বীথির সাথে শুতে আগ্রহী হই নি, তাই…

বীথিকা রাণি মুন্সি, যার নাম বর্তমানে বীথিকা রাণি ঘোষ, …… ঘোষ নামক এক সাংবাদিককে বিয়ে করার পর। এই বীথি বর্তমানে সম্ভবতঃ লেকচার পাবলিকেশন্সে কাজ করে, কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে অথবা পিএমডি’তে। তার সাথে আমার পরিচয় পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে।

আমাকে প্রথমদিন দেখেই সে আমার সাথে শোয়ার প্ল্যান করে। সেটা সে বিভিন্ন অশালীন বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়। যদিও সে দেখতে আকর্ষণীয় ছিল না, তবু তার সাথে শুতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু সে ও সুনীল মিলে আমার নামে এবং আমার রিপোর্টিং বস সাঈদের নামে একটা মিথ্যা কলংক দেয়, আমরা দু’জনে নাকি কৌশলে কোম্পানীর টাকা লোপাট করছি। যদিও এই অভিযোগ আমার চেয়ে সাঈদের গায়ে লেগেছে বেশি, তবুও আমি সাঈদের সাথেই থাকতে বাধ্য হলাম। কারণ এমন একটা অভিযোগের পর আমি যদি আবারও বীথির সাথে মেলামেশা করি, তাহলে সাঈদ আমাকে কৌশলে কাজ দেয়া বন্ধ করে দেবে, বা বেশ কমিয়ে দেবে।

শুধু যৌনকার্য করে তো আর পেট চলে না, তার জন্য টাকাও কামাতে হয়। যাই হোক, বীথি আমার সাথে এমন আচরণ করতে লাগলো যেন, আমাকে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ বা কুৎসা সে রটায় নি। কিন্তু আমি তাকে অগ্রাহ্য করতে, অর্থাৎ এড়িয়ে চলতে বাধ্য হলাম। তখন আমার বয়স ছিল ৩৪, আর বীথির বয়স ছিল ৩৭। আমি তো ২৫ বছর বয়স হতেই বিবাহিত, কিন্তু বীথি তখনো অবিবাহিতা। তার যৌবনজ্বালা তো কাউকে দিয়ে মিটাতে হবে, তাই না? আমার কাছ থেকে সে যখন নেগেটিভ অর্থাৎ না-সূচক রিঅ্যাকশন পেল, তখন এক পর্যায়ে আমার আশা ছেড়ে দিল সে। তখন বীথির বান্ধবী নাসরিন আমার সাথে কারণে-অকারণে খারাপ আচরণ শুরু করলো

অথচ নাসরিন যে টাইপের মহিলা, তাতে বীথির সাথে আমি শুলে, পরে কিছুটা লবিং ও রিকোয়েস্ট খাটালে নাসরিনকেও বিছানায় নিতে পারতাম বলে আমার বিশ্বাস। আবার এমনও হতে পারতো যে, নাসরিন নিজেই হয়তো তার বান্ধবীর শয্যাসঙ্গীর সাথে শুতে আগ্রহী হতো, স্রেফ টেস্ট চেঞ্জ করার জন্য বা চেখে দেখার জন্য।

পাঞ্জেরীর আরএন্ডডি’র তৎকালীন হেড সুনীলও অবিবাহিত ছিল, সে নিজের জন্য বা নিজের এক অবিবাহিত ভাইয়ের জন্য বীথিকে এই ফাঁকে সিস্টেম করে নিল। এটা সুনীলের জন্য খুবই সম্ভবপর ছিল, কারণ একে তো বীথি ছিল তার সাবঅর্ডিনেট, দ্বিতীয়ত উভয়ে একই ধর্মের লোক। আমি অবশ্য এসব খবর পেয়েছি সাঈদের কাছ থেকে।

বীথিকে এক-দেড় বছর ব্যবহার করে সুনীল ও তার ভাই, এ ফাঁকে বীথি ব্যাপক পরিমাণ টাকা রাইটারদের বিলের নামে লোপাট করে, যার হিসাব সে এমডিকে দেখাতে ব্যর্থ হয়। তখন সে হতাশ হয়ে, বিশেষ করে সুনীলের সাপোর্ট না পেয়ে পাঞ্জেরী ছেড়ে লেকচারে চলে যায়। আমার সাথে শুতে ব্যর্থ হওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে শত্রুতার বীজ পাঞ্জেরীতে বপন করে যায়, যেটা তখন নাসরিন বহন করছিল।

২০১৫ সালের শেষের দিকের কথা, তখন পাঞ্জেরীতে বিভিন্ন আজব ক্যারেক্টার ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে একজন ছিল আতিকুর রহমান জোয়ার্দার। সে বুয়েটিয়ান হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মতো বুয়েটিয়ান রাইটারদের বিলের রেট কমিয়ে দিতে তৎপর হয়ে পড়ে। এছাড়া আমার দীর্ঘ সময়ের রিপোর্টিং বস সাঈদ তখন সুযোগ পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকে এবং নিজের আলাদা জগৎ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ সে আর আমাকে সাপোর্ট দিবে না। আমিও বুঝতে পারি, এখন পারলে পাঞ্জেরী থেকে চলে যাওয়া উচিত। সে সময় ইউটিউবিং হয়ে পড়ে একটি সুযোগের নাম। আমি অবশ্য ইউটিউবে কোনো কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানাতে পারি নি। অনেকের দেখাদেখি চটিগল্প টাইপ ভিডিও আপলোড শুরু করি। তবে আমি সেটাতে বেশ জনপ্রিয়তা পাই, মূলতঃ দু’টি কারণে। আমি অন্যের কন্টেন্ট চুরি না করে নিজেই কন্টেন্ট বানাতে শুরু করলাম এবং গল্প উপস্থাপনায় আমি বেশ দক্ষ ছিলাম, নিজের ভাষাগত দক্ষতার কারণে।

পাঞ্জেরীর সাঈদ, নাসরিন, প্রুফরিডার সজীব, ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের রিয়াজ এবং আরো অনেকে ইউটিউবে আমার কন্টেন্ট চুরি করে চ্যানেল খুলে আমার মতো টুপাইস কামাচ্ছিল, কিন্তু তাদের অ্যাক্টিভিটি জনগণের অজানা ছিল, তাই তাদেরকে কোনো ব্লেইম শুনতে হয় নি। ব্লেইম শুনতে হয়েছে আমাকে, নিজেই ইউনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েট করার কারণে। আমি উল্টাপাল্টা কন্টেন্ট ক্রিয়েট করেছিলাম ঠিকই, তবে তরুণ প্রজন্মের হাজার হাজার ছেলেকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম যে, ইউটিউবের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সম্ভব। ‘১৬ সালে অ্যাক্টিভ আমার মতো কয়েকজন ইউটিউবারের কারণেই দেশে ইউটিউবিং বিষয়টি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেল এবং দেশ শতশত কোটি টাকা রেমিট্যান্স উপার্জন করতে শুরু করে, যে টাকাটা আগে ইন্ডিয়ায় চলে যেত।

দেশের অর্থনীতিতে আমার এ অবদান কেউ স্বীকার করবে না, সবাই বলবে, ‘আপনি তো খারাপ কন্টেন্ট তৈরি করেছেন।’ যারা আমার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে চায়, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে, ‘আর আপনি কী করেছেন? আপনি কি কেবল আমার কন্টেন্ট চুরি করে সেটা ইউটিউবে আপলোড করেছেন, আর টুপাইস কামিয়েছেন?’

‘১৬ সালের শেষের দিকে এসব উল্টাপাল্টা ইউটিউবিং এর পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, আমি আবার পাঞ্জেরীতে ফিরে আসতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু বাধ সাধলো সাঈদ, নাসরিন, সুনীল – এরা। তখন আমার কাছে অনেক টাকা ছিল ঠিকই, কিন্তু রানিং ইনকাম ছিল অতি নগণ্য। ভবিষ্যতে কীভাবে চলবো, বিশেষ করে আমার বাবা-মা-ছোট ভাইকে নিয়ে যে সংসার সেটা কীভাবে চলবে, সেটা ভেবে আমি সন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম, তাদেরকে তো প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়।

বাড়িভাড়া দেয়ার হাত হতে বাঁচতে গ্রামদেশে এসে আধাপাকা/কাঁচা বাড়ি তুলে এখানে বসবাস শুরু করলাম। কাঁচা কর্দমাক্ত রাস্তাঘাটের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলাম না, অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে এবং অর্থজনিত টেনশনের কারণে আমার ডায়াবেটিস হয়ে গেল।

২০১৭ সালের শেষের দিকে, পাঞ্জেরীতে রাইটার হিসেবে টুকটাক কাজ করছিলাম, কিন্তু সাঈদ সেটা ভালো চোখে দেখতো না। এমন একটা সময়ে ফারহানাহ চৌধুরী নামক বুয়েটের এক মাগি আমার সাথে একটা গেম খেলে, আমার মনমানসিকতা নষ্ট করার গেইম, আমার সাথে ‘প্রেম-পরকীয়া’ করার গেইম। অর্থাৎ সে কৌশলে আমাকে লোভ দেখায়। আসলে তার পরিচিত একজন ছিল, ঋষিত নামে – এই ছেলেটিকে আমার ব্লগে লেখালেখির সুযোগ দেই নি, তাই। ঋষিত ছিল কপি পেস্ট টাইপের লেখক, ইউনিক কন্টেন্ট লিখতে পারতো না সে, তাই কেবল ফারহানাহ’র সুপারিশের কারণে তাকে লেখালেখির মাধ্যমে আমার কষ্টার্জিত টাকাগুলো দেয়ার কোনো মানেই ছিল না।

তাই ফারহানাহ আমার সাথে নাটক করে, আমার আশাগুলো উত্তোলিত করে পরে চূড়ান্ত রকম হতাশ করে, এটা এক রকম গেইম। সেটা ছিল ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাস। আমার বদ্ধমূল ধারণা হলো, ফারহানাহ না হোক, অন্য কোনো মেয়েকে ম্যানেজ করতেই হবে আমাকে, প্রেম/পরকীয়া’র জন্য। এজন্য প্রথমে নক করি ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টের শাহিনূরকে। মেয়েটি ‘১৫ সালে একবার আমার সাথে কফি খেতে যেতে চেয়েছিল, প্লাস তার চাউনির মধ্যে সে সময় ‘ভালোলাগা’ দেখতে পেয়েছিলাম। প্রায় আড়াই-তিন বছর পর যখন নিজেই তাকে ভালোলাগা’র কথা বলতে গেলাম, খেলাম ফেসবুকে ব্লক। গেল মাথা আউলা হয়ে।

অসুস্থ মাথায় ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের আরেকজনকে অর্থাৎ নাসরিনকে যৌনতার প্রস্তাব দিয়ে বসলাম। কারণ বীথির মতো চরিত্রহীন মহিলার সাথে ওঠাবসা করায় নাসরিনের প্রতি আমার ইম্প্রেশন বা মনোভাব ভালো ছিল না। প্লাস, সে নিজেও আমার সাথে কয়েকদিন খারাপ ব্যবহার করেছে, যার প্রতিকার সাঈদ করতে পারে নি, সম্ভবতঃ সাঈদ আগেই নাসরিনকে দৈহিকভাবে ব্যবহার করায়, তার কাছে জিম্মি ছিল।

আমি তখনকার দিনে, অর্থাৎ ‘১৮ সালে পাঞ্জেরীর ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করতাম। আগেও ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করতাম। ‘১৬ সালের শুরুতে পাঞ্জেরী থেকে বিরক্ত হয়ে চলে যাওয়ার যে কয়টি কারণ ছিল, তার মধ্যে একটি হলো – মিথ্যেবাদী আতিকুর রহমান জোয়ার্দার এবং শত্রুমনোভাবাপন্ন রাজুর সুপারভিশনে কাজ করতে হবে, তাই। প্লাস, অক্ষম এবং নিজেকে গোটাতে চাওয়া সাঈদ তখন আমাকে ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে কাজের অফার দিয়েছিল। দু’তিন বছর ধরে সংগ্রাম করে ফিজিক্সটা যখন আয়ত্ত্বে আনলাম, তখন নাকি ফিজিক্স ছেড়ে এবার ম্যাথে মনোনিবেশ করতে হবে, হাও আনপ্রফেশনাল!

যাই হোক, ‘১৮ সালে ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে একজন এক্সিকিউটিভ ছিল আরিফুল ইসলাম, তাকে শাহিনূর এবং নাসরিন মিলে ‘ছোটভাই’ বানিয়ে আমাকে দেখে নেয়ার অ্যাসাইনমেন্ট দেয়। সে কারণে এবং নিজে নরসিংদীর লোক হওয়ার কারণে আরিফ শুরু থেকেই আমার পিছনে লেগে ছিল (নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং উত্তর কুমিল্লার লোকদের আচরণগত সমস্যা ব্যাপক)। বুয়েটের পাঁচজনকে স্যাক করার পর সুনীল ব্যাপক চাপে পড়ে গেল এবং কোয়ালিটিসম্পন্ন লোক পাচ্ছিল না বিধায় ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের জন্য আমাকে রিক্রুট করে, বিষয়টি আরিফ, শাহিনূর এবং নাসরিন ভালোভাবে নেয় নি। তারা আমাকে উৎখাতে তৎপর হয়ে পড়ে। তাদের তৈরি করা প্রেশারের কারণে সুনীলও আমার পিছনে লাগতে বাধ্য হয়। যদিও আমি নিশ্চিত যে, আমাকে রিক্রুট করার আগে থেকেই শাহিনূর এবং নাসরিনকে পাঠানো আমার মেসেজের বিষয়ে সুনীল জানতো, তারপরও সে অভিনয় করলো যে, বিষয়টি সে আগে থেকে জানতো না এবং এ বিষয়ে হাবিবের মাধ্যমে আমাকে শাসালো সে।

হাবিব ও সৌরভের কাছে সুনীল বললো যে, আমি নাকি বুয়েটের নাম ডুবিয়েছি (‘১৬ সালে উল্টাপাল্টা ইউটিউবিং করার কারণে)। প্রশ্ন হলো, যে কয়জন লোকের কারণে আমি ‘১৬ সালে পাঞ্জেরী ছেড়ে চলে যাই, তাদের মধ্যে সুনীল ছিল কিনা? সে আন্দাজে আমার নামে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল কিনা? আর আমি যদি বুয়েটের নাম ডুবিয়ে থাকি, তাহলে সুনীল, সাঈদ, নাসরিন কীসের নাম ডুবিয়েছে? তারা কি যথাক্রমে রাজশাহী, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডুবিয়েছে? সাঈদ আর নাসরিন কি অস্বীকার করতে পারবে যে, তারা ‘১৬ সালে আমার ইউটিউবিং কন্টেন্ট চুরি করে নি? আর সুনীল বীথির মতো কতগুলো মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে? সেগুলো কি আকাম-কুকাম নয়?

বিথীর চরিত্রে এতোটাই সমস্যা ছিল যে, সে তার পিতার শ্রাদ্ধের দিন এভাবেই ড্রেসআপ করেছিল   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.