স্ট্যাপল ফুড বদলান, জীবন বদলে যাবে

বাঙালীদের স্ট্যাপল ফুড বা প্রধান খাদ্য হলো ভাত বা চাল। এটি খেলে শরীরে খুব দ্রুত শক্তি যোগায়। এ কারণে এটি এদেশে খুবই জনপ্রিয় খাবার। বেশিরভাগ লোকই তিন বেলা ভাত খেতে পছন্দ করে। 

তবে ডায়াবেটিক রোগীরা তিন বেলা ভাত খেতে পারেন না। তাদেরকে একবেলা ভাত আর বাকি দুইবেলা রুটি খেতে বলা হয়। আমি নিজেও একজন ডায়াবেটিক রোগী। একবেলা ভাত ও দুই বেলা রুটি খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিলাম না, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা যন্ত্র দিয়ে মাপা ছাড়াও বোঝা যায়। যেমনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন, চোখের পাতা ভারী মনে হচ্ছে, তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যারা কিডনী রোগী, তারা তাদের প্রসাবের পরিমাণ লক্ষ্য করতে পারেন। যদি প্রসাবের পরিমাণ দিনদিন কমতে থাকে, তাহলে আপনি বিপদে আছেন।

একজন ডায়াবেটিক রোগী হিসেবে এসব অভিজ্ঞতা আমার ভালোই আছে। তবে সম্প্রতি আমি একটা রেমেডি খুঁজে পেয়েছি, যেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই। আপনি যদি ডায়াবেটিক রোগী হোন, তাহলে ভাত, আটা বা ময়দার পরিবর্তে ডাবলী খেতে পারেন, যেমনটা আমি খাচ্ছি – গত এক সপ্তাহ যাবত। এবং পজেটিভ ফলাফল পেয়েছি। ডাবলী খেতে পারেন ঘুঘনি বা চটপটি হিসেবে, আমি খাই চটপটি হিসেবে। সকালে আর রাতে খাই, দুপুরবেলা ভাত বা রুটি খাই।

খাদ্যাভ্যাসের এই পরিবর্তনের ফলে আগের চেয়ে অনেক সুস্থ অনুভব করছি। ঘুম থেকে উঠে চোখের পাতা আর ভারী মনে হচ্ছে না, প্রসাবের পরিমাণও দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করি। আর হবেই বা না কেন, ডাবলিতে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ  অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রোটিন খুব কাজের জিনিস।কেউ কেউ বলতে পারেন, ডাবলি খেয়ে ভাতের খিদে আদতে মিটে কিনা। আমার তো মিটে, আমি তো একজন মানুষ, তাই না? আমার যদি মিটে থাকে, তবে আপনারও মিটবে।

আরেকটি বিষয় হলো, যাদের কিডনি প্রবলেম আছে, তাদের জন্য বেশি প্রাণীজ প্রোটিন গ্রহণ করা খারাপ প্রমাণিত হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন। কারণ ডাবলী মূলতঃ এক প্রকার ডাল। আর যারা বডিবিল্ডিং করেন, তাদের জন্যও এটা পারফেক্ট হতে পারে, জাস্ট গিভ ইট আ ট্রাই। এছাড়া এটাও জেনে রাখুন, ডাবলি বেশ সস্তা,  ৪০ টাকা কেজি মাত্র। 

ডাবলি খাওয়ার কারণে ইদানিং নিজেকে খুবই এনার্জিটিক ও কনফিডেন্ট অনুভব করছি। ডাবলি খাওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, এটা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কোনো কিছু থাকবে না আপনার, তবে মলত্যাগ করার জন্য প্রত্যহ ৩/৪ বার যাওয়া লাগতে পারে টয়লেটে। 

আপডেট (২০ জুলাই, ২০২০)ঃ ইদানিং আর দুইবেলা ডাবলী খাচ্ছি না, কেবল রাতে খাচ্ছি। কারণ ডাবলী বা চটপটির সাথে শাকসবজি খাওয়ার সুযোগ সীমিত। শরীরের জন্য ভিটামিন এর দরকার আছে, তাই না? ঠিক করেছি, তিন বেলার মধ্যে সকালে ডাবলী বা চটপটি খাব। অফিস থাকলে দুপুরে রুটি এবং রাতে ভাত খাব। অফিস না থাকলে দুপুরে ভাত আর রাতে রুটি খাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.