প্রকৃত পাপ বনাম অলীক পাপ

মানুষ হত্যা করা, কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, নিরীহ কারো সাথে ধোঁকাবাজি করা, মানুষের মনে অকারণে কষ্ট দেওয়া, চুরি করা, ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ খাওয়া – এগুলো হলো প্রকৃত পাপ। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাতে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয়, সেটা হলো প্রকৃত পাপ। 

কিন্তু সেক্স করা, হস্তমৈথুন করা, মদ খাওয়া, সুদ খাওয়া – এসব কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের ক্ষতি হয় না, আনলেস আপনি মদ খেয়ে গাড়ি চালান বা মাতলামি করে কারো বিরক্তির কারণ হচ্ছেন। তাই উল্লিখিত কর্মকাণ্ডগুলো প্রকৃত পাপ নয় (যেমনঃ আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে সেক্স করলে এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না), এগুলো হলো অলীক পাপ । অর্থাৎ এগুলো পাপ না হওয়া সত্ত্বেও ধর্ম, সমাজ এগুলোকে ‘পাপ’ বানিয়ে রেখে দিয়েছে। 

সমাজ মূলত চালায় মুরব্বীরা; তাঁরা নিজেরা যখন যৌবনে ছিলেন, তখন বিভিন্ন ধরনের ফূর্তি করেছেন। কিন্তু বয়স হওয়ার ফলে যেই না তাদের যৌনক্ষমতা কমে গেল এবং লিভারে পচঁন ধরায় মদ্যপানের ক্ষমতাও কমে গেল, তখন তারা ইয়াং জেনারেশনকে ফূর্তি করতে ও লাইফ এনজয় করতে দেবেন না – এমনটা বন্ধপরিকর হলেন। তখন তাঁরা ধর্মের দোহাই দিতে লাগলেন।

প্রচলিত ধর্মগুলোর উদ্ভব হয়েছে অসামাজিক টাইপের মানুষের দ্বারা, যেমনঃ মোহাম্মদ, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখ। মোহাম্মদ নিজ সমাজের ছেলেপুলেদের সাথে মিশতে পারতো না, তাদের সাথে মিলে এনজয় করতে পারতো না, তাই সে সবাইকে নিজের মতো করে বানানোর উদ্দেশ্যে ধর্ম আবিষ্কার করেছে। যে এনজয় সে নিজে করতে পারে নি, সেটা সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাউকে করতে দেবে না – এটাই ছিল তার মাস্টারপ্ল্যান। অনাচারের কথা যদি সে বলে, তাহলে বলতে হয় – অনাচার যুগে যুগে সব সমাজেই ছিল, কমবেশি। তাই বলে সমাজচ্যুত হওয়া ঠিক নয়, সমাজচ্যুত হওয়াটাই সবচেয়ে বড় মাপের একটা পাপ।

স্রষ্টার উপাসনা না করাও একটি অলীক পাপ। কারণ আপনি স্রষ্টার উপাসনা না করলে তার তেমন কী ক্ষতি হবে? (যদি সে একজিস্ট করেও)। আর সাধারণ লোকজনেরই বা কী ক্ষতি হবে? তদুপরি, স্রষ্টা যদি থেকেও থাকে, সে উপাসনার এত কাঙাল কেন? আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি দুনিয়াতে আসার জন্য কাউকে রিকোয়েস্ট করি নি, তাই পৃথিবীতে এসে কাউকে উপাসনা করার প্রয়োজন আমার নেই। এবার আপনি নিজে ভেবে দেখুন, আপনি কি কাউকে অনুরোধ করে পৃথিবীতে এসেছেন? মনে হয় না। তাহলে তথাকথিত স্রষ্টার উপাসনা কেন করবেন?

আপনি নামাজ, রোজা না করলে, মূর্তিপূজা না করলে কারো কোনো ক্ষতি হবে না, তাই এই তথাকথিত পাপগুলো হলো অলীক পাপ, অর্থাৎ আদতে পাপ নয়। তাই বলি, যেগুলো প্রকৃত পাপ, কেবল সেগুলো করবেন না, যেমনঃ মানুষ হত্যা করা, মানুষের মনে শুধুশুধু কষ্ট দেওয়া প্রভৃতি। এরকম কয়েকটি প্রকৃত পাপের নাম নিবন্ধের শুরুতেই উল্লিখিত হয়েছে। আর অলীক পাপগুলো করুন, যেমনঃ প্রেম-পরকীয়া-সেক্স করুন, ঘনঘন যৌনসঙ্গী বদলান, হস্তমৈথুন করুন, সুদ খান, উপাসনা তথা নামাজ-রোযা পরিহার করুন ইত্যাদি। তবে লাইফ এনজয় করলেও তা একটু হিসাব করে করবেন। যেমনঃ ঘনঘন যৌনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন সঙ্গী বেছে নিন, যার যৌনরোগ নেই। হস্তমৈথুন করলেও তা স্বল্পমাত্রায় করুন। তাহলে এসকল ‘অলীক’ পাপের জন্য ভবিষ্যতে আপনাকে কখনো ভুগতে হবে না।

ছুরি হলো প্রকৃত পাপ সংঘটনের একটি মোক্ষম অস্ত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.