দুই নারীকে যৌন হেনস্থা করার প্রকৃত কারণ

আমি জীবনে হয়তো অনেক নারীকেই যৌন হেনস্থা করেছি, এর বেশিরভাগই যৌন উত্তেজিত হয়ে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নারী আমার সাথে ঐরকম আচরণ করেছিল বলেই আমিও তাকে এভাবে প্রত্যুত্তর দেই। তবে কমপক্ষে দু’জন নারী রয়েছেন, যাদেরকে আমি ঠাণ্ডা মাথায় যৌন হেনস্থা করি; মূলত তাদেরকে শিক্ষা দিতে বা প্রতিশোধ তুলতে। এর মধ্যে একজন হলো নাসরিন সুলতানা মুন্নি যে ‘প’ আদ্যাক্ষরের গাইডবুক পাবলিকেশন্সে বর্তমানে পিএমডিতে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। আর দ্বিতীয়জন হলেন আমার শ্বাশুড়ি। শ্বাশুড়ি যেহেতু আপনজন এবং তার ব্যাপারটা সেনসিটিভ, তাই তার বিষয়ে পরে খুলে বলি।

নাসরিন ও আমি পরস্পরকে অনেকদিন থেকে চিনি। ২০১২ সালে যেদিন সুনীলদা আমাকে তৎকালীন সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের লোকজন যেমনঃ সাঈদ, নাসরিন, বিথী ও বদরুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, তখন একমাত্র নাসরিনই চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে আমাকে সালাম দেয়। আসলে সে ভালো করেই জানতো, ভূগোলের প্রকৃত জায়গা সায়েন্স নয় এবং সে চাকুরি হারানোর ভয়েও জড়সড় ছিল। নিশ্চয়ই সাঈদ তাকে এই ভয় দেখিয়েছে, তার কাছ থেকে শারীরিক ফায়দা আদায় করার জন্য।

যাই হোক, পরবর্তীতে নাসরিন বুঝতে পারলো, আমি সাধারণ একজন রাইটার, তাই তখন সে আমাকে খুব একটা গ্রাহ্য করতো না, আমিও তাকে গুণায় ধরতাম না। তবে একই জেলার মানুষ হিসেবে তাকে বিবেচনা করতাম, যদিও সে নরসিংদীতে বড় হয়েছে বলে নিজেকে ‘ঢাকাইয়া’ ভাবতো। অবশ্য ঐসব ভেবে লাভ নেই, কারণ আমি নিজেই ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, সুতরাং আমি ‘বড় ঢাকাইয়া’।




আমার কথাবার্তা শুনে আমার জ্ঞানগরিমা সম্পর্কে সে সম্যক ধারণা লাভ করে এবং ভেবে আতংকিত হয় যে, ‘এতো যোগ্য লোক এখানে এসে পড়েছে’। তখন থেকেই সে মূলতঃ আমার পিছে লাগে, কারণ এই ধরনের নিচু মেধার লোকজনদের অস্ত্র হলো ‘অফিস পলিটিক্স’। পরবর্তীতে বিথীর সাথে যখন বিল নিয়ে সমস্যা হলো (সে চাপাবাজি করে উঁচু রেটের লোভ দেখিয়ে কাজ উদ্ধার করে এখন পল্টি নিয়েছে), তখন নাসরিন তার আসল রং দেখানোর সুযোগ পেল। বিথী হিন্দু হওয়ায় সংখ্যালঘু এবং আরএন্ডডি’র হেড সুনীলের সাথে তার ‘ভালো’ সম্পর্ক রয়েছে বিধায়, বিথী ছিল আসলে সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু আমি তার ক্ষমতার পরোয়া করলাম না, চাপাবাজি করার কারণে তার সাথে ক্যাঁচাল করতে বাধ্য হলাম।

পরবর্তীতে বিথীর সাথে আমার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে আসে, এমনকি বরিশাল ঝালকাঠিতে (যেখানে আমার শ্বশুরবাড়িও বটে) তার বাপের শ্রাদ্ধেও আমি গিয়েছিলাম। বিথী আমার পিছনে লেগে ছিল, কারণ তার তখন বয়স ৩৫/৩৬ হলেও বিয়ে বসে নি, তাই যৌবনজ্বালা মেটাবার জন্য আমিই ছিলাম তার ফার্স্ট চয়েস। আমিও ভাবলাম, দেখি তার সাথে শুয়ে, ‘নতুন মাংসের স্বাদ’ নেয়ার দরকার আছে বৈকি। কিন্তু শ্রাদ্ধ থেকে ফিরেই সে আর সুনীল মিলে আমার আর সাঈদের নামে অভিযোগ তোলে, সাঈদ নাকি আমাকে ব্যবহার করে কোম্পানীর টাকা লোপাট করছে। সেটা সাঈদ করেছে বটে, তবে আমাকে দিয়ে নয়, প্রুফরিডার সজীবকে দিয়ে। দুই নম্বরী করার জন্য সাঈদ তাকে প্রুফরিডার থেকে ‘সাধারণ বিজ্ঞান’-এর রাইটার পদে পদোন্নতি দিয়েছে, যাতে সজীবের নামে মোটা মোটা বিল করা যায়।

এসকল কারণে বিথীর সাথে সুসম্পর্ক রাখা সম্ভব হলো না, যদিও অভিযোগের কোনো বাক্য সরাসরি আমার কানে আসে নি। বিথীর সাথে কথাবার্তা বন্ধ করার পর নাসরিন আবার পল্টি নেয়ার সুযোগ পেল। এবার সে খারাপ ব্যবহার শুরু করলো, যেমনঃ ‘এই ‘ইয়ে’ ভাই, চেয়ারটা এমনে রাখছেন কেন?’ আর চেহারায় তো সবসময় একটা ডিসঅ্যাপ্রুভাল আর ভ্রু কুঁচকানি ছিলই। আমার তখনকার রিপোর্টিং বস সাঈদ এসবের বিরূদ্ধে কোনো অ্যাকশন নিতে পারে নি, কারণ সে নিজেই নাসরিনকে দৈহিকভাবে অপব্যবহার করে তার কাছে অনেকটা জিম্মি ছিল। সাঈদের পক্ষে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না, আর বিথী-নাসরিনরা অফিসের অন্য মেয়েদেরকে কান-কথা শুনিয়ে তাদের দলে ভিড়িয়েছিল, এমনকি তাদের ‘মাগিবাজ’ পুরুষ সহকর্মীগুলোও বিথীর পক্ষে কথা বলতে শুরু করলো।



বিথী তুলনামূলক খাটো ছিল বলে সে সরাসরি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করার সাহস পেত না, তাই সে নাসরিনকে দিয়ে এসব করাত। তখন আমি মনে মনে ভাবতাম, ‘এই কি সেই নাসরিন যাকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে একবার চুমু খাবার সুযোগ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিলাম?’

ব্যাপারটা ছিল এই যে, তখন আমার বিথীর সাথে ব্যাপক খ্যাতির, সে আমাকে চাপাবাজির মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে তার কেমিস্ট্রির মেডইজি’র কাজ করাচ্ছিল। তো, একদিন ডিপার্টমেন্টে আমি আর নাসরিন ছাড়া আর কেউ নেই, নাসরিন সরল মনেই তার একটা কাজ বা ড্রয়িং দেখানোর জন্য আমাকে কাছে ডাকলো, আমি ভুলে তার খুব কাছে চলে যাই এবং আমাদের মুখ বা ঠোটগুলো খুব কাছাকাছি চলে আসে। যখন বুঝতে পারলাম, তখন আমি সরে আসি। তবে আমি জানি, সেদিন তাকে শুধু ঠোটে চুমু খেলে সে একটু মাইন্ড করতো এবং সিনক্রিয়েট করার ভয় দেখাত ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকে বলতো না। আমাদের দু’জনের মাঝে সম্পর্কটা এভাবে শুরু হলে সেটা হয়তো সাঈদের মতো বিছানায় গিয়ে গড়াত। আমি সরে আসায় নাসরিন নিশ্চয়ই আমাকে ‘বুদ্ধু’ ভেবেছিল।

তারপর বিথী এত করে চাওয়া সত্ত্বেও আমি যখন তার সাথে শেষ পর্যন্ত শুলাম না, তখন নাসরিন আর বিথী দু’জনেই আমাকে নিশ্চয়ই ‘খোঁজা’ বা ‘নপুংশক’ ভেবেছিল। অর্থাৎ তখন থেকেই নাসরিন আমাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। আসলে নাসরিন আর বিথীর ‘অফিস ফিলসফি’ আমার কাছে পরিষ্কার হতে কিছুটা সময় লেগেছে, আর সেটা হলোঃ “ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য প্রয়োজনমতো যার-তার সাথে শোও।” বিথীর জন্য ব্যাপারটা সহজ ছিল, কারণ সে ছিল অবিবাহিতা, তবে নাসরিনও যে এই ফিলসফিতে বিশ্বাস করতো এবং তার নিজের জীবনে ফিলসফিটির প্রতিফলনও ঘটাবে, সেটা পরে বুঝেছি।

তাই ঠিক করেছিলাম, আমাকে ‘নপুংশক’ ভাবার শাস্তিটা নাসরিনকে দেবই। এ উদ্দেশ্যে প্রথমে তার সাথে ফেসবুকে ফ্রেন্ড হলাম, পরে তাকে মেসেঞ্জারে বললাম, ‘ম্যাডাম, আমরা দু’জন তো মূলতঃ একই জেলার লোক, অথচ একে অপরকে খুব কম জানি। চলেন না, একদিন সময় করে দু’জনে কোথাও ঘুরে আসি, যেমনঃ সিনেপ্লেক্স বা যমুনা ফিউচার পার্ক।’ তাতে সে কোনো সাড়া দিল না; বুঝলাম, সে আমার সাথে খেলতে চায়। কিন্তু আমার এতো খেলার সময় নেই, তাই তাকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে বললাম, ‘ম্যাডাম, একটা মেয়ে বা মহিলার সন্ধান দিন তো, সেক্স করার জন্য (চাইলে আপনি নিজেও করতে পারেন)’।

যদিও এরপর সে আমায় ব্লক মেরেছে, তবু কমপক্ষে আমার উদ্দেশ্য চরিতার্থ তো হলো! মাগিকে আকাশ থেকে মাটিয়ে নামিয়ে আনলাম (শ্বাশুড়ির কাহিনীটা আরেকদিন বলবো)।

নাসরিন যদিও এতটা সুন্দর নয় (নাকটা ‘ভাউয়া’ ব্যাঙের মতো), তবে তার শরীরে অারেকটু গোস্ত জমলে অনেকটা এরকম দেখাবে



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.