নববর্ষের দিন মাদ্রাসা চালু কেন? (তীব্র হিন্দু বিদ্বেষ ও মুসলিম বিদ্বেষ)

আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদ আছে সেটির ইমামের নাম আনিস হুজুর, তার বয়স ২৬-২৭ এর কাছাকাছি। মসজিদটি যে জায়গায় হয়েছে তা পূর্বে তার পিতার ছিল, বর্তমানে এটি ওয়াকফ সম্পত্তি। মসজিদের পাশে তারা আবার একটি মাদ্রাসাও স্থাপন করেছে, যা তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন। আমি এ বিষয়ে আপত্তি করতে চাই যে, আজকে নববর্ষের দিনেও মাদ্রাসাটি খোলা বা চালু কেন? কেন মাদ্রাসার স্টুডেন্টরা নববর্ষের আনন্দের বদলে আজও আলিফ-বাতাসা শিখছে?




আনিসের পূর্বপুরুষেরা কুমিল্লা হতে এসেছে। পরবর্তীতে তারা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আস্তানা গেঁড়েছিল। আনিসের মা ও দাদী সম্ভবতঃ অরিজিনালি চাঁদপুরের মেয়ে ছিল, তাতে কী? তার দেহে এখনো কুমিল্লার রক্তই বিদ্যমান, তাই না? এক জেলার লোক অন্য জেলায় গিয়ে বাড়ি করলেই সেখানকার অধিবাসী হয়ে যায় না। বংশপরম্পায় তাদের রক্তে অরিজিনাল ডিস্ট্রিক্টের বদঅভ্যাস থেকে যায়।

আনিসের পিতা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কোনো এক মসজিদে দীর্ঘদিন ইমাম ছিল, সেখান থেকে সে বিপুল পরিমাণ টাকা-পয়সা অবৈধভাবে কামিয়েছে। পরে রূপগঞ্জেরই এক স্থানে ২০-২৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে থিতু হয়েছে। সে জায়গাটি আমার বাড়ির পাশে। সত্যি বলতে, তারা এখানে বসতি গড়ার প্রায় ২০ বছর পর অর্থাৎ গতবছর এখানে আমি বাড়ি করেছি। তার মানে এই না যে, আনিসেরা বা আমি এখানকার অরিজিনাল বাসিন্দা হয়ে গেলাম। আমাদের যার যার রক্তে নিজ নিজ জেলার লোকদের কমন বদঅভ্যাসগুলো ঠিকই রয়ে গেছে।

কুমিল্লার লোকদের একটি বদঅভ্যাস হলো, তারা ধার্মিক (বিশেষ করে মুসলিম) হলে কট্টরপন্থী টাইপের ধার্মিক হয়। অর্থাৎ এরা অন্যের ধর্ম সহ্য করতে পারে না। তাই এদেরকে কাঠমোল্লা বলা হয় এবং বাংলাদেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় কুমিল্লায় জঙ্গীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কথা। এরা মনমানসিকতায় অনেকটা মৌলবাদী হওয়ার কারণেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যায় এরাই প্রথমে এগিয়ে এসেছিল। ভুলে গেলে চলবে না, শেখ মুজিবের সাথে বেঈমানী করা খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এবং বঙ্গবন্ধুর বেশিরভাগ খুনীদের বাড়ি কুমিল্লাতে।

হঠাৎ করে কুমিল্লার লোকদের বদনাম শুরু করলাম এই কারণে যে, জঙ্গী আনিস আজ তার মাদ্রাসা চালু রেখেছে; সেটা তার আপন ভাগ্নিকে দেখে বুঝেছি। বাচ্চা মেয়েটি আজও হিজাব পরে মলিন চেহারা নিয়ে মাদ্রাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিল। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আজকে অন্ততঃ মাদ্রাসাটা বন্ধ রাখলে কী এমন ক্ষতি হতো? বিকেলে আরেক মাদ্রাসার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানেও একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক ব্যক্তিকে শুনলাম একটি বাচ্চা ছেলেকে বলছে, ‘নববর্ষের দিন মাদ্রাসা বন্ধ রাখলে লোকজন কী বলবে?’ অর্থাৎ নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ মনে হয় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার শত্রু! সম্ভবতঃ সকল মাদ্রাসাতে এই শিক্ষা দেয়া হয় যে, ‘নববর্ষ হলো হিন্দু ও বিধর্মীদের সংস্কৃতি’। তাই এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী বছরের নববর্ষে যাতে আর একটিও মাদ্রাসা চালু না থাকে।

আর আনিসদের কথা কী বলবো?! তার পিতা বুইড়া হুজুর যে কথাটি আমাকে বলেছিল কয়েক মাস আগে, সেটা মনে করলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়! তার দেয়া তথ্য মোতাবেক – শেরে বাংলা যখন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর নির্দেশে নাকি এক রাতের মধ্যে হাজার-হাজার হিন্দু ব্যক্তিকে কতল করা হয়! ঠিক যেমনটা হেফাজত দাবী করে ৫ই মে’র ঘটনায়। পাঠকবৃন্দ আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, শেরে বাংলা সম্পর্কে এ ধরনের কথা আর কোথাও কি শুনেছেন? অন্ততঃ আমি তো শুনি নি। এটা তীব্র হিন্দু বিদ্বেষের নমুনা।

বাড়ির পাশের মসজিদটিতে জুমার দিন যেসব আজেবাজে খুতবা দেয়া হয়, তাতে আমার মাঝেমাঝে বমি আসে। এমনটি শুনেছি যে, ‘মানুষের জন্ম নাকি এক ফোঁটা নাপাক পানি থেকে’! আমি মনে মনে হুজুরকে বলি, ‘তোরটা নাপাক হতে পারে, আমারটা নয়’। এই কথাটা নাকি কুরআনে উল্লেখ আছে, তবে আমি এটি মেনে নিতে রাজি নই। আমি মনে করি, মানুষের জন্ম কোনো নাপাক জিনিস থেকে হয়েছে – এরকম চিন্তা করাটাই অনেক বড় অপরাধ। হুজুরদের মতে, শুধু ‘আল্লাহ’র ইবাদতকারীরা’ বেহেশতে যাবে। আমি বলতে চাই, ‘আমি আমার আইডলদের (যেমনঃ নিকোলা টেসলা) না নিয়ে বেহেশতে যাব না, এমনকি যদি ফ্রিতেও দেয়া হয়। টেসলাসহ আমার অন্যান্য আইডলরা মানব সভ্যতার জন্য যা করেছেন, তাতে তাদেরকে এমনিতেই বেহেশত দেয়া উচিত, হোক তারা ক্রিশ্চিয়ান বা বিধর্মী’।

এবার মুসলিম বিদ্বেষের বিষয়েও কিছু বলতে চাই। আমি মনে করি, এদেশের বেশিরভাগ হিন্দুরা মুসলমানদেরকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে। সেটা যে একবারে বিনা কারণে তাও না, কারণ তারা অনেক পরিমাণে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’-এর শিকার হয়েছে। তবে মুসলিমদের প্রতি তাদের ঘৃণার মাত্রাটা একটু বাড়াবাড়ি টাইপের। হিন্দুরা সুযোগ পেলেই মুসলমানদের সাথে নিষ্ঠুর, নির্মম ও অমানবিক আচরণ করে; এ কারণে এ ধরনের আচরণকে অনেক সময় ‘চাড়াল’ টাইপের বলে উল্লেখ করা হয়। এমনকি কোনো মুসলিম ব্যক্তিও এ ধরনের আচরণ করলে তাকে ‘চাড়াল’ বলে উল্লেখ করা হয়।

আমি চাই, এদেশের সাধারণ অধিবাসী হিসেবে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরস্পরকে শ্রদ্ধার চোখে দেখবে, একে অপরকে ঘৃণা করবে না। এ কারণে হিন্দুদের প্রতি বলতে চাই, ‘নিজেদেরকে কেবল বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে মনে করুন, সংখ্যালঘু বা স্পেশাল মনে করবেন না। আর নিজেদেরকে স্পেশাল প্রমাণ করার জন্য দেহে বা পোশাক-আশাকে কোনো বিশেষ কিছু ইউজ করবেন না, যেমনঃ তীলক বা বিশাল আকারের টিপ। এ ধরনের ড্রেসআপ ও মানসিকতা আপনাদেরকে আরো বেশি একঘরে ও জেদি করে তুলবে।’



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.