নাস্তিকদের শেষকৃত্য

যে কয়েকটি বিষয় দিয়ে আস্তিকরা, বিশেষ করে ইসলামী মোল্লারা নাস্তিকদেরকে নাস্তানাবুদ করতে চায়, তার মধ্যে একটি হলো – ‘আপনি কি মরবেন না? তখন কি জাহান্নাম এড়াতে পারবেন? আপনার জানাজা পড়াবে কে? আপনাকে কি কবর দিতে হবে না? তখন তো ঠিকই হুজুরদেরকে লাগবে?’ ইন ফ্যাক্ট, আমাকেও এ ধরনের কথা শুনতে হয়েছে এবং এখনও হয়। প্রতিবেশী এক ধর্মব্যবসায়ী আছে, তারা পারিবারিক সূত্রে এক মসজিদের মালিক। সেখানে আমি নামাজ পড়তে যাই না, তাই এ ধরনের কথা ঐ মসজিদের ইমাম তথা মালিকপক্ষের একজন এবং এলাকার লোকজনের কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে আমাকে।

আর আমার বউ তো অহরহ খোঁটা দেয় সেইম টাইপের কথাবার্তা বলে। সুতরাং বোঝা গেল, শেষকৃত্য ব্যাপারটা নাস্তিকদের জন্য একটি বিব্রতকর ইস্যু। তাই আমি বলি কী – ‘লাগবে না আমাদের, নাস্তিকদের কোনোরূপ জানাজা বা লাস্ট রেসপেক্ট লাগবে না। চলুন, আমরা নাস্তিকরা সবাই আমাদের স্ব স্ব দেহ মরণোত্তর দান করে দেই। অথবা নাস্তিকদের জন্য আলাদা কবরস্থান বানাই, যেখানে লাশ সমাহিত করার জন্য বিশেষ কোনো রীতিনীতি বা আচারের প্রয়োজন হবে না। কেউ যদি মনে করে যে, তাকে মৃত্যুর পর এক কাপড়েই কবরে সমাহিত করা হোক, তবে তাই হবে।’

আর কেউ যদি চায় তবে তাকে তার মনের মতো করে সাজগোজ করিয়ে কবরে সমাহিত করা হবে। বেশভূষা যাই হোক, ইট ডাজন্ট ম্যাটার। কারণ মৃত্যুর পর কোনো চেতনা নেই, কোনো শাস্তি নেই, কোনো সুখও নেই। এটাকে কেবল লম্বা একটা ঘুম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। 

এসব উদ্যোগ নেয়া হলে শেষকৃত্য বিষয়ে আস্তিকদের লাফালাফি এবং ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং অনেকটা কমে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.