জঘন্যতম পেশা

আজ যে ধর্মব্যবসায়ী
সে একদিন হয়তো
বাংলা পরীক্ষাতে রচনা বা অনুচ্ছেদ লিখেছিল
যার শিরোনাম
‘সমাজের জঘন্যতম পেশা’
ভিক্ষাবৃত্তিকে সে সমাজের
জঘন্যতম পেশা হিসেবে
দেখিয়েছিল।

ব্যাখ্যাস্বরূপ সে লিখেছিল
ভিক্ষাবৃত্তি সমাজে
কোনো ভ্যালু অ্যাড করে না
মুচি সমাজে ভ্যালু অ্যাড করে
কামার-তাঁতী, এমনকি মেথরও
সমাজে ভ্যালু অ্যাড করে
কারণ এদের প্রত্যেকের পেশাই সমাজে
কারো না কারো কাছে কাংখিত
যদিও এসব পেশাজীবিদেরকে
অনেকে ‘লুক ডাউন আপন’ করে।

এটা সত্যি যে, ভিক্ষাবৃত্তি সমাজে
কোনো ভ্যালু অ্যাড করে না।
তবে কোনো কোনো ভিখারীর নিকট
এটা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই
কিন্তু আজ যে ধর্মব্যবসায়ী
তার সামনে অনেক বিকল্প ছিল
যখন সে ধর্মব্যবসায়ী হওয়ার উদ্দেশ্যে
অমুক লাইনে পড়াশুনা শুরু করেছিল
হয়তো সে নিজে নয়, এ লাইন
তার জন্য বেছে নিয়েছিলেন
তার পিতা-মাতা, মুরব্বীরা
যত যাই হোক,
ধর্মব্যবসা কী ধরনের ব্যবসা
সেটা এখন তুলে ধরবো

এ ব্যবসাও সমাজে কোনো
ভ্যালু অ্যাড করে না
কারণ ধর্ম নামক কুসংস্কারের
প্রয়োজন নেই আধুনিক সমাজে
সমাজে সুষ্ঠুভাবে বসবাস করার জন্য
ধর্ম দরকার নেই, দরকার যথাযথ আইনের
আর মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ
উদাহরণঃ ইউরোপের অনেক দেশ
আর চায়না
তারা ধর্ম পালন করে না ঠিকই
কিন্তু সমাজে সুষ্ঠুভাবে
মিলেমিশে থাকে

তাই ভিক্ষাবৃত্তির মতো ধর্মব্যবসাও
সমাজে কোনো ভ্যালু অ্যাড করে না
বরং ধর্ম মানুষের জীবনযাত্রার মান
অনেক নিচে নামিয়ে দেয়
উদাহরণঃ ধর্মের কারণে পর্দা করতে গিয়ে
নারীরা শরীরে বিশালাকার জোব্বা চাপিয়ে রাখে
আর ঘেমে সিদ্ধ হতে থাকে
ভ্যালু অ্যাড করতে না পারার কারণে
ভিক্ষাবৃত্তির চেয়েও জঘন্য পেশা
এই ধর্মব্যবসা।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.