ফর্সা মোটা পেটখোলা রোজাদার মহিলার অশোভন আচরণ

যে মহিলার কথা বলছি সে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে নরসিংদীর পাঁচদোনায় যাচ্ছিল বিআরটিসি এসি বাসে করে, যেখানে আমি তার সামনের সিটে বসেছিলাম। রোজার দিন বিকেল বেলা ছিল, আমি রোজা রাখি নি (কারণটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত), বাসে ওঠার আগে ৫০ টাকা দিয়ে একটি ডাব কিনে খেয়েছিলাম। ইফতারির সময়ের আধাঘণ্টা যখন বাকি তখন আমি সামনের সিটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ইফতারির সময় কাঞ্চন ব্রীজের কাছে বাস থামাল ইফতারির জন্য। সবাই নেমে গেলেও আমি ঘুমের ঘোরে থাকায় সেটা টের পাই নি, আমি আগের মতোই ঘুমাচ্ছিলাম।



তবে বাস থামানোর প্রায় ৫-৭ মিনিট পর কীভাবে যেন টের পেলাম, পাশের সিটের যাত্রীরা নেমে গেছে। আমি চোখ খুলে দেখলাম, বাস প্রায় খালি; ভাবলাম, বেশির ভাগ যাত্রী এই স্টপেজে নেমে গেছে। মনে মনে খুশি হলাম, কারণ এখন আমি আরো ভালো একটা সিট পাব। তখন নিজের সিট থেকে উঠে গিয়ে পাশের সারিতে এক ধাপ পিছনে বসলাম, আর লক্ষ্য করলাম, পাশের সিটের সারি থেকে একটা ফর্সা, মোটা, পেটখোলা (শাড়িপরিহিত) মহিলা আমার দিকে চেয়ে আছে। তখনই বুঝতে পারলাম যে, ইফতার ব্রেক চলছিল। বুঝতে পারলাম, মহিলার স্বামী বা ভাই কেউ হয়তো ইফতারি আনার জন্য বাস থেকে নেমেছে।

মহিলার পেট এরকম খোলাই ছিল, তবে সে আরো মোটা ও ফর্সা ছিল

আমার মন চাচ্ছিলো মহিলার পেটখোলা অংশের দিকে তাকিয়ে থাকতে, তবে সে কী মনে করে, বা ধমক দিয়ে বসে কিনা, সে ভয়ে সেদিকে আর তাকালাম না। যাই হোক, কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, মহিলা সম্ভবতঃ রোজা রেখেছিল; ভাবলাম, রোজা রেখে এ ধরনের ড্রেসআপে সে কীভাবে চলাফেরা করছে?! তার রোজা আদৌ কবুল হবে তো?! তার স্বামী ইফতারি নিয়ে আসার পর দু’জনেই ইফতার খাবার দিকে মনোনিবেশ করলো, এসময় ঠাণ্ডা পানি বা ড্রিংক খেয়ে মহিলা এমন আচরণ করা শুরু করলো যেন, দীর্ঘ যৌনসঙ্গমের পর তার এখন অর্গাজম বা রসক্ষরণ হচ্ছে! সে আবেগপ্রবণ ভাবে সিটে গা এলিয়ে দিয়ে অনেকটা যৌনশিৎকারের ভঙ্গিতে বলতে লাগলো, ‘আহ! আহ! প্রাণডা জুড়াইয়া যাইতাছে!’ বুঝলাম, পয়সাওয়ালা ফ্যামিলির মহিলা হলেও আসলে একেবারেই ক্ষ্যাত, কোনো ম্যানার জানে না। হয়তো এমন টাইপের ফ্যামিলির সদস্য যাদের এলাকায় বড় মুদির দোকান বা মিষ্টির দোকান আছে, যা তুমুল ব্যবসা করে, কিন্তু শিক্ষাদীক্ষায় একেবারে জিরো।

যাই হোক, লোকজনকে ধীরে ধীরে পুনরায় বাসে উঠতে দেখে আমি আমার আগের সিটে ফিরে গেলাম, মহিলা ও তার স্বামী কী করছে সেদিকে মাথা ঘামানোর ইচ্ছে ছিল না। করুক তারা যা ইচ্ছা, নতুন টাকা আছে, ইনজয় করুক! কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে যে আমাকে উদ্দেশ্য করে খারাপ মন্তব্য করা শুরু করবে, সেটা আমি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারি নি। আমি তাদের ফ্যামিলি বা সোশ্যাল স্ট্যাটাস বুঝে ফেললেও এমনকিও তাদেরকে লো-ক্লাস মনে করলেও তাদের দিকে তাকাই-ই নি বলতে গেলে (শুধু একবার তাকিয়ে ছিলাম মহিলার দিকে, সেটাও এক সেকেন্ডের জন্য)। এধরনের ক্ষেত্রে অনেকেই যেমন বাজে একটা লুক দেয়, সে ধরনের লুক আমি চরম বিরক্ত হলেও দেই না (না দেয়ার চেষ্টা করি)। কারণ দেশে এমন ক্ষ্যাত টাইপের ফ্যামিলি বহুত আছে, তাদের প্রতি এভাবে বিরক্তি প্রকাশ করতে থাকলে আমার এনার্জিতে নাও কুলাতে পারে।

ব্যাপারটা হলো এই যে. আমাকে ইফতার করতে না দেখে তাদের ধারণা হলো, আমি হিন্দু। হয়তো সারাদিন অভুক্ত থেকে ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে মহিলার পেটে মোচড় দিয়েছিল, তাই তার মেজাজ বিগড়ে গেল, এখন ঝাল তো কারোর উপর মেটাতে হবে। তখন সে আমাকে শুনিয়ে তার স্বামীর উদ্দেশ্যে বলতে থাকলো, ‘হিন্দুগুলা খাটাশ, হেগো টেকা থাকলেও খায় না। আল্লায় হেগো খালি টেকাই দিছে, খাওনের কপাল দেয় নাই।’ আরো কিছু বললে হয়তো আমি মহিলাকে দেখে নিতাম, কিন্তু সম্ভবতঃ সে আর কিছু বলে নি। আমি মনে মনে বলি, ‘ফকিন্নি, বাসে ওঠার আগে আমি ৫০ টাকা দিয়ে ডাব খেয়েছি, তোরা একেকজনে ৫০ টাকার ইফতারি খেয়েছিস্ তো?’

https://www.youtube.com/watch?v=qzH-qWXLy1k

বোঝেন তাহলে, এই হলো দেশের অবস্থা! মুসলমানেরা সুযোগ পেলেই হিন্দু ও অন্যান্য বিধর্মীদেরকে পদে পদে অপমান করে। নামাজের পর বিশেষ করে জুমআর নামাজের পর মুসল্লিরা এমন বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মসজিদ থেকে বের হয়, যেন তারা ছাড়া আর কারো দুনিয়ায় বেঁচে থাকার অধিকার নেই। রাস্তায় তারা তখন যাদেরকে দেখতে পায় (অমুসল্লি), তাদের দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, তাদেরকে কাফের, হিন্দু ও মুর্তাদ মনে করে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে থুতুও ফেলে। এমনকি এসময় এসকল মুসল্লির সামনে দিয়ে হাঁটাও যায় না, তারা কাঁধে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়; মনে হয়, এ ধাক্কা দেয়ার অধিকার বাংলাদেশের সংবিধান তাদেরকে দিয়েছে। তাই এসময় তাদের ধাক্কার হাত হতে বাঁচতে সন্তর্পণে তাদেরকে পাশ কাটিয়ে তাদের চোখ এড়িয়ে চলে যেতে হয় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

হিন্দুরাও অবশ্য কম যায় না, তারাও মুসলমানদেরকে সুযোগ পেলে অপমান ও অপদস্থ করতে ছাড়ে না। এধরনের বহু অভিজ্ঞতাই আমার রয়েছে। আমি বর্তমানে যে গ্রামে থাকি, সেখানে বহু হিন্দু রয়েছে। তাদের কাছে সবচেয়ে শিক্ষিত লোক হলো, তাদের সম্প্রদায়ের শ্যামল ডাক্তার বা বিজয় ইঞ্জিনিয়ার। শ্যামল ডাক্তার অবশ্য এ গ্রামের সন্তান হলেও এখানে আর থাকেন না, ঢাকায় থাকেন সম্ভবতঃ। আর বিজয় ইঞ্জিনিয়ার ডেসকোতে ছিলেন এক সময়, ব্যাপক দুর্নীতি করে অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন, অথচ ছাত্রজীবনে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতই খেতে পেতেন না। আমি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার -এর কোনোটাই না, আমি বলতে গেলে একজন লেখক/সম্পাদক। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্টিফিকেট আমার আছে, আর সেটা হলো বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের। তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমার সার্টিফিকেটের ওজন কতটুকু, সেটা নিশ্চয়ই শ্যামল ডাক্তার বা বিজয় ইঞ্জিনিয়ারের সার্টিফিকেটের চেয়ে কম না।

সার্টিফিকেটের ব্যাপারটা বাদ দিলেও আমি অত্যন্ত বিদ্বান একজন লোক, আমার পেটে বিভিন্ন বিষয়ের টোটাল যে পরিমাণ বিদ্যা আছে, তার অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যাও শ্যামল ডাক্তার বা বিজয় ইঞ্জিনিয়ারের পেটে নেই। কারণ আমার পেটে এমন কিছু বিদ্যা আছে, যা বইপুস্তকে পাওয়া যায় না, সেগুলো আমি দীর্ঘদিন চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করে বের করেছি (এখন সেগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশের চিন্তাভাবনা করছি)। এ বিদ্যাগুলো আমার পেটে এসেছে অনেকটা বুদ্ধদেবের মতো, তিনি দীর্ঘদিন ধ্যান করে জীবন সম্পর্কে যেমন কিছু বোধি লাভ করেছিলেন, সে রকম। সো বুঝতেই পারছেন, আমি এখন বুদ্ধদেবের লেভেলে চলে গেছি। তা সত্ত্বেও দেশে আমার চেয়ে বেশি বিদ্বান গুটিকয়েক লোক থাকতে পারে, তবে সেটা আমার এলাকার হিন্দু গ্রামবাসীর প্রিয় ব্যক্তি শ্যামল ডাক্তার বা বিজয় ইঞ্জিনিয়ার নয়।

কিছুদিন আগে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী টাইপের একজন আমাকে প্রশ্ন করলো (তখন আমি পিঠা কিনছিলাম), ‘ভাই, আপনে কী কাজ করেন গো?’ আমি তখন বললাম, ‘আমি কী কাজ করি, সেটা বললে কি তুমি বুঝবা? ধইরা নেও, আমি এই গ্রামের সবচেয়ে বিদ্বান লোক।’ এসময় ঐ পিঠাওয়ালাসহ আরো দু’-একজন হিন্দু লোক আমার এ কথাটা শুনেছিল। আমার কথা শুনে তাদের পিত্তি জ্বলে উঠেছিল নিশ্চয়ই, তাই তো কথাটা অন্যান্য হিন্দু লোকজনের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে এটা নিশ্চিত করলো যে, তারা যেন আগের তুলনায় আরো বেশি পরিমাণে আমার পিছনে লেগে থাকে। হ্যাঁ, এ ঘটনার পর থেকেই লক্ষ্য করলাম, এলাকার হিন্দুরা আমার পিছনে আরো বেশি পরিমাণে লেগে আছে; তারা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে আমাকে উত্ত্যক্ত-বিরক্ত করছে। সেগুলো সব উদাহরণ দিয়ে বুঝানো সম্ভব নয়।

তাই আমার প্রশ্ন হলো, এ দেশের হিন্দু ও মুসলিমেরা কবে একে-অপরকে কামড়াকামড়ি থামাবে? আরেকটা ব্যাপার হলো এই যে, এর আগের একটি আর্টিক্যালে আমি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা ও থানা নিয়ে একটা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম যে, ‘কুমিল্লার ইতর’ বলতে আসলে এদেরকে বুঝায়। এ জেলা ও থানাগুলো উত্তর কুমিল্লার কাছাকাছি। লক্ষ্যণীয় যে, এর মধ্যে সম্পূর্ণ নরসিংদী জেলা রয়েছে, আর এ প্রবন্ধের শুরুতে যে মোটা ও ফর্সা মহিলার কথা বলেছিলাম, তার বাড়িও খুব সম্ভবতঃ নরসিংদীতে। কারণ, তাদের কথাবার্তা, আঞ্চলিক টান ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে এটা স্পষ্ট ছিল যে, সে ও তার স্বামী ঢাকাতে তাদের মিশন শেষ করে বাড়ি ফিরছিল।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.