যেনতেন যোগ্যতা নিয়ে ক্যারিয়ারের সিঁড়ি বেয়ে উচুঁতে ওঠা এক শিয়ালপণ্ডিতের গল্প

উক্ত শিয়ালপণ্ডিতের নাম আবু সাঈদ, দীর্ঘ সময় তাকে ‘সাঈদ ভাই’ বলে ডেকেছি। তবে আর না, আর ডাকবো না। তার নামে লিখতে বাধ্য হলাম এই কারণে যে, তার চাকুরি আমি একসময় বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম, আর এখন সে ঐ প্রতিষ্ঠানে আমার উপস্থিতি ভালো চোখে দেখে না। না দেখার কারণও আছে, তার ধারণা আমি অনেক টাকা কামিয়ে নিয়েছি, এখন আর আমার সেখানে কাজ করার প্রয়োজন নেই। প্লাস, সে যে রকম উপরি বা ঘুষ আশা করেছিল আমার কাছ থেকে, সেটা তাকে কখনোই দেই নি। না দেয়ার কারণ হলো, সে যে ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সেখানে চাকুরি করছে, এটাই তার জন্য বেশি।

বিথী আর সুনীল মিলে তার চাকুরিটা খেয়ে দেয়ার যে চেষ্টা করেছিল ২০১৪ এর শুরুতে, সে সময় আমি বিথীর সঙ্গ বর্জন করে তার পাশে না দাঁড়ালে আজ হয়তো তাকে মুদি দোকানদারি করতে হতো, যেমনটা সে এক সময় প্ল্যান করেছিল এবং মুখে বলেছিল, ‘শালার এই চাকরি ভাল্লাগে না। মনে চায় মুদি দোকানদারি করি গিয়া’। বিথীর মতো যোগ্যতা তো তার নেই যে, এখানে চাকুরি চলে গেলেও লেকচার বা অনুপমে একই ধরনের চাকুরি সে অনায়াসে পাবে। আসলে শিক্ষাগত যে যোগ্যতা তার, তাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০,০০০ টাকা দামের চাকুরি যোগাড় করতেই তাকে বহুত হিমশিম খেতে হবে, অনেস্টলি স্পিকিং!




আর ঐ প্রতিষ্ঠানে আমার উপস্থিতি সে ভালো চোখে না দেখার বড় কারণ হলো, তার বিগ বস সুনীলের ভাই কোন নারীর (বিথী) সাথে লিভ টুগেদার করেছে, সে তথ্য সে নিজেই আগ্রহ সহকারে আমাকে দিয়েছে, আর এখন ভয় পাচ্ছে এই ভেবে যে, আমি যদি সে তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কানে পাচার করে দেই। (তথ্যটা তাকে কে দিয়েছে, সেটাও ভালো করেই আন্দাজ করতে পারি। এটা নাসরিন ছাড়া আর কেউ না; বিথী সুনীলের ভাইয়ের সাথে শুয়ে সুখ পেয়েছে, আর সেটাই বিস্তারিত শেয়ার করেছে প্রাণের বান্ধবী নাসরিনের কাছে। নাসরিনও এইডস রোগীর মতো ভাইরাসটা সবখানে ছড়িয়ে দিয়েছে)

তবে সেটা খুব সম্ভবতঃ অলরেডি পাচার হয়ে গেছে সুনীলের কাছে, যদিও তার সাথে আমি কথা বলি না (কারণ চাকুরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথার বরখেলাপ করেছিল, আর কাজ ঠিকমতো না বুঝিয়েই ঝাড়ি দেয়ার পন্থা অবলম্বন করেছিল)। আমি ভালো করেই জানি, নাসরিন আমার এই ব্লগ বা টুইটার পেজের একজন নিয়মিত ফলোয়ার আর তথ্য পাচার করতে সে ওস্তাদ। তাই তো তাকে মনে মনে ডাইনি বুড়ি ডাকি, আর সাঈদকে ডাকি গাধা, ফাঁপড়বাজ, অশিক্ষিত, মূর্খ।

সাঈদকে যে এত নিষ্ঠুরভাবে অশিক্ষিত ও মূর্খ ডাকি তার বেশ কয়েকটি কারণও আছে বৈকি। সে দীর্ঘ একটা সময় উক্ত পাবলিকেশন্সের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের ইন চার্জ ছিল, এরপর বেশ কয়েক মাস ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের ইন চার্জও ছিল। কিন্তু একটা ডিপার্টমেন্ট চালাবার জন্য ফিজিক্স বা ম্যাথের যে ন্যূনতম জ্ঞান দরকার সেটা তার কোনোকালেই ছিল না। কারণ অন্যেরা যখন পড়াশুনায় ব্যস্ত, সাঈদের মতো লোকেরা তখন দুর্নীতি ও কুটনামিতে ব্যস্ত ছিল।

সে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে দাবী করে, কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, এটা মিথ্যে কথা। সে নিজেকে যে কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র দাবী করে (হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সিগঞ্জ), সে কলেজেই ম্যাথ বা অন্য কোনো সাবজেক্টে ডিগ্রী বা অনার্স করেছে সে। এরূপ ভাবার কারণ হলো, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে পড়াশুনা করা লোকজনের বিদ্যার দৌড় কতটুকু হয় সেটা আমি ভালো করেই জানি।



এরপরও আমি তাকে নিয়ে মাথা ঘামাতাম না, যদি সে ২০১২ সালে আমার লেখা এমসিকিউগুলো বুঝে-না বুঝে উড়াধুরা কেটে আমার রাইটিং বিলের পরিমাণ ৪০% কমিয়ে না দিত। আমার ইউনিভার্সিটি থেকে জুনিয়র যে কয়টা ছেলে এসেছে সিকিউ লিখতে, সব কয়টাকে সে হালকা-পাতলা ট্রেনিং বা হিন্ট দিয়েছে, কেবল আমাকে ছাড়া।

তার ধারণা ছিল, সুনীল আমাকে রিক্রুট করেছিল তাকে রিপ্লেস করানোর জন্য, তাই আমার ভালো সে কখনোই চায় নি। আর সুনীলের সাথে তার লেগেছে – কর্তৃপক্ষের বিশেষ সুবিধা আদায় করতে গিয়ে। প্রতিষ্ঠানের একজন কর্ণধার কাউসার মিয়া সাঈদের বড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড হয়, তাই সে ভেবেছিল, কান-কথা লাগিয়ে সবকিছু তছনছ করে দিবে। তবে সে জাস্ট ভুলে গিয়েছিল, যোগ্যতার কাছে লবিং ফেল মারে। হ্যাঁ, সুনীল মানুষ হিসেবে যেমনই হোক না কেন, তার যোগ্যতা কিছুটা আছেই, যেটা সাঈদ সাত জনমে অর্জন করতে পারবে না।

এরপর সেকেন্ড পেপার গাইড পাবলিশের সময় আমি যখন কিছু সিকিউ লিখতে চাইলাম, তখন সাঈদ এর ঘোর বিরোধী ছিল। এর প্রধান কারণ হলো, এ ধরনের একটা সিকিউ-য়ে ফিজিক্সের জ্ঞানগত যে কন্টেন্ট আছে, তা যাচাই করার সাধ্য তার ছিল না। তাই সে চকচকে চেহারার লোকজনকে দিয়ে কাজ করাতে আগ্রহী ছিল। তার ধারণা ছিল, চকচকে চেহারার লোকজনই বেশি যোগ্য এবং জ্ঞানী, প্লাস তাদের কারো কাছে নিজের ভাগ্নি তিশাকে গছানোর সুযোগ তো একটা পাওয়া যাবে, হতভাগা আমি যে আগে থেকেই বিবাহিত! বিবাহিত না হলে তার স্কুল শিক্ষিকা বোনকে নিশ্চয়ই লাগাতে দিত, বিয়ে হবার আশায়, যেমনটা ইঙ্গিত সে একসময় পরোক্ষভাবে দিয়েছিল। ধুরন্ধর আমি কি তার পরোক্ষ ইঙ্গিত না বুঝে থাকি?

https://www.youtube.com/watch?v=raCeGvJISho

সাঈদ আরেকটা ফাউল করেছে, প্রুফরিডার সজীবকে দিয়ে কোম্পানীর বেশ কিছু টাকা সে অবৈধভাবে সরিয়েছে, নিজে ব্যবহারের জন্য। আন্দাজ করি, এই টাকার পরিমাণ ৫ লাখের বেশি হবে, ১০ লাখের কম হবে। আসলে ইতিপূর্বে বায়োলজি ডিপার্টমেন্টে অনূপ বিশ্বাস নামে এক লোক কর্মরত ছিল, সে নাকি ঐ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে আফতাবনগরে ৫ কাঠা জমি কিনেছে। এই অনূপ বর্তমানে কৃষি ব্যাংকে কর্মরত এবং কয়েক বছর আগে ফরিদপুর ব্র্যাঞ্চে ছিল। যাই হোক, এই অনূপই সাঈদ, বিথী আর নাসরিনের দুর্নীতির প্রেরণার উৎস। তাদের সবার ধারণা, অনূপ অবৈধভাবে উক্ত গাইডবুক পাবলিকেশন্স থেকে এই টাকা সরিয়েছে, আমিও তাই মনে করি।

যাই হোক, সাঈদ যদি কোনোভাবে প্রতিষ্ঠানের টাকা সরাতে পারে তাহলে আমার তাতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। সমস্যা হলো এই যে, তার একটি ভুলের কারণে আমার ন্যায্য পাওনার বৃহৎ অংক বিথীর চোখে পড়ে এবং তখন থেকেই সে আর নাসরিন আমাকে নিয়ে সাত-পাঁচ ভাবা শুরু করে। এই সাত-পাঁচের মধ্যে একটা অংশ ছিল আমার সাথে বিথীর শোয়ার ব্যবস্থা করা, যদিও সে আমার চেয়ে তিন বছরের বড় ছিল। ব্যাপারটা হলো এই রকম যে, তারা আমার সাথে শত্রুতাও করবে এই ভেবে যে, আমি ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছি, আবার তাদের যৌবনজ্বালাও মেটাতে হবে আমাকে (আমার নাদুসনুদুস শরীরই নাকি বিথীর মারাত্মক পছন্দ!)।

বিথীর চরিত্রে এতোটাই সমস্যা ছিল যে, সে তার পিতার শ্রাদ্ধের দিন এভাবেই ড্রেসআপ করেছিল       

সাঈদ আরেকটা ফাউল কাজ করে এই যে, সে নিম্ন পদমর্যাদার সজীবের (প্রুফরিডার) সাথে ব্যাপক ফিঁসফাঁস শুরু করে; আমি বরাবরই জানতাম, এগুলো সবই দুর্নীতি করার কৌশল, তারপরও কোনো কিছু বলি নি। এক সময় ব্যাপারটা এমন হয়ে যায় যে, ‘তুচ্ছ’ সজীবই ফিজিক্স ডিপর্টিমেন্টের কেউকেটা হয়ে যায় এবং সাঈদের উস্কানিতে সে একদিন আমার সাথে খারাপ ব্যবহারও করে। এর প্রতিবাদস্বরূপ, সজীবের ভাইয়ের বিয়েতে আমি যাই নি।

মূল কথা হলো, সজীবের সাথে সাঈদের ফিঁসফাঁস আর দহরম-মহরম দেখে বিথী আর নাসরিনের বদ্ধমূল ধারণা হয় যে, এখানে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে যার সাথে আমি নিজেও জড়িত। অবশ্য ঐ সময় ঐ দুই মহিলা নিজেরাও টাকা লুটপাটে বিভোর ছিল। যাই হোক, অশিক্ষিত ও মূর্খ সাঈদের আকামের কথা বলে শেষ করা যাবে না, তাই আজকের মতো এখানেই ক্ষান্ত দিলাম।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.