যে কথাগুলো শেয়ার করার তাগিদ অনুভব করি – পর্ব ২

ট্র্যাফিক নিয়ম কড়াকড়ি হয়েছে, উচ্চ হারের জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আপত্তি হলো, আগে থেকে বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন? এরকম একটি আইন হলো, গাড়িতে কালো গ্লাস ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু আমার পর্যবেক্ষণ মতে, এখনকার (অন্ততঃ ঢাকা শহরের) বেশিরভাগ ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারে (তথা মাইক্রোবাস ও জিপে) কালো ও অস্বচ্ছ গ্লাস ব্যবহৃত হচ্ছে। সেটা কেন? এটাই হচ্ছে আমার প্রশ্ন কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের কাছে। প্লাস, আরেকটা আইনের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আর সেটা হলো, প্রকাশ্যে ধুমপানে ৩০০ টাকা জরিমানা। এই আইনটা এখন আর কেউ মানছে না, কারণ এটার প্রয়োগ নেই। পুরনো আইনগুলো বলবৎ না করে নতুন আইন কেন চাপানো হচ্ছে? জবাব চাই সরকারের কাছে!




পরবর্তী টপিক হলো, দেশপ্রেম নাকি দেশকে বিপদে ফেলার ফন্দি? পিয়াজের ব্যাপারে বলছি। এস. আলম গ্রুপ বিদেশ থেকে ৫৫ হাজার টন পেয়াজ আমদানীর ঘোষণা দিয়েছে, সেটা প্রায় ১০ দিন হলো। অথচ এখনো সে পিয়াজ বাজারে আসার নাম নেই। আমার এক কলিগ বললো, এটা আসলে দেশবাসীকে ঝামেলায় ফেলার একটা কৌশল। তার মতে, উক্ত পিয়াজগুলো এমন সময় এসে দেশে পৌঁছাবে যখন দেশি চাষীর উৎপাদিত পিয়াজে বাজার সয়লাব। এতে করে সকল পিয়াজেরই দাম হবে অত্যন্ত নিম্ন এবং চাষীগণ পরবর্তী বছর পিয়াজ চাষে অনুৎসাহিত হবে। আমি অবশ্য কলিগের এই কথা বিশ্বাস করি নি। কারণ আমার হিসেব মতে, বিদেশী পিয়াজ দেশে আনতে অনেক টাকা ঢালতে হবে এস. আলম গ্রুপকে। নিজেদের এতোগুলো টাকা নিয়ে নিশ্চয়ই ছিনিমিনি খেলবে না তারা। তারপরও যদি এমন কোনো কন্সপিরেসি বা ষড়যন্ত্র থাকে দেশের বিরুদ্ধে, বড় গ্রুপ ও মহলগুলোর কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা সেখান থেকে সরে আসুন।

এমনটি বলতে বাধ্য হলাম, আজ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবর দেখে। জানতে পারলাম যে, কখন এস. আলম গ্রুপসহ অন্যান্য বড় আমদানীকারকের পিয়াজ বিদেশ থেকে এসে পড়ে, সেই ভয়ে ছোট আমদানীকারকরা মিয়ানমার থেকে পিয়াজ আমদানী স্থগিত রেখেছেন। একারণে সবচেয়ে ভালো হয়, যদি বড় আমদানীকারকগণ নিয়মিত আপডেট দিতে থাকেন, তাদের পণ্য আমদানী এখন কোন পর্যায়ে আছে – সেই সম্পর্কে।

https://www.youtube.com/watch?v=-im3KQg1Jhs

আজকে প্রথম আলোতে ‘মনের আগুন থেকে বনের আগুন’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ পড়লাম। সেখান থেকে জানতে পারলাম যে, অস্ট্রেলিয়াতে অনেক নাগরিক ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল ঘটিয়ে থাকেন, শুধুমাত্র পাশবিক আনন্দ পাবার উদ্দেশ্যে এবং অনেক সময় অন্যের অনিষ্ট করা উদ্দেশ্যে। আমার মনে হয়, এ ধরনের একটি মানসিকতা বাংলাদেশের অনেক মানুষের মাঝেই রয়েছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখে মনে হয়, অন্যের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাই যেন কিছু মানুষের শখ বা নেশা। এছাড়া আরেকটি ভয়ংকর বিষয় শেয়ার করতে চাই দর্শকবৃন্দ ও বন্ধুগণ আপনাদের সাথে। আমি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে, দেশের অনেক গাড়িচালকই ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটাতে তৎপর থাকেন, জাস্ট তাদের টার্গেট হলো – ইচ্ছাকৃত বা সচেতনভাবে ঘটানো কাণ্ডটিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া। এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত বললাম না; বললে, আপনারাই হয়তো আমাকে অসুস্থ মানসিকতার মানুষ মনে করবেন। শুধু এতটুকু মনে রাখুন, রাস্তা পারাপার বা রোড ক্রসিং-এর ক্ষেত্রে খুবই সাবধান থাকবেন। আপনাকে যদি শুধু চেহারা দেখেই অপছন্দ করে কোনো গাড়িচালক, তবে সিস্টেমে ফেলে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না হয়তো সে। এখানে গাড়িচালক বলতে সব ধরনের গাড়িচালক (প্রাইভেট কার, জিপ, বাস, ট্রাক, পিকআপ, কোচ, ট্রাক্টর, অটোরিকশা ও অন্যান্য) এবং মোটরসাইকেল চালককেও বুঝানো হয়েছে।

এরপর দেশবাসীর প্রতি আমার বক্তব্য হচ্ছে – সর্বোচ্চ বলতে কী বুঝায় সেটা ঠিকঠাক বুঝতে হবে। যেমনঃ আসন্ন বিপিএলে দেশি এ প্লাস খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক হবে ৫০ লাখ টাকা আর বিদেশী খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক হবে ১ হাজার ডলার বা ৮৪ লাখ টাকা –  এমনটাই ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিসিবি’র পক্ষ থেকে। অথচ দেশের প্রথিতযশা কয়েকটি সংবাদপত্রে ঢালাও লেখা হয়েছে যে, দেশি এ প্লাস ক্রিকেটাররা নাকি ৫০ লাখ আর বিদেশি ক্রিকেটাররা পাবেন ৮৪ লাখ টাকা করে – এটা অসত্য ও ভ্রান্ত।

এ প্রসঙ্গে আরো কয়েকটি কথা বলতে চাই, যেমনঃ যদি কোনো ইলেকট্রনিক্স দোকানে গিয়ে দেখেন যে, সেখানে সর্বোচ্চ ১০% ছাড় চলছে; তার মানে এই না যে, এক্সাক্টলি ১০% ছাড় পাবেন। সেটা ৫% ও হতে পারে, আবার ১% ও হতে পারে। যদি আপনি সর্বোচ্চ পরিমাণে ভাগ্যবান হোন, তাহলে হয়তো ১০% ছাড় পেলেও পেতে পারেন। এ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছেন তো? আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হয়েছি তিন বছর আগে- তখন একটি টিভি কেনার দরকার ছিল। বাবা এসে খবর দিলেন যে, রামপুরার হাজিপাড়ার ইলেক্ট্রা ইন্টারন্যাশনালের একটি দোকানে নাকি ১০% ছাড় চলছে, আমি তো মহা উৎসাহে সেখানে গিয়ে হাজির হলাম। পরে তাদের বিজ্ঞাপন বা নোটিশে দেখলাম যে, ‘১০% পর্যন্ত ছাড়’। এটা দেখে বিষয়টির ফাঁক সম্পর্কে তৎক্ষণাৎ অবহিত হয়ে গেলাম।

এরপর কিছু বলতে চাই ‘অন্যতম’ শব্দটার অর্থ সম্পর্কে। সংবাদপত্রের লোকজন তো বাংলা ভাষায় সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি এক্সপার্ট হওয়ার কথা, তাই না? অথচ তারাই ‘অন্যতম’ শব্দটাকে যেভাবে ব্যবহার করে, তাতে বোঝা যায়, শব্দটার সঠিক মানে তারা বোধ হয় জানে না। ‘অন্যতম’ মানে ‘অনেকের মধ্যে একজন’। কিন্তু বেশিরভাগ বাঙালী (অন্তত বাংলাদেশিরা) শব্দটিকে ‘প্রধান’ অর্থে ব্যবহার করেন, যেটা ঠিক নয়। ‘প্রধান’ বুঝাতে চাইলে ‘প্রধান’ বা ‘মুখ্য’ শব্দদ্বয়ের যেকোনো একটি ব্যবহার করুন, ‘অন্যতম’ শব্দটি ব্যবহার করছেন কেন?

এরপর কিছু বিশেষ বাঙালীকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই – গুজবের ব্যবসা বন্ধ করুন। প্রথমেই বলে নিই যে, আমি কোনো আওয়ামী লীগার না; আওয়ামী সরকার তথা হাসিনার কর্মকাণ্ড আমার পছন্দ না। তারপরও আমি অন্তত গুজব ছড়াই না, বা সরকারের শত্রু বা দেশদ্রোহী না। কিন্তু কিছু লোক এবং কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফেসবুকে এমন সব পোস্ট দিচ্ছে যে, এটা স্পষ্ট – তারা দেশে ক্যাঁচাল লাগাতে চায়। কী কারণে সেটা স্পষ্ট নয় – কারণ মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা মানে দেশে ও সমাজে অশান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা।

এমনটা বলতে বাধ্য হলাম সম্প্রতি একটা পোস্ট দেখে। শেখ হাসিনা নাকি বলেছেন, ‘৭০০ টাকা দিয়ে খাসীর মাংস খেতে পারেন, ২৭০ টাকা দিয়ে পিয়াজ খেতে সমস্যা কী?’ আসলে এই কথাটি হাসিনা বলেন নি, বলেছেন কাওরানবাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী। কথাটি কমপক্ষে একটি সংবাদপত্রে এসেছে, আর সেটি হলো ‘প্রথম আলো’। সুতরাং খুচরা ব্যবসায়ীর এই উক্তিটি প্রধানমন্ত্রীর নামে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা একটা গুরুতর অন্যায়। এ ধরনের গর্হিত কাজ কেউ করবেন না। শত্রুকে ঘায়েল করতে চান, ভালো কথা; কিন্তু সেটাও ঈমানদারীর সাথে করতে হবে। শত্রুর সাথে যুদ্ধ যদি করেন, তাহলে যুদ্ধের নিয়মকানুন মেনেই যুদ্ধ করুন। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন বেনিয়া লর্ড ক্লাইভের মতো গাদ্দারী করলে তো আর চলবে না। এমনটা যারা করে, তাদের কর্মের ফলাফল যাই হোক না কেন, পরিশেষে এরা ‘মীরজাফর’ নামে পরিচিত হয়। সুতরাং আওয়ামী সরকারকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ শেখ হাসিনা বা অন্য কারো নামে মিথ্যা বা বানোয়াট কিছু প্রচার করবেন না।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.