নিজের মেয়ে, বোন আর ভাগ্নি বিয়ে দেয়া ছাড়া বাঙালীরা আর কিছুই বোঝে না



গত পরশুদিন অনেক দিন পর ছেলেটাকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হলাম। আমার ছেলেটার বয়স ২ বছর ১১ মাস, তার মানে শিশুবাচ্চা, ওর মা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী টাইপের হওয়ায় ছেলেও কিছুটা অ্যাবনরমাল। মানে এখনো সে গুটিকয়েক ওয়ার্ড ছাড়া আর কিছুই বলে না। তবে এমনিতে আমার ছেলেটি দেখতে খুবই সুন্দর, আমি তাকে অনেক ভালোবাসি।

আমি বিয়ের অনেক পরে বাচ্চা জন্ম দিয়েছিলাম, এর পেছনে যে কয়টি কারণ রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো এই যেঃ আমার ধারণা ছিল, আমি ও আমার বউ দু’জনেই কালো হওয়ায় বাচ্চা নির্ঘাৎ কালো হবে। তবে আদতে আমার বাচ্চা সেরকম হয় নি, গায়ের রং পেয়েছে হয় ওর নানার অথবা আমার মা’র। যাই হোক, ব্যক্তিগত কথা বাদ দিয়ে এবার মেইন পয়েন্টে আসি।




বাচ্চাকে নিয়ে ঘোরাঘুরি প্রায় ৬০% শেষ করে দীঘির পাড়ে বসে বাতাস খাচ্ছিলাম। (উল্লেখ করা যেতে পারে, আমি বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে থাকি; শহুরে বিষাক্ত পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী বলে আমার ধারণা, বিশেষ করে ঢাকা শহর।) তো, এক পর্যায়ে, জমির দালাল সৈয়দ ভাই আমার পাশে এসে বসলেন, তিনি খালি গাঁয়ে ছিলেন; সম্ভবতঃ কিছুক্ষণ পরেই গোসল করবেন। আমি তাঁর গলার কাছাকাছি একটা চর্মরোগ দেখে তাকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি প্রথমে সেটার উত্তর দিয়ে পরে আমার শ্বশুরবাড়ির চৌদ্দগুষ্ঠির খোঁজ নেয়া শুরু করলেন। প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন আমার বড় শ্যালক মামুনের বিষয়ে। বললাম, সে দু’-তিন বছর আগে ডাক্তারি পাস করেছে। আগে খুলনা আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছিল; বর্তমানে ঢাকায় একটা প্রাইভেট মেডিকেলে পার্টটাইম জব করে, প্লাস, বাকিটা সময় নিজের চেম্বারে অবস্থান করে।

সৈয়দ আদতে সৈয়দ বংশের কোনো লোক নয়, তার বাবা-মা শখ করে ছোটবেলায় তার নাম রেখেছিল মোঃ সৈয়দ হোসেন। এমনিতে ছেলেবেলায় তার বাবা মারা যাওয়াতে তার মা অনেক কষ্ট করে তাদের চার ভাইকে বড় করেছেন, এমন কি সেটা করতে গিয়ে বাসায় বাসায় কাজের বুয়ার কাজও করতে হয়েছে ঐ মহিলাকে, যাকে আমি সম্মান করে ‘খালা’ বলে ডাকি। তবে, তারা আসলে এতটা সম্মান পাবার যোগ্য নয়, একেবারে ‘লো-ক্লাস’ ফ্যামিলি বলতে যা বুঝায়, তা-ই তারা। শুধু স্ট্যাটাসের দিক থেকে নিচু হলে সেটা উল্লেখ করতাম না; কর্মকাণ্ডের দিক থেকেও যে নিচু, সেটা পদে পদে টের পাওয়া যাচ্ছে।

https://www.youtube.com/watch?v=fe71h_3AEso

যেমনঃ সৈয়দ বড় বড় দুইটা ছেলেমেয়ে থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি আরেকটি বিয়ে করেছে; অথবা বিয়ে করেছিল অনেক আগেই (একজনের ভাষ্যমতে, দশ বছর আগে), সেটা এখন প্রকাশ পেয়েছে। এটা নিয়ে ঝামেলায় সৈয়দকে নাকি এলাকার পোলাপানকে ৪০ হাজার টাকা ‘ঘুষ’ দিতে হয়েছে, ওদেরকে শান্ত করার জন্য। যাই হোক, সৈয়দের বড় সন্তান অর্থাৎ মেয়েটাকে সেদিন প্রথম দেখলাম, এরপর আরো কয়েকবার দেখেছি, সে নরসিংদীর আব্দুল কাদের মোল্লা সিটি কলেজে পড়ে। এমনিতে মেয়েটি খুব কালো, তবে মেধাবী যে, সেটা তার চোখমুখ দেখেই বলে দেয়া যায়।

ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, এই মেয়েটি যখন সবেমাত্র মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিল, তখন সৈয়দ আমার কাছে বিশেষ আব্দার ধরেছিল যে, তার মেয়েকে কম্পিউটার শেখাতে হবে। সেটা করতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না, তবে আমি কেমনে জানি টের পেলাম, সৈয়দ তার মেয়ের সাথে আমাকে ‘ফিটিং’ করিয়ে দিতে চায়। যেমনঃ বাসায় যখন আমার বউ বা অন্য কেউ নেই, তখনও মেয়েটিকে আমার কাছে রেখে যেতে চায় সৈয়দ। এখন, বিষয় হলো – আমি এমনিতেই নারীলোভী, নারীদের সংস্পর্শে আসামাত্রই আমার দেহে বিভিন্ন ধরনের বিক্রিয়া তুমুলবেগে ঘটতে থাকে। আর তারা যদি সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকে, তবে কী যে করে বসি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। সুতরাং সৈয়দের ১৭ বছরের মেয়েটাকে বাসায় একা পেলে তাকে যে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া শুরু করবো, সামান্য পাত্তা বা পজেটিভ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পেলেই, সেটা আমি ভালো করেই জানি।

তবে এ ধরনের দৈহিক সংশ্রবে আমার কোনো আপত্তি ছিল না, যদি শেষ পর্যন্ত ‘বিয়ের দাবী’ না আসতো। অর্থাৎ কোনো মেয়ে বা মহিলা যদি তার দেহ আমাকে ইউজ করতে দেয়, আর তার বিনিময়ে যদি আমার কাছে বিয়ের দাবী নিয়ে না আসে, তবে তার সাথে সেক্স করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি বরং খুশিই হব সেক্ষেত্রে, যদি এতটুকু গ্যারান্টি থাকে যে, ঐ নারীটির দেহে কোনো মারাত্মক যৌন অসুখ (যেমনঃ এইচআইভি) নেই বা থাকার সম্ভাবনা কম।

তবে আমি ভালো করেই জানি, সৈয়দ যে ধরনের লোক, তাতে তার মেয়ের সাথে শুলে, শেষ পর্যন্ত আমার কাছে গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। দ্বিতীয় বিবাহ করতে আমার আপত্তি নেই, বরং আমি সেটা স্বেচ্ছায়ই করতে চাই, হয়তো আগামী দু’-এক বছরের মধ্যে সেটা করবোও। তবে আমি মিনিমাম স্ট্যান্টার্ড মেইনটেন করে, এরকম একটি ফ্যামিলির ‘মিনিমাম এক্সেপটেবল’ সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে চাই।

সৈয়দ যখন তার মেয়েকে কম্পিউটার শেখানোর বিষয়ে রিকোয়েস্ট করে, তখনকার দিনে আমি সোহেল রানা ভাইয়ের বড় মেয়ে মেঘলাকে মনে মনে পছন্দ করতাম, এমনকি তাকে বিবাহ করবো – এরকম গোপন বাসনা পুষে রেখেছিলাম। তবে ইদানিং মেঘলা’র চেয়েও আরো দামী দামী মালের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি, তাই বুঝতে পারছি না, কোনটা ছেড়ে কোনটা নেব।

যাই হোক, পুরনো প্রসঙ্গ অর্থাৎ শালার কথায় ফিরে আসি। আমার ডাক্তার শ্যালক যেমনতেমন কোনো ডাক্তার নয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সে বাংলাদেশের সেরা কয়েকজন ডাক্তারের কাতারে চলে আসবে, সে মেধা তার আছে। আমার মতো ‘সুপার লেভেলের বিদ্বান’ লোকও শ্যালককে নিজের চেয়ে বেশি বিদ্বান ও মেধাবী মনে করি; তাহলে বুঝতে হবে, সে কেমন! তার ব্রিলিয়ান্সের দু’একটা উদাহরণ দেই তাহলে।

২০১২ সালে কমনওয়েলথ দিবসে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ নিজ হস্তে আমার শ্যালক মামুনের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা জড়িয়ে দিয়েছেন; বলেছেন, ‘তোমার যে কোনো প্রয়োজনে আমার কাছে আসবা, তোমার জন্য আমার বাড়ির তথা সংসদের দরজা সবসময় খোলা’। শ্যালকের কৃতিত্ত্ব হলো, সে বহির্বিশ্বের সংষ্কৃতি বা ‘ওভারসিস কালচার’ এর উপর উন্মুক্ত রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে কমনওয়েলথের ৩৫টা দেশের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশকে বিশেষ গৌরব এনে দিয়েছে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন, আমার ডাক্তার শ্যালক হলো সেই লেভেলের মেধাবী! (আর সে দেখতেও খারাপ নয়) এতো মেধাবী ছেলেটি নিশ্চয়ই সৈয়দের মতো জমির দালালের মেয়েকে বিয়ে করবে না! এ কথাটা বলার কারণ হলো, আমি একজন বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ‘সুপার এক্সপার্ট’। সৈয়দ কী কারণে আমার শ্যালকদের খোঁজ নিচ্ছে সেটা বুঝতে আমার আর বাকি নেই; সৈয়দ তো আমার বড় শ্যালকের বয়সের ব্যাপারেও খোঁজ নিয়েছিল।

পরে সে আমার ছোট শ্যালক মিরাজ-এর ব্যাপারে জানতে চায়। বললাম, সে ঢাকা ভার্সিটিতে ‘ল’-তে পড়ে। সৈয়দ যেহেতু অশিক্ষিত, তাই সে বুঝতে পারছিল না, এই সাবজেক্টে পড়ে ভবিষ্যতে কী হবে মিরাজ। আমি বললাম, অনেক কিছুই হতে পারে; যেমনঃ উকিল, ব্যারিস্টার, জজ, বিসিএস ক্যাডার, সেটা সময়ই বলে দিবে। বিষয়টির মাহাত্ম বুঝাতে অন্য একটি উদাহরণও দিলাম, বললাম, ‘জানেন নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধু নিজে ‘ল’-এর স্টুডেন্ট ছিলেন? তিনি যে জায়গা থেকে ‘ল’ পড়েছেন (ঢাকা ভার্সিটি), সেখানে ‘ল’ পড়ছে আমার ছোট শ্যালক; বাংলাদেশে ‘ল’ পড়ার জন্য বেস্ট জায়গা বটে এটা’।

যাই হোক, আমার সাথে এসব আলাপচারিতা করতে করতে বেশ কিছু সময় কেটে গেল সৈয়দের। তখন তাকে পরিচিত একজন দূর হতে ডাক দিল এবং সে উক্ত ব্যক্তির সাথে আলাপের উছিলায় আমার পাশ হতে উঠে গেল। আর আমি কেবল মনে মনে ভাবি, ‘নিজের মেয়ে, বোন আর ভাগ্নি বিয়ে দেয়া ছাড়া বাঙালীরা আর কিছুই বোঝে না!’

বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করতে বাধ্য হলাম এই কারণে যে, এ সংক্রান্ত বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। যেমনঃ একবার যখন বাংলালিংকে আমার একটা টেকনিক্যাল জব হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তখন যে লিংকের মাধ্যমে অনুরোধ বা সুপারিশ পাঠিয়েছিলাম, সে লিংকের একজন যে কিনা আমার ইউনিভার্সিটিতে ডিপার্টমেন্ট-ওয়াইজ এক বছরের সিনিয়র বড় ভাইও বটে, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি বিয়ে করেছি কিনা’। বিয়ে আমি করেছি সাড়ে পচিঁশ বছর বয়সেই, আর ঘটনাটি হলো যখন আমার বয়স ত্রিশ। সত্যি বলার পর ঐ ভাইটি বোধ হয় নিরাশ হলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত ঐ জবের ব্যাপারে আর কোনো হেল্প করলেন না আমাকে। হয়তো ভাবলেন, কোনো অবিবাহিত যুবককে ঐ চাকুরিটা দিয়ে নিজের নিকটাত্মীয়া কোনো মেয়ের বিয়ে দেবেন তার কাছে।

এছাড়া এ ব্লগে সাঈদ নামে যে ব্যক্তির কথা একাধিকবার উল্লেখ করেছি, তার কাছ থেকেও এ ধরনের আচরণ পেয়েছি, যা আমি আগেই একাধিক আর্টিক্যালে উল্লেখ করেছি। ‘ভ্যালুয়েবল’ কাজগুলো সাঈদ আমাকে না দিয়ে আমারই ইউনিভার্সিটি জুনিয়র ছেলেদের দিয়ে যে সকল কারণে করাতে চাইতো, তার মধ্যে একটি বড় কারণ হলো, ঐ মেধাবী ছেলেগুলোর যেকোনো একটির সাথে ‘উপকারের উছিলায়’ ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং তার কাছে নিজের ভাগ্নি তিশাকে গছিয়ে দেয়া। এ ব্যাপারে সাঈদের পছন্দের পাত্র ছিল রিয়াজ আর ঋষিত, দু’জনেই মোটামুটি সুদর্শন ছিল। এদের বাড়ি ছিল যথাক্রমে ঝিনাইদহ ও যশোরে। এর মধ্যে ঋষিত বেশি সুদর্শন ছিল, তাই তার প্রতি সাঈদের সফট কর্নারটা একটু বেশি ছিল বোধ হয়। যাই হোক, সাঈদের ভাগ্নি অবশ্য খুলনা বিভাগের মেয়ে নয়, সে সম্ভবতঃ মুন্সিগঞ্জ (যেটা সাঈদের হোম ডিসট্রিক্ট) বা এর আশপাশের কোনো জেলার মেয়ে, যেমনঃ কুমিল্লা।

তাই খুলনা বিভাগের ঐ ছেলেদের কাছে নিজের ভাগ্নিকে গছাতে পারে নি সাঈদ। তাও পারতো, যদি মিনিমাম স্ট্যান্টার্ড মেইনটেন করে (বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ ও ঋষিতের বেলায়), এমন কোনো ফ্যামিলির মেয়ে হতো তিশা। সাঈদের যে মনমানসিকতা, তাতে বোঝাই যায়, সে নিজে ও তার ভাগ্নি তিশা কী ধরনের ফ্যামিলির লোক।

বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে নিজের ভাগ্নিকে গছাতে না পেরে এবার সাঈদ তার নজর নিচু করে, দৃষ্টি দেয় তিতুমীর কলেজের ছাত্র সজীবের দিকে। সজীব এমনতিই ত্রুটিপূর্ণ অঞ্চলের (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) লোক, তাই সাঈদের ভাগ্নি তিশার জন্য সজীবই ছিল একটা পারফেক্ট ফিট। একারণে আমার বুঝতে বাকি নেই যে, সজীবের সাথে সাঈদ যখন ঘনিষ্ঠ হয়েছিল, ‘বিশেষ’ ধরনের কিছু লেনদেন করার জন্য, তখন সাঈদের মনের গোপন খায়েশ ছিল, ফর্সা ত্বকের সজীবের কাছে তিশাকে গছিয়ে দেয়া। তবে সে উদ্দেশ্যেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে সাঈদ, তার জন্য এখন আমার দুঃখ হয়।

এখানে আমি আমার একটি প্রেডিকশন জানিয়ে রাখি, যেহেতু নিজের ভাগ্নিকে বিয়ে দেয়ার জন্য সাঈদ সুদর্শন ছেলেদের দিকে বেশি ঝুঁকেছে, তাই বলা যায়, তিশা মেয়েটিও তার মামার মতো গায়ের বর্ণে কালো ও নাকবোঁচা টাইপের। আর সজীবকে কী কারণে ত্রুটিপূর্ণ এলাকার লোক বললাম, সেটা জানতে চাইলে এ ব্লগের অন্য একটি আর্টিক্যাল পড়ে নিয়েন, যেটার নাম হলো – ‘বি.বাড়িয়ার লোকদেরকে যেমনটা দেখতে পেয়েছি’।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.