পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে পরিচালনা করার মত কয়েকটি অভিনব ব্যবসা আইডিয়া

ব্যবসা করতে চান, প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে চান, কিন্তু বাঁধাধরা নিয়ম মেনে অফিস করতে চান না! এমন হলে তো মন্দ হয় না! সুযোগ থাকলে এমন ব্যবসা কে না করতে চাইবে? শুনতে অবাক লাগলেও সত্য যে, এমন অনেক ব্যবসা আছে যা করতে কার্যত কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না, কোনো অফিস লাগে না, এমনকি ঘন্টা ধরে নিয়ম করে কাজও করা লাগে না অথচ রোজগার করা যায় লক্ষ লক্ষ টাকা!

নিশ্চয়ই আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে কিভাবে এটা সম্ভব? এমন অসম্ভবই সম্ভব করে দেখিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির মারিয়া ডেকট্রা। তিনি ডিজিটাল পদ্ধতি উন্নয়ন বিষয়ক এসেন্সি ‘ট্রিডিজিটাল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। এমনকি তার কর্মীরা যে কোনো জায়গায় বসে যেকোন পোশাকে অফিস করতে পারেন।

আজ আমি আপনাদের এমন কিছু অভিনব ব্যবসার কথা জানাবো যা আপনি আজই শূন্য হাতে আপনার শোবার ঘরে বসেই শুরু করতে পারেন। আর পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো পোশাকে পরিচালনা করতে পারেন এবং একই সাথে রোজগার করতে পারেন লক্ষ লক্ষ টাকা।




১. ওয়েবসাইট ডিজাইন

একজন ওয়েব ডিজাইনার হতে খুব বেশি কিছুর দরকার হয় না, দরকার হয় শুধু একটি ল্যাপটপ, একটা হার্ডড্রাইভ ও ওয়াইফাই ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, সাথে একটি কোম্পানি ওয়েবসাইট। ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কিত একটি কোম্পানি পরিচালনা করতে এ ছাড়া আর কোন গোপন জিনিসের প্রয়োজন হয় না। আসল কথা হলো ওয়েব ডিজাইন এক ধরণের দক্ষতা যা একটি ল্যাপটপ হাতে নিয়ে যে কোন জায়গা থেকে করা যায় আর অনলাইনেই টাকাপয়সা রোজগার করা যায়।

হোয়াইট মিডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও মালিক মাইকেল হোয়াইট এ বিষয়ে বলেন, “আপনার ওয়েবসাইট হলো আপনার প্রথম পরিচয়।”

আপনার যদি প্রয়োজনীয় সব কোডিং দক্ষতা নাও থাকে তবুও বিচলিত হবেন না। মাইকেল হোয়াইটের মতে, কাজ জানার চেয়ে সৃজনশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোডিং আর এসইও আপনি বিভিন্ন ক্লাস, সেমিনার, অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও নিজের প্রচেষ্টায় অল্প দিনেই শিখে নিতে পারবেন। কিন্তু সৃজনশীলতা কোনো ক্লাসে পাওয়া যাবে না। সুতরাং আপনার যদি চমৎকার শিল্পবোধ ও নকশার জ্ঞান থাকে তবে এই ব্যবসা আপনার জন্য। আপনি চাইলেই একটু কাজ শিখে নিয়ে শুরু করতে পারেন নিজের কোম্পানি। নিশ্চয়ই সফল হবেন।

২. অনলাইন হিসাবরক্ষক

বিশ্বাস করুন আর না করুন, কেবল আপনি একা না যারা লম্বা সময় ব্যয় করে অফিস করতে বা মিটিং করতে পছন্দ করেন না। আপনি যদি সংখ্যা ভালবাসেন আর সকাল সন্ধ্যা কেতাদূরস্ত স্যুট টাই পরে থাকতে আপনার বিরক্ত লাগে তবে শুরু করতে পারেন একজন অনলাইন হিসাবরক্ষকের কাজ। এর জন্য আপনার শুধু প্রয়োজন হবে একটি ল্যাপটপ, অ্যাকাউন্টেন্ট বা হিসাবরক্ষক হিসেবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট আর একটি স্মাটফোন।

অনলাইন হিসাবরক্ষণ কোম্পানি ‘বেঞ্চ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইয়ান ক্রসবি বলেন, “উদ্যোক্তারা অস্থায়ী কর্মকাণ্ডের আলোচনা ও ভাবার জন্য দীর্ঘ সময়ে ধরে বৈঠক করতে চান না।” তারা দ্রুত, প্রাসঙ্গিক, উপযুক্ত ও খোলামেলা যোগাযোগ পছন্দ করেন। তাই এই ব্যস্ত উদ্যোক্তাদের কাজ সহজ করতে আপনি শুরু করতে পারেন অনলাইন হিসাবরক্ষকের কাজ।



৩. ম্যাচমেকিং সার্ভিস বা ঘটকালি

ভাবছেন, এ আবার কেমন ব্যবসা! সত্যি এটা কোনো হালকা বিষয নয় আর আমি আপনাদের সাথে মজাও করছি না। আজকের এই আধুনিক সময়ে আপনি চাইলে অনলাইন ব্যবহার করে ঘটকালিও করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, এই আভিধানিক শব্দ ‘ঘটকালি’ আমি কেবল বিয়েশাদীর ব্যাপারে ব্যবহার করছি না, বরং যে কোনো ম্যাচমেকিংয়ের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। ম্যাচমেকিং সার্ভিস বা ঘটকালি পাত্র-পাত্রী ও অভিভাবক বা ক্লায়েন্টদের চাহিদা বুঝে তথ্য প্রযুক্তির যে কোন ফর্ম ব্যবহার করে হতে পারে। এই ব্যবসাটিও যেকোনো জায়গা থেকে পরিচালনা করা যেতে পারে, কেননা আপনি অভিনব ভাবে কাজটা করবেন অনলাইনেই।

সফলভাবে ম্যাচমেকিং সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা জরুরী। যেমন জিন্ট্রো এ বিষয়ে একটি চমৎকার কোম্পানি। তারা বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বিশেষজ্ঞদের সাথে কোম্পানিকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গ্রাহকদের চাকরি ও এ সম্পর্কিত পরামর্শ দিয়ে কোম্পানির সাথে যোগযোগ করিয়ে দেয়। আপনি চাইলে আজই শুরু করতে পারেন এমন একটি কোম্পানি।

৪. টেক সাপোর্ট বা কারিগরি সহায়তা

প্রযুক্তি ব্যবহার করা সব মানুষের যথাযথ কারিগরি দক্ষতা থাকে না, আর এই শূন্যতা প্রযুক্তি সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ উপার্জনের একটি দুর্দান্ত উপায় হিসেবে কাজে লাগায়। অবশ্য এই কাজে সমস্যার ধরণ বুঝে যথেষ্ট সময় দিতে হতে পারে। তবে তা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা ব্যয়িত সময়ের উপর ভিত্তি করে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়।

ড্যানিয়েল গ্যাগনন নামে এক মার্কিন ভদ্রলোক প্রায় ৩ বছর আগে ‘টেক হ্যাটন হোল্ডিংস’ নামে নিউ ইয়র্কে এমন একটি আইটি সাপোর্ট কোম্পানি সৃষ্টি করে এই অভিনব ব্যবসায়িক ধারণার প্রবর্তন করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি। সুতরাং আপনিও চাইলে এমন একটি কোম্পানি আজই খুলে বসতে পারেন।

৫. ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ

আপনি যদি ভ্রমণ পিপাসু হয়ে থাকেন আর বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত ভ্রমণ করে থাকেন, তবে কেন অন্যদের ভ্রমণে সহায়তা করে কিছু উপার্জন করবেন না? ভাবতে পারছেন, ইচ্ছামত যেখানে খুশি ঘুরবেন আবার আয়ও করবেন!

ম্যাথু কেপিনেস নামের একজন ভ্রমণ পিপাসু উদ্যোক্তা এই অভিবন ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। একটি ওয়েবসাইটে তিনি তার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। এখান থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা তার সাথে যোগাযোগ করে উক্ত স্থানে ভ্রমণ করতে তার সহায়তা নেন। আর এর মধ্য থেকে তিনি তার ব্যবসা বুঝে নেন। চাইলে আপনিও করতে পারেন এই ব্যবসা।

আমি এই নিবন্ধে অল্প কয়েকটি অভিনব ব্যবসা আইডিয়া শেয়ার করেছি। এ ছাড়াও এমন আরও অনেক ব্যবসা আছে যেগুলো শূন্য হাতে শুরু করে যেকোন জায়গা থেকে পরিচালনা করা সম্ভব। নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে অন্য কোনো নিবন্ধে আরও কিছু ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.