ক্যাটরিনা কাইফ সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জানেন কি? (Interesting info about Katrina Kaif)

ক্যাটরিনা কাইফ ১৯৮৩ সালের ১৬ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃসূত্রে তাঁকে ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নিজেকে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। বস্তুত তাঁর মা’র মাতৃভূমি ব্রিটেন, এ কারণে। ক্যাটরিনা হংকং-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং লন্ডনে থিতু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর পরিবার বহুদেশ ভ্রমণ করে।
লন্ডনে এক ফ্যাশন শোতে চলচ্চিত্র নির্মাতা কেইজাদ গুস্তাদ ক্যাটরিনাকে আবিষ্কার করেন এবং ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ‘বুম’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করেন। ভারতে শ্যূটিং-এর সময় কাইফ মডেলিং-এর বহু কাজ পান এবং মডেল হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার প্রায় গুছিয়ে ফেলেন। হিন্দীতে পটু না হওয়ার কারণে চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁকে তাঁদের ছবির জন্য নিতে চাইতেন না। তিনি ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু ছবি ‘মালেশ্বরি’-তে অভিনয় করেন। তবে বলিউডে তিনি সফলতা পান ২০০৫ সালের ছবি ‘মেয়নে প্যায়ার কিউ কিয়া’ এবং ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নমস্তে লন্ডন’-এর মাধ্যমে। তাঁর ছবিগুলো বলিউড বক্স অফিসে একের পর এক হিট হতে থাকে, তবে তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতার অভাবের কারণে সমালোচিত হতে থাকেন। বিশেষ করে, অভিযোগ করা হয়েছিল যে, প্রায় প্রতিটি ছবিতেই তাঁর অভিনয় একই ধরনের এবং ছবিগুলো মূলত পুরুষকেন্দ্রিক, অর্থাৎ ‘নায়কনির্ভর’।





তবে ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসনির্ভর বলিউড ছবি ‘নিউ ইয়র্ক’-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয় এবং এতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। ‘আজব প্রেম কি গজব কাহিনী’ (২০০৯), ‘রাজনীতি’ (২০১০), ‘জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা’ (২০১১) ছবিগুলোতে অভিনয়ের পর তিনি তাঁর বলিউড ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিল্মফেয়ার নমিনেশন পান ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ক্যাটরিনার যে ছবিগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল হয় সেগুলো হলো ‘এক থা টাইগার’ (২০১২), ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ (২০১৭) এবং ‘ধুম থ্রি’ (২০১৩)। এ ছবিগুলো শুধু যে ভালো ব্যবসা করেছে তা-ই নয়, বরং বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় এদের স্থান রয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি তাঁর মায়ের দাতব্য কাজগুলো নিয়েও ব্যস্ত থাকেন এবং প্রায়ই স্টেজে পারফর্ম করেন। কাইফ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বিশেষ করে প্রেম-ভালোবাসা-রোমান্সের বিষয়গুলো খুব রাখঢাক করে চলেন। তবে রণবীর কাপুরের সাথে তাঁর প্রণয়ের বিষয়টি মোটামুটি ওপেন সিক্রেট ছিল, তিনি ঐ অভিনেতার সাথে দীর্ঘ একটা সময় লিভ টুগেদার করেছেন বলেও জানা যায়। সবাই ধরে নিয়েছিল, এমনকি তাঁরা নিজেরাও অনেকটা ঘোষণার মতো দিয়েছিলেন যে, শিগগিরই বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তবে কী একটা বিষয় নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণে তাঁদের সম্পর্ক ভেস্তে যায়।




রণবীরের আগে সালমান খানের সাথে দীর্ঘ একটা সময় প্রেম করেছিলেন ক্যাটরিনা। বলতে গেলে, সালমানকে সিঁড়ি বানিয়েই বলিউডে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন ক্যাট। সালমান তাঁকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে ছিলেন, এমনকি তাঁকে বিয়ের স্বপ্নও দেখেছিলেন। তবে কী কারণে সালমানকে ছেড়ে রণবীরের সাথে সম্পর্কে জড়ালেন ক্যাট, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। অনেকে বলে, সালমানের অভিশাপের কারণেই নাকি রণবীরের সাথে তাঁর সম্পর্ক টেকে নি। আবার এটাও শোনা যায়, কোনো এক পার্টিতে নাকি সালমান রণবীরকে হেনস্থা করেছিলেন, তারই প্রতিশোধ তুলেছিলেন রণবীর সালমানের প্রেমিকাকে কেড়ে নিয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.