দেশপ্রেম নাকি দেশদ্রোহ?

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার কথা বলছি
দেশের জনগণ এখনো ধন্দে আছে
দশ ট্রাক অস্ত্র এলো দেশে
প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে
তারা নাকি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের
হাতে তা তুলে দিতে যাচ্ছিল।
কথাটা সত্যি!
তৎকালীন বিএনপি প্রশাসন তথা সরকার
এর সাথে জড়িত।
এটা চেয়েছিল বিএনপি’র তারেক জিয়া
আর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর।
তাহলে প্রশ্ন হলো –
তারা কি দেশদ্রোহ করেছিল?
এটা আসলে পয়েন্ট অফ ভিউয়ের প্রশ্ন।

আমরা জানি, আওয়ামী লীগ হলো ভারতের তাবেদার
আর বিএনপি হলো পাকিস্তান ও চীনের তাবেদার।
তারা একেকজন ক্ষমতায় আসলে
তাদের নিজস্ব স্টাইলে দেশ চালাতে চায়।

সুতরাং ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার ভারতের
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল।
ভারতও যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে না
তা কিন্তু নয়।
দেশের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে বর্তমানে অসংখ্য ভুল।
এর পেছনে মাস্টারমাইন্ড হলো ভারতের ‘র’ –
দ্য ‘কুখ্যাত’ গোয়েন্দা সংস্থা।
আসলে কুখ্যাত এরা সবাই
পাকিস্তানের আইএসআই, আমেরিকার সিআইএ
এদের সবার কাজ হলো অন্য দেশের
ক্ষতি করে নিজ দেশকে এগিয়ে রাখা।

যাই হোক, যেটা বলছিলাম
বিএনপি চেয়েছিল,
আর চেয়েছিল পাকিস্তান ও চীন
যে, ভারত ‘টুকরে টুকরে’ হয়ে যাক।
তাইতো আসাম ও সেভেন সিস্টার্স এর অন্যান্য
রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে অস্ত্র
তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা;
যদিও সেটা শেষ পর্যন্ত সফলকাম হয় নি।

এটা আসলে দেশদ্রোহ নয়
এটা হলো স্ট্রেটেজি।
যেমনটি আগে বললাম –
সবাই যার যার নিজের মতো করে
দেশ চালাতে চায়।
তাই দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায়
বাবরকে ফাঁসিতে চড়াতে পারে না
আওয়ামী সরকার।
তবে তারপরও বাবরকে ফাঁসিতে চড়াবে
এ সরকার, অন্য এক মামলায়।
আওয়ামী নেত্রী হাসিনাকে
একুশে আগস্ট বোমা হামলায়
হত্যা প্রচেষ্টা মামলায়।
এভাবে সরাসরি নগ্নভাবে বিরোধী দলীয়
নেত্রীকে হত্যা প্রচেষ্টা
সত্যিই খুব নেক্কারজনক।
এর সাথে যদি বাবর জড়িত থাকে
তবে তাঁর ফাঁসি হোক।
তবে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায়
বাবর দেশদ্রোহী নয়।
ঠিক যেমন ‘৭১ সালে
যে সকল রাজাকার যুদ্ধাপরাধ করে নি
তারাও শাস্তিযোগ্য নয়।
কারণ তারা তাদের ‘দেশ’ পাকিস্তানের পক্ষে ছিল।
যেমনটা বললাম, এটা হলো
পয়েন্ট অফ ভিউ এর ব্যাপার।
আপনি ‘জয় বাংলা’ বলেই আরেকজন
‘জয় পাকিস্তান’ হতে পারবে না
– এমন মানসিকতা ঠিক নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.