রাকুল প্রীত সিং সম্পর্কে অজানা তথ্য (Interesting info about Rakul Preet Singh)

রাকুল প্রীত সিং-কে বেশিরভাগ লোক হয়তো ‘ইয়ারিয়া’ ছবির মাধ্যমে চিনেন। এটি বলিউড ছবি এবং ২০১৪ সালে মুক্তি পায়। ছবিটির ‘এ ফর আও রে আও’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। শোনা যায়, ২০‌‌১৪ সালের নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের সব পার্টিতে এই গানটিই বেশিরভাগ সময় বাজানো হয়েছে। ছবিটির শুরুতে রাকুলকে চশমাওয়ালনি একজন ‘গিক’ বা অাঁতেল হিসেবে দেখা গেলেও পরবর্তীতে তাঁর গ্ল্যামারাস লুক সবার নজর কাঁড়ে। হিমাংশ কোহলির সাথে তাঁর রোমান্টিক গান ‘বারিশ’ সবার ভালো লেগেছে। রাকুলের লম্বা স্লিম ফিগার আর অতুলনীয় চেহারা দেখার মতো বটে। তবে অভিনয় দক্ষতায় হয়তো সামান্য পিছিয়ে আছেন তিনি, তাই আলিয়া ভাট আর পারীনিতি চোপড়াদের মতো আলোচনায় খুব একটা আসতেন পারছেন না।
এর পেছনে অন্য একটি কারণও অবশ্য আছে, আর তা হলো ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড। আলিয়া যেমন তাঁর বিখ্যাত পিতা মহেশ ভাট এবং পারীনিতি তাঁর কাজিন সিস্টার প্রিয়াংকার প্রভাব কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন, রাকুলের তেমন কেউ নেই; আজ পর্যন্ত যা করেছেন সবটাই তাঁর নিজের প্রতিভার জোরে। যাই হোক, যে রাকুলকে নিয়ে আজকের এই আর্টিক্যাল তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে শুরু করা যাক গঠনমূলক আলোচনা।




প্রিয়াংকা চোপড়া আর আনুশকা শর্মার মতো রাকুলের পিতাও ইন্ডিয়ান আর্মির অফিসার ছিলেন। আর তাই সেনা পিতার ন্যায় রাকুলের উচ্চতাও ব্যাপক, প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। তিনি ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন, সে হিসেবে তিনি তুলা রাশির জাতিকা এবং বয়স প্রায় ২৮ বছর। তবে বর্তমানে তাঁর বাড়ি তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে। তিনি গণিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন। উক্ত ডিগ্রী লাভের জন্য তিনি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ‘জিউজেস এন্ড মেরি কলেজ’-এ অধ্যয়ন করেন। তিনি পেশায় মূলতঃ একজন অভিনেত্রী এবং মডেল। তিনি ২০০৯ সালে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। নামের শেষে ‘সিং’ থাকায় নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন তিনি একটি ‘পাঞ্জাবী’ পরিবারের সদস্য। রাকুল ঢাউলা কুয়ানে অবস্থিত ‘আর্মি পাবলিক স্কুল’-এ পড়াশুনা করেছিলেন।
রাকুল মূলতঃ তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। [আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, তেলেগু হলো ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা রাজ্যের মাতৃভাষা। রাজ্য দু’টি পাশাপাশি অবস্থিত, আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে তেলেঙ্গানা আগে অন্ধ্রপ্রদেশের অংশ ছিল।] তবে তিনি বেশ কয়েকটি তামিল, হিন্দী এবং কান্নাডা ছবিতেও অভিনয় করেছেন। বর্তমানে তিনি তেলেঙ্গানা রাজ্যের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রোগ্রামের অ্যাম্বাস্যাডর বা শুভেচ্ছাদূত। এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হলো কন্যা সন্তানের প্রতি পিতামাতার দরদ ও সচেতনতা বাড়ানো।



রাকুল প্রীত সিং জানিয়েছেন, তিনি নাকি সর্বদাই একজন অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র ১৮ বছর, অর্থাৎ যখন তিনি কলেজে পড়েন, তখনই মডেলিং-এর মাধ্যমে তিনি ক্যারিয়ার জীবনের সূচনা করেন। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কান্নাডা ছবি ‘গিল্লি’র মাধ্যমে তিনি অভিনয়ে অভিষেক করেন। এ ছবিতে তাঁর অভিনয়ের উদ্দেশ্য ছিল ‘কিছুটা অতিরিক্ত পকেট মানি’ জোগাড় করা, তাঁর প্রকৃতপক্ষে কোনো ধারণাই ছিল না, দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি কত বড় আর কত ‘বিগ বাজেট’ নিয়ে কাজ করে!

প্রিয়াংকা চোপড়া সম্পর্কে অজানা তথ্য (Interesting info about Priyanka Chopra)

প্রিয়াংকা চোপড়া ১৯৮২ সালের ১৮ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন, সে হিসেবে তাঁর বয়স হওয়ার কথা ৩৬ বছর। তিনি একজন ভারতীয় অভিনেত্রী, গায়িকা, চলচ্চিত্র প্রযোজক, মানবসেবী এবং ২০০০ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বিজয়ী। ২০০০ সালের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় আরেক ভারতীয় সুন্দরী চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেনঃ তিনি হলেন লারা দত্ত। কিন্তু কজন লারাকে মনে রেখেছে? এর কারণ হলো বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার পর লারা তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেন নি; তবে প্রিয়াংকা ঠিকই পেরেছেন। আর তাই তিনি বহু পদের পুরষ্কার পেয়েছেন আজ পর্যন্ত। অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার এবংপাঁচটি ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ২০১৬ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরষ্কার দেয়, যা ভারতের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য চতুর্থ সম্মানজনক পুরষ্কার। ২০১৬ সালের টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়। আর ২০১৭ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় স্থান দেয়।
এত সাফল্য যাঁর পকেটে তাঁর ছেলেবেলাটাও বেশ সাফল্যের ছিল – এমনটা ধরে নিতে চাইবেন নিশ্চয়ই। তবে না, ছেলেবেলাটা খুব সুখকর ছিল না প্রিয়াংকারঃ বিশেষ করে আমেরিকায় যখন পড়াশুনা করতেন তখনকার সময়টা। সে সময় তিনি তাঁর খালার সাথে থাকতেন। তাঁকে তাঁর সহপাঠীদের অনেকে গায়ের রং নিয়ে উপহাস করতো (‘ব্রাউনি’ বলে ডাকতো), কারণ তাদের মতো ফর্সা রং ছিল না প্রিয়াংকার। এমনকি তাঁর পায়ে যে ছোপছোপ সাদা দাগ ছিল, সেটা নিয়ে একজন নিগ্রো মেয়ে তাঁকে উপহাস করেছিল। আজ প্রিয়াংকা অহংকার করে বলেন, “আমার সেই পায়ের মডেলিং-এর উপর নির্ভর করে আজ ১২টা ব্র্যান্ড চলে।” প্রিয়াংকার পরিবারের সবচেয়ে পজেটিভ দিক হলোঃ তাঁর বাবা-মা দু’জনেই ভারতীয় আর্মিতে ডাক্তার ছিলেন। চাকুরির সুবাদে তাঁদের পরিবারকে ভারতের বহুরাজ্যের বহু নগরীতে বাস করতে হয়েছে, যেটা প্রিয়াংকা প্রকারান্তরে উপভোগই করেছেন – তাঁর ভাষ্যমতে।




এবার তাঁর পরিবার ও ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে আরো কিছু বলা যাক। প্রিয়াংকা বিহার রাজ্যের জামশেদপুরে জন্মগ্রহণ করেন, যা বর্তমানে ঝাড়খন্ড রাজ্যের মধ্যে পড়েছে। তাঁর পিতা অশোক চোপড়ার আদিনিবাস পাঞ্জাব রাজ্যের আম্বালায়। তাঁর মাতার নাম মধু চোপড়া এবং নানীর নাম মধু জোৎস্না আখৌরি, যিনি বিহার সংসদের সদস্য ছিলেন। প্রিয়াংকার নানা ড. মনোহর কিষান আখৌরি ছিলেন কংগ্রেসের একজন জনপ্রিয় প্রাক্তন নেতা। প্রিয়াংকার একজন ভাই রয়েছে, যিনি তাঁর চেয়ে ৭ বছরের ছোট। বলিউডের অভিনেত্রী পারিনীতি চোপড়া, মীরা চোপড়া এবং মান্নারা চোপড়া তাঁর কাজিন সিস্টার অর্থাৎ চাচাতো বোন হয়।
বর্তমানের সুন্দরী ও সাবলীল চেহারা অর্জনের জন্য প্রিয়াংকাকে বহুবার ছুরি-কাঁচির নিচে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়েছে। তাঁর সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় প্লাস্টিক সার্জারিটি হলো নাকের। বিশ্বাস না হলে প্রিয়াংকার ক্যারিয়ারের প্রথমদিকের ছবিগুলো গুগল থেকে দেখে নিয়েন। এর মধ্যে রয়েছে ২০০০ সালে তাঁর মাথায় যখন বিশ্বসুন্দরীর মুকুট পরানো হয় তখনকার ছবি এবং সঞ্জয় দত্তের বিপরীতে ‘প্ল্যান’ ছবি।
প্রিয়াংকার রোমান্স জীবন নিয়ে খুব বেশি কিছু জানা যায় নি। সহঅভিনেতাদের সাথে সামান্য প্রেম করে থাকতে পারেন, তবে সেটা ঘোষণা দেবার মতো কিছু নয়। কারিনার সাথে যেমন শহিদ কাপুরের মাখামাখি, রণবীর কাপুরের সাথে ক্যাটরিনা কাইফের লিভ টুগেদার, দীপিকার সাথে রণবীর সিং-এর দহরম মহরম – এর কোনোটিই ঘটে নি প্রিয়াংকার বেলায়। তবে শাহরুখের বিপরীতে ‘ডন’ ছবির শ্যূটিং-এর সময় দু’জনের কেমিস্ট্রি টা নাকি ‘একটু বেশি রকম’ জমে গিয়েছিল। আড়ালে-আবডালে শোনা যায়, প্রিয়াংকার কারণে নাকি শাহরুখের বহুদিনের সংসার ভেস্তে যেতে বসেছিল; তবে যাক, সে যাত্রায় রেহাই পায় গৌরি। বর্তমানে প্রিয়াংকা হলিউডের নিক জোনাসের সাথে এনগেজ্ড আছেন, শীঘ্রই তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, নিক প্রিয়াংকার চেয়ে প্রায় ১০ বছরের ছোট।




বলিউডের কথা যখন আসলোই, তখন আরো কিছু বলে নেয়া যাক। হলিউডে প্রিয়াংকা তিন-চারটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, এর মধ্যে একটি বিখ্যাত রেসলার রক-এর বিপরীতে। এছাড়া তিনি ‘পিটবুল’-এর ফিচারে ‘এক্সোটিক’ নামের একটি গান গেয়েছেন এবং গানটিতে মডেল হিসেবে উক্ত জগদ্বিখ্যাত র্যাপারের সাথে নেচেছেন এবং অভিনয়ও করেছেন। সত্যি, প্রিয়াংকা চোপড়া এমেজিং!
এবার প্রিয়াংকার বাংলাদেশ সফরের কথা বলা যাক। ইউনিসেফ-এর সাথে প্রিয়াংকা বহুদিন ধরে কাজ করছেন, তিনি সংস্থাটির একজন অ্যাম্বাস্যাডর বা শুভেচ্ছাদূত (মনে রাখতে হবে, প্রিয়াংকা একজন ফিলানথ্রপিস্ট বা মানবসেবী)। কয়েকমাস আগে তিনি বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু কিছু অভদ্র পুরুষ তাঁকে খানিকটা জড়িয়ে ধরে সেলফি তোলে, এতে ঐ মুহূর্তে স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করলেও পরবর্তীতে বিশাল রকম ক্ষেপে যান তিনি। এই ঘটনার পর তিনি তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করেন এবং পুনরায় ক্যাম্প সফরের সময় বিভিন্ন প্রকার ধরা-বাঁধা নিয়ম বেঁধে দেন।

দীপিকা পাড়ুকোন সম্পর্কে অজানা তথ্য (Interesting info about Deepika Padukone)

বলিউডে শান্ত-শিষ্ট, ভদ্র ও লক্ষী ইমেজের দীপিকা পাড়ুকোনকে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। তিনি ১৯৮৬ সালের ৫ই জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। গত কয়েক বছর জুড়ে দীপিকা শাসন করেছেন বলিউডকে, এক নম্বর ও সবচেয়ে চাহিদাযোগ্য নায়িকা হিসেবে। তবে সম্প্রতি দীপিকার বাজারদর সামান্য পড়ে গেছে বলে অনুমিত হয়, বিশেষ করে রণবীর সিং-এর সাথে তাঁর ভুল বুঝাবুঝি ও সম্পর্ক অবনতির পর।
বেশ কয়েক বছর লিভ টুগেদার করার পর রণবীর দীপিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, যা এই নায়িকা ফিরিয়ে দেন। কারণটা অনুধাবন করা খুব সহজ, বিয়ের পর নায়িকাদের চাহিদা ব্যাপকহারে কমে যায়। আর এতে এটাই স্পষ্ট যে, দীপিকা আরো বেশ কয়েক বছর বলিউডে পুরোদমে অভিনয় করতে চান। রণবীর সিং-এর সাথে তাঁর পুরোপুরি ছাড়াছাড়ি হয় নি। এখনো প্রায়ই দু’জনকে এক সাথে বিভিন্ন জায়গায়, পার্টিতে দেখা যায়। এর মানে হলো, তাঁদের দু’জনার মাঝে প্রেমের সম্পর্ক এখনো টিকে আছে।


যাই হোক, অভিনয়ের জন্য দীপিকা বেশ কয়েকটি পুরষ্কার পেয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। ‘টাইম’ ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় রেখেছে ২০১৮ সালে। দীপিকার জন্ম হয়েছিল ডেনমার্কের রাজধানী কেপেনহেগেন এবং তিনি কর্ণাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালুরুতে বড় হয়েছেন। কিশোরী বয়সে তিনি ভারতের জাতীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন, তবে পরবর্তীতে ফ্যাশন মডেল হওয়ার জন্য এই খেলা ছেড়ে দেন। কিছুদিনের মধ্যে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অফার পান এবং ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কান্নাডা ছবি ‘ঐশ্বরিয়া’-তে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে এই পেশায় অভিষেক করেন।
দীপিকা বলিউডে অভিনয়ে অভিষেক করেন শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ওম শান্তি ওম’ ছবির মাধ্যমে, যা ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার জিতে নেন। তাঁর অভিনীত ছবির বিষয়ে পরে আবার আসব। এবার বলে নিই তাঁর ব্যক্তিগত আরো কিছু তথ্য। দীপিকার মায়ের নাম উজ্জলা, তিনি ট্রাভেল এজেন্ট ছিলেন। নায়িকার ছোট বোন আনিশা একজন গলফ খেলোয়াড়। দীপিকার দাদার নাম রমেশ, তিনি মহিশূর ব্যাডমিন্টন এসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাড়ুকোনের বয়স যখন মাত্র ১ বছর, তখন তাঁর পরিবার ব্যাঙ্গালুরুতে বসতি গাড়ে। উক্ত মহানগরীর সোফিয়া হাই স্কুল এবং মাউন্ট কারমেল কলেজে অধ্যয়নের পর ‘ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে’ সমাজবিজ্ঞানে বি.এ. ডিগ্রী অর্জনের জন্য ভর্তি হন। কিন্তু পরে এই পড়াশুনা বাদ দেন তাঁর মডেলিং শিডিউলের সাথে সমস্যা হচ্ছিল বলে।



দীপিকা স্বীকার করেছেন যে, ছেলেবেলায় সামাজিকভাবে খুব একটা মিশুক ছিলেন না তিনি এবং তাঁর হাতেগোণা কয়েকজন মাত্র বন্ধু ছিল। সে সময় তাঁর ধ্যানজ্ঞান সবই ছিল ব্যাডমিন্টন, খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি খেলাটি সিরিয়াসলি খেলা শুরু করেন। ২০১২ সালে নেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমি ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠতাম, এরপর ব্যায়াম করতে যেতাম, তারপর স্কুলে যেতাম। স্কুল থেকে ফিরে ব্যাডমিন্টন খেলতে যেতাম, তারপর স্কুলের হোমওয়ার্ক করে ঘুমোতে যেতাম।”
এবার পাড়ুকোনের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার সম্পর্কে আরো কিছু বলা যাক। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লাভ আজকাল’ এবং ২০১০ সালের ‘লাফাঙ্গে পারিন্দে’-এ ছবিদ্বয়ে দীপিকার অভিনয় প্রশংসিত হয়, কিন্তু ২০০৮ সালের ‘বাচনা এও হাসিনো’ এবং ২০১০ সালের ‘হাউজফুল’ ছবিদ্বয়ে তাঁর অভিনয় নিন্দিত হয়। বলিউডে তাঁর অপর ব্যবসাসফল ছবিগুলো হলো ‘ককটেল’, ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবত’ এবং ‘পিকু’। এছাড়া হলিউডে তিনি ভিন ডিজেলের বিপরীতে ‘ট্রিপল এক্সঃ রিটার্ন অফ জেন্ডার কেইজ’ নামক ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি মুক্তি পায় ২০১৭ সালে এবং বেশ ব্যবসা করে।

আলিয়া ভাট সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানতেন কি? (Did you know these info about Alia Bhatt?)

আলিয়া ভাট ১৯৯৩ সালে ১৫ই মার্চ মুম্বাই নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন অর্থাৎ বর্তমানে তাঁর বয়স ২৫ বছর। জন্মসূত্রে তিনি ভারতের নাগরিক হলেও বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ সিটিজেন। তিনি অভিনয় এবং গান দুটোই করেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর জন্য তিনি দুটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কার ঝুলিতে ভরেছেন। বলিউডে বর্তমানে যে সকল অভিনেত্রী সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পান, আলিয়া তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা মহেশ ভাট এবং প্রাক্তন অভিনেত্রী সোনি রাজদানের কন্যা। অনেকের ধারণা হবে, তিনি বোধ হয় ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, তাঁর অভিষেক ঘটে অনেক আগেই, ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সংঘর্ষ’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটিতে তিনি প্রীতি জিন্টার শিশুকালের চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে প্রাপ্তবয়ষ্ক চরিত্রে আলিয়ার প্রথম অভিনয় ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ ছবিটিতেই।





এই ছবিটির নির্মাতা করণ জোহার। আলিয়া পরবর্তীতে জোহারের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে একের পর এক অভিনয় করতে থাকেন। ছবিগুলো হলো ‘টু স্টেট্স্’ (২০১৪), ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’ (২০১৪), ‘বদরি কি দুলহানিয়া’ (২০১৭), ‘কাপুর এন্ড সন্স’ (২০১৬) এবং ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ (২০১৬)। শেষোক্ত ছবিটিতে আলিয়া শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত প্রায় প্রতিটি ছবিই তুমুল ব্যবসা করে।
২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাইওয়ে’ ছবিতে ভাটের অভিনয় বেশ প্রশংসা কুঁড়ায় এবং এর জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার সমালোচক পুরষ্কারও লাভ করেন। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উড়তা পাঞ্জাব’ ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরষ্কার এনে দেয়।

আলিয়ার পরিবার-স্বজন

আলিয়া ভাটের পিতা মহেশ ভাট গুজরাট থেকে এসেছেন এবং তাঁর মা সোনি রাজদানির রক্তে জার্মান ও কাশ্মিরি মিশ্রণ রয়েছে। এর মানে হলো, আলিয়ার নানার বাড়ি পাঞ্জাবে এবং নানীর বাড়ি জার্মানীতে। চলচ্চিত্র পরিচালক নানাভাই ভাট আলিয়ার দাদা হন। আলিয়ার আপন বড় বোনের নাম শাহিন এবং তিনি আলিয়া থেকে ৫ বছরের বড়। তাঁর দুইজন সৎ ভাই-বোন রয়েছে, তাঁদের নাম হলো পূজা ভাট এবং রাহুল ভাট। বলিউডের রোমান্টিক অভিনেতা এমরান হাশমি এবং পরিচালক মোহাত সুরি মায়ের দিক থেকে আলিয়ার কাজিন হন।



আলিয়া ভাটের প্রেমজীবন এবং সহজ-সরল স্বীকারোক্তি

স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার ছবিতে আলিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং বরুণ ধাওয়ান। এ ছবির পর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সাথে এই দুই তরুণ অভিনেতার প্রেমের গুজব শোনা যায়। বিশেষ করে বরুণের সাথে আলিয়ার ঘনিষ্ঠতা এবং মাখামাখি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভাট কিছুদিন রণবীর কাপুরের সাথে প্রেম করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি রণবীরকে তিনি বিয়ে করতে চান, এমন কথাও সরাসরি বলেছেন আলিয়া।
উক্ত ছবিতে আলিয়া যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার সাথে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ছবিতে কারিনা কাপুরের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। শুধু পার্থক্য হলো এই যে, কারিনা তাঁর ছবিতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গির চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেটা আলিয়া তাঁর ছবিতে করেন নি; বরং তাঁর ছবিতে তাঁকে বেশ ‘আত্মবিশ্বাসী’ অভিনয় করতে দেখা গেছে।
আলিয়া অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাঁর আইডল হলেন কারিনা। ভাট আরো বেশ কিছু স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, সেগুলোর কয়েকটি তাঁকে বিতর্কিত করেছে। যেমনঃ তিনি বলেছেন, ক্লাস সিক্স বা গ্রেড সিক্স-এ থাকতে তিনি প্রথম সেক্স করেছেন। এধরনের কথা বলার উদ্দেশ্য খুব সম্ভবতঃ সস্তা পাবলিসিটি এবং অ্যাটেনশন পাওয়া।

নায়লা নাঈম সম্পর্কে অজানা তথ্য (Interesting info about Naila Nayeem)

নায়লা নাঈম বরিশালের মেয়ে। তিনি স্বল্প পোশাক-আশাকে নিজেকে যতটা ইয়াং দেখাতে চান, ততটা কমবয়সী নন। কমপক্ষে ৩৬ বছর বয়ষ্ক তিনি, কারণ তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। নায়লার উচ্চতা ১.৬৫ মিটার, অর্থাৎ ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। পড়াশুনার দিক থেকে একজন ডেন্টিস্ট হলেও ঐ পেশায় খুব কমই সংশ্লিষ্ট তিনি। ডেন্টাল সার্ভিসের চেয়ে মডেলিং এবং অভিনয়েই বেশি আগ্রহ বাংলাদেশি এই সেক্স সেনসেশনের। তিনি যখন প্রথম নিজের বেশ কিছু অর্ধনগ্ন ছবি পাবলিশ করেন, তখন সবাই তাঁকে ‘বাংলাদেশের সানি লিওন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। নিজের সেই অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে নিজেকে একজন ডেন্টাল প্রফেশনাল হিসেবে উপস্থাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নায়লা নাঈম তখন। এগুলো নায়লার কোনো বদনাম নয়, এগুলো হলো ফ্যাক্ট বা সত্য ঘটনা।
অভিনয় ও মডেলিং ক্যারিয়ারে উত্থানের জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়া যেমনঃ ফেসবুক ব্যবহার করেন। অবশ্য তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি নাকি কখনোই ফেসবুক ব্যবহারের কথা ভাবেন নি। সত্যি কথা হলো, ফ্যানদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তথা নিজের প্রতি মিডিয়ার ফোকাস ধরে রাখতে প্রায়শই তিনি সংক্ষিপ্ত ও যৌন উত্তেজক পোশাক পরে নিজের ছবি বা সেলফি তোলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড দেন।




যাক, এবার তাহলে নায়লার সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক তথ্য দেয়া যাক। তিনি বরিশালেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন, ঢাকা সিটি ডেন্টাল কলেজ নামক একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি বিডিএস (ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রী অর্জন করেন। মডেলিংএর পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে কাজ করেন। ‘রান আউট’ নামক একটি ছবিতে কাজ করার মধ্যদিয়ে তিনি তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের সূচনা করেন। নায়লা ২০১৩ সালে ‘ঘাট বাবু নিতাই চন্দ্র’ নামক একটি নাটকে অভিনয় করেন, যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘ঘাট বাবু’র উপর ভিত্তি করে রচিত। ‘মাস্তি আনলিমিটেড’ নামে আরেকটি টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া পরবর্তীতে একটি আইটেম গানেও কাজ করেন নায়লা। ‘মারুফ টাকা ধরে না’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি চুক্তিবদ্ধ আছেন, ছবিটি সামনে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ‘রাত্রির যাত্রী’ নামক অপর একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। নায়লার মিউজিক ভিডিওগুলো হলো ‘ভোট ফর ঠোট’ (প্রিতম আহমেদ-এর সাথে), ‘সিটি ওভার নাইট’, ‘বন্ধু তুমি জানো না কত ভালোবাসি তোমাকে’ (তাপসের সাথে), ‘জান ও বেবি’ (সালমান মুক্তাদির-এর সাথে)।
নায়লা নাঈমকে ‘ফুডপান্ডা’র ক্যাম্পেইন ইমেজ হওয়ার জন্য রিক্রুট করা হয়েছিল। এছাড়া ‘পান্ডা’ অ্যান্টিভাইরাসের মডেল তথা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। একদিন তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড দেন, সেখানে দেখা যায়, তাঁর কম্পিউটারটি ভাইরাস কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ায় সব ফাইল মুছে গেছে, তিনি জোরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন এবং দর্শকদের কাছে একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাসের নাম জানতে চান সাজেশন হিসেবে। পরবর্তীতে আরেকটি ভিডিও আপলোড দেন, যেখানে তাঁকে হাসিমুখে দেখা যায়; তিনি বলতে থাকেন, অবশেষে একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন যার নাম হলো ‘পান্ডা’ এবং সবাইকে এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। আসলে পুরো ব্যাপারটিই তাঁর সাজানো নাটক, নিছক একটি বিজ্ঞাপন আর কি!
যাই হোক, তিনি ‘রান আউট’ ছবিতে একটি আইটেম গানে পারফর্ম করেন। গ্রামীণফোন কর্তৃক আয়োজিত ‘অনন্ত জলিল’ নামক একটি অনুষ্ঠানে তিনি পারফর্ম করেন। ২০১৫ সালে এলজি ইলেকট্রনিক্সের জন্য নায়লা একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন যেটির নাম ছিল ‘বাঘের বাচ্চা ডিজিটাল’, বিজ্ঞাপনটি পুরষ্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে বিতর্কিত ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের সাথে আরেকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন, সেটি একটি নন-অ্যালকোহলিক মল্ট বেভারেজের জন্য। বিজ্ঞাপনটি অবশ্য পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। নায়লা সিএমভি কর্তৃক প্রযোজিত ও প্রকাশিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য লিস্ট’-এ অভিনয় করেন। ‘র্যাম্প মডেল’ হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন নায়লা নাঈম।
যেমনটি আগে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, নায়লা নাঈম যথেষ্ট বিতর্কিত জীবনযাপন করেন। ক্রিকেটার সাব্বির রহমানের এক সময়কার ড্রাইভারের ভাষ্যমতে, নায়লা সাব্বিরের বাড়িতে একটি রাত্রিও যাপন করেছেন। যেহেতু নায়লা এখন অবিবাহিতা (ডিভোর্সী), তাই যেকোনো পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাঁর। এ বিষয়টিকে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের উত্থানের জন্য ব্যবহার করেন কিনা, কিংবা এর মাধ্যমে তিনি কোনো আর্থিক সুযোগসুবিধা নেন কিনা, সেটাই তাঁর ফ্যানদের চিন্তা ও আগ্রহের বিষয়। নায়লার এক সময়কার স্বামী তৌসিফ হোসেইন তুষার প্রথমে গান-বাজনা করলেও বিবাহ-বিচ্ছেদের পর এক পর্যায়ে ইসলামী জ্ঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় ‘ইসলামিক স্টেট’-এ যোগদান করেন।





কয়েক বছর আগে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তুষারকে ভাষ্য প্রদান করতে দেখা গেছে, তিনি ঐ ভিডিও’র মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলিম যুবসমাজকে আইএস-এ যোগদানে আহ্বান জানান এবং তাঁর আইএস-এ যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করেন। নায়লা একদিকে ‘উগ্র আধুনিকতা’য় ঝুঁকে পড়ছেন এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী জড়িয়ে পড়েছেন জঙ্গিবাদে! এখানে ঐ বিখ্যাত গানের কথা মনে পড়ে, ‘আজ দু’জনার দুটি পথ ওগো দু’টি দিকে গেছে বেঁকে’।
এবার নায়লা নাঈম সম্পর্কে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া যাক। দেহষৌষ্ঠবের দিক থেকে তিনি খুবই সুন্দর, একজন আদর্শ ‘স্লিম নারী’ বলা যেতে পারে তাঁকে, বাংলাদেশীদের মধ্যে যা খুবই ‘রেয়ার’ বা দুর্লভ। উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি হলেও ওজন মাত্র ৫০ কেজি’র কাছাকাছি। ২০০৩ সাল হতে নায়লা তাঁর কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন, অর্থাৎ ২০০৩ সালের মধ্যে তিনি পড়াশুনা শেষ করে অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগ দেন। নায়লার গায়ের রং ফর্সা, তাঁর চুল ও চোখের রং কালো। এক সময় বিবাহিত জীবনযাপন করলেও তাঁর কোনো সন্তানাদি নেই। তিনি ‘বেস্ট স্টাইল আইকন ২০১৭’ পুরষ্কারটি অর্জন করেন।

তামান্না ভাটিয়া সম্পর্কে অজানা তথ্য (Interesting info about Tamannah Bhatia)

তামান্না ভাটিয়াকে সবাই সিম্পলি তামান্না হিসেবে চিনে। তিনি একজন ভারতীয় অভিনেত্রী। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৯ সালের ২১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ২৮ বছর। তাঁর জন্মস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের মুম্বাই নগরীতে। এখানেই তাঁর বাসস্থল, অর্থাৎ বেশিরভাগ সময় তিনি মুম্বাইতেই বসবাস করেন। তামান্না মূলতঃ তামিল এবং তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, তবে বেশ কয়েকটি হিন্দী ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রায়ই স্টেজ শো’তে পারফর্ম করেন তিনি এবং বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড ও প্রোডাক্টের মডেলও হয়েছেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে একটি বলিউড চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিনয়ের অভিষেক ঘটে তামান্নাহ’র। ছবিটির নাম ‘চান্দসা রোশান চেহরা’। সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ান আইডল অভিজিৎ সাওয়ান্তের অ্যালবাম ‘আপকা অভিজিৎ’-এর ‘লাভজো মে’ গানটিতে মডেল হিসেবে অভিনয় করেন তামান্না, গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। উক্ত অ্যালবামটি প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। একই বছর ‘শ্রি’ নামক একটি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ভাটিয়ার। পরবর্তী বছর তামান্না তাঁর প্রথম তামিল ছবি ‘কেডি’-তে অভিনয় করেন। ২০০৭ সালে কলেজ জীবন কেন্দ্রিক দু’টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনিঃ এর মধ্যে একটি হলো তেলেগু ভাষার ‘হ্যাপি ডেইজ’ এবং অপরটি হলো তামিল ভাষার ‘কালূরি’।





তামান্নার ব্যবসাসফল তামিল ছবিগুলো হলো ‘অয়ন’ (২০০৯), ‘পাইয়া’ (২০১০), ‘সিরুথাই’ (২০১১), ‘ভীরাম’ (২০১৪), ‘ধর্ম দুরাই’ (২০১৬), ‘দেবি’ (২০১৬), ‘স্কেচ’ (২০১৮) এবং ব্যবসাসফল তেলেগু ছবি হলো ‘১০০% লাভ’ (২০১১)। অন্যান্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘রাচা’ (২০১২), ‘থারাকা’ (২০১৩), ‘বাহুবলীঃ দ্য বিগিনিং’ (২০১৫), ‘বেঙ্গল টাইগার’ (২০১৫), ‘উপিরি’ (২০১৬) এবং ‘বাহুবলীঃ দ্য কনক্লুশন’ (২০১৭)। এভাবে তিনি নিজেকে তামিল এবং তেলেগু চলচ্চিত্রে একজন উঠতি মেধাবী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া একজন অভিনেত্রী তিনি। হিন্দী, তামিল ও তেলেগু -এ তিনটি ভাষা মিলে মোট ৬০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
ভারত থেকে তিনিই সর্বপ্রথম সর্বোত্তম সহকারী অভিনেত্রী (বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্ট্রেস) হিসেবে ‘স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। তিনি ২০১৭ সালে ‘দাওয়াতি মোদি’ পুরষ্কারটিও অর্জন করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ার কেইসি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিআইএসি হতে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।
এবার তামান্নার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরো কিছু বলা যাক। তাঁর পিতার নাম সন্তোষ ভাটিয়া এবং মাতার নাম রজনী ভাটিয়া। ‘আনন্দ’ নামে তাঁর একজন বড়ভাই রয়েছেন। তাঁর পিতা একজন হীরক ব্যবসায়ী। তামান্না সিন্ধী বংশোভূত। তিনি মুম্বাইয়ের ম্যানেকজি কুপার এডুকেশন ট্রাস্ট স্কুলে পড়াশুনা করেন। ‘নুমেরোলজি’ নামের এক ধরনের বিশ্বাসে প্রভাবিত হয়ে কর্মজীবনে সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে তামান্নাহ তাঁর প্রকৃত নাম সামান্য পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ধারণ করেন।




মূলতঃ মাত্র ১৩ বছর বয়স হতেই তিনি শিল্পজগতে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রতিভা সর্বপ্রথমে আবিষ্কৃত হয় তাঁর বিদ্যালয়ের বার্ষিক দিনের অনুষ্ঠানে (অ্যানুয়াল ডে ফাংশন)। সেখানে তাঁকে একটি নাটকে শীর্ষচরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। সেটা তিনি লুফে নেন এবং মুম্বাইয়ের পৃথবি থিয়েটারের অংশ হয়ে যান এক বছরের জন্য।

বিপাশা হায়াত’র অজানা তথ্য (Interesting info about Bipasha Hayat)

বিপাশা হায়াত যদিও বহুদিন ধরে অভিনয় করছেন না, তবু তিনি একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত। তিনি ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ অর্থাৎ ‘কালোরাত্রি’র মাত্র তিনদিন আগে জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসেবে বর্তমানে তাঁর বয়স ৪৭ বছর। তাঁর পিতা আবুল হায়াত একজন অভিনয়শিল্পী ও বিজ্ঞাপন মডেল হিসেবে কাজ করেন। আবুল হায়াত বুয়েট থেকে পাশ করা একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। বিপাশার স্বামী তৌকির আহমেদও বুয়েট থেকে পাশ করা, তবে তিনি একজন আর্কিটেক্ট।
বিপাশা নিজেও উচ্চশিক্ষিত, তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট হতে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি আগে অভিনয় ও মডেলিং করলেও বর্তমানে ছবি আঁকা ও চিত্রনাট্য লেখা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এছাড়া তিনি তৌকিরের সংসারও সামলান। এই দম্পতির দু’টি সন্তান রয়েছেঃ বড়টি মেয়ে, নাম আরিশা আহমেদ; ছোটটি ছেলে, নাম আরিব তৌকির আহমেদ। বিপাশার এক বোন রয়েছে, নাম নাতাশা হায়াত। নাতাশা বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রীধারী, তিনি ব্রিটেনে কর্পোরেট জব করেন বলে জানা যায়। অভিনেতা শামীম শাহেদ নাতাশার জামাই।





বিপাশা অভিনয়শিল্পী হিসেবে ১৯৯৮, ১৯৯৯ এবং ২০০২ সালে মেরিল-প্রথম আলো পুরষ্কার অর্জন করেন। তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পান ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ছবিটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতীম কথাশিল্পী মরহুম হুমায়ূন আহমেদ। ছবিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত। মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত আরেক ছবি ‘জয়যাত্রা’-তেও অভিনয় করেন বিপাশা। ‘আগুনের পরশমণি’-তে যুবতী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করলেও ‘জয়যাত্রা’-তে তাঁর অভিনয় মধ্যবয়ষ্কা এক নারীর চরিত্রে।
জয়নুল গ্যালারি, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ডিভাইন আর্ট গ্যালারীসহ দেশে-বিদেশে বহুস্থানে বিপাশার আঁকা ছবিগুলোর প্রদর্শনী হয়েছে। ২০০৮ সালে বিপাশা ও তাঁর বোন নাতাশা মিলে একটি বুটিকশপ খোলেন। স্বামী তৌকিরের সাথে তাঁর প্রথম দেখা ১৯৯৩ সালের বিটিভি ধারাবাহিক ‘রূপনগর’-এ অভিনয় করতে গিয়ে। নাটকটিতে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস ও তার ভয়াবহ পরিণতি দেখানো হয়েছে। নাটকটিতে বিপাশার চরিত্র সাদামাটা টাইপের হলেও প্রধান চরিত্র তৌকির ও খলনায়ক খালেদ খানের অভিনয় সবার মন ছুঁয়েছে।

বিপাশার উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, সে হিসেবে মেয়েদের মধ্যে বেশ লম্বাই বলতে হবে বিপাশাকে। তিনি ১৯৯০ সাল হতেই শিল্পকলার জগতে বিচরণ করছেন। ‘রূপনগর’ ছাড়াও অন্য যে সকল নাটকে বিপাশা অভিনয় করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘হারজিত’, ‘শুধুই তোমাকে জানি’, ‘বেলি’, ‘প্রত্যাশা’, ‘একজন অপরাধিনী’, ‘দোলা’, ‘হাসুলি’, ‘অন্তরমম’, ‘মুখোশ জীবন’, ‘সোনালী ডানার চিল’, ‘কবিতা সুন্দর না’ ইত্যাদি। তিনি ‘লাক্স’, ‘চপস্টিক নুডলস’, ‘সিঙ্গার ওয়াশিং মেশিন’, ‘ভেসলিন’, ‘ফ্রেশ লবণ’ ইত্যাদি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন।



সুবর্ণা মুস্তফা’র অজানা তথ্য (Interesting info about Suborna Mustafa)

সুবর্ণা মুস্তফা ১৯৫৯ সালে ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন, অর্থাৎ তাঁর বর্তমান বয়স ৫৮ বছর। তিনি বাংলাদেশে টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। ১৯৯০ সালে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’, ১৯৯১ সালের ধারাবাহিক নাটক ‘অয়োময়’ এবং ১৯৯৯ সালে প্রচারিত ‘আজ রবিবার’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে সুবর্ণা মুস্তফা খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
সুবর্ণার পিতৃভূমি বরিশালে, তাঁর পিতা গোলাম মুস্তফাও একজন অভিনেতা ছিলেন। তিনি মূলতঃ বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে ভিলেন হিসেবে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। সুবর্ণার মা’র নাম হুসনে আরা মুস্তফা, তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও, রেডিও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ বেতারে প্রযোজক ছিলেন। সুবর্ণার একজন বোন রয়েছে, নাম ক্যামেলিয়া মোস্তফা। তিনি তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বেশিরভাগ সময় এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত তাঁর নানাবাড়িতে কাটিয়েছেন। তিনি ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী ছিলেন। সুবর্ণা ১৯৭৮ সাল হতে অভিনয় ও অন্যান্য শিল্পকলার সাথে জড়িত আছেন।




জহির রায়হানের উপন্যাসনির্ভর টেলিভিশন নাটক ‘বরফ গলা নদী’র মাধ্যমে অভিনয়ে হাতে খড়ি হয় সুবর্ণার। এটিএন বাংলায় ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে প্রচারিত ধারাবাহিক ‘ডলস হাউজ’-এ একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। আল মনসুর পরিচালিত ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’-এর মাধ্যমে মঞ্চনাটকে অভিষেক হয় সুবর্ণার। ২০০৯ সালে এটিএন বাংলায় প্রচারিত একপর্বের নাটক ‘আকাশ কুসুম’-এর মাধ্যমে পরিচালনায় হাতে খড়ি হয় তাঁর। সুবর্ণা মুস্তফা ক্রিকেটের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনি ২০১৫ সাল হতে ‘রেডিও ভূমি’তে ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার বাছাইপর্বে বিচারক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।





এবার সুবর্ণার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরো কিছু বলা যাক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা হূমায়ুন ফরিদী। জানা যায়, সুবর্ণা ছিলেন ফরিদীর দ্বিতীয় স্ত্রী। ২০০৮ সালের ১৮ই মার্চ ফরিদীকে তালাক দেন তিনি, এরপর একই সালের জুলাই মাসে ‘ডলস হাউজ’ ধারাবাহিকের সহ-পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে বিবাহ করেন। সুবর্ণার এই দ্বিতীয় স্বামী বয়সে তাঁর হাঁটুর সমান, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বয়সের বেজায় ফারাক। তা সত্ত্বেও তাঁরা এখন পর্যন্ত সুখী দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। তবে সুবর্ণার আজ পর্যন্ত কোনো সন্তান হয় নি।

ক্যাটরিনা কাইফ সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানেন কি? (Interesting info about Katrina Kaif)

ক্যাটরিনা কাইফ ১৯৮৩ সালের ১৬ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃসূত্রে তাঁকে ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নিজেকে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। বস্তুত তাঁর মা’র মাতৃভূমি ব্রিটেন, এ কারণে। ক্যাটরিনা হংকং-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং লন্ডনে থিতু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর পরিবার বহুদেশ ভ্রমণ করে।
লন্ডনে এক ফ্যাশন শোতে চলচ্চিত্র নির্মাতা কেইজাদ গুস্তাদ ক্যাটরিনাকে আবিষ্কার করেন এবং ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘বুম’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করেন। ভারতে শ্যূটিং-এর সময় কাইফ মডেলিং-এর বহু কাজ পান এবং মডেল হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার প্রায় গুছিয়ে ফেলেন। হিন্দীতে পটু না হওয়ার কারণে চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁকে তাঁদের ছবির জন্য নিতে চাইতেন না। তিনি ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু ছবি ‘মালেশ্বরি’-তে অভিনয় করেন। তবে বলিউডে তিনি সফলতা পান ২০০৫ সালের ছবি ‘মেয়নে প্যায়ার কিউ কিয়া’ এবং ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নমস্তে লন্ডন’-এর মাধ্যমে। তাঁর ছবিগুলো বলিউড বক্স অফিসে একের পর এক হিট হতে থাকে, তবে তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতার অভাবের কারণে সমালোচিত হতে থাকেন। বিশেষ করে, অভিযোগ করা হয়েছিল যে, প্রায় প্রতিটি ছবিতেই তাঁর অভিনয় একই ধরনের এবং ছবিগুলো মূলত পুরুষকেন্দ্রিক, অর্থাৎ ‘নায়কনির্ভর’।





তবে ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসনির্ভর বলিউড ছবি ‘নিউ ইয়র্ক’-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং এতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। ‘আজব প্রেম কি গজব কাহিনী’ (২০০৯), ‘রাজনীতি’ (২০১০), ‘জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা’ (২০১১) ছবিগুলোতে অভিনয়ের পর তিনি তাঁর বলিউড ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিল্মফেয়ার নমিনেশন পান ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ক্যাটরিনার যে ছবিগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল হয় সেগুলো হলো ‘এক থা টাইগার’ (২০১২), ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ (২০১৭) এবং ‘ধুম থ্রি’ (২০১৩)। এ ছবিগুলো শুধু যে ভালো ব্যবসা করেছে তা-ই নয়, বরং বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় এদের স্থান রয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি তাঁর মায়ের দাতব্য কাজগুলো নিয়েও ব্যস্ত থাকেন এবং প্রায়ই স্টেজে পারফর্ম করেন। কাইফ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বিশেষ করে প্রেম-ভালোবাসা-রোমান্সের বিষয়গুলো খুব রাখঢাক করে চলেন। তবে রণবীর কাপুরের সাথে তাঁর প্রণয়ের বিষয়টি মোটামুটি ওপেন সিক্রেট ছিল, তিনি ঐ অভিনেতার সাথে দীর্ঘ একটা সময় লিভ টুগেদার করেছেন বলেও জানা যায়। সবাই ধরে নিয়েছিল, এমনকি তাঁরা নিজেরাও অনেকটা ঘোষণার মতো দিয়েছিলেন যে, শিগগিরই বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তবে কী একটা বিষয় নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণে তাঁদের সম্পর্ক ভেস্তে যায়।




রণবীরের আগে সালমান খানের সাথে দীর্ঘ একটা সময় প্রেম করেছিলেন ক্যাটরিনা। বলতে গেলে, সালমানকে সিঁড়ি বানিয়েই বলিউডে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন ক্যাট। সালমান তাঁকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে ছিলেন, এমনকি তাঁকে বিয়ের স্বপ্নও দেখেছিলেন। তবে কী কারণে সালমানকে ছেড়ে রণবীরের সাথে সম্পর্কে জড়ালেন ক্যাট, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। অনেকে বলে, সালমানের অভিশাপের কারণেই নাকি রণবীরের সাথে তাঁর সম্পর্ক টেকে নি। আবার এটাও শোনা যায়, কোনো এক পার্টিতে নাকি সালমান রণবীরকে হেনস্থা করেছিলেন, তারই প্রতিশোধ তুলেছিলেন রণবীর সালমানের প্রেমিকাকে কেড়ে নিয়ে।

কে এই মাহবুব তালুকদার?

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক ত্যাগ করে আলোচনায় এসেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মাহবুব তালুকদারের নাম দিয়েছিল বিএনপি।’

২০১৭ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নাম প্রকাশ করার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মাহবুব তালুকদারের নাম বিএনপির তালিকায় ছিল (প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন সাবেক সচিব নুরুল হুদা, বিবিসি বাংলা, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

অন্যদিকে, কোন কমিশনারের নাম কোন রাজনৈতিক দল দিয়েছিল সেটি বড় বিষয় নয় উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনাররা সবাই দক্ষ ও নিরপেক্ষ।’



গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে বসা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক থেকে কমিশনার মাহবুব তালুকদার বেরিয়ে যাওয়ার পর তার সম্পর্কে পাঠকের সৃষ্ট তথ্যক্ষুধা মেটাতে তার পরিচয় তোলা হলো।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তার সম্পর্কে দেয়া তথ্য বলছে, মাহবুব তালকুদার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি মুজিবনগর সরকারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন।

স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সময়ে উপসচিবের মর্যাদায় রাষ্ট্রপতির ‘স্পেশাল অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আরেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সময়ে রাষ্ট্রপতির জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন। দেশের প্রথম চার রাষ্ট্রপতির দফতরে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহকারী প্রেসসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।




এছাড়া মাহবুব তালুকদার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকরির শেষ সময়ে ১৯৯৮ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি।

এছাড়া লেখক হিসেবেও সব মহলে বেশ পরিচিত তিনি। কবিতা এবং উপন্যাসসহ এখন পর্যন্ত তার প্রায় ৪৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০১২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করা মাহবুব তালুকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যয়ন করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলায়।