নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য নয় or so they think

সমাজে বেশকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু লোক মনে করে – তারা সামহাও স্পেশাল, তাদের জন্য নিয়ম প্রযোজ্য নয়। একারণে তারা নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আজকে প্রধানত করোনার স্বাস্থ্যবিধি যারা শখের বশে বা অদ্ভুত সব কারণে লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিষয়ে বলবো।

জনবহুল স্থানে মাস্ক পরিধান করা সাধারণ নিয়ম। দেশের আনাচে-কানাচে শ্রমিক টাইপ অশিক্ষিত লোকজন যখন এ নিয়ম মেনে চলে না, তখন মনকে বোঝানো যায়। কিন্তু শিক্ষিত ও ভদ্রবেশীরা যখন এটা করে, তখন মনকে কেমনে বোঝাই?! তখন গবেষণা করতে বাধ্য হই, এসব লঙ্ঘনকারীদের মনে আসলে কী চলছে। 

প্রথমেই আসি হিন্দু সম্প্রদায় সম্পর্কে। দেশে এরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নিজেদেরকে স্পেশাল মনে করে, এমনকি মাস্কও নাকে-মুখে না পরে থুতনির নিচে ঝুলিয়ে রাখে। আমার অফিসেও এরকম কমপক্ষে একজন আছে। সে পেশায় একজন কম্পিউটার অপারেটর। সে শুরু থেকেই ‘থুতনাস্ক’ ব্যবহার করে আসছে। তার সম্পর্কে বেশ কয়েক জনের কাছে অভিযোগ করায় প্রেশারের চোটে ইদানিং সে থুতনাস্কের বদলে ‘মুখাস্ক’ ব্যবহার শুরু করেছে। 

তাদের বদভ্যাস নিয়ে ট্রল পর্যন্ত করা হয়, তবু তারা শোধরাবে না

এছাড়া আরেকজন হিন্দু ভদ্রলোকের কথা বলবো। তিনিও ইদানিং মাস্ক ছাড়াই ফ্লোরে চলাফেরা করছেন (অর্থাৎ ‘নাইমাস্ক’)। উনিও খুব সম্ভবত নিজের সংখ্যালঘু পরিচয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্লাস তিনি হয়তো মনে করছেন, যেহেতু তিনি মালিকপক্ষের একজন, তাই এসব নিয়মকানুন তার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবার এমনও হতে পারে, তার হয়তো অলরেডি করোনা হয়ে গিয়েছে আগে। তাতে কী? করোনা তো যে কারো দ্বিতীয়বার হতে পারে, তাই না? এ বিষয়গুলো তার শিক্ষিত মন বুঝতে পারছে না। খুবই আফসোস!

এখানে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও বলে রাখি – পূর্বে উল্লেখিত কম্পিউটার অপারেটরকে ওই ফ্লোরের কম্পিউটার সেকশনের ভবিষ্যত ইন-চার্জ ( বা নেক্সট বিগ থিং) বানানোর প্রক্রিয়া চলছে, সেটা আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক, ধুরন্ধর আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি (আমি একজন বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ‘সুপার এক্সপার্ট’)। এর পেছনে হাত রয়েছে সম্ভবতঃ আগের অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচালকের। কারণ পরিচালক ও অপারেটর উভয়ই হিন্দু এবং উভয়ের হোম ডিস্ট্রিক্ট নরসিংদী। হয়তো তারা একে অপরের আত্মীয় হন। তাহলে তো মাশাল্লাহ (পোয়াবারো) !

স্পষ্টতঃ আওয়ামী সরকারের আমলে হিন্দুদেরকে বাড়াবাড়ি রকম প্রমোট করা হচ্ছে, যেটা ঠিক হচ্ছে না। আওয়ামী লীগারদেরকে শুধু এতটুকুই বলবো – তারা যেন তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিহাসের পাতায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত না হয়।

যাই হোক, on with the article. সেদিন সেন্টার পয়েন্ট কনকর্ড মার্কেটে গেলাম এক বিশেষ প্রয়োজনে। সেখানে ঢোকার পথে আমার টেম্পারেচার মেপে হাত স্যানিটাইজ করে দিলেও পরে মার্কেট থেকে বের হওয়ার সময় দেখলাম, দুই মহিলা বিনা বাধায় ঢুকে গেল। গেটের আশপাশে তখনও সেই লোকগুলো ছিল, তবে তারা নিজেদের মধ্যে খোশগল্পে মশগুল ছিল। 

মাস্কের বিষয়ে আবারও আসি। অফিসের আরেকজন কম্পিউটার অপারেটরকেও বেশ কয়েকদিন দেখেছি মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে। সে অবশ্য হিন্দু না, তবে নোয়াখাইল্লা। নোয়াখালীর লোকজনকে কী কারণে দেশের বাকি অঞ্চলের লোকেরা দেখতে পারে না, তার কিছু নমুনা পাওয়া শুরু করেছি। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী ওয়ালাদের মতো তাদের আচরণগত সমস্যা নেই, এমনকি বরিশাইল্লাদের মতো তারা চাপাবাজ ও অবাধ্যও না। তারপরও নোয়াখালীর লোকদেরকে মানুষ দেখতে পারে না – তাদের হাইজিনের অভাব বোধের কারণে। ফ্র‍্যাংকলি, বহুত খাচরামি করে তারা।

এছাড়া আমাদের অফিসের এইচআর ম্যাডামকে সেদিন দেখলাম মাস্ক ছাড়াই পুরো অফিসে দিব্যি চলাফেরা করছেন। আর গতকাল দেখলাম – মাস্ক আছে, তবে তা থুতনাস্ক। তিনি সম্ভবতঃ তার রূপ-যৌবন দেখাতে ব্যস্ত। আফটার অল, তিনি খুলনা বিভাগের লোক। এ বিভাগের লোকজন নিজেদেরকে বেশি সুন্দরী ও হ্যান্ডসাম মনে করে। তারা নিজেদের চেহারা বেচে খাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, যেটা মাত্রাতিরিক্ত টাইপের বাড়াবাড়ি হওয়ায় নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু।

হিন্দুদের বিষয়ে বলছিলাম। অফিসে আমার ফ্লোরে আরেকজন হিন্দু লোক আছেন, যিনি শুধু মাস্কই না, বরং আরো অনেক নিয়ম ভঙ্গ করে চলেছেন। তিনি গ্রাফিক্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। গত বছর একুশে বইমেলায় ডিজাইনের জন্য তিনি পুরস্কার পেয়েছেন, সেজন্য তিনি একটু স্পেশাল বটে। তবে এতটা স্পেশাল নন যে, তিনি তার ডিপার্টমেন্টের লোকজন নিয়ে কিছুক্ষণ পরপর অট্টহাসিতে ফেটে পড়বেন। কারণ একই ফ্লোরে আমরাও তো কাজ করি। ওই হিন্দু লোক একজন শিল্পী হতে পারেন, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ইন্টেলেকচুয়াল এই ফ্লোরেই ১০-১৫ জন আছেন। এতগুলা লোককে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন শ্রেফ হিন্দু বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে? সেটাতো আছেই, প্লাস পূর্বে উল্লেখিত ওই হিন্দু পরিচালক মহোদয়ের মদদও আছে হয়তো।

এছাড়া একজন ‘টেকনিক্যাল গাই’ আছে, যে কিনা মাস্কের নিয়মকানুনকে থোরাই তোয়াক্কা করে। সে টেকনিক্যাল কাজগুলো ভালো বোঝে, এটা ঠিক। তার মানে এই না যে, সে সামহাও এতটা স্পেশাল – থুতনাস্ক পরিহিত অবস্থায় অফিসে লোকজনের মাঝে অবাধে চলাফেরা করবে। উল্লেখ্য যে, তার বাড়ি পাবনা, আর পাবনার লোকজন দিয়ে এখানকার লো ক্লাস স্টাফ সম্প্রদায়কে ভরে ফেলা হয়েছে, যেটা খুবই একটা অন্যায়। বুয়েটে পড়াশোনাকালীন সময়ে দেখেছি, সেখানকার ক্যাফেটেরিয়া ও হলের ক্যান্টিনগুলো চাঁদপুরের লোকজনকে দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল, এটাও ছিল একটা অন্যায়।

আমরা অফিসে আসতে একটু লেট করলে ঘ্যানঘ্যান শুরু হয়ে যায়। অথচ মালিকপক্ষের একজনের এক আত্মীয় কাজ করেন একই ফ্লোরে, তার আসা ও যাওয়ার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। আর সে পড়াশোনাও করে এসেছে যদুমধু টাইপের জায়গা থেকে; মনে হয় না, যোগ্যতার বিশাল ঝুড়ি রয়েছে তার। কেবল মালিকের আত্মীয় বলেই তার সাতখুন মাফ। এ কেমন বিচার রে ভাই! এতো অবিচারের সংস্কৃতি! হে আল্লাহ অথবা ভগবান (অথবা ঈশ্বর), তুমি আমাদেরকে এসব অনাচার থেকে রক্ষা করো!   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.