মায়মুনা আপার ইতিবৃত্তান্ত – পর্ব ৪

(পূর্বে প্রকাশের পর) এর পরদিন বিকালে যখন হলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন মায়মুনা একটা টাইট টপ পরে আমার সামনে হাজির হলো। প্রথমে সে ড্রয়িং রুমে আমার পাশে বসলো; যখন তাকে কাঁধ বরাবর বন্ধুত্বসুলভভাবে জড়িয়ে ধরলাম ডান হাত ও বাহু দিয়ে, তখন সে বললো, ‘এই দিকে আয়’। এটা বলে সে আমাকে তার রুমে নিয়ে গেল যেখানে কেউ ছিল না।

বোকাচন্দ আমি তাকে শারীরিকভাবে কিছুই করলাম না, শুধু বললাম, ‘আবার সামনের সপ্তাহে আসব।’ তখন তিনি বললেন, ‘সামনের বার প্রস্তুতি নিয়া আসিস।’ এর মানে হলো, তার ধারণা এবার কনডম না থাকায় তাকে ঢুকাই নি, যদিও ব্যাপারটা তা ছিল না।




এরপর তার পরের সপ্তাহে না হলেও তার পরের সপ্তাহে গিয়েছিলাম তাকে পুরোপুরি লাগাতে, কিন্তু বিধিবাম। আমার মা কোত্থেকে যেন ব্যাপারটা টের পেয়েছিল, অথবা র‍্যান্ডম সফরে সেখানে গিয়েছিল বেড়াতে। আমাকে দেখে খুব দুঃখ পেলেন বলে মনে হলো, নিশ্চয়ই ভাবলেন, ‘ছেলেটা ভার্সিটির হলে থেকে থেকে নষ্টামি শিখে গেছে। এখানে এই পতিতাদের কাছে এসেছে লাগাতে!’

যাওয়ার সময় তিনি মায়মুনা আপাকে বলে গেলেন, ‘ও এখানে থাকুক, আমার আপত্তি নেই তাতে। তবে দেখিস, কোনো সমস্যা যাতে না হয়।’ অর্থাৎ যৌনঘটিত কোনো কেলেংকারী হলেও সেটার বিচার নিয়ে যাতে আমার মা’র কাছে ওরা না যায়। এটা শুনে মায়মুনা যে খুব রেগে গিয়েছিল সেটা টের পেয়েছিলাম পরে।

সেদিন রাতে যথারীতি শুয়েছিলাম মায়মুনা আপার রুমে, খাটে – তার বাচ্চা দু’টির পাশে। আর তিনি একাই শুয়েছিলেন নিচে, ফ্লোরে (অর্থাৎ আকলিমা সেদিন ফ্লোরে তার পাশে শোয় নি, অন্য রুমে শুয়েছিল)। আমি মধ্যরাতে সন্তর্পণে আপার পাশে গিয়ে শুলাম, কামিজের নিচে হাত দিয়ে দেখলাম, ভেতরে ব্রা। ব্যাপারটাতে বেশ বিরক্ত হলাম আমি, তবে কিছুক্ষণ হাতাহাতির পর বুঝতে পারলাম, অন্ততঃ প্যান্টি পরেন নাই তিনি।

তখন কী মনে করে জানি, তার ইলাস্টিকের পাজামাটা হঠাৎ টান দিয়ে নিচে নামিয়ে দিতে চাইলাম। সে উদ্দেশ্যে হ্যাঁচকা টান দিতেই তিনি পাজামার ইলাস্টিক সজোরে ধরে বসলেন, অর্থাৎ আমার কাজে বাধা দিলেন। আর বলে বসলেন, ‘লুচ্চা কোথাকার! নাক দিয়া পানি পরে, আবার আইছে আমার লগে শুইতে! কত বড় বড় ব্যাডারা বইয়া রইছে, হ্যাগোরেই দেই নাই। আর ওয় আইছে হেইদিনকার পোলা!’



অর্থাৎ এগুলো হলো আমার মা যা বলে গিয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে মায়মুনার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আসলে তার প্ল্যান ছিল, আমার সাথে সেক্স করে পরে আমাকেই বিয়ে করবে, কিন্তু তাতে বাধ সাধলেন আমার মা। তিনি আগেই তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে এখন আমার সাথে সেক্স করলেও বিয়ের দাবী নিয়ে আমার বাবা-মা’র সামনে যাওয়ার মুখ মায়মুনার ছিল না।

পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি, এর পরে প্রায় ছয় মাস বা এক বছর তাদের বাসায় যাই নি আমি। এরপর এক রাতে কী মনে করে জানি, আবার মায়মুনার কাছে যাওয়া ধরলাম। রাত প্রায় ১১টার দিকে খালার বাসায় পৌঁছে জানতে পারলাম, মায়মুনা তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকে এখন। তখন আপাকে ফোন দিয়ে তার বাসায় পৌঁছালাম ঠিকই, তবে গিয়ে দেখলাম বিপু সেখানে বসে আছে। বিপু ভাই আমার চেয়ে পাঁচ বছরের বড় আর মায়মুনার চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট।

আমি মায়মুনা তথা ঐ খালার বাসায় যাওয়া বন্ধ করার পরেই মুনা বিপু ভাইয়ের সাথে ‘লটরপটর’ অর্থাৎ সেক্স শুরু করে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেম হয় এবং তারা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে, এ বিয়েতে বিপুর বাবা-মা’র সমর্থন ছিল না, এমনকি তাঁরা এক পর্যায়ে বিপু আর মায়মুনার নামে পুলিশ কেস করে দেয়, তাঁদের বিপুল গয়না-অলংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে। আন্দাজ করি, অভিযোগটা সত্য, কারণ আমার কাজিন সিস্টার মায়মুনাকে তো আমি ভালো করেই চিনি।

যাই হোক, বিপু আর মায়মুনাকে একসাথে এক বাসায় দেখে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম, জানতে পারলাম তারা সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। তাই তখন কোনোমতে একা রাত গুজার করে হলে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর ছিল না। এরপর প্রায় দুই বছর তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখি নি। কেবল মাঝে একবার মায়মুনার ফাঁদে পরে আমার ৩৮০০টাকা গায়েব হয়েছিল।

বিপু ছিল যোগ্যতাহীন এক যুবক, কোনো চাকুরি-বাকুরি পাচ্ছিলো না সে। তাই তখন ‘বিজনাস্’ নামে (তথাকথিত) দুবাইভিত্তিক এক এমএলএম প্রতিষ্ঠানে সদস্য হয়েছিল সে, নিজের ‘আন্ডারে’ সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সে তার ওয়াইফ মায়মুনাকে ব্যবহার করতে লাগলো।

একদিন মায়মুনা আমাকে ফোন দিয়ে বললো, ‘ভাই, আয়। তোর সাথে অনেকদিন দেখা-সাক্ষাৎ হয় না।’ আমিও সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলাম, তারপর তিনি বিপু আর আমাকে নিয়ে ‘বিজনাস্’-এর পান্থপথস্থ অফিসে গেলেন; বললেন, ‘তোকে এক জায়গায় নিয়ে যাব’। এক সময় রহস্য করে বললেন, ‘তোরে বেইচ্চা দিমু!’ আমি অবশ্য এতে ঘাবড়ালাম না। পান্থপথে যাওয়ার আগে মিরপুরের এক মেসবাড়িতে কোনো কারণে গিয়েছিলেন আমাকে আর বিপুকে নিয়ে। সেখানে একটা চিপার কক্ষে মায়মুনা আমার সাথে বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত করলো। ঠোটে লিপস্টিক, মুখে মেকআপ, তাকে লাস্যময়ী দেখাচ্ছিল।

হয়তো তাকে ইউজ করার একটা সুযোগ আমাকে দিচ্ছিল তখন, কিন্তু বোকাচন্দ আমি ইতস্ততঃ করতে করতে শেষ পর্যন্ত আর কিছু করলাম না। আমার উচিত ছিল তখন তাকে চেপে ধরা, যেটা অবশ্য প্রায় দুই বছর পরে ২০০৬ সালে করেছিলাম, কিন্তু সে কাহিনী আরেকদিন বলবো। আমার একটা অ্যাজাম্পশন হলো এই যে, এমএলএমে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর জন্য নারী সদস্যদেরকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নারীরা দরকার হলে দেহদান করে হলেও নিজের আন্ডারে সদস্য ভর্তি করে থাকে। (চলবে)



Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.