প্রচলিত বেশিরভাগ ধর্ম কল্পকাহিনী বা ফিকশননির্ভর

বেশিরভাগ বললাম এই কারণে যে, নাস্তিক্যবাদ নিজেও একটি ধর্ম। তবে এটি এখন পর্যন্ত সত্যতম ও সঠিকতম ধর্ম। নাস্তিক্যবাদ মানে ধর্মহীনতা বা নীতিহীনতা নয়, সত্যিকার একজন নাস্তিক অবশ্যই নীতিবান।

ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, সনাতন, ইহুদীবাদ – এসকল ধর্ম ফিকশন বা কল্পকাহিনীনির্ভর, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং বিজ্ঞান দ্বারা পুরোপুরি অসমর্থিত। মোহাম্মদের মিরাজ, তার অঙ্গুলি হেলনে চাঁদের দ্বিখণ্ডিত হওয়া, যীশু ঈশ্বরের পুত্র হওয়া, মুসা ও তার অনুসারীদের নীলনদ পার হওয়া, ইব্রাহিমকে আগুনে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও কোনো ক্ষতি না ঘটা, আদমের বেহেশত থেকে বিতাড়িত হওয়া, হনুমান কর্তৃক সম্পূর্ণ পাহাড় কাঁধে করে নিয়ে আসা – এর সবই ফিকশন বা কল্পকাহিনী। 

ভাগ্য ভালো যে, পৃথিবীর সব ফিকশন থেকে এক একটি ধর্মের উদ্ভব হয় নি। তা যদি হতো, তাহলে দেবতা জিউস ও তাঁর পুত্র হারকিউলিসের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে পৃথিবীর বুকে হয়তো আরেকটি ধর্মের উদ্ভব ঘটতো, যে ধর্মের অনুসারীরা কাল্পনিক দেবতা জিউস এবং তাঁর মানবরূপী পূত্র হারকিউলিসকে পূজা করতো। শুধু তাই নয়, না জানি আরো কত শত ধর্মের উদ্ভব ঘটতো এই ধরণীর বুকে! সেটা হলে অবশ্য ভালো হতো। তাহলে ১৮০ কোটি মানুষের ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে মুসলিমরা পৃথিবীজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারতো না। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের ধর্ম বলে ক্রিশ্চিয়ানিটি নিয়ে গর্ব করতে পারতো না খ্রিস্টানরা। 

ফিকশন নির্ভর নয় এরকম ধর্ম অবশ্য আছে দু’ একটি, যেমনঃ বৌদ্ধ ধর্ম। কিন্তু আজ হতে আড়াই হাজার বছর আগে গৌতমবুদ্ধ যে জীবনাদর্শ দিয়ে গেছেন, তার বেশিরভাগই আজ বিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান। বুদ্ধ কেবল একটি জীবনাদর্শের কথা বলে গেছেন, যা অনুসরণ করলে মানবতার মুক্তি মেলা সম্ভব; তিনি কোনো ঈশ্বরের কথা বলে যান নি। অথচ আজ পৃথিবীর বেশিরভাগ বৌদ্ধরা (কাল্পনিক) ঈশ্বরে বিশ্বাস করে। তাই এই বিকৃত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়েও লাভ নেই। বৌদ্ধ ধর্ম যদি সত্যিই অহিংসার ধর্ম হতো, তাহলে এ ধর্মের অ্যাম্বাস্যাডররা অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা স্বয়ং অকাতরে মানুষ হত্যা করতে পারতো না, মায়ানমারে। 

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্ম, ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ানিটি, হিন্দুইজম, ইহুদী – প্রচলিত এ সকল ধর্ম অকেজো এবং অর্থহীন, এগুলো মানব সম্প্রদায়ের আর কোনো কাজে আসবে না। ধর্ম যদি বেছে নিতে হয়, তাহলে সেটি হলো নাস্তিকতা, এটিই মানবতার ধর্ম। কারণ মানুষ হিসেবে পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হলে বিবেক ও বুদ্ধি অপরিহার্য। কোনো বিবেকবান ও বুদ্ধিমান মানুষ কল্পকাহিনী নির্ভর ধর্মগুলোকে সমর্থন করতে পারেন না, সেগুলোর কোনোটিকে অনুসরণ করতে পারেন না।

মুসার অঙ্গুলী হেলনে নাকি এভাবেই সাগরের পানি দু’ভাগ হয়েছিল, ব্যাপারটা পুরোই হাস্যকর। তথাকথিত নবী-রাসূলরা জাদুকর নাকি ‘স্পেশাল’? স্রষ্টাই যদি তাদেরকে স্পেশাল বানিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করে থাকেন, তাহলে তারা ‘সাধারণ’ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন কীভাবে?!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.