পিরোজপুরের মানুষকে যেমনটি দেখতে পেয়েছি – original

সব জেলাতেই ভালো ও খারাপ মানুষ আছে, তবে কিছু কিছু জেলার মানুষ অন্যদের তুলনায় একটু বেশি খারাপ। আবার একেক জেলার মানুষ একেকভাবে খারাপ। বাংলাদেশি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে অন্যের চরিত্রের ভুল-ত্রুটিগুলোই আমার চোখে পড়ে বেশি, তাই সেগুলোই তুলে ধরবো। এ পর্বে বৃহত্তর বরিশালের পিরোজপুর জেলার মানুষদের নিয়ে আলোকপাত করবো।




পিরোজপুরের যে সকল মানুষের সাথে আমার সাক্ষাৎ বা ইন্টারাকশন হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিল মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে। বাকিদের মধ্যে একজনের বাড়ি মঠবাড়িয়ায় নয় – এ বিষয়ে নিশ্চিত, কিন্তু অন্যদের কথা বলতে পারবো না। যে লোকটির (নাম রবিউল) বাড়ি মঠবাড়িয়ায় নয়, সে নিতান্ত ভালো ভদ্র ও হ্যান্ডসাম মানুষ, জগন্নাথ ভার্সিটিতে ফিজিক্সে পড়ে, আবার ছাত্রলীগও করে। তবে ছাত্রলীগসুলভ কোনো আচরণ তার মধ্যে নেই। এবার তাহলে ক্রোনোলজিকালি পাওয়া খারাপ মানুষদের তালিকা ও তাদের কর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরি।

শাম্মীর কাকা শহিদ

প্রথমেই আছে শাম্মীর কাকার নাম। ওদের বাড়ি মঠবাড়িয়ায়, শাম্মীরা দীর্ঘদিন রামপুরার একটি এলাকাতে এক বিল্ডিং-এ আমাদের প্রতিবেশী ছিল। সেই ‘৯৪ সালের কথা, তখন আমি ক্লাস এইটে পড়তাম, শাম্মীর কাকার কাছে কয়েক মাস প্রাইভেট পড়েছিলাম। তিনি যে খারাপ কাজটা করেছিলেন, সেটা এইরকমঃ তিনি হোমিওপ্যাথি পড়তেন, একদিন একটা ডাক্তারী বই খুলে তিনি আমাকে নারীর গোপনাঙ্গের একটি ছবি দেখিয়ে বললেনঃ ‘তোমার মা’র এই জায়গা অপারেশন হয়েছে কিছুদিন আগে’। আমার মা’র কোনো সেনসিটিভ জায়গায় যদি অপারেশন হয়েও থাকে, তবে সেটা আমাকে জানানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না, কারণ আমি তখন ছিলাম কোমলমতি কিশোর।

শাম্মী

দ্বিতীয়তঃ আসি শাম্মীর কথায়, ‘৯৮ সালে বন্যার পর আমার যখন টাইফয়েড হলো, তখন সেটায় মাসখানেক ভুগে আমি কোনোমতে সেড়ে গেলাম ঠিকই, তবে আমার মধ্যে অন্যান্য বেশ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে থাকলো, যেমনঃ চুল পড়ে যাওয়া, মাথায় টাল-মাটাল অনুভব করা, অস্থিরতা, বেশি কথা বলার প্রবণতা ইত্যাদি। এমন একটা সময়ে আমার এক বরিশাইল্লা (বাড়ি মূল বরিশাল জেলার বানারিপাড়ায়) ফ্রেন্ড পাভেল আমার মধ্যে শাম্মীর পোকা ধরিয়ে দিল। সে বললো, ‘তোর বাসার কাছেই তো দারুণ মাল! এইটার সাথে প্রেম করস্ না কেন?’ এর আগ পর্যন্ত শাম্মীকে কেবল প্রতিবেশী ছোটবোন হিসেবেই দেখেছি।

পাভেলের কথা শুনে আমার মাথায় একটা (বাজে) আইডিয়া আসলো, আর সেটা হলোঃ ‘শাম্মীকে একবার বাজিয়ে দেখতে হয়’। তখন থেকে আমি শাম্মীর গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকলাম, ওর গতিবিধি দেখে পাভেলের কথা পজিটিভই মনে হলো। অর্থাৎ শাম্মীর চাউনি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হলো, সে আমাকে পছন্দ করে, সুতরাং তাকে প্রপোজ করা উচিত। তখন একদিন বিল্ডিং-এর সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম, কখন সে স্কুল থেকে ফিরবে?! সে ফেরামাত্রই তার হাতে একটি প্রেমপত্র ধরিয়ে দিলাম, যেটাতে একটা গানের প্রথম কয়েকটা লাইন লেখা ছিল, আর সেটা হলোঃ ‘চোখের ভাষা যদি বুঝতে পারি, না বলা কথা যদি বলতে পারি, তবে করি নি তো ভুল, আমি একচুল, তুমি যে আমার ওগো তুমি যে আমার!’

যাই হোক, তখন শাম্মী ক্লাস সিক্সে পড়তো ঠিকই, তবে প্রেম-ভালোবাসা জিনিসগুলো ঠিকই বুঝতো। ওকে অনেক অল্প বয়সেই দেখেছি, আমার ইমেডিয়েট ছোট ভাই বাপ্পির সাথে ঢলাঢলি ও টেপাটিপি করতে। সুতরাং কেউ যদি বলেন, ক্লাস সিক্সের এই মেয়েটিকে আমার প্রেমের প্রস্তাব দেয়া ঠিক হয় নি, তবে ভুল করবেন। শুধু বলতে পারেন, প্রপোজালের কোনো ডকুমেন্ট রাখা উচিত হয় নি, যেমনঃ প্রেমপত্র বা লাভ লেটার। সে ঐ চিঠি তার বাপ-মাকে দেখিয়ে দেয়, ফলে তার বাপ-মা আমার মাকে ডেকে কিছু লেকচার দেয় হয়তো, যেমন বলেঃ ‘জাকিরকে আমরা শাম্মীর ভাই হিসেবে মনে করেছি এতদিন। আমরা তো আশা করি, বাইরের কেউ শাম্মীকে ডিসটার্ব করলে ওরাই তাকে প্রটেকশন দেবে ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে’।



আসলে শাম্মীকে লাভলেটার দেয়ার পরিবর্তে ওকে হাত ধরে টেনে নিয়ে বিছানায় চেপে ধরলেই হতো; এটা করলে ও বেশি খুশি হতো এবং আমাকে সত্যিকারের পুরুষ মনে করতো। সেটা শেষ পর্যন্ত ধর্ষণ পর্যন্ত গড়ালেও আমি কোনো সমস্যা দেখি না, কারণ ওকে ভালোবাসতে শুরু করেছিলাম, তাই বিয়ে করতেও কোনো আপত্তি ছিল না (সে যখন উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্সে পড়ে তখনকার কথা বলছি)। এরপর শাম্মীকে আমি কেবল এড়িয়েই গিয়েছি, কোনোদিন ভালো করে কথা বলি নি। প্রায়ই সে এমন সময় আমাদের বাসায় আসতো, যখন আমি ছাড়া আর কেউ থাকতো না। ঐ সময়টায় তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে বোঝা যেত, সে চাচ্ছে আমার সাথে নির্জন বাসায় কিছু একান্ত সময় কাটাতে, তার প্রতি আমার এক সময়কার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে। কিন্তু ইতিমধ্যে আমি তাকে পল্টিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছি, তাই তার ফাঁদে নতুন করে পা দেয়ার কোনো মানে হয় না।

এরপর শাম্মী পাশের বিল্ডিং-এর এক ভাড়াটিয়া পোলার সাথে প্রেম করে। তখন শাম্মী ইডেন কলেজে ইকোনমিক্স-এ পড়তো তবে ঐ ছেলেটা খুবই অল্পশিক্ষিত ছিল, খালি দেখতে ভালো ছিল, তার দেশের বাড়ি ছিল ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় (লক্ষ্য করুন, শাম্মীর বাড়ি মঠবাড়িয়া আর ঐ ছেলের বাড়ি বিবাড়িয়া, দুই বাড়িয়াই চরম পল্টিবাজ ও সুবিধাবাদী)। প্রেম করতে করতে বিয়ের আগেই পেটে বাচ্চা বানিয়ে ফেলে শাম্মী, তখন ওরা ভাড়া বাসা পাল্টে মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায় চলে যায়, তবে বাচ্চা জন্ম দেয়ার কয়েক বছর পর আবার রামপুরা এলাকায় ফিরে আসে (বনশ্রীতে)।

পেটে বাচ্চা বানানোর এই কাহিনী করে ২০০৭ সালে, তখন আমি অলরেডি বিবাহিত (২০০৬ সালে বিয়ে করেছি, বৃহত্তর বরিশালেরই এক মেয়েকে, তবে পিরোজপুর বা মঠবাড়িয়ার নয়, বরং ঝালকাঠির নলছিটির)। আমার এস্টিমেশন হলো এই যে, আমার সাথে প্রেম বা বিয়ে করতে না পেরে শাম্মী উক্ত কেলেঙ্কারী ঘটায়। হয়তো সে আমাকে দেখাতে চেয়েছিল যে, ‘তুমি আমাকে বিয়ে না করলে কী হবে?! তুমি বৃহত্তর যে এলাকার লোক, সেখানকারই এক ছেলেকে বিয়ে করেছি আমি!’

আমার মেঝো মামী

এই মামা হলো আমার মা’র সৎ ভাইদের মাঝে দ্বিতীয়জন, আর মামীর দেশের বাড়ি হলো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। অবশ্য তার সাথে আমার মামার পরিচয় ঢাকাতে। মামী খুব সুন্দরী ছিলেন – এমনটা বলা যেত যদি তিনি আরেকটু লম্বা হতেন। তবে এই মামী দীর্ঘ একটা সময় পরকীয়াকাতর ছিলেন, তাকে একবার আমার মামা তার পরকীয়া প্রেমিকের সাথে হাতেনাতে ধরে ফেলে। কিন্তু তার শাস্তি বা অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার বদলে তিনি তার পরিবারের সদস্যদেরকে (যেমনঃ ভাই-বোন) নিয়ে আমার মামাকে বেদম প্রহার করলেন। মামার সেই সংসার কোনোমতে টিকে থাকলেও (ছোট বাচ্চা অর্থাৎ আমার মামাতো ভাইয়ের কারণে) সেখানে এরপর থেকে আর স্বস্তি বা শান্তি পান নি মামা। এ ঘটনার দু’-এক বছরের মধ্যে স্ট্রেস বা ক্রনিক টেনশনের কারণে মামার ডায়াবেটিস হয় এবং তার দশ বছরের মধ্যে কিডনী ফেইলিয়র হয়ে মামা মারা যান।

এখন আমি চিন্তা করছি, আমারও তো ডায়াবেটিস হয়েছে, সেটা বউয়ের অনবরত মানসিক অত্যাচার বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, ডায়াবেটিসের পরেও আমার উপর বউয়ের অত্যাচার কোনো অংশে কমে নি, বরং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেটা দিনদিন আরো বাড়ছে। আমার বউও মামীর মতো বরিশালনি (ঝালকাঠির নলছিটিতে আমার শ্বশুরবাড়ি), তবে মামীর মতো সে চরিত্রহীন নয়। এতে অবশ্য স্বস্তি পাওয়ার কিছু নেই, কারণ ঐ মামী খুব একটা ঝগড়াটে না হলেও আমার বউ তীব্র ঝগড়াটে। বরিশালের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এই সমস্যাটা আমি দেখেছি – তারা হয় ঝগড়াটে নয়তো কুটনা।

উক্ত মামীর চরিত্রে এতটাই সমস্যা ছিল যে, উনি একবার আমার সাথে শোয়ার ব্যাপারেও পরোক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তখন তিনি মামাকে নিয়ে টঙ্গী বা গাজীপুর – এরকম কোনো একটা জায়গায় থাকতেন। একদিন তিনি গাজীপুর থেকে রামপুরা পর্যন্ত লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের বাসায় আসলেন কী কারণে জানি! কিন্তু বাসায় এসে দেখলেন, আমি ছাড়া আর কেউ নেই। মামীকে আমি নাস্তা-পানি দিলাম এবং বিশ্রাম করতে বললাম, তবে বিছানায় আধশোয়া হয়ে আমার সাথে গল্প করার উছিলায় এমন সব বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও ফেসিয়্যাল এক্সপ্রেশন করতে থাকলেন যে, আমি বুঝতে পারলাম, তিনি চাচ্ছেন আমি যাতে তার দেহের দিকে হাত বাড়াই এবং তাকে চেপে ধরি। অর্থাৎ মামী-ভাগ্নের মধুর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন তিনি আমার সাথে।

কিন্তু আমি সাহসের অভাবে তার দিকে হাত বাড়াই নি বা তাকে চেপে ধরি নি। আমার সাথে লাগাতে না পারায় তিনি হয়তো হতাশ হয়েছিলেন, তাই তিনি আর কখনো আমাদের বাসায় বেড়াতে আসেন নি। এরপর মামীর বেশ-ভুষা বদলে যায়, তিনি কট্টরপন্থী স্টাইলে পর্দা করতে ও বোরকা-হিজাব ব্যবহার করতে শুরু করলেন। মনে মনে ভাবলাম, লাভ কী এসব পর্দা-হিজাব করে, যদি যৌবনের ‘উত্তপ্ত’ বছরগুলোতে যৌবন সামলাতে না পেরে চৌদ্দজনের সাথে লাগালাগি করে থাকে?! মূলতঃ এ কারণেই হিজাবওয়ালা মহিলাদেরকে আমি দেখতে পারি না – আমার এজাম্পশন হলো, বোরকা-হিজাব ওলনিরা এক সময় পতিতা টাইপের ছিল এবং অনেকের সাথে সেক্স করেছে বা শুয়েছে; এখন ঐ সকল পুরুষেরা যাতে তাদেরকে রাস্তাঘাটে চিনতে না পারে, তাই তারা হিজাব করে।




আর বরিশালের মেয়েদের ব্যাপারে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, এদেরকে কখনো বিয়ে করতে নেই। যদিও বা ভাগ্যদোষে বিয়ে করেনও, তখন বিয়ের পর দেখা যাবে, এরা হয় তীব্র ঝগড়াটে নয়তো চরিত্র দুনিয়ার খারাপ (বা একসময় অনেক খারাপ ছিল) অথবা অন্য কোনো সমস্যা (যেমনঃ ভেতরে ভেতরে মানসিক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী)। আমি আমার বউয়ের উদাহরণ দিতে পারি, সে শুধু ঝগড়াটে নয়, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীও বটে; বিয়ের আগে যেটা আমি বুঝতে পারি নি। অবশ্য ভুল আমারই – স্বল্প সময়ের পরিচয়ের সূত্রে তাকে বিয়ে করেছি। এখনকার ছেলেরা যে মেয়েদেরকে উল্টেপাল্টে লাগিয়ে বহু বছর অতিক্রান্ত করে পরে বিবাহ করে – এই ট্রেন্ডের সমর্থক আমি এই কারণেই। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, এটাই ভালো পন্থা। প্রেমের সময় বা শারীরিক সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে যদি মেয়েটির কোনো সমস্যা বোঝা যায়, তবে তাকে ‘ডাম্প’ করাই উচিত। কারণ, অসামাজিক, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও ঝগড়াটে মেয়েমানুষ নিয়ে আর যাই করা যাক, সংসার তো করা যায় না, তাই না?

আর বরিশালের লোকদের বিষয়ে আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করেছি আমি, তারা নিজেদের সুন্দরী, মেধাবী ও ভালো মেয়েগুলোকে নিজেরাই বিবাহ করে। আর যেগুলো রিজেক্ট মাল অর্থাৎ কোনো না কোনো মেজর ত্রুটি আছে, সেগুলোকে অন্য জেলার ছেলেদের কাছে গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এই অভ্যাস অন্যান্য কোনো কোনো জেলার লোকদের মাঝে সামান্য থাকলেও বরিশালের লোকদের মাঝে এটা খুবই দৃষ্টিকটুভাবে তীব্র। এখানে বরিশালের লোক বলতে শুধু বরিশাল জেলার লোক বুঝাই নি, বরং বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলাই বুঝিয়েছি। এই ছয়টি জেলা হলোঃ বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা আর ভোলা।

আমার শ্বশুরের এক কলিগ

আমার শ্বশুরের বাড়ি ছিল ঝালকাঠিতে, যেটা বৃহত্তর বরিশালে, সুতরাং ঐ এলাকার মানুষের সাথে তার মাখামাখি থাকবে – এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে সে চাকুরিসূত্রে এমন একজনের সাথে মাখামাখি শুরু করলো যার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। লোকটার নাম লুৎফর রহমান। আমার শ্বশুর যে কন্সট্রাকশন কোম্পানীতে কনট্রাক্টর, লুৎফর রহমান সে কোম্পানীরই সিনিয়র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা একটু বয়ষ্ক হয়ে গেলে নিজেদেরকে ‘শুধু ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেয় ঠিকই, তবে ওরা মনমানসিকতায় চিরকাল ‘ডিপ্লোমা’ অর্থাৎ অর্ধেকই থেকে যায়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ লুৎফর রহমান।

আমার শ্বশুরের সাথে মাখামাখির পেছনে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল, শ্বশুরের মেডিক্যাল পড়ুয়া ছেলের কাছে নিজের নাকবোঁচা ইডেন পড়ুয়া খানকি মেয়েটাকে বিয়ে দেয়া। কথায় আছে, ‘কারো উপকার করতে পারলে কর, নিদেনপক্ষে কারো ক্ষতি করিস্ না!’ এ কথাটা মনে হয় লুৎফর রহমান কোনোদিন শোনে নি, তাই আমার শ্বশুর মশায়ের উপকার করতে গিয়ে তার মেয়েজামাইয়ের অর্থাৎ আমার ক্ষতি করে বসলেন।

সেটা ‘১১ সালের কথা, আমি তখন জুপিটার পাবলিকেশন্সে চাকুরী করতাম, মূল বেতন ছিল ৩০,০০০ টাকা, আর ওভারটাইম মিলিয়ে প্রায় ৪০,০০০ এর মতো পেতাম। আমার মতো একজন ল্যাগারের কাছে এটা ছিল আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতো, সেই সাধের চাকুরীটা দুই মাস করতে না করতেই একদিন শ্বশুর মিয়া আমাকে ফোন করে বললেন, ‘তুমি ঐ চাকুরি ছেড়ে টেকনিক্যাল চাকুরি ধর, বেতন একই রকম পাবা’। আসলে লুৎফর রহমান যখন শুনেছিল যে, শাহ আলম (আমার শ্বশুরের নাম) সাহেবের জামাই পাবলিকেশন্সে ভালো বেতনে চাকুরি করে, তখন তার পিত্তি জ্বলে উঠেছিল নিশ্চয়ই, তাই উপকার করার নামে ক্ষতিটা করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

জুপিটার পাবলিকেশন্সে কড়াকড়ি নিয়ম ছিল, একদিন কামাই করলে তিনদিনের বেতন কাটা, উপরন্তু ঝাঁড়ি-ধমক তো আছেই। তাই ভাবলাম, শ্বশুরমশায় তো আমাকে একটা টেকনিক্যাল চাকুরী দিতেই যাচ্ছেন, সুতরাং জুপিটারের চাকুরিটা ঝুলিয়ে রেখে আর কী হবে?! এইরূপ অন্ধবিশ্বাসের একটি বড় কারণ হলো, তখন (২০১১ এর ডিসেম্বর) মুক্তাকে ঘটা করে উঠিয়ে নিতে যাচ্ছিলাম নিজের বাড়িতে, যদিও বিয়ে করেছিলাম বহু আগে (২০০৬ সালের মার্চে)।

শুধু জানতাম না যে, টেকনিক্যাল চাকুরিটা শ্বশুরমশায় সরাসরি দিচ্ছেন না, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার এক ফাঁপড় দালালের হাত ধরে আসতে যাচ্ছে। জুপিটারের চাকুরিটা ছেড়ে দেয়ার পর লুৎফর রহমান পল্টি দিল, সে নতুন চাকুরির ব্যাপারে লোক-দেখানো সামান্য সহযোগিতা করলো, এতে আমার কোনো লাভ হলো না, অর্থাৎ চাকুরিটা হলো না। তারপর দু’ মাস অপেক্ষার পর আরেক গাইডবুক পাবলিকেশন্সে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে জয়েন করি। সেখানে টাকাকড়ি ভালোই কামিয়েছিলাম বটে, তবে জুপিটারের মতো সম্মান বা মানসিক শান্তি সেখানে পাই নি, কম্পেটিশনের কাজ করলে যা হয়, আর কী!

পাঞ্জেরীর প্রুফরিডার রাশেদ ও অপারেটর ‘কালো ব্যক্তি’

পাঞ্জেরীর একজন ফ্রিল্যান্সার প্রুফরিডার হলো আখতারুজ্জামান রাশেদ, তার বাড়ি মঠবাড়িয়ায়। সে হুজুর টাইপের হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজ। তার দুর্নীতির কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছি ‘শত্রুর পুরুষত্ত্ব দেখে গোপনাঙ্গ ভিজে গেল যে নারীর’ আর্টিক্যালে। সুতরাং সেটা এখানে আর না বললেও চলে। পাঞ্জেরীতে কাজ করে আর বাড়ি পিরোজপুরে এরকম আরেকজন ব্যক্তি হলেন ঐ ‘কালো ব্যক্তি’ যার নামটা আমি ভুলে গেছি, হয়তো কোনোদিন জানতেও পারি নি বা জানার আগ্রহ বোধ করি নি। সে কম্পিউটার অপারেটর। আমি ছিলাম একজন ফ্রিল্যান্সার রাইটার বা লেখক, বয়সে কম হলেও আমাকে আমার যোগ্য সম্মানটুকু দিতে হবে।

আমার দেশের বাড়ি বরিশাইল্লাদের অ্যান্টি-পার্টিদের এলাকায়, বা আমি দেখতে খারাপ বা চেহারা মলিন হলেই যে আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে হবে বা চোখ রাঙ্গাতে হবে – এটা পুরোপুরি দূষিত চিন্তা। পিরোজপুরের এই অপারেটরের কাছ থেকে এরকম ব্যবহারই পেয়েছি আমি, তাই সেটা উল্লেখ করতে বাধ্য হলাম। সে একসময় শেয়ারের ব্যবসা করে ধরা খেয়েছিল, হয়তো তার ঢাকা শহরে বাড়িও আছে। আর বুলু ভাইয়ের মতো একজন সিনিয়র লোকের সাথে চলাফেরা করেন, ভালো। তবে তার মানে এই না যে, তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করবেন! আসলে তার গায়ের রঙের সাথে সাথে অন্তরটাও কালো।

সুবর্ণা মুস্তফা – দ্য গ্রেট খা*কি

এমন একটা গালি সুবর্ণাকে দিতে বাধ্য হলাম, কারণ তাকে পতিতা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না আমার। আর সেটার কারণ হলো, বুড়ি হয়ে ফরীদিকে ছেড়ে সৌদকে শয্যাসঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়া। সুবর্ণা অবশ্য আমার শ্বাশুড়ির কাজিন হয়। আর কিছুদিন আগে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, সুবর্ণার পিতা গোলাম মুস্তফার বাড়ি পিরোজপুরে, অর্থাৎ সুবর্ণা অরিজিনালি পিরোজপুরের মেয়ে; হোক, তার জন্ম ঢাকায় অথবা সে ভিকারুননিসার ছাত্রী। অবশ্য আগে থেকেই জানতাম যে, গোলাম মুস্তফা তথা সুবর্ণার দেশের বাড়ি বৃহত্তর বরিশালের কোথাও।

আমি মনে করি, বুড়ো বয়সে ফরীদির সাথে পল্টি নেয়া সুবর্ণার উচিত হয় নি। আর এটাও জানি, ফরীদির আগে আরেকটি বিয়ে বা বউ ছিল, সেখান থেকে ফরীদিকে ছাড়িয়ে বিয়ে করেছিল সুবর্ণা, তাই কষ্টসৃষ্ট করে হলেও আরো কয়েক বছর ফরীদির সাথে সংসার করা উচিত ছিল তার। ফরীদির স্বাস্থ্যের অবস্থা যে হারে অবনতি হচ্ছিল, তাতে ডিভোর্স না হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই মারা যেত সে। তখন না হয় সুবর্ণা তুই আরেকটি বিয়ে করতি। আর সুবর্ণার প্রতি আরো কিছু কথা খোলামেলা বলতে চাই, ‘ফরীদি যে বৃহত্তর এলাকার লোক, তাদেরকে তো তোরা বরিশাইল্লারা অ্যান্টি-পার্টি মনে করিস। তাহলে তাদের কাছে বিয়ে বসতে যাস কেন তোরা, বিশেষ করে তোর মতো পতিতা টাইপের মেয়েরা?’

‘সুবর্ণা, তুই হয়তো বলবি, তোর জন্ম ঢাকায় বা সেখানে পড়াশুনা করেছিস। তাতে কী?! তোরা তো ‘বরিশাইল্লা ময়লা’ চাইলেও ধুইতে পারবি না, হাজার চেষ্টা করলেও! ঠিক যেমন আমার শ্বাশুড়ি খুলনায় জন্মে ও বড় হয়েও তার বরিশাইল্লা কানেকশন মুছতে পারে নি, এমনকি বরিশাইল্লা উচ্চারণে কথা বলাটাও পরিহার করতে পারে নি।

তাহমিদা বিনতে মাহমুদ

পিরোজপুরের একজন সূর্যসন্তান হলো এই মেয়েটি, ইউনিভার্সিটিতে আমার ডিপার্টমেন্টাল জুনিয়র (এক্সাক্টলি আট বছরের)। বর্তমানে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডে থাকে, সেখানে সে ও তার স্বামী বড় ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করে। তারা অনেক টাকা ইনকাম করে, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ায়, খুবই সুখী ও ছিমছাম ফ্যামিলি; অভিযোগ করার মতো বলতে গেলে কিছু নেই।

তারপরও তাহমিদাকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলতে চাই, ‘তোমরা স্বামী-স্ত্রী যে ধরনের লাইফস্টাইল মেইনটেন করো এবং ফেসবুকে যেসব ছবি আপলোড করো, তাতে স্পষ্ট যে, তোমরা আসলে পুঁজিবাদ বা ক্যাপিটালিজম-এর কাণ্ডারী। তোমাদের দেখাদেখি আরো অনেকে একই ধরনের লাইফস্টাইল লিড করতে চায়, যেমন তাহমিদার দুই বছরের ডিপার্টমেন্টাল সিনিয়র ফারহানাহ চৌমুহনী। কিন্তু তারা তো বৈধপথে তোমাদের মতো অনেক টাকা কামায় না যে, চাইলেই রোমের কলোসিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারবে। তখন তারা দুই নম্বরী উপায়ে টাকা কামাতে উৎসাহিত হতে পারে। সুতরাং ক্যাপিটালিস্ট ডগ বা বিচের মতো আচরণ করার আগে একটু ভেবে নিও।’

‘তোমাদের লাইফস্টাইল বা বিলাসিতা দেখে আমি মোটেও ঈর্ষাণ্বিত নই, কারণ এসব ন্যাকামি করার বয়স আর আমার নেই। প্লাস, আমি এখন গ্রাম বাংলায় থাকি, যেমন পরিবেশে তোমরা আর কখনো ফিরতে পারবে না। সুতরাং আমার লাইফস্টাইল দেখে তোমরা ঈর্ষাণ্বিত হতে পারো, যদি সেটা সেভাবে ফুটিয়ে তুলতাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে; তবে অন্য কারো বিলাসিতা দেখে আমি ঈর্ষাণ্বিত হই না, কারণ আমি একজন স্পিরিচুয়াল ব্যক্তি।’



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.