড পাবলিশের সময় আমি যখন কিছু সিকিউ লিখতে চাইলাম, তখন সাঈদ এর ঘোর বিরোধী ছিল। এর প্রধান কারণ হলো, এ ধরনের একটা সিকিউ-য়ে ফিজিক্সের জ্ঞানগত যে কন্টেন্ট আছে, তা যাচাই করার সাধ্য তার ছিল না। তাই সে চকচকে চেহারার লোকজনকে দিয়ে কাজ করাতে আগ্রহী ছিল। তার ধারণা ছিল, চকচকে চেহারার লোকজনই বেশি যোগ্য এবং জ্ঞানী, প্লাস তাদের কারো কাছে নিজের ভাগ্নি তিশাকে গছানোর সুযোগ তো একটা পাওয়া যাবে, হতভাগা আমি যে আগে থেকেই বিবাহিত! বিবাহিত না হলে তার স্কুল শিক্ষিকা বোনকে নিশ্চয়ই লাগাতে দিত, বিয়ে হবার আশায়, যেমনটা ইঙ্গিত সে একসময় পরোক্ষভাবে দিয়েছিল। ধুরন্ধর আমি কি তার পরোক্ষ ইঙ্গিত না বুঝে থাকি?

সাঈদ আরেকটা ফাউল করেছে, প্রুফরিডার সজীবকে দিয়ে কোম্পানীর বেশ কিছু টাকা সে অবৈধভাবে সরিয়েছে, নিজে ব্যবহারের জন্য। আন্দাজ করি, এই টাকার পরিমাণ ৫ লাখের বেশি হবে, ১০ লাখের কম হবে। আসলে ইতিপূর্বে বায়োলজি ডিপার্টমেন্টে অনূপ বিশ্বাস নামে এক লোক কর্মরত ছিল, সে নাকি ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে আফতাবনগরে ৫ কাঠা জমি কিনেছে। এই অনূপ বর্তমানে কৃষি ব্যাংকে কর্মরত এবং কয়েক বছর আগে ফরিদপুর ব্র্যাঞ্চে ছিল। যাই হোক, এই অনূপই সাঈদ, বিথী আর নাসরিনের দুর্নীতির প্রেরণার উৎস। তাদের সবার ধারণা, অনূপ অবৈধভাবে উক্ত গাইডবুক পাবলিকেশন্স থেকে এই টাকা সরিয়েছে, আমিও তাই মনে করি।

যাই হোক, সাঈদ যদি কোনোভাবে প্রতিষ্ঠানের টাকা সরাতে পারে তাহলে আমার তাতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। সমস্যা হলো এই যে, তার একটি ভুলের কারণে আমার ন্যায্য পাওনার বৃহৎ অংক বিথীর চোখে পড়ে এবং তখন থেকেই সে আর নাসরিন আমাকে নিয়ে সাত-পাঁচ ভাবা শুরু করে। এই সাত-পাঁচের মধ্যে একটা অংশ ছিল আমার সাথে বিথীর শোয়ার ব্যবস্থা করা, যদিও সে আমার চেয়ে তিন বছরের বড় ছিল। ব্যাপারটা হলো এই রকম যে, তারা আমার সাথে শত্রুতাও করবে এই ভেবে যে, আমি ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছি, আবার তাদের যৌবনজ্বালাও মেটাতে হবে আমাকে (আমার নাদুসনুদুস শরীরই নাকি বিথীর মারাত্মক পছন্দ!)।

বিথীর চরিত্রে এতোটাই সমস্যা ছিল যে, সে তার পিতার শ্রাদ্ধের দিন এভাবেই ড্রেসআপ করেছিল       

সাঈদ আরেকটা ফাউল কাজ করে এই যে, সে নিম্ন পদমর্যাদার সজীবের (প্রুফরিডার) সাথে ব্যাপক ফিঁসফাঁস শুরু করে; আমি বরাবরই জানতাম, এগুলো সবই দুর্নীতি করার কৌশল, তারপরও কোনো কিছু বলি নি। এক সময় ব্যাপারটা এমন হয়ে যায় যে, ‘তুচ্ছ’ সজীবই ফিজিক্স ডিপর্টিমেন্টের কেউকেটা হয়ে যায় এবং সাঈদের উস্কানিতে সে একদিন আমার সাথে খারাপ ব্যবহারও করে। এর প্রতিবাদস্বরূপ, সজীবের ভাইয়ের বিয়েতে আমি যাই নি।

মূল কথা হলো, সজীবের সাথে সাঈদের ফিঁসফাঁস আর দহরম-মহরম দেখে বিথী আর নাসরিনের বদ্ধমূল ধারণা হয় যে, এখানে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে যার সাথে আমি নিজেও জড়িত। অবশ্য ঐ সময় ঐ দুই মহিলা নিজেরাও টাকা লুটপাটে বিভোর ছিল। যাই হোক, অশিক্ষিত ও মূর্খ সাঈদের আকামের কথা বলে শেষ করা যাবে না, তাই আজকের মতো এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।