তামান্না ভাটিয়া সম্পর্কে অজানা তথ্য (Interesting info about Tamannah Bhatia)

তামান্না ভাটিয়াকে সবাই সিম্পলি তামান্না হিসেবে চিনে। তিনি একজন ভারতীয় অভিনেত্রী। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৯ সালের ২১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ২৮ বছর। তাঁর জন্মস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের মুম্বাই নগরীতে। এখানেই তাঁর বাসস্থল, অর্থাৎ বেশিরভাগ সময় তিনি মুম্বাইতেই বসবাস করেন। তামান্না মূলতঃ তামিল এবং তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, তবে বেশ কয়েকটি হিন্দী ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রায়ই স্টেজ শো’তে পারফর্ম করেন তিনি এবং বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড ও প্রোডাক্টের মডেলও হয়েছেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে একটি বলিউড চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিনয়ের অভিষেক ঘটে তামান্নাহ’র। ছবিটির নাম ‘চান্দসা রোশান চেহরা’। সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ান আইডল অভিজিৎ সাওয়ান্তের অ্যালবাম ‘আপকা অভিজিৎ’-এর ‘লাভজো মে’ গানটিতে মডেল হিসেবে অভিনয় করেন তামান্না, গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। উক্ত অ্যালবামটি প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। একই বছর ‘শ্রি’ নামক একটি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ভাটিয়ার। পরবর্তী বছর তামান্না তাঁর প্রথম তামিল ছবি ‘কেডি’-তে অভিনয় করেন। ২০০৭ সালে কলেজ জীবন কেন্দ্রিক দু’টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনিঃ এর মধ্যে একটি হলো তেলেগু ভাষার ‘হ্যাপি ডেইজ’ এবং অপরটি হলো তামিল ভাষার ‘কালূরি’।





তামান্নার ব্যবসাসফল তামিল ছবিগুলো হলো ‘অয়ন’ (২০০৯), ‘পাইয়া’ (২০১০), ‘সিরুথাই’ (২০১১), ‘ভীরাম’ (২০১৪), ‘ধর্ম দুরাই’ (২০১৬), ‘দেবি’ (২০১৬), ‘স্কেচ’ (২০১৮) এবং ব্যবসাসফল তেলেগু ছবি হলো ‘১০০% লাভ’ (২০১১)। অন্যান্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘রাচা’ (২০১২), ‘থারাকা’ (২০১৩), ‘বাহুবলীঃ দ্য বিগিনিং’ (২০১৫), ‘বেঙ্গল টাইগার’ (২০১৫), ‘উপিরি’ (২০১৬) এবং ‘বাহুবলীঃ দ্য কনক্লুশন’ (২০১৭)। এভাবে তিনি নিজেকে তামিল এবং তেলেগু চলচ্চিত্রে একজন উঠতি মেধাবী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণ ভারতের সিনেমায় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া একজন অভিনেত্রী তিনি। হিন্দী, তামিল ও তেলেগু -এ তিনটি ভাষা মিলে মোট ৬০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
ভারত থেকে তিনিই সর্বপ্রথম সর্বোত্তম সহকারী অভিনেত্রী (বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্ট্রেস) হিসেবে ‘স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। তিনি ২০১৭ সালে ‘দাওয়াতি মোদি’ পুরষ্কারটিও অর্জন করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ার কেইসি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিআইএসি হতে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।
এবার তামান্নার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরো কিছু বলা যাক। তাঁর পিতার নাম সন্তোষ ভাটিয়া এবং মাতার নাম রজনী ভাটিয়া। ‘আনন্দ’ নামে তাঁর একজন বড়ভাই রয়েছেন। তাঁর পিতা একজন হীরক ব্যবসায়ী। তামান্না সিন্ধী বংশোভূত। তিনি মুম্বাইয়ের ম্যানেকজি কুপার এডুকেশন ট্রাস্ট স্কুলে পড়াশুনা করেন। ‘নুমেরোলজি’ নামের এক ধরনের বিশ্বাসে প্রভাবিত হয়ে কর্মজীবনে সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে তামান্নাহ তাঁর প্রকৃত নাম সামান্য পরিবর্তন করে বর্তমান নাম ধারণ করেন।




মূলতঃ মাত্র ১৩ বছর বয়স হতেই তিনি শিল্পজগতে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রতিভা সর্বপ্রথমে আবিষ্কৃত হয় তাঁর বিদ্যালয়ের বার্ষিক দিনের অনুষ্ঠানে (অ্যানুয়াল ডে ফাংশন)। সেখানে তাঁকে একটি নাটকে শীর্ষচরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। সেটা তিনি লুফে নেন এবং মুম্বাইয়ের পৃথবি থিয়েটারের অংশ হয়ে যান এক বছরের জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.