বি.বাড়িয়ার মানুষদেরকে যেরূপ দেখেছি

এখানে অনেকে বি.বাড়িয়া বা বৃহত্তর কুমিল্লার পাঠক হতে পারেন, তা সত্ত্বেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বি.বাড়িয়া থেকে আগত মানুষদেরকে কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় পাই নি। তারা হয় চরম বস্তুবাদী বা অর্থলোভী, অথবা চিটার-বাটপার, অথবা ব্যাপক অহংকারী যা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। তারপরও বি.বাড়িয়াতে কিছু ভালো মানুষ থাকতে পারে, যাদের সাথে আমার এখনো সাক্ষাৎ হয় নি। যাই হোক, এখানে বি.বাড়িয়া থেকে আগত আজব কিছু মানুষের বর্ণনা দেয়া হলোঃ




মিজানুর রহমান ভূঁইয়া

আমি যখন ১৯৯৮ সালে নটর ডেম কলেজে সাইন্স-১ গ্রুপে ছিলাম, তখন আমাদের একজন বায়োলজি টিচার ছিলেন মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, যার দেশের বাড়ি বি.বাড়িয়াতে। তিনি একদিন ক্লাসে এক ছেলেকে দাঁড়াতে বললেন এবং তার হোম ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। ছেলেটি তখন উত্তরে বললো, কুমিল্লা। এটা শুনে মিজান অট্টহাসি দিলেন এবং ক্লাসের বাকি সব ছাত্রের (প্রায় ১৪৯ জন) সামনে তাকে ‘কুমিল্লার ইতর’ বলে সম্বোধন করলেন।

এটা ঠিক যে, কুমিল্লার মানুষের আচরণগত কিছু সমস্যা আছে, তাই বলে তাদেরকে সরাসরি ‘ইতর’ সম্বোধন করবে যে, বুঝতে হবে, সে নিজেই বিশাল একটা ইতর। কারণ দেশের কোনো এলাকার মানুষই বলতে পারবে না যে, তাদের কথাবার্তার স্টাইল বা আচরণ পুরোপুরি বিশুদ্ধ। এটা আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ দেশের যে কোনো এলাকার মানুষের প্রতি।

তো, মিজানের এই কাণ্ডের ফলে বুঝতে পারলাম যে, নটর ডেমের টিচার হলেও তার মনমানসিকতায় কিছু বা অনেক সমস্যা আছে। পরবর্তীতে জানতে পারলাম যে, সে বি.বাড়িয়ার লোক। আয়রনি হলো এই যে, বি.বাড়িয়া বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে পড়ে। তাহলে কি মিজান নিজেই নিজেকে ইতর বলে গালি দিলো? ওর বউ নাকি লন্ডন থাকে! আমি জানতে চাই, কোন মুসলমানের বউ স্বামীকে ছেড়ে বছরের পর বছর বিদেশ থাকে?! নিশ্চয়ই ওর আচরণগত সমস্যার কারণেই বউও ওকে ছেড়ে চলে গেছে।

এপেক্সের লেদার টেকনোলজিস্ট মুশতাক

তখন ২০০৫ সালের কথা, মগবাজারে কাজী অফিস গলিতে পড়াতে গেলাম একটা বাসায়, যার গৃহকর্তা মুশতাক যিনি তখন এপেক্সে লেদার টেকনোলজিস্ট ছিলেন, যদিও সে নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দাবী করতো। যাই হোক, মুশতাকের দেশের বাড়ি ছিল বি.বাড়িয়ার আশুগঞ্জে আর মগবাজারের ঐ বাসাটা তার নিজের ফ্ল্যাট ছিল। তার তিনটি মেয়ে ছিল, এর মধ্যে মায়শা ক্লাস ফাইভে পড়তো আর আয়শা ফোরে পড়তো। এ দু’টাকে আমি পড়িয়েছিলাম মাত্র ১৫ দিন। আসলে ঐ বিল্ডিংয়ের গার্ড ব্যাটার কাছে জানতে পেরেছিলাম যে, মুশতাক খুব ঘনঘন টিচার বদলায়।

তার বেশভুষা দেখে বুঝেছিলাম সে জামাত করে, আর তখন তো বিএনপি আর জামাত ক্ষমতায়। তার বাসার সে গলিতে আবার গোলাম আজমের (গোলাম আজমও বি.বাড়িয়ার লোক ছিলো, নবীনগরে) বাড়ি ছিল। তাই তখন মুশতাকের অন্যরকম ভাবসাব। এই গরমেই মনে হয় সে যা ইচ্ছা তা করতো। সে আমাকে ১৫ দিন রেখে তারপর চলে যেতে বললো – এটা কোনো সমস্যা না, এটা হতেই পারে! আফটার অল, দেশে তো তারছিঁড়ার কমতি কোনো কালে ছিল না। কিন্তু আমার জন্য শকিং ছিল এই যে, ১০ দিন পড়ানোর পরই বুঝতে পারলাম, তারা চাচ্ছে আমি যাতে পেমেন্ট না নিয়েই চলে যাই। কিন্তু আমি লেগে থাকলাম এবং শেষ পর্যন্ত পেমেন্ট নিয়েই গেলাম। মুশতাকও আমাকে পেমেন্ট দিতে বাধ্য হলো আমার ইউনিভার্সিটি স্ট্যাটাস বিবেচনা করে।

আরো একবার বুঝতে পারলাম যে, বি.বাড়িয়ার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা। এ ধরনের অভিজ্ঞতা সম্প্রতি আরো একবার হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার যে থানায় বাস করি সেখানকার যুবলীগের সহ-সভাপতির ভাতিজি মায়শা। সে আমার কাছে ১৫ দিন পড়েই আমাকে বিদায় জানিয়েছে, মানে তার বাবা-মা-সে সবাই মিলে এটা করেছে। তারা অন্ততঃ মুশতাকের ফ্যামিলির চেয়ে ভালো, কারণ তারা তো আমাকে পেমেন্ট না নিয়েই চলে যেতে বলে নি বা সেরূপ আশা করে নি। তবে ক্ষমতায় থাকলে মনে হয় সবাই অন্ধ হয়ে যায়, যেটা মন চায় সেটাই করে। আমি তাদের কাছে উচ্চ পারিশ্রমিক চেয়েছিলাম ঠিকই, তবে তারাও তো কম পয়সা ইনকাম করে না। যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে নিশ্চয়ই এক নম্বর- দু’ নম্বর পথে ইনকাম করে।

আমি নাকি ম্যাথ ভালো পারি না – যেটা খুবই হাস্যকর (ম্যাথের জনক হলাম আমি)! যাই হোক, আরেকটি অভিজ্ঞতা এখানে শেয়ার করতে চাই, যা অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক, তবুও করি। বিদায়ের দিন যখন মায়শাকে শেষবারের মতো পড়াচ্ছিলাম, তখন তার মা মাহমুদা আমার সামনে বেডে বসে ওনার ক্লাস সিক্সের ছেলেকে পড়া দেখানোর সময় এমন একটি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ করলেন যে, আমি নিশ্চিত তাঁর কমপক্ষে এক মাসের নামাজ আল্লাহ’র কাছে কবুল হবে না। তিনি চুড়িদার টাইপের একটা পায়জামা পড়ে কৌশলে আমাকে তার পুরুষ্ট ও সেক্সি উরু এবং নিতম্বের এক পাশ দেখিয়ে দিলেন। তখন অবশ্য তার মাথায় স্কার্ফ ছিল; আমি মনে মনে বলি, ক্ষ্যাতা পুড়ি এসব স্কার্ফ-হিজাবের! আর এটাও বুঝলাম না, বিদায় বেলায় আমাকে যৌন উত্তেজিত করে লাভ কী?




জনৈক সজীব উল্লাহ খান

এই সজীবের সাথে আমার পরিচয় ২০১৩ সালে একটি গাইডবুক পাবলিকেশন্স প্রতিষ্ঠানে। তার বাড়ি বি.বাড়িয়ার বিজয়নগরে। আচরণগত সমস্যা তার খুব একটা ছিল না, তবে সে ছিল পল্টিবাজ। সে যখন প্রুফরিডার হিসেবে কাজ পাচ্ছিল না এবং ২ টাকা পকেটে নিয়ে ১৭ দিন কাটিয়েছে, এমন একটা সময়ে আমিই তাকে ব্রেকথ্রু এনে দেই; ফারহানাহ এবং সাঈদ ভাইয়ের কাছে তার নামে সুপারিশ করি, যাতে তাকে বেশি করে কাজ দেয়। আফটার অল তার পিতা দু’-তিন বছর আগে মারা গেছেন এবং তার পড়াশুনার খরচ তথা তার মা-বোনের সংসারের খরচ দেয়ার মতো কেউ ছিল না।

কিন্তু সজীব সাঈদের সাথে মেশার সুযোগ পেয়ে তার ফাঁদে পা দেয়, দু’জনে মিলে কোম্পানীর টাকা লোটপাট শুরু করে। অবশ্য এক্ষেত্রে সাঈদকেও সরাসরি দোষ দিয়ে লাভ নেই, কারণ আমাকে জব্দ করার জন্য সুনীল ও বীথি মিলে একটি কাল্পনিক অভিযোগ তোলে – আমি আর সাঈদ মিলে নাকি কোম্পানীর টাকা লোটপাট করছি। দোষ না করেই যেহেতু ব্লেইম নিতে হচ্ছে, তাই তখন সাঈদ দুর্নীতিটা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

যত যাই হোক, সজীবকে আমার কাছে পল্টিবাজ মনে হয়েছে। বিশেষ করে সে একবার যখন আমার ফোন রিসিভ করছিল না, তখন তার উপর আমার ব্যাপক রাগ হয়, যেটা এখন পর্যন্ত মন থেকে সরিয়ে ফেলতে পারি নি। আফটার অল, আমি তো একজন সাধারণ মানুষ – যেটা আমি আগেই ডিক্লেয়ার করেছি। এই ব্লগের আরেকটি আর্টিক্যালে সজীবের কথা উল্লেখ আছে, যেটার শিরোনাম হলো – ‘সজীবের বিধবা মাকে নিয়ে যে প্ল্যান ছিল’।

এবার সজীবকে মন্দ বলার কারণ একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করি। ধরুন, যে পাপে আমি পাপী সে পাপে সে নিজেও পাপী। শুধু পার্থক্য এই যে, আমার পাপের কথা অনেকেই জানতো, আর তার পাপের কথা কেউ জানতো না (হয়তো শুধু সাঈদ ও সজীবের ঘনিষ্ঠ জনেরা জানতো, কারণ একই পাপে তারাও পাপী ছিল)। এই সুযোগে সে ‘পাট’ নিয়েছে ও ফেসবুকে আমার বিরূদ্ধে পরোক্ষ স্ট্যাটাস দিয়েছে। আমার সাথে এ ধরনের আচরণ সে না করলেও পারতো, কারণ আমি ছিলাম তার এক সময়কার ত্রাণকর্তা।

ফোন রিসিভ না করার ঘটনার পর থেকে সজীবের সাথে আমার যোগাযোগ টোটালি বন্ধ, আর এখন দেখাও হয় না বললেই চলে – বছরে একবার বা দুইবার রাস্তাঘাটে দেখা হওয়াটাকে ‘দেখা হওয়া’ বলে না। গত বছর তার সাথে দেখা হয়েছিল মালিবাগে আর ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারী মাসে দেখা হয়েছিল মহাখালীতে। ঐ সময় আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল, আর মহাখালীতে গিয়েছিলাম ছেলের জন্য ওষুধ বা পথ্য আনতে। তাই তখন ব্যস্ত থাকায় সজীবের সাথে বেশিক্ষণ কথা বলতে পারি নি।

এটা আবার সে সাঈদকে বলেছে, তাই সাঈদের সাথে যখন শান্তিনগর ফুটপাতে দেখা হয় কয়েক মাস আগে, সেও অনুরূপ ভাব নেয় আমার সাথে। আমি মনে মনে বলি, ‘ফকিন্নির পোলা, পলিটিক্স করে চাকুরিটা টিকিয়ে রেখেছিস্ কোনো মতে! আর আমিও একসময় তোকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছিলাম, যখন তোর চাকুরির সুতা ছিঁড়ে যায় যায় এমন অবস্থা। আর এখন আমার লগেই ভাব লস্! তুই তো মনে হয় তোর জন্মদাতা পিতার সাথেও পল্টি নিতে পারবি।’

হযরত ও চুন্নু মিয়া

আমার অদূর প্রতিবেশী হযরত ও চুন্নু মিয়া দুইজনই চরম অশিক্ষিত ও অর্থলোভী লোক। তাদের অরিজিনাল বাড়ি বি.বাড়িয়ায়। আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদ আছে সেটার কমিটিতে দুজনই ছিল (এখনো আছে সম্ভবতঃ); এর পেছনে টার্গেট একটাই, মসজিদের টাকা লোপাট করে দিন চালিয়ে নেয়া। মসজিদটি খুব বড় হলে ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতো, তবে ছোটখাট বলে এটার ফান্ডে খুব বেশি টাকা ওঠে না; আর তাই আপাতত ওরা মসজিদের টাকা মেরে শুধু দিন গুজারের স্বপ্ন দেখছে।

এর মধ্যে হযরত শুনলাম কিছুদিন আগ পর্যন্ত ফেনসিডিলের ব্যবসা করতো, পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর অনেক টাকার বিনিময়ে ছুটেছে। সে যে বি.বাড়িয়ার বজ্জাত তা তার ছেলেমেয়ে ও নিকটজনের ব্যবহারেই বোঝা যায়। যদিও আমার সাথে তার সরাসরি কোনো ইন্টারাকশন এখন পর্যন্ত হয় নি; হতে পারতো, তবে সবসময়ই আমি তা এড়িয়ে গেছি। বাড়ির পেছনে ড্রেন কাটার সময় হযরতের বিবাহিতা মেয়ে আমাকে যে প্যাঁচে ফেলতে চাচ্ছিল, তাতে বুঝে গেছি তার শরীরে হারামীর রক্ত। আর হযরতের কিশোর বয়সী ছেলেটাও বেয়াদব ও ঘাড়ত্যাড়া। তাকে বারবার বলেছি, আমার বাড়ির মধ্যদিয়ে না যেতে, এখানে অনেক শাক-সবজির গাছ লাগিয়েছি। তা সত্ত্বেও সে কথা কানে তোলে না, বাড়িতে লোক নেই মনে হলেই এখান দিয়ে সুড়ুৎ করে একটা দৌড় দেয়।

আর চুন্নু মিয়ার কথা কী বলবো, তার ছেলে স্বপন মিয়া তো মসজিদের নামে আমার কাছে চাঁদাবাজি করতে এসেছিল কামালকে সাথে নিয়ে। তারা ভেবেছিল, আমি তাদের মতোই একজন কামলা। আমি আমার ক্ষমতা ও বুদ্ধির মারপ্যাঁচ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন কামাল, স্বপন ও চুন্নু মিয়া পেঁচার মতো মুখ নিয়ে আমার সামনে ঘোরে। যে মসজিদের কন্ট্রোলে থাকাকালীন অবস্থায় কামাল আমার কাছে চাঁদা চেয়েছে, সেখানে গত এক বছরে মাত্র একবার নামাজ পড়তে গিয়েছি। এমনিতেই আমার ধর্মবিশ্বাস দুর্বল, তার উপর ধর্মের নামে অধর্ম করার চেষ্টা করলে সেখান থেকে আমি অতি দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নেই।

একবার নামাজ পড়ে পরে আর সেখানে না যাওয়ার প্রথম কারণ অবশ্য চুন্নু মিয়া বা হযরত নয়, ঐ মসজিদের ঈমাম যে বয়সে যথেষ্ট ইয়াং। আসলে তার বাপ এতোদিন ঈমাম ছিল সেখানে, বাপ রিটায়ার করায় ছেলে এখন ঈমাম হয়েছে। টিনের তৈরি মসজিদটা নির্মাণ করা হয়েছিল ধর্মব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। তাই বুইড়া হুজুর প্রথমে মসজিদটা ওয়াকফ্ দিবে এরকম বললেও পরে পল্টি নেয়ার চেষ্টা করেছে। সবশেষে জনগণের চাপে পড়ে সেটা ওয়াকফ্ ঠিকই দিয়েছে। যাই হোক, ধর্মব্যবসা করার উদ্দেশ্যে যে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে যেতে আমার বিবেকে বাঁধে। তাও যেতাম যদি না সীমানা নিয়ে হুজুরের ছেলে, মানে নতুন ঈমাম আমার সাথে খারাপ ব্যবহার না করতেন।

তিনি চেয়েছিলেন, ড্রেন যাতে একতরফাভাবে আমার জমির উপর দিয়ে যায়! সেটা কি হয় বলেন?! রাস্তা বা ড্রেনের জায়গা সবসময় দুই পক্ষকেই ছাড়তে হয়। শুধু এক পক্ষের জমি দিয়ে রাস্তা বা ড্রেন হয়েছে এরকম কেস খুব র‍্যায়ার। যাই হোক, ঝগড়ার সময় সাংসারিক কথা নিয়ে ব্যঙ্গ নাও করতে পারতেন ঐ ভণ্ড হুজুর। সে আমাকে বলে, ‘আপনাকে তো আপনার বউই পছন্দ করে না!’ হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, আমার বউয়ের সাথে আমার মাঝে মাঝে বাকবিতণ্ডা বা ঝগড়া হয়। তবে সেটা নিয়ে আমার চেয়ে বয়সে দশ বছরের ছোট কোনো লোক আমাকে ব্যঙ্গ করতে পারে না, বিশেষ করে সে যদি অবিবাহিত হয়।

তাই তখন নামাজে যাওয়া বাদ দিলাম। কিন্তু শুনতে পেলাম যে, বুইড়া হুজুর নাকি এতে বেশ মানসিক কষ্ট পেয়েছেন। তখন ঠিক করলাম, বুইড়ার জন্য হলেও আবার নামাজে যাব; ঠিক তখনি বাদ সাধলো বি.বাড়িয়ার হযরত ও তার আত্মীয়-স্বজনেরা। বুঝলাম, তার নিকটজনেরা যে আমার বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে বেশি, এটা একটা বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশবিশেষ; হযরত চাচ্ছে আমার সাথে ক্যাঁচাল লাগাতে। সে আমার চেয়ে বড় মাপের ক্যাঁচালবাজ, আর তার বউও একেবারে মার্কামারা। কিছুদিন আগে হযরত নাকি তার বউকে মৌখিক তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। ঐ খানকি মহিলা আবার কোন হাসপাতালের জানি নার্স! সে বেশ কিছুদিন বাইরে বাইরেই ছিল, কোথায় কোথায় যেন!

তখন হযরত তার বউকে পুনরায় ঘরে উঠিয়ে নেয়ার জন্য হিল্লে বিয়ের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয় ইয়াং হুজুরের কাছে। সে অবিবাহিত হওয়ায় লজ্জা পেয়ে বুড়ো হুজুরের কাছে যাওয়ার জন্য সুপারিশ করে। এসব শুনে আমি মনে মনে ভেবেছিলাম, ‘হযরত আমার কাছে আসে না কেন?! আমি তার বউকে একরাত ইউজ করে তার জন্য পুনরায় হালাল করে দিব।’

যাই হোক, মেইন কথা হলো, হযরতের নিকটজনদের অত্যাচারে আমি পুনরায় মসজিদে যাওয়ার প্ল্যান বাদ দিলাম। কারণ বুঝতে পারলাম যে, মসজিদে গেলে, হযরত, চুন্নু মিয়া, কামাল – এদের সবাইকে সন্তুষ্ট ও মান্য করে চলতে হবে। এরা বয়সে আমার চেয়ে বড় হলেও বিশাল বেয়াদব ও ধান্ধাবাজ একেকটা। নতুন বউ যেমন শ্বশুরবাড়ির সবাইকে তোঁয়াজ করে চলে, সেভাবে বি.বাড়িয়ার এই বেয়াদবগুলোকে মান্য করতে রাজি নই আমি।

https://www.youtube.com/watch?v=w7OpguhWszo

পল্টিবাজি ও দুই নৌকায় পা

বি.বাড়িয়া মানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া আগে নাকি বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই বি.বাড়িয়ার বেশিরভাগ লোকজন এখনো নিজেদেরকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের লোক ভেবে স্বস্তি পায়। তাদের কথ্যভাষার মধ্যে উত্তর কুমিল্লার (হোমনা, দাউদকান্দি, মুরাদনগর) টান আছে, আবার বৃহত্তর ময়মনসিংহ-নরসিংদী অঞ্চলের টানও আছে। তবে তারা ইদানিং কুমিল্লার টান যথাসম্ভব পরিহার করে কেবল ময়মনসিংহ-নরসিংদী উচ্চারণে কথা বলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে আছে, নটর ডেমের টিচার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, পাঞ্জেরীর এক সময়কার প্রুফরিডার সজীব ও তার বন্ধু ফখরুল (ওরফে মাইকেল) – এদের সবার কথার উচ্চারণেই একটা ঠাস্-ঠাস্ টান ও ভাব আছে।

এখনো যদি বি.বাড়িয়ার কাউকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা কি বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ, নাকি বৃহত্তর ময়মনসিংহের?’ তখন তারা উত্তরে বলবে, ‘আমরা তো আসলে ময়মনসিংহের অংশই ছিলাম; দেখছেন না, আমার কথ্যভাষার মধ্যে ময়মনসিংহ-নরসিংদী অঞ্চলের টান কতটা তীব্র?! এখন প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে আমাদেরকে বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ ধরেছে, এ বিষয়ে আমাদের কী করার আছে?!’ অর্থাৎ তারা বলতে চাইবে যে, তাদেরকে জোর করে বৃহত্তর কুমিল্লার অংশ বানানো হয়েছে।

তাই নিজেরা (পুরুষেরা) যখন জেলার বাইরে বিয়ে করে, তখন তারা বৃহত্তর ময়মনসিংহ-নরসিংদী এলাকায় বিয়ে করার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপঃ লেদার টেকনোলজিস্ট মুশতাকের শ্বশুরবাড়ি ছিল টাঙ্গাইলে, যা ময়মনসিংহের পাশের জেলা এবং অনেকটা অবিচ্ছেদ্য অংশও বলা চলে। তাই তো, দুই-তিন বছর আগে সরকার চেয়েছিল, টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে দিয়ে দিতে। কিন্তু নিজেদের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ কমে যাবে এবং নিজ জেলার মেয়েদেরকে ঢাকা বিভাগের ছেলেদের সাথে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে, তাই টাঙ্গাইলের লোকজন জোর-জবরদস্তি ও ব্যাপক আন্দোলন করে ঢাকা বিভাগেই থেকে গেল।

যাই হোক, বি.বাড়িয়ার পুরুষদের জেলার বাইরের বিয়ের আরেকটা উদাহরণ দেই। পাঠকবৃন্দ, আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না, কয়েক বছর আগে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে মাটিকাটা এলাকায় এক নব দম্পতির মধ্যে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিল। কী কারণে জানি, স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে বউয়ের ডান হাতে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়েছিল, তাতে বউয়ের হাতের চারটি আঙ্গুল পড়ে যায়। বউটি ছিল নরসিংদীর আর স্বামীটি ছিল বি.বাড়িয়ার।

বি.বাড়িয়ার পুরুষেরা আবার যখন নিজেদের বোন, মেয়ে কিংবা ভাগ্নির বিয়ে দিতে যায়, তখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ-নরসিংদীর সাথে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’তে পেরে না উঠে সস্তা খোঁজে, অর্থাৎ কুমিল্লার পাত্রদের দিকে হাত বাড়ায়, তাদেরকে ‘দেশী লোক’ হিসেবে পরিচয় দেয়। এ যেন একই ব্যক্তি দুই নৌকায় দাঁড়িয়ে। বি.বাড়িয়ার লোকজন এত ধূর্ত ও ধান্ধাবাজ যে, সে রকম কোনো ভিত্তি বা বেইস বা কারণ না থাকা সত্ত্বেও তারা দেশের সবচেয়ে ধনী দশটি জেলার মধ্যে থাকতে পেরেছে – সম্প্রতি প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী।

অবশ্য এইসব সমীক্ষার ‘বেইল’ নাই, কারণ উক্ত লিস্টে মুন্সিগঞ্জের নাম দুই নম্বরে এসেছে। আমার অরিজিনাল হোম ডিস্ট্রিক্ট এই লিস্টে নেই, কিন্তু মুন্সিগঞ্জের বহু ভিখারী ও ভিখারিনীকে দেখেছি আমার জেলার আনাচে কানাচে ভিক্ষা করতে। আর মূলত হতদরিদ্রের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এই লিস্ট বানানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ ও বি.বাড়িয়ার হতদরিদ্ররা যদি অন্য জেলায় গিয়ে ভিক্ষা করে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলাকে আপাতভাবে ধনী মনে হবে সঙ্গত কারণেই!

জাকিয়া বারী মম

বি.বাড়িয়ার এই মাগির বাড়ি আখাউড়াতে। সে একবার লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়েছিল। এমনিতে দেখতে সে খুব সেক্সি, যদিও নাকটা ঠিক উন্নত নয়, অর্থাৎ পারফেক্ট সুন্দরী নয়। যাই হোক, একে ‘মাগি’ বলার কারণটা বলিঃ আর সেটা হলো ঘন ঘন লিভ টুগেদারের সঙ্গী তথা যৌনসঙ্গী বদল করা। এখন কার সাথে সে শোয়, জানি না। তবে কিছুদিন এজাজ মুন্নার সাথে লিভ টুগেদার করেছে; এজাজকে সে ছাড়িয়েছে তাজিনের কাছ থেকে।

তাজিন, এজাজ ও মম – এই তিনজনের জীবন কাহিনীর সাথে মিল আছে কলকাতার টলিউডের নায়িকা মিমি, শুভশ্রী ও পরিচালক-প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর। রাজ ব্যাটা কত গাদ্দার, মিমির সাথে দীর্ঘ সময় লিভ টুগেদার করে পরে বিয়ে করেছে শুভশ্রীকে। এক্ষেত্রে শুভশ্রীকেও ‘পতিতা’ টাইপের একটা গালি না দিলে চলছে না!

যাই হোক, লিভ টুগেদার এবং ঘন ঘন যৌনসঙ্গী বদলানো মিডিয়ার লোকজনের খুবই কমন একটা অভ্যাস, সুতরাং এই আর্টিক্যালে জাকিয়া বারী মম’র প্রসঙ্গটা না আনলেও পারতাম। আসলে একটা ইমেজ বা ছবির দরকার তো আর্টিক্যালটার জন্য, তাই মমকে উল্লেখ করলাম ও তার ছবি ইউজ করলাম। অবশ্য তাকে ‘পতিতা’ বলায় অনুতপ্ত নই আমি, কারণ এটা সে ডিজার্ভ করে।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.