দেশের ক্যারিয়ার-পাগল নারীরা

ক্যারিয়ারের পেছনে ছোটা খারাপ কিছু নয়, কারণ এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। তবে দেশে বেশ কিছু নারী রয়েছেন, যারা ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে উদভ্রান্তের মতোন হয়ে যান, তাঁরা নিজেদের সাথে সাথে সামাজিক পরিবেশটাকেও কলুষিত করে ফেলেন, তাঁদের অপকর্মের ফিরিস্তি দিতেই আজকের এই আর্টিক্যাল।

প্রথমে এসব নারীদের পক্ষেই কিছু কথা বলি। চাকুরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার যে নারীদের আছে, সেটা প্রমাণ করার জন্য কিছু যুক্তি দেই। অনেক পরিবার আছে, যাদের কেবল মেয়েসন্তান রয়েছে, ছেলেসন্তান নেই। ‘প্রতিবেশীর ছেলে দুইটা বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে, আর আমার মেয়েরা কি ঘরে বসে থাকবে নাকি?’ – এই হলো মেয়ের অভিভাবকদের চিন্তাভাবনা। তাঁদের চিন্তাভাবনা ঠিকই আছে, কারণ বৃদ্ধ বয়সে সবারই তো অবলম্বন দরকার হয়। ছেলেদের মতো মেয়েরাও বাবা-মায়ের ‘অন্ধের যষ্ঠি’ হতে পারেন, যদি তাঁরা নিজেদেরকে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।




তবে একবার নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করার পর এরা যেসব কর্মকাণ্ড শুরু করে, সেগুলো সত্যিই দৃষ্টিকটু। এরা অনেকেই যৌন আবেদনময়ী পোশাক পরে বা ‘সিক্রেট টেম্পটেশন’ পারফিউম লাগিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয় (‘সিক্রেট টেম্পটেশন’ মানে হলো ‘গোপন প্রলোভন’, কীসের প্রলোভন সেটা নিজেই বুঝে নেন)। আর আপাতদৃষ্টিতে ‘ভদ্র’ পোশাক পরলেও নিজের ছিমছাম ‘স্লিম’ শরীরটার ভাঁজগুলো স্পষ্টরূপে ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ও সচেতন থাকে। এতে করে সমাজের সকল বয়সী পুরুষের মনোসংযোগ ব্যাহত হয়। এ পর্যায়ে অনেকেই এ যুক্তি দিয়ে থাকবেন যে, ‘এ দেশের পুরুষেরা এত লোচ্চা কেন? সুন্দরী নারীদের দিকে তাঁরা ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকেন কেন?’ তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, পুরুষের এ প্রবৃত্তি প্রকৃতিজাত, অর্থাৎ স্বয়ং প্রকৃতি তাঁদের এ প্রবৃত্তি সৃষ্টি করে রেখেছে। তা সত্ত্বেও কিছু উন্মাদ বাদে বেশিরভাগ পুরুষেরা নিজেদের মা-বোনের কথা বিবেচনা করে হলেও যথাসম্ভব শালীন থাকার চেষ্টা করে এবং সর্বদা শালীন আচরণের চেষ্টা করে। তবে নারীদের অশালীন ‘গেটআপ’-এর কারণেই ভদ্র পুরুষেরা চাইলেও পুরোপুরি ভদ্র থাকতে পারছেন না। তাঁদের মাথায়ও যৌন ক্রিয়াকর্মের চিন্তাভাবনা প্রায়সময়ই ঘোরাফেরা করে, বেশি সমস্যা হয় ইয়াং ও অবিবাহিত ছেলেদের। তারা মুখে হয়তো অফিসের ‘স্লাট’ মহিলাটিকে ‘আপু’ বলে সম্বোধন করে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ঠিকই বলে, ‘তোমাকে যদি একা এক রুমে পেতাম, তাহলে তোমার দেহের/যৌবনের জ্বালা জন্মের মতো মিটিয়ে দিতাম’।

অনেক নারীরা শুধুমাত্র দেহ দেখিয়ে ক্ষান্ত হয় না, তারা প্রমোশনের জন্য তথা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা উপভোগের জন্য ইমেডিয়েট বস ও সুপার বসকে নিজের দেহ ভোগ করতে দেয়। এ কাজের মাধ্যমে তারা কর্মস্থলে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ সহকর্মীকে দমন করে রাখে। কলিগ মহিলাটির এমন ‘অকারণ’ কর্তৃত্বের কারণে অনেক পুরুষ সহকর্মীই ভেতরে ভেতরে অসহায় বোধ করেন।

এসব নারীরা অনেক সময় নিজের দুধের বাচ্চাকে বাসায় ফেলে এসে অফিসে হাজিরা দেন। নিজে ভেতরে ভেতরে পিশাচিনী হলেও বাচ্চার প্রতি মমতা ঠিকই অসীম। তাই প্রথম কয়েকদিন অবুঝ শিশুটিকে অনবরত মনে পড়তে থাকে তাঁদের, এমনকি সময়মতো স্তনের দুধ খালাস না করায় স্তনে মাঝেমাঝেই সুড়সুড়ি হতে থাকে তাঁদের। এসব যন্ত্রণা ক্রমাগত সহ্য করতে করতে একসময় তাঁদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায় এবং ভিতরের পিশাচিনীটা বাইরে বেরিয়ে আসে; শুরু হয় আকাম-কুকাম, দুর্বল ও অসহায়দের সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে, গ্রুপিং ও ব্যাপক ‘অফিস পলিটিক্স’ শুরু করে, ‘যোগ্যতা’ নামক মাপকাঠিটিকে হেলা শুরু করে। যে ক্যারিয়ারের জন্য তাঁরা নিজের শিশুকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছে, সেটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁরা যেকোনো কিছু করতে বদ্ধপরিকর হয়। অফিসের সাথে সাথে রাস্তাঘাটে, পাবলিক পরিবহনে ও অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে তাঁদের ‘রাফ এণ্ড টাফ’ আচরণ ও ভাব ফুটে ওঠে।



অনেক নারী কর্মজীবন বা ‘ক্যারিয়ার’ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সময়মতো বিয়ে করতে পারে না। তারা তখন নিজেদের দেহের যৌবনজ্বালা মেটানোর জন্য পুরুষ সহকর্মী, অফিসের বস এমনকি বয়সে ছোট ছেলেদের সাথে যৌনতায় মেতে ওঠে। অনেক সময় এরা কিছুদিন পরপর যৌনসঙ্গী বদল করে, ফলে অনেক যৌনরোগের শিকার হয় এবং ঐ ভয়ংকর অসুখ-বিসুখগুলো সঙ্গীর শরীরেও ছড়িয়ে দেয়। কর্মস্থলে কোনো পুরুষকে যৌনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ হলে তাকে প্রথমে ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা অন্য কোনোভাবে ঈঙ্গিত করে বুঝিয়ে দেয়, তাতে কাজ না হলে নিজের ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করে তাকে অফিস থেকে বিতাড়ণের সর্বোত্তম চেষ্টা করে, আফটার অল নিজের দুশ্চরিত্রের স্বাক্ষী রাখতে চায় না এরা।

এ পর্যায়ে অনেকেই হয়তো জিজ্ঞেস করবেন, ‘এগুলো আপনি পেলেন কোথায়?’ তাঁদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, এগুলো সবই আমার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া (বলতে গেলে ‘জীবন থেকে নেয়া’)। কেউ যদি আমার এ বক্তব্যগুলো পুরোপুরি অসত্য ও বানোয়াট বলে দাবী করেন, তাহলে বুঝতে হবে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে এ ধরনের ‘স্লাট’ টাইপের মহিলার সংখ্যা বেশি। আর কেউ যদি সত্যিই আন্তরিকভাবে মনে করে থাকেন যে, তাঁরা তাঁদের কর্মস্থলে কখনোই এ ধরনের ব্যাপার লক্ষ্য করেন নি, তাহলে বুঝতে হবে তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই এক্সট্রা-অর্ডিনারী (হয়তো কোনো জামাতী প্রতিষ্ঠান), অথবা তাঁদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা খুবই কম এবং তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও চেহারা মুরুব্বী বা একঘেঁয়ে টাইপের, তাই হয়তো কোনো মহিলা কলিগ তাঁদের প্রতি কখনোই শারীরিকভাবে আকৃষ্ট হয় নি।



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.