বিজ্ঞানীদের সাংসারিক জীবন যেমনটা হয়

বিজ্ঞানীদের সাংসারিক জীবন সম্ভবত খুব একটা সুখের হয় না। এ কথা ঢালাওভাবে সকল বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও বেশিরভাগ বিজ্ঞানীর জন্যই প্রযোজ্য। এখানে আমরা গুটিকয়েক বিখ্যাত বিজ্ঞানীর জীবনগাথা পর্যবেক্ষণ করি। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের কথাই ধরা যাক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাশ করার পর তাঁর ডিপার্টমেন্টাল সহপাঠী এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সাথে ওনার দাম্পত্যজীবন খুব একটা সুখের হয় নি। আসলে ওনাদের দু’জনার মনমানসিকতায় বিশাল ফারাক ছিল। আইনস্টাইন ছিলেন পুরোপুরি বিজ্ঞানী মানসিকতার আর আত্মভোলা প্রকৃতির, আর ওনার স্ত্রী ছিলেন পুরোপুরি সাংসারিক মানসিকতার। এ ধরনের মানসিকতা আইনস্টাইনের কাছে স্বার্থপর আর নিচু মনে হতো। তাই কয়েকটি বাচ্চাকাচ্চা হওয়ার পরও আইনস্টাইন তাঁর প্রথম স্ত্রীর সাথে বনিবনা করতে পারেন নি। চূড়ান্ত ডিভোর্সের আগে ওনাদের সম্পর্কটা জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে টিকে ছিল। এসময় আইনস্টাইন তাঁর স্ত্রীকে অদ্ভুত সব শর্ত দিয়েছিলেন, যেমনঃ আইনস্টাইন যখন চিন্তামগ্ন থাকবেন বা কাজে ব্যস্ত থাকবেন, তখন স্ত্রী তাঁকে বিরক্ত করতে পারবেন না ইত্যাদি।

একসময় ওনাদের যখন ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল, তখন আইনস্টাইন কথা দিয়েছিলেন যে, নোবেল পুরষ্কারের সমস্ত অর্থই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তানদেরকে দিবেন। এ অর্থের জন্য তাঁদেরকে বহুবছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, কারণ আইনস্টাইন তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত তত্ত্ব আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের জন্য কখনোই নোবেল পান নি। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা উপস্থাপনের জন্য তিনি নোবেল পুরষ্কার পান। আইনস্টাইন কিছুকাল একা থাকলেও একসময় তিনি তাঁর এক ফার্স্ট কাজিন (যেমন, মামাতো, চাচাতো, খালাতো, ফুফাতো বোন) – এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ে করেন। ঐ সংসার সুখের হয়েছিল বলে শোনা যায়।



বিজ্ঞানী নিউটনের কথাই ধরুন, তিনি তো আজীবন বিয়েই করেন নি। এর কারণ হলো, বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের মতো তিনিও আত্মভোলা ছিলেন, যার ফলে তিনি তাঁর প্রেমের কথা প্রিয় বান্ধবীকে কখনোই বলতে পারেন নি। প্রতিদিনই তিনি ভাবতেন,আজই কথাটা বলতে হবে। কিন্তু যেইনা ঐ ভদ্রমহিলা তাঁকে তাঁর গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, তখন তিনি বিস্তারিত লেকচার দিতে শুরু করতেন, আর এভাবেই সময় বয়ে যেত। শেষে নিউটন ভাবতেন, পরের দিন বলবেন; আর ঐ মহিলা ভাবতেন, বেচারা আজও তাঁকে মনের কথাটা বললো না। এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পর ঐ মহিলা ভাবলেন, নিউটন হয়তো তাঁকে ভালোবাসেন না, তাই তখন তিনি হাল ছেড়ে দিয়ে অন্য এক পুরুষকে বিয়ে করে নেন। আর বেচারা নিউটন সেই দুঃখে সারাজীবন চিরকুমার থেকে যান। তাঁর সুখদুখের সাথী ছিল একটি পোষা কুকুর, যা একবার তাঁর আবিষ্কারের নথিপত্রের বেশিরভাগই নষ্ট করে ফেলেছিল।

এবার বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার কথায় আসা যাক। তিনি নারীদের চেয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ড বেশি পছন্দ করতেন। এক স্বীকৃত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর নিউইয়র্কের অনেক বিবাহিতা-অবিবাহিতা নারী তাঁর পিছনে ঘুরঘুর শুরু করে। এদের কাছ থেকে রেহাই পাবার জন্য তথা বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডে অধিকতর মনোনিবেশ করার জন্য তিনি ৪০ বছর বয়সে স্বেচ্ছায় তাঁর পুরুষত্ব নষ্ট করে ফেলেন (হয়তো কোনো অপারেশনের সহায়তা নিয়েছিলেন)। নিজের এ কর্মের জন্য তিনি পরবর্তীতে বহু অনুশোচনা করেছিলেন, কারণ এর কারণে তিনি জীবনে আর বিয়ে করতে পারেন নি। তিনি যেহেতু ৮৭ বছর বেঁচে ছিলেন, সুতরাং জীবনের বেশিরভাগ সময় তাঁকে একা একা অতিবাহিত করতে হয়েছিল। কারণ বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনকে তিনি স্বদেশে (ক্রোয়েশিয়া) রেখে আমেরিকার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি আমেরিকার নিউইয়র্কে ছিলেন।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.