জিনাত আমান সম্পর্কে এ তথ্যগুলো জানেন কি?

‘চুরা লিয়া হে তুমনে’ গানটির অরিজিনাল ভার্সন দেখেছেন কি? সেখানে অভিনেত্রী ছিলেন জিনাত আমান। তিনি এখন বুড়িয়ে গেছেন বটে, তবে একসময় এতটাই গ্ল্যামার ছিল তাঁর যে, বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ বলিউড নায়িকা তাঁর কাছে ফেল মারবে – সৌন্দর্যে, অভিনয়ে এবং এক্সপ্রেশনে।

সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এক সময়কার প্রেমিকা এই জিনাত মুম্বাইয়ে ১৯৫১ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সত্তর এবং আশির দশকে বলিউডে তুমুল জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া একজন অভিনেত্রী ছিলেন।

জিনাতের প্রথম হিট ফিল্ম হলো ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ যা ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়। আশির দশকে তিনি একবার নায়ক সঞ্জয় খান কর্তৃক প্রহৃত হয়েছিলেন এবং আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেড়ে ওঠার পর তিনি ‘আব্দুল্লাহ’. ‘আলীবাবা অর চল্লিশ চোর’, ‘কোরবানী’, ‘দোস্তানা’ এবং ‘ইনসাফ কা তারাযু’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৮৫ সালে তিনি মাযহার খান নামক এক অভিনেতাকে বিয়ের পর ছবিতে অভিনয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেন এবং ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গাওয়াহি’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর অভিনয় জগত থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। সব মিলিয়ে জিনাত আমান ৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই তাঁকে বহু পুরষ্কার এনে দিয়েছে। তিনি ‘জি সিনে অ্যাওয়ার্ড’ এর আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

এবার জিনাতের পরিবার সম্পর্কে কিছু বলা যাক। তাঁর মাতা হিন্দু ছিলেন এবং ভদ্রমহিলার অরিজিন ছিল মহারাষ্ট্রে, যেখানকার রাজধানী হলো মুম্বাই। আর জিনাতের পিতার নাম হলো আমানুল্লাহ খান, তিনি ভারতের ভোপাল রাজ্যের রাজপরিবারের অন্তর্ভুক্ত (তবে তাঁদের অরিজিন ছিল আফগানিস্তানে)। ভোপাল হলো ভারতের আনঅফিসিয়াল রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি।

অভিনয়ের পাশাপাশি জিনাত আরো বহু ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। যেমনঃ ‘মুঘল-ই-আজম’ এবং ‘পাকিজা’ ছবিদ্বয়ের চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। জিনাত আমেরিকার লস এঞ্জেলসে অবস্থিত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তবে পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি।

এবার বর্ণনা করা যাক তিনি মিডিয়া জগতে কীভাবে এলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলতঃ বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত এমনই একটি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম রানার আপ হয়েছিলেন এবং ‘ফার্স্ট প্রিন্সেস’ বা ‘প্রথম রাজকন্যা’ উপাধি লাভ করেন।

আপনি হয়তো জানেন না, বলিউডে ‘ডন’ নামে সর্বপ্রথম যে ছবি নির্মিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে, সেখানে কাল্পনিক ‘রোমা’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন জিনাত। ছবিটি পরবর্তীতে রিমেক হয় এবং সেখানে অভিনয় করেন শাহরুখ খান ও প্রিয়াংকা চোপড়া।

১৯৭৮ সালের দিকে জিনাত হলিউডেও প্রবেশের চেষ্টা চালান, কিন্তু ব্যর্থ হন; কারণ সেখানে তাঁর অভিনীত ‘শালিমার’ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে মার খায়, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ধর্মেন্দ্র, শাম্মী কাপুর এবং অন্যান্যরা।

জিনাত সবসময়ই ‘ভিন্নরকম’ চরিত্রে অভিনয় করতেন, অন্যান্য নায়িকারা যেমন প্রথাগত চরিত্রে অভিনয় করতেন তেমনটা নয়। তিনি কঠিন কঠিন সব চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। হিন্দী চলচ্চিত্র জগতে যেগুলোকে নিয়মবিরোধী এবং নিষিদ্ধ বিষয় (ট্যাবু) মানা হয়, সেরকম অনেক কিছুকেই তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়ম ভেঙ্গে সফলতা এনে দেখিয়েছেন। তাঁকে ঐ সময়কার একজন যুগান্তকারী অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অভিনয়ের ধাঁচ ছাপ রেখে গেছে পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে আসা রেখা, শ্রীদেবী, পারভিন ববি প্রমুখের মধ্যে।

জিনাত দু’টি বিবাহ করেছেনঃ অভিনেতা সঞ্জয় খানের সাথে এক বছর সংসার করেছিলেন এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত মাযহার খান মারা যাওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে সংসার করেছেন। মাযহার খানের সাথে তাঁর সংসার জীবনে দুই সন্তানের জননী হয়েছেন তিনি।

অত্যাচারের শিকার জিনাত আমান

সঞ্জয় খান কর্তৃক তাঁর অত্যাচারিত হওয়ার ঘটনাটা অনেকটা এই রকমঃ উইকিডিয়া (ইংরেজি ভার্সন) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সঞ্জয় খানের সাথে আমান এক বছর সংসার করেছেন। আবার সঞ্জয়ের স্ত্রীর উসকানিতে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ থেকে আন্দাজ করা যায়, ঘটনাটা ঘটেছিল সঞ্জয়ের সাথে আমানের ডিভোর্স হওয়ার পর। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি ও সঞ্জয় ‘আব্দুল্লাহ’ নামক চলচ্চিত্রে কাজ করছিলেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও তর্কতর্কি হয়। তখন সঞ্জয় আমানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান এক হোটেলে, যেখানে এক পার্টি উপলক্ষ্যে আগে থেকেই তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তখন এই দ্বিতীয় স্ত্রীর উসকানিতে সঞ্জয় আমানের উপর হামলা শুরু করেন। এতে জিনাতের দেহে একাধিক ইনজুরি হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে তাঁর চোখেও একটি সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা ‘লেজি আই’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ আঘাত পাওয়া চোখের পাপড়ি খুলতে তাঁর বেশ সমস্যা হতো (চোখ আপনিতেই বুজে আসে এমন অবস্থা)।

এছাড়া আমান খান্না ওরফে সরফরাজ নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিনাত ২০১৮ সালে একটি ধর্ষণ মামলা রজ্জু করেন। এই ব্যক্তি নাকি আমানের পিছে লাগে (‘স্টক’ করে), তাঁকে হয়রান করে এবং বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। এই অভিযোগে ঐ ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়। ঘটনাগুলো ঘটেছিল ২০১১ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে – এমনটাই অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.