ছোটলোকদের কাজ হচ্ছে অপরকে স্টক (stalk) করা

অনেকে হয়তো বলবেন, আমি কেবল নেগেটিভ জিনিসগুলো নিয়েই লিখি। হয়তো প্রশ্ন করবেন, আমি কি কোনো কিছুর মধ্যে পজেটিভ কিছু দেখি না? সেটা দেখি ঠিকই, কিন্তু নেগেটিভ কর্মকাণ্ড যে ঘটে চলেছে বাংলাদেশের সমাজে, সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এমন অনেক নেগেটিভ কর্মকাণ্ড ঘটে, যেগুলো নিয়ে কেউ লেখে না (হয়তো খালি বন্ধুবান্ধবের সাথে মৌখিকভাবে শেয়ার করে)। কিন্তু এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবারই জানা উচিত; তাতে তারা বুঝতে পারবে যে, বাংলাদেশে আসলে কী চলছে, বা বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা আসলে কেমন।

ছোটলোকদের নিয়ে এর আগেও লিখেছি। সেটা নিম্নোক্ত আর্টিক্যালে বর্ণিত আছে।

লেজকাটা শিয়ালের গল্প (ছোটলোকদের গল্প)

আবারও লিখতে বাধ্য হলাম। কারণ ছোটলোকেরা তাদের ছোটলোকি চালিয়েই যাচ্ছে, তাদের নিচ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে ওয়াকিবহাল করাটা জরুরী। কারণ বেশিরভাগ লোকজনই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট না, তারা আসলে অন্যের অনেক কর্মকাণ্ডই ব্যাখ্যা করতে পারে না, ফলে ভেতরে ভেতরে হতাশায় ভোগে। আমি নিজেও যখন চরম মেধাবী ছাত্র ছিলাম, তখন সবই ভালো চলছিল, কেবল কিছু লোকজনের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা পেতাম না। আজ বুঝতে পারছি, তারা আসলে ছোটলোক ছিল, আর তাদের ঐ সকল কর্মকাণ্ড হলো ‘ছোটলোকি’। আগে যদি সেটা বুঝতাম, তাহলে ছোটলোকদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মাথা ঘামাতাম না।

অনেকে হয়তো বলবেন, আমি এতোই যদি সমঝদার হই, তবে এখন কেন মাথা ঘামাচ্ছি? আসলে এসব লেখা আমার মনকে শান্ত করার জন্য নয়, আমার মন খুব বেশি অশান্ত কখনোই হয় না। কারণ আমি আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারি, কোন চেহারার লোক থেকে, সমাজের কোন স্তরের লোক থেকে, কোন পেশাজীবি লোক থেকে কী ধরনের আচরণ আশা করতে পারি (দু’-একটা ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে)।

আমার এসব লেখা তাদের জন্য যারা দেশের চলমান সমাজে কিছু লোকজনের অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ দেখে বিব্রত, এগুলোর ব্যাখ্যা খোঁজে। আমি ইদানিং যেসব আর্টিক্যাল লিখছি, এগুলো আসলে একেকটা ‘স্বীকার্য’। জ্যামিতিতে বা অন্য যেকোনো থিওরিতে স্বীকার্য ধরে নিলে যেমন অনেক কিছু ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, ঠিক তেমনি আমার লেখা এসব আর্টিক্যালে দেশের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশকিছু স্বীকার্য বর্ণিত হয়েছে।

এবার তাহলে আজকের ঘটনা খুলে বলি। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিবেশী বাবুল ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম, নিজের একটা সমস্যার কথা খুলে বলতে, কারণ এর সমাধান তাঁর কাছে রয়েছে। প্রতিবেশী আজিজ শালা (ওর নাতনী তথা বোন রূপাকে আমি ‘দুচি’) নাকি মিটার পেয়ে গেছে, তাই আমাকে বলেছে বৈদ্যুতিক কানেকশন খুলে নিতে। ঘাড়ত্যাড়ামি করে কানেকশন লাগিয়ে রাখতে পারতাম হয়তো আরো দু’-চারদিন, তবে এতে আজিজদের সমস্যা না হয়ে সমস্যা হতো আমারই। আসলে আজিজেরা তো ঐ মিটার অন্য একজনের বাড়িতে লাগিয়ে সেটা ব্যবহার করেছে, আবার সেখান থেকে আমাকেও সাইড লাইন দিয়েছিল।

এখনো কানেকশন জিইয়ে রাখলে ঐ পক্ষের সাথে আমার ক্যাঁচাল হতে পারে। আমার এস্টিমেশন ছিল, নতুন মিটার নিলেও সেটা পুরনো বোর্ডে কানেকশন দিবে। এখন নতুন বোর্ডে কানেকশন দেয়াতে পুরান বোর্ড থেকে কানেকশন খুলে ফেলা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই আমার।

এ উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলাম বাবুল ভাইয়ের কাছে। আমার বাড়ির পাশে যে মসজিদ রয়েছে, সেখানকার কমিটিতে তিনি আছেন, খুবই পাওয়ারফুল একজন সদস্য। তিনি রাজি হলে মসজিদ থেকে সাইড কানেকশন নিতে পারবো। যাই হোক, বাবুল ভাই আবার কিছুদিন আগে একটা মুদি দোকান দিয়েছেন, সেখানে তিনি সন্ধ্যার পর বসেন, আর দিনের বেলায় বসে তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে। ছেলের মাদ্রাসা যেহেতু এখন বন্ধ, তাই সে বাড়িতেই থাকে আর দোকানে বসে।

দোকানের ধারেকাছে যাওয়া মাত্র দেখলাম, এক ফকিন্নি (কামলার কাজ করে এমন) যুবক খালি গায়ে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে; এমনভাবে যে, দোকানের সম্মুখে দাঁড়াই অথবা রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে যাই না কেন, তার গা ঘেঁষে যেতে হবে। অর্থাৎ সে অনেকটা পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে এমন। যাই হোক, দোকানে আরো দু’তিন জন লোক বসে বাবুল ভাইয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল, তাই তাঁকে একটু আড়ালে ডাকলাম প্রাইভেটলি কথা বলার জন্য। বললাম, মসজিদ থেকে সাইড কানেকশনটা ম্যানেজ করে দিতে। তিনি বললেন, মসজিদ কমিটির অপর এক সদস্যের সাথে কথা বলে আমাকে জানাবেন। সেও ভালো মানুষ, কোনো আপত্তি করার কথা না। কারণ আমি তো কানেকশন দীর্ঘদিনের জন্য নিচ্ছি না, আমার মিটারও দু’এক মাসের মধ্যে চলে আসার কথা। আমাদের কথাবার্তা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন ঐ ফকিন্নিটা আমাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার অভিনয় করে কিছুদূর (২-৩ গজ) গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। অর্থাৎ আমরা প্রাইভেটলি কী কথা বলছি, সেটা সে শুনবেই। এজন্যই বলি, ছোটলোকদের একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো – এরা অন্যকে হেভিলি স্টক করে, ফলো করে, ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। তারা মনে হয় ঐ কথাটা শোনে নি, It’s not okay to stare.

শুনবে কীভাবে?! বাঙালী ফকিন্নিরা তো ঠাকুর মা’র ঝুলি টাইপ গল্প নিয়েই ব্যস্ত, ডিজনির কার্টুন দেখার সুযোগ বা সময় তাদের নেই। যদি দেখতো, তাহলে Tom Thumb and Thumbelina এনিমেটেড মুভির সেই ফেমাস ডায়ালগ তারা শুনতো পেতো, It’s not okay to stare অর্থাৎ অন্যের দিকে (কাজ ব্যতিরেকে) ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা ঠিক না- এটা এক ধরনের অভদ্রতা। আসলে সভ্য হলে বা ছোটলোক না হলে এসব মুভি না দেখেও সভ্যতা শিখতো পারতো, যদি তাদের পরিবার থেকে কিছুটা হলেও আদব-কায়দা শিখিয়ে দিতো।

ছোটলোকেরা রাস্তাঘাটে এভাবেই শুধু শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে, কখনো প্রসন্ন চেহারায়, কখনো ভ্রু কুঁচকে, পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকে

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.