নরসিংদীর শিবপুরের মিতা ও সেলিনার কাহিনী

একদিন যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে থার্ড বা ফোর্থ ইয়ারে পড়ি, তখন কী মনে করে জানি পপি-মিতাদের বাসায় গিয়েছিলাম, সেটা ছিল হাতিরঝিলের কাছাকাছি কোনো একটা জায়গায়। তারা আমাদের মতোই ভাড়া থাকতো, তবে অবশ্যই অনেক বেশি গরীবি হালের বাসায় (টিনের বাড়িতে)।

তখন মিতা আমাকে দেখে যেন চাঁদ পেল, ওদের বাসার সবাই খুব খুশি হলো। ব্যাপারটা তাদের কাছে অনেকটা অপ্রত্যাশিত ছিল, কারণ মাস্টরনি খালা অনেক বার বলা সত্ত্বেও এর আগে কখনো ওদের বাসায় বেড়াতে যাই নি। সেলিনা কেন বারবার আমাকে তাদের বাসায় বেড়াতে যেতে বলতো, সেটাও আমার জানা ছিল – তার কোনো একটা মেয়ের সাথে আমার সেটিং করিয়ে দেয়া।




যাই হোক, মিতা আমার চেয়ে এক বছরের বড় হলেও সে নিজেকে আমার চেয়ে জুনিয়র প্রমাণ করতে চাইলো, সে আমাকে ‘আপনি আপনি’ সম্বোধন করা শুরু করলো। আমি তো টাস্কি খেয়ে গেলাম। ভাবলাম, গরীব ঘরের চরিত্রহীন মেয়েরা বিয়ে বসার জন্য কত কিছুই না করে। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, মিতা তখন বিছানায় শুয়ে ছিল এবং তার পরিবারের সদস্যরা (তার ছোট ভাই নাদিম এবং মা সেলিনা) আমাকে বিছানায় মিতার পাশে বসতে বাধ্য করলো। নাদিম তো বলেই বসলো, ‘আসেন বসেন বসেন, মেয়েদের পাশে বসলে কোনো সমস্যা হয় না।’ বুঝেন অবস্থা!

সুতরাং একটা ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম যে, ওদের বাসায় গিয়ে যেকোনো সময় মিতা বা পপির সাথে আকাম চালানোর সুযোগ আমার ছিল। কিন্তু আমি ‘মাছি মেরে হাত নোংরা’ করতে চাই নি, তাই আর ওদের বাসায় যাই নি।

শেষ চেষ্টা করতে সেলিনা আমার সাথে এক রুমে সময় কাটিয়েছে

তবে এই ঘটনার কিছুদিন পর সেলিনা নিজেই আমার বাসায় এসেছিল, সে সাধারণত তখন আমাদের বাসায় কদাচিৎ আসতো (ছয় মাস বা বছরে একবার)। কিন্তু এমন একটা সময় আসলো যখন আমি ছাড়া আর কেউ বাসায় ছিল না, আবার বেছে বেছে আমার রুমেই অবস্থান নিলো। তখন সেলিনার যৌবনকালের শেষ সময় (বয়স ৪৫ এর কাছাকাছি), তাই আমি যদি তখন তাকে বিছানায় চেপে ধরে লাগাতাম বা ধর্ষণ করতাম, তাহলে তার কিছুই করার থাকতো না।



কারণ একেতো ঐ সময় আমি শক্তসমর্থ ছিলাম (আগের মতো হ্যাংলা ছিলাম না), তার উপর ঘটনা শুনলে সবাই বলবে, একটা যৌবনবতী মহিলা এক অবিবাহিত যুবকের ঘরে কী করে?! তারপরও সেই রিস্ক নিয়েই সেলিনা এসেছিল আমার কাছে, মনে হয় অনেকটা খোঁজখবর নিয়েই (কখন আমি বাসায় একা থাকবো)। আবার হয়তো রিস্কও নেয় নি, হয়তো স্বেচ্ছায় লাগাতে এসেছে। মানে, তাকে যদি চেপে ধরে লাগাই, তাহলে সে আমাকে মনের কথাটা বলতে পারবে। বলতে পারবে যে, ‘তুই যদি আমার কোনো মেয়েকে বিয়ে করিস, তাহলে তুই আজীবন লাগাতে পারবি আমাকে, যদি চাস!’। সত্যিই সেলুকাস এ দেশ!

তবে আমি তাকে কিছুই করি নি, আর কখনো তাদের বাসায় যাই নি, আর তাদের বাসার কেউ আর কখনো আমাদের বাসায় আসে নি। এর দু’-এক বছর পর আমি বিয়ে করে ফেলি, তারা হয়তো মর্মাহত হয়েছিল। কিন্তু তারাও আর কালক্ষেপণ না করে ঘটা করে একই দিনে মিতা আর পপিকে বিয়ে দিয়েছিল, তাদের দেশি (নরসিংদী) ছেলেদের সাথে।



Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.