সাফা কবির সম্পর্কে এ তথ্যগুলো জানতেন কি?

সাফা কবিরের ডাকনাম হলো সাফা, তিনি ১৯৯৪ সালের ২৯ আগস্ট তারিখে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসেবে তিনি কন্যা রাশির জাতিকা, আর তাঁর ধর্মের বিষয়ে পরে বলবো। তাঁর উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। তিনি একজন মডেল ও অভিনেত্রী এবং ২০১৩ সাল হতে কর্মরত আছেন।প্রাণ’ পণ্যের মডেলিং করে সাফা তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি দেশের ইয়াংস্টারদের মাঝে ‘সেলফি কুইন’ নামে খ্যাত ছিলেন।




সাফা কবিরের জন্মের সময় তাঁর পিতা হুমায়ূন কবির ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় ছিলেন। তাঁর দাদা বা নানা – এ দু’জনের মাঝে কেউ একজন তাঁকে ‘অ্যানাটমি কেলি’ নামকরণ করেন, তবে তিনি মিডিয়া জগতে ‘সাফা কবির’ নামে বেশি পরিচিত। তিনি বর্তমানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা এআইইউবি’তে (যা একসময় ‘অ্যামা’ নামে সুপরিচিত ছিল) বিবিএ পড়ছেন। তিনি তাঁর মা’র সাথে ঢাকার নাখালপাড়ায় থাকেন এবং তাঁর পিতা জার্মান থাকেন।

সাফা মিডিয়া জগতে তাঁর বিচরণ শুরু করেন টেলিকম কোম্পানী এয়াটেলের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার মধ্যদিয়ে, যা পরিচালনা করেন আশফাক বিপুল। এরপর তিনি ‘প্রাণ পিনাট বার’ এবং প্যারাশুট তেল-এর বিজ্ঞাপনদ্বয়ে অভিনয় করেন। তিনি এনটিভিতে ‘স্টাইল এন্ড ট্রেন্ড’ নামে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। তিনি ‘এট ১৮, অলটাইম দৌঁড়ের উপর’ নামক একটি জনপ্রিয় টেলিফিল্মে অভিনয় করেন। এই টেলিফিল্মটি তাঁর নাম মিডিয়া জগতে প্রতিষ্ঠা করেছে। এই নাটকটিতে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি লাইমলাইটে চলে আসেন এবং দর্শকদের নজর কাঁড়তে সক্ষম হন।

এরপর ‘একা মেয়ে’ নামে একটি নাটকে তিনি অভিনয় করেন। ২০১৪ সালে তিনি ‘ভালোবাসা ১০১’ নামের নাটকটিতে অভিনয় করেন। এই অভিনেত্রী ইতিমধ্যে বহুসংখ্যক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে কয়েকটি হলো ‘ইউনিভার্সিটি’, ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’ এবং ‘জোনাক পোকা’।

তিনি কিছুদিন আগ পর্যন্ত ‘এবিসি’ রেডিওতে একটি শো উপস্থাপনা করতেন, সেটি এখনো করেন কিনা তা জানা যায় নি। ঐ শো’তে শ্রোতাদের প্রশ্নের লাইভ উত্তর দিচ্ছিলেন তিনি একদিন। তখন এক দর্শক তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি পরকালে বিশ্বাস করেন কিনা। এর উত্তরে সাফা কী মনে করে জানি বলেন, ‘অবশ্যই না, যেটা দেখি না, সেটা বিশ্বাস করি না’। এই উক্তির পরেই তাঁকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং তাঁর জনপ্রিয়তার পারদ দ্রুতগতিতে নামতে থাকে। পরবর্তীতে সাফা অবশ্য তাঁর ফেসবুক পেজে ‘তাঁর ভুল হয়েছে’ বলে স্বীকার করেন এবং আল্লাহ’র কাছে মাফ চান। তাঁর ভাষ্যমতে, আল্লাহ অনেক দয়ালু, আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন, তাহলে দর্শক ও শ্রোতা বন্ধুগণও যাতে তাঁকে অকপটে ক্ষমা করে দেন।

দর্শকেরা তাঁকে পুরোপরি ক্ষমা করেছেন কিনা সেটা এখনো পরিষ্কার নয়, তাঁকে নিয়ে বহুদিন পর্যন্ত ফেসবুকে ট্রল চলেছে। এসময়টায় এটাও চাউর হয় যে, শাহরিয়ার কবির এবং খুশী কবির নাকি সাফা কবিরের বাবা-মা, যেটা আদতে সত্য নয়। তবে জন কবিরকে তাঁর ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও তিনি সাফা কবিরের সাথে কোনোভাবে সম্পর্কিত কিনা সেটা জানা যায় নি। এ প্রবন্ধে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সাফা তাঁর মা’র সাথে নাখালপাড়ায় বসবাস করেন এবং তাঁর পিতা জার্মান প্রবাসী। প্লাস, তাঁর জন্মের সময়ও নাকি তাঁর পিতা প্রবাসে ছিলেন – এ সকল তথ্য থেকে এটা অনুমান করা যায় যে, সাফা কবির খুব সম্ভবতঃ একজন ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান। অর্থাৎ তাঁর পিতামাতার মাঝে হয়তো অনেক আগেই ডিভোর্স হয়ে গেছে।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.