লেজ কাটা শিয়ালের গল্প (মুনাফিকদের গল্প)

মুনাফিকদের নিয়ে আমি একটি নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট খুলবো, নাম হবে hate-munafix.com অথবা hate-munafix.net. সেটা খুব বেশিদিন পরে নয়, মাত্র দুই-তিন মাস পরেই (যদি বেঁচে থাকি)। তবে ইতিমধ্যেই মুনাফিকদের নিয়ে লেখাটা জরুরী হয়ে পড়েছে।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মুসলিম নামধারী, নামাজী বা মুসল্লি আসলে মুনাফিক। এরা নামাজ-রোজা করে ঠিকই, কিন্তু ইসলামের মূল শিক্ষা-দীক্ষা থেকে সরে এসেছে, তাই এরা মুনাফিক। আমার কথা আলাদা, আমি স্বঘোষিত কাফের বা নাস্তিক। আমি মুসলিম ও মুনাফিকদের কবরস্থানে শায়িত হতে চাই না; বিশ্বের সকল নাস্তিকদের প্রতি আমার আহ্বান – চলুন, আমরা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই (for the sake of memorial, you know for our children/relatives)।

বছর দু’য়েক আগে তৈরি করা আমার বাড়িটি যে এলাকায় (রূপগঞ্জের কোনো একটা গ্রাম্য এলাকায়), সেখানেও প্রচুর মুনাফিক রয়েছে। আমি যেহেতু মসজিদে যাই না, তাই তারা আমার পিছনে লেগেছে। আমার বাড়ির পাশে একটি মসজিদ রয়েছে, সেখানে ফজরের ওয়াক্তে যখন মুসল্লিরা নামাজ পড়তে আসে, তখন এক বা একাধিক ব্যক্তি আমার বাড়িতে ঢিল ছোড়ে, এতে আমার এবং আমার বউ-বাচ্চার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে (যদিও আমার বউ একজন পুরোদস্তুর নামাজী ব্যক্তি এবং সেটা ঐ মুনাফিকেরা জানে)।

এসব কর্মকাণ্ড করে তারা আমাকে নামাজের পথে বা ইসলামের পথে নিতে পারবে না, শুধু তাদের প্রতি আমার ঘৃণার পরিমাণ বাড়াতে পারবে। ঐ মুসল্লিদের সবাইকে মুনাফিক বলছি, কারণ ঢিল একজন বা গুটিকয়েক ব্যক্তি ছুড়লেও ঘটনাটি সম্পর্কে তাদের সবাই অবগত আছে। এমনকি মসজিদের ইমামকেও বলেছি ঘটনাটি সম্পর্কে, তাতে কিছুদিনের জন্য ক্ষান্ত দিলেও ইদানিং আবার অত্যাচার শুরু হয়েছে এবং দিনদিন তার পরিমাণ বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতি না থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাতাম। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক, তাই নতুন করে অভিযোগের বাক্সে আরেকটি উপাদান যোগ করতে চাচ্ছি না।

ঐ মুনাফিক শালায় নিজে এই সেলফি না তুললে তুলছে ক্যাডায়?

আসল কাহিনী কী?

আসল কাহিনী হলো, এসব মুনাফিকদের ‘লেজ’ যেহেতু কাটা, তাই তারা চাচ্ছে যাতে আমার লেজও কাটা যায়। তারা সামাজিক দূরত্ব না মেনে মসজিদে নামাজ পড়ে, তাই তারা চায় – আমিও যাতে সেটা করে তাদের মতো করোনার ঝুঁকিতে পড়ি।

তাছাড়া আমি বলতে গেলে এ গ্রামের সবচেয়ে সচ্ছল ও ঝামেলামুক্ত (নির্ঝঞ্জাট) ব্যক্তি, তাই বাকিরা ঈর্ষাণ্বিত। তারা চায়, আমিও যাতে তাদের মতো ‘ফকিন্নী’র জীবনযাপন করি। তারা চায়, যাতে তাদেরকে দেদারসে টাকা ধার দেই (যেটা তারা আর ফেরত দিবে না), তাদেরকে কিছুদিন পরপরই দাওয়াত করে খাওয়াই। আমিও যদি তাদের মতো কামলাগিরি করতাম, তাহলে তারা খুব শান্তি পেত।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.