ছাত্রের বোনের প্রতি মনোযোগ না দেয়ায় টিউশনি চলে গেল

আমি জীবনে বহুত টিউশনি করিয়েছি। এর ৯৫% ক্ষেত্রেই আমাকে ‘টিচার হিসেবে’ রিক্রুট করাটা মনে হয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না, ছিল অন্য কিছুঃ হয় ছাত্রের বড় বোন অথবা তার ফুপুর জন্য জামাই ম্যানেজ করা, অথবা ছাত্রের মা নিজেই আমার সাথে শুতে চেয়েছিল। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলোঃ

শান্তিনগরের সিয়ামের পরিবার

শান্তিনগরে পীর সাহেবের গলিতে সিয়ামরা থাকতো, বর্তমানে ওরা সম্ভবতঃ উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে ওদের আগে থেকেই কিনে রাখা জমিতে বাড়ি করে সেখানে থিতু হয়েছে। তবে যেহেতু সিলেটি (হবিগঞ্জ) মাল, তাই সিয়াম আর তার বোনেরা দেশে আছে কিনা, সে নিয়ে আমার সংশয় আছে। সিয়ামের টিচার হিসেবে আমাকে রাখার পেছনে কারণ ছিল, তার সিলেট মেডিকেল পড়ুয়া বড় বোন মোনা’র সাথে আমার সেটিং করিয়ে দেয়া।

কিন্তু ঐ সময় আমি একটু বোকাচন্দ টাইপের ছিলাম, কী করে একটা মেয়েমানুষের সাথে আলাপ শুরু করতে হয়, সেটা জানতাম না। প্লাস, আমি আসলে মোনার ইমেডিয়েট ছোট বোন লিসা’র ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম, সে তুলনামূলক কচি মাল ছিল, ইন্টারমিডিয়েটে পড়তো তখন।




মোনা ছুটিতে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল, আমি তার সাথে আলাপের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় তারা মনোক্ষুণ্ণ হলো এবং তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে মনে হলো, আমি আর না আসলেই তারা খুশি হয়। মানে, এরপর তারা আন্তরিকতাশূন্য ব্যবহার শুরু করলো। তবে আমাকে বাদ দেয়ার কোনো লেগ্যাল কারণ খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। তখন আমি তাদেরকে সাহায্য করি তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে, টিউশনিতে একদিন যাই তো আরেক দিন যাই না। এর ফলে সিয়ামের মা একদিন আমাকে ‘না’ করে দিল।

নাসিমা আন্টির পরিবার

নাসিমা আন্টির বড় ছেলে আসিফকে আমি পড়িয়েছিলাম প্রায় এক বছর সময়কাল ধরে। তবে কী কারণে জানি না, নাসিমা আন্টির একটা উদ্দেশ্য ছিল আমার সাথে শোয়া। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, তার স্বামীর কথাবার্তাতে স্পষ্ট ছিল যে, এ ব্যাপারে তার সম্মতি আছে। হয়তো সে যৌনমিলনে অক্ষম ছিল, অথবা তারা ভাবতো, ‘কোনো কারণে যদি আসিফের বাবা মারা যায়, তাহলে ওদেরকে দেখবে কে?’ তাই আগেভাগেই নাসিমা’র জন্য একটা ব্যাকআপ স্বামীর ব্যবস্থা করা! তো, এই উদ্দেশ্যে (আমি যাতে নাসিমার দেহের দিকে হাত বাড়াই) সে বেশ কয়েকদিন বেশ সাজুগুজু এবং প্রভোকেটিভ (যৌন উত্তেজনা জাগাবে এমন) ড্রেসআপ করে আমার কাছে তার ছোট ছেলের জন্য পড়া বুঝতে আসতো। তার ছোট ছেলে ক্লাস ফোরে পড়তো এবং তাকে নাসিমা নিজেই পড়াতো।

নাসিমা দেখতে অনেকটা এরকম ছিল

একদিন তো চূড়ান্ত রকম উত্তেজক সাজে আসলো, ক্লিভেজ দেখা যাচ্ছিল, ভেতরে ব্রা পড়ে নি এবং চেহারায় মেকআপ করে ও ঠোটে লিপস্টিক লাগিয়ে আসলো, আর দরজা ছিল ভেড়ানো। কিন্তু এরপরও বোকাচন্দ আমি তার দিকে হাত না বাড়ানোয় সে চরম হতাশ হলো, এমনকি তার জ্বরও চলে আসলো। আমি বুঝতে পারলাম, এখানে আমার ‘আয়ু’ আর বেশিদিন নেই। এর কিছুদিন পরেই আসিফের আম্মু আমাকে না করে দিল, আমাকে দিয়ে নাকি তার ছেলের ইদানিং খুব একটা উন্নতি হচ্ছে না। (নাসিমা ও তার স্বামীর বাড়ি ছিল বৃহত্তর নোয়াখালীতে)



কাশফিয়াদের পরিবার

আমার এক ছাত্র তুর্যের বড় বোন ছিল কাশফিয়া, সে তখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়তো। মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি হলেও বেশ মার্জিত ও ছিমছাম; কিন্তু তুর্যকে যেদিন প্রথম পড়াতে গেলাম, সেদিন তাদের বাসায় নক করাতে দরজা খুলে তুর্যের বাবা একটি বিশ্রী মুখভঙ্গি করেছিল, যেন আমি একটা ভিখেরি। সত্যি বলতে কী, গ্ল্যামার আমার কোনোকালেই ছিল না, তাই হয়তো জীবনে শাইন করতে পারলাম না। আবার, আমার একটা বদঅভ্যাস হলো, কেউ আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে সেটার বদলা আমি একদিন না একদিন নেই-ই।

তুর্যের বাবাও কেমন যেন ছিল, আমার সাথে কোনোদিন যেচে আলাপ করতে আসে নি, আমার বা আমার পরিবারের খোঁজখবর নেয় নি। তাই তুর্যের মা যখন তুর্যের সেই বোনকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে কিছুদিন পড়াতে বললো, আমি সেই প্রস্তাব না করে দিলাম। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম, এবার ওদের টার্গেট হলো কাশফিয়ার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা ঘটানো। কিন্তু কাশফিয়ার মতো অন্ততঃ চার-পাঁচ জন মেয়ে তখন আমার লাইনে থাকায় ওর সাথে জড়াতে চাইলাম না। আফটার অল, জামাই-শ্বশুরের বিবাদ অনেক পুরনো ঘটনা, জেনেশুনে সে দিকে পা বাড়াতে চাইলাম না। (কাশফিয়াদের দেশের বাড়ি ছিল নেত্রকোণায়)।

শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজের দুই ছাত্রী

এদের একজনের বাসা ছিল উত্তরায় রাজলক্ষী মার্কেটের নিকট, তবে মেইন রোড থেকে অনেক ভেতরে। তাদের দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়, মেয়েটির নাম ভুলে গেছি, সে বেশ সুন্দরী ছিল। পড়াতে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম, তাদের আসল উদ্দেশ্য। কিন্তু আমি তখন অলরেডি সদ্যবিবাহিত, তবে এ পরিচয়টা সর্বত্র দিতাম না। তাই ঐ মেয়েটার দিকে হাতও বাড়াতে পারলাম না, আবার ওদেরকে বলতেও পারলাম না খুলে (অনেক সময়, বিবাহিত বললে টিউশনিতে ঢোকাই কষ্টকর হয়ে যেত)।

ঐ মেয়ের এক সহপাঠী যাত্রাবাড়িতে থাকতো, তাকেও পড়াতে গিয়েছিলাম, সেখানেও দেখলাম একই কাহিনী। ঐ বাড়ির লোকজন চাচ্ছিলো, আমি যাতে ছাত্রীর অবিবাহিতা ফুপুর সাথে ঘনিষ্ঠ হই। সেটা হলে খুব একটা মন্দ হতো না, কিন্তু আমি যে বিবাহিত রে ভাই! কী যে করি! তাই ওখানেও টাল্টু-বাল্টু করে টিউশনি ছেড়ে চলে আসলাম।

https://www.youtube.com/watch?v=uKiqIy6hke4

ড. কামাল হায়দার খানের পরিবার

দক্ষিণ শাহজাহানপুরের স্থায়ী বাসিন্দা ড. কামাল হায়দার খান এখনো বেঁচে আছেন কিনা জানি না, ওনাকে কখনো দেখিও নি। খালি জানতাম উনি চোখের ডাক্তার এবং নিচ তলায় ওনার চেম্বারেও কয়েকবার চোখ গিয়েছিল – এই যা। ওনার একমাত্র পুত্র ফাহিম হায়দার খানকে আমি দু’মাস পড়িয়েছিলাম। ড. কামালের দেশের বাড়ি ছিল নরসিংদীর বেলাব-তে এবং তাঁর স্ত্রীর দেশের বাড়ি ছিল চাঁদপুরের মতলবে। ওনার বউ অনেক সুন্দরী ছিলেন, ৩৭/৩৮ বছর বয়সেও অনেক পুরুষের লিঙ্গ দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট ছিলেন।

সেই আন্টি আমাকে জোগাড় করেছিলেন তাদের ভাড়াটিয়া রণদের বাসা থেকে। রণের মাও আমাকে রিক্রুট করেছিল রণের এক খালাতো বোনের সাথে আমাকে সেটিং করিয়ে দেয়ার জন্য, যাদের বাড়ি ছিল টাঙ্গাইলে। আর মতলবের এই আন্টি’র (ড. কামালের স্ত্রী) মতলব ছিল আমাকে তার মেয়ের সাথে সেটিং করিয়ে দেয়া, যার বয়স আমার চেয়ে ৪ বছরের কম ছিল। মেয়েটা মারাত্মক সুন্দরী ছিল, এতোটাই সুন্দরী যে যখন আমার সাথে আলাপের উদ্দেশ্যে আমার সামনে এসে সোফায় বসেছিল, তখন বোকাচন্দ আমি তার রূপের আগুনের দিকে তাকাতে সাহস করলাম না।

আর পরবর্তীতে তার সাথে কোনো আলাপের উদ্যোগও নিলাম না, কারণ তখনকার দিনে আমি উত্তর শাহজাহানপুরের মুন্নি আর তান্নিদের (ক্লাস টেন ও নাইনে পড়ুয়া দুই বোন) প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। একারণে মতলবের ঐ আন্টিও দুই মাস যেতে না যেতেই আমার চাকুরি নট করে দিলেন।



Leave a Comment

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.