দিনাজপুরের মেয়ে মিল্কা, প্রাক্তন ছাত্রী ও সম্ভবতঃ জীবনের প্রথম ভালোবাসা

তখন ১৯৯৮ সালের কথা, আমি মিল্কাকে পড়াতাম। সে ৭ বছরের বালিকা ছিল, পল্টনের লিটল জুয়েলস স্কুলে পড়তো, চমৎকার ড্রেস ওদের। এখনো ঐ ড্রেস দেখলে বিরহে আমার বুক চিনচিন করে।




ঐ সময় মিল্কার বাবা বাংলাদেশ ব্যাংকে ছোটখাট অফিসার ছিলেন, এখনো সেখানে চাকুরি করলে নিশ্চয়ই বড় কোনো অফিসার হয়েছেন। লোকটা হেভি হিসেবি ছিলেন, গায়ের রং ফর্সা ছিল, তবে সুদর্শন ছিলেন না। তাকে দেখলেই টিপিকাল বাংলাদেশী ছোটলোক মনে হতো। তবে তার বউ যেও কিনা দিনাজপুরের মহিলা, বেশ সুন্দরী ছিলেন এবং এ কারণেই মিল্কাও অনেক সুন্দরী ছিল। প্রথম দেখাতেই আমি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।

কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন, ‘এতো ছোট মেয়ের প্রেমে পড়লেন কেন? কী ধরনের রুচি আপনার?’ উত্তরে বলবো, ‘প্রেম কি বয়স হিসেব করে আসে রে ভাই?! নবী-রাসূলেরা কেন যে ছয়-সাত বছরের মেয়েদেরকে বিয়ে করতো সেটা এখন বুঝতে পারছি।’ তবে মিল্কাকে কোনোদিন মুখে ভালোবাসার কথা বলতে পারি নি। শুধু একবার কারেন্ট চলে যাওয়ার সময় তাকে হালকা জড়িয়ে ধরেছিলাম, তাও সে কাছে ঘেঁষে আসায়। আর এতেই সম্ভবতঃ টিউশনি চলে গেল আমার। তারা অবশ্য আমাকে সরাসরি কোনো কারণ দর্শায় নি, শুধু বলেছিল, ‘ওর খালা এখন থেকে এখানে থাকবে, সেই পড়াবে ওকে।’

পরবর্তীতে ২০০৮ বা ‘০৯ সালের দিকে মিল্কাকে আরেকবার দেখেছিলাম ওর বাবার সাথে, এক রিকশায়। সে বড় হয়েও সুন্দরী ও আকর্ষণীয়ই ছিল, তবে স্বাভাবিকভাবে ছোটকালের উচ্ছলতা আর দেখি নি ওর মধ্যে। চেহারাও অনেক চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল, ওর বাবাকে দেখে বুঝেছিলাম, পাশে বসা মেয়েটি মিল্কা। অবশ্য আরো একটি হিন্ট ছিল বোধ হয়, যেমনঃ ওর বাবা হয়তো ওকে নাম ধরে ডেকেছিল।

মিল্কাকে যখন পড়াতাম তখন সে ছোট ছিল ঠিকই, তবে প্রেম-ভালোবাসা বা অ্যাফেয়ার জিনিসগুলো বুঝতো। সে সময় ওর প্রিয় নায়িকা ছিল মনীষা কৈরালা আর প্রিয় গান ছিল, ‘আকাশেতে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটা রে!’ মিল্কাকে যখন পড়াতাম তখন বেশিরভাগ দিনই সে আমার গা ঘেঁষে বসতো, তখন খুবই রোমান্টিক অনুভূতি হতো আমার। তবে সেটা ‘লিঙ্গ দাঁড়িয়ে যাওয়ার’ মতো কিছু নয়, একেবারে সত্যিকারের প্রেম বোধ হয়। কারণ মিল্কাকে কখনো আমি উলঙ্গরূপে কল্পনা করি নি বা করার চেষ্টাও করি নি।

মিল্কা পূর্ণবয়ষ্ক হওয়ার পর হয়তো দেখতে এমন হবে

ওর সাথে সামান্য গা ঘেঁষাঘষি করতে চাইতাম কারণ ও আমার ভালোবাসার মানুষ ছিল। তবে কখনো ওর গোপনাঙ্গের কোথাও স্পর্শ করার চিন্তা মাথাতেও আসে নি। এর আরেকটা কারণ সম্ভবতঃ এই যে, তখন নোংরা প্রেম করার মতো বয়স আমার পুরোপুরি হয় নি। আফটার অল, এটা ছিল ১৯৯৮ সাল, ২০১৫ বা ‘১৯ সাল নয়।

এবার বলি ওর সাথে বিচ্ছেদের ফলে কী রকম কষ্ট পেয়েছিলাম। এতটাই কষ্ট পেয়েছিলাম যে, তার পরের এক সপ্তাহ ধরে ভাদাইম্যা বন্ধু পাভেলের সাথে র‍্যান্ডমলি ব্যাপক ঘুরেছিলাম, তাও ‘৯৮ এর বন্যার অব্যবহিত ঠিক পরেই। এতে আমার টাইফয়েড হয়েছিল এবং মরতে গিয়ে কোনোমতে বেঁচে গেছি। তবে তখন থেকেই আমার মাথা কিছুটা আউলা-ঝাউলা এবং টাইফয়েডের ফলে আমার চুলও পরে যায়, তাই গত বিশ বছর ধরেই আমি অর্ধটেকো।

https://www.youtube.com/watch?v=0_s69eDneY4

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.