জে.পি. মরগ্যান : মানবতায় প্রশ্নবিদ্ধ একটি নাম

এই ব্যক্তিটি দু’টি কারণে ইতিহাসের পাতায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছেন।

১. ওয়ার্ডেন ক্লিফ প্রকল্প থেকে সাপোর্ট তুলে নেয়া

আমরা জানি, নিকোলা টেসলা ছিলেন অমিত প্রতিভাধর একজন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী। তাঁর স্বপ্ন ছিল সারা বিশ্বের মানুষের জন্য মুক্ত বিদ্যুৎশক্তির ব্যবস্থা করা। তিনি মূলত বায়ুমণ্ডলের আয়নস্ফিয়ারের মধ্যদিয়ে এই বিদ্যুৎশক্তি পাঠাতে চেয়েছিলেন। সে উদ্দেশ্যে তিনি ওয়ার্ডেন ক্লিফ টাওয়ারটি নির্মাণ করেছিলেন। এই প্রকল্পে অর্থ লগ্নিকারী ছিলেন জে.পি. মরগ্যান। তাঁর লক্ষ্য ছিল ব্যবসায়িক। তিনি মূলত চেয়েছিলেন রেডিও সিগন্যাল প্রেরণের ব্যবহারিক কাঠামো তৈরি করতে। কিন্তু টেসলার স্বপ্ন ছিল কিছুটা ভিন্ন। তিনি এমন একটি ব্যবস্থা বা সিস্টেম তৈরি করতে চেয়েছিলেন যার মাধ্যমে শুধু রেডিও সিগন্যাল নয়, বরং বিদ্যুৎশক্তিও প্রেরণ সম্ভব। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সারাবিশ্বের মানুষের জন্য হয়তো নিখর্চা বিদ্যুৎশক্তির ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। কিন্তু যখনই মরগ্যান বুঝতে পারলেন যে, এ প্রকল্প থেকে তাঁর ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম, তখনই তিনি এ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলেন। টেসলা’র প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমান বিশ্বে হয়তো ‘তার’ বলতে কোনো কিছু থাকতো না, সকল বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাই হতো তারবিহীন, উপরন্তু অফুরন্ত নিখর্চা বিদ্যুৎশক্তির হাতছানি তো আছেই। কিন্তু জে.পি. মরগ্যানের স্বার্থসন্ধানী মানসিকতার জন্য সেটা আর সম্ভব হলো না।



২. টাইটানিক ট্র্যাজেডি’তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা

জে.পি. মরগ্যানের নাম বিতর্কিত হওয়ার একটি বড় কারণ হলো টাইটানিক জাহাজটি ডোবার পেছনে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। একটি জনপ্রিয় ষড়যন্ত্র তত্ত্বমতে, টাইটানিক দুর্ঘটনায় ডোবে নি, এটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ডোবানো হয়েছিল। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে, টাইটানিক হয়তো কখনোই ডোবে নি, ডুবেছিল একই শিপিং কোম্পানীর আরেকটি জাহাজ, নাম ‘অলেম্পিক’। বস্তুতঃ একটি দুর্ঘটনায় অলেম্পিক জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তখনই ঐ জাহাজের মালিক মরগ্যানের মাথায় এই চমৎকার(!) বুদ্ধিটি আসে। তিনি ‘টাইটানিক’ নামে একটি নতুন জাহাজ নির্মাণ শুরু করেন। টাইটানিককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেন এটা কোনো অবস্থাতেই কখনোই না ডোবে। অথচই এই জাহাজটিই এর প্রথম যাত্রাতেই ডুবে যাবে – এটা পুরোপুরি অবিশ্বাস্য। কারণ বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবেছে – এমন জাহাজ পৃথিবীর ইতিহাসে একটিই, আর সেটি হলো কথিত ‘টাইটানিক’। ষড়যন্ত্র তত্ত্ববাদীরা (কন্সপিরেসি থিওরিস্ট) বিশ্বাস করেন যে, টাইটানিকের নামে আসলে মেরামত করা অলেম্পিক জাহাজটিই পানিতে ভাসানো হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে মধ্য আটলান্টিকে ডুবানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে হয়তো জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং ক্রুগণ জড়িত ছিলেন। যাই হোক, জাহাজডুবির এ ঘটনায় মরগ্যান বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অর্থ পান, যার দ্বারা তিনি তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচান। এ ঘটনায় নিরীহ মানুষ হতাহত না হলে হয়তো কারোরই কিছু বলার থাকতো না, কারণ আর্থিকভাবে লাভবান হবার জন্য এরকম কারচুপির উদাহরণ ইতিহাসে ভুরিভুরি। তবে টাইটানিক ট্র্যাজেডি’র বেলায় ব্যাপারটা আলাদা। ভুলে গেলে চলবে না যে, টাইটানিক ডুবিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। এতগুলো মানুষকে জেনেশুনে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়া যে কত বড় অপরাধ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ধারণা করা হয়ে থাকে, ১৮৯৮ সালে প্রকাশিত একটি উপন্যাস পড়ে মরগ্যানের মাথায় টাইটানিক ডোবানোর বুদ্ধিটা আসে। ঐ উপন্যাসের নাম ‘রেক অফ দ্য টাইটান’। উপন্যাসের কাহিনী টাইটানিকের সাথে পুরোপুরি মিলে। অর্থাৎ জাহাজের নাম ‘টাইটান’, এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে কখনোই কোনো পরিস্থিতিতেই না ডোবে, অথচ সেটি তার প্রথম যাত্রাতেই সমুদ্রে অবস্থিত বিশাল এক বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় এবং এতে বিপুল প্রাণহানী ঘটে।



Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.