“আপনার রেট কত?”

গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে মুহুর্মুহু ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। ফেসবুকের দেয়াল আর ইনবক্স ভেসে যাচ্ছে কুৎসিত মন্তব্যে। ব্যক্তিগত ভাবে এ বিষয় নিয়ে আমি মোটেও উদ্বিগ্ন নই। কারণ এই আক্রমণ আমার জন্য নতুন কিছু নয়। অতীতেও আমি এইসব মোকাবিলা করেছি, এখনো করছি আর ভবিষ্যতেও মোকাবেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।

আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা শাহবাগ আন্দোলনের সময় থেকেই আমার কমেন্ট অপশন বন্ধ রাখার কথা বলছেন। সেসময় আমার চরিত্র হননের নানান পর্যায় আমাকে মোকাবেলা করতে হয়। এমনকি আমার ফোন নাম্বার গণহারে পর্ণ সাইটে আপলোড করা হয়েছিল। হাজার হাজার ফোন কলের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এসেছিল একটাই প্রশ্ন:

আপনার রেট কত?




সেসময়েও আমি আমার এই নাম্বার পরিবর্তন করিনি। শুধুমাত্র সেই বিরুদ্ধ পরিবেশ মোকাবেলা করে আমার রাজনৈতিক কর্তব্য এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করে গেছি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার পর্যালোচনা হচ্ছে আন্দোলন সংগ্রামে আন্দোলনকারীদের নানাভাবেই নাজেহাল করা হয়। আন্দোলনকারী যদি নারী হন তাহলে তো কথাই নেই। তার চরিত্র হনন করাটা একটা আন্দোলন দমানোর হাতিয়ার হয়। একজন নারী আন্দোলন সংগ্রাম করতে আসলে তাকে দ্বিগুণ প্রস্তুতি নিয়ে লড়াই করতে হয়।

আমিসহ যেসকল নারীরা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরণের উন্মত্ত আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন তাদেরকে আমি অভিবাদন জানাই। এই সমাজ এবং রাষ্ট্রের ধর্ষকামী চরিত্র আক্রমণকারীরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রমাণ দিচ্ছেন। তাদের খোলশ নিজেরাই উন্মুক্ত করছেন। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আরো হাজার হাজার নারীকে সামাজিক মাধ্যম আর রাজপথে থেকেই এর মোকাবেলা করতে হবে।

এই ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে মুক্তির উপায় কী?
উত্তর: লড়াই!

কোটা সংস্কার চাই।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)



১০ লাখ ইয়াবা বড়ি বেচে দিয়েও বহাল ১২ পুলিশ

অভিযানে উদ্ধার করা ১০ লাখ ইয়াবা বড়ির মধ্যে ৯ লাখ ৯০ হাজারই মাদক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি দল। পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তে তার সত্যতাও পাওয়া গেছে। তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার, দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ১২ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ১১ জন এখনো কক্সবাজারেই দায়িত্ব পালন করছেন। একজন আছেন চট্টগ্রামে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পরই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কথা।

এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার একটি সুপারিবাগানে ইয়াবাগুলো রাখা ছিল। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তা উদ্ধার করে।




পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াবা উদ্ধারের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বশির আহম্মাদ মুঠোফোনে এবং পুলিশ পরিদর্শক সুকেন্দ্র চন্দ্র সরকার নিজে পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করে জানান, অভিযানে ৭ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশের এসআই জাবেদ আলম বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় যে মামলা করেন, তাতে মাত্র ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হয়। পরে তদন্তে প্রমাণ হয়, তাঁরা আসলে ১০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছিলেন ওই দিন। বাকি ৯ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা তাঁরা একজন মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরোধের কারণে ঘটনাটি ফাঁস হয়। ওই সময় গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত বশির আহম্মাদ নামের এক উপপরিদর্শক এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তিনি ছুটিতে ঢাকায় থাকার সময় অভিযুক্ত এক কর্মকর্তা তাঁর মুখ বন্ধ করার জন্য ঘুষ দিতে তাঁর বাসায় আসেন। একটি দৈনিক পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়। পুলিশের অন্য একটি দল এ ঘটনা তদন্ত করে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা পায়।

ইয়াবা বিক্রির ঘটনায় যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন কক্সবাজার ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও সুকেন্দ্র চন্দ্র সরকার; উপপরিদর্শক কামাল হোসেন, মাসুদ রানা ও জাবেদ আলম; এএসআই মাসুদ মিয়া; কনস্টেবল মোবারক হোসেন, রুবেল ও কেফায়েত উল্লাহ। একই সঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন, উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা এবং সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হককেও অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিটি।

পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ইয়াবা বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আর অন্য দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা তদারকি না করা, ভুল আদেশ দেওয়া ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে, সেটা নিয়ে আমার কথা বলা ঠিক হবে না। তবে পুলিশ সুপার হিসেবে আমি এটা বলতে পারি, জ্ঞাতসারে আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত নই।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা বলেন, ‘আমি কাগজে-কলমে যা পেয়েছি, সেটার তদন্ত করেছি। তদারকির কাজে কোনো অবহেলা করিনি।’

পুলিশের তদন্তে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মনিরুল এখন সৈকত পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে আছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম ৯ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা বড়ি বিক্রি করার কথা জানতেন। শুধু তা-ই নয়, এর আগে তিনি ৫০০ ইয়াবাসহ একটি ফ্রিজ জব্দ করেন এবং পরে তা বিক্রি করে দেন। একটি মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা একটি মাইক্রোবাস তিনি নিজে ব্যবহার করেন। তিনিই ১০ লাখ ইয়াবা নিয়ে অভিযোগ করা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে এসআই মাসুদ রানাকে তাঁর বাসায় পাঠান।



অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, এটা আসলে দুই দারোগার মধ্যে বিরোধের কারণে হয়েছে। একপক্ষ আরেক পক্ষকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ঘটনা যা নয়, তা-ই বলা হচ্ছে।

পরিদর্শক সুকেন্দ্র চন্দ্র সরকার বর্তমানে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি করিনি। যে করেছে, তার নামই আসেনি।’

উপপরিদর্শক জাবেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উদ্ধার করা ইয়াবা তিনি বিক্রি করেছেন। আর এসআই মাসুদ রানা অভিযোগকারী দারোগা বশির আহম্মাদের মুখ বন্ধ করতে তাঁর বাসায় ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন। এসআই কামাল হোসেন ভুল মামলা দায়েরে সহযোগিতা করেন। তিনিও ইয়াবা বিক্রির টাকার ভাগ পান।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এখন কক্সবাজার পিবিআইতে বদলি হয়েছেন। অন্য সব কর্মকর্তাও কক্সবাজার জেলাতেই কর্মরত আছেন।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি তাঁর দপ্তরে এসেছে। এতে যাঁদের নামে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে। মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাহার না করার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে-জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আগে সবাইকে প্রত্যাহার করা উচিত। তারপর তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ারও নজির আছে।



নিকোটিনমুক্ত ক্ষতিবিহীন হারবাল সিগারেট এখন বাংলাদেশে!

ধূমপানের আসক্তি খুব খারাপ একটি আসক্তি। বলা হয়ে থাকে এটিতে একবার যিনি আসক্ত হয়ে পড়েছেন তার জন্য এটি ছাড়া অত্যন্ত কষ্টকর। স্বাভাবিকভাবেই ধূমপান মানবদেহের নানা ধরনের ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই এটি কখনোই স্বাস্থ্যোপযোগী নয়। তবে কয়েকটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে হারবাল সিগারেট এই আসক্তি নিরসনে অত্যন্ত সহায়ক। আপনি যদি একজন ঘোর ধূমপায়ী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার নিত্যদিনের সিগারেটের পরিবর্তে এই হারবাল সিগারেট খেতে পারেন।

ধূমপায়ীরা সাধারণত দিনের বেশ কয়েকটি মুহূর্তে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এমনকি বিভিন্ন মানসিক চিন্তা এসে মাথায় ভর করলে এই সিগারেটে তার চাপ কিছুটা কমে বলে তাদের ধারণা। সাধারণ সিগারেটের মতোই এই হারবাল সিগারেটে কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থ থাকে। তবে এতে এগুলোর পরিমাণ কম থাকে। একজন ধূমপায়ী তার প্রতিদিনের সিগারেটের চাহিদা মেটাতে এই হারবাল সিগারেট খেতে পারেন যদি তিনি তার স্বাস্থ্যের উন্নতি চেয়ে থাকেন।




হারবাল সিগারেটের মূল বৈশিষ্ট্য হল এটি আসক্তি তৈরি করে না। এই সিগারেটে নিকোটিনের পরিমাণ থাকে শূণ্য শতাংশ। এর পরিবর্তে হারবাল সিগারেটে রয়েছে পুদিনা, দারুচিনি, গুল্মলতা, যষ্টিমধু বা লেমনগ্রাস ইত্যাদি হারবাল উপাদান। এতে কিছুটা ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থও রয়েছে তবে তা একেবারেই কম পরিমাণে যা স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতিই করে না। তথ্যসূত্র : healthdigezt.com



রাতভর বিয়ের নাটক করে আ’লীগ নেতাসহ ৫ জন মিলে বিধবাকে ধর্ষণ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বিয়ের কথা বলে এক বিধবাকে বাড়িতে ডেকে এনে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই নির্যাতিতা এক ইউপি সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মামলার আসামিরা হলেন শরীফপুরের জাকির হোসেন (৩০), আমির হোসেন (২৮), বাচ্চু মিয়া (৪০), শহিদুল হক (৩৬) ও লালপুর গ্রামের নাজির মিয়া (৩৮)। এর মধ্যে আমির হোসেন শরীফপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।




ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ গত ৯ জুলাই মামলাটি দায়ের করেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ওই নির্যাতিতা। পরে আদালতের নির্দেশে ১২ জুলাই মামলাটি আশুগঞ্জ থানায় রেকর্ড হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই নির্যাতিতার স্বামী গত ৮ বছর আগে মারা যান। দুই পুত্রসন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন তিনি। সেখানে থাকা অবস্থায় ১ বছর আগে তার মোবাইল ফোনে ভুল নম্বর থেকে একটি কল আসে। সেই কলের সূত্র ধরে আশুগঞ্জ শরীফপুর গ্রামের জাকির হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২ মাস আগে আশুগঞ্জে তাদের দেখাসাক্ষাৎ হয়। নির্যাতিতা আগে লেবানন ও সৌদি আরব ছিলেন এবং তার কাছে প্রচুর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে, তা জানতে পেরে জাকির নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর ওই নির্যাতিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি পার্লারে চাকরি নিয়ে বাসাভাড়া করে বসবাস করতে থাকেন।

গত ২ জুলাই দুপুরে জাকির নির্যাতিতার মোবাইল ফোনে কল করে বিয়ে করবে জানিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ তার বাড়িতে যেতে বলে। এ আশ্বাসে ওই নির্যাতিতা সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৩০ হাজার টাকা, ১টি স্যামসাং মোবাইল ফোন সেট, বিয়ের কাপড়চোপড় ও কসমেটিকস নিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় শরীফপুর গ্রামে জাকিরের বাড়িতে পৌঁছেন।

জাকির তার তালাবদ্ধ ঘর খুলে তাকে সেখানে বিশ্রাম নিতে বলে এবং রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কাজি এসে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করবে বলে জানায়।

এরপর রাত ১২টার দিকে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন (২৮), বাচ্চু মিয়া (৪০), শহিদুল হক মিমমা (৩৬) ও নাজির মিয়া (৩৮) এলে জাকির তাকে বিয়ে করবে না বলে জানায়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত ও মুখে গামছা বেঁধে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এর মধ্যে আমির হোসেন তাকে দুবার ধর্ষণ করেন।



পরে আসামিরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে সেখান থেকে বের করে দেয়। পরে গ্রামের মোহাম্মদ আলীর সহায়তায় নির্যাতিতা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

২০১৩ সালেও আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেনের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে ধর্ষণের মামলা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া জাকির হোসেন ২ মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সুপার মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করবে বলে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেয় বলেও অভিযোগ করেন ওই নির্যাতিতা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কিনা তা-ও দেখা হচ্ছে।

তবে মামলার বাদী ওই নির্যাতিতা বলেন, মামলার ১৫ দিন পর হলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় তিনি আতংকে আছেন এবং আসামিরা তাকে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী গণধর্ষণের কথা স্বীকার করে বলেন, খোঁজখবর নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।



মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে যেভাবে অপারেটর পরিবর্তন করবেন

আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে মোবাইল ফোনের নম্বর না বদলে অপারেটর পরিবর্তন বা এমএনপি সেবা চালুর নির্দেশ রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এই সুবিধাটি চালু হলে মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে মোবাইল ফোন অপারেটর পরিবর্তনের সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। ফলে গ্রাহক নিজের ব্যবহৃত নম্বরটি না বদলেও যে অপারেটরের সেবা পছন্দ হবে, সেই অপারেটরের সেবা নিতে পারবেন।

তবে এই সেবা চালুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক জানিয়েছে, ঠিক কবে এমএনপি সেবা চালু হবে তা তারা জানেন না। ইতোমধ্যে তারা সেবা চালুর জন্য শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই তারা এই সেবা দেয়া শুরু করবেন।




এমএনপি সেবা চালুর পর একজন গ্রাহক অন্য অপারেটরের সেবা নিতে চাইলে তাকে প্রথমে কাঙ্ক্ষিত অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে। সেখানে তাকে নতুন একটি সিম দেয়া হবে। তবে এর আগে অপারেটর গ্রাহকের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ (আঙুলের ছাপ) মিলিয়ে দেখা ছাড়াও পোস্টপেইড গ্রাহকের বিল বকেয়া না থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়ে নেবে।

এক্ষেত্রে প্রি-পেইড গ্রাহকের সিমে যদি কোনো ব্যালেন্স (টাকা) থাকে বা ইন্টারনেট প্যাকেজ থাকে তাহলে সেই টাকা বা ইন্টারনেটের কী হবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রতিবার অপারেটর বদলের জন্য গ্রাহককে ৩০ টাকা ফি দিতে হবে। ফি দেয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সিমটি চালু হবে আর পুরনো সিমটি বাতিল হবে। তবে নম্বর একই থাকবে।

পরবর্তীতে আবার অপারেটর বদলের জন্য গ্রাহককে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। ৯০ দিন পরে গ্রাহক অন্য অপারেটরে যেতে চাইলে সে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন সিম নিতে পারবেন।

গত ৩১ মের মধ্যে এমএনপি সেবা চালুর কথা থাকলেও তা হয়নি। এবার প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এমএনপি সেবা চালুর ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছেন।