বিএনপি-জামাতের দালাল এই ইলিয়াস চুয়াডাঙ্গা জেলা ও খুলনা বিভাগের কলঙ্ক

শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে, খুলনা বিভাগের লোকজন বোধ হয় দুধে ধোয়া তুলসীপাতা, তাদের মাঝে দু-একটা কলঙ্ক রয়েছে মাত্র। আসলে ব্যাপারটা তা নয়, অন্য যেকোনো বিভাগের মতো খুলনা বিভাগেও ভুরি ভুরি পাপী রয়েছে। কেবল খুলনা বিভাগের ‘তেনারা’ অভিনয়টা একটু ভালো পারেন, এই আর কি!

খুলনা বিভাগের এই অসাধু লোকজনের মধ্যে একজন হলো ইটিভি’র প্রাক্তন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা, বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটে থাকে, সেখানে ট্যাক্সিক্যাব চালায় (বা চালাতো)। তবে ইদানিং সে বিএনপি ও জামাতের হয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজের জন্য নিশ্চয়ই সে বিরাট পেমেন্ট পাচ্ছে, সেটা দিয়েই তার চলে যাওয়ার কথা। গাড়ি চালানোর দরকার দেখি না।

সে সবসময় ইসলামের পক্ষে কথা বলে, এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। আমার আপত্তি হলো, সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল বিএনপি ও জামাতপন্থীদের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ কাজে সে ব্যবহার করছে তার ‘ফিফটিন মিনিটস’ নামক ইউটিউব চ্যানেল।

তারপরও তাকে নিয়ে লিখতাম না হয়তো। কিন্তু সম্প্রতি সে তার একটি ভিডিওতে আয়মান সাদিক ও তার সহযোগীদেরকে পঁচিয়েছে। ‘সমকামিতা’ প্রশ্নবিদ্ধ টার্ম হলেও এটা যদি কেউ সাপোর্ট করে, তবে সে কীভাবে অস্পৃশ্য বা অচ্ছুত হয়ে গেল বা অপরাধ করে ফেললো, সেটা বুঝতে পারলাম না। সমকামিতা যদি কিছু লোকের জন্য অপরিহার্য প্র্যাকটিস হয়, তাহলে সেটার অনুমোদন দিতে সমস্যা কী? সমকামিতা কি বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশে অনুমোদিত নয়?

আমি অবশ্য সমকামিতাকে সরাসরি সাপোর্ট করি না, এ বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও কনফিউজড। তবে আমি লিভ টুগেদারকে সাপোর্ট করি। আমি মনে করি, দেশে বিয়ের বিকল্প হিসেবে লিভ টুগেদার কালচার চালু করতে হবে। তাতে ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং মেয়েরা বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার গোছাবে ও স্বাবলম্বী হবে।

যাই হোক, আয়মান ও তার সহযোগীদেরকে যেভাবে পঁচানোর চেষ্টা করেছে ইলিয়াস, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সে ইসলামের পক্ষে কাজ করছে, দ্যাটস ফাইন। বাট সে জঙ্গীবাদের পক্ষেও কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেখানে তার একটি দুই তলা বাড়ি রয়েছে, সেখানকার নিচতলায় নাকি সে একটা কওমী মাদ্রাসা স্থাপন করেছে এবং সেটার খরচ সে-ই চালায়, এমনটাই স্বীকার করেছে সে নিজের একটি ভিডিওতে।

আয়মান সাদিক এবং রবি টেন মিনিট স্কুলের বিরুদ্ধে ইলিয়াস কীভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি নিম্নে দেওয়া হলোঃ

ইলিয়াস যে এখন পুতঃপবিত্র সাজার চেষ্টা করছে, সেটা দেখে ভুলে গেলে চলবে না যে, সে কীভাবে বা কোন কারণে একুশে টিভি থেকে বহিষ্কার হয়েছিল। সে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় বসবাসকারী একজন বরিশাইল্লা বহুগামী টাইপের মহিলার পিছে লেগেছিল। ঐ মহিলার স্বামী বিদেশে থাকতো এবং মহিলা কীভাবে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া করে বেড়াতো, সেটা ইলিয়াস একুশে টিভির ক্রাইম রিপোর্টের একটা পর্বে ফুটিয়ে তুলেছিল। যেসব মহিলার স্বামী প্রবাসী, তাদের অনেকে এসব করে বেড়ায়, সেটা নতুন কিছু নয় – এটা নিয়ে রিপোর্ট না বানিয়ে ইলিয়াসের উচিত ছিল অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে রিপোর্ট বানানো, যেমনঃ ভেজাল, চোরাকারবারী, মজুতদারী বা সরকারের বিরুদ্ধে (যদি সে সময় সেটা করার সাহস তার থাকতো !)।

সে যে বাড়াবাড়িটা করেছে, সেটা হলো – এক পুরুষের সাথে ঐ বরিশাইল্লা মহিলার চুমাচুমি ও ডলাডলির দৃশ্য সে নেগেটিভ ফর্মেটে একুশে টিভির পর্দায় হাজির করেছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মহিলা তার নামে এবং একুশে টিভির তৎকালীন পরিচালক আব্দুস সালামের নামে পর্নোগ্রাফি ধারায় মামলা করে। এতে ইলিয়াস চাকুরি হারায় এবং সালামসহ সে জেলে যায়। এ ঘটনায় সালাম একুশে টিভির কর্তৃত্ব হারায়। পরে আওয়ামী সরকার যখন ইলিয়াসকে বিএনপি ও জামাতের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

যাই হোক, ইলিয়াস, তুমি যদি আয়মান সাদিকের বিরুদ্ধে না লাগতে, তাহলে তোমার বিরুদ্ধেও আমি লিখতাম না। তোমাকে আমি ‘কুমিল্লা হেটার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান হিসেবে আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি না। ‘কুমিল্লা হেটার’দের বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত হয়েছে।

কারণের পেছনে রয়েছে আরো কার্যকারণ

তবে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়া ছাড়াও আরো এক কারণে আমি আয়মানকে সমর্থন করছি, সেটা হলো – আমি ‘লিভ টুগেদার’ কালচার এর সমর্থক, যেমনটা আমি আগে জানিয়েছি। হ্যাঁ, আমি একজন নাস্তিক এবং ধর্মবিরোধী। আমি মনে করি, ধর্ম হলো ডিজিজ বা ভাইরাস এবং এক প্রকার ব্রেইন ওয়াশ। দেশবাসীকে এই ভাইরাস ও ব্রেইন ওয়াশের কবল থেকে উদ্ধার করতে হবে, তাদেরকে উন্নত জীবন প্রদান করতে হবে। মানুষ কেন ধর্মের প্রতি আসক্ত হয় বা ধর্মকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়, সেটা নিয়ে আমি খুব শীঘ্রই একটি আর্টিক্যাল লিখতে যাচ্ছি।

ইলিয়াস, তোমার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত আরেক ‘কুমিল্লা হেটার’ কর্তৃক আমি নিগ্রহের শিকার হয়েছিলাম, কেবল জন্মসূত্রে বৃহত্তর কুমিল্লার বাসিন্দা হওয়ার কারণে। সেটা হলো ২০১১ সালে যখন আমি জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরি করতাম, তখনকার কথা। লোকটার নাম রফিকুল ইসলাম জীবন, বয়স বর্তমানে প্রায় ৪১/৪২। তার কারণে বুয়েট থেকে আগত কেউই জুপিটারে টিকতে পারতো না। তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস হলো, রফিকও সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি। ‘বাসেত’ নামক এক কৌশলী বুয়েটিয়ান কর্তৃক সে বিতাড়িত হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.