জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা ইসলামের শত্রু

গতকাল হামাস ইসরাইলের দিকে ডিভাইসযুক্ত গ্যাসবেলুন পাঠিয়েছে এবং সেখানে কয়েকটি স্থানে অগ্নিবিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলাফলে ইসরাইল নতুন করে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু করেছে। তার মানে হলো, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলো। এর আগেও রোজার মাসে ঈদের প্রাক্কালে এই দুই গোষ্ঠীর মাঝে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তার মূলে ছিল হামাস। কারণ, আল আকসা মসজিদে ইসরাইলি পুলিশ ও মুসল্লিদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় রকেট হামলা চালানো উচিত হয় নি হামাসের। তাদের বোঝা উচিত যে, তাদের ছোড়া বেশিরভাগ রকেটই ইসরাইলের রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম।

বাংলাদেশী মুসলমানদেরকেও একই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ইসলাম মহান, তবে জঙ্গীবাদ মানে ‘জিহাদ’ নয়। নিরপরাধ বিদেশী নাগরিক হত্যা করা মানেই ‘জিহাদ’ নয়। গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জঙ্গী হামলায় দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় নি, বরং তা নোংরা হয়েছে, দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, দাড়িটুপিওয়ালাদের প্রতি অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে। এভাবে সমগ্র দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে বিপদে ফেলে দিয়েছে গুটিকয়েক জঙ্গী। তাই জঙ্গীবাদের কথা যারা বলে, তাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে। জিহাদ মানে হলো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করা। এজন্য কেবল আপনার সৎ সাহস দরকার, কোনো অস্ত্র বা বোমার দরকার নেই। হয় হামাসকে তাদের আক্রমণাত্মক তথা জঙ্গী মনোভাব বাদ দিতে হবে নতুবা ফিলিস্তিনবাসীকে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বা ফিলিস্তিনীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত তথা প্রতিষ্ঠা করার জন্য হামাস সম্ভবত ‘আবশ্যকীয়’ কোনো উপাদান নয়, বরং ফিলিস্তিনীদের বর্তমানে দরকার সঠিক মনোভাবসম্পন্ন নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.