হয়তো ভাগ্যেই ছিল না

আপনি হয়তো যুবক বয়সে আপনার প্রেমিকাকে হারিয়েছেন, সেটা আমিও হারিয়েছিলাম। তবে এ নিয়ে মন খারাপের কিছু নেই যুবক সমাজের। যে আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, অথবা যাকে আপনি হারিয়েছেন, সে হয়তো আপনার অদৃষ্টে ছিল না। মুসলমান যারা, তারা এ বিষয়ে তকদীরে বিশ্বাস করে নিন। আর যারা তকদীর বা ইসলামে বিশ্বাস করেন না, তারা অন্তত বিজ্ঞানে বিশ্বাস করুন। কারণ ফিজিক্স ‘তকদীর’ নামক বিষয়টিকে সমর্থন করে। ফিজিক্স বা পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যত বলতে আলাদা কিছু নেই, সবই এক ‘ধান্ধা’ বা ইলিউশন। আসলে এই মহাবিশ্বে যা হওয়ার তা অলরেডি হয়ে গেছে, এখন আমরা শুধু সেটা এক্সপেরিয়েন্স করছি মাত্র। অন্যকথায়, কী হবে আর কী হবে না, সেটা আগেই নির্ধারিত হয়ে আছে।

এদিক থেকে অবশ্য ইসলামের সাথে পদার্থবিজ্ঞানের এক জায়গায় ফারাক আছে। মুসলমানেরা বিশ্বাস করে, মনুষ্যজাতি ভালো-মন্দ কী করবে, সেটা আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর অর্পণ করেছেন। ভালো কাজ করলে আখিরাতে তারা বেহেশত পাবে, আর যদি মন্দ কাজ বেশি করে, তবে তারা দোযখে পতিত হবেন। পদার্থবিজ্ঞান অবশ্য এটাকে সাপোর্ট করে না, এর মতে – মহাবিশ্বের সব ঘটনাই পূর্বনির্ধারিত। এমনটা বিশ্বাস করলে আপনার জীবন খুব সহজ হয়ে যাবে।

এ কথাগুলো বলছি এ কারণে যে, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে আমার দৈনন্দিন জীবনে, যেগুলো আমাকে ফেইট বা তকদীর সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করেছে। আমি অবশ্য ধার্মিক নই, বরং পদার্থবিজ্ঞানকে বেশি ভালোবাসি। তাই পদার্থবিজ্ঞানের উপর্যুক্ত অনুসিদ্ধান্ত আমি সত্য বলে ধরে নিয়েছি। তাই বলে, আমি তো চলন্ত গাড়ির নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন শেষ করে দিতে পারি না, বা নিজ জীবনকে অন্য কোনোভাবে ধ্বংস করতে পারি না; আফটার অল, অন্য সকল জীবের মতো আমিও একটা জীব – আমারও সুখ-দুঃখ, আনন্দ-যন্ত্রণার অনুভূতি আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.