নায়িকা শবনম সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানেন কি? (Interesting info about heroine Shabnam)

নায়িকা শবনম এমনকি শাবানারও সিনিয়র। তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং তথ্যটি হলো – তিনি আসলে হিন্দু, যদিও হিন্দু রমণীর চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন নি – বললেই চলে। এমনকি তাঁর কপালে কেউ সিদুঁর দেখেছে বা তাঁকে হিন্দু রমণীর সাজসজ্জায় দেখেছে – এমনটিও কেও বলতে পারবে না। শবনমের প্রকৃত নাম হলো ঝর্ণা বসাক। তিনি ১৯৪২ সালের ১৭ই আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ তাঁর বর্তমান বয়স ৭৫ বছর।
তাঁর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান উভয় দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। ১৯৬১ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯৯ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর তিনি অভিনয় জগতে বিচরণ করেছেন। তাঁর স্বামীর নাম রবিন ঘোষ, যার সাথে ১৯৬৪ সালে ঝর্ণা বসাকের বিয়ে হয়। ২০১৬ সালে এই ভদ্রলোক মারা যান।

শবনম চলচ্চিত্র ছাড়াও মঞ্চে অভিনয় করেছেন। পাকিস্তানি অভিনেতা ওয়াহিদ মুরাদ ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সমুন্দর’ ছবিতে তাঁকে প্রধান অভিনেত্রী বা নায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়ে পাকিস্তানী চলচ্চিত্র শিল্পে জায়গা করে দেন। পাকিস্তানের সিনেমা জগতকে ‘ললিউড’ বলা হয়। সেখানে প্রায় তিন দশক ধরে শবনম কাজ করেছেন। পাকিস্তানি যেকোনো অভিনেত্রীর জন্য ঐ দেশের সরকারের তরফ হতে সর্বোচ্চ সম্মানের পুরষ্কার হলো ‘নিগার’ অ্যাওয়ার্ড। এ পুরষ্কারটি শবনম ১৩বার লাভ করেন এবং আরো বেশ কয়েকবারের জন্য মনোনীত হন। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের ইতিহাসে শবনমই একজন অভিনেত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি বার ‘নিগার’ পুরষ্কার লাভ করেন।



তিনি ১৮০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতের এক নম্বর নায়িকা ছিলেন। তিনি ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান, স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য এবং নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি পিতৃভূমি বাংলাদেশে চলে আসেন। এবার শবনমের বাল্যকাল সম্পর্কে বলা যাক। তাঁর পিতার নাম ‘নানি বসাক’ যিনি ঢাকার স্থানীয় এবং পেশায় একজন ফুটবল রেফারি ছিলেন। বাল্যকালে শবনম দূরন্ত স্বভাবের এবং কিছুটা ‘টমবয়’ প্রকৃতির ছিলেন – তাঁর বোনের সাথে তুলনায়, যে কিনা সঙ্গীতে আগ্রহী ছিল। তারপরেও ঝর্ণা বসাক নাচের দীক্ষা নিয়েছেন। সর্বপ্রথমে একটি ছবিতে তাঁকে পার্শ্বনর্তকীর চরিত্রে অভিনয়ের অফার দেয়া হয়, এভাবেই শিল্পকলার জগতে তাঁর বিচরণ শুরু হয়।

শবনমের পিতা তাঁকে বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতে ভর্তি করিয়ে দেন, এর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর পিতার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাঁকে ‘এই দেশ তোমার আমার’ ছবিতে একটি নাচের দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তাঁর পরবর্তী ছবি হলো ‘রাজধানীর বুকে’, সেখানে একজন নর্তকীর চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। গানটা যখন হিট হলো, তখন দর্শকেরা সবাই চাইলো শবনমকে যাতে শীর্ষ অভিনেত্রী বা নায়িকা হিসেবে ছবিতে নেয়া হয়।




এরপর তিনি তাঁর অভিষেক বাংলা ছবি ‘হারানো দিন’-এ অভিনয় করেন। বিখ্যাত পরিচালক এহতেশাম তাঁর ‘চান্দা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শবনমকে মনোনীত করলে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। ঐ সময়টায় শবনম উর্দুতে খুব একটা পারদর্শী ছিলেন না, তাই তাঁর রিহার্সেলের স্ক্রিপ্ট বাংলায় লেখা হতো। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেন শবনমের স্বামী রবিন ঘোষ। ছবিটি দারুণ ব্যবসাসফল হয়, এরপরই কিছুদিনের মধ্যে পাকিস্তানের চলচ্চিত্র শিল্পে শবনম শীর্ষ পর্যায়ে চলে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.